× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন

বঙ্গবন্ধুর-রাজনৈতিক-দর্শন
‘গণতন্ত্র যে সব দেশে চলেছে, দেখা যায় সে সব দেশে গণতন্ত্র পুঁজিপতিদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য কাজ করে এবং সেখানে প্রয়োজন হয় শোষকদের রক্ষা করার জন্যই গণতন্ত্রের ব্যবহার। সে গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, শোষিতের গণতন্ত্র এবং সেই শোষিতের গণতন্ত্রের অর্থ হলো– আমার দেশের যে গণতন্ত্রের বিধিলিপি আছে তাতে সেসব বন্দোবস্ত করা হয়েছে যাতে এদেশের দুঃখী মানুষ রক্ষা পায়, শোষকরা যাতে রক্ষা পায় তার ব্যবস্থা নাই। সেজন্য আমাদের গণতন্ত্রের সাথে অন্যের পার্থক্য আছে।’

তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিছক একটি ভূখণ্ড লাভ কিংবা পতাকা বদলের জন্য হয়নি। নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধ। দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন সার্বিক মুক্তির আশায়। জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন মূর্ত হয়েছিল ’৭২-এর সংবিধানে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের এদেশীয় মৌলবাদী দলগুলো ইসলামের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত রাখবার জন্য নৃশংসতম গণহত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও জনপদ ধ্বংসসহ যাবতীয় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম পাকিস্তানকে ইসলামের সমার্থক বানিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তান না থাকলে দুনিয়ার বুকে ইসলামের নাম নিশানা থাকবে না। এভাবেই তারা ইসলামকে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও ধ্বংসের সমার্থক শব্দে পরিণত করতে চেয়েছিল।

বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমান যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন– রোজা রাখেন, তারা জামায়াতের গণহত্যা ও নারীনির্যাতনের ইসলামকে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানের ৯০ হাজারেরও বেশি নৃশংস সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়েও জামায়াতিরা তাদের প্রাণপ্রিয় পাকিস্তান রক্ষা করতে পারে নি। ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের নিকট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনির আত্মসমর্পণের আগেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের– অনেকে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন, অন্যরা দেশের ভেতর আত্মগোপন করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ী জামায়াতিদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের কবর রচিত হয়েছিল।

’৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে স্বদেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে ফেরার পথে দিল্লিতে যাত্রাবিরতিকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি তার জন্য এক বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করেন। এই সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধু এবং ইন্দিরা গান্ধি– দুজনের ভাষণই ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত এক ভাষণে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহান বন্ধু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি ভারতীয় জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন– ‘আমি আপনাদের তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশের শরণার্থীদের আমি সসম্মানে ফেরত পাঠাব। আমার দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে আমি সবরকম সহযোগিতা করব। আমার তৃতীয় প্রতিশ্রুতি ছিল শেখ মুজিবকে আমি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনব। আমি আমার তিনটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি।... শেখ সাহেব তার দেশের জনগণকে একটিই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন - তিনি তাদের স্বাধীনতা এনে দেবেন। তিনি তাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।’

এর জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে ভারতের সঙ্গে আপনার কীসের এত মিল? আমি বলেছি ভারতের সঙ্গে আমার মিল হচ্ছে নীতির মিল। আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায়। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধিও তাই বিশ্বাস করেন। আমাদের এই মিল হচ্ছে আদর্শের মিল, বিশ্বশান্তির জন্য...।’ সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু একই দিনে দেশে ফিরে রমনার বিশাল জনসমুদ্রে আবারও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে আর তার ভিত্তি বিশেষ কোন ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’

’৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে। বাংলাদেশের মূল সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রের এই চার মূলনীতিকে আমরা বলি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, যা অর্জিত হয়েছে তিরিশ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে। এই সংবিধানে ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল গঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কিন্তু ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মপালন ও প্রচারের অবাধ স্বাধীনতা ছিল। বাংলাদেশের মতো অনগ্রসর মুসলমানপ্রধান দেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক আদর্শের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

৪ নভেম্বর (১৯৭২) গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু এক অনন্যসাধারণ ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা প্রতিফলিত হয়েছে। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘গণতন্ত্র’, ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা পশ্চিমের সংজ্ঞার সঙ্গে মেলে না। গণতন্ত্র সম্পর্কে এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছেন– ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই গণতন্ত্র যা সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করে থাকে। মানুষের একটা ধারণা আছে এবং আগেও আমরা দেখেছি যে, গণতন্ত্র যে সব দেশে চলেছে, দেখা যায় সে সব দেশে গণতন্ত্র পুঁজিপতিদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য কাজ করে এবং সেখানে প্রয়োজন হয় শোষকদের রক্ষা করার জন্যই গণতন্ত্রের ব্যবহার। সে গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, শোষিতের গণতন্ত্র এবং সেই শোষিতের গণতন্ত্রের অর্থ হলো– আমার দেশের যে গণতন্ত্রের বিধিলিপি আছে তাতে সেসব বন্দোবস্ত করা হয়েছে যাতে এদেশের দুঃখী মানুষ রক্ষা পায়, শোষকরা যাতে রক্ষা পায় তার ব্যবস্থা নাই। সেজন্য আমাদের গণতন্ত্রের সাথে অন্যের পার্থক্য আছে।’

সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তার ৪ নভেম্বরের ভাষণে বলেছেন– ‘আমরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি। যারা বলে থাকেন, সমাজতন্ত্র হলো না, সমাজতন্ত্র হলো না, তাদের আগে বুঝা উচিত, সমাজতন্ত্র কি? সমাজতন্ত্রের জন্মভূমি সোভিয়েত রাশিয়ায় ৫০ বছর পার হয়ে গেল, অথচ এখনও তারা সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে। সমাজতন্ত্র গাছের ফল নয়– অমনি চেখে খাওয়া যায় না। সমাজতন্ত্র বুঝতে অনেক দিনের প্রয়োজন, অনেক পথ অতিক্রম করতে হয়। সেই পথ বন্ধুর। সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করে সমাজতন্ত্রে পৌঁছা যায়। এবং সেজন্য পহেলা স্টেপ- যাকে প্রথম পদক্ষেপ বলা হয়, সেটা আমরা গ্রহণ করেছি – শোষণহীন সমাজ। আমাদের সমাজতন্ত্রের মানে শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র আমরা দুনিয়া থেকে হাওলাত করে আনতে চাই না। এক এক দেশ এক এক পন্থায় সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। সমাজতন্ত্রের মূল কথা হলো শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই দেশের কী আবহাওয়া, কী ধরনের অবস্থা, কী ধরনের মনোভাব, কী ধরনের আর্থিক অবস্থা, সবকিছু বিবেচনা করে ক্রমশ এগিয়ে যেতে হয় সমাজতন্ত্রের দিকে, এবং তা আজকে স্বীকৃত হয়েছে। ...’

অনেকে বলেন, ১৯৭২-এর সংবিধানে বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্র যুক্ত করেছেন মস্কোপন্থী কমিউনিস্টদের প্রভাবে। কমিউনিস্ট না হয়েও যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি গ্রহণ করা যায় এটি বঙ্গবন্ধুর ৪ নভেম্বরের ভাষণে স্পষ্ট। সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন– ‘আমি নিজে কমিউনিস্ট নই। তবে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। একে আমি শোষণের যন্ত্র হিসাবে মনে করি। এই পুঁজিপতি সৃষ্টির অর্থনীতি যতদিন দুনিয়ায় থাকবে ততদিন দুনিয়ার মানুষের উপর থেকে শোষণ বন্ধ হতে পারে না। পুঁজিপতিরা নিজেদের স্বার্থে বিশ্বযুদ্ধ লাগাতে বদ্ধপরিকর। নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত জনগণের কর্তব্য বিশ্বশান্তির জন্য সংঘবদ্ধভাবে চেষ্টা করা।’

বঙ্গবন্ধু গণপরিষদে প্রদত্ত ৪ নভেম্বরের ভাষণে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে বলেছেন¬– ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবো না। ... মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রে কারো নাই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নাই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খৃষ্টানরা তাদের ধর্ম করবে তাদের কেউ বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বৎসর আমরা দেখেছি, ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেইমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, খুন, ব্যাভিচার- এই বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিষ। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলবো ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি। কেউ যদি বলে গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নাই, আমি বলবো সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যদি গুটি কয়েক লোকের অধিকার হরণ করতে হয়, তা করতেই হবে।’

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের শুধু সামরিক পরাজয়ই হয়নি, তাদের ধর্মের নামে রাজনীতি, হানাহানি, হত্যা ও ধ্বংসের দর্শনেরও পরাজয় ঘটেছিল। এটি সম্ভব হয়েছিল সকল ধর্মীয় বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে অসাম্প্রদায়িক বাঙালিত্বের চেতনায় জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালিত্বের এই চেতনার প্রধান রূপকার, যার ভিত নির্মাণ করেছিল হাজার বছরের বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক, মানবিকতার ঐতিহ্য। বাঙালির এই ঐক্য পাকিস্তান ভেঙেছে, ধর্মের নামে রাজনীতির অমানবিক ধারণা ভেঙেছে।

মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান এবং তাদের এদেশীয় দোসররা বাঙালির এই ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং তার সহযোগীদের হত্যা করে পাকিস্তানের সেবকদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, ’৭২-এর সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলে বাঙালিত্বের চেতনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ধর্মকে, যা তারা পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা থেকেই করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি ও সন্ত্রাসের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির জনক জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য জাতিকে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা, বাঙালি-বাংলাদেশি, ধর্মনিরপেক্ষতা-ইসলাম (রাজনৈতিক), সমরতন্ত্র-গণতন্ত্র প্রভৃতি দ্বন্দ্বে বিভক্ত করেছেন। ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দি পলিটিশিয়ানস’¬– এই ঘোষণা দিয়ে জেনারেল জিয়া বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ বলে রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক আদর্শকে ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিনাশ ঘটানোর পাশাপাশি ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির এই বিভাজন ঘটানো হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে অধিকাংশ সময় এ দেশটি শাসন করেছে পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। ’৭৫-এর পর বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির যে পাকিস্তানিকরণ/মৌলবাদীকরণ/সাম্প্রদায়িকীকরণ আরম্ভ হয়েছে– বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি প্রায় এক যুগ একটানা ক্ষমতায় থাকার পরও আমরা ’৭১-এর চেতনায় ফিরে যেতে পারিনি, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে দেশ ও সমাজ গড়তে পারিনি। ’৭২-এর সংবিধানে জেনারেল জিয়া কর্তৃক বাতিলকৃত রাষ্ট্রের চার মূলনীতি পুনঃস্থাপিত হলেও এখনও সাম্প্রদায়িকতার কলঙ্ক থেকে সংবিধানকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা যায়নি। সেখানেও বাধা হচ্ছে সমাজে বিভাজনের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্রাবল্য।

’৭২-এর সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে ধর্মের নামে এত নির্যাতন, হানাহানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, রক্তপাত হতো না। বাংলাদেশের ৪৯ বছর এবং পাকিস্তানের ৭৩ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যাবতীয় গণহত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসের জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমগোত্রীয় মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক দলগুলি, যা তারা করেছে ইসলামের দোহাই দিয়ে। ’৭২-এর সংবিধান এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শ মান্য করতে হলে ধর্মকে রাজনীতি ও রাষ্ট্র থেকে বিযুক্ত রাখতে হবে ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও হত্যা বন্ধের পাশাপাশি ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য।

বাংলাদেশ যদি একটি আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, যদি আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়, যদি যুদ্ধ-জিহাদ-সন্ত্রাস-গণহত্যা বিধ্বস্ত বিশ্বে মানবকল্যাণ ও শান্তির আলোকবর্তিকা জ্বালাতে চায় তাহলে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে।

শাহরিয়ার কবির: কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও নির্মাতা। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি

আরও পড়ুন

মুজিব শতবর্ষ
Ziaul Haque returned with one medal joy in the whole village

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হয় জিয়াউল হকের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হয় জিয়াউল হকের পাঠাগারের জন্য জিয়াউল হকের হাতে বই তুলে দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হলো জিয়াউল হকের? তিনিই বা কী বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে- এ নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই স্থানীয়দের।

এবারের একুশে ফ্রেব্রুয়ারি, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের দিনটি ভোলাহাট উপজেলার মানুষের জন্য অন্য মাত্রা নিয়ে এসেছে। কেননা তাদের উপজেলার জিয়াউল হক পেয়েছেন রাষ্ট্রের সম্মানজনক একুশে পদক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সে প্রদক গ্রহণের পর গ্রামে ফিরেছেন জিয়াউল হক। এ নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে বইছে উৎসবের আবহ।

সকাল থেকেই জিয়াউল হকের বাড়িতে তার ছোট্ট পাঠাগারে মানুষের ভিড়। সকালের প্রভাত ফেরিও তার সঙ্গে করেন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে জিয়াউল হকের সঙ্গে বেশ কিছুসময় ধরে কথপোকথন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই বুধবার জিয়াউলের বাড়িতে অভিনন্দন জানাতে আসা অনেকেরই আগ্রহ ছিল- কী কথা হলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে, কী বলছিলেন সাধাসিধে জিয়াউল হক?

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি আমার পাঠাগারের স্থায়ী ভবন ও বই চেয়েছিলাম। সেই সঙ্গে আমার এলাকার স্কুলটি সরকারিকরণের বিষয়ে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী আমার কথা শুনেছেন ও দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন।’

অনেকে দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা ছিল সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হকের। অনেকের কাছেই বলেছেন সেই আকাঙ্ক্ষার কথা। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায়, খুশি ৯১ বছর বয়সী এ গুণী। বলেন, ‘এখন মরেও শান্তি পাবো।’

জিয়াউল হক পাঠাগারের বই পড়ে আজ অনেকেই শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। জিয়াউল হকের একুশের পদক প্রাপ্তির পর, তারও জানিয়েছেন জিয়াউল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নিজেদের আনন্দের অনুভূতি।

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের জন্য কিছুই চাননি সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক হক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাধাসিধে মানুষটির আবদার ছিল- তার পাঠাগারের উন্নয়ন ও গ্রামে তারই সহযোগিতায় গড়ে ওঠা স্কুলটি সরকারি করা।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যেই জিয়াউল হকের সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ায় স্থানীয়রাও খুশি।

এদিকে দুপুরে জিয়াউল হককে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান।

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিয়াউল হকের পাঠাগারের জন্য বই উপহার দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সকল বিষয় অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বেচি দই কিনি বই, অতঃপর একুশে পদক
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহসহ একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ জন

মন্তব্য

মুজিব শতবর্ষ
A day of respect and a year of contempt
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এক দিন শ্রদ্ধা, বছরজুড়ে অবজ্ঞা

এক দিন শ্রদ্ধা, বছরজুড়ে অবজ্ঞা একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন স্থানীয় প্রশাসন ব্রাহ্মণাবড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিষ্কারের পাশাপাশি সজ্জার কাজ করে, তবে এ দিন বাদে বছর ধরে চলে শহীদ মিনারটির অবজ্ঞা। ছবি: নিউজবাংলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া ওমর খান বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারের বেদিতে বসে অনেক মানুষ আড্ডা দেন। এটি প্রতিদিনের চিত্র। তা ছাড়া সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই জুতা পরে বেদিতে বসে থাকে। আমি নিজেও অনেকবার অনকেজনকে বলেছি জুতা খোলার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন স্থানীয় প্রশাসন শহীদ মিনার পরিষ্কারের পাশাপাশি সজ্জার কাজ করে, তবে এ দিন বাদে বছর ধরে চলে শহীদ মিনারের অবজ্ঞা।

জুতা পায়ে এ শহীদ মিনারের বেদিতে বসে আড্ডা যেন স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি রাতে শহীদ মিনারে মাদকসেবীদের আড্ডা নিত্যকার ঘটনা। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জুতা পায়ে মিনারে বক্তব্য দেয়ার অনেক অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে গত শনিবার, রোববার ও সোমবার একই চিত্র দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা এ শহীদ মিনারে জুতা পায়ে বসেই শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিতে থাকেন। শুধু শিক্ষার্থী নন, শহীদ মিনারটি উন্মুক্ত স্থানে থাকায় বাইরের অনেকে বসে থাকেন এর ওপর।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া ওমর খান বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারের বেদিতে বসে অনেক মানুষ আড্ডা দেন। এটি প্রতিদিনের চিত্র। তা ছাড়া সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই জুতা পরে বেদিতে বসে থাকে।

‘আমি নিজেও অনেকবার অনকেজনকে বলেছি জুতা খোলার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

শহীদ মিনার চত্বরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মারামারি হয়। সন্ধ্যা নামার পরপরই শহীদ মিনারে বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায় কিছু যুবককে। তা ছাড়া জুতা পায়ে দিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠা নিত্যকার ঘটনা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহীদ মিনারের অবজ্ঞার ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করতে যান না। কারণ যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা ছাত্র রাজনীতি করেন অথবা বড় কোনো রাজনীতিকের পৃষ্ঠপোষকতায় চলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এগুলো দেখার কেউই নেই। বছরের একটি দিন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, সম্মান জানানো হয়।

‘এই দিন পার হলেই ভুলে যায় এটি যে একটু মর্যাদাপূর্ণ স্থান। শহীদ মিনারের এমন অমর্যাদার বিষয়ে কেউ কোনো ব্যবস্থাই নেয় না।’

জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠার বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন, ‘জুতা পায়ে দিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন না করা এবং শহীদদের মর্যাদার ব্যাপারে অজ্ঞতার পরিচয় দেয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হচ্ছে শহীদ মিনার। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য শহীদ মিনার নির্মিত, তবে বর্তমানে দেখা যায় শহীদ মিনারকে শুধু এক দিনের জন্য মর্যাদা দেয়া হয়। আর সেটি হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।

‘তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়াচ্ছে, এক দিনে শ্রদ্ধা, অন্য দিনগুলোতে অবজ্ঞা। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষও জুতা পায়ে দিয়ে উঠে আড্ডা দিচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা রীতিমতো অপরাধ।’

‘ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি মো. আবু বক্কর বলেন, ‘শহীদ মিনার আমাদের একটা বেদনা ও আবেগের জায়গা। একাধিকবার সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম করেছি, তবে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

‘এর ওপরে বসেই সিগারেট খায় কতিপয় যুবক। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আমি দাবি জানাচ্ছি।’

ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে শহীদ দিবসের মর্যাদা সুরক্ষিত নয়। কারণ একুশে ফেব্রুয়ারিকে একটি মাত্র তারিখ হিসেবে বিবেচনা করে শহীদ দিবস পালন করছি। শহীদ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য অনেকের মাঝেই নেই।

‘এর বড় প্রমাণ শহীদ মিনার। দিবস আসলেই তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মগ্ন হন সংশ্লিষ্টরা। বাকি ৩৬৪ দিনই শহীদ মিনারে জুতা পায়ে সবাই আড্ডা দেয় এবং শহীদ মিনারটি নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকে। শহীদদের আত্মত্যাগ মনে হয় আমরা ভুলতে বসেছি। শহীদদের চেতনাকে সকলের মাঝে লালন করতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ.জেড.এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার লোকজন প্রতিনিয়তই শহীদ মিনারটি ঝাড়ু দেয় এবং পরিষ্কার করে থাকে, তবে মিনারটির চারপাশে কোনো সুনির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকায় এটি উন্মুক্ত।

‘আর মিনারটি দেখভালের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পৌরসভার কাছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মিনারের চারপাশে একটি বেষ্টনী তৈরি করে দিতে পারলে অমার্যাদার বিষয়টি আর উঠে আসবে না। এতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় থাকবে।’

শহীদ মিনার চত্বরে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ‘এখানে আমাদের টহল টিম নিয়মিত কাজ করে। এর পরও শহীদ মিনারে কোনো বিশৃঙ্খলা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে শহীদ মিনারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করে। শহীদ মিনারের বেদিসহ চারপাশ রক্ষণাবেক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে না ওঠার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’

আরও পড়ুন:
নামাজে দাঁড়ানো নিয়ে মারধর, যুবকের মৃত্যু
ঐতিহ্য হারাচ্ছে নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা
নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার মামলায় ১৩ জনের কারাদণ্ড
ইসলামি বক্তার জিহ্বা কাটার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
মানসিক চাপে আত্মগোপনে ছিলাম: আসিফ

মন্তব্য

মুজিব শতবর্ষ
Hospital ambulance wrapped in polythene for eight months

আট মাস ধরে পলিথিনবন্দি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স

আট মাস ধরে পলিথিনবন্দি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স অ্যাম্বুলেন্সটি টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে সেখান থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে পুরো অ্যাম্বুলেন্সটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো রয়েছে।

এতে উপজেলার মানুষের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সোমবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, পুরাতন বিল্ডিংয়ের পাশে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে রয়েছে। চারটি চাকার ভেতরে দুইটি চাকা নেই। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশটি পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একেবারে চলাচলের জন্য অযোগ্য হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ এটি পলিথিন দিয়ে জড়িয়ে রেখেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে সেখান থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে পুরো অ্যাম্বুলেন্সটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

ওখান থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখে।

কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্স। তার মধ্যে নতুনটি বর্তমানে অ্যাকসিডেন্ট করে অকেজো হয়ে আছে। আর একটি পুরাতন, তা দিয়েই রোগী পরিবহন করা হচ্ছে, তবে সেটির সার্ভিস ভালো না হওয়ার কারণে জরুরি রোগী পরিবহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

তাই অনেক সময় বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। এতে খরচও বেশি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একেএম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্য নতুনটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকেজো হয়ে গেছে। আপাতত আমরা পুরাতনটা মেরামত করে রোগী পরিবহন করছি, কিন্তু সেটির সার্ভিসটা সন্তোষজনক নয়। আমরা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এখন কতদিনে তা পাব এটি জানা নেই।’

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন রাম পদ রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করতে অনেক টাকা লাগবে। আমি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়েছি, না হলে নতুন একটা অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও আবেদন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্যই একটা ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
জবিতে অ্যাম্বুলেন্স একটিই, ডাকলে না পাওয়ার অভিযোগ
বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স
অনুদানের অ্যাম্বুলেন্সে ফেনসিডিল চালান
‘দুর্গম এলাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন’

মন্তব্য

মুজিব শতবর্ষ
The complaint against the chairman of locking the main gate of the house in Thakurgaon

ভাড়া বাসায় ‘চেয়ারম্যানের দেয়া’ তালা খোলার অপেক্ষায় দম্পতি

ভাড়া বাসায় ‘চেয়ারম্যানের দেয়া’ তালা খোলার অপেক্ষায় দম্পতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় তালা খোলার অপেক্ষায় থাকা বৃদ্ধ দম্পতি। ছবি: নিউজবাংলা
ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল রায় জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে সেখানে যান তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শুক্রবার ভাড়াটিয়ার বাসার ফটকে তালা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই ভাড়াটিয়া দম্পতির ভাষ্য, পরিবার নিয়ে ১০ দিন আগে তারা ভাড়া বাড়িতে ওঠেন। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ভোররাতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে ফটকে তালা দেন। ঘরের ভেতরে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে। কিছুই বের করতে দেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত তারা তালা খোলার অপেক্ষায়।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোববার বিকেলে বাড়ির ফটকে টিনের বেড়ার সঙ্গে শিকল দিয়ে দুটি তালা ঝুলছে। আর বৃদ্ধ দম্পতি বাড়ির বাইরে বেঞ্চে বসে আছেন।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

ওই দম্পতি হলেন আবদুল হালিম ও তার স্ত্রী জোৎস্না বেগম। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে স্থানীয় লোকজন কোনো প্রতিবাদ করছে না।

আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছি। জায়গা-জমি নিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কার কী সমস্যা আছে, সেটা আমাদের বিষয় না, কিন্তু আমাদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেন করা হলো? আমরা বিচারের দাবি জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি কোম্পানির ট্রাক চালাই। এভাবে এমন পরিস্থিতিতেও বাইরে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে কাজে যেতে হয়। আমাদের হাঁড়ি-পাতিল, আসবাপত্র কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই বাড়ির ভেতরে। বাড়ির ভেতরে এখন অন্য অচেনা লোকেরা অবস্থান করছে।’

বাড়ি ভাড়া দেয়া স্কুল শিক্ষিকা ফারহানা ইসলাম কলি বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। এটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এখানে স্থানীয় কাউন্সিলর রয়েছে। ঘটনার দিন আমার স্বামী কাউন্সিলরকে জানিয়েছে।

‘এখনও কোনো সমাধান আসেনি। একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কোন আইনে অন্যের বাড়িতে ঢুকে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে? পুলিশকে জানিয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালাতে হাত দিলে হাত কেটে নেবে চেয়ারম্যান, এমন হুমকিও আমাদের দিয়েছে। আমরা এখন প্রত্যেকে আতঙ্কিত ও অনিরাপদ।

‘ভাড়াটিয়া দম্পতি আমার বাড়িতে যেতে চায় না। এখন তাদের মধ্যে অনেক রাগ-আক্ষেপ রয়েছে আমাদের সবার ওপর।’

স্থানীয় গৃহবধূ আমিনা বেগম বলেন, ‘তালা দেয়ার পর থেকে আমরা আর ঘরে ঢুকতে পারিনি। আমার স্বামী দিনমজুর। সে কলি আপার বাড়িতে বেড়া বানানোর কাজ করছিল। আমাদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে।’

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনা শুনে প্রথমে আমি জায়গা চিনতে পারিনি। এই প্রতিবেদক এই বিষয়ে আমাকে জানায়। এরপর স্কুলশিক্ষিকার স্বামী জুয়েল ইসলাম তাকে মোবাইলে কল দিয়ে যোগাযোগ করা হয়। এ ছাড়াও আমি ভাড়াটিয়া আবদুল হালিমের কাছেও ঘটনাটি শুনি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। আমি দুদিন সেখানে গিয়েছি। অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরাও গিয়েছিল।’

এ সময় তিনি তালা দেয়া ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর বলেন সরাসরি সাক্ষাৎকার নিতে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল রায় জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে সেখানে যান তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য

মুজিব শতবর্ষ
Out of 51 brick kilns in Panchgarh 10 brick kilns have licenses and the rest are illegal

পঞ্চগড়ে ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ৪১ ইটভাটা

পঞ্চগড়ে ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ৪১ ইটভাটা পঞ্চগড়ে ইটভাটার জন্য প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি। ছবি: নিউজবাংলা
দেবীগঞ্জের ইউএনও শরীফুল আলম বলেন, ‘জমির টপ সয়েল কাটা আইনত অপরাধ। ভূমির মালিকসহ যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সকল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ৫১টি ইটভাটা, যার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে ৪১টি।

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় সর্বোচ্চ ২২টি ইটভাটা আছে, যার মধ্যে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে ১০টি।

এসব ইটভাটার জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগ। এসব মাটি দুই শতাধিক ট্রাক্টর এবং ১০টির বেশি ড্রাম ট্রাকে করে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটের ভাটায়। প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে নষ্ট হচ্ছে ওই এলাকার কৃষিজমি; ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৫টি ইটভাটা রয়েছে দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নে। বাকিগুলো সুন্দরদিঘী, পামুলী, শালডাঙ্গা ও চেংঠি হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নে।

এ বছর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ৪টি ইটভাটাকে জরিমানা ও দুটির নামে মামলা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা আরও একটি ইটভাটার মালিককে দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় ২৪ বছর ধরে মাটি কাটা হচ্ছে, তবে আগে ইটভাটার সংখ্যা কম ছিল। এখন ইটভাটা বাড়ায় মাটির চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নগদ টাকার প্রয়োজনে জমির মালিকরা কৃষিজমির মাটি বিক্রি করছেন। তিন ফুট গভীরতার এক বিঘা জমির মাটি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

তারা জানান, এরই মধ্যে দন্ডপাল ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিচু জমিতে পরিণত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় এখানকার কয়েকটি গ্রাম অপরিকল্পিত খালে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তিন ফসলি জমি নষ্ট করে সেখান থেকে মাটি কেটে ইটভাটার জন্য ব্যবহার কোনোক্রমেই আইনসিদ্ধ নয়। ইটভাটা স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, এভাবে কৃষিজমির মাটি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ হয় না।

‘সচেতন মহলের কেউ কেউ এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। এতে করে মাটি কাটায় জড়িতরা আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

শ্রমিক সংগঠনের নেতা রবিউল ইসলাম জানান, দন্ডপাল ইউনিয়নে প্রায় ২২টি ভেকু, ২০০টি ট্রাক্টর এবং ১৫টি ড্রাম ট্রাক প্রতিদিন মাটি সরবরাহ করে। ইটভাটাগুলোতে মালিকদের চাহিদামতো তিনি মাটি সরবরাহ করেন।

এই কাজে বৈধতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন আপনারা।’

উপজেলার ইটভাটা সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাটি কাটার কারণে জমির তেমন ক্ষতি হয় না। সরকার আমাদের ব্যবসার স্বার্থে মাটি কাটার বিকল্প ব্যবস্থা না করলে আমরা কী করব? আমরা তো গণমাধ্যমকর্মী, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা-জেলা প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করেই চলছি।’

উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের ধনমন্ডল গ্রামের ইউনুছ আলী জানান, তার জমির চারপাশের মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। তার প্লটটি চাষের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই ভাটায় জমির মাটি বিক্রি করেছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফুল আলম বলেন, ‘জমির টপ সয়েল কাটা আইনত অপরাধ। ভূমির মালিকসহ যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সকল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী সংস্থাটিকে ম্যানেজ করে ইটভাটা চালানো ও উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘জেলায় ৫১টি ইটভাটার মধ্যে ১০টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে, বাকিগুলো অবৈধ। এ বছর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চারটি ইটভাটার মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুইটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনটি ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।

‘এর মধ্যে নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে।’

আরও পড়ুন:
নৌকার বিরোধীদের পা ভেঙে দেয়ার হুমকি ইউপি চেয়ারম্যানের 
পঞ্চগড়ে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত
অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ৩ ডিসিকে আইনি নোটিশ
নওগাঁয় পাশাপাশি ও গ্রামের মধ্যে ইটভাটা, মজুত আছে কাঠ
দুর্গাপূজা: বাংলাবান্ধায় ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

মন্তব্য

মুজিব শতবর্ষ
Abdallah a Kuwaiti is impressed by Chouddagram

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের প্রকৃতি বেশ টেনেছে কুয়েতি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দরকে। ছবি: নিউজবাংলা
কয়েক দিন আগে বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে আসেন কুয়েতি আবদুল্লাহ। বন্ধুর মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সবকিছুতেই মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। গ্রামের প্রাণ-প্রকৃতিও তাকে বেশ টেনেছে। 

‘আমি এখন বাংলাদেশে। আমার বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে এসেছি। এখানকার কৃষিজমিতে ফসল সুন্দর। মানুষজন আমাকে আপন করে নিয়েছে।

‘আমি খুব আনন্দে আছি। বিয়েতে দারুণ সব খাবারের আয়োজন করেছে। আমি মুগ্ধ। বন্ধুরা, ভিডিওতে তোমরা দেখো।’

আরবি ভাষায় এভাবে নিজের সুখানুভূতি প্রকাশ করছিলেন কুয়েতি নাগরিক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দর।

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ

কয়েক দিন আগে বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে আসেন এ কুয়েতি। বন্ধুর মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সবকিছুতেই মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। গ্রামের প্রাণ-প্রকৃতিও তাকে বেশ টেনেছে।

নিজের গ্রামে কুয়েতি বন্ধুকে পেয়ে আনন্দিত তার বন্ধু ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয়রা। শনিবার সকালে দেখা যায়, স্থানীয়দের নিয়ে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দর ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছেন। মোবাইল ফোনে লাইভে যাচ্ছেন। শিশুদের মতো উল্লাস প্রকাশ করছেন।

চৌদ্দগ্রামে মুগ্ধ কুয়েতি আবদুল্লাহ

বন্ধুত্ব যেভাবে

কুয়েতির সঙ্গে কীভাবে বন্ধুত্ব হলো সে বিষয়ে ইকবাল বলেন, ‘২০১৫ সালে আমি কুয়েতে যাই। সেখানে কাজের সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। এখন অবসরে আছেন।

‘কাজের সুবাদে আমাদের সম্পর্ক গাঢ় হয়। আমরা একে অপরের বন্ধু হই। বয়সের একটু ব্যবধান থাকলেও মনের কোনো ব্যবধান নেই আমাদের।’

তিনি বলেন, “গত বছরের শেষের দিকে আমি আমার বন্ধু আবদুল্লাকে বলি আমার মেয়ের বিয়ের বিষয়ে। সে আমাকে বলে, ‘তোমার মেয়ের বিয়ে দেখতে তোমার দেশে যাব।’ যেই কথা সেই কাজ।

“গত ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সে কুয়েত থেকে আমার বাড়িতে আসে। আমি খুব অবাক হয়েছি। সে এখানে খুব আনন্দ করছে। আমার মেয়ের বিয়েতে এসে ছবি ভিডিও তুলে রাখছে। কুয়েতে গিয়ে সবাইকে দেখাবে।”

ইকবালের ভাই এসএন ইউসুফ বলেন, ‘আমার ভাতিজির বিয়েতে একজন কুয়েতি নাগরিক এসেছেন। তিনি আমার ভাইয়ের বন্ধু। অন্য একটি দেশ থেকে এসে তিনি যে আনন্দ পাচ্ছেন, আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।

‘কুয়েতি নাগরিক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল বন্দর আমাদের গ্রামে এ বিয়েতে অংশগ্রহণ করাতে বিয়ের উৎসব আরও দ্বিগুণ হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ‘শুনেছি একজন কুয়েতি নাগরিক চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নে তার বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছেন। তিনি বেশ কিছুদিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন।

‘কুয়েতি নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তার আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই।’

আরও পড়ুন:
সাবেক এমপি আবুল হাশেমের জানাজা সম্পন্ন
কুমিল্লায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় ঢাকায় গ্রেপ্তার ৫
পরিবেশবান্ধব ভার্মি কমপোস্টে বাড়তি আয়
নির্বাচনে জিতেই সিএনজি স্ট্যান্ডের চাঁদা বন্ধ করলেন এমপি আজাদ
কুমিল্লায় এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যাহার

মন্তব্য

মুজিব শতবর্ষ
There is increasing interest in building a residence in Rajshahi

রাজশাহীতে আবাস গড়ায় বাড়ছে আগ্রহ

রাজশাহীতে আবাস গড়ায় বাড়ছে আগ্রহ রাজশাহীতে নগরীর আধুনিকায়ন, প্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতির আলোকায়ন এ শহরের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে। ছবি: নিউজবাংলা
নগরীর বাসিন্দাদের ভাষ্য, এখানে কিছু সুযোগ সুবিধার মধ্যে অন্যতম হলো, শহরে কোনো যানজট নেই। আছে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও নাগরিক নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ।

বাড়ি তৈরি করতে পছন্দের জায়গায় খুঁজতে গিয়ে রাজশাহী শহর এখন বিভিন্ন জেলার মানুষের পছন্দের আবাসস্থল। নগরীর আধুনিকায়ন, প্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতির আলোকায়ন এ শহরের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে।

জেলার আবাসন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মানুষ জায়গা কিনছেন এ শহরে। বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন তারা। অনেকেই সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য এ শহরে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বাড়ি বানাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৯৭ বর্গকিলোমিটারের এ জনপদে এখন বসবাস প্রায় ১২ লাখ মানুষের। ২০১০ সালেও রাজশাহী শহরে দশ তলা ভবনের সংখ্যা ছিল একেবারেই হাতে গোনা, কিন্তু এখন এ সংখ্যা অগণিত। আর দশ তলা থেকে একুশ তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যাই এখন শতাধিক।

বাইরের জেলাগুলো থেকে মানুষ রাজশাহী শহরমুখী হওয়ায় এখানকার জমির দাম বাড়ছে, তারপরও এ নগরীর কিছু সুবিধার কারণে এখানে ছুটে আসছেন মানুষ।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে যারা বসতি গড়ছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরের মানুষ বেশি। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে চাকরি জীবন শেষে করে একটু শান্তিতে বসবাসের জন্য অনেক অবসরপ্রাপ্তরাও এখন বেছে নিচ্ছেন এ শহর।

নগরীর বাসিন্দাদের ভাষ্য, এখানে কিছু সুযোগ সুবিধার মধ্যে অন্যতম হলো, শহরে কোনো যানজট নেই। আছে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও নাগরিক নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ।

রাজশাহী নগরীর বহরমপুর এলাকায় একটি বাড়ি কিনেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা সুফিয়া খাতুন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেমন ভালো স্কুল নেই। এ ছাড়াও তেমন সুযোগ সুবিধাও নেই। ছেলে মেয়েদের মানুষ করতেই তাই আমরা রাজশাহীতে এসেছি। ভালো লাগা থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এখানে বাড়ি নিয়েছি।’

নওগাঁ থেকে এসে রাজশাহীর ভদ্রা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। কাজের সুবাদে এ জেলাতে এসেছেন তিনি।

নাসির বলেন, ‘আমার অবসরের টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনতে চাই। এখনও তেমন সুযোগ হয়ে উঠেনি। এখনও আমি ভাড়া বাড়িতে আছি, তবে এখানেই থেকে যাব। এখানে যানজট নেই। নাগরিক সুযোগ সুবিধা আছে, নিরাপদ। এ ছাড়াও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ থাকার কারণেই এ শহরটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।’

রাজশাহীর সাহেব বাজারে বসবাস করেন সিরাজগঞ্জের সুধির বাবু। তিনিও এখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন।

সুধির বলেন, ‘ব্যবসায়িক কাজে প্রায় রাজশাহী আসতে হত। সেই থেকেই এই শহরের প্রেমে পড়া। এরপর আর এই শহরের মায়া ত্যাগ করতে পারিনি। এখন একটি ছোট জমি নিয়ে এখানেই বসবাস করতে চাই।’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘মেয়েকে রাজশাহীতে কলেজে ভর্তি করেছি। আগামী দিনে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানেই ভর্তি করাতে চাই। তার পড়াশোনার জন্য আমরাও রাজশাহী শহরে যেতে চাই। চিন্তা করছি শহরেই জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করব। এই শহরে বসবাস করে শান্তি। এ কারণেই আর গ্রামে ফিরতে চাই না।’

আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহীর স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিজের আবাসস্থল নির্মাণে জনগণের ক্রমেই আগ্রহ বাড়ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি এ নগরীতে ফ্ল্যাট ক্রয় করতে চাচ্ছেন। ফলে আবাসন শিল্পে একটা অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের ফলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার পরিকল্পিত নগরায়নে আবাসন সমস্যার সমাধান ঘটছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের (রেডা) সাধারণ সম্পাদক ও আল-আকসা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান কাজী বলেন, ‘রাজশাহীতে মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের বসবাস। তারা তাদের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেই একটি ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখেন। আমরাও তাদের টার্গেট করেই আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করে থাকি।

‘মধ্যবিত্তরা যেন কিনতে পারেন, সে অনুযায়ী ফ্ল্যাট ও প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয়। রাজশাহীতে ডাক্তার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারাই সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট কিনছেন। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্রেতা বেশি। তারা এই শহরে বসবাসে বেশি আগ্রহী।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আলোকিত নগরী হিসেবে রাজশাহীর সুনাম সারা দেশে আছে। বাসযোগ্য ও শান্তির শহরে বসবাস ও উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পেতে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাজশাহীতে বাড়ি নির্মাণ, কেউ কেউ ফ্ল্যাট ক্রয় করছে।

তিনি বলেন, ‘তবে দ্রুত নগরায়নের ফলে যাতে রাজশাহী শহরের অবস্থা ঢাকার মতো না হয়, নগরীর যানজট পরিস্থিতি বৃদ্ধি না পায়, সেই বিষয়টি আমরা খেয়াল রেখেছি। নগরীর আয়তন বর্তমানের চেয়ে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধির কাজটি প্রক্রিয়াধীন।’

নগরীর বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়নে কাজ অব্যাহত আছে বলে জানান মেয়র।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা
কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়ানোর দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ‘প্রাণহীন’, হতাশ দর্শনার্থী
শিক্ষাবিদ জার্জিস কাদিরের ‘ডিগবাজি’
রাজশাহীতে আষাঢ়-শ্রাবণের ধারা ঝরল আশ্বিনে

মন্তব্য

p
উপরে