× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
A caravan of Indian pilgrims is coming through Benapole
google_news print-icon
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু

বেনাপোল দিয়ে আসছে ভারতীয় মুসল্লির কাফেলা

বেনাপোল-দিয়ে-আসছে-ভারতীয়-মুসল্লির-কাফেলা
বেনাপোল স্থলবন্দরে ইজতেমা অভিমুখী মুসল্লির কাফেলা। ছবি: নিউজবাংলা
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিক আহমেদ বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন রাজ‍্য থেকে মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন। এসব বিদেশি মেহমানের পাসপোর্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনে পৃথক ডেস্ক খোলা হয়েছে।’

মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে শুক্রবার। গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদের তীরে ইজতেমা ময়দান ইতোমধ্যে ভরে উঠেছে মুসল্লিতে। এখনও আসছেন দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা।

ইজতেমার এই আয়োজনে যোগ দিতে প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মুসল্লিরা আসছেন দলে দলে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের মুসল্লিরাও বেনাপোল দিয়ে আসছেন বাংলাদেশে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে জানা যায়, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ‍্য থেকে গত তিন দিনে প্রায় ১২শ’ মুসল্লি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

তবে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে গত কয়েক বছরের তুলনায় মুসল্লির আগমন বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম। ইমিগ্রেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত কয়েক বছর ধরে দেশের অন্যতম প্রধান এই স্থল বন্দর দিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বিদেশি মুসল্লি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে এসেছেন। অথচ চলতি বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মুসল্লি এসেছেন মাত্র এক হাজার দুশ’ জন।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে আরও বেশকিছু বিদেশি মেহমান আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার শেষ পর্ব শুরু হয়েছে শুক্রবার ভোরে। আর এই পর্বের সমাপ্তি ঘটবে আগামী রোববার। ওইদিন আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব।

ভারতীয় মুসল্লিরা বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে বাস কিংবা ট্রেনযোগে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে যাচ্ছেন। তবে তার আগে বন্দর ইমিগ্রেশনে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি মেহমানদের অভ্যর্থনা জানানো, থাকা-খাওয়া ও ঢাকায় পাঠানোসহ সব কাজ দ্রুত করার জন্য তাবলিগ জামাতের ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল স্থলবন্দরে অবস্থান করছে। তারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আগত মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতা করছে।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিক আহমেদ বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন রাজ‍্য থেকে মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন। শুক্রবার পর্যন্ত এবার কমসংখ্যক মুসল্লির আগমন ঘটেছে।

‘বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা বিদেশি মেহমানদের দ্রুততার সঙ্গে পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনে পৃথক ডেস্ক খোলা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের পুলিশ ইমিগ্রেশন সদস্যরা সেবা দিচ্ছেন। বিদেশি মেহমানদের সেবা দিতে পেরে আমরাও খুশি।’

আরও পড়ুন:
ইজতেমা ময়দানে চলছে দ্বিতীয় দিনের বয়ান
বিশ্ব ইজতেমায় ৪৭ দেশের ২ হাজার মুসল্লি
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু
ইজতেমা ময়দান পরিপূর্ণ, আজ বাদ ফজর শুরু প্রথম পর্ব
শীতের বৃষ্টিতে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের দুর্ভোগ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
The fair of life was held last Friday

প্রাণের বইমেলায় পূর্ণতা এনে দিল শেষ শুক্রবার

প্রাণের বইমেলায় পূর্ণতা এনে দিল শেষ শুক্রবার অমর একুশে বইমেলায় শুক্রবার ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীর প্রচণ্ড ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
এদিন তুলনামূলক ভিড় বেশি ছিল। বিক্রিও হয়েছে ভালো। তবে মেলা আরও দুদিন বাড়ানোর জন্য প্রকাশকদের যে দাবি সেটি বাস্তবায়িত হলে আরও একটি শুক্রবার পাবে বইমেলা।

বরাবরের নিয়ম মেনে ২৯ তারিখ অমর একুশে বইমেলা শেষ হলে এটা ছিল মেলার শেষ শুক্রবার। আর সাপ্তাহিক ছুটির এই দিনে এসে মেলা যেন পূর্ণতা পেয়েছে। জমে উঠেছে প্রাণের বইমেলা।

মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, অন্য শুক্রবারের চেয়ে এদিন তুলনামূলক ভিড় একটু বেশি ছিল। বিক্রিও হয়েছে ভালো। তবে মেলা আরও দুদিন বাড়ানোর জন্য প্রকাশকদের যে দাবি সেটি বাস্তবায়িত হলে আরও একটি শুক্রবার পাবে বইমেলা। যদিও আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি।

প্রাণের বইমেলায় পূর্ণতা এনে দিল শেষ শুক্রবার
শুক্রবার বইমেলায় ঢুকতে হয়েছে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পাঠকদের ঢুকতে হচ্ছে বইমেলায়। মেলার ভেতরের প্রাঙ্গণও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর। শুক্রবার হওয়ায় অনেকে শিশু সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছেন।

বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলের সামনে ছিলো সব বয়সী পাঠকের ভিড়। কেউ বই দেখছেন, কেউ কিনছেন। আবার কেউ তুলছেন ছবি।

প্রকাশকরা বলছেন, বই না কিনুক, ছবি তোলার জন্য হলেও সবাই যে বইমেলামুখী হচ্ছে এটাই খুশির খবর।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি সোলাইমান বলেন, ‘আজকে শিশু প্রহরের সময় সকালে একটু বিক্রি কম ছিলো। তবে দুপুরের পর থেকে ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’

আগামী প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি রবিউল ইসলামও বললেন একই কথা।

প্রাণের বইমেলায় পূর্ণতা এনে দিল শেষ শুক্রবার

মাওলা ব্রাদার্সের বিক্রয় প্রতিনিধি রমিম বলেন, ‘আজ যে মেলার শেষ শুক্রবার তা ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে। অন্যান্য দিনের তুলনা ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে শুক্রবার হিসেবে ভিড় বেশি হলেও বইয়ের ক্রেতা ততোটা নেই।’

মিরপুর থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মেলায় এসেছেন কবির আহমেদ। বললেন, ‘বউ কয়েক দিন ধরে বলছিল মেলায় যাবে। কিন্তু অফিসের ব্যস্ততার কারণে আাসা হয়নি। আজ আবার মেলার শেষ শুক্রবার। আজ না এলে এবার আর আসাই হবে না। তাই ওদের আবদার মেটাতে চলে এসেছি। ভালোই লাগছে।’

এদিকে প্রতিটি ছুটির দিনের মতোই শুক্রবারের শিশুপ্রহর মাতিয়ে রেখেছে সিসিমপুরের হালুম ইকু আর টুকটুকিরা। তাদের সরাসরি দেখে আনন্দের সীমা ছিলো না ছোট্ট সোনামনিদের। তাদের আনন্দ হাসি ফুটিয়েছে সঙ্গে মা-বাবার মুখেও।

উদয়ন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাহমিদকে নিয়ে মেলায় সিসিমপুর দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাসা একটু দূরে হওয়ায় আর বাইরে খেলার পরিবেশ না থাকায় ছেলেরা তেমন খেলতে পারে না। সারাক্ষণ মোবাইল নিয়েই তাদের থাকতে হয়। শিশুদের মোবাইলের আসক্তি কাটাতে বইয়ের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো জরুরি। তাই বাচ্চাকে এখানে নিয়ে এসেছি।’

মেলা দুদিন বাড়ানোর দাবি

এদিকে মেলার শেষ দিন ২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার হওয়ায় দুদিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রকাশকেরা। তাদের বক্তব্য, তাহলে মেলা সাপ্তাহিক ছুটির দিন দুটি পাবে।

অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পাঠকরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকায় সরকারি ছুটির দিনগুলোতে মেলায় ওনারা আসার একটু বেশি সুযোগ পান। এবার যেহেতু বৃহস্পতিবারই মেলা শেষ হচ্ছে, তাই দুদিন বাড়িয়ে শুক্রবার আর শনিবারও যদি মেলা থাকে তাহলে পাঠকরা আসার সুযোগ পেতেন। আমাদেরও একটু বেশি ভালো বিক্রি হতো। তাই আমরা চাই মেলার সময় দুটি দিন বাড়ানো হোক।’

তবে ঐতিহ্য প্রকাশনীর স্টল ম্যানাজার আমজাদ হোসেন খান বলেন, ‘মনে হচ্ছে না মেলা দুদিন বাড়ানো হবে। এটি করলে মেলার ঐতিহ্য নষ্ট হবে।’

২৩তম দিনে মেলায় বই এসেছে ১৯৭টি

শুক্রবার মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১৯৭টি।

সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. হাসান কবীর।

প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

ক-শাখায় প্রথম হয়েছে ওয়াফিয়া নূর, দ্বিতীয় আর্লিন আহমেদ সানভী ও তৃতীয় হয়েছে তাইফা জান্নাত; খ-শাখায় প্রথম হয়েছে সৌভিক সাহা, দ্বিতীয় প্রত্যুষা রায় ও তৃতীয় শাফিন উদ্দিন আহাম্মেদ এবং গ-শাখায় প্রথম স্বস্তি চৌধুরী, দ্বিতীয় সপ্তনীল হাওলাদার ঐশী ও তৃতীয় হয়েছে সুয়েত আহমেদ নিহাল।

প্রাণের বইমেলায় পূর্ণতা এনে দিল শেষ শুক্রবার

শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

ক-শাখায় প্রথম হয়েছে ফারহিনা মোস্তাক আযওয়া, দ্বিতীয় অংকিতা সাহা রুদ্র এবং তৃতীয় ফাবলিহা মোস্তাক আরওয়া। খ-শাখায় প্রথম সমৃদ্ধি সূচনা স্বর্গ, দ্বিতীয় সুবহা আলম ‌ও তৃতীয় অন্বেষা পণ্ডিত এবং গ-শাখায় প্রথম সিমরিন শাহীন রূপকথা, দ্বিতীয় আবদুল্লাহ আল হাসান মাহি ও তৃতীয় হয়েছে তাজকিয়া তাহরীম শাশা।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা

ক-শাখায় প্রথম নীলান্তী নীলাম্বরী তিতির, দ্বিতীয় রোদসী আদৃতা এবং তৃতীয় নৈঋতা ভৌমিক। খ-শাখায় প্রথম তানজিম বিন তাজ প্রত্যয়, দ্বিতীয় সুরাইয়া আক্তার ও তৃতীয় রোদসী নূর সিদ্দিকী। গ-শাখায় প্রথম কে. এম. মুনিফ ফারহান দীপ্ত, দ্বিতীয় নবজিৎ সাহা ও তৃতীয় হয়েছে সরকার একান্ত ঐতিহ্য।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মামুন হুসাইন। আলোচনায় অংশ নেন ওয়াসি আহমেদ এবং জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

প্রাবন্ধিক বলেন, ‘আমাদের কালের এক আশ্চর্য-নির্লোভ মানুষ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস চেনা বাস্তবতাকে প্রসারিত করেন প্রচলিত দৃষ্টি ও বুদ্ধিগ্রাহ্যতার ওপারে। আমাদের আদিকল্প, ইন্দ্রজাল, উপকথা তিনি চিনেছিলেন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে।’

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত শক্তিমান লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যদর্শন, সংশীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজস্ব চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানতে হলে তার সাহিত্য পাঠ একান্ত জরুরি। তিনি ছিলেন সংবেদনশীল ও অনুসন্ধিৎসু একজন লেখক। সমাজের নানা দিকে তার সাহিত্যিক দৃষ্টি ছিল প্রসারিত। তিনি তার চিন্তাশীলতার মধ্য দিয়েই একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বোধ ছিল শাণিত, ভাষা ঝরঝরে এবং চিন্তা ছিল স্বচ্ছ। নিরন্তর নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই তার সাহিত্য অনন্য উচ্চতা লাভ করেছে। নবীন পাঠকদের আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যপাঠে উৎসাহিত করতে হবে।’

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক, পর্যটক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, কথাসাহিত্যিক নভেরা হোসেন, কবি কুশল ভৌমিক ও শিশুসাহিত্যিক আহমেদ জসিম।

প্রাণের বইমেলায় পূর্ণতা এনে দিল শেষ শুক্রবার

বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চের আয়োজন

এই মঞ্চে বিকেলে পারস্য সাহিত্যের অনুবাদক ও লেখক অধ্যাপক শাকির সবুর রচিত সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা এবং ফারসি থেকে অনূদিত বুজুর্গে আলাভির তার চোখগুলো বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবারের সময়সূচি

অমর একুশে বইমেলার ২৪তম দিন শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টায় থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: মোহাম্মদ রফিক এবং খালেক বিন জয়েনউদদীন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই
একুশের প্রহর গুনছে বইমেলা
বইয়ের দাম এবার কি বেড়েছে
বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম
সস্তা-চটুল বইয়ে সয়লাব বইমেলা

মন্তব্য

জীবনযাপন
A book on Prana Mela Inadequate Language Movement

প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই

প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই বইমেলায় পছন্দের বই খুঁজে চলেছেন এক পাঠক। ছবি: নিউজবাংলা
অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে চাই, কিন্তু এসব বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাণ্ডুলিপি পাই না। ভাষা আন্দোলনের ওপর পাণ্ডুলিপি নেই বললেই চলে।’

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া একুশে বইমেলা চলে ফেব্রুয়ারির পুরো মাসজুড়ে। এবারের বইমেলায় প্রতিদিন প্রায় শ’ খানেক বই প্রকাশিত হলেও যাদের আন্দোলন এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা এই ভাষা পেয়েছি সেই ভাষা আন্দোলন এবং ভাষা শহীদদের নেয়া লেখা বই প্রকাশ হচ্ছে না বললেই চলে।

প্রকাশকেরা বলছেন, এসব বিষয়ে তারা বই প্রকাশে আগ্রহী, কিন্তু ভালো পাণ্ডুলিপি পাচ্ছেন না।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার মেলার ২০তম দিনে দুই হাজার ৯৫টি বই প্রকাশতি হলেও তার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ওপর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে দুইটি বই প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী, একটি বই প্রথমা প্রকাশনী এবং ঝিঙেফুল প্রকাশনী প্রকাশ করেছে আরেকটি বই। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ওপর আরও তিনটি বই মেলায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছে ঐতিহ্য।

বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মেলায় ভাষা আন্দোলনের ওপর আসা নতুন চারটি বই হলো- ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লেখক-গবেষক বদরুদ্দোজা হারুনের লেখা ‘ভাষাশহিদ আবুল বরকত: নেপথ্যকথা’, প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীর অমর একুশ বিষয়ক স্মৃতি ও ভাবনার সংকলন ‘একুশের স্মৃতি ও ভাবনা’, প্রথমা থেকে প্রকাশিত ভাষা সৈনিক মর্তুজা বশীরের লেখা ‘একুশের লেখা, একুশের আঁকা’ এবং ঝিঙেফুল থেকে প্রকাশিত গাজী হানিফের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’।

একুশ নিয়ে লেখা বইয়ের অপ্রতুলতা নিয়ে আক্ষেপ ঝরল বিভিন্ন প্যাভিলিয়নের বিক্রয় প্রতিনিধিদের কণ্ঠেও।

বাংলা একাডেমির বিক্রয়কর্মী লাভলু আলম বলেন, ‘এ বছর ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা একাডেমির নতুন কোনো বই নেই। আগের বইগুলোই পুনরায় প্রিন্ট করা হচ্ছে।’

বাংলা একাডেমির স্টলঘুরে অমর একুশ নিয়ে কয়েকটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো হচ্ছে- ড. সরকার আমিনের সম্পাদনায় ‘একুশের প্রবন্ধ ২০২৩’, সাজ্জাদ আরেফিনের সম্পাদনায় ‘একুশের কবিতা-পরিচয়’, জালাল ফিরোজের ‘অমর একুশে বইমেলার ইতিহাস’ ও আমিনুর রহমান সুলতানের ‘ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক’।

অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে চাই, কিন্তু এসব বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাণ্ডুলিপি পাই না। ভাষা আন্দোলনের ওপর পাণ্ডুলিপি নেই বললেই চলে।

‘অনেক বছর আগে হয়ত দুই একটা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণার অভাবে আমরা কোনো পাণ্ডুলিপি পাচ্ছি না। হয়ত গবেষকরা এসব বিষয়ে উৎসাহ পাচ্ছেন না অথবা বিভিন্ন কারণে লিখছেন না। এসব কারণে আমরা এ বিষয়ে কোনো বইও প্রকাশ করতে পারছি না।’

তিনি বলেন, “প্রতিবছরই আমাদের ইচ্ছা থাকে ভাষা আন্দোলনের ওপর কমপক্ষে একটা বই প্রকাশ করার, কিন্তু পাণ্ডুলিপি না পাওয়ার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। পুরাতন যে বইগুলো আছে, সেগুলো নিয়েই আমাদের চলতে হয়। বর্তমানে আমাদের ডা. শেখ মেহেদী হাসানের ‘ভাষা আন্দোলনের পূর্বাপর’ বইটি আছে।”

পাঠক সমাবেশের স্টল ম্যানেজার লিয়ন বলেন, ‘এই বিষয় নিয়ে নতুন কোনো বই আসেনি। আগেরও কোনো বইও আমাদের নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই আছে।’

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয় প্রতিনিধি মোসাদ্দেক হোসাইন বলেন, “নতুন কোনো বই আসেনি। তবে আতিউর রহমান স্যারের সম্পাদনায় ‘ভাষা আন্দোলনের আত্ম সামাজিক পটভূমি’ শীর্ষক একটি বই ছিল। তবে সেটা এখন নেই। নতুন করে আবার প্রকাশিত হবে।”

প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রিয় প্রতিনিধি আশফাক বলেন, “একটা ছাড়া আর কোনো নতুন বই আসেনি। তবে আগের কিছু বই আছে, সেগুলো হচ্ছে- আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন’, ‘একুশের মুহুর্তগুলো’, ছয় ভাষাশহীদের জীবনগাথা নিয়ে বই ‘একুশের শহীদ’, মতিউর রহমানের সম্পাদনায় ‘একুশের পটভূমি একুশের স্মৃতি’ ইত্যাদি।”

মওলা ব্রাদার্সের স্টল ম্যানেজার তামিম বলেন, “‘ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর নামে’ একটি বই ছিল, সেটা গত বইমেলায় শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে রিপ্রিন্ট করা হয়নি। তবে এই বছর নতুন কোনো বই আসেনি।”

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, “ভাষা আন্দোলনের ওপর নতুন আরও তিনটা বই আসবে। সেগুলো হলো- অমর একুশে স্মরণে ‘একুশের ২১ গল্প’, ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার বরেণ্য কথাশিল্পীদের একুশটি গল্পের এ সংকলন সম্পাদনা করেছেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের দুই অগ্রসৈনিক শহীদ মুনীর চৌধুরীর ‘দুষ্প্রাপ্য রচনা’ এবং ‘শহীদ জহির রায়হানের আত্মকথা ও অন্যান্য রচনা’। এই দুটি গ্রন্থের সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন কাজী জাহিদুল হক।”

“এছাড়া আগের কিছু বই, যেমন: সৈয়দ শামসুল হকের ‘বাহান্নের বিজয়গাথা’, মো. নূরুল আনোয়ারের একুশের গুলিবর্ষণ, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর কারিশমা’ও রয়েছ ‘, যোগ করেন মেহেদী হাসান রিফাত।

তবে আগামী প্রকাশনী থেকে এই বছর ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নতুন কোন বই পাওয়া না গেলেও আগের কিছু বইয়ের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো- ড. এম আবদুল আলীমের ‘ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ- কতিপয় দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিব- কতিপয় দলিল’, ‘রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে রফিকুল ইসলাম’, ‘সিরাজগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’, ‘আওয়ামী লীগ ও ভাষা আন্দোলন’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’, বশির আল হেলালের ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ উল্লেখযোগ্য।

সময় প্রকাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি আবির হাসান বলেন, “আমাদের নতুন কোন বই আসেনি। তবে আগের তিনটা বই আছে। সেগুলো হলো, আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন- ইতিহাস ও উত্তরপ্রভাব’, হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।”

এছাড়া সেলিনা হোসেনের ‘যাপিত জীবন’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনিসুর হকের ‘যারা ভোর এনেছিলো’, বদরুদ্দীন উমরের ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি-১’, এম আর আখতার মুকুলের ‘একুশের দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা’, হুমায়ুন আজাদের ‘ভাষা আন্দোলন’, রফিকুল ইসলামের ‘ভাষা আন্দোলন ও শহীদ মিনার’, মুহাম্মদ শফীর ‘ভাষা আন্দোলনের আগে ও পরে’ এবং আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু জিজ্ঞাসা’ বইগুলো উল্লেখযোগ্য।

২০তম দিনে নতুন বই ৯৯টি

মঙ্গলবার মেলা শুরু হয় বিকেল তিনটায় এবং চলে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ৯৯টি।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: জামাল নজরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজ্ঞানবক্তা আসিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুব্রত বড়ুয়া এবং আরশাদ মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

প্রাবন্ধিক বলেন, ‘অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গাণিতিক, পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববরেণ্য কসমোলজিস্ট। আন্তর্জাতিক মহলে তিনি জে. এন. ইসলাম হিসেবে পরিচিত।’

আলোচকবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের বিজ্ঞানচিন্তা ও গবেষণার পরিসর ছিল অনেক বিস্তৃত। তিনি আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে বিশিষ্ট অবস্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি কেবল বড়ো বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একজন সংস্কৃতিবান ও দেশপ্রেমিক মানুষও ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম বড়ো বিজ্ঞানী হয়েও ছিলেন নিরহংকারী, অত্যন্ত আন্তরিক, সদাশয় ও সরল মনের অধিকারী একজন মানুষ। তিনি বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।’

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি আতাহার খান, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, গবেষক চৌধুরী শহীদ কাদের এবং লেখক ও পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল।

অমর একুশের কর্মসূচি

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাত সাড়ে বারোটায় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

আগামীকাল বইমেলা শুরু হবে সকাল আটটায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।

সকাল আটটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করবেন কবি শামীম আজাদ।

অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

মন্তব্য

জীবনযাপন
A fair of life colored in spring love

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসার দিনে বুধবার অমর একুশে বইমেলায় তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
বসন্ত ও ভালোবাসার রঙিন দিনে বইমেলায় তরুণ-তরুণীরা ছিল মাতোয়ারা। এদিন মেলার পরতে পরতে লেগেছিল ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বইও বিক্রি হয়েছে ভালো। গল্প-উপন্যাসসহ প্রেমের কবিতার বই বেশি বিক্রি হয়েছে।

প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে। তেমনই প্রাণের মেলাকেও যেন ফাগুনের আগুন ছুঁয়েছে। অমর একুশে বইমেলার একাডেমি প্রাঙ্গণে কোকিলের কুহুতান শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন আগে থেকেই। ওরা যেন বইপ্রেমীদের বার্তা দিচ্ছিল- ‘বসন্ত এসে গেছে…।’ আর তাই তো বইমেলায়ও সেই বসন্ত চলে এসেছে। বুধবার শুধু ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ছিলো না। ছিলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। তাই তো ফাগুনের রঙের সঙ্গে ছিলো লাল আভার উষ্ণতা।

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

বসন্ত ও ভালোবাসার রঙিন দিনে মেলায় তরুণ-তরুণীরা ছিল মাতোয়ারা। এদিন মেলার পরতে পরতে লেগেছিল ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। রেওয়াজ অনুযায়ী এতদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছিল পয়লা ফাল্গুন। হলুদ পোশাকে, গাঁদা ফুল দিয়ে মানুষ দিনটি বরণে ব্যস্ত থাকতেন। পরদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রঙ বদলে যেত।

কিন্তু নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে বসন্ত আসে ভালোবাসার চাদর নিয়ে। তাই প্রাণের মেলায় তরুণ-তরুণীরাও বসন্ত আর ভালোবাসার রঙে নিজেদের রাঙানোর সুযোগ পেয়ে যায়। তাদের উচ্ছ্বাসে বসন্ত-ভালোবাসায় একাকার ছিল বইমেলা।

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

প্রকাশক ও আয়োজকরা জানান, ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকে মেলায় যে বসন্তের ছোঁয়া লাগে তা মেলার শেষ অবধি অব্যাহত থাকে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না। বরং অন্যান্যবারের চেয়ে মেলা আরও প্রাণবন্ত হবে এবং মেলায় বিক্রিবাট্টাও বেশি হবে বলে তারা আশা করছেন। কেননা করোনা এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পুরোপুরি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তাই বসন্তের এই রঙ মেলার সামনের দিনগুলোতেও থাকবে। অন্যান্যবারের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হবেও বলেও কেউ কেউ ধারণা প্রকাশ করেন।

বরাবরের নিয়ম ধরে বুধবার বিকেল ৩টায় বইমেলার দুয়ার খুলে দেয়া হয়। আর সঙ্গে সঙ্গে তারুণ্যের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। হলুদ কিংবা লাল রঙের শাড়িতে মেয়েরা আর ম্যাচিং করা পানজাবি পরে ছেলেদের মেলায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। তরুণীদের মাথায় ছিল ফুলের মালা। কারও কারও হাতে ছিল প্রিয়জনের উপহার দেয়া লাল গোলাপ কিংবা অর্কিড ফুল। বিকেলের পর গোটা মেলায় ছিল উপচেপড়া ভিড়।

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

মেলা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এদিন বিকেলের পর দর্শনার্থীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়েছে এই ভিড়। রাজু ভাস্কর্য এলাকায় রীতিমতো জনজট লেগে গেছে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ গেটে ছিল দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তবেই প্রবেশ করতে হয়েছে বইমেলায়।

মেলায় যাত্রাবাড়ী থেকে আসা নাফিসা বলেন, ‘আজ ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাল্গুন। বসন্তকে বরণ করে নিতে একটু স্পেশালভাবে বের হয়েছি। দুপুর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরেছি। বিকেলের পর এসেছি বইমেলায়। প্রিয় লেখকের কিছু বইও কিনলাম।’

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

অন্বেষা প্রকাশনীর এক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, ‘অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ (বুধবার) মেলায় ভিড় বেশি। বইও বিক্রি হয়েছে ভালো। গল্প-উপন্যাসসহ প্রেমের কবিতার বই বেশি বিক্রি হয়েছে।’

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মেলায় তরুণ-তরুণীদের শ্রেষ্ঠ উপহার বই-ই তুলে দিতে দেখা গেছে। এসব বইয়ের মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে প্রেমের কাব্য ও উপন্যাস। নিজের না বলতে পারা কথাগুলো কবি ও সাহিত্যিকদের মাধ্যমে নিজের প্রিয় মানুষটির কাছে পৌঁছে দেন তারা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাস, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, হেলাল হাফিজসহ রোমান্টিক কবি-সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাস বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়।

তরুণ লেখকদের প্রেমের কবিতা-উপন্যাসও এদিন কপোত-কপোতিদের নজর কেড়েছে বলে প্রকাশকরা উল্লেখ করেন।

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

ফাল্গুন আর ভালোবাসার দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৯১টি।

এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাফাত আলম মিশু। আলোচনায় অংশ নেন সুজাতা হক এবং মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, কবি শাহেদ কায়েস, লেখক ও সংগীতজ্ঞ তানভীর তারেক এবং কথাসাহিত্যিক মাজহার সরকার।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মারুফুল ইসলাম, মাসুদুজ্জামান, ইসমত শিল্পী এবং সাহেদ মন্তাজ।

আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, মাসুদুজ্জামান এবং চৈতালী হালদার। পুঁথিপাঠ করেন মো. শহীদ এবং মো. কুদ্দুস মিয়া।

সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রফিকুল আলম, খুরশীদ আলম, মামুনুল হক সিদ্দিক, মুর্শিদুদ্দীন আহম্মদ, মো. রেজওয়ানুল হক, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, আঞ্জুমান আরা শিমুল, চম্পা বণিক, শরণ বড়ুয়া এবং অনন্যা আচার্য।

বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: আবদুল হালিম বয়াতি’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জোবায়ের আবদুল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেবেন শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং মো. নিশানে হালিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সাইদুর রহমান বয়াতি।

আরও পড়ুন:
শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র
বইমেলায় শুক্র-শনির অপেক্ষা
একুশের বইমেলা জমেছে তারুণ্যে
প্রথম ৫ দিনের মেলায় উপন্যাস ও কবিতার বই বেশি
নজর কাড়ছে গ্রামীণ আদলের স্টলগুলো

মন্তব্য

জীবনযাপন
Book fair waiting for the day of spring and love

বসন্ত আর ভালোবাসার দিনের অপেক্ষায় বইমেলা

বসন্ত আর ভালোবাসার দিনের অপেক্ষায় বইমেলা বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসে বুধবার অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে দেখা যাবে এমন দৃশ্য। মঙ্গলবার যেন তারই মহড়া। ছবি: নিউজবাংলা
কয়েক বছর ধরে বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস আসছে একসঙ্গে। তাই বুধবার মেলার পরতে পরতে লেগে থাকবে ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। রং-বেরঙের পাঞ্জাবি, হলুদ, সাদা আর লাল শাড়ি পরে যুগলরা আসবেন মেলায়। প্রিয়জনকে দেবেন বই উপহার। জমে উঠবে অমর একুশে বইমেলা।

বসন্তের প্রথম দিন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কয়েক বছর ধরে বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস আসছে একসঙ্গে। তাই বুধবার মেলার পরতে পরতে লেগে থাকবে ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। রং-বেরঙের পাঞ্জাবি, হলুদ, সাদা আর লাল শাড়ি পরে যুগলরা আসবেন মেলায়। প্রিয়জনকে দেবেন বই উপহার। প্রাণের এই মেলায় তরুণ-তরুণীরা বসন্ত আর ভালোবাসার রঙে নিজেদের রাঙাবেন। তাদের উচ্ছ্বাসে জমবে বইমেলা।

বুধবার বসন্ত হলেও প্রেমিক-যুগলরা মঙ্গলবার থেকেই নানা রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে মেলায় এসেছেন, ঘুরেছেন আর কিনেছেন বই। তাদের অনেকের মাথায় ফুলের টায়া, কেউ আবার চুলে আর কানে ফুল গুঁজে প্রিয়জনের সঙ্গে ঘুরছেন। তাদের দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটিতে মেলা পেয়েছে ভিন্নমাত্রা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিসুল ইসলাম এসেছেন তার প্রিয়জনকে নিয়ে। তিনি বলেন, আগে বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস দুই দিনে হওয়ায় আমরা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে দুই দিন সময় পেতাম। কিন্তু এখন এক দিনে হয়ে যাওয়াতে সেই সুযোগ হারিয়ে ফেলেছি। তাই ইচ্ছা করেই আমার প্রিয় মানুষটাকে নিয়েই আজকে মেলায় এসেছি। কালকেও (বুধবার) আসব।

বসন্ত আর ভালোবাসার দিনের অপেক্ষায় বইমেলা

এদিকে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের এই দিনকে কেন্দ্র করে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন প্রকাশকরাও। প্রেম ভালোবাসা নিয়ে গল্প, উপন্যাস আর কবিতার বইগুলো সবার সামনেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। প্রিয়জনকে বই উপহার দিতে দর্শনার্থীরা এসব বই-ই বেশি কিনছেন বলে জানান বিক্রয়কর্মীরা।

‘তাম্রলিপি প্রকাশনী’র বিক্রয়কর্মী মার্টিন বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে আমাদের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের নতুন কিছু প্রেম ভালোবাসার গল্প আর উপন্যাসও আনা হয়েছে। যুগলরা তাদের ভালোবাসার মানুষকে বই উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের কিছু বিশেষ বই আছে। যেমন- মেজর আবু সাঈদের অরণ্য ও মেঘবালিকার গল্প, হিমাদ্রি শর্মার হৃদয়জুড়ে মায়া, ফখরুল হাসানের একমুঠো রোদ্দুর, ফাহমিদা চৌধুরীর অপেক্ষা, মৌরি মরিয়মের লগ্নজিতা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, মৌরি মরিয়ম আপুর বইগুলো প্রায়ই রোমান্টিক আর প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে। ভালোবাসার মানুষকে উপহার দেওয়ার জন্য তার বইগুলো ভালো হতে পারে।

অন্য প্রকাশ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী দিনা বলেন, ‘‘আমাদের প্রকাশনীর সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ স্যার ওতোপ্রোতভাবে মিশে আছেন। তাই স্যারের প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে বই বিশেষ করে ‘বৃষ্টি বিলাস’, ‘তেঁতুল বনে জোছনা’, ‘দিঘির জলে কার ছায়া গো’, ‘লীলাবতী’, ‘মৃন্ময়ী’, ‘শুভ্র’ ভালো সাজেশন হতে পারে। এ ছাড়া জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে সাদাত হোসাইনের ‘প্রিয়তম অসুখ সে’, ‘তোমার নামে সন্ধ্যা নামে’ বই ভালো চলছে। আর প্রেমের কবিতার মধ্যে বীথি রহমানের ‘বিষয়টা সন্দেজনক’ বইটা ভালো পছন্দ হবে।’’

অন্বেষা প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি আশিক বলেন, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে অনেকেই আমাদের প্রকাশনীতে আসছেন। প্রিয়জনকে ভালোবাসার বই উপহার দিচ্ছেন। তার মধ্যে ইসমত আরা প্রিয়া ম্যামের ‘আমার শুধু মানুষ হারায়’, পলাশ আহমেদের ‘কৃষ্ণমেঘ’, শরিফুল মুস্তফা মুনীরের ‘নিশীথ কুসুমের গন্ধ’ বই ভালো উপহার হতে পারে।

এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’, তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের ‘কবি’, বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’, ‘চোখের বালি’, বুদ্ধদেব গুহর ‘বাবলি’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘প্রথম প্রণয়’, ‘ভালোবাসা, প্রেম নয়’, ‘যুবক-যুবতীরা’, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা, হুমায়ূন আহমেদের নবনী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’, ‘শ্রীকান্ত’, আনিসুল হকের ‘নন্দিনী’, ‘আমারও একটি প্রেম কাহিনী আছে’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘যত দূরে যাই’, মোশতাক আহমেদের ‘ফাগুন বসন্ত’ বইগুলো প্রিয় মানুষদের উপহার হিসেবে দেওয়া যায়।

নতুন বই ১১০টি

মঙ্গলবার মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১১০টি।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ যেভাবে তার পরবর্তী প্রজন্মের লেখকদের কাছে এক অনিবার্য প্রসঙ্গ হয়ে উঠলেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। সাদামাটা গল্প বলার ছলেই তিনি পাঠকদের নিয়ে গেছেন এক দার্শনিক উচ্চতায়, দৃশ্যমান করে তুলেছেন একটি জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক চিন্তা-বিশ্বাস-সংস্কারের বিমূর্ত রূপ।

আলোচকরা বলেন, জনজীবনের ভাষাকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তার সাহিত্যের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রাসঙ্গিকতা এখানেই যে তিনি অতীতের চরিত্রগুলোর সঙ্গে আমাদের একটি নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করে দেন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, সাহিত্যের ভেতর দিয়ে জীবনের বাস্তবতাকে তুলে ধরার নিপুণ কারিগর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্। তার সাহিত্যে তিনি সমকালীন জনগোষ্ঠীর অনুভূতির কাঠামোকে ধারণ করেছেন। ফলে কেবল আমাদের সময়েই নয় ভবিষ্যতেও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও তার সাহিত্যকর্ম অনিবার্য এবং প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যকার ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ, গবেষক আফরোজা পারভীন, কবি শিহাব শাহরিয়ার ও শিশুসাহিত্যিক কামাল হোসাইন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদ হায়দার, হেনরী স্বপন, শিহাব শাহরিয়ার, মতিন রায়হান, জুনান নাশিত, টিমোনী খান রিনো, সাকিরা পারভীন ও মু. আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিমা খান বকুল, ফয়জুল্লাহ সাঈদ ও চন্দ্রিমা দেয়া। এ ছাড়া ছিল তুনাজ্জিনা রহমত মৌরীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গীতিকবি আনিসুল হক স্মৃতি পরিষদ’, ‘হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমি’ ও সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনীর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘প্রিয়দর্শিনী’র পরিবেশনা।

সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মো. হারুনুর রশিদ, মিতা চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী সরকার, আফরোজা খান মিতা, শহীদ কবীর পলাশ, মো. মজিবুর রহমান, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, মাহবুবা রহমান এবং এম এম উম্মে রুমা।

বুধবারের সময়সূচি

বুধবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ভাষা সংগ্রামী গাজীউল হক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রাফাত আলম মিশু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুজাতা হক এবং মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র
বইমেলায় শুক্র-শনির অপেক্ষা
একুশের বইমেলা জমেছে তারুণ্যে
প্রথম ৫ দিনের মেলায় উপন্যাস ও কবিতার বই বেশি
নজর কাড়ছে গ্রামীণ আদলের স্টলগুলো

মন্তব্য

জীবনযাপন
Ahmadiyya Jalsa begins in Panchgarh with unprecedented security

পঞ্চগড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় আহমদিয়া জলসা শুরু

পঞ্চগড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় আহমদিয়া জলসা শুরু পঞ্চগড়ে কঠোর নিরাপত্তায় মঙ্গলবার শুরু হয়েছে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী জলসা। ছবি: নিউজবাংলা
জলসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহমদনগর এলাকাসহ পঞ্চগড় শহরের প্রতিটি আবাসিক হোটেল, মসজিদের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আর নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা রাতযাপন করছেন ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ৯৯তম সালানা জলসা (বার্ষিক সম্মেলন) শুরু হয়েছে। শহরের আহমদ নগরে মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই জলসা চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই জলসা ঘিরে প্রশাসনের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকেছে পুরো পঞ্চগড়। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

সূত্র জানায়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি জলসার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা ছিলো। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জলসা আয়োজনের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।

জলসার নিরাপত্তার স্বার্থে আহমদনগর এলাকাসহ শহরের প্রতিটি আবাসিক হোটেল, মসজিদের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় আহমদিয়া জলসা শুরু
আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বার্ষিক জলসা আয়োজন ঘিরে পঞ্চগড় শহরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যরা রাতযাপন করছেন জেলা শহরসহ সদর উপজেলার ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল মালেক বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের চিঠির আলোকে ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ দিন নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫০ থেকে ২০০ পুলিশ সদস্য থাকছেন। এ অবস্থায় পাঠদান করা সম্ভব হবে না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের অফিস খোলা রয়েছে এবং শিক্ষকরা দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রাখছেন।

গত বছরের ২ থেকে ৪ মার্চ ৯৮তম সালানা জলসা ঘিরে পঞ্চগড় শহরে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজন নিহত হন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর ৩২টি মামলায় ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়।

এবারও জলসা বন্ধের দাবিতে ২৮ জানুয়ারি সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদ জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে নিহত ১, বিজিবি মোতায়েন
আহমদিয়াদের জলসাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পঞ্চগড়

মন্তব্য

জীবনযাপন
Coach Kanchan Academy reunion

কোচ কাঞ্চন একাডেমির মিলনমেলা

কোচ কাঞ্চন একাডেমির মিলনমেলা রাজধানীর ফরটিস ডাউনটাউন রিসোর্টে এলামনাই আপলিফট প্রোগ্রামে সমবেতরা। ছবি: নিউজবাংলা
অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে সকালে ব্রেইন সায়েন্সের ওপর স্পেশাল সেশন নেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাপিনেস কোচ ও ব্রেইন ট্রেইনার কোচ কাঞ্চন। দ্বিতীয় অংশে তার পঞ্চম বই ‘ক্যাশ মেশিন’-এর উদ্বোধন হয়।

দেশের ই-লার্নিং ইতিহাসে অ্যালামনাইদের নিয়ে বড় মিলনমেলা হয়ে গেলো রাজধানী ঢাকায়। ‘একসাথে সমৃদ্ধি’ (Thrive Together) থিমের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাজধানীর ফরটিস ডাউনটাউন রিসোর্টে এলামনাই আপলিফট প্রোগ্রাম আয়োজন করে কোচ কাঞ্চন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোচ কাঞ্চন একাডেমির পাঁচ শতাধিক অ্যালামনাই অংশ নেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা, করপোরেট লিডার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও আইনজীবী।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে সকালে ব্রেইন সায়েন্সের ওপর স্পেশাল সেশন নেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাপিনেস কোচ ও ব্রেইন ট্রেইনার কোচ কাঞ্চন।

দ্বিতীয় অংশে দুইবারের রকমারি বেস্টসেলার লেখক কোচ কাঞ্চনের পঞ্চম বই ‘ক্যাশ মেশিন’-এর উদ্বোধন হয়।

কোচ কাঞ্চন একাডেমির মিলনমেলা
অনুষ্ঠানে লেখক কোচ কাঞ্চনের পঞ্চম বই ‘ক্যাশ মেশিন’-এর উদ্বোধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে একাডেমির বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ ও পাঁচজনকে ‘এমপ্লয়ী অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়।

মিলনমেলায় বক্তব্যে কোচ কাঞ্চন বলেন, ‘আমি অনেক লস করে ট্রাজেডির মধ্য দিয়ে আজকের সফল অবস্থানে এসেছি। আমি চাই না আমার মতো আপনারাও এতো কষ্ট করেন। তাই তো আমার সব লার্নিং আপনাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত শেয়ার করছি। এই মিলনমেলা বাংলাদেশের ই-লার্নিং ইতিহাসে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করলো। ইতিহাসের এই পথ বেয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর। এই আয়োজন ই-লার্নিং সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়াবে।’

২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থী কোচ কাঞ্চন একাডেমির বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করে উপকৃত হয়েছেস। কোচ কাঞ্চনের বই পড়েছেন ৫০ হাজারের বেশি পাঠক।

কোচ কাঞ্চন একাডেমির এই মেগা মিলনমেলা ছিল পারস্পরিক সু-সম্পর্ক তৈরি ও হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Janasamudra at Fridays book fair

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার ক্রেতা-দর্শকের ভিড়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয় অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। ছবি: নিউজবাংলা
অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় শুক্রবার যেন পূর্ণতা পেল এই আয়োজন। মেলা শুরুর পর তৃতীয় ছুটির দিনটি মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। বিকেল থেকে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না মেলায়। বিক্রয় প্রতিনিধিদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই।

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় শুক্রবার যেন পূর্ণতা পেল এই আয়োজন। মেলা শুরুর পর এই তৃতীয় ছুটির দিনটি মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। বিকেল থেকে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না মেলায়।

বিক্রয় প্রতিনিধিদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে ক্রেতার চাপে সেই সুযোগও হচ্ছিল না তাদের। তবে ভালো বিক্রি হওয়ার আনন্দ অভিব্যক্তি ছিল তাদের চোখে-মুখে। তারা বলছেন, গত শুক্রবারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছে এই শুক্রবারে।

মিজান পাবলিশার্সের বিক্রয় প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক বেশি মানুষ। গত শুক্রবার হয়নি কারণ সেটা মেলার প্রথম ছুটির দিন ছিলো। আমাদের প্রত্যাশা প্রতিটি দিনই আজকের মতো হোক। আজকে আমরা খুশি।’

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র

কথাপ্রকাশ প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোস্তফা শেখ বলেন, ‘আশা করছি, দিন শেষে গত শুক্রবারের চেয়ে আজ দ্বিগুণ বিক্রি হবে। আর গত বছরের মেলার চেয়ে একার মেলায় জনসমাগম বেশি। কারণ মেট্রো রেল হওয়াতে আগে যারা যানজটের কারণে আসার আগ্রহ পেতেন না তারাও চলে আসছেন।’

অন্বেষা প্রকাশনির বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘ক্রেতা-দর্শনার্থীর অনেক ভিড়। ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’ এরপর তাম্রলিপি, ঐতিহ্য, আগামীসহ বেশকিছু প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও ক্রেতা-দর্শকের ভিড়ে তা সম্ভব হয়নি।

পাঞ্জেরি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মৌসুমি হওলাদার বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষ এবং বিক্রি ভালো হচ্ছে। রাতেও এতো মানুষ হবে সেটা চিন্তা করিনি।’

অন্যপ্রকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘গত শুক্রবারে মানুষ একটা প্রস্তুতির মধ্যে ছিলো। তাছাড়া মেলার এক সপ্তাহে অনেক বই-ও চলে এসেছে। তাই এখন পাঠক-ক্রেতার বেশি ভিড়। আমাদের বিক্রিও অনেক ভালো হচ্ছে।’

মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি সাজরিন আমিন বলেন, ‘মানুষ অনেক বেশি। তবে যত বেশি দর্শনার্থী সে অনুযায়ী বিক্রি ততোটা হচ্ছে না।’

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র

শিশুপ্রহর

শুক্রবারের সকালটা বরাবরই শিশুদের জন্য। এদিন সকাল ১১টায় শুরু হওয়া শিশুপ্রহরও ছিলো ছোট্ট সোনামনিদের কলতানে মুখরিত। বিশেষ করে সবার প্রিয় সিসিমপুরের চরিত্র ইকরি, শিকুর সঙ্গে নাচ, গান, আবৃত্তিতে মেতে ওঠা শিশুদের কারণে মেলা পেয়েছে ভিন্নমাত্রা।

বাবার হাত ধরে মধ্যবাড্ডা থেকে মেলায় আসা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়হান মুনতাছির বলল, ‘টুকটুকি, হালুম, ইকরি আমার অনেক পছন্দের। অনেক আনন্দ করেছি। অনেক ভালো লাগছে আমার।’

মুনতাছিরের বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা শুরুর পর থেকেই ছেলে বায়না ধরেছে টুকটুকিকে দেখতে যাবে। আজকে নিয়ে এলাম। অনেকদিন পর বাচ্চাটা একটু মন খুলে আনন্দ করলো। এমন আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ।’

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র

ধুলার অস্বস্তি

এদিকে বিপুল দর্শনার্থীর পদচারণায় ধুলাবালি মেলার পরিবেশকে কিছুটা অস্বস্তিকর করে তুলেছে। অনেককে মাস্ক পরে বা মুখে হাত দিয়ে এক স্টল থেকে অন্য স্টলে ঘুরে ঘুরে বই দেখতে হচ্ছে। এই নিয়ে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন কিছু দর্শনার্থী।

পুরান ‍ঢাকা থেকে আসা সালমান নাফিস বলেন, আজকে মেলায় অনেক মানুষ। তাদের হাঁটাচলার কারণে প্রচুর ধুলাবালি উড়ছে। মেলার আয়োজকদের এই বিষয়েও নজর দেওয়া উচিত। তাদের আগে থেকে জানা উচিত ছিলো, ছুটির দিনে দর্শনার্থী একটু বেশিই হবে। তাই সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও তাদের নিয়ে রাখলে মেলার পরিবেশটা আরামদায়ক হতো।

মতিঝিল থেকে আসা রায়হান আলমগীর বলেন, ‘অনেকক্ষণ মেলায় থাকার ইচ্ছে থাকলেও ধুলার কারণে দ্রুত বের হয়ে যেতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আয়োজকদের অনুরোধ করবো, ধুলাবালিমুক্ত রাখার বিষয়ে যেন নজর দেয়া হয়।’

নবম দিনে এসেছে সর্বোচ্চসংখ্যক বই

শুক্রবার বইমেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। এদিন নতুন বই এসেছে ১৭১টি।

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র

শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে ক-শাখায় ৩৯৫, খ-শাখায় ২৩৫ এবং গ-শাখায় ৬৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন অধ্যাপক নিসার হোসেন।

শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক-শাখায় ১২৩, খ-শাখায় ১৩৮ এবং গ-শাখায় ৫১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বাচিক শিল্পী আনজুমান আরা, মো. গোলাম সারোয়ার ও রফিকুল ইসলাম।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: এস. ওয়াজেদ আলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশ নেন ইকতিয়ার চৌধুরী ও কুদরত-ই-হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন।

শুক্রবারের বইমেলায় জনসমুদ্র

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন শিশুসাহিত্যিক রিফাত নিগার শাপলা, গবেষক অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান, কবি মাশরুরা লাকী ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ার হোসেন বাদল।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা

অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সময়সূচি

শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি: সুচিত্রা মিত্র’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সাইম রানা। আলোচনায় অংশ নেবেন আহমেদ শাকিল হাসমী ও অণিমা রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মফিদুল হক।

আরও পড়ুন:
নজর কাড়ছে গ্রামীণ আদলের স্টলগুলো
বইমেলায় ‘গাঁজাসহ’ ঢুকছেন কেউ কেউ, টয়লেটে ভোগান্তি
নতুন ৩১ বই এলো দ্বিতীয় দিনের মেলায়
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার হস্তান্তর
বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে