× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Kings triumphant
google_news print-icon

যুবরাজকে হারিয়ে বাদশার জয়জয়কার

যুবরাজকে-হারিয়ে-বাদশার-জয়জয়কার
লড়াইয়ে নিজের মোরগ নিয়ে অংশগ্রহণকারী আলমগীর মিয়া জানান, ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টের মতো মোরগ লড়াইয়ের জন্য একটি কোর্ট বানানো হয় মাটিতে দাগ টেনে। এর দুপাশে নিজ নিজ মোরগ নিয়ে অবস্থান নেয় দুজন।

উঠানে দাগ দেয়া বৃত্তের মাঝে মুখোমুখি দুটি বিশাল আকৃতির মোরগ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের ইশারা পেতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে শুরু করে লড়াই। একটি অন্যটিকে পরাস্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। বিরতির পর একটি মোরগের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত দেখা গেছে। এটির মালিক পানি ছিটিয়ে বিশ্রাম দিয়ে আবার এটিকে লড়াইয়ের ময়দানে পাঠায়।

কিছুক্ষণ যুদ্ধ শেষে ক্লান্ত হয়ে একটি বসে পড়ে। অন্যটি হয়ে যায় চ্যাম্পিয়ন; নাম বাদশা।

যুবরাজকে হারিয়ে বাদশার জয়জয়কার

মোরগের এই লড়াই দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে। সেখানে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের পর অনুষ্ঠিত হয় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই খেলা।

জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলমে এই মোরগ লড়াইয়ের আয়োজক।

লড়াইয়ে আরও ৩টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি থেকেই একটি করে মোরগ জয় পায়।

লড়াইয়ে নিজের মোরগ নিয়ে অংশগ্রহণকারী আলমগীর মিয়া জানান, ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টের মতো মোরগ লড়াইয়ের জন্য একটি কোর্ট বানানো হয় মাটিতে দাগ টেনে। এর দুপাশে নিজ নিজ মোরগ নিয়ে অবস্থান নেয় দুজন।

যুবরাজকে হারিয়ে বাদশার জয়জয়কার

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৭টি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দল কমপক্ষে ৯টি যোদ্ধা মোরগকে প্রস্তুত রাখে। ৭টি ম্যাচের জন্য ৭টি এবং আহত মোরগের বদলী যোদ্ধা হিসাবে আরও দুটি মোরগ রাখা হয়।

বিজয় দিবসের এই লড়াইয়ে ভাদুঘর গ্রামের আব্দুল লতিফের মোরগ ‘যুবরাজের’ সঙ্গে ফাইনালে লড়ে জয়ী হয় আলমগীরের মোরগ ‘বাদশা’।

ভাদুঘরের আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমার মোরগটি যথেষ্ট সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে। তবে শেষ দিকে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তবে খেলাটা শখের হওয়াতে আমরাও বেশ উপভোগ করি।’

যুবরাজকে হারিয়ে বাদশার জয়জয়কার

মোড়গ লড়াই দেখতে আসা মুসলিমা বেগম বলেন, ‘গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা এই মোরগ লড়াই। দীর্ঘদিন পর মোরগ লড়াই উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে। আমার ছোট্ট মেয়ে নাভাও লড়াই দেখে খুব খুশি হয়েছে।’

মোরগ লড়াইয়ের আয়োজক জেলা প্রশাসক শাহগীর বলেন, ‘ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ও দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীদের ক্রেস্ট ও ১ হাজার টাকা করে সম্মানী দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’
‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ
‘লাল মোরগের ঝুঁটি’র অ্যানিমেশন টিজার
সেন্সর পেল ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’
সেরা মোরগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Butchers of Meherpur are running to Dhaka in the hope of higher wages

অধিক মজুরির আশায় ঢাকায় ছুটছেন মেহেরপুরের কসাইরা

অধিক মজুরির আশায় ঢাকায় ছুটছেন মেহেরপুরের কসাইরা স্থানীয়ভাবে কসাই সংকট হবে জেনেও অধিক মুজুরির আশায় ঢাকায় ছুটছেন মেহেরপুরের বেশিরভাগ কসাই। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতি বছর কোরবানি ঈদের এক-দুই দিন আগে তারা ঢাকায় যান। অনেক কসাই ঢাকায় থাকা আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে আগেভাগেই ঠিক করে নেন কাদের পশু জবাই করবেন ও মাংস কাটবেন। কসাইরা এভাবে ঢাকায় চলে যাওয়ার ফলে প্রতি বছরই মেহেরপুরে কসাইয়ের সংকট দেখা দেয়।

দুই বছরের মধ‍্যে কোনো ঈদ দেশে পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করার সুযোগ পাননি প্রবাসী আব্দুল কাদের। তবে এবার ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগেই ছুটিতে দেশে এসেছেন। কোরবানির পশুও কিনেছেন তিনি। তবে বিপাকে পড়েছেন কসাই খোঁজ করতে গিয়ে। ইতোমধ্যে তিনি দশজন পেশাদার কসাইয়ের বাড়িতে গিয়েছেন, কিন্তু কেউ ঈদের দিন পশু জবাই করে দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।

মেহেরপুরের পোশাক ব‍্যাবসায়ী ওবায়দুর বলেন, ‘কোরবানির ঈদ আসতে বাকি আছে আর দুদিন। কোরবানির পশুও কিনেছি এক সপ্তাহ হয়েছে। তবে এখনও কোন কসাইয়ের সন্ধান মেলাতে পারিনি।

‘ঈদের আগে এমনিতেই দোকানে চাপ থাকে। তার ওপর এখন কসাই খোঁজা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন কসাইকে বলেছি। বাড়তি মুজুরি দিয়ে পুষিয়ে দেয়ার কথা বলেও কোনো লাভ হয়নি। তারা বলছেন- এমনিতেই আমাদের ঢাকায় গরু বেচতে যেতে হবে। সেইসঙ্গে কসাইয়ের কাজটা করলেও হাজার বিশেক টাকা আয় করা যাবে। তাই এলাকায় থাকব না।’

আব্দুল কাদের কিংবা ওবাইদুর রহমানই শুধু নয়, ঈদের আগে তাদের মতো অনেকেই কসাই নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয়ভাবে কসাই সংকট হবে জেনেও অধিক মুজুরির আশায় ঢাকায় ছুটছেন জেলার বেশিরভাগ কসাই। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশু জবাই ও মাংস বানানোর কাজে যোগ দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও মেহেরপুরের পেশাদার ও মৌসুমি কসাইরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিতে শুরু করেছেন।

প্রতি বছর কোরবানি ঈদের এক-দুই দিন আগে তারা ঢাকায় যান। অনেক কসাই ঢাকায় থাকা আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে আগেভাগেই ঠিক করে নেন কাদের পশু জবাই করবেন ও মাংস কাটবেন। এভাবে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে এক ধরনের যোগাযোগ গড়ে উঠেছে তাদের।

কসাইরা এভাবে ঢাকায় চলে যাওয়ার ফলে প্রতি বছরই মেহেরপুরে কসাইয়ের সংকট দেখা দেয়।

নিশিপুর জামে মসজিদের ইমাম কিতাব আলী বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেক পশু কোরবানি দেয়া হয়। অধিকাংশ জবাই আমাকেই করা লাগে। তবে চামড়া ছাড়ানো মাংস চুরানোর জন‍্য লোক পাওয়া যায় না। ফলে অনেকেই পশু জবাই করে সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকেন। অনেকে আবার সিরিয়াল না পাওয়ায় ঈদের পরের দিন পশু কোরবানি করেন।’

কসাই সারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে একটা বড় ছাগল জবাই করে পনের শ টাকা টাকা ও গরু জবাই করে পাই আড়াই হাজার টাকার মতো। অথচ একই কাজ ঢাকায় গিয়ে করলে দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যায়, সঙ্গে পাওয়া যায় সম্মানও। আবার গ্রামে কাজ করে অনেক সময় ঠিকমতো টাকাও পাওয়া যায় না।’

ষোলটাকা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের জালাল কসাই জানান, প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে ঢাকায় যান তিনি; সঙ্গে রাখেন চারজন সহকারী।

তিনি জানান, পশুর মূল্যভেদে পাশ্রমিক নিয়ে থাকেন তিনি। যে টাকায় পশুটি কেনা হয়েছে, তার প্রতি হাজারে ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা রেট ধরে পারিশ্রমিক নেয়া হয়।

তবে এবার সেই রেট বাড়িয়ে দুইশ টাকা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঈদের দিন ৫ থেকে ৬টি পশু জবাই ও মাংস কাটতে পারেন তারা। কাজ শেষে ঈদের পরদিন রাতে কিংবা দিনে রাজধানী ছাড়েন।

জেলার গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পাশা জানান, যারা মাংস কাটার কাজে ঢাকায় যাচ্ছেন, তাদের ইতোমধ্যে ট্রেড লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চল থেকে দুইশজনের বেশি কসাই ঢাকামুখী হবেন। এ কারণে তাদের কাছে মাংস কাটার ধারালো ও ভারী অস্ত্র থাকবে। পথিমধ্যে কোনো আইনগত সমস্যায় পড়লে যাতে সমাধান হয়, সে কারণে তাদের কার্ড দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা
বড় গরু নিয়ে বিপাকে শেরপুরের খামারিরা
হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব
এক হাটের পশু অন্য হাটে নেয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি

মন্তব্য

জীবনযাপন
At the last minute the animal market of the capital has gathered satisfied buyers

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা কোরবানির জন্য বিক্রি হয়ে যাওয়া গরুটিকে শেষবারের জন্য আদর করে দিচ্ছেন এক বিক্রেতা। রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি হাট থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট থাকলেও এখন আর ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ঘুরেফিরে দর-দামে মিলে গেলেই নিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি।

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে স্থায়ী দুটিসহ মোট ২০টি পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। পশুর হাটগুলোতে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী দুই সিটিতে পশুর হাট বসেছে। চলবে ১৭ জুন অর্থাৎ ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত মোট ৫ দিন। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক হাট বসলেও হাটগুলোতে মূলত কয়েক দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করে পশুর পিকআপ ও ট্রাক। খবর বাসস

ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট থাকলেও এখন আর ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ঘুরেফিরে দর-দামে মিলে গেলেই নিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি।

রোববার রাত পোহালেই পরের দিন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীজুড়ে মানুষ ও কোরবানির পশুতে একাকার। উত্তরার দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গায় বসেছে বড় দুটি পশুর হাট। এই পশুর হাটগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া। শুক্রবার পর্যন্ত পশুর দাম একটু কম থাকলেও আজ দাম কিছুটা চড়া। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মতে দাম এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবার উত্তরার গরুর হাট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটভর্তি বিভিন্ন জাতের দেশীয় ছোট, মাঝারি ও বড় জাতের অসংখ্য গরু উঠেছে, হাটে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে পশুর হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই স্থানীয়ভাবে খামারে লালন-পালন করা দেশি গরুই পছন্দ করছেন। অনেক ক্রেতা মনে করছেন শেষ দিনে দাম কমে যাবে। তখন কোরবানির পশু তারা সস্তায় কিনবেন। তবে বেশির ভাগ ক্রেতাই আজকের মধ্যেই পশু কিনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু নিয়ে উত্তরার হাটে এসেছেন মোস্তফা মাতাব্বর, মো. রাসেল ও রফিক নামে তিন গরু ব্যবসায়ী। তারা জানান, এ বছর পশুর হাটে ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে। হাটে যেসব ক্রেতা আসছেন তারা দেশীয় জাতের গরু এবং স্বাভাবিক খাবার দিয়ে খামারে লালন-পালন করা গরুই বেশি পছন্দ করছেন। উত্তরার হাটে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হাটে এলেও দর-দাম করেই তাদের পছন্দের গরু কিংবা ছাগল কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বাজারে বড় গরুরও কমতি নেই। তবে ছোট ও মাঝারি জাতের গরুর চাহিদাই বেশি।

হাটে পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসা সালাম বেপারী বলেন, পরিবহনে করে গরুর নিয়ে আসা, হাটে তোলা, খাওয়ানো ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা- এই পুরো সময়টাজুড়ে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। এ ছাড়া সব সময় গরুর দড়ি ধরে থাকা, গরুকে সামলানো এবং গরুর গোবর তোলাসহ নানান কারণে হাতও পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম শিশির হাটে এসেছেন গরু কিনতে। তিনি বলেন, ‘যতটুক ঘুরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে এবার গরুর দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু কমই আছে।’

গরুর পাশাপাশি হাটে প্রচুর ছাগল, ভেড়াও উঠেছে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে কোরবানির একটি ছাগল ক্রয় করা সম্ভব। বগুড়ার নবাব, লাট বাহাদুর, কালো মানিক ও লাল বাদশা নামে ৪টি বড় জাতের বিশাল গরু উত্তরার হাটে আনা হয়েছে। এগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ১২-১৫ লাখ টাকা।

উত্তরার শ্রমিক নেতা রুবেল জানান, ‘গতকাল রাতে আমার বন্ধু উত্তরার গরুর হাট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি বেশ বড় আকৃতির গরু কিনেছেন। আমার কাছে মনে হলো হাটে হঠাৎ গরুর দাম কমে গেছে। এতে আমি বেশ খুশি এ কারণে যে, এ বছর অনেকেই তার সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিতে পারবেন।’

রাজধানীর গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন শুধু ছোট সাইজের গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া বাজারে প্রচুর পরিমাণ ছাগলও উঠেছে। বেচাকেনাও বেশ জমে উঠেছে। ছোট খাসির দাম ১০-১৫ হাজার টাকা। মাঝারি খাসি ২০-২৫ হাজার এবং বড় জাতের খাসি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

গাবতলী পশুর হাটে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা উট তোলা হয়েছে। উট দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও ইউটিউবাররা। মো. মাহফুজুর রহমান অপু দুটি উট এক মাস আগেই কিনেছেন। এরপর সড়কপথে উট দুটি বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উটের মালিক মো. মাহফুজুর রহমান অপু বলেন, ‘প্রতি উটে ১৪-১৫ মণ মাংস হবে। আমার পরিবার উটের ব্যবসার সঙ্গে ২০-৩০ বছর ধরে জড়িত। আমার বাবাও এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিচর্যা হিসেবে ঘাস, কুড়া ও ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে উট দুটিকে। রাজস্থান থেকে দুটি উট নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কোরবানির সময় বিক্রি করা। আমরা দুটি উটের দাম চাচ্ছি ৬০ লাখ টাকা। তবে কিছু কমে হলেও বিক্রি করব।’

উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর বৃন্দাবন পশুর হাটের ইজারাদার মো. কফিল উদ্দিন মেম্বার বলেন, ‘হাটে এবার দেশি গরুর প্রাধান্যই বেশি। হাটে গরুতে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রচুর পরিমাণ গরু উঠেছে। তবে পশুর হাটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আশা করছি, আজ রোববার আবহাওয়া ভালো থাকলে বিকেল থেকে হাটে পশুর বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে বাড়বে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু আসা অব্যাহত রয়েছে। এই হাটে শতকরা ৫ টাকা হারে হাসিল নেওয়া হচ্ছে। হাটে নিরাপত্তার কোনো অভাব নেই।’

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ৯টি হাট এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটসহ ১১টি হাট বসেছে। তবে এ বছর আদালতের নির্দেশনার কারণে আফতাবনগরে হাট বসেনি।

ঢাকা উত্তরে অস্থায়ী ৮টি হাটের মধ্যে রয়েছে- উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ভাটারার সুতিভোলা খালের কাছের খোলা জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে রানাভোলা স্লুইচগেট পর্যন্ত খালি জায়গা ও দক্ষিণখানের জামুন এলাকার খালি জায়গা।

ঢাকা দক্ষিণে অস্থায়ী ১০টি হাটের মধ্যে রয়েছে- খিলগাঁও রেলগেট মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগে রহমতগঞ্জ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক
পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত
পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট

মন্তব্য

জীবনযাপন
Passenger pressure at Sadarghat on the first day of the holiday

ছুটি শুরুর দিনেই সদরঘাটে যাত্রীর চাপ

ছুটি শুরুর দিনেই সদরঘাটে যাত্রীর চাপ পুরো টার্মিনাল ও পন্টুন এলাকাজুড়েই শুক্রবার সারা দিন যাত্রীদের ভীড় চোখে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের নৌপথে বাড়ি পৌঁছে দিতে বাড়ানো হয়েছে দৈনিক চলাচলকারী লঞ্চের সংখ্যাও। স্বস্তি নিয়েই যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন বলে জানিয়েছেন লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালে প্রবেশের সড়কে তীব্র যানজট ও পন্টুনে হকারদের কারণে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর প্রথম দিনেই রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট নৌ-টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে স্বাভাবিক সময়ে যাত্রীর ভাটা থাকলেও ঈদকে ঘিরে সড়ক ও রেলের পাশাপাশি প্রাণ ফিরেছে নৌপথেও।

দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের নৌপথে বাড়ি পৌঁছে দিতে বাড়ানো হয়েছে দৈনিক চলাচলকারী লঞ্চের সংখ্যাও। স্বস্তি নিয়েই যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন বলে জানিয়েছেন লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালে প্রবেশের সড়কে তীব্র যানজট ও পন্টুনে হকারদের কারণে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

শুক্রবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো টার্মিনাল ও পন্টুন এলাকাজুড়ে যাত্রীদের ভীড়। যাত্রীবোঝাই করে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চগুলো একের পর এক ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে।

সকালে চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া ও পটুয়াখালীগামী পন্টুনে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিড় একটু বেশি দেখা যায়। সবচেয়ে ভিড় ছিল ইলিশা রুটে। বিকেলে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাগামী লঞ্চগুলোতে।

শনি ও রোববার যাত্রীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে জানান লঞ্চের কর্মীরা। নাড়ির টানে বাড়ির পথে বের হয়ে এই ভিড়ের মুখোমুখি হলেও এই যাত্রা ‘নির্বিঘ্নের’ বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিভিন্ন পেশার মানুষের ঈদের ছুটি আগে শুরু হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস ছিল বৃহস্পতিবার। অফিস শেষ করে মোট পাঁচ দিনের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন তাদের অনেকে।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা জানান, শুক্রবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরছেন। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রিম টিকিটের প্রায় শতভাগ বিক্রি আগেই শেষ হয়েছে। তবে সব রুটেই কমবেশি লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। যদিও কেবিনের তুলনায় ডেকেই যাত্রীর চাপ বেশি বলে জানান তারা। তবে পাশাপাশি কেবিনের চাহিদাও বেড়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ) সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের নৌপথ ৪১টি। তবে নাব্য সংকট ও যাত্রী স্বল্পতার কারণে বড় আয়তনের ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল না করায় অন্তত ১৫টি নৌপথ এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ২৬টি নৌপথে প্রায় ৭০টি লঞ্চ নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। ঈদ ঘিরে লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১৮০টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি লঞ্চ প্রতিদিন সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে সদরঘাটে আসছে ৯০টি।

ঈদের আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও অনেকটা শেষের পথে। কোনো কোনো রুটে ১৬ জুন পর্যন্ত কেবিনের অগ্রিম টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তবে এবছর ঢাকা-বরিশাল রুটে অগ্রিম টিকিট বিক্রির হার কিছুটা কম।

অপরদিকে, যাত্রী চাপ বাড়তে থাকায় লঞ্চের ভাড়া কিছুটা বেশি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, বরিশালগামী লঞ্চের ডেকের টিকিটে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ও কেবিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী সুন্দরবন ১৫-এর পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রতিদিনই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। অগ্রিম বুকিং করা হয়েছে ১৬ তারিখ পর্যন্ত। ১৫-১৬ তারিখের কোনো কেবিন আমাদের ফাঁকা নেই।’

পটুয়াখালীগামী যাত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘ঘাটে এসেই লঞ্চ পেয়েছি। ঈদে একটু বাড়তি ভাড়া নেবে- এটাই স্বাভাবিক। আশা করছি ভালোভাবেই বাড়ি পৌঁছাতে পারব। যাত্রাপথে ঝড়বৃষ্টি না হলেই ভালো।’

লঞ্চে উঠে ব্যাগ টানছিলেন রামপুরা থেকে আসা আহনাফ খানম আসিফ। এই ব্যাংকার বলেন, ‘আমি বরগুনা যাব। যাওয়ার কথা ছিল গতকাল রাতেই, কিন্তু ওই দিনের জন্য কেবিন বুকিং করতে পারিনি। এজন্য আজ যেতে হচ্ছে। ঘাটে এসে কেবিন পাব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তবে কেবিন পেয়েছি, কিন্তু ভাড়াটা একটু বেশি নিয়েছে।’

ইলিশাগামী যাত্রী শামীম হোসেন বলেন, ‘ঘাটে আগের মতো ভিড় নেই। এসে ডেকেই বসেছি। ডেকে চাপ কম, ভাড়াও অতিরিক্ত না।’

সার্বিক বিষয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘কিছু রুটে অগ্রিম টিকিট অনেকটাই বিক্রি হয়েছে। বরিশালসহ কয়েকটি রুটে যাত্রী অনেক কম। তবে আমাদের লঞ্চ সংকট নেই। প্রয়োজনে আমরা যেকোনো রুটে স্পেশাল সার্ভিস দিতে পারব। যাত্রীরা লঞ্চে উঠে ডেক ও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।’

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কিছুটা কম নিচ্ছি। এমন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ-পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিয়োজিত রয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরঘাট নৌ-পুলিশ থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রতিটি লঞ্চ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কোনো লঞ্চ যেন অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করে, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। পুলিশ, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় র‌্যাবের একটি টিম আলাদাভাবে কাজ করছে। আনসার সদস্যরাও কাজ করছেন।’

যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানান নৌ-পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
রাতে গাড়ির চাপ বেড়ে যানজট সাভারে
এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে চাপ, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় জট
বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Eid has no effect waiting for garment holidays in Sadarghat

ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা

ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা পদ্মা সেতুর কারণে সদরঘাটে যাত্রী কমেছে বলে ধারণা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের এমভি ফারহান-৫ লঞ্চের স্টাফ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার আগে ঈদে যেরকম ভিড় বা যাত্রী হতো, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এদিন যাত্রী কিছু বেশি ছিল, তবে শুক্রবার যাত্রীসংখ্যা বেশি হবে।’

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রীদের সেবা দিতে চালু করা হয়েছে বিশেষ লঞ্চ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। আনসার ও পুলিশ সদস্যরা সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করছেন। এছাড়া ভিড় এড়াতে যাত্রীদের নিজ নিজ গন্তব্যের পন্টুন দিয়ে প্রবেশের নির্দেশনা দিচ্ছেন সদরঘাটের ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে এদিন ঘরমুখো মানুষের চাপ লক্ষ করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও টার্মিনাল এলাকায় অনেকটা জনশূন্যতা বিরাজ করছে। লঞ্চগুলো ছাড়ার জন্য প্রস্তুত করে রাখা হলেও যাত্রীদের তেমন আনাগোনা নেই। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি লঞ্চের ডেকে কিছু যাত্রী হলেও কেবিনে তেমন যাত্রীই নেই। আগে এ সময়ে যাত্রীদের চাহিদামতো টিকিট সরবরাহ করতে না পারলেও এখন পাল্টেছে সেই চিত্র। অনেক হাঁকডাক করেও যাত্রী মিলছে না। যাত্রী টানতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া রাখা হলেও যাত্রীরা আগ্রহী হচ্ছেন না।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের নিচতলায় রয়েছে সদরঘাট নৌ-থানার কার্যালয়। আনসার ক্যাম্পের পাশে রয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়। এ ছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি নৌ-ফাঁড়িও রয়েছে সেখানে। এগুলোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ডেস্ক বসিয়ে ডিউটি করছেন র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। নদীতে নৌ-পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।

সদরঘাটের কয়েকটি লঞ্চের সুপারভাইজার, টিকিট বিক্রেতা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদকেন্দ্রিক লঞ্চে যাত্রী এখনও বাড়েনি। কিছু কিছু লঞ্চে কিছু সংখ্যক অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে ঈদের ২/৩ দিন আগে যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে চলাচল করলেও প্রায় ১০টি রুট ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদ মৌসুমেও সেসব রুটে লঞ্চ চলাচলের তেমন সম্ভাবনা নেই। লঞ্চ ব্যবসায় মন্দার কারণে ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি লঞ্চ বিক্রি করে দিয়েছেন মালিকরা।

টার্মিনাল থেকে কথা হয় ভোলাগামী লঞ্চযাত্রী লিটন তালুকদারের সঙ্গে। পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন ডেমরায়। পেশায় আইনজীবী লিটন গ্রামে বাবা-মাস স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘লঞ্চ ছাড়বে রাত ১০টায়। ভিড় হবে ভেবে বাসা থেকে আগেভাগেই রওনা দেই। বিকেল ৫টায় টার্মিনালে পৌঁছে গেছি। রাস্তায় কোনো ঝামেলা হয়নি। এখন তো দেখি তেমন ভিড় নেই।’

ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের এমভি ফারহান-৫ লঞ্চের স্টাফ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার আগে ঈদে যেরকম ভিড় বা যাত্রী হতো, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এদিন যাত্রী কিছু বেশি ছিল, তবে শুক্রবার যাত্রীসংখ্যা বেশি হবে।’

লঞ্চ মালিক সমিতির পরিচালক গাজী সালাউদ্দিন বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদযাত্রা সামাল দিতে আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে। যেসব রুটে যাত্রী বেশি থাকবে প্রয়োজনে সেই রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে।’

ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় লঞ্চ চালাই। অন্য সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার নিচে আমরা ভাড়া নিয়ে থাকি।’

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর ফলে সদরঘাটের যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই সড়কমুখী হয়েছেন। এতে সদরঘাটে আগের মতো ভিড় ও যাত্রীর চাপ নেই।

এদিন দুপুরে সদরঘাট টার্মিনালে কথা হয় র‌্যাব-১০ এর এসপি সাইফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ডিউটির পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইরোধে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটও কাজ করছে।’

এ বিষয়ে সদরঘাট টার্মিনালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সদরঘাট টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি অসংখ্য সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এগুলো দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চলাচলকারী লঞ্চগুলোর স্টাফদের প্রশিক্ষণ, লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আমরা সচেষ্ট আছি।’

অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার ঢাকা নদীবন্দরের আহ্বায়ক মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এখন যাত্রীদের তেমন চাহিদা নেই। আমরা গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষায় আছি। যেদিন গার্মেন্টস ছুটি হবে, সেদিন থেকে বিশেষ লঞ্চ চলাচল শুরু করবে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে।’

যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘যাত্রীবাহী নৌযানের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করছে। যেহেতু ঝড়ের সময়, সে বিষয়েও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফায়ার সার্ভিস
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু

মন্তব্য

জীবনযাপন
A farmer was killed by a bull in the animal market

পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত

পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত
আব্দুস সাত্তার নামের এক প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেন, ‘বাদাঘাট বাজারে গরু কিনতে এসে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ ষাঁড়টি উত্তেজিত হয়ে মালিকের গোপনাঙ্গে লাথি দিলে মাটিতে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়।’

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের এক পশু হাটে নিজের পালন করা ষাঁড়ের লাথিতে এক খামারির মৃত্যু হয়েছে। মনু মিয়া নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভোলাখালি গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কোরবানি পশু হাটে এ ঘটনা ঘটে।

তবে, নিহতের শ্যালক বশির মিয়া জানিয়েছেন, ষাঁড়ের লাথিতে নয়, বাজারে গরু বিক্রি করতে গিয়ে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, নিজেদের পালিত একটি বড় ষাঁড় নিয়ে পশুর হাটে নিয়ে আসেন মনু মিয়া ও তার ভাই নানু মিয়া। গরুর গলায় বাঁধা দড়ির একাংশ হাতে ধরে সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নানু মিয়া এবং পিছন দিকে দাড়িয়ে ছিলেন মনু মিয়া। হঠাৎ ষাঁড়টি পেছনে থাকা মনু মিয়ার গোপনাঙ্গে লাথি দিলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে স্থানীয় বাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আব্দুস সাত্তার নামের এক প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেন, ‘বাদাঘাট বাজারে গরু কিনতে এসে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ ষাঁড়টি উত্তেজিত হয়ে মালিকের গোপনাঙ্গে লাথি দিলে মাটিতে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়।’

তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম বলেন, ‘পশুহাটে ষাঁড়ের লাথিতে নয় হার্ট অ্যাটাক করে এক খামারির মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
‘সাদা পাহাড়ের’ ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৬ লাখ
১৭ মণ ওজনের ‘স্বপ্ন’কে নিয়েই নিপার স্বপ্ন

মন্তব্য

জীবনযাপন
A two day Lalan memorial festival was held in Faridpur

ফরিদপুরে দুদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে দুদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত লালন স্মরণোৎসব-২০২৪-এ লালন সংগীত পরিবেশন করছেন এক সাধক। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার রাতে লালন সাঁইজীর স্মরণে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে উৎসব শুরু হয়। এরপর আত্মদর্শন ও মানবপ্রেম সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর ফকির লালনের ভাববাণী পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাউল শিল্পীরা।

বাউল সম্রাট মহাত্মা লালন ফকিরের স্মরণে ও ফরিদপুরের আদিভাব লালন চর্চা কেন্দ্রের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব-২০২৪ শেষ হয়েছে।

ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ টেপাখোলা আদিভাব লালন চর্চা কেন্দ্রের আখড়াবাড়িতে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শতাধিক লালন সংগীতশিল্পী অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার রাতে লালন সাঁইজীর স্মরণে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে উৎসব শুরু হয়। এরপর আত্মদর্শন ও মানবপ্রেম সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর ফকির লালনের ভাববাণী পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাউল শিল্পীরা।

আদিভাব লালন চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাউল রূপক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন লালন চর্চাকেন্দ্রটির প্রধান উপদেষ্টা ও পৌর কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন ফয়সাল।

আলোচনায় অংশ নেন ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সংস্কৃতি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল হাসান মিলন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ফরিদপুরের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ-ই কবীর খোকন, নারীনেত্রী আসমা আক্তার মুক্তা, ফরিদপুর লালন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পাগলা বাবলু খান ও আদিভাব লালন চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক বাউল নারায়ণ মণ্ডল।

দুদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে লালন সংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পী পাগলা বাবলু খান, বিশিষ্ট সাধক ফকির নিজাম উদ্দিন সাঁই ডলার, বাউল মোহিনী সরকার, বাউল অনিমা বারুই, বাউল অমিয়, বাউল ফকির ইমান খান, বাউল বিভূতিভূষণ সরকার, বাউল নারায়ণ মণ্ডল, বাউল জয়চাঁদ সাধু, বাউল রাজু ফকির, বাউল সেকেন্দার, আবুল খায়ের বাউল, বাউল সমীর সাহা, বাউল নিরোদ রায়, বাউল সুভাষ বিশ্বাস, বাউল বাদশা, ফকির জাহাঙ্গীর সাধু, শিল্পী শিমু, রিমা সাধকীসহ আরও অনেকে।

শুক্রবার স্মরণোৎসব শেষে বাল্যসেবা ও পুনর্সাধু সেবার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
হাশেম লোক উৎসব শুরু
বই উৎসব আজ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Devotees flock to the Ganesh Pagal Mela ignoring the storm

ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে গণেশ পাগলের মেলায় ভক্তদের ভীড়

ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে গণেশ পাগলের মেলায় ভক্তদের ভীড় গণেশ পাগলের মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে এসেছেন সাধুসন্যাসী ও ভক্তবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতি বছর এ মেলায় লাখ লাখ ভক্তের সমাগম ঘটলেও এ বছর ঝড়বৃষ্টির কারণে সেই সংখ্যাটি কিছুটা কম বলে জানান আয়োজকরা। প্রতি বছর মেলা প্রাঙ্গণ হাজারো বাউল-সন্ন্যাসী মিলনমেলায় পরিণত হলেও বৃষ্টির কারণে এবার আসর বসাতে পারেননি তারা।

ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাদারীপুরের রাজৈরের কদমবাড়ির শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের সেবাশ্রমে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছে। মেলার ১৪২তম আয়োজনে প্রায় ৫ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বসেছে সারি সারি নানা রকমের দোকান।

১৪২ বছর আগে জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনুসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন। সেই থেকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এক রাতের মেলা হলেও মেলাটি বর্তমানে চলে ৩দিন। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জেলায় ঝড়বৃষ্টি হলেও তা মাথায় নিয়েই সোমবার সকাল থেকে দলে দলে জয়ডঙ্কা ও নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জয় হরিবল, জয়বাবা গণেশ পাগল ধ্বনিত করতে করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসতে থাকেন সাধুসন্যাসী ও ভক্তবৃন্দ। বাস, ট্রাক, ট্রলারে, এমনকি পায়ে হেঁটেও তাদের অনেকে আসতে শুরু করে মেলা প্রাঙ্গণে। তবে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির কাণে মন্দির প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে গণেশ পাগলের মেলায় ভক্তদের ভীড়

প্রতি বছর এ মেলায় লাখ লাখ ভক্তের সমাগম ঘটলেও এ বছর ঝড়বৃষ্টির কারণে সেই সংখ্যাটি কিছুটা কম বলে জানান আয়োজকরা। প্রতি বছর মেলা প্রাঙ্গণ হাজারো বাউল-সন্ন্যাসী মিলনমেলায় পরিণত হলেও বৃষ্টির কারণে এবার আসর বসাতে পারেননি তারা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও অন্যান্য রাষ্ট্র থেকেও বহু ভক্তবৃন্দ আসেন ঐতিহ্যবাহী এ মেলায়।

হারিয়ে যাওয়া অনেক পণ্যের দেখা মেলে এ মেলায়। তবে বৃষ্টির কারণে এবার মেলায় আসার দোকানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মেলায় আগত মানুষের জন্য তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন:
৬০ লাখ দর্শনার্থীর মেলায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি

মন্তব্য

p
উপরে