20201002104319.jpg
জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

রায়ের পরে আদালত প্রাঙ্গণে জাহালম

জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

বিনা দোষে জেল খাটা পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
রায়ের কপি হাতে পাওয়ার এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ফয়সাল কায়েস ও সাবিনা শারমীনকে।
টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে তাদের।
আদালতে জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র দাস ও শাহিনুর রহমান। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।
চেক জালিয়াতির মামলায় অপরাধীর সঙ্গে চেহারার মিল থাকায় তিন বছর কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল টাঙ্গাইলের জাহালমকে। রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে 'অবহেলা'র প্রসঙ্গ টেনে আদালত সতর্ক করেছে।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাহালম। তিনি জানান, আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। দ্রুত টাকা পেলে ঋণ পরিশোধ করে ছোটখাটো ব্যবসা করবেন।
জাহালমের আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র দাস জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সতর্ক করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, এটাই হবে দুদকের শেষ মামলা যাতে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে বিনা দোষে জেল খাটতে না হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জাহালম ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য। কেননা তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি ১৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। অথচ এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এ মামলা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তবে দুদকের অবহেলা ছিল বলে আদালত রায়ে বলেছেন। তবে এ অবহেলা ছিল তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে। এ কারণে আদালত সতর্ক করেছেন।
গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সব মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন আদালত। পরে জাহালমের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদনের শুনানি হয়।

শেয়ার করুন