× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
20 artists and organizations are receiving Shilpakala medals
hear-news
player
print-icon

শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন ২০ গুণী ও সংগঠন

শিল্পকলা-পদক-পাচ্ছেন-২০-গুণী-ও-সংগঠন
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বৃহস্পতিবার ১৮ গুণী ব্যক্তিত্ব ও দুটি সংগঠনকে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৯ ও ২০২০’ দেয়া হচ্ছে। মনোনীতদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, সনদ ও এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হবে।

বাঙালি জাতির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম ও অর্জনে বরাবরই বিশেষ ভূমিকা রেখে এসেছেন এদেশের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। নাটক, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রকর্মসহ শিল্পের সব শাখার মাধ্যমে তাঁদের অবদান অপরিসীম।

হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের লালন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজও কাজ করে যাচ্ছেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে তারা নিঃস্বার্থভাবে অবদান রেখে চলেছেন।

দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের অবদানকে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে ‘শিল্পকলা পদক’।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘শিল্পকলা পদক ২০১৯ ও ২০২০’ দেয়া হচ্ছে ১৮ গুণী ব্যক্তিত্ব ও দুটি সংগঠনকে।

শিল্পকলা একাডেমি মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে পদক বিতরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আলোচনা ও পদক প্রদান শেষে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নীতিমালা অনুযায়ী ১৬ সদস্যের কমিটি প্রতি বছর পদকের জন্য মনোনীতদের নির্বাচন করে থাকে। ‘শিল্পকলা পদক’-এর জন্য মনোনীত ব্যক্তি/ব্যক্তিদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, সনদ ও এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হবে।

পদক প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত ক্ষেত্র ১০টি হলো- কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা, আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি, যাত্রাশিল্প, চলচ্চিত্র ও লোকসংস্কৃতি, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক এবং সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষক।

করোনা মহামারির কারণে ‘শিল্পকলা পদক’-এর অনুষ্ঠান স্থগিত থাকায় এ বছর ২০১৯ ও ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে দেয়া হচ্ছে।

২০১৯ সালে যারা শিল্পকলা পদক পেয়েছেন

নাট্যকলায় মাসুদ আলী খান, কণ্ঠসঙ্গীতে হাসিনা মমতাজ, চারুকলায় আবদুল মান্নান, চলচ্চিত্রে অনুপম হায়াৎ, নৃত্যকলায় লুবনা মারিয়াম, লোকসংস্কৃতিতে শম্ভু আচার্য, যন্ত্রসঙ্গীতে মো. মনিরুজ্জামান, ফটোগ্রাফিতে এম এ তাহের, আবৃত্তিতে হাসান আরিফ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্যাটাগরিতে ছায়ানট।

২০২০ সালে যারা পদক পেয়েছেন

নাট্যকলায় মলয় ভৌমিক, কণ্ঠসঙ্গীতে মাহমুদুর রহমান বেনু, চারুকলায় শহীদ কবীর, চলচ্চিত্রে শামীম আখতার, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ, লোকসংস্কৃতিতে শাহ আলম সরকার, যন্ত্রসঙ্গীতে মো. সামসুর রহমান, ফটোগ্রাফিতে আ ন ম শফিকুল ইসলাম স্বপন, আবৃত্তিতে ডালিয়া আহমেদ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্যাটাগরিতে দিনাজপুর নাট্য সমিতি।

আরও পড়ুন:
‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

মন্তব্য

জীবনযাপন
Irani 2 sisters heartwarming moments in freedom of dress

পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’

পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’ ‘বেলা চাও’-এর ফার্সি সংস্করণ গাইছেন বেহিন ও সামিন বোলোরি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি দুই বোনের গাওয়া একটি গান ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়। উনিশ শতকের ইতালীয় ভাষায় রচিত বিপ্লবী লোকগান ‘বেলা চাও’- এর ফার্সি সংস্করণ ছুঁয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষকে। মাহসা যেদিন মারা যান, সেই ১৬ সেপ্টেম্বরেই ইনস্টাগ্রামে গানটি আপলোড করেন ইরানি তরুণী বেহিন বোলোরি ও তার ছোট বোন সামিন বোলোরি।

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানজুড়ে চলছে অভূতপূর্ব বিক্ষোভ। ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন ইরানের মেয়েরা। তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে শামিল হচ্ছেন পুরুষরাও।

যে পোশাক বিধি অমান্যের অভিযোগে ২২ বছরের আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়, তার প্রতিবাদে এখন প্রকাশ্যে হিজাব পুড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। অনেকে কেটে ফেলছেন নিজের চুল। কট্টর শাসনের অধীন ইরানে এমন বিক্ষোভ নাড়া দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।

দেশের বাইরে থেকে ইরানের নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েও বিক্ষোভ চলছে। এথেন্স, বার্লিন, ব্রাসেলস, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, সান্তিয়াগো, স্টকহোম, হেগ, টরন্টো, ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিভিন্ন শহরে চলছে প্রতিবাদ।

এর মধ্যেই ইরানি দুই বোনের গাওয়া একটি গান ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়। উনিশ শতকে ইতালীয় ভাষায় রচিত বিপ্লবী লোকগান ‘বেলা চাও’- এর ফার্সি সংস্করণ ছুঁয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষকে। মাহসা যেদিন মারা যান, সেই ১৬ সেপ্টেম্বরেই ইনস্টাগ্রামে গানটি আপলোড করেন ইরানি তরুণী বেহিন বোলোরি ও তার ছোট বোন সামিন বোলোরি।

গানটিতে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথা রয়েছে। প্রবল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একজন বিপ্লবীদের প্রতি তাকে সঙ্গী করার আহ্বান জানান। তার আকাঙ্ক্ষা দখলবাজ শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়েই মৃত্যু হবে, এরপর সহযোদ্ধারা তাকে শায়িত করবেন ফুলে ঢাকা কোনো পাহাড়ে।

ভাইরাল গানের ভিডিওটি ইরানি শিল্পী বেহিন বোলোরি #bellaciao হ্যাশট্যাগে নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। শিরোনামে প্রতিবাদে শামিল না হওয়া ইরানিদের প্রতি বিদ্রূপাত্মক ভাষায় তিনি লেখেন, ‘ইউ আর নট অ্যাওয়েক আনটিল টুমরো... (ভোর না হওয়া পর্যন্ত তোমরা জাগবে না)।’

ভিডিওতে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে ২৮ বছরের বেহিন বোলোরি ও ২১ বছরের বোন সামিন বোলোরিকে ফার্সি ভাষায় ‘বেলা চাও’ গানটি গাইতে দেখা যায়। সোমবার পর্যন্ত ৪২ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। মন্তব্যে ইরানি নারীর পোশাকের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

ইরানের রাশত শহরে বেহিন বোলোরির জন্ম ১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই। থিয়েটার কস্টিউম ডিজাইনে ডিগ্রিধারী বেহিন একজন পেশাদার পপ গায়িকা। পাঁচ বছর ধরে ছোট বোন সামিন বোলোরির সঙ্গে ডুয়েট গাইছেন তিনি।

নিউজবাংলার পাঠকের জন্য গানটির ইংরেজি সংস্করণের বাংলা অনুবাদ দেয়া হলো

একদিন ভোরে ঘুম ভেঙে দেখি,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও! (বিদায় হে সুন্দর)

একদিন ভোরে ঘুম ভেঙে দেখি

দখলবাজেরা আসছে ছুটে।

হে দেশপ্রেমী আমাকেও নিয়ে যাও,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

হে দেশপ্রেমী আমাকেও নিয়ে যাও,

ওদিকে মৃত্যু আসছে ধেয়ে।

যদি মরে যাই দেশপ্রেমী হয়ে,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

যদি মরে যাই দেশপ্রেমী হয়ে,

তবে তোমারি হাতে হবে আমার সমাধি।

আমাকে শুইয়ে দিও পাহাড়ে,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

আমাকে শুইয়ে দিও পাহাড়ে,

দারুণ সুন্দর কোনো ফুলেল ছায়ায়।

পাশ দিয়ে যাওয়া পথিক তাকাবে,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

পাশ দিয়ে যাওয়া পথিক তাকাবে,

বলবে, ‘কী দারুণ ফুল।‘

এই ফুল দেশপ্রেমিকের,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

এই ফুল দেশপ্রেমিকের,

স্বাধীনতার জন্য যারা দিয়েছে প্রাণ।

আরও পড়ুন:
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল

মন্তব্য

জীবনযাপন
Sarada Hall is opening by November

সারদা হল উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে

সারদা হল উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে মঙ্গলবার সম্মিলিত নাট্য পরিষদের কর্মসূচিতে সারদা হল উন্মুক্ত করার আশ্বাস দেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র আরিফুল হক বলেন, ‘আমরা এই ঐতিহ্য রক্ষা করব। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সারদা স্মৃতি ভবন এবং পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার খুলে দেয়া হবে।’

নভেম্বরের মধ্যে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সারদা হল সংস্কৃতি চর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। পাঠকদের জন্য পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারও খুলে দেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সারদা হল উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবিতে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের কর্মসূচিতে হাজির হয়ে এমন আশ্বাস দেন মেয়র আরিফ।

১৯৩৬ সালে সিলেট শহরের সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় নির্মাণ করা হয় ‘সারদা স্মৃতি ভবন’। সংস্কৃতি চর্চার বিকাশে সিলেটের একটি ব্যবসায়ী পরিবার ৩৯ শতক জমিতে কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের আদলে সারদা হল নামে মিলনায়তনটি নির্মাণ করে। এরপর থেকে সেখানে গান, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো।

২০১২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তখন সারদা হল ও পাশের পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারকে সিটি করপোরেশন অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে। পরে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরুর পরও এই দুই ভবনের দখল ছাড়েনি তারা। এক পর্যায় সিটি করপোরেশন এগুলো ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।

সারদা হল সংস্কৃতি চর্চার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। মঙ্গলবার তারা আন্দোলনে নামেন।

বিকেলে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সারদা হলের সামনে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে।

নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদী সমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

মিশু বলেন, ‘সারদা হল সিলেটের সংস্কৃতি চর্চার স্থান, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট সিটি করপোরেশন হলটি ভাগাড়ে পরিনত করে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

প্রতিবাদী কর্মসূচিতে হাজির হন মেয়র আরিফুল হক। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঐতিহ্য রক্ষা করব। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সারদা স্মৃতি ভবন এবং পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার খুলে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস বা মুছে ফেলা কারোরই কাম্য নয়। সারদা স্মৃতি ভবনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে এটি চালু করা হবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আল-আজাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, রকিবুল ইসলাম ঝলক, সৈয়দ তৌফিকুল হাদি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোকাদ্দেছ বাবুল।

আরও পড়ুন:
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি
টিএসসির অনুষ্ঠানে হামলা ও সাংস্কৃতিক দায়
জাতীয় সংগীত পুরস্কার প্রবর্তনের ভাবনা
প্রস্তাবিত বাজেটে অসন্তুষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা
সংস্কৃতিতে ৬৫, তথ্যে বেড়েছে ১৫ কোটি টাকা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Today is the death anniversary of Shah Abdul Karim

‘কেমনে চিনিব তোমারে...’

‘কেমনে চিনিব তোমারে...’ বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির পাশেই নদীর ঘাটে বাধা রঙিন নৌকা, নাম- করিম তরী। করিমের ছবি আর গানের কথায় সাজানো নৌকাটি। আরেকটু এগোলেই একটি ভবন- ‘শাহ আবদুল করিম স্মৃতি জাদুঘর’। ভবনের সামনে করিমের আবক্ষ ভাস্কর্য আর ঘরের ভেতর ঠাসা বাধ্যযন্ত্র, সনদ, ছবি ও তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রে। এর পাশেই দুটি সমাধি। পাশপাশি শুয়ে আছেন দুজন। আবদুল করিম আর তার স্ত্রী সরলা। মৃত্যুও যাদের আলাদা করতে পারেনি।

বাজারের চায়ের দোকানগুলো থেকে যদিও হিন্দি সিনেমার সংলাপ আর ওয়াজের সুর ভেসে আসছে, এর মধ্যেই মাঝির কণ্ঠে শাহ আবদুল করিমের গান- ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি...’। ধল বাজারে এসে নৌকা থামতেই কানে ভেসে আসল এমন সুর।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার এই বাজার ঘেঁষে উজান ধল গ্রাম। এই গ্রামেই ১৯১৬ সালে জন্ম নেন শাহ আবদুল করিম। যিনি পরবর্তীতে হয়ে উঠেন ভাটির মানুষের দুঃখ-বঞ্চনা, প্রেম-বিরহ, ভালোবাসা ও ক্ষোভের সুরেলা কথক। মাটি আর মানুষের কথা ও সুরে গান গেয়ে হয়ে উঠেন বাউল সম্রাট। ১২ সেপ্টেম্বর তাকে হারানোর দিন; ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাউল সম্রাটের বাড়িতে যাওয়ার পথেই দেখা রশিদ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনিও বাউল। করিমেরই শিষ্য। আবদুল করিমকে ‘বাবা’ সম্বোধন করেন।

বাজারের রেস্টুরেন্টগুলো থেকে কানে আসা সুর ও স্বর নিয়ে কথা উঠতেই আক্ষেপ তার কণ্ঠে। রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাটির আগের দিন আর নাই। ঘরে ঘরে ডিশলাইন এসে গেছে। মোবাইলও আছে সবার। এসবে এখন খালি ভিনদেশি গান বাজে। ভাটির সুর, বাউল সুর আর তেমন কানে আসে না।’

বলতে থাকেন রশিদ উদ্দিন- ‘ধর্মের কথা বলে তো এখন আমাদেরও গানে বাধা দেয়া হয়। অথচ আগে এমন ছিল না। আগে বর্ষা মৌসুমে প্রতি ঘরেই বাউল গানের আসর বসত। আমরা দিনরাত গান করতাম। কিছু বাধা ছিল, তবে বেশিরভাগ মানুষ গানে উৎসাহ দিত।’

‘কেমনে চিনিব তোমারে...’

আব্দুল রশিদের কাছে বদলে যাওয়া দিনের আফসোস শুনতে শুনতেই পৌঁছে যাওয়া আবদুল করিমের বাড়িতে। করিম গত হয়েছেন ১৪ বছর। তবু এখনো পুরো বাড়িটিই যেনো করিমময়।

বাড়ির পাশেই নদীর ঘাটে বাধা রঙিন নৌকা, নাম- করিম তরী। করিমের ছবি আর গানের কথায় সাজানো নৌকাটি। আরেকটু এগোলেই একটি ভবন- ‘শাহ আবদুল করিম স্মৃতি জাদুঘর’। ভবনের সামনে করিমের আবক্ষ ভাস্কর্য আর ঘরের ভেতর ঠাসা বাধ্যযন্ত্র, সনদ, ছবি ও তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রে। এর পাশেই দুটি সমাধি। পাশপাশি শুয়ে আছেন দুজন। আবদুল করিম আর তার স্ত্রী সরলা। মৃত্যুও যাদের আলাদা করতে পারেনি।

এসব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েও পুরনো আফসোস আবারও প্রকাশ করেন আব্দুল রশিদ। বলেন, ‘সবই আছে কিন্তু আগের পরিবেশটা নাই। ভাটি এলাকা কিছুটা উন্নত হচ্ছে, তবে মানুষগুলো বদলে যাচ্ছে। আগের মতো গানের আসর নেই।’

করিম সঙ্গীতালয়ের ভগ্নদশা নিয়েও আক্ষেপ তার কণ্ঠে।

হাওরে তখন বন্যা। চারদিকে থৈ থৈ পানি। পানিতে ডুবছে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান। চারদিকে ফসল হানির হাহাকার। কৃষকের আর্তনাদ। শাহ আবদুল করিমের গানেও পাওয়া যায় হাওরের এই অকালবন্যার চিত্র। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ভাটির চিঠি গ্রন্থে করিম লিখেছেন- ‘জল নামে রাস্তায় কোনো বাধাবিঘ্ন নাই।/ প্রচুর মাটি নেমে আসে চোখে দেখতে পাই।/ পাহাড়ি জল নিচে নেমে নদীপথে চলে/ এলাকা প্লাবিত হয় অকালবন্যার জলে।’

এই গানটির প্রসঙ্গ টেনে করিমপুত্র শাহ নুর জালাল বলেন, ‘গানে তো বাবা মানুষ, হাওর আর ভাটির কথাই বলে গেছেন। কিন্তু ভাটির মানুষের দুর্দশা গোছাতে তো কেউ উদ্যোগ নেয় না। ঢলে পানির সঙ্গে মাটি আসায় নদী ভরাট হচ্ছে। এতে বন্যা বেশি হচ্ছে। এটা বাবা অনেক আগে গানে বলে গেছেন। কিন্তু নদী খনন তো আর হয়নি। ফলে প্রতি বছরই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

গানে গানে এভাবেই মানুষের কথা, ভাটির দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলেন আবদুল করিম। ফলে বাউল হয়েও তিনি হয়ে গেয়ে ছেন গণসঙ্গীত শিল্পী। হয়ে উঠেছেন গণমানুষের শিল্পী।

পাঁচ বছর পর পর দেশে ভোট আসে। গরীবের উন্নয়নের আশ্বাস আর ধর্মের বাণী নিয়ে ভোটারদের কাছে আসেন প্রার্থীরা। ভোটের লোকজনও দাঁড়ায় ভোটের লাইনে। কিন্তু তদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। গরিব আরও গরিব হয়ে ওঠে।

করিমের উপলব্দি তাই গরীবের কেউ নেই। তিনি লিখেছেন- ‘ভোট দিবায় আজ কারে?/ ভোট শিকারী দল এসেছে নানা রঙ্গ ধরে/... কেউ দিতাছে ধর্মের দোহাই, কেউ বলে গরিবের ভাই/ আসলে গরিবের কেউ নাই, গরিব ঠেকছে ফেরে।’

রাজনীতিবিদদের এই শঠতা আর সাধারণ মানুষের বঞ্চনা নিয়ে আরেক গানে করিম গেয়েছেন- ‘ভাইরে ভাই/ভোট নেওয়ার সময় আইলে/ নেতা সাহেব এসে বলে/ এবার আমি পাশ করিলে/ কাজ করবো গরিবের দায়,/ শেষে দেখা যায় ধনির বাড়ি খাসী খাওয়া/ লাইসেন্স পারমিট দেওয়া,/ নৌকা বাওয়া আর সালাম দেওয়া/ এই দুইটাই গরিবে পায়,/ গরিবের কি মান অপমান দুনিয়ায়।’

করিমপুত্রের সঙ্গে আলাপকালেই চার তরুণ এসে ঢুকেন বাড়িতে। ঢাকা থেকে হাওরে ঘুরতে এসেছেন তারা। এই ফাঁকে আবদুল করিমের বাড়িও দেখে যাওয়া। দেখে যাওয়া যাওয়া যে পরিবেশ থেকে করিম হয়ে উঠেছেন বাউল গানের সম্রাট।

তাদেরই একজন নিয়াজ আহমদ। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। লোকগান করেন। বললেন, ‘করিমের গান আমার খুব পছন্দ। তার জীবনচারণও পছন্দ। তাকে মুর্শিদ হিসেবে গণ্য করি। মুর্শিদ যেখানে শুয়ে আছেন, সেই মাটি দেখতে এসেছি। তার স্পর্শ পেতে এসেছি।’

‘কেমনে চিনিব তোমারে...’

মাঝেমাঝেই দূরদুরান্ত এমন অনেকে করিমের স্মৃতির খোঁজে ভাটির এই দুর্গম জনপদে আসেন জানিয়ে শাহ নুর জালাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা আসে তাদের বেশিরভাগই তরুণ। তারা ব্যান্ড, রক, হিন্দি ইংরেজি গান শুনে। আবার বাউল গানও শুনে। কেবল শুনে না বাউলদের সম্পর্কে তারা জানতে চায়। তাই দূরের পথ পাড়ি দিয়ে করিমের ভিটায় আসে।

‘এদের মধ্যেই বাউল আবদুল করিম বেঁচে থাকবেন। ডিশ আর ইন্টারনেট এসে করিমকে ভুলিয়ে দিতে পারবে না। বরং এসবকে ব্যবহার করে করিমের গান আরও বেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে।’

তবে করিমের গানের চর্চা ও প্রসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় ক্ষোভ লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশের কণ্ঠে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দিরাইয়ে একটি আবদুল করিম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কাজ শুরু হয়নি।

‘জীবিত থাকতেই করিম নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন ‘করিম সঙ্গীতালয়’। পৃষ্টপোষকতার অভাবে এটিরও কার্যক্রম থেমে আছে। ফলে লোকের মুখে মুখে করিমের গান ছড়িয়ে পরলেও তার গান শেখা বা শুদ্ধভাবে চর্চার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে অনেকক্ষেত্রে গানের কথা ও সুর বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।’

করিমের বাড়ির পাশেই হাওর। তখন হাওরে ডুবে যাওয়া ধান নৌকায় করে কেটে নিয়ে আসছেন কৃষকরা। কণ্ঠে তাদের করিমের গান- ‘বন্দে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে...’। হাওর ছেড়ে শহরে ফিরেও সেই একই সুর কানে এল, মাইক্রোবাসের ক্যাসেট প্লেয়ার থেকে ভেসে আসছে- ‘কেমনে চিনিবো তোমারে...’।

ক্যাবল-ইন্টারেন্টের প্রভাব, বহুবিদ সংস্কৃতির প্রবেশ ও আধিপত্যসহ সত্ত্বেও গ্রাম থেকে শহরে এখনো বেজে চলছে আবদুল করিম।

আরও পড়ুন:
‘কেমনে চিনিব তোমারে...’
শফির কণ্ঠে দেওয়ানের লেখা নতুন গান
বাউলদের প্রাণের মেলা
শাহ আবদুল করিমের দুঃখবোধ
আর গাইবেন না বাউল ইসলাম উদ্দিন

মন্তব্য

জীবনযাপন
Cultural Association President Quddus Sa Editor Editor Ahkam

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আহকাম

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আহকাম গোলাম কুদ্দুস ও আহকাম উল্লাহ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘কাউন্সিল অধিবেশনে সারা দেশের ৮০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে আমরা নির্বাচিত হয়েছি। এখানে একজন কাউন্সিলরও দ্বিমত পোষণ করেননি।’

‘সংস্কৃতির শক্তিতে জেগে উঠো বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাংস্কৃতিক জোটের অষ্টম কেন্দ্রীয় সম্মেলন। এতে ১০১ সদস্যের নতুন কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন গোলাম কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পুনরায় নির্বাচিত হওয়া সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিল অধিবেশন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আহকাম

গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘কাউন্সিল অধিবেশনে সারা দেশের ৮০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে আমরা নির্বাচিত হয়েছি। এখানে একজন কাউন্সিলরও দ্বিমত পোষণ করেননি।’

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আহকাম

সম্মেলনে উদ্বোধনী পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, নাট্যজন সারা যাকের, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক ও নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নতুন কমিটি
সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আহকাম উল্লাহ
কবরীর পদে আলমগীর

মন্তব্য

জীবনযাপন
Nazrul will remain relevant forever Who

নজরুল চিরদিন প্রাসঙ্গিক থাকবেন: কাদের

নজরুল চিরদিন প্রাসঙ্গিক থাকবেন: কাদের জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সর্বকালের সেরা তিন বাঙালির একজন কাজী নজরুল ইসলাম। সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কাজী নজরুল আজও প্রাসঙ্গিক। তার এই প্রাসঙ্গিকতা চিরদিন থাকবে।

কাজী নজরুল ইসলাম সর্বকালের সেরা তিন বাঙালির একজন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় কবির প্রাসঙ্গিকতা থাকবে চিরদিন।

কবির ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সর্বকালের সেরা তিন বাঙালির একজন কাজী নজরুল ইসলাম। সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কাজী নজরুল আজও প্রাসঙ্গিক। তার এই প্রাসঙ্গিকতা চিরদিন থাকবে।

ওই সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যু হয় কাজী নজরুল ইসলামের। তার প্রয়াণের ৪৬তম বার্ষিকীতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কাজী নজরুল তিনি শুধু সমকালের নন, তিনি সর্বকালের। কবির অসাম্প্রদায়িক এবং মানবতাবাদী চেতনার জন্য আমরা আজকে তাকে বেশি স্মরণ করব।

‘অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশে একদল অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে সাম্প্রদায়িকতার সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। গণতন্ত্র আর মুক্তিযুদ্ধের নামে এই বর্ণচোরা মুক্তিযোদ্ধা এবং গণবিরোধী শক্তিকে চিহ্নিত করে প্রতিরোধ এবং পরাজিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে বন্ধু আছে, প্রভু নয়: কাদের
মোমেনের বক্তব্যের দায় সরকার এড়াতে পারে না: জি এম কাদের
মোমেনের বক্তব্যে লজ্জা পাবে ভারতও: কাদের
মানবাধিকার তদন্তের এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই: কাদের
বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারা রাজনৈতিক ব্যর্থতা: কাদের

মন্তব্য

জীবনযাপন
Crabbe Drawing Competition

ক্র্যাবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

ক্র্যাবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ক্র্যাব আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার কয়েকজন প্রতিযোগী। ছবি: নিউজবাংলা
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, ‘শোকের মাসে জাতির পিতাকে স্মরণ করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক, সামাজিক জীবনসহ নানা দিক তুলে ধরাই এই আয়োজনের লক্ষ্য।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) উদ্যোগে সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতা হয়।

এতে বিচারক ছিলেন দৈনিক সংবাদের কার্টুনিস্ট আব্দুল কুদ্দুস। ওই সময় ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকুসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিযোগিতায় ক্র্যাবের ২০ সদস্যের সন্তানরা অংশ নেয়। সন্তানদের মধ্যে অনেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির রক্তাক্ত দৃশ্য তুলে ধরে। পাশাপাশি দেশের জীববৈচিত্র্যের ছবিগুলো সবার মধ্যে মুগ্ধতা ছড়ায়।

ক্র্যাব সভাপতি তমাল বলেন, ‘শোকের মাসে জাতির পিতাকে স্মরণ করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক, সামাজিক জীবনসহ নানা দিক তুলে ধরাই এই আয়োজনের লক্ষ্য। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে; জানাতে হবে দেশের জন্য জীবন দেয়া অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস।

‘এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের মধ্যে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং দেশের উন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করার প্রয়াস জাগানোই হবে আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি এ আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন:
ক্র্যাব কার্যালয়ে টানানো হলো বঙ্গবন্ধুর ছবি
ক্র্যাবের নেতৃত্বে তমাল-বিকু
ক্র্যাব নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
ক্র্যাব-এর পুরস্কার পেলেন ৯ সাংবাদিক
ক্র্যাবে ফল উৎসব

মন্তব্য

p
উপরে