× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Artisans are busy making Durga Puja idols in Old Dhaka
hear-news
player
google_news print-icon

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পুরান-ঢাকায়-দুর্গাপূজার-প্রতিমা-তৈরিতে-ব্যস্ত-কারিগররা
পুরান ঢাকার একটি মন্দিরে চলছে পূজার শেষ প্রস্তুতি। প্রতিমা বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

বাংলাবাজারের নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়িতে দুর্গার বাহকসহ প্রতিমার শাড়ি ও অলংকার পরানোর কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আলোকসজ্জা ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজান হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপ। প্রতিমা দেখতে এখনই দর্শনার্থীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ১ অক্টোবর (১৪ আশ্বিন) ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ৫ অক্টোবর (১৮ আশ্বিন) বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়। শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয় পুরান ঢাকায়। এবার শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ।

এ বছর পুরান ঢাকায় নবকল্লোল পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী শিব মন্দির, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, সংঘমিত্র পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী রাধা মাধব জিউ দেব মন্দির, নতুন কুঁড়ি পূজা কমিটি, নববাণী পূজা কমিটি, রমাকান্ত নন্দীলেন পূজা কমিটিসহ আরও বেশ কিছু ক্লাব পূজা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিবমন্দীর, তাঁতী বাজার, সঙ্গ মিত্র, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, গোয়ালনগর ঘাট, জুলন বাড়িতে বড় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

কারিগররা সাধারণত অজন্তা ধাঁচের প্রতিমা বানিয়ে থাকেন। এগুলো ওরিয়েন্টাল প্রতিমা হিসেবে পরিচিত। অজন্তা ধাঁচের মূর্তির চাহিদা এখন বেশি। এ ধরনের মূর্তিতে শাড়ি, অলংকার ও অঙ্গসজ্জা সবই করা হয় মাটি ও রঙ দিয়ে। প্রতিমার শাড়ি, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ আলাদাভাবে কিনে নিতে হয়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়। দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা। দুর্গা মাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।

শাঁখারিবাজারের সংঘমিত্র পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন মানিকগঞ্জের সুকুমার পাল। এবারের দুর্গোৎসবে এখানকার ছয়টি প্রতিমা সহ বনানীতে আরও ছয়টি বানাচ্ছেন তিনি। নিউজবাংলাকে সুকুমার পাল জানান, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকায় এসব প্রতিমা বানানো হচ্ছে।

শাঁখারিবাজার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী বলাই পাল। তিনি বলেন, ‘এখনই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তাই দম ফেলার সময়ও নেই। এর মধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।’

কাজ শেষে বিশ্রামের ফাঁকে প্রতিমা শিল্পী পল্টন পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যত কষ্টই করি না কেন, যখন দেবীকে তার স্বরূপে মণ্ডপে বসানো হবে তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি প্রতিমাকে সবাই পূজা করে। তখন নিজেকে আমার সফল, সার্থক মনে হয়।’

শাঁখারি বাজারের প্রতিমা শিল্পী সুশীল নন্দীর মৃত্যুর পর এবার এ মন্ডপের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন তার মেয়ে অনামিকা নন্দী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবার কাছে এই কাজ দেখে ও শিখে আসছি। প্রাথমিকভাবে খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতা, তারকাটার প্রয়োজন হয়। মূর্তি শুকানোর পর রঙ করা হয়।’

জগন্নাথ অ্যাপার্টমেন্টে বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত ধষরত পাল। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, পাটুরিয়া, সাভার সহ বেশ কিছু জায়গা থেকে মাটি আনা হয়। আর সব জায়গার মাটি দিয়ে মায়ের প্রতিমা তৈরি করা হয়।

প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশি পাল জানান, খড় আর কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন রঙ আর তুলির আঁচড় দিয়ে দুর্গাকে সাজানো হবে।

দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Excitement of life in Karam festival

কারাম উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাস

কারাম উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাস সাপাহারে শুক্রবার বিকেলে কারাম উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ছবি: নিউজবাংলা
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারাম উৎসব আয়োজন নিছক বিনোদনের জন্য নয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার বিশেষ উদ্যোগ। আগে ছোট আকারে কারাম উৎসব আয়োজন হলেও এখন ব্যাপক পরিসরে হচ্ছে।’

‘কারাম উৎসব সমতলে বসবাস করা নৃ-গোষ্ঠীর প্রাণের উচ্ছ্বাস। এ উৎসব বরেন্দ্র অঞ্চলকে মিলন মেলায় পরিণত করে।’

শুক্রবার বিকেলে নওগাঁর সাপাহারে কারাম উৎসবে শামিল হয়ে এ কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

উপজেলার মদনশিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কারাম উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারাম উৎসব আয়োজন নিছক বিনোদনের জন্য নয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার বিশেষ উদ্যোগ। আগে ছোট আকারে কারাম উৎসব আয়োজন হলেও এখন ব্যাপক পরিসরে হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সব নাগরিকের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি রয়েছে। তাদের উন্নয়নে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।’

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাক মাদলের তালে নাচ-গান আর পূজা অর্চণার মধ্য দিয়ে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, পাহান, মালো, মাতোসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক এই উৎসব উদযাপন করা হয়।

উৎসবে বিভিন্ন উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ৮২টি সাংস্কৃতিক দল তাদের নিজস্ব গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। পরে মন্ত্রী নৃত্যানুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভুট্টু পাহান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল খালেক, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন মণ্ডল, পোরশার ইউএনও মো. জাকির হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁও হোটেলে ৫ দিনের ভারতীয় খাবার উৎসব
তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
কুমিল্লার সেই মণ্ডপে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতায় পূজা: বাহার
শামীমকে শুভেচ্ছা জানাল শাকিবের এসকে ফিল্মস
কুষ্টিয়ায় ৩ দিনের আনন্দ উৎসব

মন্তব্য

জীবনযাপন
Goodbye Goddess

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
মর্ত্য ছেড়ে বুধবার কৈলাসে ফিরতে যাত্রা করেছেন দেবী দুর্গা। পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। এর অর্থ হলো সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনা। দেবী মর্ত্য ছেড়েছেন নৌকায় চড়ে। এর ফলে ধরণি হবে শস্যপূর্ণ, তবে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা। বিভিন্ন জেলা থেকে নিউজবাংলার প্রতিবেদকদের পাঠানো দুর্গাবিদায়ের ছবি নিয়ে এই ফটোস্টোরি।
দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবী মাকে বিদায় জানাতে উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অন্যকে সিঁদুরে রাঙান, ঢাক-ঢোলের তালে নাচ-গান করেন। ছবিটি ব‌রিশাল মহানগ‌রের রাধা গো‌বিন্দ নিবা‌সের। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মণ্ডপে দেখা গেছে দুর্গাবিদায়ের আগ মুহূর্তের এই সিঁদুর খেলার দৃশ্য। ভক্তরা জানান, সিঁদুরের লাল রঙ শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। ছবিটি দক্ষিণ কালিবাড়ি পূজামণ্ডপ থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বিসর্জনের জন্য আনা হয়েছে দেবী দুর্গার এই প্রতিমা। পতেঙ্গার পাশাপাশি নেভাল-২, অভয়মিত্র ঘাট এবং কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট সেতু এলাকাতেও হয়েছে বিসর্জন। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবীর বিসর্জন হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এই দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীরাও জড়ো হন। এই ছবি কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্ট থেকে তোলা। বুধবার বিকেলে সেখানে বিসর্জন করতে ও দেখতে ভিড় জমায় লাখো লোক। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর চারটি ঘাটে হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। সবচেয়ে বেশি বিসর্জন করা হয় মুন্নুজান ঘাটে। এ বছর জেলায় সাড়ে ৪০০ মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবীর আরাধনা, সিঁদুর খেলা ও নাচ-গানের পর লালমনিরহাটে বিকেল ৪টায় শুরু হয় বিসর্জন। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
মৌলভীবাজার জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সিদ্ধান্তে বিকেলে মনুনদের দক্ষিণ প্রান্তে পৌরশহরের পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবীর বিসর্জনের এই দৃশ্য সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর রিভার ভিউ এলাকার। বিকেল থেকে সেখানে শুরু হয় দুর্গোৎসবের সবশেষ কার্যক্রম। ছবি: নিউজবাংলা
আরও পড়ুন:
দুর্গার প্রতিমা গড়ে আলোচনায় ১৩ বছরের কিশোর
দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন লিটন-সৌম্য
মোমের আলোয় অপার্থিব পূজা মণ্ডপ
‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়
বিদায়ের ক্ষণে দেবী দুর্গা, আজ চামুণ্ডার পূজা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Durga did not come the black flag was hanging in the mandap

দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা

দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা
এলাকার এক হিন্দু গৃহবধূ দুই মাস আগে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। সেই ঘটনায় জড়িতদের এত দিনেও চিহ্নিত করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবার দুর্গা পূজা করছেন না এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে দেশজুড়ে। তবে সেই উৎসবের লেশমাত্র নেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া কুমারপাড়ায়। প্রতি বছর এলাকার মন্দিরে ধুমধাম করে হয় দেবী আরাধনা। এবার সেই মন্দির নিস্তব্ধ। মন্দিরের সামনে ঝুলছে কালো পতাকা।

এলাকার এক হিন্দু গৃহবধূ দুই মাস আগে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। সে ঘটনায় জড়িতদের এত দিনেও চিহ্নিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবার দুর্গা পূজা করছেন না এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

পূজা বর্জনের পাশাপাশি তারা মন্দিরের সামনে টানিয়েছেন শোক প্রতীক কালো পতাকা।

উপজেলার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া কুমারপাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে গত ২৯ জুলাই ওই গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা ১০ বছরের মেয়েকেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ঘটনার দুই মাস পরেও জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি।

এলাকার বাসিন্দা অনন্ত কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধর্ষণ-হত্যার বিচার না পাওয়ায় আমরা শারদীয় দুর্গাপূজা বর্জন করে কালো পতাকা উত্তোলন করে শোক পালন করছি। যতদিন ন্যায়বিচার পাব না, ততদিন আমরা এই মণ্ডপে কোনো ধর্মীয় উৎসব করব না। আমরা শোককে শক্তি রূপে নিতে চাই।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি দিয়েছে নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন।

নিহতের কাকা জীতেন্দ্র নাথ রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মাসেও ধর্ষণ ও হত্যার আসামি ধরা না পড়ায় আমরা হতাশ। স্বাধীন দেশেও যদি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়?’

খানসামা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, ‘তারা (এলাকাবাসী) তাদের মেয়ে হত্যার প্রতিবাদ করবে এটা স্বাভাবিক। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে অবহিত করার পরেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তারা এমন প্রতিবাদ করেছে। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমি সংহতি প্রকাশ করেছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মকবুল হোসেন নিউবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটি কয়েক দিন আগে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় কারও নাম দেয়া হয়নি, অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। আমাদের তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
পাঁচগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী লাল দুর্গা
মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ঘুরছেন পুণ্যার্থীরা, নিরাপত্তায় সন্তোষ
গান্ধীর আদলে অসুর, হিন্দু মহাসভার বিরুদ্ধে এফআইআর
জঙ্গিদের চেয়ে স্মার্ট র‍্যাব: ডিজি
অসুরের বদলে গান্ধী বধ, প্রতিমা ঘিরে বিতর্ক

মন্তব্য

জীবনযাপন
The exception has always been the Puja of the Tiger Sangha

বরাবরই ব্যতিক্রম টাইগার সংঘের পূজা

বরাবরই ব্যতিক্রম টাইগার সংঘের পূজা
নগরীর রাণীবাজারে টাইগার সংঘের পূজার মণ্ডপে এবার শোভা পাচ্ছে ২৬ ফিট উচ্চতার একটি বিশ্বকাপ ট্রফি। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের পতাকাও সেখানে ঝোলানো আছে। ঠিক মাঝখানে আছে বাংলাদেশের পতাকা।

দুর্গাপুজায় রাজশাহীর টাইগার সংঘ এবার কেমন মণ্ডপ বানিয়েছে- তা দেখতে মুখিয়ে থাকে দর্শনার্থীরা। প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন থিমে এই সংঘ গড়ে তোলে তাদের মণ্ডপ।

কখনও করোনা ও মাস্ক, কখনও আইয়ুব বাচ্চুর রুপালি গিটার, কখনও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে এই সংঘ তাদের মণ্ডপের নকশায় হাইলাইট করেছে।

এ বছর তারা মণ্ডপ সাজিয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফির নকশায়।

নগরীর রাণীবাজারে টাইগার সংঘের পূজার মণ্ডপে এবার শোভা পাচ্ছে ২৬ ফিট উচ্চতার একটি বিশ্বকাপ ট্রফি। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের পতাকাও সেখানে ঝোলানো আছে। ঠিক মাঝখানে আছে বাংলাদেশের পতাকা।

প্রতিদিনই পূণ্যার্থীদের চেয়ে বেশি দর্শনার্থীরাই এখানে ঘুরতে আসে।

টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, ‘বরাবরই শারদীয় দুর্গোৎসবে নতুন আর ব্যতিক্রমী সাজে মণ্ডপ সাজিয়ে থাকি আমরা। এবারও ব্যতিক্রমী একটি ভাবনা আনা হয়েছে। এবার আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার কথা মাথায় রেখে ২৬ ফিটের একটি ট্রফি ও বিভিন্ন দেশের পতাকা দিয়েই থিম করা হয়েছে।

‘ভেতরে ১২ ফিটের প্রতিমা বসানো হয়েছে। এবারই প্রথম এমন হচ্ছে তা নয়। প্রতিবারই আমাদের মণ্ডপ থাকে আলোচনায়। প্রতি বছর পূজা শেষে আলোচিত মণ্ডপগুলোর যে তালিকা হয় তাতে প্রথম স্থানটায় জায়গা করে নেয় টাইগার সংঘ।’

বরাবরই ব্যতিক্রম টাইগার সংঘের পূজা

গত ৮ বছর ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহুল আলোচিত বিষয়গুলো মাথায় রেখে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে বলে জানান পার্থ। এতে খরচাপাতি যা হয় তা সংঘের সদস্যদের চাঁদা ও পরিচিতজনদের সহযোগিতায় করা হয়। এবার মণ্ডপ বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।

পার্থ জানান, এবার টাইগার সংঘের ৪০তম পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর করোনার সচেতনায় করোনা ও মাস্ক দিয়ে থিম করা হয়েছিল। এর আগের বছর আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুকে স্মরণ করে রুপালি গিটারে সেজেছিল মণ্ডপ। তার আগে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বাহুবলী, ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখের অবয়ব দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করে বেশ কুড়িয়েছিল।

এবার মণ্ডপ ঘুরতে আসা অনিল কুমার বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখি। এবারও অনেক মণ্ডপ ঘুরেছি। এখানকার সামনের অংশটা খুবই সুন্দর হয়েছে। এর আগে আইউব বাচ্চুর গিটার নিয়ে যে মণ্ডপ হয়েছিল সেটাও খুবই সুন্দর হয়েছিল।’

বরাবরই ব্যতিক্রম টাইগার সংঘের পূজা

বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন কল্যানী রানী। তিনি বলেন, ‘আমরা যতগুলো মণ্ডপ দেখেছি সবগুলোই সুন্দর লেগেছে। তবে এটা একটু আলাদা ধরনের হয়েছে। আমার বাচ্চারা দেখে খুব খুশি হয়েছে।’

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তপন কুমার সেন জানান, এ বছর রাজশাহীতে সাড়ে ৪০০ মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে ৭৬টি ও ৯ উপজেলায় ৩৭৪টি।

আরও পড়ুন:
দুর্গার প্রতিমা গড়ে আলোচনায় ১৩ বছরের কিশোর
মোমের আলোয় অপার্থিব পূজা মণ্ডপ
‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়
বিদায়ের ক্ষণে দেবী দুর্গা, আজ চামুণ্ডার পূজা
পাঁচগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী লাল দুর্গা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Mayors order to ensure the cleanliness of the worship hall

পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রের নির্দেশ

পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রের নির্দেশ শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেছে ডিএনসিসি। ছবি: সংগৃহীত
‘শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব এলাকায় মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ হচ্ছে কি না- সে বিষয়েও খোঁজ নিতে হবে।’

দুর্গাপূজায় মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রোববার নগর ভবনের হলরুমে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, ‘সব ধর্মের উৎসব আয়োজনে ডিএনসিসি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হবে।

‘শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব এলাকায় মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ হচ্ছে কি না- সে বিষয়েও খোঁজ নিতে হবে।’

ডিএনসিসির কুইক রেসপন্স টিমকে প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় পূজামণ্ডপে আগত শিশু ও নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যানজট নিরসনে অনুরোধ করা হয় পুলিশকে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার সঞ্চালনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন বিষয়ে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা।

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে এবার কর্কশিটের দুর্গা
গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
আজ মহাসপ্তমী

মন্তব্য

জীবনযাপন
Barisal city is shining with lights

আলোয় আলোয় ঝলমলিয়ে বরিশাল নগর

আলোয় আলোয় ঝলমলিয়ে বরিশাল নগর
নগরীর সবচেয়ে বড় পূজামণ্ডপ শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন ক‌মি‌টির সহ-সাধারণ সম্পাদক সবুজ দাস ব‌লেন, ‘ক‌রোনার প্রকোপ কা‌টি‌য়ে স্বাভা‌বিক অবস্থায় অ‌নেকটাই ফি‌রে‌ছি আমরা। তাই এ বছর বড় ভা‌বে পূজা উদযাপ‌নের উদ্যোগ নি‌য়ে‌ছি।’

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও পূজামণ্ডপ বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঝলমলিয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই বাহারি আলোকসজ্জা মুগ্ধ করছে নগরবাসীকে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীতে আলোয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পায়রা সেতু।

করোনাকাল কাটিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এবার কমতি রাখতে চায় না আয়োজকরা। পূজা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ কঠোর বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

নগরীর সবচেয়ে বড় পূজামণ্ডপ শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন ক‌মি‌টির সহ-সাধারণ সম্পাদক সবুজ দাস ব‌লেন, ‘ক‌রোনার প্রকোপ কা‌টি‌য়ে স্বাভা‌বিক অবস্থায় অ‌নেকটাই ফি‌রে‌ছি আমরা। তাই এ বছর বড় ভা‌বে পূজা উদযাপ‌নের উদ্যোগ নি‌য়ে‌ছি।

‘আধু‌নিক লাইট দি‌য়ে মূল ম‌ন্দির সাজা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া ম‌ন্দি‌রের ম‌ধ্যের ও বাই‌রের প্রায় আধা কি‌লো‌মিটার সড়কে আ‌লোকসজ্জা করা হ‌য়ে‌ছে। পুকু‌রের ম‌ধ্যে টিউবলাইট দি‌য়ে তৈরি করা হ‌য়ে‌ছে পায়রা সেতু। পাশাপা‌শি এলইডি লাইট দি‌য়ে তৈরি করা হ‌য়ে‌ছে দুই‌টি বিশাল তোড়ন।’

আলোয় আলোয় ঝলমলিয়ে বরিশাল নগর

আ‌লোকসজ্জা দেখ‌তে বের হয়েছেন স্থানীয় শ্রাবন্তী নন্দী। তিনি ব‌লেন, ‘দুর্গাপূজা এ‌লে পু‌রো নগরীর সড়ক আ‌লো‌তে ঝলমল ক‌রে ও‌ঠে। আর সেই ঝলমলে নগরী দেখ‌তেই প‌রিবার নি‌য়ে বের হ‌য়ে‌ছি।

‘৬‌টি পূজামণ্ডপের আ‌লোকসজ্জা ঘু‌রে দে‌খে‌ছি রিকশায় চড়ে। নতুন বাজার, অষ্ট‌কোনা মঠ, জগন্নাথ ম‌ন্দির, শংকর মঠ, কাটপ‌ট্রি চার্চওয়ার্ড ও পাষানময়ী কা‌লিমাতার মন্দিরে ঘু‌রে‌ছি।’

পূজা শুরুর আগেই মণ্ডপগু‌লো‌তে টহল জোড়দার করা হ‌য়ে‌ছে জা‌নি‌য়ে‌ মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের দ‌ক্ষিণ বিভা‌গের অ‌তি‌রিক্ত উপক‌মিশনার ফজলুল ক‌রিম ব‌লেন, ‘বন্দর ও কোতোয়ালি ম‌ডেল থানা এলাকা মি‌লি‌য়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ আছে ১১‌টি। সেগু‌লো‌তে ৫ জন ক‌রে স্থায়ী পু‌লিশ থাক‌বে। পাশাপা‌শি পু‌লিশ সদস‌্যদের সহায়তা কর‌বে আনসার সদস‌্যরাও।’

আলোয় আলোয় ঝলমলিয়ে বরিশাল নগর

তি‌নি ব‌লেন, ‘মহানগ‌রের সব পূজামণ্ডপেই মোবাইল টিম থাক‌বে। পাশাপা‌শি সাদা পোশাকধারী পু‌লিশ সদস‌্যরা দা‌য়িত্ব পালন কর‌বে। আমরা মাদ‌কের বিরু‌দ্ধে বেশ শক্ত অবস্থা‌নে র‌য়ে‌ছি।’

ব‌রিশাল জেলা পু‌লিশ সুপার ওয়া‌হিদুল ইসলাম ব‌লেন, ‘জেলা পু‌লি‌শের থানাগু‌লোর আওতায় ৫৩২‌টি পূজা মণ্ডপে পূজা নি‌র্বিঘ্ন কর‌তে এসব মণ্ডপগু‌লোর ম‌ধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বি‌বেচনায় স্থায়ীভা‌বে মোট ৬০০ পু‌লিশ সদস‌্য দা‌য়িত্ব পালন কর‌বে।

‘কেউ য‌দি পূজামণ্ডপে অরাজকতা করার চেষ্টা ক‌রে তাহ‌লে তা ক‌ঠোর হা‌তে দমন করা হ‌বে।’

আরও পড়ুন:
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

জীবনযাপন
There is round the clock security at Mandap in Dighirpar Nanua

নানুয়ার দীঘিরপাড়ের মণ্ডপে এবার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা

নানুয়ার দীঘিরপাড়ের মণ্ডপে এবার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দীঘিরপাড়ের মণ্ডপে চলছে দুর্গা পূজা আয়োজনের প্রস্তুতি। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এবার নানুয়ার দীঘির পাড়সহ জেলার সবক’টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের দিয়ে সার্বক্ষণিক পাহারাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দীঘিরপাড়ের মণ্ডপে এবারের দুর্গা পূজায় থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ সার্বক্ষণিক কড়া নিরাপত্তা। গত বছর এই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখার ঘটনায় কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা হয়।

আলোচিত ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় পূজামণ্ডপসহ ঘরবাড়ি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

নানুয়ার দীঘিরপাড়ের মণ্ডপের ওই ঘটনা নিয়ে নিউজবাংলা ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে। কারা এই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিল, কিভাবে এই ঘটনার শুরু তা ভিডিও ফুটেজসহ প্রকাশ করে বেশ আলোচনায় ছিল অনলাইন নিউজপোর্টালটি।

গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার জের ধরে নানুয়ার দীঘিরপাড়ে এবার পূজার আয়োজন হবে কিনা তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে সংশয়ে ছিল নগরীর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তবে শেষ পর্যন্ত এই মণ্ডপে পূজার আয়োজন হচ্ছে এবং তা বেশ ঘটা করেই।

অতীতের ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনও এবার এ মণ্ডপের নিরাপত্তায় সচেষ্ট হয়েছে।

বুধবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেই এ বছর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজা হবে। কেউ ষড়যন্ত্র করলে সে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।’

সরেজমিনে বুধবার দেখা যায়, নানুয়ার দীঘিরপাড় মণ্ডপে পূজা আয়োজন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন মণ্ডপ কমিটির সদস্য রাজিব সাহা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার থেকে মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে। সবাই খুব আনন্দে আছে। আমরা পুরনো ব্যথা ভুলে গিয়ে পূজার আনন্দে মেতে উঠতে চাই।’

দর্পণ সংঘ পূজা উদযাপন কমিটির ব্যানারে ১৯৬৬ সাল থেকে নানুয়ার দীঘিরপাড়ে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী ও নব্বই দশকের কয়েক বছর ছাড়া নিয়মিতই এখানে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করে পূজার উদযাপন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

দর্পণ সংঘ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অচিন্ত্য দাস টিটু বলেন, ‘এ বছর নানুয়ার দীঘিরপাড়ে পূজা মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। এছাড়াও কমিটির ২১ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মণ্ডপ পাহারা দেয়ার। এ বছর মণ্ডপের বাইরে কোনো থিম থাকবে না।’

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ‘পূজায় নিরাপত্তা দিতে কয়েক স্তরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কেউ কোনো ধরনের নাশকতা করে পালিয়ে যেতে পারবে না।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এবার নানুয়ার দীঘির পাড়সহ জেলার সবক’টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের দিয়ে সার্বক্ষণিক পাহারাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এ বছর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ পুরো জেলায় ৭৯৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি
তুমব্রু সীমান্তে দুর্গোৎসব নিয়ে উৎকণ্ঠা
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার

মন্তব্য

p
উপরে