× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Canada is pouring 154 million dollars into cannabis
hear-news
player
print-icon

গাঁজা খাওয়াতে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার ঢালছে কানাডা

গাঁজা-খাওয়াতে-১৫-কোটি-৪০-লাখ-ডলার-ঢালছে-কানাডা
বিনোদনমূলক ক্ষেত্রে গাঁজার ব্যবহার ২০১৮ সালের অক্টোবরে বৈধ করে কানাডা। দেশটির সরকার ২০০৮ সাল থেকে সাবেক সামরিক সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত গাঁজার খরচ দিচ্ছে।  

সাবেক সেনাদের গাঁজা কেনা সহজ করতে আরও টাকা ঢালতে যাচ্ছে কানাডা সরকার। বলা হচ্ছে, সরকার এবার এ খাতে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করবে। এই অঙ্ক গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় ১৩৫ শতাংশ বেশি। কানাডার ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স ২০০৮ সাল থেকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত গাঁজার জন্য এ অর্থ ব্যয় করছে।

বিনোদনমূলক ক্ষেত্রে গাঁজার ব্যবহার ২০১৮ সালের অক্টোবরে বৈধ করে কানাডা। উরুগুয়ের পর কানাডা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দ্বিতীয় দেশ। সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পদক্ষেপ হিসেবে এ ব্যবস্থাটির বৈধতা দেয় জাস্টিন ট্রুডোর সরকার।

কানাডায় ওষুধ হিসেবে গাঁজা ২০০১ সাল থেকে বৈধ। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্বেগ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে গাঁজা ভীষণ কার্যকর।

২০০৮ সালে আইনি নানা বাধা কাটিয়ে ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের চিকিৎসায় ঔষধি গাঁজার অনুমোদন দেয়। তিন বছর পর ২০১১ সালে গাঁজাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে নিয়মকানুনগুলো সহজ করে সরকার। এ বছর গাঁজা কেনার জন্য ৩৭ জনকে ৮১ হাজার ডলার দেয়া হয়।

ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স বলছে, মেডিক্যাল গাঁজা ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানে দারুণ একটি ক্ষেত্র। এ নিয়ে আরও গবেষণা চলবে। বয়স্ক এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে প্রয়োজনীয় নীতি সমন্বয় করা হবে।

কানাডিয়ান সিনেট কমিশন ২০১৯ সালে চিকিৎসার উদ্দেশে গাঁজার ইতিবাচক ফলাফলের ওপর জোর দিয়েছিল। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত আসক্তিযুক্ত’ ওপিওডের বিকল্প ধরা হচ্ছে গাঁজাকে।

সিনেটররা বলেন, ‘গাঁজার দাম নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। কারণ কিছু অভিজ্ঞ সেনার সামর্থ্যের চেয়ে বেশি খরচ হতে পারে।’

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে কমপক্ষে ১৮ হাজার সাবেক সেনাকে ঔষধি গাঁজার জন্য টাকা দিয়েছিল কানাডা সরকার, যা ফেডারেল খরচের (১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার) সমান।

বিশেষজ্ঞরা প্রবীণদের জন্য পরিকল্পনাটিকে অনেকাংশেই সমর্থন করেন। তবে তারা বলছেন, এটির সঙ্গে মনোসামাজিক সহায়তা থাকা জরুরি, বিশেষ করে উদ্বেগ এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুন:
মাল্টার আদলে গাঁজা ‘পাচার’
গাঁজা সেবনের দায়ে ছাত্রদল নেতাকে জরিমানা
লং কোভিড চিকিৎসায় ‘অতুলনীয়’ গাঁজা
গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!
‘গাঁজা কিনতেন জাল টাকায়’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
North Korea launched a ballistic missile into the sea

সাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

সাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল দেশটি।

সাগরে একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭টার দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে বন্দর শহর বুসানে যুক্তরাষ্ট্রের এক রণতরি পৌঁছানোর পরপরই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সেখানে যাওয়ার কথার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল দেশটি।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাকে গুরুতর উসকানিমূলক কাজ বলে মন্তব্য করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, পিয়ংইয়ং থেকে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এটি ৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে ৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতির ভঙ্গি বজায় রেখেছে এবং নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে।’

আরও পড়ুন:
দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে উ.কোরিয়ায় করোনা
করোনায় ‘প্রথম’ মৃত্যু উত্তর কোরিয়ায়
আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা উ. কোরিয়ার: যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

জীবনযাপন
Why did Iran explode like this after Mahsas death?

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান ইরানজুড়ে বিক্ষুব্ধদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন মাহসা আমিনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে ব্যাপক হতাশা এই অস্থিরতার সঙ্গে মিশে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেটাচ্ছেন।

ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল বিক্ষোভ।

রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহর এখন অগ্নিগর্ভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নারীর পোশাক ইস্যুতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ওই বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি: সংগৃহীত

নারীর জন্য কঠোর পোশাকবিধি দেখভালের দায়িত্বে আছে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিট, ফারসি ভাষায় যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘গাস্ত-ই এরশাদ’। নিবর্তনমূলক ভূমিকার কারণে এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত অজনপ্রিয়। মাহসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর প্রতিও বিপুলসংখ্যক মানুষের অনাস্থার প্রকাশ ঘটেছে এবার।

বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি কারণ বিশ্লেষণ করেছেন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদক গোলনার মোতিভেলি। তার প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।


১. বিক্ষোভের কারণ কী?

তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু। ১৬ সেপ্টেম্বর এ খবর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, মাহসা কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে পরিবারের সঙ্গে তেহরানে ভ্রমণে এসেছিলেন।

গাস্ত-ই এরশাদ-এর একটি দল তাকে আটকের সময় দাবি করে, মাহসার পোশাক ‘সঠিক নয়’। সংস্কারপন্থি শার্গ সংবাদপত্রের বিবরণ অনুসারে, মাহসার ভাই এ সময় পুলিশের কাছে তার বোনকে সতর্ক করে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। তবে পুলিশ তা কানে নেয়নি। মাহসাকে একটি মিনিভ্যানে জোর করে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, মাহসা একটি চেয়ারে বসা ও সেখান থেকে মেঝেতে পড়ে যাচ্ছেন। তেহরানের পুলিশ বাহিনী বলেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, মাহসার আগে কোনো শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না এবং কর্তৃপক্ষ তাকে মারধরের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

২. ক্ষোভ কতটা তীব্র?

ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তারকা, রাজনীতিক ও খেলোয়াড়রা সোশ্যাল মিডিয়াতে পুলিশের নিন্দার পাশাপাশি গাস্ত-ই এরশাদ-এর সমালোচনা করেছেন। তরুণীরা মাসহার প্রতি সংহতি জানাতে তাদের মাথার হিজাব খুলে ফেলেছেন ও পুড়িয়ে দিচ্ছেন।

ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে ব্যাপক হতাশা এই অস্থিরতার সঙ্গে মিশে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেটাচ্ছেন।

৩. বিক্ষোভকারীদের দাবি কী?

বিক্ষোভকারীরা ৯ বছর বয়স থেকে সব নারীর জন্য বাধ্যতামূলক হিজাবের আইনকে বদলাতে চান। এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়।

এ আইন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর কার্যকর হয়। ওই বছর নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি পশ্চিমপন্থি শাহকে হটিয়ে ইরানের ক্ষমতায় বসেন। তবে তার সরকার দ্রুত দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও বিপ্লবী নারী কর্মীদের মধ্যে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অসংখ্য পুরুষও যোগ দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বছরের পর বছর ধরে নারীরা ধীরে ধীরে অনুমোদনযোগ্য পোশাকের সীমানা বাড়িয়েছেন। খোলা ও লেগিনসের সঙ্গে ঢিলেঢালা শাল ও পোশাক বেশিরভাগ শহরে সাধারণ পোশাক হয়ে উঠেছে। মাহসাকে যখন আটক করা হয় তার পরনেও ছিল তেমন একটি পোশাক।

৪. হিজাব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কি এই প্রথম?

১৯৭০ দশকের শেষে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই পোশাকবিধির বিরোধিতা দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত সুশীল সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল। তবে ২০১৭ সালের শেষের দিকে তেহরানের পাবলিক ইলেকট্রিকাল কেবিনেট ও বেঞ্চে বেশ কয়েকজন নারী তাদের মাথার স্কার্ফ খুলে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার পর থেকে ভিন্নমত আরও জোরালো হয়।

তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশকে আগ্রাসীভাবে তাদের মাটিতেও ঠেসে ধরে রাখতেও দেখা গেছে। ওই বছরের আগস্টে সেপিদেহ রাশনো নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশনো এক ধার্মিক, চাদরে ঢাকা ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছিলেন, যিনি এক তরুণীকে তার পোশাকের জন্য হয়রানি করছিলেন।

এ দৃশ্য জাতীয় টিলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর রাশনোকে টিভিতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। রাশনোর চেহারা ছিল ফোলা ও তাকে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

৫. কর্তৃপক্ষ কীভাবে জবাব দিয়েছে?

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহজাত প্রবৃত্তি হলো, অনুমোদনহীন জমায়েতকে বেআইনি দাবি করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে দাঙ্গা পুলিশ সাধারণত লাঠি ব্যবহার করে বা শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

সাদা পোশাকধারী, স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়ারাও বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে এবং পরে তাদের গ্রেপ্তারে সহায়তা করার জন্য প্রায়ই ছবি তুলে রাখে। তবে মাহসাকে নিয়ে বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন।

ইরানি পার্লামেন্টের প্রধান (একজন কট্টরপন্থী ও সাবেক পুলিশ কমান্ডার, যিনি ১৯৯০ এর দশকের শেষ দিকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করার জন্য অভিযুক্ত) গাস্ত-ই এরশাদ আইন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি মাহসার বাবা-মাকে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভের সময় হিজাব খুলে পুড়িয়ে দিচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

৬. আগের প্রতিবাদগুলো কী নিয়ে ছিল?

সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট। ওই বছর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের পুনর্নিবাচনে জালিয়াতির অভিযোগে ওই বিক্ষোভ হয়। রাজনৈতিক ইস্যুতে তেহরানে একের পর এক সমাবেশ ও মিছিল হতে থাকে এবং তাতে যোগ দেন লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ইরানি।

এই বিক্ষোব দমনে বহু মানুষকে হত্যা করা হয় ও শতাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। ইন্টারনেট ব্যবহারে দেয়া হয় বিধিনিষেধ। তবে এরপরও বিক্ষোভ চলমান ছিল:

  • মে, ২০২২: দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি ১০ ​​তলা ভবন ধসে পড়ার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির অনুমতি দিয়েছিলেন এক সরকারি কর্মকর্তা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হন।

    জানুয়ারি, ২০২০: ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুল করে একটি যাত্রীবাহি বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এতে বিমানের ১৭৬ আরোহী মারা যান। নিরাপত্তা সংস্থার অদক্ষতা ও রাষ্ট্রের দোষ লুকানোর প্রচেষ্টায় জনগণের মাঝে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

  • নভেম্বর, ২০১৯: জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে থাকা সরকার হঠাৎ করেই পেট্রলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইরানিরা সে সময় আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞার অধীনে ছিল। বিক্ষোভকে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করে।

  • ২০১৭ সালের শেষদিক: অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় হতাশা প্রকাশ করতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এটি শেষ পর্যন্ত গড়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

  • তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে আরবদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। তারা পারস্য ইরানে সংখ্যালঘু। খুজেস্তানে চলমান দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়মিত বিষয়। নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ক্রমাগত দমন করছে।

৭. ইরানে বিরোধীদের অবস্থান কেমন?

ইরানে কোনো সংগঠিত বিরোধী দল নাই। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্বের সমালোচনা করে। তবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াতে তার প্রতিফলন ঘটে খুবই কম। ইরানে একমাত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমর্থন করা রাজনৈতিক দলগুলোই কাজ করতে পারে।

ধর্মনিরপেক্ষ, কমিউনিস্ট ও ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের প্রচারক দল সেখানে নিষিদ্ধ। ইরানের রাজনীতিবিদদের মোটামুটিভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

চরম রক্ষণশীল: যেমন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, মধ্যপন্থি বা বাস্তববাদি রক্ষণশীল: যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বা আলি লারিজানি। আর রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির মতো সংস্কারপন্থি।

সংস্কারপন্থিরা বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি আরও উন্মুক্ত হওয়া উচিত। তবে চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল এবং ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে তাদের জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব কমেছে।

৯. বর্তমান ব্যবস্থার রক্ষাকবচ কী?

খামেনি ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী শাখা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এটি তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিসহ রাষ্ট্রের সমস্ত বড় সিদ্ধান্তের পিছনে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব খামেনির। তিনি বেশ কয়েকটি বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের ডি ফ্যাক্টো প্রধান। এ ফাউন্ডেশনগুলো দেশের কিছু বৃহত্তম সংগঠন ও পেনশন তহবিল পরিচালনা করে।

সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের এই একত্রীকরণ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে রাজনীতিতে একটি শক্ত দখল বজায় রাখতে সাহায্য করছে। ইরানের সমস্ত প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থেকে বিচার বিভাগ- সবই সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত বা রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে সংযুক্ত।

গত বছরের রাইসির নির্বাচনের পর থেকে ইরানের রাষ্ট্র ও সরকারের সমস্ত কিছু কট্টরপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা ইসলামিক মতাদর্শকে কঠোরভাবে রক্ষা করছে।

আরও পড়ুন:
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

মন্তব্য

জীবনযাপন
A city in turbulent Iran is out of the hands of security forces

উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া

উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি উল্টে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের আশনোয় শহরের নিয়ন্ত্রণ বিক্ষোভকারীদের হাতে। তাওহিদ জাভাদি নামে একজন গণমাধ্যমকর্মী টুইটবার্তায় লিখেছেন, ১৯৫৭ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি শহর সম্পূর্ণরূপে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভ থামছেই না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ইরানি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কয়েকটি টুইটার ভিডিওর আলোকে ডয়চে ভেলে ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের আশনোয় শহরের নিয়ন্ত্রণ বিক্ষোভকারীদের হাতে।

তাওহিদ জাভাদি নামে একজন গণমাধ্যমকর্মী টুইটবার্তায় লিখেছেন, ১৯৫৭ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি শহর সম্পূর্ণরূপে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শহর ছেড়ে মোটরবাইকে করে পালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে তেহরানের রাস্তা থেকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, বিক্ষোভকারী জনতা তেহরানের সব রাস্তা দখল করেছে।

তবে নিরপেক্ষভাবে দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ, ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করা, আইআরজিসি ও বিচার বিভাগের হুমকি, এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি। কোনো কিছুই থামাতে পারছে না নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে থাকা মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলা ইরানে চলমান বিক্ষোভ।

ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘাত হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে সরকারি এজেন্টকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা মানুষেরা তাকে গুলি না ছুড়তে অনুরোধ করলেও এজেন্ট কথা শোনেনি। এরই মধ্যে অনলাইনে তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

শুক্রবার রাতে ইরানের অনেক শহরে রাস্তায় মানুষজন বিক্ষোভ করেছে। তারা এ সময় ‘খামেনির মৃত্যু’, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ এবং ‘আমরা জেগে উঠব’ স্লোগান দেয়।

বিক্ষুব্ধরা ‘আমরা মরব, আমরা ইরানকে ফিরিয়ে নেব’ স্লোগানও দেয়।

সন্ধ্যার পরও যখন অন্ধকার নেমে এসেছে, তখনও বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন থামেনি। তেহরান, খোরমাবাদ, আরদাবিল, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং কারাজের বিভিন্ন এলাকায় রাতেও বিক্ষোভ হয়েছে।

বেশির ভাগ শহরে, বিক্ষোভকারীরা খামেনিসহ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলেছে।

মাশহাদ শহরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলামি বিপ্লবের নেতা ‘মুর্তেজা মোতাহারির’ মূর্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি
ইরানে বন্ধ ইনস্টাগ্রাম, ছবি যাচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপে
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

মন্তব্য

জীবনযাপন
After 20 years of attacks the United States is now providing financial aid to Afghanistan

২০ বছর যুদ্ধের পর সেই আফগানিস্তানেই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০ বছর যুদ্ধের পর সেই আফগানিস্তানেই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে শিশুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা। ছবি: সংগৃহীত
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে যে আফগানিস্তানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এত বছর পর এসে সে দেশে ৩২৭ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বহু বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে এখন সেই আফগানিস্তানেই বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘পুরোনো বন্ধু ও শত্রু’ তালেবান সরকারের সঙ্গে এর মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন রসায়ন শুরু হচ্ছে দেশটির।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে যে আফগানিস্তানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এত বছর পর এসে সে দেশে ৩২৭ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে আফগান নাগরিকদের জন্য এই অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স

দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে শেষ পর্যন্ত গত বছরের ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে নিজেদের শেষ সৈন্য ও কূটনীতিককে কাবুল থেকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন টুইটারে লিখেছেন, ‘মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাঠাচ্ছে। জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এই অর্থ দেয়া হচ্ছে। আফগান জনগণের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করছি আমরা।’

জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসী বিভাগের মাধ্যমে ১১৯ মিলিয়ন ডলার এবং মানবিক সহায়তা বিভাগের মাধ্যমে ২০৮ ডলার দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থ আফগানিস্তানের জনগণের জন্য ব্যয় হবে। নগদ অর্থ, আবাস নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা ও নারীর ওপর সহিংসতা রোধে কাজে লাগানো হবে। এই অর্থের কিছু অংশ আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তানেও সহায়তা হিসেবে ব্যয় হবে বলে জানানো হয় এতে।

এর আগে আফগানিস্তানে ফ্রিজ হওয়া অর্থ দেশটিকে নতুন করে গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হবে বলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছরের ১৫ আগস্ট আশরাফ গনিকে হটিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসে তালেবান। এই তালেবানের সঙ্গে একসময় বৈরী সম্পর্কেই দেশটিতে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসি বলছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা চারটি বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান দিয়ে আঘাত করা হয় নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে, একটি আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে, আরেকটি বিধ্বস্ত হয় একটি মাঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তানের তখনকার শাসক তালেবানের কাছে ওই হামলার জন্য দায়ী করে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে চান। তালেবান তাকে দিতে অস্বীকার করায় অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

আফগানিস্তান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছরে বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আরো কয়েকটি দেশে যুদ্ধ করতে গেছে। এতে একদিকে যেমন সামরিক অভিযানের ব্যাপারটি ব্যয়বহুল, অন্যদিকে বহু সৈন্যকেও এসব যুদ্ধে প্রাণ দিতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শুধু আফগানিস্তান যুদ্ধেই দেশটির খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য।

অবশেষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে যুদ্ধকবলিত বিভিন্ন দেশ থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এ বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান।

এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ‘বন্ধু হয়ে ওঠা’ আফগানিস্তান থেকে গত বছর সেনা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেয়া হচ্ছে আর্থিক সহায়তাও।

আরও পড়ুন:
মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ৬ মৃত্যু
নারী বিষয়ে তালেবানকে চ্যালেঞ্জ করুক মুসলিম বিশ্ব: আমেরিকার দূত

মন্তব্য

জীবনযাপন
Death toll rises to 50 in Iran clothing freedom protests

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০ পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানের রাস্তায় হিজাব খুলে বিক্ষোভরত এক নারী। ছবি: টুইটার
অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা ১৭ জন। এরই মধ্যে ৮০টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে সরকারপন্থিরাও।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হওয়া পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে কমপক্ষে ৫০ জন মানুষ মারা গেছেন।

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ফলে এই নিহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে।

আইএইচআর বলছে, ইরানের উত্তর গিলান প্রদেশের রেজভানশাহর শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ধরানো আগুনে ৬ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া আমোল, উত্তর ইরানেও নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম এএফপিকে ৫০ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, এরপরও (ইরানে) মানুষ তার মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার জন্য প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসেবে, ৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা ১৭ জন।

এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির ৮০টি শহরে ছড়িয়ে গেছে।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে সরকারপন্থি ও হিজাবপন্থিরা। তারাও বিক্ষোভের আয়োজন করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
তেহরানে হিজাবপন্থী সমাবেশে ইরানিরা জাতীয় পতাকা নেড়ে বিক্ষোভ করছে

‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘কোরআনের অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত’- স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারপন্থিদের মিছিল।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

চলমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার কারণে লাখ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়েও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি

মন্তব্য

জীবনযাপন
Death toll rises to 26 in dress freedom protests

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬ রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন ইরানিরা। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান বিক্ষোভে পুলিশ সহ কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে খোদ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল। চলমান বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের গতি কমাতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ করেছে।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশ কর্মকর্তা সহ কমপক্ষে ২৬ জন মারা গেছেন।

দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের বরাতে শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছে এবিসি নিউজ। যদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি এবং তথ্যসূত্রও উল্লেখ করা হয়নি।

রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পুলিশ অফিসার সহ কমপক্ষে ২৬ জন মারা গেছেন।’

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

চলমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার কারণে লাখ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়েও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
ইরানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

মন্তব্য

জীবনযাপন
The presenter did not give an interview in Dhaka the president of Iran

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল আমানপোর মাথায় স্কার্ফ না দেয়ায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে যোগ দেননি ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি। ছবি: সিএনএন
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ছিল সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরের। কিন্তু আমানপোর মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকতে অস্বীকার করায় শেষ মুহূর্তে সাক্ষাৎকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন রাইসি।

অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

একদম শেষ মুহূর্তে সিএনএনের প্রধান আন্তর্জাতিক উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর মাথায় স্কার্ফ পরার দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর ইব্রাহিম রাইসি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর মাধ্যমে নারী পোশাকের স্বাধীনতার বিষয়ে ইরানে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই পোশাক বিধির বিষয়ে আপোষ না করার ইংগিত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে এখন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানেই তার সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ছিল আমানপোরের।

তবে নির্ধারিত সময়ে তা শুরু না হয়ে ৪০ মিনিট ধরে চলে টানাপড়েন। প্রেসিডেন্ট রাইসির একজন সহকারী আমানপোরকে মাথায় স্কার্ফ দিতে বলেছিলেন। তবে আমানপোর তা প্রত্যাখ্যান করেন।

আমানপোর জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট রাইসির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট আর সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি বংশোদ্ভুত সিএনএন সাংবাদিক ও উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর

সিএনএনের সাংবাদিক ও উপস্থাপক আমানপোর ইরানের রাজধানী তেহরানেই বেড়ে উঠেছেন। ফার্সি ভাষায় তার বেশ দখলও রয়েছে।

ইরানে সাংবাদিকতা করার বিষয়ে স্থানীয় আইন ও রীতিনীতি মেনে প্রতিবেদন করার সময় মাথায় স্কার্ফ দিতে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আমানপোর। তিনি বলেছেন, এ ছাড়া একজন সাংবাদিক হিসেবে সেখানে (ইরানে) কাজ করার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ইরানের বাইরে কোনো ইরানি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য তিনি নিজের মাথা ঢাকবেন না।

সিএনএনের ‘নিউ ডে’ প্রোগ্রামে আমানপোর বলেন, ‘এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, আর কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি।’

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদানিজাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ও মাথায় স্কার্ফ ছিল না আমানপোরের

আমানপোর বলেন, ‘আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে নিজের, সিএনএন ও সব নারী সাংবাদিকের পক্ষে তা (মাথায় স্কার্ফ) প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ এর দরকার নেই।’

তবে এক টুইটবার্তায় আমানপোর স্বীকার করেন, যেহেতু ইরানে (পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে) বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে তার কথা বলাটা (এ সময়) গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট রুহানির সাক্ষাৎকারের সময়ও মাথায় স্কার্ফ দেননি আমানপোর

কতটা সত্যি আমানপোরের দাবি

আগের ইরানি প্রেসিডেন্টদের সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আমানপোর যে দাবি করেছেন, তার সত্যতা রয়েছে। তিনি সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, তাকে স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকতে হয়নি। এমনকি সাবেক রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদানিজাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ও মাথা ঢাকেননি রাইসি।

এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় আমানপোরকে একটি কাপড়ে মাথা ঢাকতে দেখা গেলেও সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল তেহরানে। মোহাম্মদ খাতামিকে সাক্ষাৎকারের সময় বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
মোহাম্মদ খাতামির সাক্ষাৎকারে আমানপোরের মাথায় কাপড় থাকলেও সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল তেহরানে

নারীদের পোশাক সম্পর্কে যা আছে ইরানের আইনে

ইরানে নারীদের পোশাক নিয়ে বিধি নিষেধ দেয়া শুরু হয় ১৯৭৯ সালে দেশটিতে হওয়া ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। দেশটিতে শরিয়াহ ভিত্তিতে করা আইনের আলোকে একজন নারীকে জনসমক্ষে মাথা ঢেকে রাখতে হয় ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। এই আইন ইরানে অবস্থান করা সকল মুসলিম, অমুসলিম, নারী পর্যটক, বিদেশি সাংবাদিক সবার জন্য প্রযোজ্য।

ইসলামি বিপ্লবের আগে, পশ্চিমাপন্থি শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাত করার আগে তেহরানের রাস্তায় মিনিস্কার্ট ও খোলা চুল কোনো অস্বাভাবিক দৃশ্য ছিল না।

পাহলভির স্ত্রী ফারাহও পশ্চিমা পোশাকে অভ্যস্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
ইরানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’

মন্তব্য

p
উপরে