× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
A meeting of language lovers in no mans land
google_news print-icon

নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভাষাপ্রেমীদের মিলন মেলা

নো-ম্যান্স-ল্যান্ডে-ভাষাপ্রেমীদের-মিলন-মেলা
মঙ্গলবার বেনাপোলে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অমর একুশের আয়োজনে দুই দেশের ভাষাপ্রেমীরা। ছবি: নিউজবাংলা
অমর একুশের সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দুই বাংলার আমন্ত্রিত মন্ত্রী, এমপিসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক এবং ভাষাপ্রেমী সাধারণ মানুষ। এ সময় কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে দুই দেশের সাধারণ মানুষ একাকার হয়ে যান।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মঙ্গলবার বেনাপোল চেকপোস্টে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষের মিলন মেলা।

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ ও অস্থায়ী শহীদ বেদী। এর আয়োজন করেছে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন পরিষদ।

অমর একুশের দিনে পৃথক দুটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই মিলন মেলা। এতে অংশ নিয়েছে দুই দেশের হাজারো মানুষ।

মিলন মেলা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মনজু জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে প্রতি বছরের মতো এবারও বেনাপোল নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষের মিলন মেলা বসেছে। এ উপলক্ষে নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় নির্মাণ করা হয় অস্থায়ী শহীদ বেদী। নো-ম্যান্স ল্যান্ডকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে।

নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভাষাপ্রেমীদের মিলন মেলা
বেনাপোলে মঙ্গলবার একুশের আয়োজনে দুই বাংলার রাজনীতিক ও অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা

এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন কুমার ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন।

সকাল সাড়ে ১১টায় বেনাপোল-পেট্রাপোল নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দুই বাংলার আমন্ত্রিত মন্ত্রী, এমপিসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক এবং ভাষাপ্রেমী সাধারণ মানুষ। এ সময় কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে দুই দেশের সাধারণ মানুষ একাকার হয়ে যান। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।

অস্থায়ী শহীদ বেদীতে উভয় দেশের আমন্ত্রিত অতিথিরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে বাংলাদেশ অংশে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে’ সমবেত হন সবাই।

সেখানে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ইর/ আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এ সময় মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশিত হয় দুই বাংলার গান ও কবিতা আবৃত্তি।

নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভাষাপ্রেমীদের মিলন মেলা
বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময়। ছবি: নিউজবাংলা

ভারত অংশে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে’ ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদদের নিয়ে আলোচনা সভা, গান ও কবিতা আবৃত্তি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘আমরা আজ ভাষার টানে দুই বাংলার মানুষ একত্রিত হয়েছি। কাঁটাতারের বেড়া আমাদেরকে বিভক্ত করে রাখতে পারেনি।’

এই আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার তানভির আহম্মেদ ও বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (অ. দা.) ট্রাফিক আব্দুল জলিল। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজীৎ দাস, গোপাল শেঠ, শ্রীমত্য মমতা ঠাকুর, শ্যামল রায় ও বনগাঁ পৌরসভার উপ-পৌরমাতা জ্যোৎস্না আঢ্য।

অন্যান্যবারের মতো এবারও বিনিময় হয় দুই বাংলার মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি।

ভাষা দিবসের এই আয়োজন ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয় বিজিবি ও বিএসএফ-এর অতিরিক্ত সদস্য।

আরও পড়ুন:
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দোয়ার আয়োজন
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা
শহীদ দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
শহীদ মিনারে ফুল দিতে লাগবে টিকা সনদ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Young people get drunk at the Shangri La festival

সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলিতে মাতল মারমা তরুণ-তরুণীরা

সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলিতে মাতল মারমা তরুণ-তরুণীরা বান্দরবানের রাজার মাঠে জল উৎসবে মারমা তরুণ-তরুণীরা। ছবি: নিউজবাংলা
এখন শুধু মারমাদেরই নয়, বর্তমানে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে সাংগ্রাই। পুরো জেলা শহরজুড়ে এ বছর চলল সাংগ্রাইয়ের জলকেলি। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্করাও একে অপরের গায়ে জল ঢেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন।

মারমাদের বর্ষবরণের উৎসবের নাম সাংগ্রাই। এ উসৎবের প্রধান আকর্ষণ জলকেলি। জলকেলির মাধ্যমে পুরনো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করেন তারা।

জলকেলি উৎসবে বান্দরবানের মারমা শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠেছে এ খেলায়।

তবে এটি এখন শুধু মারমাদেরই নয়, বর্তমানে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে সাংগ্রাই। পুরো জেলা শহরজুড়ে এ বছর চলল সাংগ্রাইয়ের জলকেলি। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্করাও একে অপরের গায়ে জল ঢেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে জেলা শহরের রাজার মাঠে জলকেলিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে জল ঢেলে মৈত্রী জলবর্ষণ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন।

সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলিতে মাতল মারমা তরুণ-তরুণীরা

জলকেলির উদ্ধোধন করেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং। এ সময় তার সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জলকেলি উৎসবে মেতে ওঠেন মারমা তরুণ-তরুণীরা। জলকেলির পাশাপাশি আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নেচে-গেয়ে অনুষ্ঠান মাতিয়ে তোলেন আদিবাসী শিল্পীরা।

রাতে পাড়া-মহল্লায় মারমা তরুণ-তরুণীরা রাত জেগে পিঠা তৈরি করে এবং ভোরে বিহারে বিহারে গিয়ে প্রবীণদের মিষ্টিমুখ করানোর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের বৈসাবি উৎসব।

সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলিতে মাতল মারমা তরুণ-তরুণীরা

জলকেলি দেখতে আশপাশের শত শত পাহাড়ি নারী-পুরুষ এবং দেশি পর্যটকরা ভিড় জমান। এ উৎসবে জলকেলি ছাড়াও পিঠা তৈরি, বুদ্ধমূর্তি স্নান, ক্যায়াং ক্যায়াংয়ে ছোয়াইং দান, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।

সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলির পাশাপাশি আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নেচে-গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ দেন পাহাড়ি শিল্পীরা। মারমা শিল্পীগোষ্ঠী ছাড়াও পাহাড়ের নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের পরিবেশনাও মুগ্ধ করে দর্শক-শ্রোতাদের।

সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলিতে মাতল মারমা তরুণ-তরুণীরা

জলকেলি উৎসবের উদ্ধোধনি অনুষ্ঠানে সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেন, ‘সম্প্রীতির জেলা বান্দরবান। বাংলা নববর্ষের পাশাপাশি পার্বত্য জেলার সকল সম্প্রদায়ের লোকজন সাংগ্রাই উৎসব মিলেমিশে এবং শান্তিপুর্ণভাবে উৎসব উপভোগ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, তবে আনন্দ উৎসব আমাদের সবার। পাহাড়-বাঙালির মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে, তা অটুট থাক। আজকে দিনে সবার মঙ্গল কামনা করি।’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Probable date of Qurbani Eid announced in Saudi

সৌদিতে কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

সৌদিতে কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের পরের দিন কোরবানির ঈদ পালন করা হয়। সে হিসাবে এখানে কোরবানির ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে জুন মাসের ১৭ তারিখ। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

সৌদি আরবে কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী এবার (২০২৪ সালে) ১০ জিলহজ বা কোরবানির ঈদ হতে পারে জুন মাসের ১৬ তারিখ।

বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের পরের দিন কোরবানির ঈদ পালন করা হয়। সে হিসাবে এখানে কোরবানির ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে জুন মাসের ১৭ তারিখ। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

ধর্মমতে, মহান আল্লাহ মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির নির্দেশ দেন। আদেশের পর তিনি সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন। এতে আল্লাহ খুশি হন এবং হযরত ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়ে যায়। এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত পশু কোরবানি করে থাকেন।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The long vacation is over but the mood is not over in the capital

ঈদ ও নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি শেষ, তবু আমেজ কাটেনি

ঈদ ও নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি শেষ, তবু আমেজ কাটেনি দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন নগরবাসী। কমলাপুর রেল স্টেশন (বাঁয়ে), ফাঁকা ঢাকা ও সদরঘাট লঞ্চঘাটের সোমবারের চিত্র। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সোমবার খুললেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল কম। নগরীর রাস্তাঘাটও ছিল অনেকটাই ফাঁকা। ভিড় কেবল বাস, লঞ্চ ও রেল স্টেশনে।

ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে লম্বা ছুটি শেষ হয়েছে রোববার। সোমবার ছিল ছুটি শেষের প্রথম কর্মদিবস। রাজধানীর বাস ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে নগরে ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে। তবে অফিস-আদালত এখনও স্বাভাবিক সময়ের চিত্র ফিরে পায়নি।

চিরচেনা রূপে ফেরেনি ঢাকা শহরও। রাস্তার পাশের বেশিরভাগ দোকান, শপিং মল বন্ধ। সোমবার রাজধানীর রাস্তায় খুবই কমসংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। যানজট তো দূরের কথা, নগরীর অধিকাংশ রাস্তাই ছিল ফাঁকা।

সোমবার সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল কম। একইভাবে সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা।

ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোলাকুলির মাধ্যমে একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।

সকালে মালিবাগ, শান্তিনগর, গুলশান, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, মিরপুর ও শাহবাগ এলাকায় স্বল্পসংখ্যক বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও যানবাহনের জটলা দেখা গেছে কেবল বাস, লঞ্চ ও রেল স্টেশন ঘিরে।

ঈদ ও নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি শেষ, তবু আমেজ কাটেনি
দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে নগরে ফিরছে মানুষ। সোমবার কমলাপুর রেল স্টেশনের চিত্র। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বেসিরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে আবু রায়হান বললেন, ‘রাজধানীতে এখনও ঈদের আমেজ পুরো মাত্রায়। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাস্তায় কোনো যানজট বা বিশৃঙ্খলা নেই। রাজারবাগ এলাকা থেকে গুলশানে পৌঁছতে মাত্র ৬ মিনিট সময় লেগেছে। অথচ অন্য সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগে।’

সদরঘাটে নগরে ফেরা মানুষের ভিড়

রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার ঢাকামুখী মানুষের ভিড় দেখা যায়। লম্বা ছুটি শেষে কর্মমুখী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় এদিন যাত্রীর চাপ ছিল লক্ষণীয়। তবে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়নি।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের সবলঞ্চ ডেকে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঘাটে ভেড়ে। ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়েও কিছু লঞ্চ ঢাকার এসে পৌঁছায়। চাঁদপুর, ভোলা, ইলিশা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোও ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সদরঘাট টার্মিনাল থেকে দেশের ৩১টি নৌপথে নিয়মিত ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তা দ্বিগুণের বেশি করা হয়েছে। ঈদের আগে-পরের প্রায় ১৫ দিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭৫টিরও বেশি লঞ্চ যাতায়াত করেছে।

আগে ঢাকা থেকে ৪১টি নৌপথে লঞ্চসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন নৌযান চলত। নদী খনন ও ড্রেজিংয়ে অনিয়মের কারণে ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলগামী ১০টি নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার দুপুরের পর থেকে গ্রিন লাইন-৩ ও সন্ধ্যার পর পারাবত-৯, ১০, ১২ ও ১৮; মানামী, কুয়াকাটা-২, কীর্তনখোলা-২ ও ১০; সুরভী-৮ ও ৯; অ্যাডভেঞ্চার-১ ও ৯; সুন্দরবন-১২ লঞ্চসহ মোট ১৫টি লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দর থেকে সদরঘাটে এসে পৌঁছায়।

মানামি লঞ্চের চালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এবার ঈদের আগে যেমন যাত্রীর চাপ ছিলো পরে তেমন হচ্ছে না। সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় অনেকেই এখন ঢাকা ফিরছে। তবে একসঙ্গে সবাই আসছে না। এজন্য উপচেপড়া ভিড় নেই।’

ঈদ ও নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি শেষ, তবু আমেজ কাটেনি
স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। সোমবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকার চিত্র। ছবি: মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী আকবর পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী থেকে ফিরেছেন ঢাকায়। তিনি বলেন, ‘এমভি টিপু-১৩ লঞ্চের টিকিট পেয়েছিলাম। তবে লঞ্চে অনেক মানুষের ভিড় ছিলো। ঠিকভাবে ঢাকায় আসতে পেরেছি এটাই অনেক।’

মনপুরা, হাতিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় এসেছে এমভি তাসরিফ-৮। লঞ্চটির কর্মী আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘লঞ্চে পাঁচ-ছয়শ’ মানুষ এসেছে। ছুটি শেষ হওয়ায় মানুষ ঢাকায় ফিরঠে। আরামের যাত্রা লঞ্চ। এজন্য অনেকেই লঞ্চে করে আসেন।’

ভোলার চরফ্যাশন ও বেতুয়া থেকে ঢাকা এসেছে এমভি টিপু-১৩। লঞ্চটি ঘাটে ভিড়তেই দেখা যায় ডেকভর্তি মানুষ। অনেকে দাঁড়িয়েও এসেছেন।

ভোলা থেকে আসা যাত্রী মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘কাপড়ের দোকানে কাজ করি। ঈদের আগের দিনও খোলা ছিল। চাঁদ রাতে ঈদ করতে ঢাকা থেকে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ, মার্কেট খুলবে। এজন্য চলে আসলাম।’

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশাল অঞ্চলগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রী কমায় ঢাকার সদরঘাটের চেনা রূপ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। ঈদের ছুটির সঙ্গে ফিরেছে চেনা সেই ভিড়। তবে ঈদের পরে ঢাকার সদরঘাটে ভিড় বাড়লেও আগের মতো নেই বলে জানিয়েছেন লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সদরঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় থাকলেও ফিরতি যাত্রীর ভিড় ছিলো না। বরিশাল, ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা লঞ্চগুলোর কর্মীরা যাত্রীদের ডাকাডাকি করছিলেন। অল্পসংখ্যক যাত্রীই লঞ্চে উঠেছেন। বেশ কয়েকটি লঞ্চের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ডেকের সিট অধিকাংশই ফাঁকা। ভেতরে কিছু মানুষ বসে আছে। কেউ আবার কেবিন নিয়ে দরদাম করছেন।’

ডলার কোম্পানির ২৪টি লঞ্চের মালিক ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের লঞ্চ আছে অনেক। কিন্তু সেই অনুপাতে যাত্রী নেই। তাই লঞ্চ কম ছাড়ছে। যেগুলো ছাড়ছে সেগুলোতে ভরেই যাচ্ছে। ঈদের পরও আমরা যাত্রীর চাপ আশা করেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি।’

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘ঈদের আগে যাত্রীর চাপ বাড়ায় আশা পেয়েছিলাম। তবে ঈদের ছুটি শেষে যাত্রীর ভিড় নেই।’

সদরঘাটের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। নিয়মিত লঞ্চগুলোই চলাচল করছে। অতিরিক্ত কোনো লঞ্চের প্রয়োজন পড়ছে না।’

টার্মিনাল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সদরঘাট নৌ-থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘আজ যাত্রীর চাপ আগের থেকে বেড়েছে। পুলিশ, র‍্যাবসহ আনসার সদস্যরা কাজ করছে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তল্লাশিও করা হচ্ছে।’

ঈদ ও নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি শেষ, তবু আমেজ কাটেনি
ঈদ ও পহেলা বৈশাখের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সোমবার ঢাকার মতিঝিলের সড়ক ছিল অনেকটাই ফাঁকা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রসঙ্গত, ঈদ উপলক্ষে ১০, ১১, ১২ এপ্রিল ছিল সরকারি ছুটি। ১৩ এপ্রিল শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৪ এপ্রিল রোববার ছিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের ছুটি।

তবে ঈদে ঢাকার বাইরে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের অনেকেই ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। ফলে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

স্কুল-কলেজও খুলবে আগামী সপ্তাহে। তারপরই চিরচেনা রূপে ফিরবে রাজধানী ঢাকা।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Baisabi festival of life in the hills begins

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে বৈসাবি। ছবি: নিউজবাংলা
১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালিত হয়ে আসছে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে যথাক্রমে ‘বৈসু’, ‘সাংগ্রাই’ এবং ‘বিজু’ নামে এ উৎসব পালন করে থাকেন। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

খাগড়াছড়িতে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনী নদীতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। ফুল বিঝুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পাড়গুলো হাজারো তরুণ-তরুণীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা হল্লা করে ফুল তুলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে নদী-খালে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের শুভ কামনায় নিজেদের পবিত্রতা কামনা করে। এছাড়া ফুল দিয়ে ঘরের প্রতিটি দরজার মাঝখানে মালা গেঁথে সাজানো হয়।

শুক্রবার চাকমা সম্প্রদায় ফুল বিজু পালন করছেন। শনিবার মূল বিজু আর পরেরদিন রোববার পহেলা বৈশাখ বা গজ্জাপয্যা পালন করবেন তারা। এ সময় ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। একইসঙ্গে শনিবার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের হারিবৈসু, বিযুমা ও বিচিকাতাল পার্বন পালিত হবে ফুল বিজু, মূলবিজু ও বিচিকাতাল নামের নিজস্ব বৈশিষ্টে।

রোববার খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাইং উৎসবে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হবে বর্ষবরণের র‌্যালী। এসব উৎসবে আনন্দের আমেজ ছড়ায়।

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

চেঙ্গী নদীতে চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে ফুল উৎসর্গে সামিল হয়েছেন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ। বৈসাবি উৎসব দেখতে এসেছেন অনেক পর্যটকও।

১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালিত হয়ে আসছে। সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে ‘বৈসাবি’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে যথাক্রমে ‘বৈসু’, ‘সাংগ্রাই’ এবং ‘বিজু’ নামে এ উৎসব পালন করে থাকেন। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, আসাম, চাক ও রাখাইনসহ ১৩ ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্র্যময় করে করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে বৈসাবি উৎসব পালন করে থাকে।

বৈসাবি উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালির মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হোক এই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The moon sighting committee is sitting in the evening

চাঁদ দেখা কমিটি বসছে সন্ধ্যায়

চাঁদ দেখা কমিটি বসছে সন্ধ্যায় প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ নম্বরে, ফ্যাক্স- ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ নম্বরে কিংবা জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন করতে বলা হয়েছে।

১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সভা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্সে এই সভা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ নম্বরে, ফ্যাক্স- ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ নম্বরে কিংবা জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়
চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার
চার স্তরের নিরাপত্তায় প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Sadarghat is crowded with people facing their homes
ঈদযাত্রা

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ঈদযাত্রায় সোমবার সদরঘাট টার্মিনালে প্রতিটি লঞ্চ ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দু’দিন আগে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। এদিন নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রিপ দেয়া লঞ্চগুলোও পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঘাট ছেড়ে যায়।

ঈদের আনন্দ স্বজন-প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে সদরঘাটে। রাজধানীর প্রধান এই নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের রুটের লঞ্চগুলো সোমবার ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে গেছে।

অনেকটা স্বস্তি নিয়েই শেকড়ে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে।

ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দু’দিন আগে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। এদিন নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রিপ দেয়া লঞ্চগুলোও পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঘাট ছেড়ে যায়।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

কিছুদিন আগেও যেখানে যাত্রীর অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ ছাড়তো না সেখানে এখন লঞ্চগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ছে।

খালি থাকছে না লঞ্চগুলোর কেবিন। ডেকেও দেখা গেছে যাত্রীর ভিড়। এছাড়া বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া, পটুয়াখালীগামী যাত্রীদের অনেকেই ঈদের আগের দিনের কেবিন বুকিং দিতে এসেছেন। আবার লঞ্চের ডেকে জায়গা করে নিতেও অনেকে আগেভাগে ঘাটে চলে এসেছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। যাত্রীদের বেশিরভাগই বরিশালগামী লঞ্চে ভিড় করছেন। পটুয়াখালী, বগা, ইলিশা- এসব রুটেও যাত্রী আসতে শুরু করেছে। যাত্রীর চাপ আর লঞ্চে ভিড় সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।

সদরঘাটের একাধিক লঞ্চের সুপারভাইজার আর টিকিট কাউন্টার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, লঞ্চগুলোতে ডেকের যাত্রী সংখ্যাই বেশি৷ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোই লঞ্চে যাচ্ছে। সড়ক পথের চেয়ে তুলনামূলক ভাড়া কম ও যাত্রাপথ আরামদায়ক হওয়াতেই লঞ্চে যাত্রীর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

এদিকে টিকিট বিক্রির চাপে লঞ্চ-সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলারই সময় পাচ্ছেন না।

ভোলাগামী যাত্রী আহনাফ মুন্সি বলেন, ‘আমি লঞ্চের নিয়মিত যাত্রী। ঈদ উপলক্ষে অফিস ছুটি হওয়ায় আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছি। পরিচিত হওয়ায় কেবিন বুকিং করতে কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি স্বচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারব।’

এমডি ফারহান-৮ লঞ্চে পিরোজপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাহাদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঘাটে ভিড় এবং যাত্রী বেশি থাকলেও সময়মতো লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। আর ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠতে পেরে এখন অনেক ভালো লাগছে।’

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মনির হোসেন ঈদ করতে পরিবার নিয়ে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের টিকিট পেয়েছি। তবে ঘাটে অনেক ভিড়। লঞ্চে ঠিকভাবে উঠতে পারলেই হয়। একা হলে সমস্যা ছিল না, পরিবার নিয়ে এতো ভিড়ের মধ্যে লঞ্চে উঠতে অনেক কষ্ট হবে।’

অন্যদিকে যাত্রী বেশি হওয়ায় অনেকেই লঞ্চে উঠতে পারেননি। তাই পরবর্তী লঞ্চের জন্য টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। পরিবার নিয়ে এই অপেক্ষাটা অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের যাত্রী হৃদয় তালুকদার বলেন, ‘ঈদের আগে লঞ্চে অনেক ভিড় হয়। তাই জায়গা পাওয়ার আশায় আগেই চলে এসেছি। তবে এবার আগের তুলনায় ভিড় কম। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীও নেই।’

চরফ্যাশনগামী তাসরিফ-৪ লঞ্চের যাত্রী রানা আহমেদ বলেন, ‘ঈদ করতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের লোকজনসহ মালামাল নিয়ে অনেক কষ্টে লঞ্চে উঠেছি। ভোর হলেই বাড়ির ঘাটে নেমে পড়ব। পরিবার নিয়ে নিরাপদে বাড়ি যাওয়ার জন্য আমাদের লঞ্চই ভরসা।’

ভোলার চরফ্যাশন অভিমুখী এমভি ফারহান-৩ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন আল আমিন শিকদার। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে লঞ্চে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ ঘাটে। লঞ্চের টিকিট কেটেও উঠতে পারলাম না। ভিড়ের কারণে কোনোভাবেই লঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন পরবর্তী লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি।’

বরিশাল রুটে স্পেশাল সার্ভিস দেয়া লঞ্চ মানামীতেও দেখা যায় যাত্রীর ভিড়। এই লঞ্চের সুপারভাইজার মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আজই আমাদের প্রথম যাত্রা। সরকারি অফিস ছুটি হওয়ার আগেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। প্রায় সবকটি কেবিনও বুকিং হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চ ছেড়ে যাবে মনে হচ্ছে।’

কর্ণফুলী-১১ লঞ্চের চালক আবু হাসান বলেন, ‘এবারের ঈদে আজকেই সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয়েছে। তবে গত ঈদের মতো যাত্রী এখনও দেখছি না। আশা করছি ভালোভাবেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারব।’

সুন্দরবন লঞ্চের ঢাকা অফিসের সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সারা বছর যাত্রী পাই না। ঈদের ছুটি হলে লঞ্চে যাত্রী আসে। টার্মিনালে যাত্রী দেখা গেলেও লঞ্চে আমাদের আশানুরূপ যাত্রী নেই।’

লঞ্চ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম খান বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। শেষ সময়ে একটু ভিড় বাড়বেই। তবে সেটা আশানুরূপ নয়। অন্যবার এ সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে রোটেশন ভেঙে দিয়ে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল করত। আর এ বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিডিউল লঞ্চই যাত্রী বোঝাই হচ্ছে না। আশা করছি শেষ পর্যন্ত যাত্রীর চাপ আরেকটু বাড়বে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এবার ঈদে নৌপথে যাবে আনুমানিক ২২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। ১০ এপ্রিল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হবে।

‘তবে ঘরমুখী মানুষের স্রোত কার্যত শুরু হবে ৮ এপ্রিল থেকে। ওইদিন থেকে ঈদ স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চলাচল করবে। ঈদের আগের দুদিনসহ সাত দিনে সাড়ে ২২ লাখ মানুষ নৌপথে ঢাকা ছাড়ছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ৩ লাখের বেশি যাত্রী সদরঘাট টার্মিনাল হয়ে গন্তব্যে যাবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৌযানের কোনো স্বল্পতা নেই। সোমবার ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে গেছে সারা দিনে ৫৮টি। রাতে আরও বেশকিছু লঞ্চ ছাড়বে। আমরা গড়ে প্রতিদিন ১০০টি লঞ্চ পন্টুনে রেডি রাখছি।’

এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

সদরঘাট নৌ পুলিশ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের সদস্যরা প্রতিটি লঞ্চ নজরদারিতে রেখেছে। কোনো লঞ্চই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাওয়ার সুযোগ নেই। লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রী হলেই পন্টুন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
নগরবাসীর ঈদযাত্রা শুরু, বাস টার্মিনালে বাড়ছে চাপ
লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ নেই, ফাঁকা সদরঘাট
ঈদযাত্রায় আসনের বেশি যাত্রী নয়, রাস্তায় থামানো যাবে না বাস
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ব্যবহার হবে ড্রোন: হাইওয়ে পুলিশ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

জীবনযাপন
The moon was not seen in Saudi Arabia on Eid Wednesday

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার
সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, বুধবার সে দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। সে হিসাবে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার।

সৌদি আরবের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার নয়, বুধবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র দুই মসজিদ কাবা ও মসজিদে নববির রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজ ইনসাইড দ্য হারামাইনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৯টা ১৩ মিনিটে দেয়া এক পোস্টে ইনসাইড দ্য হারামাইনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আজ সৌদি আরবের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।’

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, ‘মঙ্গলবার দেশটিতে শেষ রোজা হবে। তার পরদিন শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সে দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।’

রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। সে হিসাবে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা পরদিন বৃহস্পতিবার।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:
ঈদ কবে, জানা যাবে মঙ্গলবার

মন্তব্য

p
উপরে