× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

সাজা সাহেদদের মতো ভদ্রবেশীদের জন্য দৃষ্টান্ত: আদালত

সাজা-সাহেদদের-মতো-ভদ্রবেশীদের-জন্য-দৃষ্টান্ত-আদালত
সাহেদকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

করোনা পরীক্ষার জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সাহেদ করিমকে দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ‌‘তার মতো ভদ্রবেশীদের’ জন্য দৃষ্টান্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক।

অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ রায় ঘোষণা করে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

বিচারক বলেন, ‘আমাদের সমাজে সাহেদের মতো ভদ্রবেশে অনেক লোক রয়েছে, যা এই মামলার দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।’

ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগ উঠে, মানুষ ঠকিয়ে তিনি প্রায় শূন্য থেকে বিত্তশালী হয়েছেন। আর তার কাজ উদ্ধারে ব্যবহার করেছেন একটি বিশেষ অস্ত্র।

সাহেদের একটি অস্ত্র ছিল নামিদামি ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলোকে ব্যবহার করা। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন, এই প্রচার চালিয়ে তার নানা উদ্দেশ্য সাধন করতেন বলে অভিযোগ আছে।

সাহেদের ‌‘ফাঁদে’ পড়েছে খোদ আওয়ামী লীগ। তিনি দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য পদও বাগিয়ে নেন। কীভাবে এটি হয়েছে, সেটি এখন দলের শীর্ষ নেতারাও বলতে পারছেন না।

সাজা সাহেদদের মতো ভদ্রবেশীদের জন্য দৃষ্টান্ত: আদালত

এক টেলিভিশন টক শোতে কথা বলছেন সাহেদ করিম। ফাইল ছবি

গণমাধ্যমকেও ব্যবহার করেছেন সাহেদ। নানাভাবে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়েছেন তিনি। সেখানে নিজেকে একজন মহৎ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

এই কৌশল আরও বেশ কয়েকজন প্রয়োগ করছেন। সম্প্রতি শিশু পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার এক নারীও একইভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে নিজেকে তাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে প্রচার করতেন বলে তথ্য মিলেছে।

গ্রেফতারের পর আদালতকেও নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন সাহেদ, যেটি বিচারক উল্লেখ করেছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন ‘তিনি (সাহেদ) অত্যন্ত চালাক ও ধুরন্ধর ব্যক্তি। গাড়িতে অস্ত্র রাখা প্রমাণ হওয়ায় পর তিনি আদালতের কাছে কোনো অনুকম্পা পেতে পারেন না।’

সাহেদ ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি গাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু আদালতের কাছে সেটি স্বীকার করেননি। জানা সত্ত্বেও আদালতের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এই বিষয়টিও জানান বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘সাহেদ যে অপরাধী তা মামলার রায়ে প্রমাণ হয়েছে। এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।’

সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগ আছে। এ নিয়ে মামলার পর আত্মগোপনে যাওয়া সাহেদকে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্তে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‍্যাব। জানানো হয়, এ সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র পাওয়া গেছে।

করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকার সময় ১৮ জুলাই রাতে সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তার একটি গাড়ি থেকে গুলিসহ একটি পিস্তল এবং কিছু মাদক জব্দ করা হয়।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে মামলায় প্রথম রায় এলো।

রায়ে বলেছেন, ওই অস্ত্র বাজেয়াপ্ত, যে গাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তার মালিকানা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর থেকে সাহেদের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠতে থাকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫০টিরও বেশি মামলা হয়েছে। যদিও তার আইনজীবীরা ৩২টি মামলার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

জাতীয়
Sidhulai Svanirbhar Sanstha a non governmental organization was recognized by UNESCO for innovative initiatives in education

শিক্ষায় উদ্ভাবনী উদ্যোগে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’

শিক্ষায় উদ্ভাবনী উদ্যোগে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’

উদ্ভাবনী সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগের মাধ্যমে চলনবিল অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’। আন্তর্জাতিক এই অবদানের জন্য সংস্থাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। ইউনেস্কো ঢাকা আয়োজিত এক বিশেষ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই গৌরবময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কারের বিভিন্ন দিক এবং বর্তমান যুগের প্রযুক্তিনির্ভর সাক্ষরতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই স্থানীয় উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তিই বাড়ায় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে। সরকারও এমন কার্যকর উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত ও সম্প্রসারণে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে ড. সুসান ভাইজ সাক্ষরতার রূপান্তরমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাক্ষরতা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এমন উদ্ভাবনী প্রকল্পের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উল্লেখ্য, এই পুরস্কারে সিধুলাইয়ের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ভূষিত হয়েছে।

সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার এই ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্পটি মূলত দেশের বৃহত্তম জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলের জলপথে পরিচালিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত শিক্ষা ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী-খাল উপচে পড়ার কারণে যখন স্থানীয় শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন শ্রেণিকক্ষের সব সুবিধাসম্পন্ন এই নৌকাগুলোই শিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়। স্থানীয় নৌকা নির্মাণশৈলী ও আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই বহরে বর্তমানে সিধুলাই ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। বাকি নৌকাগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা এবং যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং অংশগ্রহণকে ভিত্তি করেই এই টেকসই সমাধান গড়ে উঠেছে। তাদের বিশ্বাস, যে সমস্যার মুখোমুখি একটি সম্প্রদায় প্রতিদিন হয়, সেই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধানের ধারণাও সেই সম্প্রদায়ের মানুষের ভেতর থেকেই আসে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টারই ফসল এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইউনেস্কো এই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার দিয়ে আসছে, যার মধ্যে চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রবর্তিত এই কনফুসিয়াস পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি বছর বিশ্বের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এবং ২০২৩ সালে ফ্রেন্ডশিপ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিল।

মন্তব্য

জাতীয়
Foreign investment will get 15 percent incentive Prime Minister

বিদেশি বিনিয়োগ আনলে মিলবে দেড় শতাংশ ইনসেনটিভ: প্রধানমন্ত্রী

বিদেশি বিনিয়োগ আনলে মিলবে দেড় শতাংশ ইনসেনটিভ: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙা করতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিকরা দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসলে তাদের মোট বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন প্রদান করা হবে। একই সাথে প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছি তা নয়, দেশিয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে চাইছি। এ জন্য আমরা ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।” ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “সুদের হার কমালে যদি দেখা যায় যে এটি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে, তবে সরকার নিশ্চয়ই সেটি গ্রহণ করবে।” তবে বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

পূর্ববর্তী শাসনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন্ নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, “স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।” তিনি জানান, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে যার সুফল পেতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে গৃহীত আর্থিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে।” এই তহবিল থেকে গ্রহণযোগ্যতা থাকা সমস্যাগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জটিলতা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও জানান, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিদেশ থেকে কোনও বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক যদি দেশে ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) নিয়ে আসতে পারেন, তবে আমরা তাদের নিয়ে আসা মোট বিনিয়োগের ১.৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন হিসেবে দেব।” এর ফলে প্রবাসী ও যোগ্য প্রতিনিধিরা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে আরও উৎসাহিতহবেনবলেতিনিআশাপ্রকাশকরেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Finance Ministers post budget press conference on Friday

অর্থমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার

অর্থমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার

আগামী শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করার পর তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। এই বিপুল অঙ্কের বাজেটের অর্থ জোগানের জন্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা, যার সিংহভাগ আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর।

এবারের বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Budget is not just an income expenditure account but a reflection of the countrys development and future aspirations Chief Whip

বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: চীফ হুইপ

বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: চীফ হুইপ ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় বাজেটকে শুধুমাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে চলবে না; একটি বাজেট দেশের উন্নয়ন দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকার এবং জনগণের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতিফলন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে আয়োজিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পীকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বীক্রম প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

চীফ হুইপ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে একটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্ষমতা অনেকাংশে তার অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই একটি দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আহরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য করের আওতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চীফ হুইপ আরও বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে অপচয় ও দুর্নীতি কমবে এবং জনগণ প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, যৌক্তিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে হবে। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

জাতীয় সংসদের সচিব ব‌্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরোয়ার ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, অর্থ বিভাগের সচিবসহ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জাতীয়
Protecting the achievements of peacekeepers is the main duty of the armed forces PM

শান্তিরক্ষীদের অর্জিত কৃতিত্ব রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

শান্তিরক্ষীদের অর্জিত কৃতিত্ব রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বমঞ্চে আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে। দেশের এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেটি রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য।” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এই সুনাম বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালে সুদান মিশনে শাহাদাতবরণকারী ৬ জন সেনা সদস্যের পরিবারের হাতে তিনি সম্মাননা পদক তুলে দেন এবং বিভিন্ন মিশনে আহত সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাথে তিনি মতবিনিময় করেন। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান, এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশের ৬৩টি মিশনে ২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য কাজ করেছেন। বর্তমানে ৯টি মিশনে ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন এবং হাইতির নতুন মিশনে যোগদানের প্রক্রিয়া চলমান আছে। বিশেষ করে বাহিনীগুলোতে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ১১ শতাংশে উন্নীত হওয়াকে তিনি আধুনিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে অভিহিত করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এই বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি সকলকে সতর্ক করেন।

বর্তমান সময়ের জটিল চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথাগত যুদ্ধ কৌশলের বাইরে বর্তমানে সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসকল আধুনিক ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সবসময় সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী। সংবিধানে উল্লেখিত বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। সেনাকুঞ্জের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। দেশের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী সকল শান্তিরক্ষী সদস্য ও তাদের পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

মন্তব্য

জাতীয়
Train movement stopped on Dhaka Mymensingh Jamalpur route

ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ রেলক্রসিং এলাকায় দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি পাওয়ার কার লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা ১২ মিনিটের দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার ফলে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকাগামী সকল ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উদ্ধার তৎপরতার তথ্য জানিয়ে বলেন, “ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটির সামনের ৯টি বগি চলে এসেছে। একটি বগি আটকা পড়ে আছে। সেটি উদ্ধারে কাজ চলছে।” বর্তমানে ঘটনাস্থলে রেলওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা মোতায়েন থেকে উদ্ধারকার্যে সহায়তা করছেন।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ট্রেনটির সামনের দিকের ৯টি বগি নিরাপদে লাইন অতিক্রম করতে পারলেও মাঝখানের পাওয়ার কারটি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ায় পথটি অবরুদ্ধ হয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল সচল করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Humanity endangered by barbed wire fence
সীমান্তে ‘পুশইন’

কাঁটাতারের বেড়াজালে বিপন্ন মানবতা

বিএসএফের আঁধারের কৌশল বনাম বিজিবির ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ
কাঁটাতারের বেড়াজালে বিপন্ন মানবতা ছবি: সংগৃহীত

‘ভাই, আমার সন্তানের জন্য একটু পানি দেন, আমি টাকা দিচ্ছি!’— পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে এক বাবার এই আকুল আর্তনাদ শুধু উপস্থিত সীমান্তরক্ষীদের নয়, কাঁপিয়ে দিয়েছে দুই দেশের সীমান্ত লাগোয়া মানুষের বিবেককে। কিন্তু আইনি জটিলতা আর কূটনীতির কাঁটাতারের বেড়াজালে আটকে পড়া সেই বাবার ডাকে সাড়া দেওয়ার উপায় ছিল না কারও।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন নতুন করে ইতিবাচক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক তখনই দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানোর এক অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত—সবখানেই এখন এক চরম ‘পুশইন’ আতঙ্ক। রাষ্ট্রহীনতার তকমা গায়ে মেখে, পরিচয়-সংকটে পড়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে আটকে আছেন বহু মানুষ। তীব্র দাবদাহ আর প্রবল বর্ষণের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের এই মানবেতর জীবনযাপন শুধু কোনো সীমান্ত সমস্যা নয়, বরং এক গভীর মানবিক ও কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

এক রাতে আট পয়েন্ট: জামালপুর-কুড়িগ্রামের সেই বিনিদ্র রজনী: এক রাতেই জামালপুর ও কুড়িগ্রামের আটটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে একযোগে শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই রাতের পয়েন্টভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

খেয়ারচর বিওপি: ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের সদরটিলা এলাকা দিয়ে সবচেয়ে বড় দলটি অর্থাৎ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়।

পাথরেরচর বিওপি: ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের লুকায়েরচর এলাকা দিয়ে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দলকে পুশ-ইন করার চেষ্টা চলে।

ইজলামারি বিওপি: ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের মানকারচর এলাকা দিয়ে ১২ থেকে ১৩ জন।

মোল্লারচর সীমান্ত: ১০৬২ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের কুচুনিমারা এলাকা দিয়ে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়।

দাঁতভাঙা বিওপি: ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের বিপরীতে ভারতের দীপচর এলাকা দিয়ে ৮ থেকে ১০ জন।

ঝাউডাঙা বিওপি: ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের দুর্গাপাড়া এলাকা দিয়ে ৮ থেকে ১০ জন।

বাঘারচর বিওপি: ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের বালুরঘাট ও কুমারেরচর এলাকা দিয়ে ৭ থেকে ৮ জন।

সাতানীপাড়া বিওপি: ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের বিলডুবা এলাকা দিয়ে ৭ থেকে ৮ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়।

আঁধারের কৌশল বনাম ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ: সোমবার মধ্যরাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাঘারচর সীমান্তের কুমারেরচর এলাকায়।

বিজিবি জানায়, মধ্যরাতে হঠাৎ করেই সীমান্তসংলগ্ন কুমারেরচর এলাকায় বিএসএফ তাদের সব সার্চলাইট ও সীমান্ত এলাকার আলো বন্ধ (লাইট অফ) করে দেয়। রাতের আঁধারে আচমকা আলো নিভিয়ে দেওয়ার এই কৌশলেই বিজিবি কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এর পরপরই বিএসএফ ১৮ জন মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। তবে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ ও অতন্দ্র প্রহরার মুখে বিএসএফের সেই রাতের মিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

এর আগে গত রোববার রাতেও এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়াইবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টাও নস্যাৎ হয়ে যায়।

জামালপুর ব্যাটালিয়ন ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের আওতাধীন ৭২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ১৫টি বিওপির (সীমান্ত ফাঁড়ি) সদস্যরা দিনরাত টহল জোরদার করেছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

লাঠিসোটা হাতে বিজিবির পাশে সাধারণ জনতা: বিএসএফের এই আকস্মিক ও দফায় দফায় পুশ-ইন চেষ্টার পর সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিজেদের মাতৃভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখন বিজিবির পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ গ্রামবাসী। সোমবার রাতে দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে পুশ-ইনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন এবং রাতভর সতর্ক পাহারায় অংশ নেন।

সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে ভারত থেকে আমাদের দেশে মানুষ ঢুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিজিবির সঙ্গে আছি, যাতে ভারতের কোনো লোক আমাদের বাংলাদেশে না ঢুকতে পারে।’

আমিনুর ইসলাম নামে আরেকজন গ্রামবাসী বলেন, ‘বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীও রাতদিন সতর্ক অবস্থানে আছি। গ্রামের সবাই বিজিবিকে সহায়তা করছি। আমরা কোনোভাবেই ভারতের মানুষকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না।’

তৃষ্ণায় কাঁদছে শৈশব: পঞ্চগড়ের হাড়কাঁপানো বাস্তবতা: জামালপুরের উত্তেজনা যখন লাঠিসোটা হাতে পাহারায় রূপ নিয়েছে, তখন পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং হৃদয়বিদারক। সেখানে প্রায় ৩৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকে আছে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। এদের মধ্যে ৬ থেকে ৯ বছর বয়সি তিনটি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে।

গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ ভিজেছে এই পরিবারগুলো। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, পায়ের নিচে কর্দমাক্ত মাটি। বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাবে তৃষ্ণার্ত শিশুরা বৃষ্টির পানি ও ডোবার নোংরা পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই শিশুদের কান্না আর তৃষ্ণার্ত চোখ দুটি দেশের সীমান্ত আইন কিংবা কূটনীতির কোনো ব্যাকরণ বোঝে না; তারা বোঝে শুধু এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানির আকুতি, যা দেওয়ার মতো কেউ নেই।

নওগাঁ: বছরজুড়েই নানা কারণে আলোচনায় থাকে সীমান্ত এলাকা। কখনও সীমান্ত হত্যা, কখনও কৃষকের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হয়রানি। কাঁটাতারের পাশের মানুষের জীবন যেন প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা আর শঙ্কায় ভরা।

সবশেষ পুশইন ইস্যুতে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে নওগাঁর সীমান্ত এলাকায়। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে দুঃচিন্তা বাড়ছে। এদিকে সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

নওগাঁ জেলার সঙ্গে ভারতের নয়টি সীমান্ত অবস্থিত। এগুলো হচ্ছে- সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া ও করমুডাঙ্গা সীমান্ত, পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্ত এবং ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া, চকিলাম, চকচণ্ডি, বস্তাবর, শিমুলতলী ও তালান্দার সীমান্ত। তবে সবচেয়ে বেশি সীমান্ত হত্যা বা কৃষকের ওপর বিএসএফের হয়রানি হয় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া ও করমুডাঙ্গা সীমান্ত এবং পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্তে।

এসব সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারের কৃষি আর গবাদি পশুপালন একমাত্র উপার্জনের পথ। মাঠের ফসল সীমান্ত পাড়ের মানুষের সারাবছরের সঞ্চয়। তবে মাঠে ফসল ফলাতে গিয়ে বিএসএফের হাতে হয়রানির শিকার হতে হয় চাষিদের।

সাপাহার উপজেলার করমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সুলতান বলেন, ‘জমিতে চাষাবাদ ছাড়া আমাদের করার আর কোনো কাজ নেই। জমিতে কাজ করতে গেলেই বিএসএফ প্রায়ই আমাদের ধাওয়া দেয়। অনেক সময় সীমানা পেরিয়ে এসে ভয়ও দেখায়। এছাড়া বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। তারপরও বেঁচে থাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।’

আক্কাস নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় পুশ ইন আতঙ্ক চলছে। অবৈধভাবে মানুষ পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। বিজিবিও কঠোর অবস্থানে আছে। তারপরও নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আমরা বিজিবিকে সহযোগিতা করছি।’

পোরশা উপজেলার নিতপুর গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা দেখতে পায় বিএসএফ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার জন্য সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। বিষয়টি জানাজানির পর প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ লাঠি হাতে এবং টর্চলাইট নিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পাহারা দেয়।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবির সদস্যরা। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ ইনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

এই সংকট নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পুশ-ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নীরব থাকবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছি দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। বিজিবি সজাগ আছে এবং কোনোভাবেই এটা আমরা গ্রহণ করছি না। সম্প্রতি আমরা চেন্নাই থেকে ৩৪ জনকে ফেরত এনেছি। অবৈধ নাগরিকদের আদান-প্রদানে দুই দেশেরই একটি মেকানিজম বিদ্যমান আছে। সেই বিদ্যমান মেকানিজমটা, ডিপ্লোমেসিটা অবলম্বন করেই ভারতকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিটি ঘটনা আলাদা এবং ভারতের সরকার যদি এটাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করে, তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার মতে, তারা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং আইন মেনেই অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় একশ মানুষ বাংলাদেশে ফেরার আশায় জড়ো হচ্ছেন এবং ঢাকা ও দিল্লির যৌথ সম্মতিতে নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল ধাপে ধাপে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে বলে ভারতের দাবি।

ভূ-রাজনীতি নাকি মানবিকতার অবক্ষয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সীমান্তের এই পুশ-ইনের ধারাবাহিক অপচেষ্টাকে শুধু সাধারণ সীমান্ত অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন তারা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ইশফাক ইলাহী চৌধুরী মনে করেন, পুশ-ইনকে শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মূলত একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তার অংশ। বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও দুই দেশের সুনির্দিষ্ট চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক রীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভারত যদি দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন না করে একতরফা পুশ-ইন জারি রাখে, তবে বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক কাঠামোর আশ্রয় নেওয়া। এই ইস্যুতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বা শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (UNHCR) শরণাপন্ন হতে পারে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর পড়ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের প্রশ্নে অনড় অবস্থান এই সংকটকে আরও উসকে দিচ্ছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন, যশোর, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গঞ্চগড় ও নওগাঁ প্রতিনিধি।

মন্তব্য

p
উপরে