× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Bengali Food Fest started at Golden Tulip The Grandmark Hotel
hear-news
player
google_news print-icon

গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক হোটেলে বাংলা ফুড ফেস্ট শুরু

গোল্ডেন-টিউলিপ-দ্য-গ্র্যান্ডমার্ক-হোটেলে-বাংলা-ফুড-ফেস্ট-শুরু
শুধু খাবারের উৎসবই শেষ নয়, আরও আছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা গান, বায়োস্কোপ বুথ, কাব্যিক বইয়ের বুথ, ফ্রি মেহেদি বুথ, ফটো বুথ, শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও লটারি।

রাজধানীর গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক হোটেলে বাংলা ফুড ফেস্ট শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অভিনেতা নীরব, আসিফ, অভিনেত্রী দীঘি ও গায়ক রাফাত।

এক সপ্তাহব্যাপী এই বাংলা খাবারের উৎসবে থাকছে মজাদার সব বাংলা খাবারের সমাহার। মরিচ বাটা, ভুনা হাঁসের গোস্ত, ঢাকাইয়া খাসির পায়া, চেপা শুঁটকির লোরা, কলার মোচা ভর্তা, পিঁয়াজ লাল মরিচ ও রসুনের চাটনি, নারিকেল দুধে ভেজা চিতই পিঠা, তন্দুরি শিকানদারি রানের মতো আরও অনেক মুখরোচক ও লোভনীয় খাবার।

শুধু খাবারের উৎসবই শেষ নয়, আরও আছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা গান, বায়োস্কোপ বুথ, কাব্যিক বইয়ের বুথ, ফ্রি মেহেদি বুথ, ফটো বুথ, শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও লটারি। এই আয়োজন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
The eyes of the plane in the sky of Japan

জাপানের আকাশে চোখ বিমানের

জাপানের আকাশে চোখ বিমানের প্রতীকী ছবি
জাপানের নারিতায় ফ্লাইট চালু করতে কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ফ্লাইট শুরুর বিষয়ে জাপান সরকারের অনুমোদনও বেশ আগেই পায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটি।

কানাডার পর জাপানের আকাশে পাখা মেলার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সম্প্রতি বিদেশি পর্যটকদের জন্য জাপানকে উন্মুক্ত ঘোষণা করায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুলছে।

জাপানের নারিতায় ফ্লাইট চালু করতে কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বিমান। ফ্লাইট শুরুর বিষয়ে জাপান সরকারের অনুমোদনও বেশ আগেই পায় বিমান।

জাপানে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমানকে ফিফথ ফ্রিডম সুবিধাও দিয়েছে দেশটি। অর্থাৎ ঢাকা ও নারিতার মধ্যবর্তী একটি বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়েও এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।

এতদিন তা আটকে ছিল করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধের কারণে। করোনার মধ্যে জাপান সরকার দেশটিতে বিদেশি পর্যটকদের আগমনে এতদিন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল।

বিমানের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং এশিয়ার অন্য অঞ্চলগুলোর সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগের পথ খুলবে।

এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটার ফ্লাইট অপারেশনের কাজগুলো চলছে, তবে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না কবে নাগাদ এটা শুরু হবে। এটা আমাদের তালিকার মধ্যে আছে।’

বিমানের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাপান এয়ারের সঙ্গে কোড শেয়ার চুক্তিতে যাওয়ার কথা সংস্থাটির। দুটি এয়ারলাইনসের মধ্যে এ ধরনের চুক্তি থাকলে একজন যাত্রী কোনো একটি এয়ারলাইনসের টিকিট কেটেই অন্য এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারেন।

বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনস এ ধরনের চুক্তির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করলেও এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম উদ্যোগ।

বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সেবা দিয়ে থাকে বিমান। একসময় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বিমানের ফ্লাইট চলাচল করলেও এখন সেগুলো বন্ধ।

বিমানের বহরে লম্বা দূরত্বে উড়তে সক্ষম অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ থাকলেও রুট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলোর সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বোয়িং সেভেন এইট সেভেন ও চারটি বোয়িং ট্রিপল সেভেন মডেলের উড়োজাহাজ। এর প্রত্যেকটি টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম।

এতদিন বিমানের লম্বা দূরত্বের ফ্লাইট চালু ছিল শুধু লন্ডন রুটে। টরন্টোতে ফ্লাইট শুরুর পর এটিও যুক্ত হয় লম্বা দূরত্বের রুটের তালিকায়।

ঢাকা থেকে সরাসরি আকাশপথে নারিতা যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা। চালু হলে এটিও বিমানের লম্বা দূরত্বের রুট হবে।

টরন্টোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করায় ভারত, নেপালসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের মধ্যে রুটটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বিমান আশা করছে নারিতা রুটেও মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক যাত্রী পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
বিমানের বিরুদ্ধে বেসরকারি এয়ারলাইনসের ক্ষোভ
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: আধিপত্য হারাতে পারে বিমান
শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ ৪৪ শতাংশ
টরন্টো ফ্লাইটে আগ্রহ বিদেশি যাত্রীদের
সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার দেনা নিয়েও বিমান লাভজনক?

মন্তব্য

জীবনযাপন
5 day Indian food festival at Sonargaon Hotel

সোনারগাঁও হোটেলে ৫ দিনের ভারতীয় খাবার উৎসব

সোনারগাঁও হোটেলে ৫ দিনের ভারতীয় খাবার উৎসব হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ভারতীয় খাবার উৎসব। ছবি: সংগৃহীত
খাবার মেন্যুতে পাঞ্জাবি চাওয়া মাসালা, ফিশ টিক্কা অমরিস্ত্রা, নাগপুরি সাজি মাটন, দহি লাসোনি চিকেন, হায়দ্রাবাদি মাটন বিরিয়ানি, চিকেন বাঞ্জারা কাবাব, গুজরাটি ডাউ মাসালা, আলু মেথি মাসালা, পনির মাখানি, দোসাসহ খাবারের নানা পদ রয়েছে।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ভারতীয় খাবারের উৎসব। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই উৎসব চলবে।

উৎসবে যোগ দিতে আসা অতিথিরা সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেয়ার পাশাপাশি জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লাইভ মিউজিকও উপভোগ করতে পারবেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাবার মেন্যুতে পাঞ্জাবি চাওয়া মাসালা, ফিশ টিক্কা অমরিস্ত্রা, নাগপুরি সাজি মাটন, দহি লাসোনি চিকেন, হায়দ্রাবাদি মাটন বিরিয়ানি, চিকেন বাঞ্জারা কাবাব, গুজরাটি ডাউ মাসালা, আলু মেথি মাসালা, পনির মাখানি, দোসাসহ খাবারের নানা পদ রয়েছে।

অভিজ্ঞ শেফ জহির খান, জহিরুল ইসলাম ও গোভিন্দ কারাটি অতিথিদের জন্য এসব পদ তৈরি করছেন বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

উৎসবের অন্য একটি আকর্ষণ হলো অতিথিদের জন্য আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র।

উৎসবে যোগ দিতে আগ্রহীরা ফোনকলের মাধ্যমে আগে নিজের স্থান নির্ধারণ করতে পারবেন। উৎসবে যোগ দিতে একজনের খরচ হবে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

মন্তব্য

জীবনযাপন
13 crores motel stuck in the case

মামলায় আটকা ১৩ কোটি টাকার মোটেল

মামলায় আটকা ১৩ কোটি টাকার মোটেল বাগেরহাট পর্যটন করপোরেশনের মোটেলের মূল ভবনের কাজ আটকে গেছে মাঝপথে। ছবি: নিউজবাংলা
বাগেরহাট শহরের মাজার মোড়ে ৩৩ শতকের বেশি জমির উপরে সাত তলা মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পর্যটন করপোরেশন। কিন্তু ঠিকাদারের করা মামলায় আটকে আছে এটির নির্মাণকাজ। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অধীর হয়ে আছেন, কবে চালু হবে এই মোটেল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাতে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। সেই ঠিকাদার মামলা করে দেয়ায় নতুন করে কাজও শুরু করা যায়নি। বাগেরহাট পর্যটন করপোরেশনের মোটেলের মূল ভবনের কাজ এভাবেই আটকে গেছে মাঝপথে।

২০১৯ সালের জুনে শুরু হওয়া এই ভবনের কাজ ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর ১৫ মাস পার হলেও এখনও শেষ হয়নি এটির নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগেরহাট পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। তবে পর্যটন করপোরেশন বলছে, মূল ভবনের কাজ বন্ধ থাকলেও সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।

বাগেরহাটের টুরিস্ট গাইড গোলাম মাওলা জুয়েল বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে প্রতিদিন কয়েক’শ দেশি-বিদেশি পর্যটক আসে এখানে। তবে ভালো হোটেল-মোটেল না থাকায় অনেক পর্যটক ও দর্শনার্থীকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। থাকার ভালো জায়গা না থাকায় অনেকে পরিবার নিয়ে আসতে চায় না। এ কারণে এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। পর্যটন মোটেল নির্মাণ শুরু হলে আমরা ভেবেছিলাম এসব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু অনেকদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আমরা খুবই হতাশ।’

ষাটগম্বুজ-সুন্দরবন ট্যুরিজম নামের ট্যুর অপারেটরের পরিচালক মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু বলেন, ‘পর্যটন করপোরেশনের এ মোটেলের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের উচিত অতি দ্রুত এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে বাগেরহাটবাসীর আশা-আকাঙ্খা পূরণ করা।’

মামলায় আটকা ১৩ কোটি টাকার মোটেল

ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, বাগেরহাটের পর্যটন মোটেলের সাথে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ জড়িত। এই ভবন নির্মানে যদি কোন জটিলতা থাকে, তাহলে সেসব জটিলতা নিরসন করে অতিদ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বাগেরহাট শহরের মাজার মোড়ে ৩৩ শতকের বেশি জমির উপরে সাত তলা মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পর্যটন করপোরেশন। নির্মাণাধীন এই ভবনে ৩০টি কক্ষ, ৫০ আসনের রেস্টুরেন্ট, অফিস রুম, অভ্যর্থনা কক্ষ, বারবিকিউ রুম ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। পুরো ভবনের আয়তন ২ হাজার ৭৬০ বর্গ মিটার। এর সাথে বাগান করা হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শেষ না করায় পর্যটন করপোরেশন নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাজা রাব্বি বিলকিসের কার্যাদেশ বাতিল করে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করা হয়।

পর্যটন করপোরেশনের সিদ্ধান্তকে অন্যায় দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে খাজা রাব্বি বিলকিস। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে উচ্চ আদালত এ মোটেলের কাজের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। পর্যটন করপোরেশন এই স্থগিতাদের বিরুদ্ধে এখন আদালতে আইনি লড়াই করছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পিটিএস) ও প্রকল্প পরিচালক মো. জাকির হোসেন সিকদার বলেন, ‘ঠিকাদারের দায়িত্ব শুধু ভবন নির্মাণির কাজ ছিল। এর বাইরের কাজ, যেমন বাউন্ডারি ওয়াল, লিফট স্থাপন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মূল ভবনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। মূল ভবনের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা এলাকা ঘিরে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
শীতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা মূল্যে পদ্মা সেতু দেখাবে বিপিসি
বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই
পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর

মন্তব্য

জীবনযাপন
Despite the potential Bagerhat lags behind in tourism

সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটনে পিছিয়ে বাগেরহাট

সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটনে পিছিয়ে বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি: নিউজবাংলা
বাগেরহাটের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংরক্ষিত অধিকাংশ পুরাকীর্তিগুলো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থাপনা প্রাঙ্গণে চরছে গরু-ছাগল। কয়েকটি স্থাপনার দেয়ালও ধসে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রাচীন এসব স্থাপনা।

একদিকে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য আর অন্যদিকে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। দেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের দুটিই বাগেরহাটে। পর্যটন শিল্পে এ জেলার অপার সম্ভবনা থাকলেও দীর্ঘদিনেও নিশ্চিত করা যায়নি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। রয়েছে মানসম্মত হোটেল-আবাসন ব্যবস্থার সংকট। সবকিছু মিলিয়ে নানা সংকটে দিন দিন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ জেলার পর্যটন শিল্প। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদসহ জেলাকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে নেয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ।

বাগেরহাটের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংরক্ষিত অধিকাংশ পুরাকীর্তিগুলো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থাপনা প্রাঙ্গণে চরছে গরু-ছাগল। কয়েকটি স্থাপনার দেয়ালও ধসে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রাচীন এসব স্থাপনা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হযরত খানজাহান আমলে নির্মিত ইসলামী স্থাপত্য রীতির মসজিদগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৮৫ সালে বাগেরহাট জেলাকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসেবে ঘোষণা এবং ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে ইউনেস্কো। এর মধ্যে বাগেরহাটের ১৭টি স্থাপনাকে তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্ত স্থাপনা ছাড়াও বাগেরহাটে আরও অনেক পুরাকীর্তি ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা রয়েছে।

সম্প্রতি বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১৬৩টি প্রত্নস্থান (সাইট) শনাক্ত করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। গত এক বছরে সুন্দরবনের বাগেরহাট অংশে পর্যটক এসেছে ১ লাখ ২০ হাজার। অন্যদিকে বাগেরহাটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ষাটগম্বুজ মসজিদে এসেছে ১ লাখ ৮০ হাজার দর্শনার্থী।

ষাটগম্বুজ-সুন্দরবন ট্যুরিজম ট্যুর অপারেটরের পরিচালক মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু বলেন, ‘বাগেরহাটে অনেক পর্যটন স্পট থাকলেও সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয়দের আচার-ব্যবহারে ঘাটতি রয়েছে।’

ষাটগম্বুজ, মোংলাসহ বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটনে পিছিয়ে বাগেরহাট
সুন্দরবন। ছবি: নিউজবাংলা

সদর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ফলে বাগেরহাটের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। জেলার প্রবেশপথে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যানার বা বিলবোর্ডের মাধ্যমে যদি এক নজরে বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থাপনার বর্ণনা, যাতায়াত ব্যবস্থা, খাবার ও থাকার হোটেল লেখা যায় তবে দর্শনার্থীদের জেলায় ভ্রমণ আরও সহজ হবে।’

বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ‘বাগেরহাটে আসা দর্শনার্থীদের জন্য লোকালয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে স্থানীয়রা বেশ লাভবান হবেন। এছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ষাট গম্বুজের সামনে বিশ্রামাগার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।’

পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন ঘোড়াদীঘিকে নান্দনিক করতে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজম সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও চারটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।’

সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটনে পিছিয়ে বাগেরহাট
ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি: নিউজবাংলা

তৈরি হতে যাওয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রগুলো হচ্ছে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগী এবং শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘বাগেরহাটকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যেগ নিয়েছে। প্রত্যেকটি পর্যটন কেন্দ্রের শোভাবর্ধন, আবাসন ব্যবস্থা, বিপণন কেন্দ্র, সহজ যাতায়াত, সার্বিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।’

খুব তাড়াতাড়ি বাগেরহাটের পর্যটন শিল্প আরও বিকাশিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সিলেটে পর্যটনের বিকাশ আটকে যেখানে
ভ্রমণ পিপাসুদের নতুন গন্তব্যের খোঁজ দিচ্ছে টিকটক
সৈকতে পর্যটন মেলা, বিচ কার্নিভাল শুরু
পর্যটন দিবস: ৬ বলে ৩৬ রান চান প্রতিমন্ত্রী
শীতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Both of Ramnaths rescue cycle journey

রামনাথের ‘দুইন্যা’ উদ্ধারে সাইকেলযাত্রা

রামনাথের ‘দুইন্যা’ উদ্ধারে সাইকেলযাত্রা
কথা সাহিত্যিক ও নাট্যকার রুমা মোদক বলেন, “শেষবার বিশ্ব ভ্রমণ শেষে রামনাথ বানিয়াচং এসে বলেছিল- যতই ঘুরি না কেন- ‘বাইন্নাচুং আমার দুইন্যা’। কিন্তু আজ তার দুইন্যাই বেদখল। রামনাথের দুইন্যাকে ফিরিয়ে দিতেই আমাদের আজকের শোভাযাত্রা।”

বাইসাইকেলে কয়েকবার বিশ্বভ্রমণকারী ও ভ্রমণ কাহিনির লেখক রামনাথ বিশ্বাসের বাড়ি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবিতে পর্যটন দিবসে সাইকেলযাত্রা করেছেন সাইক্লিস্ট ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন কয়েকশ সাইক্লিস্ট।

তারা সাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচং বিদ্যাভূষণপাড়ায় রামনাথের বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছেন। সেখানে রামনাথের বসতভিটা পরিদর্শন শেষে বানিয়াচং শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন। তারা ওই বসতভিটায় বিশেষায়িত পাঠাগার ও সাইকেল মিউজিয়ামের দাবি জানান।

ঢাকার মিরপুর থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাইসাইকেল দিয়েও যে বিশ্ব ভ্রমণ করা যায় সেটি দেখিয়েছিলেন রামনাথ বিশ্বাস। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণার নাম। অথচ তার বসতভিটা আজ বেদখল। এই বসতভিটা উদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবিতে আজকে ঢাকা থেকে আমি এসেছি।’

সাইক্লিস্ট আল্লামা দিদার বলেন, ‘রামনাথ একজন বিখ্যাত ভূপর্যটক। তিনি শুধু বিশ্ব ভ্রমণ করেননি, ৩০টির বেশি বইও লিখেছেন। যখন শুনেছি বিখ্যাত এই ব্যক্তির পৈত্রিক ভিটা উদ্ধারের দাবিতে সাইকেল শোভাযাত্রা হচ্ছে, তখনই আমি ঢাকা থেকে ছুটে আসছি।’

কথা সাহিত্যিক ও নাট্যকার রুমা মোদক বলেন, “শেষবার বিশ্ব ভ্রমণ শেষে রামনাথ বানিয়াচং এসে বলেছিল- যতই ঘুরি না কেন- ‘বাইন্নাচুং আমার দুইন্যা’। কিন্তু আজ তার দুইন্যাই বেদখল। রামনাথের দুইন্যাকে ফিরিয়ে দিতেই আমাদের আজকের শোভাযাত্রা।”

ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক ও বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা চাই রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার করে এখানে একটি বিশেষায়িত পাঠাগার ও সাইকেল মিউজিয়াম তৈরি করা হোক।

‘এছাড়া তার যে বইগুলো আছে সেগুলো আবার মুদ্রণ করে আগামী প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দেয়া হোক।’

১৮৯৪ সালের ১৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামের বিদ্যাভুষণপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন রামনাথ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর স্থায়ীভাবে কলকাতা চলে যান। ১৯৫৫ সালে ১ নভেম্বর সেখানেই তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন তার বানিয়াচংয়ের বাড়িটি পরিত্যক্ত ছিল। আশির দশকে ৪ একর ৪৮ শতাংশ বাড়িটি দখলে নেন আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া নামে এক প্রভাবশালী। এরপর থেকে বাড়িটি তার দখলেই রয়েছে।

বাড়িটির দখলদার আব্দুল ওয়াহেদ স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার বড় ভাই আবু ছালেক আলবদর বাহিনীর সদস্য হওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগ তাকে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

তবে বাড়ি দখলের বিষয়ে আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া বলেন, ‘এই বাড়ি রামনাথ বিশ্বাসের বা তিনি এই বাড়িতে থাকতেন বলে আমাদের জানা নেই। আমরা মোহিনী বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বাড়িটি কিনেছি এবং যাবতীয় কাগজপত্রও আছে।’

বানিয়াচং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান উর্মি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের দাবি, ইতোমধ্যে তারা বাড়িটির কাগজপত্র পর্যালোচনা করছেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। যদি এটি রামনাথের বাড়ি হয়, তাহলে সেটি পুনরুদ্ধার করা হবে।’

আরও পড়ুন:
রামনাথের বাড়ি দখলে নেয়া আ.লীগ নেতা ওয়াহেদ হারালেন পদ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Where the development of tourism in Sylhet is stopped

সিলেটে পর্যটনের বিকাশ আটকে যেখানে

সিলেটে পর্যটনের বিকাশ আটকে যেখানে সিলেট জেলার দুটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি ও রাতারগুল জলারবন। ছবি: নিউজবাংলা
গত শনিবার চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের বিছানাকান্দিতে বেড়াতে আসা সাদমান সাকিব বলেন, ‘সিলেটের প্রকৃতি খুবই সুন্দর। পাহাড়, নদী, হাওর, ঝর্ণা, বন- সবই আছে এখানে। কিন্তু নগর থেকে পর্যটনস্পটগুলোতে আসার সড়কগুলো ভয়াবহ রকমের খারাপ। এই সড়কগুলোই সিলেটের পর্যটনের পথের কাঁটা হয়ে আছে। কেউ একবার আসলে আর কোনোদিন আসতে চাইবে না।’

পাহাড়, ঝর্ণা, নদী, হাওর, অরণ্য, চা বাগান কিংবা জলারবন- কী নেই সিলেটে? দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো মানুষের অভাবও কখনও হয়নি এখানে। তবে ইদানীং সেই আগ্রহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

করোনার প্রকোপ আর কয়েদফা বন্যা ছাড়াও নানা সমস্যার কারণে এবার জেলায় আশানুরুপ পর্যটক আসছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সেই সমস্যাগুলো কী কী- এই প্রশ্নে তারা ভাঙাচোরা সড়ক, অনুন্নত অবকাঠামো, নিরাপত্তাহীনতা, পরিকল্পনা ও প্রচারের অভাব, দক্ষ জনশক্তি না থাকার কথা তুলে ধরেন।

চলতি বছরে কয়েকদফা বন্যা হয় সিলেট। পানি নেমে গেলেও তার ক্ষত রয়ে গেছে। নগরসহ সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগ সড়ক ধরে চলাই এখন কষ্টকর।

জেলার দুটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি ও রাতারগুল জলারবন। এই দুই স্থানে যাওয়ার সড়ক এখন ভাঙাচোরা। ফলে এসব স্থানে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা।

বিছনাকান্দির দূরত্ব সিলেট থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার। এই পথের মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার বঙ্গবীর রোড থেকে হাদারপাড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। বন্যায় পিচ উঠে বড় বড় যেসব গর্ত তৈরি হয়, সেগুলো এখন পর্যন্ত সংস্কার হয়নি।

রাতারগুলের অবস্থান সিলেট থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে। এ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশ ভাঙাচোরা। আবার চানুপুর থেকে মোটরঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এ কারণে বৃষ্টির দিনে যাতায়াতে সমস্যা হয় ব্যাপক। অটোরিকশা আর লেগুনা ছাড়া কোনো গাড়িই যেতে চায় না রাতারগুল ও বিছনাকান্দিতে।

গত শনিবার চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের বিছানাকান্দিতে বেড়াতে আসা সাদমান সাকিব বলেন, ‘সিলেটের প্রকৃতি খুবই সুন্দর। পাহাড়, নদী, হাওর, ঝর্ণা, বন- সবই আছে এখানে। কিন্তু নগর থেকে পর্যটনস্পটগুলোতে আসার সড়কগুলো ভয়াবহ রকমের খারাপ। এই সড়কগুলোই সিলেটের পর্যটনের পথের কাঁটা হয়ে আছে। কেউ একবার আসলে আর কোনোদিন আসতে চাইবে না।’

একই মত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাবেক সদস্য জাকারিয়া আহমদেরও। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সিলেটে আশানুরূপ পর্যটক আসছেন না। ফলে এখন পর্যটকরা সিলেটে ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে সিলেট হয়ে ভারতের মেঘালয়েই বেশি যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘কেবল দামি দামি রিসোর্ট করলেই তো পর্যটকরা আসবে না। পর্যটকরা রিসোর্ট দেখতে আসে না। তারা ছুটি কাটানোর জন্য, একটু আরাম আয়েশের জন্য বেড়াতে আসেন। অথচ সিলেটে বেড়াতে এসে তাদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়।’

সিলেটে পর্যটনের বিকাশ আটকে যেখানে
বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে পর্যটকরা আসেন ভোগান্তি থাকলেও। ছবি: নিউজবাংলা

নেই অবকাঠামো

জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ। সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কটিও অপেক্ষাকৃত ভালো। তবে সাদাপাথরে পর্যটকদের জন্য ওয়াশ রুম, চেঞ্জ রুমসহ অবকাঠামোগত সুবিধা। বিছানাকান্দি, রাতারগুলসহ সিলেটের বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্রে নেই এমন সুবিধা।

সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালি বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘সিলেটের বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্রে কোন বিশ্রামাগার ও ওয়াশরুম নেই। এতে পর্যটকরা এসব স্থানে এসে বিপাকে পড়েন। কেবল পর্যটন এলাকায় নয়, ওইসব স্থানে যাওয়ার পথেও ওয়াশরুম নির্মাণ করা প্রয়োজন।

‘স্পটগুলোতে কোন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নেই। ফলে পর্যটকরা অনেক সময় পর্যটন এলাকা নোংরা করে ফেলেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও জরুরি।’

অবকাঠামো গড়ে তোলার নামে যাতে পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করা না হয় সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সহ-সভাপতি এমাদউল্লাহ শহীদুর ইসলাম শাহীন।

তিনি বলেন, ‘রাতারগুল জলারবন একটি বিশেষ প্রকৃতির বন। অথচ এই বনের ভেতরে বনবিভাগ পর্যটক আকর্ষণের নামে ওয়াচ টাওয়ার নির্মণ করেছে। যা কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, বনের চরিত্রবিরোধীও। বন, হাওরের উন্নয়ন হবে স্থাপনাবিহীন।’

তিনি বলেন, ‘বন ও হাওরের মধ্যে ইঞ্জিন নৌকা চলাচলও বন্ধ করা দরকার। সিলেট অঞ্চলে বারকি নৌকা নামে হাতে টানা এক ধরনের বিশেষ নৌকা রয়েছে। এটা সিলেটের ঐতিহ্যও। পর্যটক চলাচলে এসব নৌকা ব্যবহার করা যেতে পারে।’

সিলেটে পর্যটনের বিকাশ আটকে যেখানে
বিছনাকান্দি ও রাতারগুল জলারবন যাওয়ার সড়ক এখন ভাঙাচোরা। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবহনখাতে অব্যস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতা

পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনার কারণেও পর্যটকদের দুর্ভোগে পরতে হয়। অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা এখানে জনপ্রিয় না হওয়ায় পর্যটকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত ভাড়া হাকান চালকরা। মাঝিরা নৌকা ভাড়াও বাড়তি রাখেন বলে অভিযোগ আছে।

হাওর পর্যটন নিয়ে গবেষণা করা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমদাদুল হক, ‘এখানকার চালকরা সিলেটে মানুষ না হলে ভাড়া বেশি রাখেন। এছাড়া ভাড়া গাড়ি নেয়ার মতো কোনো কাউন্টার বা টিকিটের ব্যবস্থা নেই। ফলে যাত্রীদের যেমন বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়, তেমনি নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় থাকতে হয়।’

একই মত জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, ‘নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া উচিত। একইসঙ্গে সেগুলোকে নিবন্ধন ও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর জাফলং ও লালাখালে পানিতে ডুবে অনেক মৃত্যু হয়। প্রতি বছর এমন ঘটনা ঘটলেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। পর্যটন পুলিশ বলে একটি বিশেষ ইউনিট থাকলেও তাদের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়ে না।’

পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নৌকার ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘বিছনাকান্দি, রাতারগুলসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র্রে নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি নৌকায় লাইফ জ্যাকেট রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া সাঁতার না জানা কেউ পানিতে না নামার অনুরোধ জানিয়ে সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে।’

প্রচারের অভাব, তথ্যের দুস্প্রাপ্যতা

সিলেটের প্রচার বা ব্র্যান্ডিং নেই বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এখানে এলে কোথায় কীভাবে ঘুরে বেড়ানো যাবে, এ নিয়ে সঠিক তথ্যও এক স্থান থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা নেই।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সহ-সভাপতি এমাদউল্লাহ শহীদুর ইসলাম শাহীন বলেন, ‘ধর্মীয় পর্যটন সারাবিশ্বেই পর্যটনের অন্যতম একটি শাখা। সিলেটেও এর সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রচারের অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

‘এখানে শাহজালাল (র.) শাহপরান (র.) সহ ৩৬০ আওলিয়ার মাজার রয়েছে। শ্রীচৈতন্যের পিতৃভূমি রয়েছে। কিন্তু এগুলো কোথায় অবস্থিত, কোনটি কী বৈশিষ্ট্য তা নিয়েও প্রচার নেই।’

তিনি বলেন, ‘নগরের চাষনী পীর এলাকার মাজারে প্রচুর বানর রয়েছে। এটি ভালোভাবে প্রচার করা হলে পর্যটকরা সেখানে যেতেন। আবার অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও প্রত্মতাত্ত্বিক নির্দশন রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ ও ভালোভাবে ব্র্যান্ডিং করা গেলেও অনেক পর্যটক আসতেন।’

পর্যটকদের জন্য আলাদা একটি তথ্য বাতায়ন গড়ে তোলা প্রয়োজন জানিয়ে সিলেট ইতিহাস ও ঐতিহ্য ট্রাস্টের সভাপতি শাহ জামান মোস্তফা বাহার বলেন, ‘সিলেটে যারা বেড়াতে আসেন তারা কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, এখানে ঘুরে দেখার মতো কী কী আছে এসব ব্যাপারে এক জায়গা থেকে তথ্য পাওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে পর্যটকদের বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞেস করে ঘরে বেড়াতে হয়। এতে তারা অনেক সময় বিপত্তিতে পড়েন।’

দক্ষ জনশক্তির অভাবও সিলেটের পর্যটন বিকাশের অন্যতম বাধা বলে মনে করেন সিলেট ক্যটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবলু। তিনি বলেন, ‘এখানে হোটেল ম্যানেজমেন্ট, হসপিটালি, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইড হিসেবে দক্ষ মানুষজন পাওয়া যায় না। এসব খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন ‘

যা বলছেন দায়িত্বশীলরা

এসব সমস্যা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা ওয়েবসাইট করব। যেখানে পর্যটকরা সিলেট সম্পর্কে সব তথ্য পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘বন্যায় সিলেটের বেশিরভাগ সড়কেরই ক্ষতি করেছে। এসব সড়ক সংস্কারের একাধিক প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।’

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সিলেটে সবই আছে। প্রকৃতি আমাদের সবই দিয়েছে। আমাদেরকে এগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হবে। কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। এগুলো দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এখানকার মানুষজনকেও সচেতন হতে হবে, পর্যটকবান্ধব হতে হবে।

‘পরিবেশ রক্ষায় আমরা জাফলং ও ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করেছি। কিন্তু কিছু সংখ্যক মানুষ পাথর উত্তোলন শুরুর জন্য দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে লুকিয়ে তুলছেও। তাদের বুঝতে হবে পাথর থেকে পর্যটন আয়ের বড়ক্ষেত্র হতে পারে। তাদের পেশা পরিবর্তন করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ভ্রমণ পিপাসুদের নতুন গন্তব্যের খোঁজ দিচ্ছে টিকটক
সৈকতে পর্যটন মেলা, বিচ কার্নিভাল শুরু
শীতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা
বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই
পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের

মন্তব্য

জীবনযাপন
TikTok is exploring new destinations for travelers

ভ্রমণ পিপাসুদের নতুন গন্তব্যের খোঁজ দিচ্ছে টিকটক

ভ্রমণ পিপাসুদের নতুন গন্তব্যের খোঁজ দিচ্ছে টিকটক
বিভিন্ন উপায়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞতা নিতে এখন টিকটক একটি উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বে যে কয়েকটি খাতে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছিল তার একটি পর্যটন। মহামারির পর বিশ্বের পর্যটন খাত পুরোদমে ফিরে আসতে শুরু করেছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ও স্টেকহোল্ডাররা এ বছর ‘রিথিংকিং ট্যুরিজম’ স্লোগান নিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবসে ভ্রমণকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে।

ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে পর্যটকরা কোথায় যাবেন এবং কীভাবে তাদের ট্রিপ বুক করবেন তার একটা রূপান্তর ঘটেছে। এখন পর্যটকরা ঘরে বসেই তাদের গন্তব্যের জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে পারছে, ভ্রমণের পরামর্শ এবং এমনকি এখন সোশ্যাল মিডিয়া ইমেইলের পরিবর্তে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও, পর্যটকরা প্রতিনিয়তই প্রযুক্তি সচেতন হয়ে উঠছে। তারাও এখন তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অন্যদের প্রভাবিত করার জন্য টিকটকের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে।

আর এর ফলে, বিভিন্ন উপায়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞতা নিতে এখন টিকটক একটি উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি বাংলাদেশের ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে, শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক আগামীর পর্যটন খাতে একটি বড় পদপ্রদর্শক হতে যাচ্ছে।

টিকটক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে কমিউনিটির জেনুইন, ভিজ্যুয়াল এবং জিও-ট্যাগযুক্ত কনটেন্টের মাধ্যমে নিজেদেরকে স্টোরি বলতে প্রস্তুত। সেই সঙ্গে তারা আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে লোভনীয় ও স্বাধীনভাবে কিছু করতে প্রস্তুত। এটি সম্ভব হচ্ছে খুব সহজ কিছু টুলস, স্থানীয় প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট এবং ক্রিয়েটর দিয়ে, যারা ভিন্নধর্মী কনটেন্ট সরবরাহ করছে।

টিকটকে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আকর্ষণগুলো হলো, ব্যক্তিগত, সহজলভ্য এবং প্রেরণাদায়ক একটা গল্প থাকে। যার মাধ্যমে পর্যটকরা যাত্রা শুরু করবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত সহজেই নিতে পারছেন।

সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকটকে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রকৃত পোস্ট শেয়ার করতে পারছেন, যার সঙ্গে বড় পরিসরে রয়েছে সাউন্ড, ইফেক্ট এবং অন্য সৃজনশীল সব টুলস। এসব ব্যবহারকারীদের কল্পনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করে। জনপ্রিয় মিউজিক ব্যবহারের মতো ফিচার, হ্যাশট্যাগ এবং ফিল্টারগুলো কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের জন্য বিশ্বের কাছেই পরিচিত। এর নদ-নদী, উপকূল, সৈকত, ঐতিহাসিক স্থান এবং ধর্মীয় সাইট, পাহাড়, বন, ঝরণা এবং চা বাগানের সৌন্দর্য্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং নওগাঁর পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার দেশের তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, যেগুলো প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেন।

টিকটকের কনটেন্ট নির্মাতারা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটনের এমন লুকানো রত্নগুলো (জায়গা) খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এটি শুধু দেশের মধ্যেই নয়, দেশের বাইরের পর্যটকদের কাছেও বাংলাদেশ ভ্রমনে আগ্রহী করে তুলছে। টিকটক ব্যবহারকারীরা অনাবিষ্কৃত অসংখ্য স্পট আবিষ্কার করছেন, যেগুলো এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করেছে।

৩৪ বিলিয়ন ভিউ নিয়ে #TikTokTravel এখন অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ। পরবর্তী প্রজন্মের ভ্রমন পিয়াসীদের অন্যতম কার্যকরী যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম এখন টিকটক।

আরও পড়ুন:
সৈকতে পর্যটন মেলা, বিচ কার্নিভাল শুরু
পর্যটন দিবস: ৬ বলে ৩৬ রান চান প্রতিমন্ত্রী
শীতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা মূল্যে পদ্মা সেতু দেখাবে বিপিসি
বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই

মন্তব্য

p
উপরে