× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
150 year old son in law fair in Tangail
google_news print-icon

টাঙ্গাইলে দেড়শ’ বছরের ‘জামাই মেলা’

টাঙ্গাইলে-দেড়শ-বছরের-জামাই-মেলা
টাঙ্গাইল সদরের রসুলপুরে জামাই মেলায় বিকিকিনি। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) রসুলপুরে মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের মেয়ে জামাতারা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ। আর মেলায় জমায়েত হন ৩০ গ্রামের মেয়ে জামাতারা।

‘প্রতিবছরই আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। এই মেলা আমাদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা ও ভাব-বিনিময় হয়। সব মিলিয়ে আমরা মেলার দিন আনন্দে মেতে উঠি।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে চলমান ‘জামাই মেলা’য় কথাগুলো বলছিলেন সুকুমার সাহা ও প্রদীপ সাহা।

রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই মেলা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। একদিকে ঈদের আনন্দ অপরদিকে মেলাকে কেন্দ্র করে স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নেমেছে। এই আয়োজন ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মেলাটি জামাই মেলা নামেই পরিচিত। রসুলপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হারেজ মিয়া বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকার মেয়ে জামাতারা শ্বশুরালয়ে আসেন। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় আসেন এবং কেনাকাটা করেন। আর মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মেলাটি প্রতিবছরই জমে ওঠে। এটি জেলার মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী একটি মেলা।

টাঙ্গাইলে দেড়শ’ বছরের ‘জামাই মেলা’

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) রসুলপুরে মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের মেয়ে জামাতারা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ। আর মেলায় জমায়েত হন ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা।

এছাড়া মেলার দিন শাশুড়িরা মেয়ে জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে জামাই বাজার করে এনে শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান। এ কারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। তিন দিনের এই মেলায় রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, খাবারের দোকানসহ ছোট-বড় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে মেলায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানও আছে। এছাড়া মেলায় রয়েছে একাধিক ফার্নিচারের দোকান। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলে-মেয়েরাও মেলা উপভোগ করছে।

রসুলপুরের কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাশেদ রহমান বলেন, ‘জামাই মেলার বয়স দেড়শ’ বছরের মতো হবে। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজা-পার্বণের মতোই এই মেলা একটি বড় উৎসবের উপলক্ষ।

‘ব্রিটিশ আমলে এটি বৈশাখী মেলা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত। মেলা সামনে রেখে রসুলপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোর বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। আর জামাইকে মেলা উপলক্ষে বরণ করে নেয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরা আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এছাড়া রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করা হয়েছে। এতে করে মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুন্দর থাকে।’

টাঙ্গাইলে দেড়শ’ বছরের ‘জামাই মেলা’

পার্শ্ববর্তী বড় বাসালিয়া গ্রামের আকড়ি ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি এমনিতে রডমিস্ত্রির কাজ করি। মেলা আসলে একটু বাড়তি লাভের আশায় কয়েক বছর ধরে আকড়ি বিক্রি করি। বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে আকড়ি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে।’

অপর ব্যবসায়ী ফরিদা বেগম বলেন, ‘এটি টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। দুপুর থেকেই নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলায় ভিড় করছে। তারা বিভিন্নভাবে মেলা উপভোগ করে থাকেন। আমাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।’

মেলা কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসেম বলেন, ‘মেলায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে। এখানে মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি বিক্রি হয়। মেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
14 km Alpnaar in Hawre aiming for world record

বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে হাওরে ১৪ কিলোমিটার আলপনা

বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে হাওরে ১৪ কিলোমিটার আলপনা আলপনার রঙে রাঙানো হচ্ছে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক, যার লক্ষ্য বিশ্বরেকর্ড। ছবি: নিউজবাংলা
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘একসময়ের অবহেলিত হাওর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে এবং ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সারা দেশের মানুষের অত্যন্ত পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে। হাওরের বিভিন্ন এলাকায় সাবমার্সিবল সড়কসহ সারা বছর চলাচলের জন্য অলওয়েদার সড়ক নির্মিত হয়েছে। এই অলওয়েদার সড়কটি দেখতে আসেননি, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।’

বাঙালির আবহমান ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আয়োজন করা হচ্ছে ‘আলপনায় বৈশাখ ১৪৩১’ উৎসব।

এ উৎসবের অংশ হিসেবে আলপনার রঙে রাঙানো হচ্ছে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক, যার লক্ষ্য বিশ্বরেকর্ড।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন জিরো পয়েন্ট এলাকায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আলপনা আঁকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য (এমপি) আসাদুজ্জামান নূর।

বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে হাওরে ১৪ কিলোমিটার আলপনা

হাওরে সাজ সাজ রবে আনন্দিত এ জনপদের বাসিন্দারা, যাদের একজন মিঠামইন উপজেলার কুলাহানি গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ সাকিব বলেন, ‘একটা সময় ছিল দাওয়াত করেও আমাদের বন্ধুদের হাওরে আনতে পারতাম না। আর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় হাওরে সারা বছরই শহরের মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ এই আলপনার ফলে হাওরে পর্যটকের ভিড় আরও বাড়বে। সেই সাথে হাওরের সড়কটি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেবে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।’

বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে হাওরে ১৪ কিলোমিটার আলপনা

অষ্টগ্রাম উপজেলার ভাতশালা গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময়ের অবহেলিত হাওর এখন সারা দেশের মানুষের পছন্দের জায়গা। একটা সময়ে হাওরে বাড়ি বললে মানুষ অবজ্ঞা করত। আর এখন সম্পর্ক গড়ে। আমার জন্মটা হাওরে হওয়ায় আমি গর্ববোধ করি।’

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘একসময়ের অবহেলিত হাওর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে এবং ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সারা দেশের মানুষের অত্যন্ত পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে। হাওরের বিভিন্ন এলাকায় সাবমার্সিবল সড়কসহ সারা বছর চলাচলের জন্য অলওয়েদার সড়ক নির্মিত হয়েছে। এই অলওয়েদার সড়কটি দেখতে আসেননি, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।’

তিনি বলেন, ‘আগে এই সড়কটির সৌন্দর্য কেবল দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। এখন সেটি বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিতে যাচ্ছে। এই বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।’

এমপি আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বিশ্বরেকর্ড গড়ার অদম্য এই প্রচেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে, সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনার স্বীকৃতি পাবে। কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চল বিশ্ববাসীর নিকট নতুনভাবে পরিচিত হবে। পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে।’

কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে বাঙালি লোকসংস্কৃতি তুলে ধরতে এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে মিঠামইন জিরো পয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে ৬৫০ জন শিল্পী সর্ববৃহৎ আলপনা উৎসব ‘আলপনায় বৈশাখ ১৪৩১’ শুরু করেছেন।

আলপনা আঁকার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহমদ তৌফিকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশিদ, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া, বরেণ্য শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মহসিন হাবিব চৌধুরী ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসার মনজুলা মোরশেদ ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে হাওরে ১৪ কিলোমিটার আলপনা

পহেলা বৈশাখের দিন রোববার মিঠামইনে ১৪ কিলোমিটারে আঁকা আলপনা পরিদর্শন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটির গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরেশ যাকের ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
নদীগুলোতে বাড়ছে পানি, হাওরে ফেরি চলাচল বন্ধ
হাওরাঞ্চলে কৃষকের মুখে রোদের হাসি
মাছের উৎপাদন বেড়েছে হাকালুকি হাওরে
হাওরে বাঁধের কাজ শেষের সময় জানাল পাউবো
খাঁখাঁ হাওর অফিসে কর্মী মাত্র ২

মন্তব্য

জীবনযাপন
Crowds to watch the Eid festival of farmers and farmers in Kurigram

কুড়িগ্রামে কিষাণ-কিষাণীর ঈদ উৎসব, দেখতে ভিড়

কুড়িগ্রামে কিষাণ-কিষাণীর ঈদ উৎসব, দেখতে ভিড় কোলাজ: নিউজবাংলা
কৃষকদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে  ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) নামে একটি সামাজিক সংগঠন। মূলত কৃষকদের ঈদকে প্রাণবন্ত করতে এ উৎসবের আয়োজন করে সংগঠনটি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় ঈদ উৎসবে কিষান-কিষানিদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। সেসব খেলা দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজারো দর্শনার্থী এস ভিড় জমায়।

কৃষকদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) নামে একটি সামাজিক সংগঠন। মূলত কৃষকদের ঈদকে প্রাণবন্ত করতে এ উৎসবের আয়োজন করে সংগঠনটি। খেলা শেষে ৩৫ জন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

শুক্রবার দিনব্যাপী ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসব খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কুড়িগ্রামে কিষাণ-কিষাণীর ঈদ উৎসব, দেখতে ভিড়

দিনব্যাপী চলা অনুষ্ঠানে প্রায় ২২ ধরনের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হাঁড়ি ভাঙা, বালিশ খেলা, সুঁইসুতা, সাঁতার, তৈলাক্ত কলাগাছ বেয়ে চড়া, স্লো সাইকেল রেস, বেলুন ফাটানো এবং কিষানিদের বল ফেলা, বালিশ খেলা এবং যেমন খুশি তেমন সাঁজোসহ আরও অন্যান্য খেলা। এসব খেলায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের শতাধিক কিষান-কিষানি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম, সাংবাদিক শফি খান, রংপুর বিভাগীয় হিসাবরক্ষক সাইদুল হক, ফুল-এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের প্রমুখ।

খেলা দেখতে আসা ময়নাল হক বলেন, ‘গ্রামে এসব খেলা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১০-১৫ বছর পর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খেলা দেখে খুবই আনন্দ পেলাম। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে কৃষকদের হাঁড়ি ভাঙা, সাইকেল খেলা দেখে। এছাড়া কিষানিদের সুঁইসুতা খেলা ও বালিশ খেলা ছিল বেশ আনন্দের।’

কুড়িগ্রামে কিষাণ-কিষাণীর ঈদ উৎসব, দেখতে ভিড়

কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন সত্যি ভালো লেগেছে। আমরা এখানে শতাধিক কিষান-কিষানি আজকের খেলায় অংশ নিয়েছি। খু্ব ভালো লেগেছে।’

ফুল-এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘কৃষক হাসলে বাংলাদেশ হাসে- এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দিনব্যাপী শতাধিক কিষান-কিষানিকে নিয়ে প্রায় ২২টি খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

‘এ খেলার মাধ্যমে সমাজে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা করেছি। এছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতেও এ খেলার আয়োজন করা হয়েছে।’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Baisabi festival of life in the hills begins

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে বৈসাবি। ছবি: নিউজবাংলা
১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালিত হয়ে আসছে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে যথাক্রমে ‘বৈসু’, ‘সাংগ্রাই’ এবং ‘বিজু’ নামে এ উৎসব পালন করে থাকেন। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

খাগড়াছড়িতে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনী নদীতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। ফুল বিঝুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পাড়গুলো হাজারো তরুণ-তরুণীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা হল্লা করে ফুল তুলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে নদী-খালে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের শুভ কামনায় নিজেদের পবিত্রতা কামনা করে। এছাড়া ফুল দিয়ে ঘরের প্রতিটি দরজার মাঝখানে মালা গেঁথে সাজানো হয়।

শুক্রবার চাকমা সম্প্রদায় ফুল বিজু পালন করছেন। শনিবার মূল বিজু আর পরেরদিন রোববার পহেলা বৈশাখ বা গজ্জাপয্যা পালন করবেন তারা। এ সময় ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। একইসঙ্গে শনিবার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের হারিবৈসু, বিযুমা ও বিচিকাতাল পার্বন পালিত হবে ফুল বিজু, মূলবিজু ও বিচিকাতাল নামের নিজস্ব বৈশিষ্টে।

রোববার খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাইং উৎসবে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হবে বর্ষবরণের র‌্যালী। এসব উৎসবে আনন্দের আমেজ ছড়ায়।

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

চেঙ্গী নদীতে চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে ফুল উৎসর্গে সামিল হয়েছেন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ। বৈসাবি উৎসব দেখতে এসেছেন অনেক পর্যটকও।

১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালিত হয়ে আসছে। সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে ‘বৈসাবি’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে যথাক্রমে ‘বৈসু’, ‘সাংগ্রাই’ এবং ‘বিজু’ নামে এ উৎসব পালন করে থাকেন। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, আসাম, চাক ও রাখাইনসহ ১৩ ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্র্যময় করে করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে বৈসাবি উৎসব পালন করে থাকে।

বৈসাবি উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালির মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হোক এই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The largest Eid congregation in memory was held in Sholakia

শোলাকিয়ায় ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

শোলাকিয়ায় ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত শোলাকিয়ায় এবার অন্তত চার লাখ মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। ছবি: নিউজবাংলা
চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহে। সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই শোলাকিয়া ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও দলে দলে মুসল্লি আসতে থাকেন। ময়দানে জায়গা না পেয়ে অসংখ্য মুসল্লি পাশের সড়ক, সেতু, বহুতল ভবনের ছাদসহ অলি-গলিতে নামাজ আদায় করেন।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় স্মরণকালের বৃহত্তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন এ ঈদগাহে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭তম ঈদুল ফিতরের জামাত।

চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।

শোলাকিয়া ঈদগাহের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরু হওয়ার আগে শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরু করা হয়। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ শটগান চালিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই শোলাকিয়া ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও দলে দলে মুসল্লি আসতে থাকেন। ময়দানে জায়গা না পেয়ে অসংখ্য মুসল্লি পাশের সড়ক, সেতু, বহুতল ভবনের ছাদসহ অলি-গলিতে নামাজ আদায় করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এবার শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন প্রায় চার লাখ মুসল্লি।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় এসেছেন। দূরের মুসল্লিরা ঈদের দুয়েকদিন আগেই এসে অবস্থান নেন শোলাকিয়া ঈদগাহের মিম্বর, আশপাশের বিভিন্ন মসজিদ, হোটেল এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

দূরের যারা ঈদগাহের মিম্বরে এসে অবস্থান নেন, তাদেরকে ঈদের আগের দিন ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

শোলাকিয়ায় ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা হয়। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর দয়া কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। নির্বিঘ্নে ঈদ জামাত সম্পন্ন করতে শোলাকিয়া ঈদগাহে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ড্রোন ক্যামেরা, বাইনোকুলারসহ পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, দেড় হাজার পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়াও মাঠে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো মাঠ মনিটরিং করা হয়। প্রতিটি মুসল্লিকে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করানো হয়।

ঈদগাহে অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিক্যাল টিম এবং ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটও মোতায়েন ছিল। এছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্কাউটস সদস্যরা।

দূরের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এবার স্মরণকালের বৃহত্তম ঈদজা মাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শোলাকিয়ায়।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুজন কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক ও আবির রহমান নামে এক জঙ্গি নিহত হন।

ওই হামলার পর থেকেই প্রতি বছর ঈদের দিন শোলাকিয়ায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার।

আরও পড়ুন:
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

জীবনযাপন
Fishing festival in small river Yamuna

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব ছবি: নিউজবাংলা
চৈত্র মাস। খাল-বিল, নদী নালা ও ডোবার পানি কমতে শুরু করেছে। এসব জলাশয়ে এখন স্বল্প পানি। ইরি-বোরো ধান আধাপাকা অবস্থায়। এ সময়টাতে অনেকের হাতে তেমন একটা কাজ থাকে না। অবসর সময়ে সৌখির মাছ শিকারিরা তাই দলবদ্ধ হয়ে পলো/হাউরি (চাপিজ্বালা) নিয়ে জলাশয়গুলোতে মাছ শিকারের জন্য বের হন।

বাঁশের তৈরি পলো নিয়ে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দলবেঁধে নেমে পড়ে নদীর হাঁটুপানিতে। তাদের পলোর নিচে ধরা পড়ে নানা জাতের দেশীয় মাছ। এ সময় এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সে উৎসব দেখতে নদীরপাড়ে হাজির হয় অনেক মানুষ।

সীমান্তের নওগাঁ জেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবের চিত্র এটি।

চৈত্র মাস। খাল-বিল, নদী নালা ও ডোবার পানি কমতে শুরু করেছে। এসব জলাশয়ে এখন স্বল্প পানি। ইরি-বোরো ধান আধাপাকা অবস্থায়। এ সময়টাতে অনেকের হাতে তেমন একটা কাজ থাকে না। অবসর সময়ে সৌখির মাছ শিকারিরা তাই দলবদ্ধ হয়ে পলো/হাউরি (চাপিজ্বালা) নিয়ে জলাশয়গুলোতে মাছ শিকারের জন্য বের হন।

মাছ পাওয়া বা না পাওয়া বড় কথা নয়। সবাই একসঙ্গে মাছ শিকার করতে বের হওয়াই আনন্দের ব্যাপার। প্রতিবছর এ অবসরে অল্প পানিতে মাছ শিকারের মহোৎসব মেতে ওঠে সবাই।

নওগাঁ সদর উপজেলার ছোট যমুনা নদী। এ নদীর কোথাও হাটু পানি আবার কোথাও বুক সমান। আবার কোথাও শুকিয়ে গেছে।

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

মঙ্গলবার দুপুরে ছোট যমুনা নদীর শীবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, একদল সৌখিন শিকারি নদীতে নেমে মাছ শিকার করছে। মাথা ও কোমরে আঁটসাঁট করে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই প্রায় শতাধিক মানুষ শখের বসে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে নদীতে নেমেছে। এদের অধিকাংশই যুবক। কেউ আবার উদাম শরীরেও পানিতে নেমেছেন; নেমেছেন মাছ ধরতে। পানিতে নেমে হৈ-হুল্লোড় করে সবাই চাপিজ্বালা দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত।

খাল-বিল, নদী-নালা ও ডোবাতে পানি কমে যাওয়ায় এখন বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। দলবদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে, আবার কোথায় পলো দিয়ে মাছ ধরা হয়। দিনে-রাতে সুতা-বড়শি দিয়ে নদী থেকে ধরা হচ্ছে বোয়াল মাছ।

বড়শিতে খাদ্য গেঁথে ছুড়ে ফেলা হয় নদীর পানিতে। রাতে বাতি জ্বেলে নদীর পাড়ে সুতার বড়শি দিয়েও মাছ ধরতে দেখা যায়। তবে সুতা-বড়শি দিয়ে মাছ ধরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

বিভিন্ন নদী ও জলাশয়গুলোতে দল বেধ সারিবদ্ধ হয়ে পানিতে ফেলা হয় চাপিজ্বালা। যেখানে ফাঁদে পড়ে শোল, টাকি ও বোয়াল।

তবে কবে কোথায় মাছ ধরা হবে, উপজেলার হাট ও বাজারে আগেই সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়। অনেকে আবার মোবাইল ফোনে জেনে নেন। গ্রাম থেকে ৮-১০ কিলোমিটার বা আরও দূরে পায়ে হেঁটে দলবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে পড়েন মাছ শিকারে।

সদর উপজেলার শীবপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল হোসেন বলেন, ‘বাপ-দাদার সময় থেকে আমরা প্রতি বছর পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব করে আসছি। কারও পলোতে মাছ ধরা পড়ে আবার কারও হয় না। মাছ পাওয়াটা বড় কথা নয়, বড় কথা সবাই আনন্দ করে একসঙ্গে মাছ ধরতে বের হয়। এটাই আনন্দ।’

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

বদলগাছী উপজেলার বালুভরা গ্রামের নিপেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন, ‘গ্রাম থেকে অন্তত ৬ কিলোমিটার দূরে এখানে মাছ শিকার করতে এসেছি আমরা বেশ কয়েকজন। দলবদ্ধভাবে এভাবে মাছ ধরতে আমাদের খুব ভালো লাগে, অনেক আনন্দ পাই আমরা।’

সদর উপজেলার কুমাইগাড়ী এলাকার জাহিদুল হক বলেন, ‘ছোট বেলাতেও বাবার সঙ্গে পলো দিয়ে এভাবে নদীতে মাছ ধরতাম। এখন তো বয়স প্রায় ৬০ বছরের মতো। তবুও মাছ ধরা উৎসব হবে জানার পর না এসে আর থাকতে পারলাম না।

‘আগে তো নদীতে বড় বড় নানা জাতের মাছ পাওয়া যেত। এখন অনেক সময় নদীতে পানি থাকে না, মাছও তেমন পাওয়া যায়না আগের মতো। তবে আনন্দ করছি এটাই ভালো লাগা।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহসান বলেন, ‘কৃষির জেলা নওগাঁয় ছোটবড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে। ছোট যমুনা নদী, পুনর্ভবা নদী, আত্রাই নদী, তুলশীগঙ্গা, শিব নদী, ফকিরনি নদী এবং নাগর নদী। এছাড়া বিল মুসছুর, গুটার বিল, দীঘলির বিল, জবই বিলসহ অসংখ্য ছোট বিলও আছে এখানে।’

তিনি বলেন, ‘মাছ ধরা গ্রামবাংলার প্রাচীন উৎসবের একটি অংশ। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আবার এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। নদীপাড়ে অনেক মানুষ মাছ ধরা উৎসব দেখতে ভিড় জমায়।’

আরও পড়ুন:
খাল-বিলের পানি সেচে চলছে মাছ ধরার ধুম
‘আমাদের স্বপ্ন এখন পুকুরের পানিতে ভাসছে’
বিলে বিষ দিয়ে ‘লক্ষাধিক’ টাকার মাছ নিধন
বরগুনার সোনা-বাইম মাছ যাচ্ছে চীনে
মাছের ত্বক থেকে পাওয়া জেলাটিনে খাদ্যদ্রব্য তৈরি বাকৃবির গবেষকদের

মন্তব্য

জীবনযাপন
Eid is Wednesday in hundreds of villages following Mirzakhil Durbar Sharif

মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসরণে শতাধিক গ্রামে ঈদ বুধবার

মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসরণে শতাধিক গ্রামে ঈদ বুধবার মির্জাখীল দরবার। ছবি: নিউজবাংলা
দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাব মতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর ধরে এভাবে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং চন্দ্র মাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল অনুশাসনসমূহ পালন করে আসছেন।

চট্টগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের শতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল বুধবার। সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফী মাযহাবের অনুসরণে ঈদ পালন করে থাকেন।

দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাব মতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর ধরে এভাবে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং চন্দ্র মাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল অনুশাসনসমূহ পালন করে আসছেন।

দরবার সূত্র জানায়, মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন (ক.) ও হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীনের (ক.) পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীনের (ক.) তত্ত্বাবধানে তারই জানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন।

মির্জাখীল দরবার শরীফ সূত্র মতে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, এওচিয়ার গাটিয়াডেঙ্গা, আলীনগর, মাদার্শা, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, মনেয়াবাদ, চরতি, সুঁইপুরা, হালুয়াঘোনা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, চরবরমা, কেশুয়া, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, ডোংরা, শেখেরখীল, ছনুয়া, পুইছড়ি, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, বারখাইন, খাসকামা, কাঠাখালী, রায়পুর, গুজরা, লোহাগাড়ার পুঁটিবিলা, কলাউজান, চুনতী এবং সীতাকুন্ডের মাহমুদাবাদ, বারিয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, মহালংকা, ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা, মুহাম্মদপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মনোহরদী, মঠখোলা, বেলাব, আব্দুল্লাহনগর, কাপাসিয়া, চাঁদপুর জেলার মতলব, সিলেট, হবিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা, মিরশরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, রাউজান ও ফটিকছড়ির কয়েকটি গ্রামসহ চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের শতাধিক গ্রামের বহুসংখ্যক অনুসারী পবিত্র সওম পালন শেষে বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

এছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অনেক গ্রামে থাকা মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরাও এদিন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

ঈদ উদযাপনের বিষয়ে মির্জাখীল দরবার শরীফের মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, ‘আমরা হানাফী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে আমাদের নিকটবর্তী সময়ের কম ব্যবধান এবং আমাদের পূর্বের দেশসমূহে চন্দ্র দর্শন বিবেচনায়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের হিসেবে চাঁদের অবস্থান এবং মক্কা ও মদীনা শরীফে তথা আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত হয়ে বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করব ইনশাআল্লাহ।’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Sadarghat is crowded with people facing their homes
ঈদযাত্রা

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ঈদযাত্রায় সোমবার সদরঘাট টার্মিনালে প্রতিটি লঞ্চ ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দু’দিন আগে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। এদিন নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রিপ দেয়া লঞ্চগুলোও পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঘাট ছেড়ে যায়।

ঈদের আনন্দ স্বজন-প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে সদরঘাটে। রাজধানীর প্রধান এই নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের রুটের লঞ্চগুলো সোমবার ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে গেছে।

অনেকটা স্বস্তি নিয়েই শেকড়ে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে।

ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দু’দিন আগে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। এদিন নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রিপ দেয়া লঞ্চগুলোও পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঘাট ছেড়ে যায়।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

কিছুদিন আগেও যেখানে যাত্রীর অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ ছাড়তো না সেখানে এখন লঞ্চগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ছে।

খালি থাকছে না লঞ্চগুলোর কেবিন। ডেকেও দেখা গেছে যাত্রীর ভিড়। এছাড়া বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া, পটুয়াখালীগামী যাত্রীদের অনেকেই ঈদের আগের দিনের কেবিন বুকিং দিতে এসেছেন। আবার লঞ্চের ডেকে জায়গা করে নিতেও অনেকে আগেভাগে ঘাটে চলে এসেছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। যাত্রীদের বেশিরভাগই বরিশালগামী লঞ্চে ভিড় করছেন। পটুয়াখালী, বগা, ইলিশা- এসব রুটেও যাত্রী আসতে শুরু করেছে। যাত্রীর চাপ আর লঞ্চে ভিড় সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।

সদরঘাটের একাধিক লঞ্চের সুপারভাইজার আর টিকিট কাউন্টার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, লঞ্চগুলোতে ডেকের যাত্রী সংখ্যাই বেশি৷ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোই লঞ্চে যাচ্ছে। সড়ক পথের চেয়ে তুলনামূলক ভাড়া কম ও যাত্রাপথ আরামদায়ক হওয়াতেই লঞ্চে যাত্রীর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

এদিকে টিকিট বিক্রির চাপে লঞ্চ-সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলারই সময় পাচ্ছেন না।

ভোলাগামী যাত্রী আহনাফ মুন্সি বলেন, ‘আমি লঞ্চের নিয়মিত যাত্রী। ঈদ উপলক্ষে অফিস ছুটি হওয়ায় আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছি। পরিচিত হওয়ায় কেবিন বুকিং করতে কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি স্বচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারব।’

এমডি ফারহান-৮ লঞ্চে পিরোজপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাহাদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঘাটে ভিড় এবং যাত্রী বেশি থাকলেও সময়মতো লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। আর ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠতে পেরে এখন অনেক ভালো লাগছে।’

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মনির হোসেন ঈদ করতে পরিবার নিয়ে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের টিকিট পেয়েছি। তবে ঘাটে অনেক ভিড়। লঞ্চে ঠিকভাবে উঠতে পারলেই হয়। একা হলে সমস্যা ছিল না, পরিবার নিয়ে এতো ভিড়ের মধ্যে লঞ্চে উঠতে অনেক কষ্ট হবে।’

অন্যদিকে যাত্রী বেশি হওয়ায় অনেকেই লঞ্চে উঠতে পারেননি। তাই পরবর্তী লঞ্চের জন্য টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। পরিবার নিয়ে এই অপেক্ষাটা অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের যাত্রী হৃদয় তালুকদার বলেন, ‘ঈদের আগে লঞ্চে অনেক ভিড় হয়। তাই জায়গা পাওয়ার আশায় আগেই চলে এসেছি। তবে এবার আগের তুলনায় ভিড় কম। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীও নেই।’

চরফ্যাশনগামী তাসরিফ-৪ লঞ্চের যাত্রী রানা আহমেদ বলেন, ‘ঈদ করতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের লোকজনসহ মালামাল নিয়ে অনেক কষ্টে লঞ্চে উঠেছি। ভোর হলেই বাড়ির ঘাটে নেমে পড়ব। পরিবার নিয়ে নিরাপদে বাড়ি যাওয়ার জন্য আমাদের লঞ্চই ভরসা।’

ভোলার চরফ্যাশন অভিমুখী এমভি ফারহান-৩ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন আল আমিন শিকদার। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে লঞ্চে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ ঘাটে। লঞ্চের টিকিট কেটেও উঠতে পারলাম না। ভিড়ের কারণে কোনোভাবেই লঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন পরবর্তী লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি।’

বরিশাল রুটে স্পেশাল সার্ভিস দেয়া লঞ্চ মানামীতেও দেখা যায় যাত্রীর ভিড়। এই লঞ্চের সুপারভাইজার মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আজই আমাদের প্রথম যাত্রা। সরকারি অফিস ছুটি হওয়ার আগেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। প্রায় সবকটি কেবিনও বুকিং হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চ ছেড়ে যাবে মনে হচ্ছে।’

কর্ণফুলী-১১ লঞ্চের চালক আবু হাসান বলেন, ‘এবারের ঈদে আজকেই সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয়েছে। তবে গত ঈদের মতো যাত্রী এখনও দেখছি না। আশা করছি ভালোভাবেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারব।’

সুন্দরবন লঞ্চের ঢাকা অফিসের সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সারা বছর যাত্রী পাই না। ঈদের ছুটি হলে লঞ্চে যাত্রী আসে। টার্মিনালে যাত্রী দেখা গেলেও লঞ্চে আমাদের আশানুরূপ যাত্রী নেই।’

লঞ্চ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম খান বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। শেষ সময়ে একটু ভিড় বাড়বেই। তবে সেটা আশানুরূপ নয়। অন্যবার এ সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে রোটেশন ভেঙে দিয়ে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল করত। আর এ বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিডিউল লঞ্চই যাত্রী বোঝাই হচ্ছে না। আশা করছি শেষ পর্যন্ত যাত্রীর চাপ আরেকটু বাড়বে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এবার ঈদে নৌপথে যাবে আনুমানিক ২২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। ১০ এপ্রিল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হবে।

‘তবে ঘরমুখী মানুষের স্রোত কার্যত শুরু হবে ৮ এপ্রিল থেকে। ওইদিন থেকে ঈদ স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চলাচল করবে। ঈদের আগের দুদিনসহ সাত দিনে সাড়ে ২২ লাখ মানুষ নৌপথে ঢাকা ছাড়ছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ৩ লাখের বেশি যাত্রী সদরঘাট টার্মিনাল হয়ে গন্তব্যে যাবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৌযানের কোনো স্বল্পতা নেই। সোমবার ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে গেছে সারা দিনে ৫৮টি। রাতে আরও বেশকিছু লঞ্চ ছাড়বে। আমরা গড়ে প্রতিদিন ১০০টি লঞ্চ পন্টুনে রেডি রাখছি।’

এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

সদরঘাট নৌ পুলিশ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের সদস্যরা প্রতিটি লঞ্চ নজরদারিতে রেখেছে। কোনো লঞ্চই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাওয়ার সুযোগ নেই। লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রী হলেই পন্টুন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
নগরবাসীর ঈদযাত্রা শুরু, বাস টার্মিনালে বাড়ছে চাপ
লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ নেই, ফাঁকা সদরঘাট
ঈদযাত্রায় আসনের বেশি যাত্রী নয়, রাস্তায় থামানো যাবে না বাস
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ব্যবহার হবে ড্রোন: হাইওয়ে পুলিশ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

p
উপরে