20201002104319.jpg
যা হারিয়েছি কোটি টাকায়ও পাব না: রাসেল

যা হারিয়েছি কোটি টাকায়ও পাব না: রাসেল

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকার উচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

একইসঙ্গে আর আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে না পাওয়ার আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

দুই বছর আগে যাত্রাবাড়ীতে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাস চাপায় পা হারান প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকার। বৃহস্পতিবার তাকে আরও ২০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। 

গ্রিনলাইনকে তিন মাসের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর আগে কয়েক দফায় তাকে ১৩ লাখ টাকা দেয় গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ।

রায়ের পর নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রাসেল সরকার বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সেই রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে কথা হচ্ছে ২০ লাখ টাকা না, যদি এক কোটি টাকাও দেয়, যেটা আমি হারিয়েছি সেটা ফিরে পাবো না।’ 

‘আমি আমার আগের জীবনে ফিরে যেতে পারব না। সেই আফসোস আমার রয়ে যাবে। তারপরও আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট। মহামান্য আদালতকে ধন্যবাদ।’

২০ লাখ টাকা পেলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই টাকা আমি ব্যাংকে রাখব, তার থেকে যে লভ্যাংশ আসবে তা দিয়ে আমার নিজের সংসার চালাব। আমার স্ত্রী-সন্তানের জন্য কিছু করে যেতে পারব।’

করোনায় জীবন কীভাবে চলেছে জানতে চাইলে রাসেল সরকার বলেন, ‘সেটা করুণ ইতিহাস। কেননা করোনার মধ্যে একজন স্বাভাবিক মানুষের জীবন চালানো যেখানে কঠিন, সেখানে আমি তো অচল, কাজ নাই, বাইরে বের হতে পারি না।’

ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামে আমার স্ত্রী ছোটখাটো কাজ করতো, সেলাইয়ের কাজ করতো, পাশাপাশি দুয়েকটা বাচ্চা পড়াতো, আমার বাবা আমাদের সঙ্গে ছিল। সকলের সাহায্য নিয়ে আমরা চলছি।’

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীতে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের ধাক্কায় প্রাইভেটকার চালক গাইবান্ধার রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

এ ঘটনায় গাইবান্ধার একই এলাকার বাসিন্দা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (বর্তমানে কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক) আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি রিট আবেদন করেন।

এ আবেদনে হাইকোর্ট ওই বছরের ১৪ মে রুল জারি করে। রুলে কেন রাসেলকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়।

পরে হাইকোর্ট এক আদেশে রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেয়। এতে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে দিতে বলা হয়। এরপর কয়েক দফায় ১৩ লাখ টাকা দেয় গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ।

পরে গ্রিনলাইনের আবেদনে গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাসেল সরকারকে টাকা (পরিশোধের অর্থ বাদ যাবে) দেয়ার আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগ।

পরিশোধের অর্থ বাদ দেয়ার পর বাকি যা থাকবে তার ওপর হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ ছিল। হাইকোর্টে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেয়া হয়। 

আদালতে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হারুন অর রশিদ। রাসেল সরকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

রায়ে আরও ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি ও খোন্দকার শামসুল হক রেজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাসেল সরকার বলেন, ‘যার কারণে হাইকোর্টে এসেছি। আমাদের এলাকার অভিভাবক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি আপাকে ধন্যবাদ। তার প্রতি আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’

শেয়ার করুন