× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Fuchka is among the best street food in Asia
hear-news
player
print-icon

এশিয়ার সেরা স্ট্রিট ফুডের তালিকায় ‘ফুচকা’

এশিয়ার-সেরা-স্ট্রিট-ফুডের-তালিকায়-ফুচকা
টক, ঝাল, মিষ্টি- এই তিন স্বাদের মিশ্রণে হয় ফুচকা। ছবি: সিএনএন
‘ভারতে যেটি পানিপুরি, গোলগাপ্পা বা গুপচুপ নামে পরিচিত, ফুচকা সেটিরই বাংলাদেশি সংস্করণ। এটি দেখতে যেমন মুচমুচে, খেতেও তেমন।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ট্রাভেল পাতায় এশিয়ার সেরা ৫০ স্ট্রিট ফুডের তালিকায় উঠে এসেছে ফুচকার নাম।

গত ২৪ আগস্ট সিএনএনের ট্রাভেল বিভাগে কেট স্প্রিঙ্গারের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘একটু মিষ্টি, একটু টক, একটু ঝাল ফুচকা বাংলাদেশের পথেঘাটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খাবার। ভারতে যেটি পানিপুরি, গোলগাপ্পা বা গুপচুপ নামে পরিচিত, ফুচকা সেটিরই বাংলাদেশি সংস্করণ। এটি দেখতে যেমন মুচমুচে, খেতেও তেমন।’

ওই প্রতিবেদনে এশিয়ার সেরা ৫০ খাবারের মধ্যে স্থান পেয়েছে পাকিস্তানের ফালুদা ও বান কাবাব, ভারতের জিলাপি, নেপালের মোমো, ভুটানের এমা ডাটশি, মালদ্বীপের কাভাবু, থাইল্যান্ডের খাও সোই ও সাই ক্রোক ইসান, মালয়েশিয়ার আসাম লাকসা ও নাসি লেমাক, ভিয়েতনামের বান মি এবং ফো, তাইওয়ানের বাবল টি, ইন্দোনেশিয়ার গাডো গাডো, গেটুক এবং কেরাক টেলর, ফিলিপাইনের হালো হালো ও কোয়েক কোয়েক, চীনের জিয়ানবিং ও জিয়াওজি, মিয়ানমারের লাহপেত থোকে এবং জাপানি আইসক্রিম সোফুতো কুরিমু।

ফুচকা সম্পর্কে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুচমুচে পুরের মধ্যে পেঁয়াজ, শসা ও লেবু মাখানো আলু ভর্তা ও রাবড়ি পুড়ে দেয়া থাকে। এর ওপরে ডিমের কুচি দেয়া হয়। সঙ্গে দেয়া হয় তেঁতুলের টক।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ফুচকা এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে পরিচিত পথের খাবার হয়ে উঠলেও এটির আগমন খুব বেশি দিনের না। ১৯৪৭-এ দেশভাগের পর মূলত ঢাকায় এটির আগমন ঘটে। ঢাকায় এসে এটির অনেক বিবর্তন ঘটেছে।

এটির আদি রূপ পানিপুরির উল্লেখ মহাভারতেও আছে বলে অনেক খাদ্যবিশারদ দাবি করেন। সেখানে এটিকে ‘জলপত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের একেক অঞ্চলে এটি একেক নামে পরিচিত। মহারাষ্ট্রে এটিকে পানিপুরি বলা হলেও মধ্যপ্রদেশে বলা হয় ফুলকি। দিল্লি, পাঞ্জাব এবং এমনকি পাকিস্তানে এটিকে বলা হয় গোলগাপ্পা। গুপচুপ বলা হয় উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশে। বাংলাদেশের মতো বিহার ও নেপালেও এটিকে ফুচকা বলা হলেও আসামে এটির নাম ‘ফুসকা’।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’
ঈদে বিদেশি খাবার
ডায়রিয়ার প্রকোপ বাইরের খোলা খাবারে: মেডিক্যাল টিম
কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছে
রাতের খাবারে মাংস বাড়ায় মৃত্যুঝুঁকি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Why did Iran explode like this after Mahsas death?

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান ইরানজুড়ে বিক্ষুব্ধদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন মাহসা আমিনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে ব্যাপক হতাশা এই অস্থিরতার সঙ্গে মিশে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেটাচ্ছেন।

ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল বিক্ষোভ।

রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহর এখন অগ্নিগর্ভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নারীর পোশাক ইস্যুতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ওই বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি: সংগৃহীত

নারীর জন্য কঠোর পোশাকবিধি দেখভালের দায়িত্বে আছে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিট, ফারসি ভাষায় যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘গাস্ত-ই এরশাদ’। নিবর্তনমূলক ভূমিকার কারণে এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত অজনপ্রিয়। মাহসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর প্রতিও বিপুলসংখ্যক মানুষের অনাস্থার প্রকাশ ঘটেছে এবার।

বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি কারণ বিশ্লেষণ করেছেন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদক গোলনার মোতিভেলি। তার প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।


১. বিক্ষোভের কারণ কী?

তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু। ১৬ সেপ্টেম্বর এ খবর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, মাহসা কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে পরিবারের সঙ্গে তেহরানে ভ্রমণে এসেছিলেন।

গাস্ত-ই এরশাদ-এর একটি দল তাকে আটকের সময় দাবি করে, মাহসার পোশাক ‘সঠিক নয়’। সংস্কারপন্থি শার্গ সংবাদপত্রের বিবরণ অনুসারে, মাহসার ভাই এ সময় পুলিশের কাছে তার বোনকে সতর্ক করে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। তবে পুলিশ তা কানে নেয়নি। মাহসাকে একটি মিনিভ্যানে জোর করে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, মাহসা একটি চেয়ারে বসা ও সেখান থেকে মেঝেতে পড়ে যাচ্ছেন। তেহরানের পুলিশ বাহিনী বলেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, মাহসার আগে কোনো শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না এবং কর্তৃপক্ষ তাকে মারধরের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

২. ক্ষোভ কতটা তীব্র?

ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তারকা, রাজনীতিক ও খেলোয়াড়রা সোশ্যাল মিডিয়াতে পুলিশের নিন্দার পাশাপাশি গাস্ত-ই এরশাদ-এর সমালোচনা করেছেন। তরুণীরা মাসহার প্রতি সংহতি জানাতে তাদের মাথার হিজাব খুলে ফেলেছেন ও পুড়িয়ে দিচ্ছেন।

ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে ব্যাপক হতাশা এই অস্থিরতার সঙ্গে মিশে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেটাচ্ছেন।

৩. বিক্ষোভকারীদের দাবি কী?

বিক্ষোভকারীরা ৯ বছর বয়স থেকে সব নারীর জন্য বাধ্যতামূলক হিজাবের আইনকে বদলাতে চান। এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়।

এ আইন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর কার্যকর হয়। ওই বছর নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি পশ্চিমপন্থি শাহকে হটিয়ে ইরানের ক্ষমতায় বসেন। তবে তার সরকার দ্রুত দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও বিপ্লবী নারী কর্মীদের মধ্যে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অসংখ্য পুরুষও যোগ দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বছরের পর বছর ধরে নারীরা ধীরে ধীরে অনুমোদনযোগ্য পোশাকের সীমানা বাড়িয়েছেন। খোলা ও লেগিনসের সঙ্গে ঢিলেঢালা শাল ও পোশাক বেশিরভাগ শহরে সাধারণ পোশাক হয়ে উঠেছে। মাহসাকে যখন আটক করা হয় তার পরনেও ছিল তেমন একটি পোশাক।

৪. হিজাব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কি এই প্রথম?

১৯৭০ দশকের শেষে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই পোশাকবিধির বিরোধিতা দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত সুশীল সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল। তবে ২০১৭ সালের শেষের দিকে তেহরানের পাবলিক ইলেকট্রিকাল কেবিনেট ও বেঞ্চে বেশ কয়েকজন নারী তাদের মাথার স্কার্ফ খুলে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার পর থেকে ভিন্নমত আরও জোরালো হয়।

তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশকে আগ্রাসীভাবে তাদের মাটিতেও ঠেসে ধরে রাখতেও দেখা গেছে। ওই বছরের আগস্টে সেপিদেহ রাশনো নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশনো এক ধার্মিক, চাদরে ঢাকা ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছিলেন, যিনি এক তরুণীকে তার পোশাকের জন্য হয়রানি করছিলেন।

এ দৃশ্য জাতীয় টিলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর রাশনোকে টিভিতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। রাশনোর চেহারা ছিল ফোলা ও তাকে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

৫. কর্তৃপক্ষ কীভাবে জবাব দিয়েছে?

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহজাত প্রবৃত্তি হলো, অনুমোদনহীন জমায়েতকে বেআইনি দাবি করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে দাঙ্গা পুলিশ সাধারণত লাঠি ব্যবহার করে বা শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

সাদা পোশাকধারী, স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়ারাও বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে এবং পরে তাদের গ্রেপ্তারে সহায়তা করার জন্য প্রায়ই ছবি তুলে রাখে। তবে মাহসাকে নিয়ে বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন।

ইরানি পার্লামেন্টের প্রধান (একজন কট্টরপন্থী ও সাবেক পুলিশ কমান্ডার, যিনি ১৯৯০ এর দশকের শেষ দিকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করার জন্য অভিযুক্ত) গাস্ত-ই এরশাদ আইন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি মাহসার বাবা-মাকে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভের সময় হিজাব খুলে পুড়িয়ে দিচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

৬. আগের প্রতিবাদগুলো কী নিয়ে ছিল?

সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট। ওই বছর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের পুনর্নিবাচনে জালিয়াতির অভিযোগে ওই বিক্ষোভ হয়। রাজনৈতিক ইস্যুতে তেহরানে একের পর এক সমাবেশ ও মিছিল হতে থাকে এবং তাতে যোগ দেন লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ইরানি।

এই বিক্ষোব দমনে বহু মানুষকে হত্যা করা হয় ও শতাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। ইন্টারনেট ব্যবহারে দেয়া হয় বিধিনিষেধ। তবে এরপরও বিক্ষোভ চলমান ছিল:

  • মে, ২০২২: দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি ১০ ​​তলা ভবন ধসে পড়ার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির অনুমতি দিয়েছিলেন এক সরকারি কর্মকর্তা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হন।

    জানুয়ারি, ২০২০: ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুল করে একটি যাত্রীবাহি বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এতে বিমানের ১৭৬ আরোহী মারা যান। নিরাপত্তা সংস্থার অদক্ষতা ও রাষ্ট্রের দোষ লুকানোর প্রচেষ্টায় জনগণের মাঝে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

  • নভেম্বর, ২০১৯: জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে থাকা সরকার হঠাৎ করেই পেট্রলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইরানিরা সে সময় আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞার অধীনে ছিল। বিক্ষোভকে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করে।

  • ২০১৭ সালের শেষদিক: অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় হতাশা প্রকাশ করতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এটি শেষ পর্যন্ত গড়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

  • তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে আরবদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। তারা পারস্য ইরানে সংখ্যালঘু। খুজেস্তানে চলমান দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়মিত বিষয়। নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ক্রমাগত দমন করছে।

৭. ইরানে বিরোধীদের অবস্থান কেমন?

ইরানে কোনো সংগঠিত বিরোধী দল নাই। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্বের সমালোচনা করে। তবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াতে তার প্রতিফলন ঘটে খুবই কম। ইরানে একমাত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমর্থন করা রাজনৈতিক দলগুলোই কাজ করতে পারে।

ধর্মনিরপেক্ষ, কমিউনিস্ট ও ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের প্রচারক দল সেখানে নিষিদ্ধ। ইরানের রাজনীতিবিদদের মোটামুটিভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

চরম রক্ষণশীল: যেমন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, মধ্যপন্থি বা বাস্তববাদি রক্ষণশীল: যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বা আলি লারিজানি। আর রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির মতো সংস্কারপন্থি।

সংস্কারপন্থিরা বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি আরও উন্মুক্ত হওয়া উচিত। তবে চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল এবং ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে তাদের জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব কমেছে।

৯. বর্তমান ব্যবস্থার রক্ষাকবচ কী?

খামেনি ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী শাখা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এটি তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিসহ রাষ্ট্রের সমস্ত বড় সিদ্ধান্তের পিছনে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব খামেনির। তিনি বেশ কয়েকটি বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের ডি ফ্যাক্টো প্রধান। এ ফাউন্ডেশনগুলো দেশের কিছু বৃহত্তম সংগঠন ও পেনশন তহবিল পরিচালনা করে।

সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের এই একত্রীকরণ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে রাজনীতিতে একটি শক্ত দখল বজায় রাখতে সাহায্য করছে। ইরানের সমস্ত প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থেকে বিচার বিভাগ- সবই সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত বা রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে সংযুক্ত।

গত বছরের রাইসির নির্বাচনের পর থেকে ইরানের রাষ্ট্র ও সরকারের সমস্ত কিছু কট্টরপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা ইসলামিক মতাদর্শকে কঠোরভাবে রক্ষা করছে।

আরও পড়ুন:
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

মন্তব্য

জীবনযাপন
Napier is a multi billion dollar business

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে বলছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

এক সময়ের অনাবাদি কিংবা সড়কের পাশের পতিত জমিও এখন দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে আধুনিক বা বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের কল্যাণে। এই বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুরে।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

তাদের একজন হলেন বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর এলাকায় বাসিন্দা আপেল মাহমুদ। ৭ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা ১৭ হাজার টাকা করে ইজারা নিয়ে কাঠমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে এখন পুরোদমে খামারি হয়েছেন। ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালনের পাশাপাশি ঘাস চাষকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন।

নিজের এলাকার মহিপুর বাজারে এক স্কুল মাঠে প্রতিদিন বেলা তিনটার দিকে ঘাসের হাট বসে; সেখানে বছরের প্রায় প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক।

সম্প্রতি এই হাটে ঘাস বিক্রি করতে করতে আপেলের সঙ্গে আলাপ হয়। জানান, আট থেকে দশ বছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এই কাজ করে সংসার চলে কিন্তু প্রশান্তি মেলে না। এক সময় এমন চিন্তা থেকেই পেশা বদল করেছেন। জমানো টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে শুরু করলেন ঘাস চাষ। বছর শেষে প্রায় ২ লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করেন এই জমি থেকেই।

লাভের দিক বিবেচনায় নিয়ে এরপর আপেল মাহমুদ ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালন শুরু করেন। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই তিনি ঘাস চাষ আর গরু পালন করছেন। ঘাস চাষের জমির পরিধি বেড়ে ৭ বিঘায় এসেছে। জীবনযাপনের জন্য প্রথমে ঘাস চাষ শুরু করলেও আপেল এখন এটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন; যেখানে খামারের গরুর জন্য ঘাস চাষও হচ্ছে, একই সঙ্গে অন্যদের গরুর প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আপেলের মতে, এক সঙ্গে গরু পালন আর ঘাস চাষের মধ্যে খামারিদের ব্যাপক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শুধু শেরপুর উপজেলায় গরু পালনের অন্তত ২ হাজার জন খামারি রয়েছেন। এখানে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। শুধু উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া এই তথ্য বলছে, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অন্তত দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। খামারিরা এখন রেডি ফিডের চেয়ে ঘাস খাওয়ানোই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলায় অন্তত ২ হাজার একর জমিতে এবার ঘাষ চাষের অন্যতম কারণ এটিও।

তবে ঘাষ চাষের তাৎপর্য নিয়ে বহুমুখী ব্যাখ্যা রয়েছে কৃষকদের কাছেই। মহিপুরের জামতলা গ্রামের চাষী মো. হেলাল হোসেন প্রতি বছরই ২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন।

চাষের কারণ জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করতে এখন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে ঘাস বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার। একই সঙ্গে ঘাস চাষে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা নেই। ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শ্রমিক খরচ কম। কম শ্রম দেয়া লাগে। চাহিদাও ভালো। সব দিক থেকেই অন্য ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক।’

গাড়িদহ এলাকার আব্দুল হামিদ ১৮ বছর ধরে ৪ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছেন। তিনি জানান, আগের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। পতিত ধরনের জমিতে অন্য কিছু চাষাবাদ করা যায় না বলে তিনি সেখানে ঘাস চাষ করেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে ঘাস চাষের পরিসর আরও বাড়ানোর লক্ষ্য তার।

শেরপুরের উলিপুরের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ঘাসের ব্যবসা করেন। মহিপুর বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে ঘাস কিনে খামারিদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এ ঘাস বিভিন্ন আকারের আটি বেঁধে বিক্রয় করা হয়। ১০ থেকে শুরু করে ৪০ টাকা দামের আটি বিক্রয় করেন ব্যবসায়ীরা।

এই ব্যবসায়ীর অবশ্য ফ্রিজিয়ান জাতের ৬টি গরু রয়েছে। জানান, শেরপুরে ঘাস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অনেক লম্বা একটি চেইন গড়ে উঠেছে। অন্তত ২০০ মানুষ সরাসরি এই ঘাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

চাহিদার প্রেক্ষাপটে জেলাজুড়ে ঘাস চাষও বাড়ছে। বগুড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, জেলাজুড়ে ঘাস চাষের চাহিদা বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলায় ৫৭৫ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ৪৪৮ একর জমিতে ঘাস চাষ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১২৭ একর জমিতে ঘাস চাষ বেড়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শেরপুরের মহিপুরের আব্দুর রশিদ প্রতিদিন ১০টি গরুর জন্য ১ হাজার থেকে ১২ শ টাকার ঘাস কেনেন। ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়।

এই খামারি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে গরুর ফিডের দাম কম ছিল। কিন্তু এখন বেড়েছে। ফিড খাওয়ালে খরচ বেশি হয়।’ এই কারণে ঘাস কিনে খাওয়ান তিনি। ঘাসের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এই প্রবীণ খামারি।

এখন গরুর ফিডের কাঁচামালও আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বেড়েছে সব পণ্যের। তবে অন্য খাবারের চেয়ে গরু-মুরগীর ফিডের দাম অনেক বেড়েছে বলে জানান খামারিরা। ফলে স্বভাবতই ঘাসের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকছেন তারা।

গো-খাদ্যের দামের সংকটের কারণে ঘাস চাষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে বলে মনে করেন শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘাস হচ্ছে গো-খাদ্যের প্রাকৃতিক উপাদান। সুষম খাদ্যের সব উপাদান রয়েছে ঘাসের মধ্যে। গরু-মহিষের দুধ, মাংস উৎপাদনের উপকরণ তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক ঘাস। বিভিন্ন গবেষণাতেও পাওয়া গেছে, দানাদার ফিডের চেয়ে ঘাস গো-খাদ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি।’

তিনি আরও বলেন, গরু-মহিষের প্রজননের জন্য যে হরমোন দায়ী তার নাম ইস্ট্রোজেন (Estrogen) । ঘাস এই হরমোন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। ফলে গরু বা মহিষকে ঘাস খাওয়ালে তার প্রজনন ক্ষমতাও বাড়ে। এই কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষকদের ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। ঘাসের বীজ, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’

এই উপজেলা থেকে প্রতি বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঘাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব ঘাস এই উপজেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য উপজেলার সংকটও মেটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রাণিসম্পদ এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ
ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে উৎসব
নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন পণ্যমেলা
‘বিশেষ সুবিধা নয়, বাজেটে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রিপেইড কার্ড চালু

মন্তব্য

জীবনযাপন
Roshans removal Jatiya Party eyeing Speaker

রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি

রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি
বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাকে অপসারণের নজির নেই। জাতীয় পার্টি রওশন এরশাদকে অপসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে এখনও জবাবের অপেক্ষায় আছে।

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদকে পদ থেকে সরাতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের স্পিকার বরাবর চিঠি দেয়ার পর দলে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সেই চিঠি দেয়ার ২০ দিন হয়ে গেলেও স্পিকারের দপ্তর থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, ওই অপসারণ প্রক্রিয়ায় নিয়ম অসুরসণ করা হয়নি। বিষয়টি তিনি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে অপসারণের জন্য জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে চিঠি দেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। দলটির ২৬ এমপির মধ্যে রওশন এরশাদ এবং তার ছেলে সাদ এরশাদ ছাড়া বাকি ২৪ জন এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়ে এতে সই করেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, রওশন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে সংসদের বাইরে আছেন।

চিঠি দেয়ার পরপরই মসিউর রহমান রাঙ্গা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রওশন এরশাদকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না।

গত ১৫ সেপ্টেম্বরের ওই বক্তব্যের কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। ফাইল ছবি

কোনো দলের সংসদীয় নেতা নির্ধারণ হয় সেই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে। অপসারণের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়। সংসদীয় দল কোনো সিদ্ধান্ত নিলে স্পিকার সেটি অনুমোদন করেন, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার অপসারণের নজির নেই।

রওশন এরশাদের অপসারণের বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও এমপি মুজিবুল হক চুন্নু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। অপসারণ তো হওয়ার কথা। নিয়ম তো তাই।

‘কারণ আমরা সংসদীয় দল যে সিদ্ধান্ত দেব, সেটাই তো হবে। স্পিকার মহোদয় সেটাতেই চূড়ান্ত অ্যাপ্রুভাল দেবেন। এ প্রস্তাব উনার কাছে আছে। আমরা খবর নিইনি। দেখা যাক কী হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘(পরবর্তী) অধিবেশন তো দেরি আছে। এত ইমার্জেন্সির কিছু না। কাজেই হোক না।’

রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও এমপি মুজিবুল হক চুন্নু। ফাইল ছবি

রওশন এরশাদকে অপসারণের বিষয়ে সর্বশেষ কিছু জানেন কি না জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির এমপি ফকরুল ইমাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওটার ব্যাপারে তো কোনো প্রগ্রেস নেই।’

কী কারণে অগ্রগতি নেই জানতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি একটু ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহে আছি। এ জন্য কারণটি জানতে পারিনি।’

জাতীয় পার্টিতে সমস্যা শুরু হয় গত ৩১ আগস্ট জাতীয় দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ হঠাৎ করে ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলন ডাকার মধ্য দিয়ে। তিনি দলের গঠনতন্ত্র মতে এমনটা করতে পারেন না বলে জানান দলটির নেতারা। এর পরদিন জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল বৈঠক করে রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরানোর জন্য স্পিকার বরাবর চিঠি দেন।

এরই মধ্যে রওশনের অপসারণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তোলেন চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। ১৪ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলন করে রাঙ্গা বলেন, ‘দেখলাম, চুন্নু সাহেব (জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক) তাড়াহুড়ো করে একটা রেজল্যুশন লিখে নিয়ে আসলেন। উনি আমাকে বললেন, এটা সই করে আপনি দিয়ে আসেন স্পিকারের কাছে। আমি বললাম, আমি তো এই রেজল্যুশনের সঙ্গে একমত না। উনি (রওশন) অসুস্থ মানুষ, আর কদিন বাঁচবেন, উনি আসুক।’

রাঙ্গা নিজেই সেই চিঠি স্পিকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

বিরোধীদলীয় চীফ হুইপের স্বাক্ষরে রওশন এরশাদের অপসারণের জন্য স্পিকার বরাবর চিঠি দেয়ার পর এখন রাঙ্গা নিজেই যখন বিরোধিতা করছেন, তখন রওশনের অপসারণের চিঠি বৈধ হবে কি না—সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে চুন্নু বলেন, ‘দেখলাম তিনি (রাঙ্গা) আজকে বলছেন, রওশন এরশাদকে বাদ দিয়ে তিনি জিএমকে রাখার পক্ষে। উনিই তো উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, জি এম কাদের থাকুক, আমার আপত্তি নেই।’

এ বিষয়ে রাঙ্গার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে তো সেদিন বৈঠকের এজেন্ডা জানানো হয়নি। বলল, আসেন একটা জরুরি মিটিং আছে। পরে সই নিয়ে আপনি বলতেছেন যে, এই এই রেজুলেশন করা হইলো। এটা হইল?’

রাঙ্গা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি তো স্পিকারকে জানিয়েছি যে, এটা নিয়মমতো হয়নি। সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। নিময় বহির্ভূতভাবে করলে তো হবে না।’

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর আগে থেকেই জাতীয় পার্টিতে দুটি বলয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একাংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন রওশন এরশাদ, তবে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যান। এরপর জি এম কাদের রওশনকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করেন। পাশাপাশি রওশন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হন।

রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি
জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি

সে সময় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে এক ধরনের মীমাংসা হয় এবং সে অনুয়ায়ীই দল চলছিল, কিন্তু সম্প্রতি রওশন অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পর দলের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন।

জি এম কাদের এবং তার অনুসারীরা খোঁজ না নেয়ায় গত ২ জুলাই দলের একটি মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন। এর পরই গত ৩১ আগস্ট চিঠি দিয়ে কাউন্সিলের ডাক দেন তিনি।

রওশনের অপসারণে বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী, তা জানতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ইসির রোডম্যাপ মূল্যহীন: চুন্নু
এরশাদ ট্রাস্টের সদস্য হলেন সাদ
জাতীয় পার্টি থেকে রাঙ্গাকে অব্যাহতি
জাতীয় পার্টিকে আবার পাশে চায় বিএনপি
জাতীয় পার্টি কি আবার ভাঙবে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Inconvenience of additional charges on card purchases

কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি

কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড। ফাইল ছবি
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ডের সুদের পাশাপাশি কেনাকাটায় বাড়তি আরও ১ থেকে ২ শতাংশ অর্থ দাবি করছেন বিক্রেতা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা করে নেয়া হয় বাড়তি অর্থ।

বেসরকারি একটি আইটি ফার্মের হিসাব শাখায় কাজ করেন তাসনুভা চৌধুরী। রাজধানীর একটি মার্কেটে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিনতে যান শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি, কিন্তু কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে চাইলে দামের চেয়ে কেটে রাখা হয় বাড়তি আরও ২ শতাংশ অর্থ, কিন্তু তা দিতে আপত্তি জানালে শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতার বিতণ্ডা।

তাসনুভার প্রশ্ন, ‘কেনাকাটায় বাড়তি ২ শতাংশ অর্থ গুনতে হবে কেন?’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ডের সুদের পাশাপাশি কেনাকাটায় বাড়তি আরও ১ থেকে ২ শতাংশ অর্থ দাবি করছেন বিক্রেতা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা করে নেয়া হয় বাড়তি অর্থ।

ইলেকট্রনিকস পণ্য, মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ এই ধরনের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রকৃত দামের চেয়ে বাড়তি অর্থ নেয়া হয়। নগদ কেনাকাটায় যে দাম, ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ডে নেয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের সঙ্গে দুই ধরনের দামই উল্লেখ থাকে।

বিভিন্ন দেশে কার্ডে কেনাকাটায় যে চার্জ আসে, সেটা পরিশোধ করেন বিক্রেতা; ক্রেতাকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।

বাংলাদেশে বিশেষ করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক তার গ্রাহকদেরকে এসএমএস পাঠিয়ে বলছে, যারা এই ধরনের চার্জ আরোপ করে, তাদেরকে এড়িয়ে চলতে। অর্থাৎ এই চার্জ আসলে গ্রাহকের দেয়ার কথাই না।

সম্প্রতি ব্যাংক এক এসএমএসে বলেছে, ‘কার্ডে মূল্য পরিশোধে কোনো বাড়তি চার্জ ব্যাংক আরোপ করে না। কার্ড পেমেন্টে বাড়তি চার্জ দাবি করা বিক্রেতাকে এড়িয়ে চলুন।’

বিদেশি ব্র্যান্ডের একটি এসি কিনে বাড়তি অর্থ দিয়েছেন শেওড়াপাড়ার ক্রেতা আশিক মাহমুদ। তিনি জানান, এক টনের একটি এসির প্রকৃত দাম চাওয়া হয় ৪৭ হাজার টাকা, তবে ছাড় দিয়ে দাম দাঁড়ায় ৪৩ হাজার টাকা। বলা হয় নগদ টাকার ক্ষেত্রে এই দাম প্রযোজ্য, কিন্তু ক্রেডিট কার্ডে ইএমআইয়ের মাধ্যমে নিলে ছয় মাসে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। কিন্তু এতে ২ শতাংশ চার্জ প্রযোজ্য হবে।

আশিক জানান, শেষ পর্যন্ত বাড়তি ২ শতাংশ অর্থ দিয়ে পণ্যটি কিনতে হয়েছে। এ ছাড়া ওই ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার উপায় ছিল না।

দোকানি জানান, মূলত শীতের সময় ১ অথবা ২ শতাংশ বাড়তি অর্থ নেয়া হয় না, কিন্তু গরমের সময় যখন বেশি চাহিদা থাকে, তখন এ চার্জ প্রযোজ্য হয়। বেশি বিক্রি হলে লাভ কম নিলেও হয়। তখন ২ শতাংশ কোম্পানির লাভের অংশ থেকে সমন্বয় করা হয়।

ব্যাংকগুলো কী বলে

ক্রেডিট কার্ড সেবাকে জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ছাড় দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথম বছরে মাশুল ফ্রি ও নির্দিষ্টসংখ্যক লেনদেনে প্রতি বছর মাশুল মওকুফ সুবিধা। এ ছাড়া রয়েছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট সুবিধা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য কেনাকাটায় ছাড়, হোটেলে থাকা ও খাওয়ায় নানা অফারসহ বিভিন্ন বাড়তি সুযোগও রয়েছে।

এসবের পাশাপাশি গ্রাহকের তাৎক্ষণিক টাকার চাহিদা মেটাচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। টাকার প্রয়োজনে কারও কাছে না গেলেও চলে।

সাধারণত কার্ড পেমেন্টে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পিওএস মেশিন সরবরাহ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

কার্ডে পেমেন্টে মার্চেন্ট ও ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা থাকে যে, এই সার্ভিস ব্যবহারের জন্য মার্চেন্টদের প্রতিটি ট্রান্সজেকশন বাবদ নির্দিষ্ট হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। একে অ্যাকুয়ারিং ফি বলা হয়। এই অর্থ মার্চেন্ট তার মুনাফা থেকেই পরিশোধ করবেন। এই টাকা কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকদের থেকে নেয়া যাবে না।

আগে একেক ব্যাংক ইচ্ছামতো অ্যাকুয়ারিং ফি ধার্য করতে পারত, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চার্জ ১ দশমিক ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ জন্য এখন চুক্তির বাইরে বেশি চার্জ নেয়ার সুযোগ নেই।

কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি

বেসরকারি এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ কার্ডে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যেকোনো পণ্য কার্ড পেমেন্টে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের সঙ্গে মার্চেন্টদের চুক্তি করা হয়।

‘মার্চেন্ট ও ব্যাংকগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে এখানে মার্চেন্ট কমিশন, মার্চেন্ট ফি, ব্যাংকের লাভ—সব বিষয় নির্ধারিত হয়। চুক্তির বাইরে মার্চেন্টের কোনো অতিরিক্ত চার্জ রাখার সুযোগ নেই। কারণ সবসময় ব্যাংকগুলো এসব বিষয় তদারকি করে।’

তিনি বলেন, ‘নগদ পেমেন্টের চেয়ে কার্ডে পেমেন্টে সবসময় টাকা বেশি নেয়া হয়, সেটা নয়। ব্যাংকভেদে বিয়য়টি নির্ধারণ হয়। একটি পণ্য কিস্তিতে কেনার ক্ষেত্রে হয়তো গ্রাহককে কিছু বেশি টাকা গুনতে হয়, কিন্তু এখানে গ্রাহককেও কিন্তু সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বড় কোনো ইলেকট্রনিক পণ্য একবারে কিনতে যে টাকা লাগত, সেটা গ্রাহক ছয় মাস বা এক বছরে বা তারও বেশি সময়ে শোধ করার সুবিধা পাচ্ছেন। মার্চেন্ট কিন্তু এখানে টাকাটা একবারে পাচ্ছে না। তার টাকা আটকে থাকছে। সে জন্য হয়তো সামান্য কিছু লাভ তারা রাখে, তবে চুক্তিতে এ বিষয় না থাকলে অতিরিক্ত এ টাকা নেয়ারও সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু কার্ডে পেমেন্টের জন্য বাড়তি টাকা কেটে রাখার কোনো ‍সুযোগ নেই। গ্রাহক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের বাৎসরিক চার্জ থাকে। সেটা দিতে পারে, কিন্তু কার্ডে কিনলেই তাকে এক্সট্রা টাকা দিতে হবে, যেটা নগদ পেমেন্টে দিতে হবে না। এমন কোনো নিয়ম নেই।’

চার্জ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

ওই সার্কুলারে ব্যাংকগুলো থেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) এবং ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম (আইপিএস) ও কার্ড স্কিমের মাধ্যমে করা ইলেকট্রনিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ফি বা চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের পয়েন্ট অফ সেলস (পিওএস) ব্যবহার করে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট হতে মোট লেনদেনের অন্যূন ১ দশমিক ৬ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাবদ আদায় করবে। এর মধ্য থেকে আইআরএফ বাবদ ১ দশমিক ১ শতাংশ কার্ড ইস্যুয়িং ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে দেবে।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ছাড়াই অধিগ্রহণকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট লেনদেনের ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে ১ দশমিক ১ শতাংশ যাবে কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কাছে।

পিওএস লেনদেনে একেক ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চার্জ কাটত, তাই বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার্থে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হার নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ইন্টারনেট পেমেন্ট সিস্টেমের (আইপিএস) নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হলে আইআরএফ বাবদ চার্জের অতিরিক্ত দশমিক ২ শতাংশ চার্জ দিতে হবে।

ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কার্ড লেনদেন, ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করলে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট লেনদেনের দশমিক ৭ শতাংশ এমডিআর হিসেবে আদায় হবে। এর মধ্যে দশমিক ৪ শতাংশ কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে যাবে বিনিময় ফি (আইআরএফ) হিসেবে।

এসব ফি বা চার্জ কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকদের থেকে আদায় করা যাবে না। বিষয়টি অ্যাকুয়ারিং ব্যাংক নিশ্চিত করবে।

কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেন

গ্রাহকের তাৎক্ষণিক টাকার চাহিদা মেটাচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। টাকার প্রয়োজনে কারও কাছে না গিয়ে এই কার্ডে ব্যাংকের বুথ থেকে নগদ টাকা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের কেনাকাটা ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। কোনো সুদ ছাড়া টাকা পরিশোধে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় মিলছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বিদেশে গিয়েও এসব কার্ডে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য এ কার্ডের ব্যবহার ও লেনদেন দিন দিন বাড়ছে।

২০২১ সাল শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬২টি। ছয় মাস শেষে জুনে সেটা বেড়ে হয় ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬টি।

গত বছরের ডিসেম্বরের ক্রেডিট কার্ডে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। চলতি বছরের জুনে লেনদেন হয় ২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এটি ক্রেডিট কার্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন।

অন্যদিকে ২০২১ সাল শেষে ডেবিট কার্ড ছিল ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার। এ কার্ডে লেনদেন হয় ২৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

ছয় মাসে সেটা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৩১টি। জুনে এ কার্ডে লেনদেন হয় ৩৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগে নিতে হবে অনুমতি
ঢাকায় আসছেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট
চট্টগ্রামে রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন
সুদের হার বৃদ্ধিতে বিশ্ব মন্দা আসন্ন: বিশ্বব্যাংক
এক্সিম ব্যাংকের নতুন এমডি ফিরোজ হোসেন

মন্তব্য

জীবনযাপন
A League is lagging behind in coalition politics

জোট রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে আ. লীগ

জোট রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে আ. লীগ জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত ২০ আগস্ট এক আলোচনা সভায় ১৪ দলীয় জোটের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
মহাজোটের অস্তিত্ব স্বীকার করে না জাতীয় পার্টি। ১৪ দলীয় জোট আছে কি না, তা নিয়ে শরিকরা সন্দিহান। বিপরীতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি জোট সম্প্রসারণ ও শরিক বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইছে অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি। দলটি বলছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকেই তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে নেই।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আদর্শিক জোট ১৪ দলের শরিকরাও মনে করে, জোট আছে কি নেই, তা বোঝা যায় না। সাম্প্রতিক দুই-একটি ইস্যুতে অন্তত তিন শরিক দল অবস্থান নিয়েছে সরকার তথা আওয়ামী লীগের বিপক্ষে। সম্পর্ক উন্নয়ন বা জোট বাড়ানোর তাগিদ দেখা যাচ্ছে না শাসক দল আওয়ামী লীগের মধ্যেও।

বিপরীতে প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক সমুন্নত রাখার পাশাপাশি নতুন মিত্রের সন্ধানে একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে। অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে ক্ষমতাসীন দল। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জাতীয় পার্টি যার সঙ্গে ইচ্ছা জোট করতে পারে। আর ১৪ দলীয় শরিকদের অবস্থান নিয়েও উদ্বিগ্ন নন তারা।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত রোববার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, ‘জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি যেখানে খুশি যেতে পারে, যার সঙ্গে জোট করতে চায় করতে পারে। আওয়ামী লীগ এ বিষয় নিয়ে ভাবছে না।’

শাসক দল আওয়ামী লীগ এতদিন সমান্তরালভাবে দুটি জোট লালন করে আসছিল। একটি মহাজোট, যা মূলত নির্বাচনভিত্তিক জোট। আরেকটি ১৪ দলীয় জোট, যা গঠিত হয়েছিল আদর্শিক ঐক্যের ভিত্তিতে। ২০০৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নির্বাচনি সমাঝোতা হওয়ার পর থেকে এটি মহাজোট নাম ধারণ করে। আর জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্যান্য দল নিয়ে আওয়ামী লীগের যে জোট সেটা ১৪ দল নামে পরিচিত। আওয়ামী লীগ ছাড়া এ জোটের উল্লেখযোগ্য শরিকরা হলো জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-রেজাউর), তরিকত ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ ও ন্যাপ (মোজাফফর)।

জোট রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে আ. লীগ
এক মঞ্চে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

শুরুতে গণফোরামও এ জোটের অংশীদার ছিল। পরে দলটি বেরিয়ে যায়। এরপর জাকের পার্টি এসে যুক্ত হলেও এর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ঘোষণা দিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে নেই এবং যাবেনও না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জি এম কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে ছিল। আর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচনি বোঝাপাড়া ছিল, যা কোনোভাবেই জোট নয়।’

যুক্তি হিসেবে তিনি জানান, জোটসঙ্গী হলে জাতীয় পার্টি কোনোভাবেই বিরোধী দল হতে পারত না। আর এ দুই নির্বাচনেই তার দল স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। কাজেই এটা নতুন করে বলার কিছু নেই যে, জাতীয় পার্টি মহাজোটে নেই। কেননা ২০১৪ সালের পর থেকেই এ জোটের অস্তিত্ব নেই।

সম্প্রতি জ্বালানি তেল ও সারের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে রাজপথে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতন্ত্রী পার্টি। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু দুজনই সরকারবিরোধী বক্তব্যও দিচ্ছেন।

জোট রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে আ. লীগ
রাশেদ খান মেনন, দিলীপ বড়ুয়াসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতারা। ফাইল ছবি

এ বছরের ১৩ এপ্রিল ১৪ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ জাসদ। অতি সম্প্রতি জোট হিসেবেও ১৪ দলকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। জোটটির যেমন রাজপথে কোনো কর্মসূচি নেই, তেমনি অভ্যন্তরীণ বৈঠকও হচ্ছে না অনেক দিন ধরে।

বিপরীতে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে থাকা বিএনপিকে মিত্র বাড়াতে তৎপর দেখা যাচ্ছে। দলটি সম্প্রতি এলডিপি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, লেবার পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনসহ অনেক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এসব নিয়ে আওয়ামী লীগ একেবারেই উদ্বিগ্ন নয় বলে নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকারে থাকলে কিছু টানাপোড়েন থাকেই। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বা সমালোচনা সারা বিশ্বেই বিরাজমান। শরিকদের সজাগ থাকা ভালো, কিন্তু উৎকণ্ঠা নিয়ে তো চলা উচিত নয়। অবস্থা এমন পর্যায়ে যায়নি যে, তাদের ছাড়া আওয়ামী লীগ টিকতে পারবে না।’

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটকে শক্তিশালী করা বা শরিক বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আওয়ামী লীগ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো অনানুষ্ঠানিক বিষয়। সময়ের প্রয়োজনে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফও। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনায় এবং দেশের উন্নয়নে মনোযোগী। নির্বাচন আসলে এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সে সময়ে সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই জোট সম্প্রসারণ এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা হবে।’

আরও পড়ুন:
কোন্দল থাকলে ভোটে বিপর্যয়ের শঙ্কায় কাদের
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আহকাম
জাতীয় পার্টি কি আবার ভাঙবে
দমন-পীড়ন করে গদি রক্ষা হবে না: বাম জোট
খালি মাঠে গোল না, আ.লীগ চায় ভালো নির্বাচন: কাদের

মন্তব্য

জীবনযাপন
A huge amount of currency is going abroad illegally in the name of travel

ভ্রমণের নামে অবৈধভাবে বিদেশ যাচ্ছে বিপুল মুদ্রা

ভ্রমণের নামে অবৈধভাবে বিদেশ যাচ্ছে বিপুল মুদ্রা ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ভ্রমণের জন্য যারা বৈধ পথে বিদেশ যান তারা কত ডলার নিতে পারবেন তার সীমা দেয়া আছে। এর চেয়ে বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি চুরি করে নেয় সেটা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা বেড়ানোসহ নানা কারণে ভ্রমণের নামে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা। এই ব্যয়ে নেই যথাযথ নজরদারি। ফলে এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মুদ্রাই যাচ্ছে অবৈধভাবে।

এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেলায়। প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি ঘুরতে যাচ্ছেন দেশটিতে, যাদের বড় অংশই যায় চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য।

এ ছাড়া থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন অনেকেই। প্রতি বছর কত রোগী এসব দেশে চিকিৎসার জন্য যান তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য মতে, প্রতি বছর বিদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীর ২২ শতাংশই বাংলাদেশি।

ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন দপ্তরের হিসাব বলছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পর্যটক যায় বাংলাদেশ থেকে। ২০১৮ সালে প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারিতে দেশটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিলে এ হার নেমে আসে শূন্যের কোঠায়। প্রায় দুই বছর পর এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে দেশটিতে ফের বাড়তে থাকে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা।

ভারতের ভিসাপ্রত্যাশীদের চাপ সামলাতে জনবল ও অফিসের সময় বাড়াতে হয় ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রের। একই সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার জন্য জনবল বাড়ানোসহ নেয়া হয় নানা ব্যবস্থা। গত রোববার বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কার্যক্রম চালু রেখেছে ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশন অফিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে আসা পর্যটকদের প্রতি পাঁচজনের একজনই বাংলাদেশি।
প্রশ্ন উঠেছে এসব পর্যটকের ব্যয় নিয়েও। সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান হোসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রশ্ন তোলেন।

পর্যটন কিংবা চিকিৎসার জন্য যারা ভারতে যাচ্ছেন তাদের তো বটেই, যেসব শিক্ষার্থী ভারতে লেখাপড়া করতে যান তাদের অভিভাবকদের করযোগ্য আয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয় ওই চিঠিতে। বলা হয়, এসব বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিলে দেশ থেকে টাকা পাচার রোধ করা যাবে। সাশ্রয় হবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

জানা যায়, ওই চিঠির একটি অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্র্রার আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক বাজার অস্থিরতা চলছে। প্রতিনিয়ত কমছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। যার প্রভাব পড়েছে বিনিময় হারে। সম্প্রতি টাকার বিপরীতে ডলারের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কিন্তু খুব একটা লাগাম টানা যায়নি বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ ভ্রমণে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যেকোনো দেশে ভ্রমণের জন্য বৈধভাবে বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার নেয়া যায়। চিকিৎসার জন্য নেয়া যায় ১০ হাজার ডলার। এর বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে। আর উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার পাঠাতে পারেন তাদের অভিভাবকরা।

আইনে বিদেশ ভ্রমণে ডলার নেয়ার সীমা থাকলেও বাস্তবে এর চেয়ে বহুগুণ চলে যাচ্ছে অবৈধ পথে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ভ্রমণের জন্য যারা বৈধ পথে বিদেশ যান তারা কত ডলার নিতে পারবেন তার সীমা দেয়া আছে। এর চেয়ে বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি চুরি করে নেয় সেটা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

তিনি জানান, সীমার বেশি বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে। এক্ষেত্রে যৌক্তিকতা যাচাই করেই অনুমতি দেয়া হয়।

গবেষণা সংস্থা পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য যে কেউ বিদেশ যেতেই পারে। সরকার তা বন্ধ করতে পারে না। আমার মনে হয়, এখানে যে ধরনের তদারিক দরকার তা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য সরকারি সংস্থার এদিকে নজর দেয়া উচিত।’

হাইকমিশনারের চিঠিতে যা আছে

হাইকমিশনার তার চিঠিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা কারণে জনগণের যাতায়াত বেড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান আর্থিক নীতিমালার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করলে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে।’

চিকিৎসা বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন ভারতে। রোগীর সঙ্গে অভিভাবকও থাকেন, যা খরচের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তোলে। অথচ জটিল ও মুমূর্ষু রোগী ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব।

তাই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিদের বিদেশি চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। বিশেষ বিবেচনা করে চিকিৎসার অনুমতি দিলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হতে পারে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে আয় প্রায় বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার। এই আয়ের উল্লেখযোগ্য পরিমাণই আসে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে।

শিক্ষা ভ্রমণ প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আসা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভারতের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ খরচে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। প্রতি বছর এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্নাতক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীকে ভারতে প্রতি বছর আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এক্ষেত্রে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে নিরুৎসাহিত না করে, ছাত্রছাত্রীরা যাতে সঠিক ও বৈধ চ্যানেলে অর্থ স্থানান্তর করে তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

পর্যটন ভিসার বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ধর্মীয় উৎসব, বিয়ে বা অন্য কোনো সামাজিক উৎসব উপলক্ষে কেনাকাটার জন্য বছরজুড়েই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এক্ষেত্রেও বিদেশ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি পর্যটকরা যাতে সঠিক ও বৈধ পথে অর্থ নিয়ে আসে, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

ভ্রমণকারীদের কর যাচাইয়ের সুপারিশ

ভ্রমণকারীদের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে বলে মনে করেন হাইকমিশনার। যারা চিকিৎসা নিতে বিদেশে আসেন কিংবা যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় বিদেশ পাঠান তাদেরও সেই সামর্থ্য আছে। তারা ঠিকমতো সেটি পরিপালন করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার সুপারিশও করা হয় ইকবাল হোসেনের চিঠিতে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩৮ সেবার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে প্রমাণাদি দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাইকমিশনার মনে করেন, ভ্রমণকারীদের বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকমিশনারের চিঠিটি আমরা পেয়েছি। যেসব প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন তা যৌক্তিক। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে সেবা খাতে সীমাবদ্ধতা আছে। যে কারণে অনেকেই চিকিৎসা, শিক্ষা নিতে বিদেশ যাচ্ছে। এটা ঠিক, চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এখানে শক্তভাবে তদারিক করা দরকার। পাশাপাশি দেশে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। তাহলে বিদেশ যাওয়া কমবে রোগীদের।’

মন্তব্য

জীবনযাপন
What is the benefit of making the dollar rate market based?

ডলারের দর বাজারভিত্তিক করে ‘লাভ কী হলো’

ডলারের দর বাজারভিত্তিক করে ‘লাভ কী হলো’ প্রতীকী ছবি
ডলারের মূল্য বাজারভিত্তিক করার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না আমি। আমদানি বেশ কমেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা, কিন্তু উল্টো বাড়ছে। তাহলে বাজারভিত্তিক করে কী লাভ হলো? আর আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লাগছে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের মধ্যে ৮ টাকার বেশি ব্যবধান: আহসান এইচ মনসুর

দাম বাজারভিত্তিক এবং আমদানি ব্যয় কমলেও ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না; কমছে না বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর মুদ্রাটির তেজ। অদ্ভুত আচরণ করছে বাজার।

সংকট নিরসনে ডলারের মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে তা বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছে না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছে। দুর্বল হয়েই চলেছে টাকার মান; শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছে যে দামে ডলার বেচাকেনা করছে, তার দামও বাড়ছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ৮ টাকা ৩৫ পয়সা। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের এতটা পার্থকের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ডলারের মূল্য বাজারভিত্তিক করার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না আমি। আমদানি বেশ কমেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা, কিন্তু উল্টো বাড়ছে।

‘তাহলে বাজারভিত্তিক করে কী লাভ হলো? আর আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লাগছে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের মধ্যে ৮ টাকার বেশি ব্যবধান।’

ডলারের দর বাজারভিত্তিক করে ‘লাভ কী হলো’

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রপ্তানিতে ডলারের দাম ৯৯ টাকা, আর প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাম ৯৬ টাকা। এত পার্থক্য রেখে ডলারের দাম স্থিতিশীল করা যাবে না। প্রবাসী আয়ে দাম কমাতে হবে; রপ্তানিতে দাম বাড়াতে হবে। এভাবে সব ক্ষেত্রে ডলারের দাম এক করে ফেলতে হবে।’

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ থেকে কত দামে কত ডলার বিক্রি করেছে, সে তথ্য প্রকাশ করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়।

মঙ্গলবার খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১১৪ টাকা ৪০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এতদিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দর বাজারভিত্তিক করা হয়।

ওই দিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এ মুদ্রার বিনিময় হার ঠিক করা হয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাড়ল ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দরপতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন বা বাফেদা ঠিক করে আন্তব্যাংকে ডলারের বিনিময় হার হবে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। সেই দরকেই আন্তব্যাংক দর হিসেবে বেছে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময়মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই, তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর আরও বাড়ল
একদিনে ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১০ টাকা দরপতন
ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংকে ডলারের নতুন দর কার্যকর হয়নি
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’

মন্তব্য

p
উপরে