20201002104319.jpg
পেঁয়াজ সংকট অনলাইনেও

রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকার একটি আড়তে পেঁয়াজ পরিষ্কার করছেন এক নারী শ্রমিক। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পেঁয়াজ সংকট অনলাইনেও

‘প্রথমদিন পেঁয়াজ পাইনি, ওয়েবসাইটগুলো বলছে স্টক আউট। তাই পরবর্তী টাইম মাথায় রেখে এলার্ম দিয়ে রেখেছি।’

অনলাইনে ৩৬ টাকা কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রির ঘোষণা শুনে উৎফুল্ল ছিলেন মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এর বাসিন্দা নাসিমা বেগম। তবে তিন দিনের চেষ্টাতেও কিনতে পারেননি তিনি। এখন তার উচ্ছ্বাস পরিণত হয়েছে বিরক্তিতে।

সোমবার থেকে অনলাইনে পেয়াঁজ বিক্রি শুরু করে টিসিবি। প্রথমে দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘স্বপ্ন’ ও ‘চালডাল’ ডটকমকে। পরে যুক্ত হয় ‘সিন্দাবাদ ডটকম’, ‘যা চাই’, ‘সবজিবাজার ডটকম’ এবং ‘বিডি সোল’।

কিন্তু টিসিবি ট্রাকের মতো অনলাইনেও চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। কারণ, সরবরাহের ঘাটতি।

এককটি প্রতিষ্ঠানকে টিসিবি তিন দিনের জন্য দেড় হাজার কেজি করে পেঁয়াজ দিয়েছে। অর্থাৎ ৫০০ জন মানুষ কিনতে পারবে পণ্যটি। যদিও চাহিদা বহুগুণ বেশি। ফলে মুহূর্তেই ফুরিয়ে গেছে সব পেঁয়াজ।

যে দুটি সাইটে প্রথমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল তার দুটিতে প্রথম দিন চেষ্টা করেন নাসিমা। কিন্তু তিনি কিনতে পারেননি। অর্ডার দিলে চাইলে প্রতিবার জানানো হয়, সব বিক্রি হয়ে গেছে।

নিউজবাংলাকে নাসিমা বলেন, ‘অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রির খবরে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখি স্টক আউট।’

একই অভিজ্ঞতা বনানী এলাকার বাসিন্দা রিনি তাবাসসুমের। তিনি বলেন, ‘স্টক আউটের পর কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলে তারা জানায়, আবার এভেইলেবল হবে দুদিন পরে। পরে কাজের ছেলেকে দিয়ে ৮০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ নিয়ে এসেছি।’

‘সোমবার দুপুর ১২ টা থেকে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। প্রথম দুই ঘণ্টায় ৪৫০ কেজি পেঁয়াজের অর্ডার পাই। সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো স্টক শেষ হয়ে যায়‘- বলেন স্বপ্নের ই-কমার্স হেড বেলাল।

‘আমরা সেভাবে কোনো বিজ্ঞাপনও দেইনি। অথচ শুরু করার সাথে সাথে অর্ডার পড়তে থাকে। তিনদিনের জন্য যা বরাদ্দ পেয়েছিলাম তা প্রথমদিন সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তারপরেও অনেক কাস্টমার আমাদের কল করেছেন পেঁয়াজের জন্য।‘

প্রথম দিনেই স্টক শেষ হয়ে যাওয়া এবং কাস্টমারদের অনবরত ফোনের বিষয়টি জানান ‘চালডাল ডট কম’ এর ‘হেড অফ গ্রোথ’ ওমর শরীফও।

‘সাড়ে বারোটায় শুরু করেছি। ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞাপনই দেইনি। অথচ বিকেলের আগে থেকেই মনে হলো অর্ডার আর নেয়া সম্ভব না। পরে স্টক আউট লিখে দিয়েছি। তারপরেও প্রচুর ফোন আসতে থাকে কাস্টমার কেয়ারে পেঁয়াজ কেনার জন্য।’

সিন্দাবাদের কাস্টমার কেয়ার থেকে শিহাব জানান, সোমবার রাত থেকে শুরু করলে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে তাদের স্টকও শেষ হয়ে যায়।

অপর্যাপ্ত সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির চেয়ারম্যান আরিফুল হাসানের একান্ত সচিব হুমায়ূন কবির বলেন, ‘অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়টি একেবারেই নতুন। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটি শুরু করা হয়েছে। সামনে বিবেচনা করে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।’

রোববার ‘ঘরে বসে স্বস্তির পেঁয়াজ’-এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘অনেকেই সামাজিক কারণ ও সময়ের অভাবে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে পারেন না। এ ছাড়া টিসিবির ট্রাকসংখ্যা বাড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত। তাই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।’

ঢাকায় এখন ৮০টি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি। প্রতি ডিলারের জন্য বরাদ্দ ৩০০ কেজি পেঁয়াজ। সেখানে প্রতি কেজির দর ৩০ টাকা। তবে অনলাইনে দাম ছয় টাকা বেশি। সেখানে আবার ডেলিভারি চার্জ নিয়ে থাকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যদিও একটি প্রতিষ্ঠান বাড়তি চার্জ ছাড়াই বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে পণ্যটি।

ভারত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর দেশে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়ায়। অবশ্য ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার তথ্য প্রকাশের পর কয়েক দিন ধরে দাম পড়তির দিকে।

শেয়ার করুন