× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Soil given to forbidden women is also mixed in the Durga statue
hear-news
player
google_news print-icon

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

নিষিদ্ধ-নারীদের-দেয়া-মাটিও-মিশে-আছে-দুর্গা-প্রতিমায়
পুরান ঢাকার প্রতিমা শিল্পী বলাই পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেবীর প্রতিমা তৈরিতে পাঁচ ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে যৌনপল্লীর মাটিও রয়েছে। যেসব জায়গায় অনেক আগে যৌনকর্মীরা থাকত সেখানকার মাটি আমরা সংগ্রহ করে রাখি। প্রতিবছর প্রতিমা তৈরিতে সেগুলো ব্যবহার করি।’

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন। এই সার্বজনীনতা শুধু উৎসবে সবার অংশগ্রহণেই সীমিত নয়, দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণও সংগৃহীত হয় নানা জায়গা থেকে।

প্রতিমা তৈরি ও পূজায় ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা মাটি। সমাজের একদম প্রান্তিক অবস্থানে থাকা এবং মূল সমাজে ‘নিষিদ্ধ’ যৌনকর্মীদের দানের মাটিও মিশে আছে প্রতিমা ও দেবী বন্দনায়।

প্রতিমা শিল্পী ও পূজা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, চণ্ডী পুরাণের নির্দেশনা অনুসারে দেবী দুর্গার প্রতিমা বানানো ও পূজা করা হয়। সেখানে ‘বেশ্যাদ্বার’ বা যৌনপল্লীর মাটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

পুরান ঢাকার বাংলাবাজার জমিদার বাড়ির প্রতিমা তৈরি করেছেন বলাই পাল। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেবীর প্রতিমা তৈরিতে পাঁচ ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে যৌনপল্লীর মাটিও রয়েছে।’

ঢাকার শিল্পীরা কোথা থেকে এই মাটি সংগ্রহ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব জায়গায় অনেক আগে যৌনকর্মীরা থাকত সেখানকার মাটি আমরা সংগ্রহ করে রাখি। প্রতিবছর প্রতিমা তৈরিতে সেগুলো ব্যবহার করি।’

ঢাকায় আগে ইংলিশ রোড ও কুমারটুলি এলাকায় যৌনকর্মীরা থাকতেন উল্লেখ করে এই প্রতিমা শিল্পী বলেন, ‘আমরা সেখানকার মাটি সংগ্রহ করে রেখেছি। সেই মাটি অল্প পরিমাণে প্রতিমায় ব্যবহার করি।’

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

ঢাকার সিদ্ধেশরী কালী মন্দিরের পুরোহিত ননী গোপাল গাঙ্গুলি অবশ্য দাবি করছেন প্রতিমায় যৌনকর্মীদের বসতির মাটি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এই মাটি পূজার ঘট বসাতে অবশ্যই প্রয়োজন।

ননী গোপাল গাঙ্গুলি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মায়ের (দুর্গা) প্রতিমা তৈরিতে এই মাটি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রতিমার সামনে ঘট বসানোর জন্য আটটি স্থানের মাটি লাগে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা (মাটি)।

‘এই মাটি ছাড়া পূজা করার কোন অর্থ নেই। এটা বাধ্যতামূলক।’

অন্য সাতটি জায়গার মাটির বিষয়ে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো হলো গজদন্ত মৃত্তিকা (হাতির দাঁতে লেগে থাকা মাটি), পর্বতের মৃত্তিকা, নদীর দুই ধারের মৃত্তিকা, গঙ্গার দুই কূলের মৃত্তিকা, চৌমাথার মৃত্তিকা, রাজবাড়ির মৃত্তিকা, সাগরের নীচের মৃত্তিকা।’

তবে এসব মাটির সবগুলো বাংলাদেশে সব সময় পাওয়া যায় না বলেও জানান এই পুরোহিত।

তিনি বলেন, ‘পূজায় এখন যা ব্যবহার করা হয় তার সবই আসে ভারত থেকে। কলকাতা থেকে এগুলো নিয়ে আসা হয়। মূলত ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকায় পূজার সব উপকরণ বিক্রি করা হয়। সেখান থেকেই সবাই কিনে নিয়ে পূজায় ব্যবহার করেন।’

দুর্গাপূজায় এসব বিশেষ মাটি ব্যবহারের কথা চণ্ডী পুরাণ, বিষ্ণু পুরান, পুরোহিত পার্বণ, ব্রহ্মপুরাণে উল্লেখ আছে বলে জানান পুরোহিত ননীগোপাল।

বাংলাদেশ সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি বিশেষ স্থানের (যৌনপল্লী) মাটি লাগে। এটা কমবেশি সবাই মেনে আসছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও এই নিয়ম মানা হয় বলেই আমি জানি।’

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

তবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী সুকুমার পালের দাবি, তিনি বৈষ্ণব রীতি মেনে চলেন। এই রীতিতে দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে যৌনপল্লীর মাটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়।

ফরিদপুরের মধুখালীর পুরোহিত শংকর কুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, দুর্গা প্রতিমায় যৌনকর্মীদের বসতিসহ বেশ কয়েকটি জায়গার মাটি ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। তবে সেই মাটি পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় বলে অনেকে অন্য পদ্ধতি অনুসরণ করেন।

শংকর কুমার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন সব জায়গার মাটি পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। তাই আমরা শাস্ত্রমতে মন্ত্রের সাহায্যে সাধারণ এলাকার মাটিকে বিশেষ স্থানের মাটি কল্পনা করে ব্যবহার করে থাকি।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গা প্রতিমা গড়তেও যৌনপল্লীসহ বিভিন্ন জায়গার মাটি ব্যবহারের প্রচলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর কারণ হিসেবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সমাজ যাঁদের দূরে ঠেলে দিয়েছে, অবজ্ঞা আর বঞ্চনার পাহাড় জমে উঠেছে যাঁদের দেওয়াল বেয়ে, ঘৃণা আর নোংরা দৃষ্টি ছাড়া যাঁদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটেনি, তাঁদের ঘরের মাটিই আবার দেবীমূর্তির অপরিহার্য অঙ্গ৷

‘কিন্তু কেন? বলা হয়, পুরুষ মানুষ পতিতালয়ে গিয়ে যখন বারাঙ্গনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়, তখন তিনি জীবনে সঞ্চিত সমস্ত পুণ্য সেখানেই ফেলে আসেন৷ আর সংগ্রহ করেন ঘড়া ভর্তি পাপ৷’

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চিরাচরিতভাবে মানুষ বিশ্বাস করেন যে, মানুষের মধ্যে যে কামনা, বাসনা, লালসার বাস... পতিতারা তা নিজেদের মধ্যে নিয়ে নেন। তাঁরা নিজেদের অশুদ্ধ, অপবিত্র করে সমাজকে শুদ্ধ রাখতে চান। পবিত্র রাখতে চান। ফলে হাজার হাজার পুরুষের পুণ্যে বেশ্যাদ্বারের মাটি হয়ে ওঠে পবিত্র৷

‘সে কারণেই এই মাটি দিয়ে গড়তে হয় দেবী মূর্তি৷ এই আচার থেকে বোঝানো হয় যে, নারী মায়ের জাতি। নারীর ঔরসেই পুরুষের জন্ম। নারীকে পতিতা বানায় পুরুষরাই। তাই ঐ পুরুষরাই অপবিত্র। মায়ের প্রতিমা তৈরীতে পতিতালয়ের মাটি দিতে হয় অর্থাৎ যাঁরা এই পরিস্থিতির শিকার তাঁদের সম্মান করতে হবে। নারী কখনও অপবিত্র হতে পারে না, এই ধারণাটিই লুকিয়ে থাকে এই রীতির আড়ালে৷’

দুর্গাপূজা উপলক্ষে #thesecondquestion হ্যাশট্যাগে পশ্চিমবাংলার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, যৌনকর্মীদের কাছ থেকে প্রতিবছর মাটি সংগ্রহ করে দুর্গা প্রতিমা গড়েন শিল্পী, তবে পূজার উৎসবে সেই যৌনকর্মীদের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না।

ভিডিওতে এবারের পূজায় এক যৌনকর্মীর পরিবারকে অংশ নিতে প্রতিমা শিল্পীর আমন্ত্রণ জানানোর দৃশ্য রয়েছে। পূজার সার্বজনীনতাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এই ভিডিওতে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার যৌনকর্মীরা প্রতিবছর দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে মাটি দান করলেও পূজার উৎসবে এখনও তারা ‘নিষিদ্ধ’।

কলকাতার এক যৌনকর্মীর মেয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমি পঞ্চম শ্রেণিকে পড়ার সময় পর্যন্ত আমার মা যৌনপেশায় জড়িত ছিলেন। আমি দেখতাম যৌনকর্মীরা প্রতিমা গড়ার মাটি দান করার সময়ে পুরোহিতের কাছ থেকে কিছু মিষ্টি অথবা টাকা পেতেন। তবে তাদের কখনোই পূজার উৎসবে নিমন্ত্রণ করা হতো না।’

সার্বজনীন দুর্গোৎসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রতিবাদে কলকাতার যৌনকর্মীদের মাঝে প্রতিমার মাটির জোগান দেয়ার অনাগ্রহ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদ, পুরাণ বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি দাবি করছেন, দুর্গা প্রতিমায় যৌনকর্মীদের দান করা মাটি ব্যবহারের বিষয়ে ধর্মগ্রন্থে কিছু বলা নেই। বিশেষ প্রেক্ষাপটে এই চল অনেক পরে তৈরি করা হয়েছে।

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

নৃসিংপ্রসাদ বলছেন, ‘জমিদারবাড়ির লোকেরা যখন পুজো শুরু করেন, তখন তাঁরাই তৈরি করেছেন। পুরানে এ রকম কোথাও নেই যে, যৌনপল্লির মাটি দিয়েই দুর্গাপুজো হবে।’

নৃসিংহপ্রসাদের কথায়, 'দুর্গাপুজো যেহেতু মহোৎসব, তাই ওই সময় সমাজে জাতিভেদ, অন্তজ শ্রেণি ইত্যাদি মনে রাখা হয় না। এটা হল সবচেয়ে বড় যুক্তি। যেমন, সমাজে নানা অস্পৃশ্যতা রয়েছে, ব্রাহ্মণ নিম্নজাতিকে ছোঁবে না, আবার ডোম যে মাদুর তৈরি করত, তার উপর পেতেই লোকে বসেছে। সে রকমই যৌনপল্লি থেকে মাটি এই কারণেই নিয়ে এসো, যাতে আমরা যৌনকর্মীদের ঘৃণা না করি। তাঁরাও তো সমাজের একপ্রকার উপকার করছেন।

‘চণ্ডীর মধ্যে একটা শ্লোক আছে, স্ত্রেয়ঃ সমৎসা সকলা জগৎসু। অর্থাৎ সব স্ত্রী-ই আমি, অন্য কেউ নেই। দেবী বলছেন, এই যে ব্রাহ্মবাদী ভক্তি, ব্যপ্তি, সর্বত্র তিনি-ই আছেন। তাই যৌনপল্লীর মাটি মিশিয়ে নেওয়া হয় দুর্গাপ্রতিমা তৈরির মাটির সঙ্গে।’

আরও পড়ুন:
অসুরের বদলে গান্ধী বধ, প্রতিমা ঘিরে বিতর্ক
কুমারী পূজার উৎসবমুখর আয়োজন
পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রের নির্দেশ
দিনাজপুরে এবার কর্কশিটের দুর্গা
গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Pre birthday celebration of Jesus Christ in Jabi

জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন

জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবি উপাচার্য বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংস্কৃতি মিশে আছে। কোনো ধর্মই মাদক নিতে বলে না, মিথ্যা বলা শেখায় না, কারোর কোনো ক্ষতি করতে বলে না। প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের বাণীগুলো মেনে চললে কেউই পথভ্রষ্ট হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধ্যয়নরত খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাক-বড়দিন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে কাটা হয় কেক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জগেশ রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

উপাচার্য বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংস্কৃতি মিশে আছে। কোনো ধর্মই মাদক নিতে বলে না, মিথ্যা বলা শেখায় না, কারোর কোনো ক্ষতি করতে বলে না। প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের বাণীগুলো মেনে চললে কেউই পথভ্রষ্ট হবে না।

‘বর্তমানে ধর্মের নামে হানাহানি চলে। বড় বড় রাষ্ট্রে এখন দেখা যায় ধর্মীয় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়। আমাদের প্রত্যেকের সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করা উচিত।’

নতুন ক্যাম্পাসের মাস্টারপ্ল্যান হয়ে গেছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সেখানে মসজিদ, মন্দির, গির্জা সবই হবে। সব শিক্ষার্থী তাদের নিজ ধর্ম পালন করে সহাবস্থান তৈরি করবে সেখানে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. লুৎফর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, সহকারী প্রক্টর ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে জবি ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
‘গোল্ড মেডেল’ পেলেন জবির চার শিক্ষার্থী
‘ডিন্‌স অ্যাওয়ার্ড’ পাবেন জবি শিক্ষার্থীরা
পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রবর্তন

মন্তব্য

জীবনযাপন
The spirit of liberation war must be spread to build a prosperous country DU Vice Chancellor

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজয় শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই চেতনা তাদের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত মা-বোনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য। সেটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
সমাবর্তনে ভুল: বিদেশিদের কাছে সম্মানহানির শঙ্কায় ঢাবি উপাচার্য
ঢাবিতে ঢুকলে জাবি অধ্যাপককে জীবন বিপন্নের হুমকি
৫২ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা মুক্ত করল ভাসানীর অবরুদ্ধ ভিসিকে
গবেষণার কল্যাণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : শিল্পমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা মেলা ২২-২৩ অক্টোবর

মন্তব্য

জীবনযাপন
Calcutta Book Fair starts on January 30

কলকাতা বইমেলা শুরু ৩০ জানুয়ারি

কলকাতা বইমেলা শুরু ৩০ জানুয়ারি পাঁচতারকা হোটেলে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বইমেলার সূচি ঘোষণা করেন। ছবি: নিউজবাংলা
গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২ সালে সল্টলেকের করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত কলকাতা বইমেলায় প্রায় ২২ লাখ বইপ্রেমী অংশ নিয়েছিলেন। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি সাড়া পাব বলে আশা করছি।’ 

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৪৬তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। মেলা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার কলকাতা বইমেলার থিম ‘কান্ট্রি স্পেন’। প্রতিবছরের মতো মেলা উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বইমেলার সূচি ঘোষণা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত যোসে মারিয়া রিদাও দোমিনিগেজ।

স্পেন ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এবারের বইমেলায় তাদের বইয়ের সম্ভার নিয়ে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে গিল্ড কর্তৃপক্ষ।

২০০৬ সালেও স্পেনকে কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। ফের বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্পেনের রাষ্ট্রদূত যোসে মারিয়া রিদাও দোমিনিগেজ।

তিনি বলেন, ‘বইমেলায় স্পেনের এই অংশগ্রহণের ফলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

‘থিম কান্ট্রি হিসেবে কলকাতা বইমেলায় স্পেনের যে প্যাভিলিয়ন হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতীয় উপকরণ তৈরি হবে।’

কলকাতা বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল চলবে ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২ সালে সল্টলেকের করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত কলকাতা বইমেলায় প্রায় ২২ লাখ বইপ্রেমী অংশ নিয়েছিলেন। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি সাড়া পাব বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ
কলকাতায় শুরু চতুর্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব
‘হাওয়া’ দেখতে দীর্ঘ লাইন কলকাতায়  
কলকাতায় আমরণ অনশনে চাকরিপ্রার্থীরা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও

মন্তব্য

জীবনযাপন
Maradona would have been very happy with this win Messi

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে আর্জেন্টিনার মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পোল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিয়ে আসতে পারায় লিওনেল মেসির ওপর অত্যন্ত খুশি হতেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

কাতার বিশ্বকাপে বুধবার রাতে গ্রুপপর্বে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার এই ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এমনটি জানিয়েছেন দেশটির মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে ২২তম ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে মেসি তার দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে যান। দুই বছর আগে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যু হয়।

মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পেনাল্টি মিসের পর এই ম্যাচ জয়ে অনেক বেশি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এই আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন। এটি তার ক্যারিয়ারে ৩৯তম পেনাল্টি মিসের ঘটনা ছিল।

মেসি বলেন, ‘গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০ গোলের বেদনাদায়ক পরাজয়ের পর এই ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। আমরা গ্রুপপর্ব টপকে নকআউটে এসেছি।’

বুধবার দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পোল্যান্ডের গোলকিপার ভইচেক শেজনি ও তার দলের।

পোল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে সি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে অনাকাঙ্খিত হার দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে খেলেছে বিশ্বসেরা দলের মতোই।

কঠিন সমীকরণে আটকে থেকে বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে বুধবার রাতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় বাগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে শেষ ষোলোতে খেলা অনিশ্চিত হয়ে যেত দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

আরও পড়ুন:
পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি
মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদির গোলে নকআউটে পোল্যান্ড
মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

জীবনযাপন
This years cup will be picked up by Messi

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’ আর্জেন্টিনার দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা
আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বড় জয় পেলেও স্বস্তিতে ছিল না সমর্থকরা। কঠিন সমীকরণে আটকে যাওয়ার পর পোল্যান্ডের বিপক্ষেও জ্বলে ওঠেন দলের খেলোয়াড়রা।

মেসির পেনাল্টি মিসের পর সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও পরবর্তী সময়ে দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় শেরপুরের বিভিন্ন এলাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হয় খেলা।

ভক্তরা আশা করছেন এবারের বিশ্বকাপটা মেসির হাতেই উঠবে। সামনে আরও ভালো খেলবে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা- এ আশায় বুক বাঁধছেন মেসি ভক্তরা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার দলে মেসি, দিবালা, ডি মারিয়া, আলবারেস, মার্টিনেস, ডিপলসহ এমন সব খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

অপর সমর্থক হাসানুর রহমান আলাল বলেন, ‘আমরা এবার আর্জেন্টিনা কাপ পাব- এটাই আশা করছি।’

সমর্থক শাহিন বলেন, ‘সৌদির কাছে হঠাৎ হেরে গিয়ে আর্জেন্টিনা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কাজেই বিশ্বকাপ এবার মেসির হাতেই উঠবে।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হারের পর আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোতে ওঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। সে শঙ্কা কিছুটা কাটে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে, কিন্তু এরপরও পোল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের আগে নানা সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল মেসিদের। সেসব সমীকরণকে অতীত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লিওলেন স্কালোনির দল।

হাই ভোল্টেজ ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি নিয়ে সাজঘরে ফিরলেও শুরুটা সাদামাটা ছিল টিম আর্জেন্টিনার। প্রথমার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও জাল খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায় মেসির পেনাল্টি কিক মিস, তবে সে মুহূর্তটাকেই শাপে বর মনে করছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তার মতে, পেনাল্টিতে গোল না পাওয়ায় মরিয়া হয়ে ওঠে দল।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না করে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেডলক ভাঙে। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। পরে ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান আলভারেস।

এ দুজনের গোলে মেসির স্বপ্নজয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে সুপার সিক্সটিনে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের ম্যাচ থেকে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তা ছাড়া আগেই আমাদের জানা ছিল এ ম্যাচ আমাদের জিততে হবে।’

আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময়ে রাত ১টায় নকআউট পর্বে আস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। একে সামনে রেখে মেসি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো দল যে কাউকেই হারাতে পারে।

সবাইকে সমানভাবেই দেখছেন সাতবারের ব্যালন ডরজয়ী এ তারকা। তার ভাষ্য, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা খুব কঠিন হতে চলেছে। যে কেউ অন্যকে হারাতে পারে; সবই সমান, তবে আমরা সবসময়ের মতোই প্রস্তুতি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হব।

‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে। তা ছাড়া ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা উচিত। এখন আরেকটি বিশ্বকাপ শুরু হলো। আজ আমরা যা করেছি, আশা করছি তা ধরে রাখতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

p
উপরে