× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
100 immigration of pilgrims will take place in the country
hear-news
player
google_news print-icon

দেশেই হবে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন

দেশেই-হবে-শতভাগ-হজযাত্রীর-ইমিগ্রেশন
সৌদি আরবগামী হজযাত্রীদের একাংশ। ফাইল ছবি
‘রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের এ চুক্তির ফলে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ও লাগেজ তল্লাশির কাজ ঢাকায় হবে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে।

এখন থেকে শতভাগ হজযাত্রীর সৌদি প্রান্তের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই হবে।

সচিবালয়ে রোববার সফররত সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আবদুল আজিজ আল দাউদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে।

‘রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের এ চুক্তির ফলে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ও লাগেজ তল্লাশির কাজ ঢাকায় হবে। এ ছাড়া ২ দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে।

সৌদির স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আবদুল আজিজ আল দাউদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বে বাংলাদশি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনার পর আমরা দুটি এমইউও সই করেছি। একটি হলো নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, আরেকটি হলো রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট।

‘প্রথমটিতে দুই দেশের নিরাপত্তা আরও কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেই বিষয় আছে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এর মধ্যে রয়েছে। রুট-টু-মক্কার মধ্যে রয়েছে আমাদের হজযাত্রীদের আরও কীভাবে সহযোগিতা দেয়া যায়। এখান থেকে ইমিগ্রেশন ও সবকিছু ঠিকঠাক করে করে তারা উড়োজাহাজে উঠে যাবে। এ সুবিধাগুলো আগে পরীক্ষামূলকভাবে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এখন চুক্তি হলো। এখন ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ চেকিং সবকিছু বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে হয়ে যাবে। এটাই হলো রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টের বিষয়।’

আরও পড়ুন:
আবারও সহজের জরিমানা হাইকোর্টে স্থগিত
জরিমানার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে সহজ
এক টিকিট দুইবার বিক্রি, এবার সহজকে জরিমানা ২ লাখ
দুই বিমানের সংঘর্ষের ‘অন্য কারণ’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী
জরিমানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সহজ

মন্তব্য

জীবনযাপন
People above 65 years of age can also go for Hajj

৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাও হজে যেতে পারবেন

৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাও হজে যেতে পারবেন
ফাইল ছবি
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে হজে যেতে বয়সের আর কোনো বাধা থাকবে না। গত বছর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকে হজে যেতে পারেননি।’

আগামী বছর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাও হজে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে হজে যেতে বয়সের আর কোনো বাধা থাকবে না। গত বছর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকে হজে যেতে পারেননি।’

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার বেলা ২টায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক আন্তধর্মীয় সংলাপ’ শিরোনামে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে দ্রুত প্রাক-নিবন্ধন করার পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এ সিস্টেমে কারও আবদার রক্ষার সুযোগ থাকবে না। যারা আগে নিবন্ধন করবেন তারাই আগে সুযোগ পাবেন। নিবন্ধিতদের ধারাবাহিকভাবে হজে পাঠানো হবে।’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ইসলাম ধর্মের কল্যাণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, বিশ্ব ইজতোমর জন্য টঙ্গীতে জমি বরাদ্দ, হজ পালনে সরকারি অনুদান, বেতার-টিভিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রচার, সমুদ্রপথের হজযাত্রীদের জন্য জাহাজ কেনাসহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করে গেছেন।

‘এরই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার সরকারের উদ্যোগে প্রতি উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণ, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জেদ্দা হজ টার্মিনালে বাংলাদেশ প্লাজা স্থাপন ছাড়াও হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের কল্যাণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৩৬ বছরে যা হয়নি, তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে গত ১৪ বছরে। তাই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাও হজে যেতে পারবেন
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। ছবি: নিউজবাংলা



জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান শেফালী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অসিত কুমার সরকার সজল, পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিরুল ইসলাম, কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক তালুকদার, নেত্রকোণা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মহসিন আলম।

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল ধর্ম প্র‌তিমন্ত্রী ফ‌রিদুল হক খান জানিয়েছিলেন, হ‌জে যাওয়ার জন্য আগে নিবন্ধন করা থাকলেও যা‌দের বয়স ৬৫ পার হ‌য়ে‌ছে তারা এ বছর হ‌জে যে‌তে পার‌বেন না।

এদিন সচিবালয়ে বাংলদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ইসলামিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় নগ‌দের ডিজিটাল লেনদেন নি‌য়ে এক সভা শে‌ষে সাংবা‌দিক‌দের প্র‌শ্নের জবাবে তি‌নি এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে হজ
সহজকে জরিমানার আদেশ স্থগিত আরও দুই মাস
হজে অনিয়ম: ২৬ এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
আবারও সহজের জরিমানা হাইকোর্টে স্থগিত
জরিমানার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে সহজ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Shah Rukh in Makkah to perform Umrah

ওমরাহ করতে মক্কায় শাহরুখ

ওমরাহ করতে মক্কায় শাহরুখ ওমরাহ পালন করছেন শাহরুখ খান। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে শাহরুখকে রিদা ও ইজার পরা অবস্থায় দেখা গেছে। তার মুখ ছিল মাস্ক দিয়ে ঢাকা।

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান সৌদি আরবে আছেন অনেক দিন ধরেই। নতুন সিনেমা ডাঙ্কির শুটিং শেষ করেছেন সেখানে। শুটিং শেষ করতেই কিং খানকে দেখা গেল মক্কাতে। ওমরাহ পালনের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে অনলাইনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শিগগিরই যোগ দেবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে শাহরুখকে রিদা ও ইজার পরা অবস্থায় দেখা গেছে। তার মুখ ছিল মাস্ক দিয়ে ঢাকা। তার সঙ্গে আরও কিছু লোক ছিলেন, যারা তার নিরাপত্তা কর্মী বলে ধারণা করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

ছবিগুলোতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক ভক্ত মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে গেছি। আল্লাহ তাকে এবং তার পরিবারকে খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখুন।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দিলীপ কুমার থেকে আমির খানসহ বেশ কিছু বলিউড সেলিব্রিটি অতীতে হজ ও ওমরাহ পালন করেছেন। শাহরুখ এর আগে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, তিনি মক্কায় যাননি।

শাহরুখ বলেন, ‘হজ অবশ্যই আমার এজেন্ডায় রয়েছে। আমি আমার ছেলে আরিয়ান ও মেয়ে সুহানাকে নিয়ে সেখানে যেতে চাই।’ মক্কায় শাহরুখের সঙ্গে সুহানা আছেন কি না তা এখনও জানা যায়নি।

শাহরুখ খানকে শিগগিরই পাঠান সিনেমায় দেখা যাবে। সিনেমাটি ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া তাকে জওয়ান সিনেমায় দেখা যাবে।

আরও পড়ুন:
ডাঙ্কি’র শুটিং শেষে সৌদিকে শাহরুখের ধন্যবাদ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Harassment of Haj pilgrims will be severely punished Prime Minister

হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী

হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্মেলন-২০২২’ ও ‘হজ ও ওমরাহ ফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো এজেন্সি প্রতারণা বা হয়রানি করলে সে এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যারা হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে।’

হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতারণা বা হয়রানি করলে এজেন্সিগুলোকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্মেলন ২০২২’এবং ‘হজ ও ওমরাহ ফেয়ার’- এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো এজেন্সি প্রতারণা বা হয়রানি করলে সে এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যারা হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে।’

হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী
৪১০ হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে গত ৫ জুন ঢাকা ছাড়ে বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট। ছবি: নিউজবাংলা

হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১ এবং হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে হজ কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আগামীতে যারা হজে যাবেন তাদের হজের পাশাপাশি সৌদি আরবের সমস্ত নিয়ম কানুন এবং আইন সম্পর্কে জানা এবং মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘দেশকে জঙ্গিবাদের হাত থেকে মুক্ত করে পবিত্র ইসলামের শান্তিময় মহিমাকে জাগ্রত রাখার জন্য আমরা জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং আলেম ওলামাদেরকে সম্পৃক্ত করে প্রত্যেক এলাকায় কমিটি করে দেয়া হয়েছে যাতে কারও ছেলেমেয়ে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত না হয় তার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তির ধর্ম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। অথচ এই ধর্মকে কিছু জঙ্গিবাদের কারণে অপমানজনক কথা শুনতে হচ্ছে। আসুন, আমরা সকলে ইসলামের মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্ধকার, অশিক্ষা, বিভেদ, হানাহানি, সন্ত্রাস, কুসংস্কার ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করি; ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী শক্তিকে প্রতিরোধ করি।’

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করে দিচ্ছি। ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও গবেষণা কেন্দ্র থাকবে। ইসলাম ধর্মের মূল কথা মানুষ যেন ভালোভাবে জানতে পারে।

‘মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে মসজিদের ইমামদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কুরআনের শিক্ষা প্রচারের উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় লক্ষ লক্ষ শিশুকে কুরআন শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করেছি।’

আরও পড়ুন:
হজযাত্রী পাঠানোর জাহাজকে প্রমোদতরি বানান জিয়া: শেখ হাসিনা
উন্নয়নের গতি শ্লথ করেছে যুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
উন্নয়নে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
রিজার্ভ আবার চুরি হয় কীভাবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

জীবনযাপন
Raas festival is accompanied by dance and song

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব মণ্ডপে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। ছবি: নিউজবাংলা
মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে জানান, রাখালনৃত্যের মাধ্যমে দুপুরে শুরু হয়েছে রাসলীলা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।

মণিপুরিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব রাসলীলা। ঢাকঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল আর শঙ্খধ্বনির সঙ্গে ব্যাপক আনন্দ উল্লাসের মধ্যদিয়ে রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। মণ্ডপে মণিপুরি শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। মণিপুরি লোকজনের সঙ্গে সবাই মেতে ওঠে এই আনন্দ আয়োজনে।

সাদা কাগজের নকশায় নিপুণ কারুকাজে সজ্জিত করা হয় মণ্ডপগুলো। মহারাত্রির পরশ পাওয়ার জন্য হাজারো মানুষের মিলনতীর্থে পরিণত হয় মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ আর আদমপুরের মণ্ডপগুলোতে।

রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে এই উৎসবে মেতেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মানুষ। এ আয়োজনে রয়েছে জোরদার নিরাপত্তা।

রাস উৎসব মূলত মণিপুরিদের হলেও তা আর তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। জাতিধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সব লোকজনের অংশগ্রহণেই উদযাপিত হয় এই আনন্দ উৎসব।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাখালনৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় এই উৎসব। রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। এই আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কমলগঞ্জে হাজির হয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার হাজারো মানুষ। তাদের পদচারণে সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে মণিপুরি পল্লি। বুধবার ভোরে এ উৎসব শেষ হয়।

উষালগ্নে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, আদমপুরের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মণিপুরি মী-তৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে হয়েছে মহারাসোৎসব।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

রাস উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বসেছে রকমারি আয়োজনে বিশাল মেলা। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাসলীলা উপলক্ষে কমলগঞ্জের তিনটি স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় খই, মুড়ি, বাতাসা, ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ ও প্রসাধনী, শ্রীকৃষ্ণের ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির ছবিসহ বাহারি পণ্য শোভা পাচ্ছে।

মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে মণিপুরিদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বইপত্রের কয়েকটি স্টল।

বাঁশ ও কাগজ কেটে বিশেষ কারুকাজে রাসের মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বসেন রাসধারী বা রাসের গুরু, সূত্রধারী ও বাদকরা। পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে দু’শতাধিক তরুণী এই রাসলীলায় অংশ নিচ্ছেন।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

রাসের সাধারণ ক্রম হচ্ছে- সূত্রধারীর রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা-কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপারেং, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা, আরতি ইত্যাদি।

মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে।

মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে জানান, রাখালনৃত্যের মাধ্যমে দুপুরে শুরু হয়েছে রাসলীলা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।’

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

মণিপুরি সংস্কৃতির গবেষক প্রভাস সিংহ জানান, ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের আয়োজনে মণিপুরিরা প্রথম রাসলীলা পালন করেন। সে সময় মণিপুরি রাজা স্বপ্নাদীষ্ট হয়ে কন্যা লাইরোবিকে রাধার ভূমিকায় অবতীর্ণ করে রাস অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। মৈথিলি ও ব্রজবুলি ভাষার বিভিন্ন পদের মণিপুরি সংগীতের নিজস্ব গায়কী ও মুদ্রা-পদবিক্ষেপে জটিল এবং ধ্রপদি ধারার গীতি-নৃত্যধারায় তা পালন করা হয়েছিল।

মণিপুরিদের আদিভূমি ভারতের মণিপুর থেকে এই রাস উপমহাদেশে তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্যকলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হলেও এর নৃত্যশৈলী বরাবরই সব ধর্ম ও জাতির মানুষকে আকর্ষণ করেছে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব

মন্তব্য

জীবনযাপন
Zakat Fund Management Bill presented in Parliament

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল সংসদে উত্থাপন

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল সংসদে উত্থাপন ফাইল ছবি
বিলে ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাকাত বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদস্য হবেন ধর্মসচিব (ভাইস চেয়ারম্যান); ধর্ম, অর্থ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, সরকার মনোনীত ৫ জন আলেম, এফবিসিসিআইয়ের দুজন প্রতিনিধি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সদস্য সচিব)।

সরকারিভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের বিধান রেখে ‘জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল-২০২২’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক সরকারের আমলে করা আইন ‘জাকাত ফান্ড অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বিলুপ্ত করে নতুন আইন প্রণয়নে এই বিল আনা হয়েছে।

রোববার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলে ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাকাত বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদস্য হবেন ধর্ম সচিব (ভাইস চেয়ারম্যান); ধর্ম, অর্থ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তা, সরকার মনোনীত ৫ জন আলেম, সরকার মনোনীত ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর দুইজন প্রতিনিধি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সদস্য সচিব)। বছরে এই বোর্ডের কমপক্ষে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ডের পরিচালনা ব্যয় বহন করবে সরকার।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, জাকাত সংগ্রহ, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির ক্ষমতা বোর্ডের থাকবে। কমিটি গঠন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে কেন্দ্রীয়, সিটি কপোরেশন, বিভাগ, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কমিটি গঠন করতে পারবে।

জাকাত তহবিল গঠন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে সংগৃহীত জাকাত; প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিক, কোনো বিদেশি মুসলিম বা কোনো সংস্থায় জমাকৃত জাকাতের অর্থ থেকে পাওয়া জাকাত এবং শরিয়াহসম্মত অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া জাকাত। শরিয়াহসম্মত খাত ব্যতীত অন্য কোনো খাতে জাকাতের অর্থ ব্যয় বা বিতরণ করা যাবে না।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাকাত দারিদ্র‍্য বিমোচন ও পুনর্বাসনের হাতিয়ার। জাকাত কএনা স্বেচ্ছামূলক দান নয়, বরং জাকাত ধনীর সম্পদ থেকে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত বাধ্যতামূলকভাবে দেয়া নির্দিষ্ট অংশ। দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জাকাত ব্যবস্থা চালু থাকলেও নানা কারণে তার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছিল না। জাকাতের মাধ্যমে এক সময় সারা মুসলিম জাহানে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হয়েছিল। এই আইন পাস হলে জাকাত তহবিল দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক সরকারের আমলে করা ‘চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৬’ বিলুপ্ত করে নতুন আইন করতে ‘চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
পূর্বাচলের প্লট দ্রুত বুঝিয়ে দেয়া হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
একাদশ সংসদের ২০তম অধিবেশন শুরু
সংসদের ২০তম অধিবেশন বসছে রোববার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Cheebar Danotsav ended with the respect of the devotees

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব বৃহস্পতিবার রাতভর তুলা থেকে সুতা কেটে কাপড় তৈরির পর কঠিন চীবর সেলাই করে তা মাথায় রেখে উৎসর্গ করেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। ছবি: নিউজবাংলা
ত্রি-চীবর হলো চার খণ্ডের পরিধেয় বস্ত্র; যাতে রয়েছে দোয়াজিক, অন্তর্বাস, চীবর ও কটিবন্ধনী। এ পোশাক পরেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পোশাক বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে দেয়া হয়। এই পোশাক তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে তুলার বীজ বোনা হয়। পরে তুলা সংগ্রহ করে তা থেকে সুতা কেটে রং করা হয় গাছের ছাল বা ফল থেকে তৈরি রং দিয়ে। পরে নানা আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তৈরি করা হয় এই ত্রি-চীবর। সেসব পবিত্র চীবর, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাতে তুলে দেয়া হয় কঠোর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে।

লাখো ভক্তের ভক্তি ও শ্রদ্ধায় রাঙামাটি রাজবন বিহারে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে শুরু হয়ে শুক্রবার বিকেলে শেষ হয় এ উৎসব।

এবারের ৪৯তম উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে লাখো পূণ্যার্থী অংশ নেন। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো রাজবন বিহার এলাকা।

দুপুরে কল্পতরু ও কঠিন চীবরকে পুরো বিহার এলাকা প্রদক্ষিণ করিয়ে বের করা হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। পরে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কঠিন চীবর দানোৎসব।

এ উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, ধর্মীয় আলোচনা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, ধর্মীয় সূত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও ফানুস বাতি উৎসর্গসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।

বিহার পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা গেছে, গৌতম বুদ্ধের সময়ে তার প্রধান সেবিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রং করে কাপড় বুনে সেলাই করে বুদ্ধকে দান করেছিলেন।

বিশাখার এই কঠিন চীবর দানের স্মৃতি রক্ষায় ১৯৭৩ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর লংগদুর তিনটিলায় সর্বপ্রথম কঠিন চীবর দানের রীতি প্রবর্তন করেন মহাপরির্নিবাণপ্রাপ্ত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে।

এরপর থেকে প্রতিবছরই বৌদ্ধধর্মালম্বীরা কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন হয়ে আসছে।

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব
ধর্মীয় সভায় তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বিহার থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ভিক্ষুও অংশ নেন

মুন চাকমা ও তুহিন চাকমার পরিচালনায় এবারের চীবর দানোৎসবে পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ ও বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

এ ছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্য সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবর্ত্য আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী।

কোভিড-১৯ উপদ্রব থেকে মুক্তিলাভ ও সারা বিশ্বে মঙ্গল প্রার্থনায় ধর্মীয় সভায় বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন দেওয়ান দীপু, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খাসীসহ অনেকেই।

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব
চীবর দানোৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় লক্ষাধিক পূণ্যার্থী অংশ নেন

ধর্মীয় সভায় বনভান্তের অমৃতসম বাণীর উদ্বৃতি দিয়ে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্মদেশনা দেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির ও কাটাছড়ি রাজবন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির।

ধর্মীয় সভায় তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বিহার থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ভিক্ষুও অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
বৌদ্ধবিহারে হামলা: জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ১৮ নেতাকর্মীর বিচার শুরু
ভাইরাল সেই ভিক্ষু কি মৃত্যুর পরেও জীবিত!
প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর মৃত্যু
রাঙামাটিতে নতুন বৌদ্ধ বিহার
বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় আটক ২

মন্তব্য

p
উপরে