× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Lets have a fun switch roll at Iftar
google_news print-icon

ইফতারে হয়ে যাক মজাদার সুইচ রোল

ইফতারে-হয়ে-যাক-মজাদার-সুইচ-রোল
ছবি: সংগৃহীত
কম সময়ে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যুতে যোগ হতে পারে সেমাইয়ের সুইচ রোল।

চলছে রোজার মাস। এসময় ইফতারে চাই মজাদার স্বাস্থ্যকর খাবার। আর কম সময়ে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যুতে যোগ হতে পারে সেমাইয়ের সুইচ রোল। চলুন জেনে নেই সুইচ রোল তৈরি করার পদ্ধতি।

উপকরণ

ঘি/বাটার- ২টে. চামচ
তরল দুধ- দেড় কাপ
গুড়ো দুধ - ১কাপ
চিনি- ২টে. চামচ
সুজি- ১টে. চামচ
এলাচ গুড়ো - ১/৪ চা চামচ
কিসমিস - ১/৪ কাপ
ভ্যানিলা এসেন্স (অপশনাল)
ফুড কালার - পরিমাণমতো (অপশনাল)

প্রণালি

চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে ঘি/বাটার দিতে হবে। ঘি গরম হলে দুধ দিয়ে দিতে হবে। দুধ ফুটে উঠলে তার মধ্যে সুজি দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে। যাতে সুজি দলা পাকিয়ে না যায়। কিছুটা ঘন হয়ে আসলে এর মধ্যে গুড়ো দুধ দিয়ে নাড়তে হবে। নাড়তে নাড়তে যখন বেশ ঘন হয়ে যাবে তখন চিনি দিয়ে নাড়তে হবে। চিনির পানি গলে বেশ ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে। নামানোর পর ঠান্ডা হলে এটি আরও ঘন হয়ে যাবে। তাই একটু পাতলা থাকতেই নামাতে হবে। তৈরি হয়ে গেল রোলের ভিতরের পুর।

এবার চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে ২টে. চামচ ঘি দিতে হবে। ঘি গরম হলে তাতে (লাল লম্বা সেমাই) অর্ধেক প্যাকেট নিয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে। সেমাই ভাজা হলে তাতে দেড় কাপ তরল দুধ দিয়ে দিতে হবে। ফুটে উঠলে ২টে চামুচ চিনি আর কয়েক ফোটা লাল ফুড কালার মেশাতে হবে। সেমাই সেদ্ধ হয়ে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে। একটু আঠালো হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে।
এবার ফয়েল পেপারের উপর ঘি ব্রাশ করে তার উপরে সেমাই ঢেলে দিতে হবে। সেমাই গরম থাকতে নরম অবস্থায় হাফ ইঞ্চি পুরু করে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এবার এই ছড়ানো সেমাইয়ের উপর আগে থেকে করে রাখা সুজির পুর ছড়িয়ে দিতে হবে। সমানভাবে পুর দিয়ে ফয়েল পেপার পেচিয়ে পেচিয়ে রোল বানাতে হবে। এবার পেপার থেকে রোল বের করে চাকু দিয়ে পিস পিস করে কেটে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে -- সেমাইয়ের সুইস রোল। এটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে প্রতি পিস রোলের উপর একটি করে কিসমিস বসিয়ে দিলে দেখতে ভালো লাগবে।

আরও পড়ুন:
ইফতারের দোয়া
ইফতারে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, যা জানা জরুরি
বিএনপির ইফতারে আমন্ত্রিত হিন্দুদেরও গরুর মাংস পরিবেশন
ইফতার পার্টি ও ইসলামের বিধি-বিধান
জবিতে সম্প্রীতির ইফতার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Bangladeshi Fuchkai is the best

‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা’

‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা’ ফুচকার স্বাদ নিতে নিতে একসঙ্গে ডোনাল্ড লু ও পিটার হাস বলেন, ‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা।’ ছবি: সংগৃহীত
ভিডিওতে ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু ও রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলছেন, ‘পূর্ব বা পশ্চিম, ফুচকাই সেরা! ভাবুন তো কী রান্না হয়েছে! আমরা ফুচকা এবং ঝাল-মুড়ির সঙ্গে স্বাদের মিশ্রণ করতে সেলিব্রিটি শেফ রহিমা সুলতানার সঙ্গে দল বেঁধেছি!’

বাংলাদেশি ফুচকার স্বাদের প্রশংসা করে একটি ছোট ভিডিও শেয়ার করেছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

ভিডিওতে ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু এবং রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে দেখা যাচ্ছে।

ফুচকার স্বাদ নিতে নিতে একসঙ্গে তাদের বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা।’

ক্ষুদ্র ভিডিওটির সঙ্গে ট্যাগ করা একটি বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘পূর্ব বা পশ্চিম, ফুচকাই সেরা! ভাবুন তো কী রান্না হয়েছে! আমরা ফুচকা এবং ঝাল-মুড়ির সঙ্গে স্বাদের মিশ্রণ করতে সেলিব্রিটি শেফ রহিমা সুলতানার সঙ্গে দল বেঁধেছি!

‘আপনি এই মহাকাব্যের রন্ধন সম্পর্কীয় দুঃসাহসিক কাজের জন্য প্রস্তুত? স্নিগ্ধ শিখর উপভোগ করুন এবং পুরো ভিডিওটির জন্য আমাদের সঙ্গে থাকুন!’

‘দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার’ করতে এবং একটি উদার, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রদর্শনের জন্য মঙ্গলবার সকালে ডোনাল্ড লু ঢাকায় পৌঁছেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পৌঁছেছেন ডোনাল্ড লু
ঢাকায় হাসের উত্তরসূরি হিসেবে বাইডেনের মনোনয়ন পেলেন মিল

মন্তব্য

জীবনযাপন
You can visit four places in Saudi on a short vacation

স্বল্প ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন সৌদির চার স্থানে

স্বল্প ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন সৌদির চার স্থানে সৌদির দর্শনীয় চার পর্যটন গন্তব্য। কোলাজ: নিউজবাংলা
সৌদিতে স্পা ট্রিটমেন্ট ও নানা ধরনের খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ থেকে শুরু করে আছে চমৎকার দর্শনীয় স্থান, বুটিক ও শপিং মল। পর্যটকদের নতুন আকর্ষণীয় দেশটিতে গিয়ে চমকে যেতে পারেন আপনিও।

স্বল্প ছুটিতে অনেকেই দেশের বাইরে বিশেষ কোনো স্থানে ঘুরতে যেতে চান। সে ক্ষেত্রে গন্তব্য হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকতে পারে সৌদি আরব। কারণ দেশটিতে আছে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর, চমকপ্রদ ও ঐতিহাসিক স্থান।

সৌদিতে স্পা ট্রিটমেন্ট ও নানা ধরনের খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ থেকে শুরু করে আছে চমৎকার দর্শনীয় স্থান, বুটিক ও শপিং মল। পর্যটকদের নতুন আকর্ষণীয় দেশটিতে গিয়ে চমকে যেতে পারেন আপনিও।

১. নতুন পৃথিবীর সন্ধানে: আকাশে উড়ুন আলউলায়

সৌদির প্রথম কোনো স্থান হিসেবে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে আলউলা। বালি ও পাথুরে ভূমির এই বাদামি উপত্যকায় আছে সৌদির অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের অনন্য ব্যবস্থা। বেলুনে চড়ে আকাশে ভেসে এ উন্মুক্ত জাদুঘরের স্বাদ নেয়া যাবে হেগরা থেকে এলিফ্যান্ট রক পর্যন্ত। দেখা মিলবে ২ লাখ বছরেরও আগের ইতিহাসের।

২. দেখুন পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য: আল বালাদের রাস্তায়

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আরেক শহর আল বালাদ। জায়গাটি বেশি পরিচিত ‘ঐতিহাসিক জেদ্দা’ বা ‘পুরোনো শহর’ নামে। জেদ্দার আল বালাদ জেলায় দেখা যাবে সপ্তম শতকের স্থাপত্য।

চমৎকার এসব স্থাপত্য পর্যটকদের নিয়ে যায় কয়েক হাজার বছর পেছনে। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য এই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় কেনাকাটার সুযোগ আছে নানা ধরনের মসলা, গয়না, টেক্সটাইল ও পারফিউমের মতো পণ্য। স্মৃতি হিসেবে নেয়ার জন্য পাওয়া যাবে হরেক রকম স্যুভেনির। রাস্তার পাশের এসব দোকান ছাড়াও বিশেষ কিছু আকর্ষণ আছে এই জায়গায়। যেমন: সুন্দর গয়নার জন্য যাওয়া যাবে আল বালাদ গোল্ড মার্কেটে। আর লেখকদের লেখা ফিকশন কিংবা ঐতিহাসিক বইয়ের জন্য যেতে পারেন আওয়ার ডেইজ অফ ব্লিস বুকশপে।

৩. লোহিত সাগরের তীরে আরামদায়ক স্পা: সিক্স সেন্সেস সাউদার্ন ডুনস

পরিপূর্ণ অবকাশ যাপনের জন্য সোজা চলে যাওয়া যায় সিক্স সেন্সেস সাউদার্ন ডুনস স্পাতে। সৌদির লোহিত সাগর উপকূলের বালিয়াড়িতে অবস্থিত এই স্পাতে আছে অসাধারণ সব অন্দরসজ্জা। সৌদির পরিবেশের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে সেখানে। স্পাজুড়ে বিরাজ করা স্নিগ্ধ সুগন্ধ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেবে। স্পাতে থাকা চমৎকার আয়োজন ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরবের সুস্থতার ঐতিহ্য ফুটে ওঠে। এ ছাড়া আছে হাতে-কলমে শেখার ব্যবস্থা বা কর্মশালা। সেখানে মসলা ও সুগন্ধি থেকে স্কিন কেয়ার পণ্য তৈরি করা শেখানো হয়। শত শত বছর আগে আরবের প্রাচীন নাবাতেন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে এসব মসলা ও সুগন্ধি এই অঞ্চলে প্রবেশ করে।

৪. রিয়াদে বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা: ভিআইএ রিয়াদে কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়া

বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার সঙ্গে কেনাকাটা ও বিনোদনের জন্য চমৎকার ওয়ান-স্টপ গন্তব্য হতে পারে ভিআইএ রিয়াদ। স্থানীয় ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে জায়গাটিতে। বেলুচ্চি, ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা, টম ফোর্ড, ব্র্যান্ডন ম্যাক্সওয়েলসহ বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ডিজাইনারের ব্র্যান্ড স্টোরও রয়েছে এখানে।

সারা দিনের কেনাকাটা শেষে মাকে নিয়ে যেতে পারবেন সুন্দর কোনো রেস্টুরেন্টে। সুস্বাদু এশিয়ান খাবার বা ফরাসি ক্যাফে— সব ধরনের এবং সবার পছন্দের খাবারই এখানে আছে। স্বাচ্ছন্দ্যময় দুর্দান্ত সব অভিজ্ঞতা নিতে যাওয়া যাবে রেনেঁসা সিনেমায়।

সৌদি সরকার দেশটিতে ভ্রমণ এখন অনেক সহজ করেছে। ভিসা প্রক্রিয়া ক্রমাগত উন্নত করা হচ্ছে। এখন বিশ্বের ৬৩টি দেশ ই-ভিসা প্রোগ্রামের আওতায় আছে, সঙ্গে আরও আছে ৯৬ ঘণ্টার ফ্রি স্টপওভার ভিসা।

আরও পড়ুন:
ঈদের বার্তায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বন্ধে জোর সৌদি বাদশাহর
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ‘চায়ের রাজধানী’
সৌদিতে এক দিনে ৭ শিরশ্ছেদ
ভিসা ছাড়াই ওমরাহ করতে পারবেন ২৯ দেশের নাগরিক
হত্যার শিকার ২ বাংলাদেশির পরিবারকে ৩০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ সৌদির

মন্তব্য

জীবনযাপন
One trumpet weighs two kilograms

এক শিঙাড়ার ওজন দুই কেজি

এক শিঙাড়ার ওজন দুই কেজি জসিমের দোকানে দুই কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। ছবি: নিউজবাংলা
জসিমের দোকানে দুই কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায় ও ২৫০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি।

ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার অনেকেরই পছন্দ। আর গরম গরম মচমচে শিঙারার স্বাদই আলাদা, তবে সেই শিঙারা যদি হয় দুই কেজি ওজনের তাহলে বেড়ে যায় কৌতূহল।

দুই কেজি ওজনের শিঙারা তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন নামে এক দোকানি। তার তৈরি বড় শিঙারার খ্যাতি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিকেল হলেই শুরু হয় সুস্বাদু শিঙারা ভাজার কাজ। একবারে ভাজা হয় দুই কেজি ওজনের শিঙারা। দুই কেজি ছাড়াও এক কেজি, ৫০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম ওজনের শিঙারাও মেলে জসিম উদ্দিনের দোকানে।

গরম গরম মচমচে শিঙারা খেতে অপেক্ষা করেন ভোজন রসিকরা। কালো জিরা, বাদাম, কিসমিসসহ ৩০ পদের মসলা ও মাংস দিয়ে তৈরি হয় এসব বড় শিঙারা। কেউ পছন্দ করেন গরুর মাংস, কেউ খাসির মাংস আবার কেউ পছন্দ করেন মুরগির মাংসের শিঙারা।

পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের কাছে শিঙারা সরবরাহ করেন জসিম। শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষ শিঙারা খেতে আসেন এখানে। কেউ বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বসে শিঙারার স্বাদ নেন। কেউ আবার নিয়ে যান পরিবারের সদস্যদের জন্য।

জসিমের দোকানে দুই কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায় ও ২৫০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি।

কথা হয় জসিমের সঙ্গে। তিনি জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শিঙারার ব্যবসা করছেন। প্রথমে পরিবারের লোকজনের জন্য একটি দুই কেজি ওজনের বড় শিঙারা তৈরি করেন তিনি। পরে সেই বড় আকারের শিঙারা আকৃষ্ট করে ক্রেতাদের। প্রথমদিকে ছোট্ট পরিসরে শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে তার কাজের পরিধি। আস্তে আস্তে বড় শিঙারার চাহিদা বাড়তে থাকে।

জসিম জানান, প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকার শিঙারা বিক্রি হয় তার দোকানে। শিঙারা বিক্রির টাকা দিয়েই চলে তার সংসার। চলে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ।

শিঙারা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাত বছর আগে মেহেরপুরের বামনপাড়া গ্রামের আমার নানা শামছদ্দিনের কাছ থেকে শিঙারা বানানো শিখেছি। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। গত তিন মাস থেকে বড় শিঙারা তৈরি করে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মাঠে তেমন জমিজমা নেই। শিঙারার ব্যবসা করে আমার সংসার চলে। আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। আমার কাজে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা সহযোগিতা করে। যখন কেউ আমার শিঙারা খেয়ে প্রশংসা করেন তখন আমি খুবই আনন্দিত হই। আমি খুব তৃপ্তি পাই।’

মেহেরপুর থেকে আসা আবির হাসান বলেন, ‘ফেসবুকে জসিম উদ্দিনের বড় শিঙারার ছবি দেখে বন্ধুদের নিয়ে খেতে চলে এসেছি। এতো বড় শিঙারা আমি আগে কখনও দেখিনি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজু শিঙারা খেয়েছি, কিন্তু এই শিঙারার স্বাদই আলাদা। সবাই মিলে বসে মজা করে খেলাম। বাড়ির জন্যও চার কেজি নিয়ে যাচ্ছি।’

চারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিজন শেখ বলেন, ‘চারুলিয়া গ্রামের দোকানি জসিম উদ্দিনের সুস্বাদু দুই কেজি ওজনের শিঙারার খ্যাতি এখন সবার মুখে মুখে। ফেসবুকে তার শিঙারা দেখে অনেকেই স্বাদ নিতে ছুটে আসছেন।’

আরও পড়ুন:
সাগর মোহনায় ধরা পড়ল ২৬ কেজির কোরাল
রেললাইনের পাত খুলে বিক্রি করতেন তারা
মোবাইল কিনতে আপন ভাগ্নেকে অপহরণ, বিক্রি!
আট মাস বয়সী সন্তান ‘বিক্রি করে’ আইফোন কিনল এক দম্পতি
ডলার বিক্রিতে রেকর্ড, রিজার্ভ নামছে ৩২ বিলিয়নে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Hotel resorts in Ruma and Thanchi are empty due to lack of tourists

পর্যটক-শূন্যতায় রুমা ও থানচির হোটেল রিসোর্ট ফাঁকা

পর্যটক-শূন্যতায় রুমা ও থানচির হোটেল রিসোর্ট ফাঁকা বান্দরবানের থানচি উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট তমা তুঙ্গী। ফাইল ছবি
বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পর্যটন খাতে কালো ছায়া পড়েছে। ভয়ে-আতঙ্কে পর্যটকরা বুকিং বাতিল করছেন। ফলে ভরা মৌসুমেও লোকসানের মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসা-সংশ্লিষ্টরা।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রতি বছর ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হয়। বছর ঘুরে এসব উৎসব এলেও এবারের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। বিশেষত জেলার রুমা ও থানচিতে পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। হোটেল-রিসোট পড়ে থাকছে ফাঁকা। দেখা মিলছে না দেশি-বিদেশি পর্যটকের।

সম্প্রতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর পর্যটন খাতে কালো ছায়া পড়েছে। ভয়ে ও আতঙ্কে পর্যটকরা আগে থেকে করে রাখা বুকিং বাতিল করছেন। ফলে ভরা মৌসুমেও লোকসানের মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসা-সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থানকারী জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম বান্দরবান। জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। ইতোমধ্যে এসব স্পটের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে থানচির অবস্থান। আর রোয়াংছড়ি ২০ কিলোমিটার ও রুমার দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার।

বান্দরবান-থানচি সড়কের মাঝামাঝি জীবননগর নামক স্থানে রয়েছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট নীলগিরি। নীল দিগন্ত বিস্তৃত এলাকাটি ম্রো অধ্যুষিত।

থানচি-আলিকদম সংযোগ সড়কে থানচি সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ক্রাউডং (মারমা) ডিম পাহাড় (বাংলা)। নৌপথে সাংগু নদী বেয়ে তিন্দু ইউনিয়নে রয়েছে রাজা পাথর (বাংলা)।

এরপর রয়েছে রেমাক্রী খাল। জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের রোয়াংছড়ি উপজেলার শীলবাঁধা পাড়ায় দেবতাখুমের অবস্থান। এছাড়াও রয়েছে অনেক পর্যটন স্পট।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত প্রাকৃতিক হ্রদ হলো বগা লেক। রুমা উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তিন হাজার সাতশ’ ফুট উচুঁতে এর অবস্থান। লেকটি পাহাড় চূড়ায় ১৫ হাজার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।

বগা লেক নিয়ে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল বিজয় (তাজিং ডং)। সমতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৫শ’ ফুট। রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে এর অবস্থান।

রুমা উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। শীত মৌসুমে এই পর্বত দেখতে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে।

এছাড়াও রয়েছে কেওকারাডং, জলপ্রপাতের পানি ঝিরসহ অনেক পর্যটন স্পট। আবার জেলার থানচিতে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে নাফাখুম ঝরনা, আমিয়াখুং ঝরনা, ভেলাখুং ঝরনা, সাত ভাই খুং ঝরনা, লাংলুক ঝরনা, লৈক্ষ্যং ঝরনা, চিংড়িৎ ঝরনা।

প্রকৃতি এতোসব সম্ভার সাজিয়ে বসে আছে। কিন্তু তা দেখার জন্য পর্যটকের আগমন ঘটছে না। সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ভয় আর আতঙ্কে তারা পার্বত্য এসব পর্যটন স্পট এড়িয়ে চলছেন।

পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবান জেলায় পর্যটকদের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো হচ্ছে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায়। বিরাজমান পরিস্থিতিতে এই তিন উপজেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। ফলে এসব দর্শনীয় স্থানে যাতায়াত করাটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন পর্যটকরা। অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ। যানবাহন চলাচলও সীমিত। সন্ধ্যার আগেই লোকজন ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে।

রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ চলে গেল। এসব উৎসবের ছুটিতে এখানে হোটেল-মোটেলের শতভাগ রুম বুকিং হওয়ার কথা। কিন্তু এবার সেসবের কিছুই হয়নি।

হঠাৎ করে ২ এপ্রিল রাতে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি, অস্ত্র লুট, ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ করে। পরদিন দুপুরে থানচি সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে পড়েছে বান্দরবান।

কেএনএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। আর এই খবর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ভয়-আতঙ্কে মুখ ফিরিয়ে নেয় পর্যটকরা। অথচ এই সময়টাতে থানচি রেমাক্রীতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হওয়ার কথা ছিল।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক না আসার কারণে এই ঈদ মৌসুমে তাদেরকে লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে।

নৌকার এক মাঝি জানান, থানচিতে পর্যটকের ছুটে চলার একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা। এখানে নৌকার সংখ্যা রয়েছে পাঁচ শতাধিক। আর এসব নৌকা চালানোর জন্য সমসংখ্যক মাঝি রয়েছেন। তাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটক। নৌকা চালাতে পারলে সংসারের চাকা ঘুরবে, অন্যথায় উপোস থাকতে হবে। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা দিনশেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন বলেন, ‘সরকারিভাবে পর্যটকদের এই এলাকা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়নি। তবে এমন পরিস্থিতি শোনার পর আর কেউ এখানে ঘুরতে আসবে বলে মনেও হয় না। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিটরা অনেক কষ্ট ও লোকসানে পড়বে বোঝা যাচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কেএনএফ-এর শতাধিক অস্ত্রধারী ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে রুমা উপজেলার ইউএনও অফিস সংলগ্ন মসজিদ ও ব্যাংক ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকের টাকাসহ ডিউটিরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা যাওয়ার সময় রুমা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকেও অপহরণ করে। পরদিন থানচি উপজেলা শহরের সোনালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি হয়।

যৌথ অভিযান চালিয়ে সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার নেজাম উদ্দীনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে র‌্যাব ও সেনাবাহিনী। এরপর কেএনএফের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এসব ঘটনায় আটটি মামলা করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জড়িতদের ধরতে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ৬ এপ্রিল যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। দুদিনের অভিযানে ১৮ নারীসহ ৫৬ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনী। বাকি সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পাহাড়ের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কম্বিং অপারেশন চলবে: সেনাপ্রধান
বান্দরবানের ঘটনার প্রভাব পড়বে না পর্যটনে: টুরিস্ট পুলিশ
ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় বিদেশি মদদ নেই: কাদের
বান্দরবানে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘কেএনএফের হুমকি’: বান্দরবানের দুই উপজেলায় বন্ধ গণপরিবহন

মন্তব্য

জীবনযাপন
Changa Sylhets tourism sector on the occasion of Eid

ঈদ উপলক্ষে চাঙা সিলেটের পর্যটন খাত

ঈদ উপলক্ষে চাঙা সিলেটের পর্যটন খাত
সিলেটে আগামী কয়েক দিন পর্যটনে চাঙাভাব অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে জাফলংয়ে অনেক পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। এখানকার কোনো হোটেল-রিসোর্টেই এখন কক্ষ খালি নেই। আগামী কয়েক দিন পর্যটক সমাগম বেশি থাকবে বলে আশা করছি।’

কিছুদিন মন্দাবস্থার পর ঈদ উপলক্ষে চাঙা হয়ে উঠেছে সিলেটের পর্যটন খাত। ঈদের ছুটিতে ব্যাপকসংখ্যক পর্যটক এসেছেন সিলেটে। এতে খুশি পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা।

আগামী কয়েক দিন এই চাঙাভাব অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুটি গন্তব্য গোয়াইনঘাটের জাফলং ও কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর। এ দুই জায়গাতেই ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের ঢল নেমেছে, তবে ঈদের দিনের চেয়ে তার পরের দিন পর্যটক সমাগম আরও বাড়ে।

জাফলংয়ের পর্যটন খাতের উদ্যেক্তারা জানান, ঈদ মৌসুমে জাফলংয়ে আট থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।

জাফলং, সাদাপাথর ছাড়াও বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট, পানতুমাই ঝরনা, লালাখাল ও সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানে বৃহস্পতিবার থেকেই পর্যটকদের ঢল নামে। সিলেটের বেশির ভাগ হোটেল-রিসোর্ট এখন অতিথিতে পূর্ণ।

সিলেট শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে সাদাপাথর। সাদা পাথুরে নদীর শীতল জল আর পাশেই দিগন্ত বিস্তৃত মেঘালয় পাহাড়। প্রকৃতির এ অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম আরও বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ঈদুল ফিতরের পরের দিন শুক্রবার সাদাপাথরে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের কারণে নদীতে পা ফেলার অবস্থা নেই। ভিড়ের কারণে অনেকে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ছিলেন; নামতে পারছিলেন না পানিতে।

সাদাপাথর ঘুরতে আসা কুমিল্লার শিউলি বেগম বলেন, ‘এই পরিবেশ অপরূপ। যে কেউ আসলে মন ভালো হয়ে যাবে।’

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে আসা রাজেল মিয়া বলেন,‘দুপুরে সাদাপাথরে এসেছি। সাদাপাথরের ধলাই নদীর শীতল স্পর্শ মনকে চাঙা করে দিয়েছে।

‘সত্যিই অসাধারণ জায়গা। অবসর পেলেই চলে আসি।’

পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পরিদর্শক আখতার হোসেন বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সাদাপাথরে এই ঈদে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক ঘুরতে আসছেন।

‘আমাদের কয়েকটি টিম সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে। পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন।’

ঈদ উপলক্ষে চাঙা সিলেটের পর্যটন খাত

সিলেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য জাফলং। শনিবার জাফলংয়ে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে মেঘ-পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

জাফলংয়ে সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন। নদীতে নেমে কেউ কেউ গোসল করতে ব্যস্ত। আর নৌকা পার হয়ে অনেকের গন্তব্য মায়াবী ঝরনা, খাসিয়া পল্লি ও চা বাগানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

পর্যটক সুজন আহমেদ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যরা মিলে ঘুরতে এসেছি। জাফলং ভীষণ ভালো লেগেছে।

‘পাহাড় আর পাথরের সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে, তবে বৃষ্টিতে একটু ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’

এদিকে পর্যটকদের চাপে সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলোতে কক্ষ খালি ছিল না। ব্যস্ততা দেখা গেছে রেস্তোরাঁগুলোতেও। পর্যটকের সমাগমে খুশি এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।

জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে জাফলংয়ে অনেক পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ভালো হয়েছে।

‘এখানকার কোনো হোটেল-রিসোর্টেই এখন কক্ষ খালি নেই। আগামী কয়েক দিন পর্যটক সমাগম বেশি থাকবে বলে আশা করছি।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে টুরিস্ট পুলিশ, থানা-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ রতন শেখ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সকাল থেকেই পর্যটকে মুখরিত ছিল জাফলং। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়াও পর্যটকরা বেড়াতে এসে যাতে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে না পড়েন, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
তীব্র লোডশেডিং, পানির সংকটে অতিষ্ঠ সিলেটবাসী
সিলেটে গ্রামের চেয়ে বেশি লোডশেডিং শহরে
সিলেট টেস্টে শোচনীয় হার বাংলাদেশের
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬
উদ্ভাবনী পদমর্যাদায় ‘ইনফেকশাস-ডিজিজ’ বিষয়ে প্রথম স্থান সিকৃবির

মন্তব্য

জীবনযাপন
You can have peanut butter smoothie for iftar

ইফতারে রাখতে পারেন পিনাট বাটার স্মুদি

ইফতারে রাখতে পারেন পিনাট বাটার স্মুদি পিনাট বাটার স্মুদি। ছবি: সংগৃহীত
টুকরো করে রাখা কলা, দুধ, পিনাট বাটার একটি ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ না হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন। তারপর গ্লাসে স্মুদি ঢেলে বরফ কুচি দিয়ে মনমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

দিনভর রোজা রেখে ইফতারে দরকার হয় পুষ্টিকর কিছু। পিনাট বাটার স্মুদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। তাই ইফতারে রাখতে পারেন পিনাট বাটারের মজাদার স্মুদি। এনডিটিভি ফুডের পিনাট বাটার স্মুদির রেসিপি তুলে ধরা হলো নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।

উপকরণ (এক কাপ পরিমাণ)

১. ১টি কলা

২. ১ কাপ দুধ

৩. ২থেকে ৩ টেবিল চামচ পিনাট বাটার

পিনাট বাটার যদি চিনি ছাড়া হয়,সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি বা মধু দিতে হবে স্বাদমতো।

ইফতারে রাখতে পারেন পিনাট বাটার স্মুদি
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তুত প্রণালি

টুকরো করে রাখা কলা, দুধ, পিনাট বাটার একটি ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ না হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন। তারপর গ্লাসে স্মুদি ঢেলে বরফ কুচি দিয়ে মনমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

চাইলে বাড়িতেও পিনাট বাটার বানিয়ে নিতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে তিন থেকে চারটি উপকরণ। চিনা বাদাম, বাটার অথবা অভিল অয়েল ও মধু ও সামান্য লবণ।

পিনাট বাটার যেভাবে বানাবেন

বাদাম দুই থেকে তিন মিনিট ওভেনে বেক করে নিন অথবা চুলায় হালকা ভেজে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে সব উপকরণ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন।

আরও পড়ুন:
ঝটপট মজাদার ইরাকি কোফতা কাবাব
ইফতারে হয়ে যাক মজাদার সুইচ রোল
ইফতারে অল্প সময়ে পুষ্টিকর চিড়ার পোলাও
ইফতারের দোয়া

মন্তব্য

জীবনযাপন
7 hotels and restaurants fined in Coxs Bazar for fault in fire fighting system

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি, কক্সবাজারে ৭ হোটেল-রেস্তোরাঁকে জরিমানা

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি, কক্সবাজারে ৭ হোটেল-রেস্তোরাঁকে জরিমানা কক্সবাজারের অভিজাত হোটেল লংবিচসহ বেশকিছু হোটেল-রেস্তোরাঁয় মঙ্গলবার অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা
অভিজাত হোটেল লং বিচকে এক লাখ, হোটেল সী প্যালেসকে ৫০ হাজার, হোটেল কল্লোলকে ৫০ হাজার, হোটেল মিডিয়াকে ১০ হাজার, কাচ্চি ডাইন রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার এবং হোটেল মিডিয়ার রেস্তোরাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং ভোক্তা অধিকার আইন অমান্য করার দায়ে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে অভিযান চালিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দণ্ডিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হোটেল লং-বিচ ও হোটেল সী-প্যালেসের মতো অভিজাত হোটেলও রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন।

তিনি জানান, পর্যটন শহর কক্সবাজারকে অগ্নি-দুর্ঘটনা থেকে এবং পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসনের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুটি দল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হোটেল-মোটেল জোনে অভিযান চালায়। এ সময় আবাসিক হোটেলগুলোতে অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করাসহ নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনে ব্যত্যয়ের দায়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি, কক্সবাজারে ৭ হোটেল-রেস্তোরাঁকে জরিমানা
কক্সবাজারে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মঙ্গলবার অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

এডিএম বলেন, ‘জরিমানা আদায় করা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অগ্নি-প্রতিরোধক দরজার বিপরীতে কাঠের দরজা, অকেজো স্মোক ডিটেক্টর, অপর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার, হোটেলের আয়তন অনুপাতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স চূড়ান্ত সনদ না থাকা এবং রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনে ত্রুটির প্রমাণ মিলেছে।

‘এসব কারণে অভিজাত হোটেল লং বিচকে এক লাখ টাকা, হোটেল সী প্যালেসকে ৫০ হাজার, হোটেল কল্লোলকে ৫০ হাজার, হোটেল মিডিয়াকে ১০ হাজার, কাচ্চি ডাইন রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার এবং হোটেল মিডিয়ার রেস্তোরাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া হোটেল মিডিয়ার পাশে অনুমোদনহীন একটি ক্ষুদ্র দোকানকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইয়ামিন হোসেন আরও জানান, দণ্ডিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্রুটিগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি সতর্কও করা হয়েছে। প্রশাসনের এই অভিযান আরও কয়েকদিন চলবে।

আরও পড়ুন:
রেস্তোরাঁ খাত করপোরেটের দখলে নিতে ষড়যন্ত্র চলছে
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় টাঙ্গাইলে চার রেস্তোরাঁকে জরিমানা

মন্তব্য

p
উপরে