× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Google is changing the look of Durga
hear-news
player
google_news print-icon

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ

গুগল-বদলে-দিচ্ছে-দুর্গার-রূপ
প্রতি বছর দেবী দুর্গার প্রতিমার গড়নে আসছে পরিবর্তন। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমা শিল্পীরা বলছেন, ১৫ বছর আগেও দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতীর মুখের গড়ন ছিল এক। মাটি দিয়ে বানানো ছাঁচে গড়া হতো প্রতিমা। গণেশ, কার্তিক ও অসুরের জন্য ছিল আলাদা ছাঁচ। তবে এখন ছাঁচে ফেলে প্রতিমা গড়ার রীতি অনেকটাই বদলে গেছে। প্রতি বছর আলাদা গড়নে ও রূপে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

দুই দশক আগেও সারা দেশে দুর্গা প্রতিমার মুখের গড়ন বা সাজসজ্জা ছিল অনেকটা আটপৌড়ে। সময় যত গড়িয়েছে সেই গড়নে এসেছে পরিবর্তন। প্রতিমার সাজসজ্জাও হচ্ছে বর্ণাঢ্য। এর পেছনে ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তির বড় ধরনের ভূমিকা দেখছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

তাদের বক্তব্য, আগে সব প্রতিমাই তৈরি হতো শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা থেকে, তবে এখন অনেকে সার্চ ইঞ্জিন গুগল থেকে পছন্দের প্রতিমার ছবি বাছাই করে সে অনুযায়ী দুর্গা গড়তে বলেন। ফলে প্রতি বছর বদলে যাচ্ছে প্রতিমার মুখের গড়ন ও সাজসজ্জা।

শিল্পীরা বলছেন, ১৫ বছর আগেও দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতীর মুখের গড়ন ছিল এক। মাটি দিয়ে বানানো ছাঁচে গড়া হতো এই তিন প্রতিমা, এ ছাঁচকে বলা হতো একচালা। এ ছাড়া গণেশ, কার্তিক ও অসুরের জন্য ছিল আলাদা ছাঁচ।

তবে এখন ছাঁচে ফেলে প্রতিমা গড়ার রীতি অনেকটাই বদলে গেছে। ফলে প্রতি বছর আলাদা গড়নে ও রূপে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
শাঁখারীবাজারের একটি মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা

দুর্গা প্রতিমার গড়ন দুই দশকে কতটা এবং কেন বদলেছে তা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার, তাঁতীবাজার এলাকার প্রতিমা শিল্পী ও পূজার আয়োজকদের সঙ্গে।

বদলে যাচ্ছে দেবীর গড়ন, মণ্ডপের নকশা

বাংলাবাজারের জমিদার বাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে ৪৫ বছর ধরে। নব্বইয়ের দশকেও মন্দিরে পূজার সাজ ছিল ছিমছাম। তবে এখন মণ্ডপ সাজানো হয় বড় আয়োজনে।

এবার মণ্ডপজুড়ে সাদা রঙের ছড়াছড়ি। দেবী দুর্গাসহ সব প্রতিমার রংও সাদা।

আয়োজকেরা বলছেন, এবার তারা শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা রং বেছে নিয়েছেন। আর প্রতিমা বানানোর ক্ষেত্রে সহায়তা নেয়া হয়েছে ইন্টারনেট প্রযুক্তির।

জমিদার বাড়ির প্রতিমা তৈরি করেছেন বলাই পাল। ৩৪ বছর ধরে প্রতিমা শিল্পীর কাজ করছেন তিনি। এবারের পূজায় সব মিলিয়ে ১২টি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন এই শিল্পী। এর মধ্যে ঢাকায় ১১টি এবং ঢাকার বাইরে একটি প্রতিমা গড়েছেন তিনি।

বলাই পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আগে একচালা বা পাঁচচালা দিয়ে প্রতিমা তৈরি করতে হতো। তখন সব প্রতিমার চেহারা একই রকম থাকত। তবে এখন আর সে ধরনের কাজ হয় না। আমাদের এখন প্রতি বছর আলাদা আলাদা চেহারার প্রতিমা বানাতে হয়।’

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
বাংলাবাজার জমিদার বাড়ি মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা

এখন অনেকেই গুগল থেকে ছবি ডাউনলোড করে সে অনুযায়ী প্রতিমা করতে বলেন জানিয়ে বলাই পাল বলেন, ‘আমাদের কাছে ছবি দিলে আমরা তেমন করে তৈরি করে দিই। তবে দেবীর যে রূপ তাতে বড় কোনো পরিবর্তন আসে না। দেখা যায় অনেকেই গোলাকার বা লম্বাকৃতির মুখ বানাতে বললে আমরাও তেমন বানিয়ে দিই।

‘আমাদের মনের মধ্যে নিজস্ব যে চেহারা থাকে সেটাও প্রতিমার রূপে প্রতিফলিত হয়। আমি যে ১২টি প্রতিমা তৈরি করেছি সেগুলো ১২ রকমের হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আমাকে বিভিন্ন ছবির ক্যাটালগ দিয়েছে। আমি সেটাও অনুসরণ করেছি।

শাঁখারীবাজারের সঙ্ঘমিত্র পূজা কমিটির প্রতিমা তৈরি করেছেন মানিকগঞ্জের প্রতিমা শিল্পী সুকুমার পাল। ২৮ বছর ধরে প্রতিমা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সুকুমার ১০ বছর ধরে এই কমিটির প্রতিমা তৈরি করছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবারই মায়ের চেহারায় পরিবর্তন আসে। এটা আমাদের মাথার মধ্যে থাকে। আমরা একটা পরিকল্পনা করে থাকি। একেক বছর একেক রকম হয়। তবে এখন অনেকেই ছবি দিয়ে দেয়, আর সেটির সঙ্গে আমি একটা রূপ চিন্তা করে প্রতিমা তৈরি করি।’

পাশের দেশ ভারতে বিভিন্ন থিম ও ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে মিল রেখে প্রতিমা তৈরির চল রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রতিমা শিল্পী ও আয়োজকদের দাবি, নিজস্ব স্বকীয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
শাঁখারীবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দুর্গা প্রতিমা

বাংলাবাজারের জমিদার বাড়ি পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস শংকর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করেই প্রতিমা তৈরি করে থাকি। আমি নিজে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ছবি দেখে একটা নিজস্ব ছবি বানিয়ে তা নিয়ে প্রতিমা শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা করি। এভাবে মায়ের রূপ নির্ধারণ করা হয়।’

নব্বইয়ের দশকের মণ্ডপে তেমন সাজসজ্জা থাকত না জানিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘এখন আমরা মন্দিরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নকশা করে থাকি।’

শাঁখারীবাজারের গলিতে সব মিলিয়ে এবার ছয়টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে গলির শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বী পূজা কমিটির পূজায় জাঁকজমক সবচেয়ে বেশি।

প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে

গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে বলে জানান আয়োজক ও শিল্পীরা।

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
শাঁখারীবাজারের নব নবমী মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা

জমিদার বাড়ির প্রতিমা শিল্পী বলাই পাল বলেন, ‘এবার জমিদার বাড়ির প্রতিমা গড়তে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা, যা গতবারের তুলনায় ১০ হাজার টাকা বেশি। আমার সঙ্গে আরও পাঁচজন কাজ করেছেন। তাদের আলাদা বেতন দিতে হয়। সেখানেও গতবারের তুলনায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। এর আগের দুই বছর করোনার কারণে প্রতিমা বানানোর খরচ পড়ে গিয়েছিল, এবার তা বেড়ে গেছে।’

পূজার আয়োজকেরা বলছেন, প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানোর খরচও বেড়েছে। এ ছাড়া পূজার উপকরণের দামও বাড়তি।

শাঁখারীবাজার ঘুরে দেখা যায়, পূজায় সবচেয়ে ব্যবহৃত ধূপকাঠির দাম প্যাকেটপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এ ছাড়া দেবীর অলংকারসহ অন্য উপকরণের দামও বেড়েছে।

সুর ঘুড়ি ঘরের বিক্রেতা সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুবার বিক্রি তেমন না হলেও এবার চাহিদা অনেক। আমার দোকানে বিভিন্ন ধরনের ধূপকাঠি আছে। এর মধ্যে ভারতীয়গুলো বেশি জনপ্রিয়। আর দাম বেড়েছে প্রতি প্যাকেটে ১০ থেকে ২০ টাকা।’

পূজার অঞ্জলির উপকরণ, ঘট, প্রদীপ, থালাসহ অন্যান্য উপকরণের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া পূজারি নারীর সিঁদুর, আলতা, টিপের বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ। ভিড় রয়েছে শাঁখার দোকানেও।

৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

আরও পড়ুন:
সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে দেবীর আগমন শনিবার
দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে
গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Harassment of Haj pilgrims will be severely punished Prime Minister

হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী

হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্মেলন-২০২২’ ও ‘হজ ও ওমরাহ ফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো এজেন্সি প্রতারণা বা হয়রানি করলে সে এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যারা হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে।’

হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতারণা বা হয়রানি করলে এজেন্সিগুলোকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্মেলন ২০২২’এবং ‘হজ ও ওমরাহ ফেয়ার’- এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো এজেন্সি প্রতারণা বা হয়রানি করলে সে এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যারা হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে।’

হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী
৪১০ হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে গত ৫ জুন ঢাকা ছাড়ে বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট। ছবি: নিউজবাংলা

হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১ এবং হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে হজ কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আগামীতে যারা হজে যাবেন তাদের হজের পাশাপাশি সৌদি আরবের সমস্ত নিয়ম কানুন এবং আইন সম্পর্কে জানা এবং মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘দেশকে জঙ্গিবাদের হাত থেকে মুক্ত করে পবিত্র ইসলামের শান্তিময় মহিমাকে জাগ্রত রাখার জন্য আমরা জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং আলেম ওলামাদেরকে সম্পৃক্ত করে প্রত্যেক এলাকায় কমিটি করে দেয়া হয়েছে যাতে কারও ছেলেমেয়ে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত না হয় তার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তির ধর্ম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। অথচ এই ধর্মকে কিছু জঙ্গিবাদের কারণে অপমানজনক কথা শুনতে হচ্ছে। আসুন, আমরা সকলে ইসলামের মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্ধকার, অশিক্ষা, বিভেদ, হানাহানি, সন্ত্রাস, কুসংস্কার ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করি; ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী শক্তিকে প্রতিরোধ করি।’

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করে দিচ্ছি। ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও গবেষণা কেন্দ্র থাকবে। ইসলাম ধর্মের মূল কথা মানুষ যেন ভালোভাবে জানতে পারে।

‘মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে মসজিদের ইমামদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কুরআনের শিক্ষা প্রচারের উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় লক্ষ লক্ষ শিশুকে কুরআন শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করেছি।’

আরও পড়ুন:
হজযাত্রী পাঠানোর জাহাজকে প্রমোদতরি বানান জিয়া: শেখ হাসিনা
উন্নয়নের গতি শ্লথ করেছে যুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
উন্নয়নে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
রিজার্ভ আবার চুরি হয় কীভাবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

জীবনযাপন
100 immigration of pilgrims will take place in the country

দেশেই হবে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন

দেশেই হবে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন সৌদি আরবগামী হজযাত্রীদের একাংশ। ফাইল ছবি
‘রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের এ চুক্তির ফলে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ও লাগেজ তল্লাশির কাজ ঢাকায় হবে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে।

এখন থেকে শতভাগ হজযাত্রীর সৌদি প্রান্তের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই হবে।

সচিবালয়ে রোববার সফররত সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আবদুল আজিজ আল দাউদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে।

‘রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের এ চুক্তির ফলে শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ও লাগেজ তল্লাশির কাজ ঢাকায় হবে। এ ছাড়া ২ দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে।

সৌদির স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আবদুল আজিজ আল দাউদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বে বাংলাদশি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনার পর আমরা দুটি এমইউও সই করেছি। একটি হলো নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, আরেকটি হলো রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট।

‘প্রথমটিতে দুই দেশের নিরাপত্তা আরও কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেই বিষয় আছে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এর মধ্যে রয়েছে। রুট-টু-মক্কার মধ্যে রয়েছে আমাদের হজযাত্রীদের আরও কীভাবে সহযোগিতা দেয়া যায়। এখান থেকে ইমিগ্রেশন ও সবকিছু ঠিকঠাক করে করে তারা উড়োজাহাজে উঠে যাবে। এ সুবিধাগুলো আগে পরীক্ষামূলকভাবে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এখন চুক্তি হলো। এখন ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ চেকিং সবকিছু বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে হয়ে যাবে। এটাই হলো রুট-টু-মক্কা সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টের বিষয়।’

আরও পড়ুন:
আবারও সহজের জরিমানা হাইকোর্টে স্থগিত
জরিমানার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে সহজ
এক টিকিট দুইবার বিক্রি, এবার সহজকে জরিমানা ২ লাখ
দুই বিমানের সংঘর্ষের ‘অন্য কারণ’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী
জরিমানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সহজ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Raas festival is accompanied by dance and song

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব মণ্ডপে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। ছবি: নিউজবাংলা
মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে জানান, রাখালনৃত্যের মাধ্যমে দুপুরে শুরু হয়েছে রাসলীলা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।

মণিপুরিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব রাসলীলা। ঢাকঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল আর শঙ্খধ্বনির সঙ্গে ব্যাপক আনন্দ উল্লাসের মধ্যদিয়ে রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। মণ্ডপে মণিপুরি শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। মণিপুরি লোকজনের সঙ্গে সবাই মেতে ওঠে এই আনন্দ আয়োজনে।

সাদা কাগজের নকশায় নিপুণ কারুকাজে সজ্জিত করা হয় মণ্ডপগুলো। মহারাত্রির পরশ পাওয়ার জন্য হাজারো মানুষের মিলনতীর্থে পরিণত হয় মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ আর আদমপুরের মণ্ডপগুলোতে।

রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে এই উৎসবে মেতেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মানুষ। এ আয়োজনে রয়েছে জোরদার নিরাপত্তা।

রাস উৎসব মূলত মণিপুরিদের হলেও তা আর তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। জাতিধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সব লোকজনের অংশগ্রহণেই উদযাপিত হয় এই আনন্দ উৎসব।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাখালনৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় এই উৎসব। রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। এই আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কমলগঞ্জে হাজির হয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার হাজারো মানুষ। তাদের পদচারণে সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে মণিপুরি পল্লি। বুধবার ভোরে এ উৎসব শেষ হয়।

উষালগ্নে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, আদমপুরের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মণিপুরি মী-তৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে হয়েছে মহারাসোৎসব।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

রাস উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বসেছে রকমারি আয়োজনে বিশাল মেলা। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাসলীলা উপলক্ষে কমলগঞ্জের তিনটি স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় খই, মুড়ি, বাতাসা, ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ ও প্রসাধনী, শ্রীকৃষ্ণের ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির ছবিসহ বাহারি পণ্য শোভা পাচ্ছে।

মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে মণিপুরিদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বইপত্রের কয়েকটি স্টল।

বাঁশ ও কাগজ কেটে বিশেষ কারুকাজে রাসের মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বসেন রাসধারী বা রাসের গুরু, সূত্রধারী ও বাদকরা। পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে দু’শতাধিক তরুণী এই রাসলীলায় অংশ নিচ্ছেন।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

রাসের সাধারণ ক্রম হচ্ছে- সূত্রধারীর রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা-কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপারেং, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা, আরতি ইত্যাদি।

মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে।

মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে জানান, রাখালনৃত্যের মাধ্যমে দুপুরে শুরু হয়েছে রাসলীলা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।’

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

মণিপুরি সংস্কৃতির গবেষক প্রভাস সিংহ জানান, ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের আয়োজনে মণিপুরিরা প্রথম রাসলীলা পালন করেন। সে সময় মণিপুরি রাজা স্বপ্নাদীষ্ট হয়ে কন্যা লাইরোবিকে রাধার ভূমিকায় অবতীর্ণ করে রাস অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। মৈথিলি ও ব্রজবুলি ভাষার বিভিন্ন পদের মণিপুরি সংগীতের নিজস্ব গায়কী ও মুদ্রা-পদবিক্ষেপে জটিল এবং ধ্রপদি ধারার গীতি-নৃত্যধারায় তা পালন করা হয়েছিল।

মণিপুরিদের আদিভূমি ভারতের মণিপুর থেকে এই রাস উপমহাদেশে তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্যকলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হলেও এর নৃত্যশৈলী বরাবরই সব ধর্ম ও জাতির মানুষকে আকর্ষণ করেছে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব

মন্তব্য

জীবনযাপন
Zakat Fund Management Bill presented in Parliament

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল সংসদে উত্থাপন

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল সংসদে উত্থাপন ফাইল ছবি
বিলে ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাকাত বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদস্য হবেন ধর্মসচিব (ভাইস চেয়ারম্যান); ধর্ম, অর্থ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, সরকার মনোনীত ৫ জন আলেম, এফবিসিসিআইয়ের দুজন প্রতিনিধি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সদস্য সচিব)।

সরকারিভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের বিধান রেখে ‘জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল-২০২২’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক সরকারের আমলে করা আইন ‘জাকাত ফান্ড অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বিলুপ্ত করে নতুন আইন প্রণয়নে এই বিল আনা হয়েছে।

রোববার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলে ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাকাত বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদস্য হবেন ধর্ম সচিব (ভাইস চেয়ারম্যান); ধর্ম, অর্থ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তা, সরকার মনোনীত ৫ জন আলেম, সরকার মনোনীত ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর দুইজন প্রতিনিধি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সদস্য সচিব)। বছরে এই বোর্ডের কমপক্ষে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ডের পরিচালনা ব্যয় বহন করবে সরকার।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, জাকাত সংগ্রহ, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির ক্ষমতা বোর্ডের থাকবে। কমিটি গঠন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে কেন্দ্রীয়, সিটি কপোরেশন, বিভাগ, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কমিটি গঠন করতে পারবে।

জাকাত তহবিল গঠন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে সংগৃহীত জাকাত; প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিক, কোনো বিদেশি মুসলিম বা কোনো সংস্থায় জমাকৃত জাকাতের অর্থ থেকে পাওয়া জাকাত এবং শরিয়াহসম্মত অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া জাকাত। শরিয়াহসম্মত খাত ব্যতীত অন্য কোনো খাতে জাকাতের অর্থ ব্যয় বা বিতরণ করা যাবে না।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাকাত দারিদ্র‍্য বিমোচন ও পুনর্বাসনের হাতিয়ার। জাকাত কএনা স্বেচ্ছামূলক দান নয়, বরং জাকাত ধনীর সম্পদ থেকে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত বাধ্যতামূলকভাবে দেয়া নির্দিষ্ট অংশ। দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জাকাত ব্যবস্থা চালু থাকলেও নানা কারণে তার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছিল না। জাকাতের মাধ্যমে এক সময় সারা মুসলিম জাহানে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হয়েছিল। এই আইন পাস হলে জাকাত তহবিল দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক সরকারের আমলে করা ‘চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৬’ বিলুপ্ত করে নতুন আইন করতে ‘চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
পূর্বাচলের প্লট দ্রুত বুঝিয়ে দেয়া হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
একাদশ সংসদের ২০তম অধিবেশন শুরু
সংসদের ২০তম অধিবেশন বসছে রোববার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Cheebar Danotsav ended with the respect of the devotees

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব বৃহস্পতিবার রাতভর তুলা থেকে সুতা কেটে কাপড় তৈরির পর কঠিন চীবর সেলাই করে তা মাথায় রেখে উৎসর্গ করেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। ছবি: নিউজবাংলা
ত্রি-চীবর হলো চার খণ্ডের পরিধেয় বস্ত্র; যাতে রয়েছে দোয়াজিক, অন্তর্বাস, চীবর ও কটিবন্ধনী। এ পোশাক পরেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পোশাক বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে দেয়া হয়। এই পোশাক তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে তুলার বীজ বোনা হয়। পরে তুলা সংগ্রহ করে তা থেকে সুতা কেটে রং করা হয় গাছের ছাল বা ফল থেকে তৈরি রং দিয়ে। পরে নানা আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তৈরি করা হয় এই ত্রি-চীবর। সেসব পবিত্র চীবর, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাতে তুলে দেয়া হয় কঠোর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে।

লাখো ভক্তের ভক্তি ও শ্রদ্ধায় রাঙামাটি রাজবন বিহারে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে শুরু হয়ে শুক্রবার বিকেলে শেষ হয় এ উৎসব।

এবারের ৪৯তম উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে লাখো পূণ্যার্থী অংশ নেন। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো রাজবন বিহার এলাকা।

দুপুরে কল্পতরু ও কঠিন চীবরকে পুরো বিহার এলাকা প্রদক্ষিণ করিয়ে বের করা হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। পরে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কঠিন চীবর দানোৎসব।

এ উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, ধর্মীয় আলোচনা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, ধর্মীয় সূত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও ফানুস বাতি উৎসর্গসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।

বিহার পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা গেছে, গৌতম বুদ্ধের সময়ে তার প্রধান সেবিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রং করে কাপড় বুনে সেলাই করে বুদ্ধকে দান করেছিলেন।

বিশাখার এই কঠিন চীবর দানের স্মৃতি রক্ষায় ১৯৭৩ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর লংগদুর তিনটিলায় সর্বপ্রথম কঠিন চীবর দানের রীতি প্রবর্তন করেন মহাপরির্নিবাণপ্রাপ্ত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে।

এরপর থেকে প্রতিবছরই বৌদ্ধধর্মালম্বীরা কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন হয়ে আসছে।

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব
ধর্মীয় সভায় তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বিহার থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ভিক্ষুও অংশ নেন

মুন চাকমা ও তুহিন চাকমার পরিচালনায় এবারের চীবর দানোৎসবে পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ ও বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

এ ছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্য সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবর্ত্য আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী।

কোভিড-১৯ উপদ্রব থেকে মুক্তিলাভ ও সারা বিশ্বে মঙ্গল প্রার্থনায় ধর্মীয় সভায় বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন দেওয়ান দীপু, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খাসীসহ অনেকেই।

ভক্তদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো চীবর দানোৎসব
চীবর দানোৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় লক্ষাধিক পূণ্যার্থী অংশ নেন

ধর্মীয় সভায় বনভান্তের অমৃতসম বাণীর উদ্বৃতি দিয়ে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্মদেশনা দেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির ও কাটাছড়ি রাজবন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির।

ধর্মীয় সভায় তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বিহার থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ভিক্ষুও অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
বৌদ্ধবিহারে হামলা: জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ১৮ নেতাকর্মীর বিচার শুরু
ভাইরাল সেই ভিক্ষু কি মৃত্যুর পরেও জীবিত!
প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর মৃত্যু
রাঙামাটিতে নতুন বৌদ্ধ বিহার
বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় আটক ২

মন্তব্য

জীবনযাপন
In Rajban Vihar the tough Cheebar Danotsav has started

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব
পূণ্যার্থী সুম্মিতা চাকমা বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কঠিন চীবর দান হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি দান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা থেকে কঠিন চীবর তৈরি করে ভান্তেদের উদ্দেশ্য দান দেয়া। এবারে ৪৯তম দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

তুলা থেকে সুতা কেটে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে শুরু হয়েছে দুইদিনের কঠিন চীবর দানোৎসব।

বেইনঘরের ফিতা কেটে বৃহস্পতিবার বিকেলে এর উদ্বোধন করেন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এরপর চরকায় তুলা থেকে সুতা কেটে বেইন উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার সহধর্মিনী রাণী য়েন য়েন।

এ উপলক্ষে বুদ্ধমূর্তিদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সুত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, তুলা উৎসর্গসহ নানা রকম দানের রীতি পালন করা হয়।

কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে রাজবন বিহারে প্রতিবারই দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। এবার লক্ষাধিক পূন্যার্থীর সমাগম হবে বলে দাবি বিহার পরিচালনা কমিটির।

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব

উৎসবে আসা পূণ্যার্থী বর্ষা চাকমা বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার রাঙামাটি রাজবন বিহার। এ বিহারে লাখো মানুষের সমাগম দেখা যায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের বুদ্ধগয়া থেকেও রাজবন বিহারে বৌদ্ধ পূণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। আমিও এবারের কঠিন চীবর দানে অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

আরেক পূণ্যার্থী সুম্মিতা চাকমা বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কঠিন চীবর দান হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি দান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা থেকে কঠিন চীবর তৈরি করে ভান্তেদের উদ্দেশ্য দান দেয়া। এবারে ৪৯তম দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব

রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর যে উপদ্রব তা চলে না গেলেও আগের চাইতে অনেক ভালোর দিকে যাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বিশ্ব থেকে এ উপদ্রব চলে যাক। তবে শুধু কোভিড-১৯ নয় ডেঙ্গুও কিছুটা রয়ে গেছে।

‘আমাদের প্রার্থনা হবে, এখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। বাংলাদেশের যে উন্নয়নের যাত্রা তা যথাযথ হোক। বাংলাদেশ ও সারা পৃথিবীতে শান্তি বয়ে আসুক এ কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
কঠিন চীবর দানে পাহাড়ে উৎসব
বান্দরবানে কঠিন চীবর দান উৎসব
খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান

মন্তব্য

জীবনযাপন
How the skeleton of the Arabic alphabet in the research fair of DU

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন কঙ্কালের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে আরবি হরফের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মানব কঙ্কালের সঙ্গে আরবি হরফের মিল দেখানো পোস্টার নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে ফেসবুকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা মেলায় এ ধরনের পোস্টার প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মেলার আয়োজকেরা বলছেন, ওই পোস্টারটির বিষয়বস্তু তাদের জানা ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি আয়োজিত গবেষণা ও প্রকাশনা মেলায় রসায়ন বিভাগের স্টলের একটি পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন ওই পোস্টারে দেখিয়েছেন, মানব কঙ্কালের সঙ্গে আরবি বেশ কিছু হরফের মিল রয়েছে। এসব হরফ ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং আল্লাহ লিখতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীদেহের হাড়কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়ে বিভিন্ন ভাষার হরফের সঙ্গে মেলানো সম্ভব। এ কারণে এ ধরনের বিশ্লেষণ অযৌক্তিক। আর মেলার আয়োজকেরা বলছেন, ওই পোস্টারটির বিষয়বস্তু তাদের জানা ছিল না। সমালোচনার পরপরই সেটি সরিয়ে ফলা হয়।

অধ্যাপক আবুল হোসাইন বলছেন, বিষয়টি কোনো গবেষণালব্ধ জ্ঞান বা ফাইন্ডিংস নয়। মানব কঙ্কাল নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে রিভিউ আর্টিকেল লিখেছেন, পরে সেটি পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার পরিচালিত ইউএসজিএস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পিয়ার রিভিউড প্রকাশনাকে কখনও কখনও একটি পাণ্ডিত্বপূর্ণ প্রকাশনা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। কোনো লেখকের পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজ, গবেষণা বা ধারণাগুলোর বৈজ্ঞানিক গুণমান নিশ্চিত করার জন্য একই বিষয়ের অন্য বিশেষজ্ঞরা এর খুঁটিনাটি দিক যাচাইবাছাই করে অভিমত দেন।

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন

অধ্যাপক আবুল হোসাইনের আর্টিকেলটি ‘সিগনিফিক্যান্স অফ দ্যা স্ট্রাকচার অফ হিউম্যান স্কেলটন’ শিরোনামে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশ করে আমেরিকান জার্নাল অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন। এটি বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি পিয়ার রিভিউ জার্নাল।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হয়ে মানব কঙ্কাল পর্যবেক্ষণের কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক আবুল হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ফিল্ড রসায়ন। ২০১৬ সালে ড্রাগ নিয়ে কাজ শুরু করি। এই ড্রাগ যেহেতু মানুষের বডিতে কাজ করবে তাই বডির বিভিন্ন সাইজ জানা দরকার ছিল। সেটার জন্য আমি অ্যানাটমি বই পড়েছি। সেটার কেমিক্যাল কম্পোজিশন জানতে বিভিন্ন বই পড়তে হয়েছে।

‘এ কাজ করতে গিয়ে দেখলাম মানুষের বডির ফান্ডামেন্টাল যে অরগান স্কেলিটন (কঙ্কাল) অনেকটা আরবি অক্ষরের সঙ্গে মিলে যায়। আমি মূল গবেষণার কাজ করতে গিয়ে অ্যানাটমি-সম্পর্কিতসহ বিভিন্ন বই পড়েছি। সব বই তো আর সব সময় পড়ব না, তাই বইগুলোর কোথায় কী পেয়েছি সেটা লিখে সবগুলোর একটা সামারি আমি প্রকাশ করেছি।’

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইনের পর্যবেক্ষণ

তিনি বলেন, ‘এটা আমার রসায়নের ফান্ডামেন্টাল গবেষণা আর্টিকেল নয়। এটা একটা রিভিউ আর্টিকেল। আমার সাবজেক্টে কাজ করতে গিয়ে এটা একটা সাইড প্রোডাক্ট।

‘এটা আমি রিভিউ আর্টিকেল হিসেবে মেলায় পোস্টার আকারে শো করেছি। এরপর বিভাগ থেকে যখন বলা হয়েছে এটা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তখন সরিয়ে নিয়েছি।’

অধ্যাপক হোসাইন বলেন, ‘মেলায় আমার যে পোস্টার ছিল সেখানে তিনটা পার্ট ছিল। একটা ছিল সারফেস ক্যামিস্ট্রি, আরেকটা ন্যানো ক্যামিস্ট্রি আরেকটা ছিল ইন্টার ডিসিপ্লিন সায়েন্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন নিয়ে। যেটা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে সেটা ছিল সবশেষ ক্যাটাগরির মধ্যে।

‘এটা কারও পছন্দ হতে পারে বা না হতে পারে। কারও বিশ্বাসের ওপর আঘাত করার কোনো ইন্টেনশন আমার ছিল না।’

অধ্যাপক আবুল হোসাইন রিভিউ আর্টিকেলটি প্রকাশের জন্য ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি জমা দেন। এরপর পর্যালোচনা শেষে ১৬ জানুয়ারি সেটি প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাপক হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আর্টিকেল পাবলিশের পর অনেক মুসলমান এবং আমার শ্বশুর বলেন আরও অনুসন্ধান করতে। এরপর আমি কোরআন-হাদিস নিয়ে বিভিন্ন স্টাডি করি। ইসলাম সম্পর্কে জানাশোনা আছে এ রকম বেশ কিছু গবেষকের সাহায্যও নিই।

‘এসব করে দেখেছি, কোরআন শরিফের সুরা তীনের একটা আয়াতের সঙ্গে এটার কিছুটা মিল আছে। এরপর আমি ধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন লেখাপড়া করে ধর্মের সঙ্গে এটার কোনো লিংক আছে কি না, সেটি দেখার চেষ্টা করেছি। আর এসব নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার একটি জার্নালেও আর্টিকেল সাবমিট করি।’

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (মাঝে) ও তার পর্যবেক্ষণ

ইন্দোনেশিয়ার সেই জার্নালটির নাম ‘আর রানিরি: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইসলামিক স্টাডিজ।’ এই জার্নালে অধ্যাপক হোসাইনের নিবন্ধটি ২০১৮ সালের জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়

অধ্যাপক আবুল হোসাইন বলেন, ‘এটাও রিভিউ আর্টিকেল ছিল। কারণ আমি এখানে তো কোনো ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট করিনি। কোরআন আর হাদিসের বিভিন্ন অংশকে আমি ব্যাখ্যা করেছি। তবে হালকা কিছু থিউরিটিক্যাল গবেষণা ছিল।’

আর রানিরি জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেলে অধ্যাপক হোসাইন দাবি করেছেন, মানুষের কঙ্কালের প্রধান অংশ মাথার খুলির সঙ্গে কোরআনে বর্ণিত তিন ফল অর্থাৎ জলপাইয়ের গঠনের মিল আছে। আর এটি আরবি হরফ ‘মিম’-এর মতো।

তিনি বলছেন, মানুষের বুকের পাঁজরের সঙ্গে সিনাই পর্বতের গঠনের মিল আছে। এটি আরবি হরফ ‘হা’-এর মতো। কোমরের সঙ্গে আছে ডুমুর ফলের মিল, যা আরবি হরফ ‘মিম’-এর মতো।

মানুষের হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত মক্কা নগরীর মিল আছে। এটি আরবি হরফ ‘দাল’-এর মতো। আর এসব হরফের সমন্বয়ে মুহাম্মদ (সা.) নামটি লেখা হয়।

অধ্যাপক আবুল হোসাইন মনে করছেন, মানুষের হাতের পাঁচ আঙুলের গঠনটি আলিফ, লাম, লাম এবং হা এর সদৃশ। এসব হরফের সমন্বয়ে আল্লাহ লেখা হয়।

অধ্যাপক হোসাইন বলেন, ‘আমি রসায়নে কাজ করি বলে কি অন্য কোনো ফিল্ডে কাজ করতে পারব না? রসায়নের অনেক অধ্যাপক পদার্থবিজ্ঞান বা ম্যাথ ফিল্ডেও তো কাজ করেন। আবার ইন্টার ডিসিপ্লিন ফিল্ডেও কাজ করেন।’

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইনের পর্যবেক্ষণ

কঙ্কালকে ধর্মের সঙ্গে মেলানোয় বিস্ময়

অধ্যাপক আবুল হোসাইনের পর্যবেক্ষণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রাণিবিদ্যার বিশেষজ্ঞরাও এ ধরনের পর্যবেক্ষণে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল নাসের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেউ একজন অন্ধের মতো কথা বললে তো হয় না। আমার কাছে মনে হয় এগুলো একটা সিস্টেম, শুধু মানব কঙ্কাল কেন, যেকোনো প্রাণীর কঙ্কালের ডিজাইন কাছাকাছি। এই ডিজাইনের মধ্যে ধর্মকে নিয়ে এলে কী ঠিক হবে? এসব কথাবার্তা আমাদের মূর্খতার পরিচয় হবে।’

একজন প্রাণিবিজ্ঞানীর অবস্থান থেকে অধ্যাপক নিয়ামুল বলেন, ‘আমরা ওইভাবে (ধর্মের আলোকে কঙ্কালকে ব্যাখ্যা) দেখি না। আমরা একটি প্রাণীর দিকে দেখি। প্রাণীটাকে রক্ষা করার জন্য যা করা দরকার সেটা নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করি, সেটাই আমাদের গবেষণা।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে অনেক প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে, সেখানে কোন কঙ্কাল কার মতো দেখতে সেগুলো নিয়ে বলার সময় আমাদের থাকে না। কঙ্কালের মধ্যে আমরা আমাদের ধর্ম-সংস্কৃতিকে নিয়ে আসতে পারি না। কঙ্কাল নিজস্ব সিস্টেমে তৈরি। মানব কঙ্কালের মতো আরও অনেক প্রাণীর কঙ্কাল আছে। সেখানে এটা দেখা গেছে, অমুক হরফ দেখা গেছে- এটা তো বলা যায় না।

‘ওইভাবে খুঁজতে গেলে তো অনেক ভাষার অক্ষরই দেখতে পাব। আমাদের ভাষায় হোক, অন্য ভাষায় হোক, কোনো না কোনো ভাষার সঙ্গে তো মিলবে। আমরা তো আসলে এগিয়ে যাচ্ছি, পেছন দিকে ফেরত যাওয়া কী ঠিক হবে?’

তিনি বলেন, ‘ধর্ম তো সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সেখানে কেন আমি এটাকে এই ছোট জিনিসের মধ্যে নিয়ে আসব?’

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কঙ্কাল বা হাড়কে বিভিন্নভাবে দেখা সম্ভব

মেলা সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ২১ ও ২২ অক্টোবর আয়োজিত হয় গবেষণা ও প্রকাশনা মেলা।

সেখানে রসায়ন বিভাগের স্টলের জন্য পোস্টার নির্ধারণ কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে জানতে চাইলে বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহিদা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা কমিটি গঠন করে তাড়াহুড়ো করে দেয়া হয়েছে। আর পোস্টারে এমন কিছু ছিল না যে এত তোলপাড় করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে পাবলিশড প্রকাশনাগুলো দেয়া হয়েছে। পোস্টারের জন্য একটা কমিটি করে দেয়া হয়েছিল । তারাই এটি করেছে।’

অধ্যাপক হোসাইনের আলোচিত পোস্টারের ব্যাপারে বিভাগ জানত কি না, প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘তিনি (অধ্যাপক হোসাইন) সেভাবে আমাদের শো করে… এমনি একটা কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তবে কে কোনটা দিচ্ছে সেটা অত... (যাচাই) করা হয়নি। তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল তো তাই।’

গবেষণা মেলায় রসায়ন বিভাগের স্টল নিয়ে বিভাগটির অ্যাকাডেমিক কমিটি বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করে। এর একটি হলো কো-অর্ডিনেট কমিটি।

এই কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুশান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেলায় গবেষণাকর্ম প্রদর্শনের জন্য অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় সব শিক্ষকের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়। ২৫ জন শিক্ষক তাদের গবেষণার পোস্টার দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায় ২৫টা দেওয়া যাবে না। পরে আমরা ১২টা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

‘এরপর প্রশ্ন ওঠে এই ১২টা কারা দেবে। তখন বলা হয়েছে শতবর্ষ উপলক্ষে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া গ্র্যান্ট যারা পেয়েছেন তাদের দিতে হবে। তারা দেয়ার পর কোনো পোস্টারের স্ট্যান্ড খালি থাকলে কেউ সেকেন্ড পোস্টার বা বাকিরা দিতে পারবেন।’

ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কঙ্কালকে বিভিন্নভাবে দেখা সম্ভব

ড. সুশান বলেন, ‘সেই গ্র্যান্ট আবুল হোসাইনও পেয়েছেন। বলা হয়েছে, রিসার্চ অ্যাচিভমেন্ট হিসেবে কে কোনটা দেবে সেটা তার নিজের রেসপন্সবিলিটি। অধ্যাপক আবুল হোসাইনও দিয়েছেন। পরে তিনি যখন একাধিক পোস্টার দিতে চেয়েছেন তাকে বলা হয়েছে কোনো স্ট্যান্ড ফাঁকা থাকলে দিতে পারেন।

‘এরপরই মূলত মেলায় একটা স্ট্যান্ড ফাঁকা দেখে তিনি ওই পোস্টারটি ঝুলিয়েছেন। তবে সমালোচনা শুরু হলে ওনারটা সরিয়ে আরেক অধ্যাপকের পোস্টার দেয়া হয়।’

অধ্যাপক সুশান বলেন, ‘মেলায় বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বই প্ল্যাকার্ড ছাপানো হয়েছে। এগুলোর ভেতর বিভাগের ইতিহাস, অর্জন এবং ভবিষ্যতের তথ্য গেছে। এসব কনটেন্ট বাছাইয়ে একটা কমিটি ছিল। সেগুলো চেক করা হয়েছে। তবে আসলে বিশ্বের কোথাও পোস্টার আগে চেক করে ডিসপ্লে করা হয় না। এটা প্রেজেন্টারের নিজস্ব রেসপন্সবিলিটি।’

অধ্যাপক হোসাইন এমন কোনো কাজ করছেন বলেও কারও জানা ছিল না দাবি করে অধ্যাপক সুশান বলেন, ‘আমরা জানি, উনি ক্রোমিয়াম না কী নিয়ে গবেষণা করছেন। সেটা সায়েন্টিফিক। সেটা ডিসপ্লে হয়েছে। কিন্তু এটার ব্যাপারটা সমালোচনা হওয়ার পর পোস্টার দেখে জানতে পেরেছি।

‘ব্যক্তিগতভাবে ওনার এই পোস্টারটার বিষয়বস্তু আমার লজিক্যাল মনে হয়নি। আমাদের বিভাগে প্রচুর রিসার্চ ফিল্ড আছে, কিন্তু সব বাদ দিয়ে এ রকম একটা বিষয়ে তিনি যে কাজ করেন, সেটা আমরা কেউ জানতাম না। উনিও কখনও জানাননি। আর এটা কোনো রিসার্চ নয়, ওনার থিংকিং হতে পারে। সেটা মেলায় দেয়াটাই প্রাসঙ্গিক ছিল না।’

অধ্যাপক আবুল হোসাইনের পোস্টার নিয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেলায় আবুল হোসাইনের এটা ছাড়াও সায়েন্টিফিক একটা গবেষণাকর্ম ছিল। মেলা শুরুর পরে দুপুরে একটায় স্ট্যান্ড খালি পেয়ে তিনি তার ওই পোস্টারটি লাগিয়ে দেন।

‘আমি শুনেছি এটার ব্যাপারে বিভাগ অবহিত ছিল না। সমালোচনা শুরু হওয়ায় বিভাগের দৃষ্টিতে আসে এবং তাকে ডেকে এটি সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ করা হয়। পরে তিনি সেটি সরিয়ে ফেলেন।’

আবদুস সামাদ বলেন, ‘তার এই পোস্টারটা মেলায় আসারই কথা না। এটা তো গৃহীত হয়নি। গবেষণা মেলার সঙ্গে এটা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভাগকে বলেছি যেন ওনাকে সতর্ক করা হয়। আর এটা নিয়ে আমরা উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। স্যারও বলেছেন, ওনাকে সতর্ক করা হোক। অনুষদ থেকেও ওনাকে সতর্ক করা হবে, যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির সনদ, নম্বরপত্রের ফি জমা অনলাইনে
ঢাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করবে শিক্ষার্থীরা
‘লিটু স্যার আমার সঙ্গে যেটা করলেন তা মাস্তানি’
উপাচার্যকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায়…
ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য

মন্তব্য

p
উপরে