20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
প্রতারণা: নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক স্ত্রীসহ গ্রেফতার

প্রতারণা: নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক স্ত্রীসহ গ্রেফতার

র‌্যাব জানিয়েছে, ৫৫ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল তার বিরুদ্ধে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, জাল টাকা, ইয়াবা, বিদেশি মদ, ওয়াকিটকি, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই উদ্ধার করা হয়েছে।

আবাসন ব্যবসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক মো. ইমাম হোসেন নাসিম (৬৬) ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমাকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, নাসিমের বিরুদ্ধে ৫৫টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। বুধবার গ্রেফতারের সময় এই দম্পতির কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, এক লাখ ৩৫ হাজার জাল টাকা, ১৪শ’ ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, চারটি ওয়াকিটকি, ছয়টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৭টি চেক বই উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নাসিম অসংখ্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জমি বিক্রির নামে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে আইনের আশ্রয় নিলেও আদালত থেকে জামিন নিয়ে তাদের হুমকি দিতো নাসিম। অফিসে সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহার করতো।

‘অফিসে গোপন সুড়ঙ্গ’

মোজাম্মেল হক জানান, প্রতারণার কাজে নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করতেন নাসিম। এসব সিম বদলিয়ে মানুষদের ধরা-ছোয়ার বাইরে চলে যেতেন। মাঝেমধ্যে অস্ত্র দেখাতেন। ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতেন। তার চিড়িয়াখানা সড়কের অফিসে গোপন সুড়ঙ্গ আছে। প্রয়োজনে সেখানে আত্মগোপন করতেন তিনি।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক জানান, নাসিম সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে স্ত্রীর সহযোগিতায় ইয়াবা ও বিদেশি মদ সংগ্রহ করতেন। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ডিলার ও খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে বেচতেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল নোটের কারবারও চালাতেন তারা।

‘সাভারের ৫ হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নাসিম ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত একটি কোম্পানির ঠিকাদারি করতেন। ২০০২ সালে তিনি ‘প্রতারণামূলক কৌশলের মাধ্যমে’ নিজেকে নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে সাইনবোর্ড টানানো শুরু করেন। অস্ত্র ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় অন্যের জমি, খাস জমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ার নামে প্রায় ৫ হাজার সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন তিনি।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক জানান, নাসিম বায়না বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ও ২৫০ জনকে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দিয়ে তাদের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা করে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিয়ে নানা কৌশলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেন।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত নাসিমের মালিকানাধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। সেগুলো হলো- নাসিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, নাসিম ডেভলপার লিমিটেড, নাসিম এগ্রো ফুড লিমিটেড, নাসিম বাজার, এস বি ফাউন্ডেশন, ডা. বেলায়েত হোসেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নাসিম পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস, সাপ্তাহিক ইমারত অর্থ, নাসিম শিপ বিল্ডার্স, নাসিম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কন্সাল্টেন্সি, নাসিম ট্রেডিং লিমিটেড, সাহানা আই হাসপাতাল, বাংলা নিউজ ১৬, নাসিম ড্রিংকিং ওয়াটার, নাসিম সুগার ও নাসিম বেভারেজ।

শেয়ার করুন