× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Young people suffering from stroke are also more vulnerable to delay in treatment
hear-news
player
google_news print-icon

স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন যুবকেরাও, চিকিৎসায় দেরিতে ক্ষতি বেশি

স্ট্রোকে-আক্রান্ত-হচ্ছেন-যুবকেরাও-চিকিৎসায়-দেরিতে-ক্ষতি-বেশি
প্রতীকী ছবি
ইদানীং ৩০ বয়সের নিচে রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে, যাদের বেশির ভাগের খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর ছিল না। আবার আক্রান্ত হওয়ার ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে না নেয়ায়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম থাকায় স্ট্রোকের লক্ষণগুলো তারা বুঝতে পারে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে গত তিন মাসে স্ট্রোকের রোগী ভর্তি হয়েছেন আড়াই শর বেশি। এর আগে কখনও এত বেশি রোগীর দেখা মেলেনি। অন্য বছর প্রতি তিন মাসে রোগী থাকত এক শর আশপাশে।

রোগীর সংখ্যা লাফ দেয়ার পাশাপাশি আরও একটি বিষয় ভাবিয়ে তুলেছে সেখানকার কর্মীদের। সেটি হলো কম বয়সীরাও ভর্তি হতে আসছেন সেখানে।

সিআরপির ফিজিওথেরাপি বিভাগের কনসালট্যান্ট ফারজানা শারমিন জানিয়েছেন, গত তিন মাসে আসা রোগীদের মধ্যে ৮ জনের বয়স ৩০ বছরের কম। ৫ জনের বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে, আরও ৮ জনের বয়স ৫০-এর ঘরে। এই বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা নতুন।

সিআরপির একজন চিকিৎসক জানান, রোগীদের ইতিহাস পর্যালোচনা করে তারা জেনেছেন, এই কম বয়সীদের খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর ছিল না। তারা বাইরের তৈলাক্ত খাবার বেশি পছন্দ করতেন। তা ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম করতেন কম।

স্ট্রোকের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসালয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, তাদের এখানে ৫০০টি শয্যার মধ্যে ৩০০টি বরাদ্দ স্ট্রোকের রোগীদের জন্য। এসব শয্যার প্রতিটিতে রোগী ভর্তি আসছে। ইদানীং রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। তাদের ভর্তি করাতে না পেরে অন্য হাসপাতালে পাঠান তারা।

২০১৮ সালে করা একটি গবেষণায় বলছে, দেশে প্রতি হাজার রোগীর মধ্যে ১১ দশমিক ৩৯ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত। হাসপাতালের ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ওপর জরিপের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে এসেছে তারা।

বাংলাদেশের মতো গোটা বিশ্বেই স্ট্রোক মানুষের মৃত্যুর একটি বড় কারণ। বিশ্বে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মানুষ প্রতিবছর এতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।

মানুষের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় যেসব কারণে, তার মধ্যে স্ট্রোকের অবস্থান তৃতীয়। এতে আক্রান্ত হওয়ার পর যারা জীবিত থাকেন তারা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন।

স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহে বাধা ঘটে এবং এতে মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু হয় তাই পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি কার্যক্ষমতা হারায়।

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিরাজী শাফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেয়া জরুরি। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা দেয়া না গেলে রোগীর ক্ষতি বেশি হয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম থাকায় রোগী আসে দেরিতে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় না আর তাই সঠিক চিকিৎসাও পায় না। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি এবং ক্যাম্পেইন করছি যেন মানুষ এগুলো সম্পর্কে জানে।’

এই সচেতনতার জোর দিয়ে শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘না করলে সময়ক্ষেপণ, স্ট্রোক হলেও বাচঁবে জীবন।’

লক্ষণ কী কী

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্রথমেই কথা জড়িয়ে যায়। হাত-পা একদিকে অবশ হয়ে যায়। হাঁটতে গিয়ে তিনি হঠাৎ পড়ে যেতে পারেন বা কাজ করতে গিয়ে টেবিলে পড়ে যেতে পারেন।

হঠাৎ করে রোগী অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে বা কাজে অমনোযোগীও হয়ে যেতে পারে। আবার এমন হতে পারে হাঁটতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন।
চিকিৎসকেরা এই লক্ষণগুলোকে সংক্ষেপে BE FAST বলে থাকেন।

এখানে B মানে Balance, অর্থাৎ ভারসাম্য রাখতে না পারা।

E মানে Eye, অর্থাৎ হঠাৎ চোখে দেখতে না পাওয়া।

F মানে Face, অর্থাৎ মুখ যদি একদিকে বেঁকে যায়।

A মানে Arm, অর্থাৎ হাত অবশ হয়ে যাওয়া।

S মানে Speed, অর্থাৎ গতি কমে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।

T মানে Time, অর্থাৎ যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া।

অধ্যাপক শিরাজী জানান, স্ট্রোক দুই ধরনের হয়। ১. রক্তনালি ব্লক হয়ে যায়, ২. মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ।

তিনি বলেন, লক্ষণগুলো দেখা দিলে যদি সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া যায়, তাহলে তাকে একটি ইনজেকশন দিতে হয়। এর নাম অ্যাল্টিপ্লেস।

যদি কোনো রোগীর মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ ব্লক হয়ে যায় তাহলে এই ইনজেকশনে বন্ধ রক্তনালি খুলে যাবে। এতে স্ট্রোকের প্যারালাইজড থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। স্ট্রোক দুই ধরনের হয়।

সাড়ে চার ঘণ্টা পার হলে কী করবেন

রোগীকে হাসপাতালে নিতে সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গেছে কী হবে?

অধ্যাপক শিরাজী বলেন, ‘সে ক্ষেত্রেও চিকিৎসা হতে পারে। এটি অনেক দেশেই চালু রয়েছে। ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, আমেরিকায় সাড়ে চার ঘণ্টা পার হলেও স্ট্রোকের ট্রিটমেন্ট দেয়া যায়। এখন বাংলাদেশেও আমরা সেটি চালু করে করেছি।

‘এ ক্ষেত্রে এই রোগীকে এনজিওগ্রাম করে ব্রেনের ভেতর থেকে ওই জমাট রক্ত বের করে আনা হয়। এই বের করে আনার পদ্ধতিকে বলে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি। এটি লক্ষণ দেখা দেয়ার ৯ ঘণ্টার মধ্যে করা হয়। এই চিকিৎসা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স হসপিটালে রয়েছে। ইউনাইটেড হসপিটালেও আমরা চালু করতে যাচ্ছি।’

স্ট্রোকের যেসব কারণ

অধ্যাপক শিরাজী জানান, উচ্চ রক্তচাপ, বেশি কোলেস্টেরল বা চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলে ডায়াবেটিস বা মদ্যপান, ধূমপান, তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি এর কারণ। স্ট্রোকে সাধারণত ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

যেমন বয়স ৪০-এর বেশি হলে পারিবারিক ইতিহাস থাকলে অর্থাৎ মা, খালা, বাবা, চাচা, এদের আগে স্ট্রোক হয়ে থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে বয়স যদি ৪০-এর নিচেও হয় এবং তার কোনো রোগ না থাকে, তারপরেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

শিশু বা গর্ভবতী মায়েরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হযতে পারেন। যেসব শিশু আক্রান্ত হয় তাদের সাধারণত জন্মগত ত্রুটি থাকে অর্থাৎ তাদের মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো জন্মগতভাবে ত্রুটিযুক্ত থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি চিকন হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়।

স্ট্রোকের আরেকটি কারণ হৃদরোগ বলে জানান চিকিৎসকেরা।

জন্মনিরোধক পিল ও ইনজেকশন স্ট্রোকের আরেকটি কারণ হতে পারে। যারা এই পিল ও ইনজেকশন নেন, তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাদের রক্ত ঘন থাকে এবং কম বয়সে স্ট্রোক হতে পারে।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নারীরা কোন পিল খাবেন, কীভাবে নিরাপদে খাবেন বা খাবেন কি না, সেটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে। নিরাপদ হচ্ছে 'কপার্টি' ব্যবহার করা। এটি একটি ডিভাইস যা জরায়ুর মধ্যে রেখে দেয়া হয়। এটি ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া ছেলেদের কনডম ব্যবহার করতে হবে।

সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা হলে পানিস্বল্পতা এবং অপারেশনের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ থেকেও স্ট্রোক হতে পারে। সাধারণত সিজার হওয়ার ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। তাই সিজারের পর পানি খেতে হবে বেশি।

মাইল্ড স্ট্রোক বলতে কিছু নেই

অধ্যাপক শিরাজী বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বলি মাইল্ড স্ট্রোক করেছে। কিন্তু আমরা কোনটাকে মাইন্ড স্ট্রোক ধরে নেব? এ রকম সুনির্দিষ্ট কোনো টার্ম নেই।

‘মাইল্ড বা সিভিয়ার এমন কোনো মেডিক্যাল টার্ম স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। সাধারণত কম ক্ষতি হলে অনেকে বলেন মাইন্ড বা ছোটখাটো স্ট্রোক। যদি পুরো শরীর অবশ হয়ে যায় বা প্যারালাইজড হয়ে যায় অথবা বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যায়, তখন সিভিয়ার স্ট্রোক বলে। কিন্তু মেডিক্যালের ভাষায় স্ট্রোকের আলাদা কিছু নেই। ফলাফল সব ক্ষেত্রে প্রায় কাছাকাছি।’

সিআরপির ফিজিওথেরাপির বিভাগীয় প্রধান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাধারণত দুই ধরনের স্ট্রোক রয়েছে। ১. মস্তিষ্কের রক্ত সংরোধজনিত এবং অন্যটি রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক। দুই কারণেই মস্তিষ্কের কিছু অংশ ঠিকমত কাজ করতে পারে না।’

স্ট্রোকের ঝুঁকি রোধে করণীয় ও ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব

চিকিৎসকেরা জানান, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান ঠিক রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ২০১৪ সালে স্ট্রোক প্রতিরোধের কিছু নিয়ম প্রকাশ করেছে। যেমন উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জানা এবং নিয়ন্ত্রণ করা। ধূমপান না করা এবং ভারী মদ্যপান না করা বা বিরত থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা।

এ ছাড়া শাকসবজি বেশি খাওয়া, মাখন বা ঘি কম খাওয়া, খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কমানো, রক্তে কোলেস্টরেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, শরীরের ওজন ঠিক রাখা, দুশ্চিন্তা না করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:
স্ট্রোক মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
কম বয়সীদের স্ট্রোক বাড়ছে
বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
BNP can cause chaos

‘বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে’

‘বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভা। ছবি: নিউজবাংলা
‘আন্দোলন ও সমাবেশের নামে বিএনপি নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা ভয়াবহ নাশকতা করতে পারে। আমার ধারণা, তারা কৌশলে খালেদা জিয়াকে জনসভায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করবে। তাদের অতীত বিবেচনায় এসব বিষয় নাকচ করা যায় না।’

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের জনসভায় খালেদা জিয়াকে নিয়ে গিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে। নয়াপল্টনে জনসভা ডাকার পেছনে তাদের দুরভিসন্ধি আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার বিকেলে ‘নৈরাজ্য-নাশকতা-বিশৃঙ্খলা: উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধান বাধা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্দোলন ও সমাবেশের নামে বিএনপি নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা ভয়াবহ নাশকতা করতে পারে। আমার ধারণা, তারা কৌশলে খালেদা জিয়াকে জনসভায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করবে। তাদের অতীত বিবেচনায় এসব বিষয় নাকচ করা যায় না।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি এদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেও বিতর্কিত করেছে। আবার তারা সে ব্যবস্থা চায়, যা কোনদিন আর সম্ভব হবে না।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া, অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেন, অধ্যাপক ড. বিমান বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, রেহান সোবাহান, ডা. শাহেদ ইমরান, কাজী মো. জহিরুল কাইয়ুমসহ পরিষদের নেতারা।

আরও পড়ুন:
‘খেলা হবে’র সমালোচনায় রাজনীতিবিদরা
বিএনপির আট সমাবেশের সমান জমায়েত পলোগ্রাউন্ডে: কাদের
১০ ডিসেম্বর কী হবে, জানালেন ফখরুল

মন্তব্য

জীবনযাপন
Corona detection is hovering around zero

করোনা শনাক্ত ঘুরছে শূন্যের কোঠায়

করোনা শনাক্ত ঘুরছে শূন্যের কোঠায় সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমেছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১২ জন ঢাকার বাসিন্দা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে এসেছে। সারাদেশে ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছে ১৫ জন রোগী। এসময় করোনা শনাক্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১২ জন ঢাকার বাসিন্দা।

দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৪ জনের।

গত ২৪ ঘন্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৫৬ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ১০৭ জন।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর মোট পাঁচটি ঢেউ মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশকে। পঞ্চম ঢেউয়ে শনাক্ত ও মৃত্যু তুলনামূলক কম। বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রণের পথে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
করোনায় শনাক্ত ২৩
করোনা: শনাক্ত কমে ২০
করোনা শনাক্ত শূন্যের কোঠায়
করোনা শনাক্ত ঘুরছে শূন্যের কোঠায়

মন্তব্য

জীবনযাপন
Hatil wants to increase the export market

রপ্তানির বাজার বাড়াতে চায় হাতিল

রপ্তানির বাজার বাড়াতে চায় হাতিল হাতিল ফার্নিচারের অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা
‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে আমাদের ফার্নিচার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এটা ৩৯ শতাংশ বেশি। সম্ভাবনাময় এই খাতের উন্নয়নের গতি এখনও মন্থর।’

দেশের বাজারে ক্রেতাদের আসবাবের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির বাজার বাড়াতে চায় হাতিল ফার্নিচার।

রাজধানীতে শনিবার ডিলার্স কনফারেন্স করে হাতিল। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘করোনা মহামারী মোকাবিলা করে দেশের ফার্নিচার শিল্প সফলতার সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে আছে সরকারের আন্তরিকতা, ফার্নিচার শিল্পের উদ্যোক্তাদের নিষ্ঠা এবং দেশের ক্রেতা-সাধারণের অকুন্ঠ সমর্থন।

‘বিশ্ববাজারে শিল্পখাতটির যে বিপুল সম্ভবনা, তার খুব সামান্য অংশের বাস্তবায়ন ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে ফার্নিচার ব্যবহারের ট্রেন্ড দেখলে বোঝা যায় প্রতিবছর মার্কেট বড় হচ্ছে। ২০২১ সালে গ্লোবাল ফার্নিচার মার্কেটের সাইজ ছিল প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে এই মার্কেটর সাইজ ধারণা করা হয় প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার।’

হাতিল চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে আমাদের ফার্নিচার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এটা ৩৯ শতাংশ বেশি। সম্ভাবনাময় এই খাতের উন্নয়নের গতি এখনও মন্থর।’

অনুষ্ঠানে হাতিলের পরিচালক মাহফুজুর রহমান, মিজানুর রহমান, মশিউর রহমান এবং সফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

হাতিল একমাত্র বাংলাদেশি ব্র্যান্ড যাদের বিদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক আউটলেট আছে। দেশব্যাপী ৭০টির অধিক শো-রুমের মাধ্যমে কোম্পানিটি ক্রেতাদের সমসাময়িক আসবাবের চাহিদা মেটাচ্ছে। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।

সম্প্রতি ভারতে চালু হয়েছে হাতিলের ২৮তম শোরুম। ভারতের মিজোরাম, মণিপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীর এবং চণ্ডিগড়সহ বিভিন্ন রাজ্যে শোরুম আছে তাদের। পাশাপাশি ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দুটি শোরুম আছে। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ইউরোপেও ফার্নিচার রপ্তানি করে হাতিল।

আরও পড়ুন:
হাতিলের শোরুম মতিঝিলে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Why the December 10 rally to start the killing of intellectuals Prime Minister

বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরুর ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ কেন: প্রধানমন্ত্রী

বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরুর ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ কেন: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এ দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল। ১০ ডিসেম্বর সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের হত্যা করা হয়। অর্থাৎ এই দিনে বুদ্ধিজীবী হত্যার মিশন শুরু হয়। এ কারণেই এই তারিখ বিএনপির এত প্রিয়।’

মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দোসর আলবদর বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ শুরু করে জানিয়ে এই তারিখে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ ডাকার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, এই তারিখটা আসলে বিএনপির প্রিয় সেই হত্যাযজ্ঞের কারণে।

বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের দল আখ্যা দিয়ে তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগপ্রধান। আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার সরকারকে ক্ষমতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।

রোববার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন। এটি গত ১০ দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যার দ্বিতীয় সমাবেশ। গত ২৪ নভেম্বর তিনি যশোরে একটি জনসভায় অংশ নেন।

চট্টগ্রামের কথা সব সময় মনে পড়ে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বাবা জেল থেকে বের হলেই চট্টগ্রামে নিয়ে আসতেন। করোনার কারণে দীর্ঘ সময় আসতে পারেনি তাই আজ হাজির হয়েছি।’

ভাষণের শুরুতেই দলীয় নেতা-কর্মী ও সর্বসাধারণের উদ্দেশে স্থানীয় ভাষায় সম্ভাষণ করেন। বলেন, ‘অনারা ক্যান আছন, গম আছননি?’

এ সময় নেতা-কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

গত ৮ অক্টোবর এই ময়দানেই বিএনপির ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশের শুরু, যার অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা আসে। সেই পলোগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার এই সমাবেশ ঘিরে আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ ছিল বিপুল জনসমাগমের। সেই চ্যালেঞ্জে দৃশ্যত তারা সফল। বিশাল ময়দান ছাড়িয়ে নেতা-কর্মীদের ভিড় ছড়ায় আশপাশের এলাকায়।

বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরুর ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ কেন: প্রধানমন্ত্রী

বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা গায়ে নানা রঙের রঙিন জামা, মাথায় ক্যাপ পরে জনসভায় যোগ দিতে আসেন। বিভিন্ন ইউনিটের রঙিন পোশাকের বর্ণিল রঙে সাজে পুরো মাঠ ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক।

ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের নৌকা প্রতিকৃতির ওপর নির্মাণ করা হয় বিরাট মঞ্চ। লাল-নীল, সবুজ, সাদা, হলুদসহ নানা রঙের বেলুনে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো মাঠ।

নিরাপত্তার জন্য বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে কয়েক স্তরে ভাগ করা হয় জনসভা মাঠকে। মঞ্চ ও মঞ্চের আশপাশের ব্লকগুলোতে ছিল বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্যে বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর নাকি তারা ঢাকা অচল করে দেবে। ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এ দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল। ১০ ডিসেম্বর সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের হত্যা করা হয়। অর্থাৎ এই দিনে বুদ্ধিজীবী হত্যার মিশন শুরু হয়। এ কারণেই এই তারিখ বিএনপির এত প্রিয়।’

বিএনপি-জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধীদের দল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, ‘ওদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। ওরা যাতে দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জামায়াত-বিএনপিকে দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আপনারা ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবেন।’

‘বিএনপির দুই গুণ, ভোট চুরি আর মানুষ খুন’

শেখ হাসিনা কথা বলেন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন নিয়ে, যেটি বর্জন করে আওয়ামী লীগসহ সে সময়ের বিরোধী দলগুলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু বাংলার জনগণ তা মেনে নেয়নি, তাকে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিল।’

‘ভোট চুরি করেছিলেন বলেই খালেদা জিয়া ও বিএনপি ভোটে আসতে ভয় পায়’ বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘তারা আসলে গণতন্ত্রকে ভয় পায়, গণতান্ত্রিক ধারায় ক্ষমতায় যেতে চায় না। ভোটে জিতবে না বলেই তারা এমন কাউকে চায়, যারা নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।’

বিএনপি আওয়ামী লীগের লাখো নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এদেশে জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপির দুই গুণ, ভোট চুরি আর মানুষ খুন।’

বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরুর ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ কেন: প্রধানমন্ত্রী

এরশাদ সরকারের আমলে লালদীঘির সামনে ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারির জমায়েতের শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে যে গুলি করা হয়, সেই ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন। বলেন ‘সেই হত্যাকারী পুলিশ অফিসারকে প্রমোশন দেয়া হয়।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তার দল কল্যাণে কাজ করে, দেশের জন্য কাজ করে। কিন্তু বিএনপির কাজ হলো মানুষ খুন করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা লুটপাট ও অর্থ পাচার করা, মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্ত করা। তারা মানুষের শান্তি চায় না।

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) মানুষের শান্তি চায় না। তারা ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করেছে, জিয়াউর রহমান যখন মারা যান তখন ৪০ দিন পর্যন্ত শুনেছিলাম জিয়াউর রহমান নাকি কিছু দিয়ে যাননি ভাঙা একটা স্যুটকেস ছাড়া। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেই হাওয়া ভবনের নামে এত টাকা কই পেলেন? ভাঙা স্যুটকেসে কী জাদু ছিল?’

জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে টাকা এসেছে এতিমের জন্য। সেই টাকা এতিমের হাতে আর যায়নি। সব নিজেরা পকেটস্থ করেছে।

‘২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হয়েছে আর সেই মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছে। টাকা চুরি করেছে বলেই সে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার (খালেদা জিয়া) ছেলে একটা তো মারা গেছে। যে অর্থ পাচার করেছিল, সিঙ্গাপুর থেকে কিছু অর্থ আমরা উদ্ধার করে আনতে পেরেছি। আরেকজন এখন লন্ডনে বসে আছে। ২০০৭ সালে কেয়ারটেকার সরকারের কাছে আর কোনো দিন রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়েছিল। এখন সেখানে রাজার হালে থাকে আর দেশের ভেতরে যত বোমাবাজি, খুন-খারাবি, নাশকতা পরিচালনা করে।’

বিএনপির অতীতের আন্দোলনে প্রাণহানির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ারা পারে মানুষ হত্যা করতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা মানুষ হত্যা করেছিল, এজন্যই পাকিস্তানি দোসর বিএনপি-জামায়াত মিলে মানুষ হত্যা করেছে। বাসে আগুন, লঞ্চে আগুন দিয়ে তারা মানুষ হত্যা করেছে। চারিদিকে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে তারা, তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন।’

রিজার্ভের পতন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যখন ক্ষমতায় আসি তখন রিজার্ভ মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছিলাম। আমরা বাংলাদেশে বিনা মূল্যে টিকা দিয়েছি। রিজার্ভের টাকা মানুষকে দিয়েছি, ওষুধ কিনেছি, ভ্যাকসিন কিনেছি। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। করোনা পরীক্ষা বিনা মূল্যে করিয়েছি। জনগণের কথাই আমরা ভাবি, তাদের কল্যাণেই কাজ করি ‘

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছন মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

সভা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির।

২৯ প্রকল্প উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী জনসভা থেকে ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চারটির। এসব উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ব্যয় ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নদী ও সমুদ্রতীরের বাধ, বিদ্যালয় ভবন, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, নারীদের জন্য আবাসন, প্রশিক্ষণ ভবন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প;

সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি ও রাউজানে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; নাসিরাবাদে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ দপ্তর সংস্কার ও আধুনিকায়ন; নগর ও উপজেলার ১৪টি বিদ্যালয়ের ভবন; মীরসরাই ও লোহাগাড়ায় ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র; হর্টিকালচার সেন্টারের প্রশিক্ষণ ও অফিস ভবন ইত্যাদি।

মন্তব্য

জীবনযাপন
In the middle of December the severe cold will come in January

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ মধ্য ডিসেম্বরে

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ মধ্য ডিসেম্বরে
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের শীতের প্রধান মাস হচ্ছে জানুয়ারি। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হয় তাপমাত্রার পতন। এ সময় তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে। তবে সেটি ৮ থেকে ১০-এর মধ্যেই থাকবে। এরপর জানুয়ারিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হতে পারে। তখন তাপমাত্রা নামবে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে।’

অগ্রহায়ণের ১৯ দিন কেটে গেলেও নগরীতে এখনও নামেনি শীতের প্রকোপ। তবে দেশের উত্তরাঞ্চল ও গ্রামগুলোতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পৌষের শুরুতে (১৬ ডিসেম্বর) দেশের তাপমাত্রা কমতে থাকবে, জেঁকে বসবে শীত। তখন মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ছিল তেঁতুলিয়ায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বোচ্চ ছিল কক্সবাজারে ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মধ্য ডিসেম্বরের পর থেকে অর্থাৎ পৌষের শুরু থেকে দেশের সব অঞ্চলের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও দেশের সব অঞ্চলের তাপমাত্রা একসঙ্গে কমতে শুরু করেনি। তবে এই মাসেই দেশে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। ডিসেম্বরের ২০ তারিখের পর এই শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শীতের প্রধান মাস হচ্ছে জানুয়ারি। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হয় তাপমাত্রার পতন। এ সময় তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে। তবে সেটি ৮ থেকে ১০ এর মধ্যেই থাকবে। এরপর জানুয়ারিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হতে পারে। তখন তাপমাত্রা নামবে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মাস মেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে ১টি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে। তবে এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

এ মাসের শেষার্ধে দেশের কোথাও কোথাও ১ থেকে ২টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ মাসে দেশের নদী অববাহিকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে।

আর জানুয়ারির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে দেশে ২ থেকে ৩টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে ২টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রূপ নিতে পারে।

এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি/ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা/মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ
‘বেশি শীত হলে খড়-পাতা জ্বালায় দিন কাটামো’
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ
নভেম্বরেও তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়, শীত নামবে মধ্যভাগে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Loss of GDP due to air pollution is at least 4 and a half percent

বায়ুদূষণে জিডিপির ক্ষতি অন্তত সাড়ে ৪ শতাংশ

বায়ুদূষণে জিডিপির ক্ষতি অন্তত সাড়ে ৪ শতাংশ বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে ২০১৯ সালে প্রায় ৭৮ হাজার ১৪৫ থেকে ৮৮ হাজার ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফাইল ছবি
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন বলেন, ‘বায়ুদূষণ শিশু থেকে বয়স্ক সবার জীবনকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ দূষণের কারণে এই দেশে ২০১৯ সালে প্রায় ৭৮ হাজার ১৪৫ থেকে ৮৮ হাজার ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে জিডিপিতে ক্ষতি হয়েছে ৩.৯ থেকে ৪.৪ শতাংশ।’

বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুতে বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৯ থেকে ৪.৪ শতাংশ ক্ষতি হয়, এমনটি উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন। বিশ্ব সংস্থাটির ওয়েব সাইটে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থার এই প্রতিনিধি বলেন, ‘বায়ুদূষণ শিশু থেকে বয়স্ক সবার জীবনকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ দূষণের কারণে এই দেশে ২০১৯ সালে প্রায় ৭৮ হাজার ১৪৫ থেকে ৮৮ হাজার ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে জিডিপিতে ক্ষতি হয়েছে ৩.৯ থেকে ৪.৪ শতাংশ।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আসায় শ্বাসকষ্ট, কাশি, শ্বাসনালির সংক্রমণসহ বিষণ্নতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে গেছে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও বয়স্ক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্তরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের টেকসই এবং সবুজ উন্নয়নের জন্য বায়ুদূষণ মোকাবেলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণমূলক কাজ এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বায়ুদূষণ কমাতে সাহায্য করছে।’

দেশের ভেতরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্ষতিকর বস্তুকণার (পিএম-টু পয়েন্ট ফাইভ) ঘনত্ব ডব্লিউএইচওর সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে অনেক ওপরে। দেশে সবচেয়ে বেশি দূষিত বিভাগ ঢাকা এবং সবচেয়ে কম দূষণ সিলেট বিভাগে।

২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর হিসেবে স্থান পায় ঢাকা। পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ​​চট্টগ্রাম বিভাগের চেয়ে বেশি দূষিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে এমন সব জায়গায় এবং যেখানে যানজট বেশি যেসব স্থানে বায়ুদূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ। ডব্লিউএইচওর সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে এসব স্থানে দূষণ ১৫০ শতাংশের বেশি।

এই মাত্রার দূষণযুক্ত স্থানে অবস্থান করলে তা মানব শরীরের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুটি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিসাধন করে।

গত ২১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখানো হয়, বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে আবারও প্রথম অবস্থানে বাংলাদেশ। শহরগুলোর তালিকায় রাজধানী ঢাকা রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।

বিশ্বের ১১৭টি দেশের ৬ হাজার ৪৭৫টি শহরের বায়ুমানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কেবল ৩ শতাংশ শহর প্রত্যাশিত বায়ুমান বজায় রাখতে পারলেও সব দেশই সেই মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত
হর্নবিরোধী অভিযানে দুই নীতি নিয়ে তোপের মুখে ম্যাজিস্ট্রেট
নদী দূষণে বার্ষিক ক্ষতি ২৮৩ কোটি ডলার
বায়ুদূষণ: দিল্লির মানুষের আয়ু কমছে ১০ বছর

মন্তব্য

জীবনযাপন
New officers will be soldiers of forty one Prime Minister

নবীন অফিসাররাই হবে একচল্লিশের সৈনিক: প্রধানমন্ত্রী

নবীন অফিসাররাই হবে একচল্লিশের সৈনিক: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর বিএমএতে রোববার সকালে ৮৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি প্যারেডে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সেই সঙ্গে চাই, আজকে যারা নবীন অফিসার, আমরা যেহেতু ২০২১ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের আজকের নবীন অফিসাররাই হবে একচল্লিশের সৈনিক, যারা এই বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।’

সেনাবাহিনীর নবীন কর্মকর্তারাই ২০৪১ সালের সৈনিক হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে (বিএমএ) রোববার সকালে ৮৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি প্যারেডে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যে বাংলাদেশের অবস্থান শান্তির পক্ষে বলে জানান সরকারপ্রধান। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের একচল্লিশের সৈনিক হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। জাতির পিতাই বলেছেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ আমরা তা যথাযথভাবে মেনে চলছি। সেভাবেই আমরা আমাদের দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

নবীন অফিসাররাই হবে একচল্লিশের সৈনিক: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রাপ্তির প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি সেই সঙ্গে চাই, আজকে যারা নবীন অফিসার, আমরা যেহেতু ২০২১ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

‘আমাদের আজকের নবীন অফিসাররাই হবে একচল্লিশের সৈনিক, যারা এই বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।’

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার প্রসঙ্গটিও উঠে আসে তার বক্তব্যে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করার পরই ১৯৭৫ সালের পরে যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হারিয়ে যেতে বসেছিল বা বিকৃত করা হয়েছিল, তা পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং আদর্শে যাতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে ওঠে, সেই পদক্ষেপ আমরা নিই। সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিই।’

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী করার জন্য সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তিনটি নতুন ডিভিশন, তিনটি ব্রিগেড, ৫৮টি ইউনিট আমরা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আর্মি অ্যাভিয়েশন ফরোয়ার্ড বেজ এবং লালমনিরহাটে অ্যাভিয়েশন স্কুল নির্মাণের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তা ছাড়া মিঠামইন, রাজবাড়ী ও ত্রিশালে সেনানিবাস গড়ে তোলা হচ্ছে।

‘মাওয়া ও জাজিরা, আমাদের যে পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করেছি, সেই পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য শেখ রাসেল সেনানিবাসও আমরা গড়ে তুলি।’

সেনাবাহিনীতে নতুন কম্পোজিট ব্রিগেড ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড যুক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বাহিনীর জন্য আমরা অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ করেছি।’

সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিতে পরিণত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে আমাদের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ মানের ডিগ্রিও যেন অর্জন করতে পারে, সে পদক্ষেপও নিয়েছি।’

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তির মাধ্যমে আপনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। আজকে শপথের মধ্য দিয়ে আপনাদের ওপর যে দেশমাতৃকার, মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হলো, যথাযথভাবে সেটা পালন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আরও পড়ুন:
যুদ্ধ বন্ধে সংলাপে বসুন: প্রধানমন্ত্রী
জঙ্গি ইস্যুসহ সচিবদের একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত ‘জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতায়’
সংকট মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা চান প্রধানমন্ত্রী
খাদ্য মজুত ১৫ লাখ টনের নিচে না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

মন্তব্য

p
উপরে