× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Happy tourists on empty beaches frustrated traders
hear-news
player
print-icon

ফাঁকা সৈকতে খুশি পর্যটকরা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

ফাঁকা-সৈকতে-খুশি-পর্যটকরা-হতাশ-ব্যবসায়ীরা
সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘ফাঁকা সৈকতে মনের আনন্দে গোসল করছি। মানুষের কোনো ভিড় নেই। দারুণ ঘুরছি। খাবারদাবার আর রুম ভাড়াও এখন অনেক কম।’

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেখা মেলেনি প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকের। এতে একদিকে যেমন খুশি পর্যটকরা, অন্যদিকে হতাশার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অলস সময় পার করছেন হোটেল-মোটেল মালিক, কর্মী, সৈকতের ফটোগ্রাফার, ঘোড়াওয়ালা, রেস্টুরেন্ট মালিকরা।

হোটেল-মোটেল মালিকরা জানান, প্রতি বছর লাখ খানেক হলেও এবারের ছুটিতে কক্সবাজার এসেছেন হাতে গোনা কয়েক হাজার পর্যটক। বড় হোটেল-মোটেলগুলোর বুকিং হয়েছে ৫০ শতাংশ, মাঝারিগুলোর ২০ শতাংশ।

সৈকতে আসা পর্যটকদের ছবি তোলেন মো. রহিম। এই আয় দিয়েই তার সংসার চলে।

তিনি সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকে মাত্র ৫০০ টাকা আয় করেছি। অন্য বার ঈদের প্রথম দিন বিচে লাখো মানুষ আসে। আয় করি ৫ হাজার টাকার বেশি।’

বিচে পাতা ছাতাওয়ালা চেয়ারের ব্যবসা করেন লালু। সৈকতে তার ৩০টি চেয়ার পাতা আছে। ঈদের দিন থেকে তার সবগুলো চেয়ারই ফাঁকা।

তবে লালুর আশা, মঙ্গলবার থেকে পর্যটক বাড়বে, ব্যবসাও হবে।

ফাঁকা সৈকতে খুশি পর্যটকরা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আসা সোয়েব আহমেদ বলেন, ‘এবার আট দিনের টানা ছুটি পেয়েছি। তাই প্রিয়জনকে নিয়ে তিন দিনের জন্য কক্সবাজার ঘুরতে এসেছি। ফাঁকা সৈকতে ঘুরে বেশ মজা পাচ্ছি।’

সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘ফাঁকা সৈকতে মনের আনন্দে গোসল করছি। মানুষের কোনো ভিড় নেই। দারুণ ঘুরছি। খাবারদাবার আর রুম ভাড়াও এখন অনেক কম।’

সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পর্যটকরা আনন্দে মেতে উঠলেও তাদের নিরাপত্তায় দেখা যায়নি লাইফ গার্ড কর্মীদের।

তবে ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি, প্রতিটি পয়েন্টেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক আয়ুব আলী বলেন, ‘পর্যটক অনেক কম কিন্তু নিরাপত্তার দিক দিয়ে আমাদের কোনো ধরনের ছাড় নেই। প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

করোনার বিধিনিষেধের কারণে গত দুই বছর পর্যটক পায়নি হোটেল কক্স টুডে। এবারের কোরবানি ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আশা করে হতাশ হয়েছেন হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ।

ভিসতা বে হোটেলের ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ঈদের ছুটিতে তেমন চাপ নেই বললেই চলে। যা কল পাচ্ছি, তা স্বাভাবিক। বড় হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ পর্যটক এলেও আমাদের আছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এরপরও ধারণা করছি, ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত লাখো পর্যটক কক্সবাজারে আসবে।

‘তবে আবার যদি করোনা সংক্রমণ বাড়ে তাহলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। তা ছাড়া অনেকে হয়তো পদ্মা সেতু দিয়ে কুয়াকাটার দিকে গেছে। এই আশঙ্কাও করছি। বড় সংকটে আছি আমরা।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম ঘটবে ভেবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় টহল দিচ্ছে। সৈকতে পর্যটকদের জন্য খাবার পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর মেহেদী বলেন, ‘প্রতি ঈদে র‌্যাব তার নিজস্ব ধরন অনুযায়ী নিরাপত্তা দেয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হবে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারকে অন্ন দেয় সমুদ্র, ফেরত পায় বিষ
থানচিতে মাইক্রো খাদে পড়ে বুয়েটের ৩ কর্মচারী নিহত
কক্সবাজারে এক দিনে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, আটক ৪
কক্সবাজারে যেখানে-সেখানে স্থাপনা নয়: প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Inauguration of Dhaka Guangzhou flight

চীনের গুয়াংজুর পথে উড়ল বিমান

চীনের গুয়াংজুর পথে উড়ল বিমান প্রতীকী ছবি
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বেলা ১১টায় চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে উড়াল দেয় বিমানের বিজি-৩৬৬ ফ্লাইটটি। স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৫টায় গুয়াংজুর বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে সেটি।

ঢাকা থেকে চীনের গুয়াংজুগামী ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার ফ্লাইটের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান ভালো অবস্থানে আছে; আরও ভালো অবস্থানে যাবে।’

গুয়াংজুতে ফ্লাইট আরও বাড়ার প্রত্যাশা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যারা আছে, তাদের কাছে আমরা জানাব, রুটে যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে যাতে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি আরও বাড়ানো হয়।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শর্ত অনুযায়ী সক্ষমতার ৭৫ শতাংশ যাত্রী বহন করছে বাংলাদেশ বিমান। আজকের ফ্লাইটে ২২৯ জন যাত্রী বহন করবে বিমান।

করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে মাসে একটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটি।

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বেলা ১১টায় চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে উড়াল দেয় বিমানের বিজি-৩৬৬ ফ্লাইটটি। স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৫টায় গুয়াংজুর বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে সেটি।

ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩৬৭ একই দিন গুয়াংজু থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টায় যাত্রা করবে। সেটি ঢাকায় পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৯টায়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন বিমান বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে ধারণ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন শহরে যাত্রী পরিবহন করবে।’

কিছুদিন আগে কানাডার টরন্টোতে ফ্লাইট চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা আমাদের অনেক সাহস জুগিয়েছে। গতকালকের ফ্লাইট ২৮৫ জন যাত্রী নিয়ে গেছে টরন্টোতে।’

গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যে ব্যবসা-বাণিজ্য, চীনের সঙ্গে বেশিসংখ্যক ব্যবসায়ী আমাদের গুয়াংজুতে যাওয়া-আসা করে। চীনের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।’

দেশের বিভিন্ন এলাকায় চীনের অনেক কারখানা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে চায়নিজ ২০০ থেকে ৩০০ লোক কাজ করে। আজকের ফ্লাইট একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর মন্তব্য করে বিমান-বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটনে চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে এখনও বেশ কিছু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে এই ফ্লাইট চলাচলের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং চীনের যে সম্পর্ক, সেই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

আরও পড়ুন:
বিমানের সেবা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের নয়: এমডি
দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগে স্বর্ণ, ১৯ আইফোন
বিমানবন্দরে ৩২ হাজার ডলারসহ আটক ১
দুই বিমানের সংঘর্ষের ‘অন্য কারণ’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী
অসদাচরণ: বিমানের কেবিন ক্রু বরখাস্ত

মন্তব্য

জীবনযাপন
The launch owners are happy that the government has decided 1860

এই প্রথম সরকার নির্ধারিত বেশি ভাড়ায় অখুশি লঞ্চ মালিকরা

এই প্রথম সরকার নির্ধারিত বেশি ভাড়ায় অখুশি লঞ্চ মালিকরা
এক লঞ্চ মালিক জানান, সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটা যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়েছে।

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এতদিন দুশ্চিন্তায় ছিলেন যাত্রীরা। এবার এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকরা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সরকার লঞ্চের ভাড়া যেভাবে বাড়িয়েছে, সেই ভাড়ায় যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন বরিশালের লঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যে কারণে সরকার যে হারে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, নেয়া হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। আর সেই কম নিয়েও ভালোই মুনাফা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন যারা, তারা প্রশ্ন তুলছেন, যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম নিয়ে লঞ্চ লাভে থাকতে পারে, তাহলে এত বেশি হারে ভাড়া নির্ধারণ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আসলে কার স্বার্থ দেখেছে?

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এমনিতে যাত্রীসংকটে ভোগা লঞ্চগুলোতে ভাড়া কমিয়ে যাত্রী ফেরানোর চেষ্টা ছিল। এর মধ্যে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পর সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নৌপথে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে ৩০ শতাংশ। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ঠিক করা হয়েছে ৩ টাকা।

এই হার সড়কপথে ভাড়া বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। সড়কপথে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৬ শতাংশ আর দূরপাল্লায় ২২ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। আর নগরে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া আড়াই টাকা আর দূরপাল্লায় ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে।

সড়কের চেয়ে নৌপথে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কেন বেশি হবে, তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। তবে এই হারে যে ভাড়া আসে, তা দেখে বরিশালের যাত্রীরা রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন। ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নৌপথে কেন যাবেন, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিলে যাত্রী কমবে, লোকসান হবে’

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলা এমভি মানামীর সুপারভাইজার শাহাদাৎ ইসলাম শুভ বলেন, ‘নভেম্বরে তেলের দাম বাড়ানোর পর ডেকের ভাড়া ৩৫২ টাকা করা হয়। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া সে সময় হয় ১ হাজার ৪০০ টাকা আর ডাবল কেবিনের ২ হাজার ৬০০ টাকা। তখনই যাত্রী কমে গিয়েছিল। এরপর পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীর ভাটা নামে। যে কারণে ডেকে ২০০ টাকায়, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ও ডাবল কেবিন ২ হাজার টাকা নেয়া হতো। এতে ধীরে ধীরে যাত্রী বাড়ছিল।

‘তবে ডেকে ৪৫৮ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৮৩৬ ও ডাবল কেবিন ৩ হাজার ৬৫০ টাকা করেছে সরকার। এই ভাড়ায় যাত্রী নেয়া শুরু করলে আবারও যাত্রী কমতে থাকবে।’

তাহলে আপনারা কত টাকা ভাড়া নিচ্ছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ডেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ৫৮ টাকা কমিয়ে ৪০০ টাকা করে নিচ্ছি। আর কেবিনের ভাড়া সেই আগেরটাই রয়েছে, সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার আর ডাবল কেবিনে ২ হাজার টাকাই নেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যদি সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিতে থাকি তাহলে যাত্রী কমবে এবং লোকসান হবে। তার থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাড়া রাখার চেষ্টা করছি আমরা।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে আরও এক লঞ্চ মালিক বলেন, ‘সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটা যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। ভাড়া বাড়িয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা সিন্ডিকেট করে। ঈদে লঞ্চগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়াই রাখবে।’

‘এত ভাড়া কি লঞ্চ মালিকদের ভালোবাইসা?’

লঞ্চ ভাড়া বাড়ার কারণে অনেক যাত্রীকেই বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঘুরে যেতে দেখা গেছে। তারা বাসে করে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকায় আসবেন বলে জানিয়েছেন।

সাইফুল শাহ নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ডেকে এত ভাড়া বেড়েছে তা ভাবিনি। অতি জরুরি কোনো কাজও নেই। তাই লঞ্চঘাট ত্যাগ করছি। কাল ৫০ টাকা কমে বিএমএফ পরিবহনে ঢাকা যাব।’

বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ছেড়ে যায় পারাবত ১১, সুরভী ৯, সুন্দরবন ১০, অ্যাডভেঞ্চার ১ ও মানামী লঞ্চ। সব লঞ্চের ডেক ভরা দেখা গেলেও কেবিন প্রায় সব লঞ্চেই ফাঁকা ছিল।

যাত্রীদের একটি বড় অংশ বলেছে, নতুন ভাড়ার বিষয়ে তারা জানতেন না। জানলে লঞ্চে উঠতেন না। তাদের মতে, এত বেশি ভাড়ায় যাতায়াত করা সম্ভব নয়।

এক যাত্রী বলেন, ‘লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ৩০০ বা ৩৫০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী নিয়েছে। তারা তো লোকসানে ছিল না। তাহলে এত বেশি ভাড়া কেন সরকার ঠিক করে দিল?’

মানামী লঞ্চে ডেকের যাত্রী শাওন হাওলাদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে ঢাকায় মাল আনতে গেছিলাম ২৫০ টাকা ভাড়া দিয়া পারাবাত লঞ্চে। ওই সময় অনেক লঞ্চে ৩০০ টাকা নিতেও দেখছি। এই ভাড়া কিন্তু নেয়া হইত তেলের দাম বাড়াইন্নার পর। এই ভাড়ায় যদি লঞ্চ মালিকগো ক্ষতি না অয়, তাইলে নতুন কইরা ভাড়া বাড়াইয়া কেন সাধারণ মানুষরে ভোগান্তিতে ফেলা হইতেছে? লঞ্চ মালিকদের ভালোবাইসা?’

এই প্রথম সরকার নির্ধারিত বেশি ভাড়ায় অখুশি লঞ্চ মালিকরা

‘সরকার কাদের পক্ষে বুঝতেছি না’

আবুল হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘সরকার কাদের পক্ষে বুঝতেছি না। যেখানে অলরেডি লঞ্চ মালিকরা লাভবান, সেখানে তাদের আরও লাভবান করা হচ্ছে জনগণের পকেট কেটে। যদি লঞ্চ চালাতে লোকসান হতো, তাহলে কি মনে হয় লঞ্চ মালিকরা লঞ্চ চালাত?

‘এক টাকা লস হলেই লঞ্চ বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেয়। সেখানে তারা তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর আগে নির্ধারিত ৩৫০ টাকার কম ভাড়ায়ও যাত্রী পরিবহন করেছে। সেখানে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোটা সার্কাস মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সরকার রোলার চাপা দিচ্ছে।’

লঞ্চ মালিক সমিতি অবশ্য সরকারকে ৩০ শতাংশ নয়, শতভাগ ভাড়া বাড়ার সুযোগ দিয়েছিল।

সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ডেকের ভাড়ার থেকে চার গুণ ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কেবিনে। আশা করছি আমাদের লোকসান কমবে এবারে। তাছাড়া ভাড়া যে পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেছিলাম, সেই পরিমাণও বাড়ায়নি। আর পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চে যাত্রীসংখ্যা কমলেও ধীরে ধীরে এখন বাড়ছে।’

‘সরকারের ভাড়ায় যাত্রী পাব না’

কেবল বরিশাল থেকে ঢাকার পথে নয়, ঢাকা থেকে বরিশালের পথেও একই চিত্র। সদরঘাট যেন খাঁ খাঁ করছে।

বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে নদীপথে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে ঘুরে দেখে মেলেনি যাত্রীর সরব আনাগোনা। চাঁদপুর, ভোলাসহ অন্যান্য নৌরুটে যাত্রী থাকলেও অন্য রুটগুলোতে যাত্রী খুবই কম।

রেডসন ৫, এম ভি কুয়াকাটা ১, ২-এর সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম রাজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাত্রী অনেক কম। সচরাচর এমন কম থাকে না। ইদানীং তো আরও কম।’

এমভি পারাবাত ১৮ লঞ্চের মালিক ও সমিতির মহাসচিব শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই ভাড়া যাত্রীর কাছে চাইলে টিকিটই নিতে চাইবে না। তাই আমরা কম রাখছি।’

সুন্দরবন লঞ্চের মালিক ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের লঞ্চগুলোতে যাত্রী টানতে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয় আমরা সরকারের নজরে আনছি। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যানজট মুক্ত করাসহ সদরঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ও ঘিঞ্জি দূর করতে আমরা ওপর মহলে বারবার বলে আসছি।’

‘তাহলে ভাড়া বাড়ল কেন?’

যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন ব‌রিশাল নৌযাত্রী ঐক্য প‌রিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আব্দুর র‌শিদ নিলু বলেন, ‘য‌দি আগের ভাড়ায় যাত্রী নিতে লঞ্চের সমস্যা না হয়, তাহলে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর তো কোনো যৌ‌ক্তিকতা দেখ‌ছি না।

‘এটাই প্রমাণ করে নৌপ‌রিবহন মন্ত্রণালয় লঞ্চ মা‌লিকদের কথা মতো ভাড়া বা‌ড়িয়েছে, তারা আসলে কোনো যাচাই-বাছাই করেনি। তাদের উচিত ছিল মাঠপর্যায়ে এসে বিষয়‌টি দেখা।’

স‌ম্মি‌লিত সামা‌জিক আন্দোলন ব‌রিশাল জেলা ক‌মি‌টির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘আগের ভাড়াতেই যখন লোকসান হচ্ছে না, তখন নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর কী দরকার? আসলে সরকারের সঙ্গে লঞ্চ মা‌লিকদের আলোচনার সময় যাত্রীর পক্ষ হয়ে কেউ থাকে না। সেই সময়টাতেই সরকারকে ভুলভাল বু‌ঝিয়ে লঞ্চ মা‌লিকরা ভাড়া বা‌ড়িয়ে নেয়।

‘ঢাকা-ব‌রিশাল রুটের প্রতি‌টি লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ পর্যন্ত। তবে তারা যাত্রী বহন করে থাকে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি। পাশাপা‌শি যে পণ্য প‌রিবহন করা হয়, সেটিও তোলা হয় না ভাড়া বাড়ানোর আলোচনায়।’

বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার উদ্ভট যুক্তি

যে ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো মুনাফা করছে, তার চেয়ে বেশি ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ পথের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ভাড়া না বাড়ালে লঞ্চগুলো চলতে পারত না।

তার দাবি, লঞ্চে সব সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেয়া হয়। এবারও তাই হচ্ছে।

তাহলে এত ভাড়া নির্ধারণের দরকার কী- আরও কম বাড়লে পারতেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত। আপনি যেটা মনে করছেন, ৩০ শতাংশ, সেটা হয়ত কথার কথা। ২৫ শতাংশ বা ২২ শতাংশ বাড়ালে যেটা হতো, সেটা আদায় করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম
অভিযান-১০ লঞ্চ বুঝে পেলেন মালিক
যাত্রী ঠকছে বিআরটিসির বাসেও
সর্বনিম্ন ভাড়া ১০, তবে প্রজাপতি ও পরিস্থানে ২৫
ওয়েবিল থাকবে না ঘোষণা দিয়ে কয়েক মাস সময় দাবি

মন্তব্য

জীবনযাপন
Wasfia said about the K 2 victory

কে-টু জয়ের গল্প শোনালেন ওয়াসফিয়া

কে-টু জয়ের গল্প শোনালেন  ওয়াসফিয়া কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা ফেরার পথে ওয়াসফিয়া নাজরীন। ফেসবুক থেকে নেয়া ছবি।
পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও ভয়ঙ্কর পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত কে-টু তে ১৯৫৪ সালের পর আরোহণ করা ৪০ নারী পর্বতারোহীর একজন ওয়াসফিয়া নাজরীন। বুধবার দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে রোমাঞ্চকর কারাকোরাম অভিযান তুলে ধরেন দেশের একমাত্র সেভেন সামিট জয়ী এই পবর্তারোহী।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু জয় করার পর মাতৃভূমিতে ফিরেছেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে বুধবার দুপুরে দেশে ফেরেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী।

১৯৫৪ সালের পর পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও ভয়ঙ্কর পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত কে-টু তে আরোহণ করা ৪০ নারী পর্বতারোহীর একজন ওয়াসফিয়া নাজরীন। তার এ অভিযানে স্পন্সর ছিল রেনাটা লিমিটেড।

দেশে পৌঁছানোর পর রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে দুই মাসব্যাপী রোমাঞ্চকর কারাকোরাম অভিযান নিয়ে কথা বলেন ওয়াসফিয়া। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্বতারোহণ ও ট্র্যাকিংয়ের অনুমতি পেয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসফিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন ৪০-এ পা দেয়, তখন আমি সেভেন সামিট জয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। দেশের ৫০ বছরপূর্তিতে আমি চেয়েছিলাম কে-টু জয় করতে। এ জন্য আমি ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করেছি।

কে-টু জয়ের গল্প শোনালেন  ওয়াসফিয়া
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসফিয়া নাজরীন

‘ডেথ জোন (অক্সিজেনের ভয়াবহ স্বল্পতার কারণে যেসব পর্বত আরোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ) পর্বতগুলোতে আরোহণ করতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এ সাফল্যের জন্য আমার দলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

‘আমার এই দলে যারা ছিলেন তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়। যারা আমার মঙ্গল কামনা করেছেন এবং আমার ওপর ভরসা করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ।’

তিনি বলেন, ‘কে-টু আমার আরোহণ করা সবচেয়ে দুর্গম পর্বত, যেখানে বেশ কয়েকবার আমি পাথরে আঘাত পেয়েছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যও আমাদের সহায়তা করেছে। কে-টু স্থানীয়ভাবে ‘ছোগোরি’ বা পর্বতের রাজা হিসেবে পরিচিত। সেখানে প্রতি পদক্ষেপে রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি।

‘একবারেই কে-টু জয় করে ফেরত আসা অল্পকিছু পর্বতারোহীর মধ্যে আমরা রয়েছি। এমনও অনেক পৃথিবী বিখ্যাত পর্বতারোহী রয়েছেন যারা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে পারেননি। আমি এই অভিযানের স্পন্সর রেনাটা লিমিটেডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা আমার এই মিশনের ওপর ভরসা রেখেছেন এবং আমাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছেন।’

কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত কে-টু পর্বত ৮ হাজার ৬১১ মিটার উঁচু এবং পর্বতারোহীদের আরোহণের জন্য এভারেস্টের চেয়েও দুর্গম হিসেবে পরিচিত।

বিপদসংকুল পরিবেশ, প্রায় পিরামিড-সদৃশ ঢাল এবং অনিশ্চিত আবহাওয়ার এই স্যাভেজ মাউন্টেনের চূড়ায় পা রাখতে পেরেছেন মাত্র চারশ’ পর্বতারোহী, যাদের অনেকেই আর নিচে নামার সুযোগ পাননি।’

কে-টু জয়ের গল্প শোনালেন  ওয়াসফিয়া
কে-টু জয়ের পর ওয়াসফিয়া নাজরীন

ওয়াসফিয়া নাজরীন ২২ জুলাই তার দলের সঙ্গে কে-টু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। তার দলের অনেকেই পৃথিবী বিখ্যাত পর্বতারোহী, যাদের মধ্যে মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা ও নির্মল পুরজাকে নিয়ে ‘১৪ পিকস’ নামে একটি ডকুমেন্টারি করেছে নেটফ্লিক্স।

ওয়াসফিয়া প্রথম বাঙালি এবং একইসঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি, যিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করলেন। তিনি পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, পাকিস্তানের উচ্চতম এবং সবচেয়ে দুর্গম ও বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু বিজয়ী প্রথম বাঙালি এবং বাংলাদেশি।

আরও পড়ুন:
১৪ চূড়া দুবার করে জয়ের রেকর্ড তার
হিমবাহ ধসে ৭ মৃত্যু, জলবায়ুকে দিলেন দায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী
পাহাড়ের ডাক ফিরিয়ে দেয়া অসম্ভব: নিশাত মজুমদার
এবার লোবুচে শৃঙ্গ জিতলেন নিশাত
সিনাই পর্বত সৌদি আরবে, দাবি গবেষকদের

মন্তব্য

জীবনযাপন
Bimans Guangzhou flight starts on August 18

বিমানের গুয়াংজু ফ্লাইট শুরু বৃহস্পতিবার

বিমানের গুয়াংজু ফ্লাইট শুরু বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ওইদিন বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে বিমানের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে গুয়াংজুতে পৌঁছাবে। একই দিন গুয়াংজু থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে যাত্রা করে ফিরতি ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৯টায়।

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে চীনের গুয়াংজু রুটে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট শুরু করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ১৮ আগস্ট স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ফ্লাইট বিজি ৩৬৬ স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

ফিরতি ফ্লাইট বিজি ৩৬৭ একই দিন গুয়াংজু থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে যাত্রা করে ঢাকায় পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৯টায়।

এতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. যাহিদ হোসেন সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ঢাকা-গুয়াংজু রুটে বিমানের যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ঢাকা থেকে চীনের আরেক বাণিজ্যিক শহর কুনমিংয়ে ফ্লাইট চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আরও পড়ুন:
হজ ফ্লাইট ৫ জুন থেকেই, প্রস্তুত বিমান
হজের নিয়মিত ফ্লাইট ৫ জুন থেকে
ড্রুক এয়ারের ঢাকা-পারো ফ্লাইট শুরু ১ জুলাই
টরন্টো ফ্লাইট জুন থেকে হতে পারে
আকাশ পথে ঢাকা ছাড়ছেন ৪০ হাজার মানুষ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Desire to travel to 193 countries Asma Ajmeri

ইচ্ছা ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের: আসমা আজমেরী

ইচ্ছা ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের: আসমা আজমেরী বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান বাংলাদেশি নারী কাজী আসমা আজমেরী। ছবি: সংগৃহীত
আসমা বলেন, “তখন আমার বন্ধুর মা বলেছিল, ‘তুমি তো মেয়ে। তুমি ভ্রমণ করতে পারবে না।’ তখন আমার কথা ছিল, ‘কেন? মেয়েদের টিকিটের দাম কি বেশি ছেলেদের থেকে যে, আমি পারব না?”

২০০৭ সাল। জন্মভূমির বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ডে যান কাজী আসমা আজমেরী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে গিয়েছিলেন একাই। বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছাটা তখনও চেপে বসেনি মাথায়।

দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০০৯ সালে আবার দেশের বাইরে যান আজমেরী। সে বছর তার গন্তব্য ছিল হিমালয়কন্যা নেপাল। সেই থেকে বিশ্বভ্রমণের নেশা পেয়ে বসে তাকে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত ১৩০টি দেশ ঘুরেছেন তিনি।

এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাত্রার এ গল্প নিউজবাংলাকে শুনিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এ পর্যটক। এক যুগ আগে ফিরে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি যখন নেপাল যাই, তার কিছুদিন আগে বন্ধুর মা আমাকে টিটকারি করেছিল। আমার বন্ধু ২৬টি দেশ ভ্রমণ করেছিল। আমি এক্সাইটেড হয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বিশ্ব ভ্রমণ করতে চাই।’”

ইচ্ছা ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের: আসমা আজমেরী

সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে আসমা আরও বলেন, “তখন আমার বন্ধুর মা বলেছিল, ‘তুমি তো মেয়ে। তুমি ভ্রমণ করতে পারবে না।’ তখন আমার কথা ছিল, ‘কেন? মেয়েদের টিকিটের দাম কি বেশি ছেলেদের থেকে যে, আমি পারব না?”

ভ্রমণপিপাসু আসমার বেড়ে ওঠা খুলনায়। স্থায়ী বসবাসও বিভাগীয় শহরটিতে।

চলতি বছরের মে মাসে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ সেন্ট লুসিয়া ভ্রমণ করেন আসমা। দুই মাস বিরতি নিয়ে চলতি মাসে আবার বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়বেন তিনি। এবার শুরুটা করবেন আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস দিয়ে।

এই যে একের পর এক দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাতে খরচ হয় অনেক টাকা। এর জোগান কীভাবে হয়, তা জানতে চাওয়া হয় আসমার কাছে।

জবাবে আবার স্মৃতি রোমন্থন করে এ পর্যটক জানান, প্রথম দেশ ভ্রমণের সময় মা তাকে সোনার গয়না বেচে টাকা দিয়েছিলেন। এখন চাকরির বেতনের টাকা জমিয়েই ছুটে চলেন এপাড়-ওপাড়।

ইচ্ছা ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের: আসমা আজমেরী

প্রতি দুই বছরে ছয় মাস ভ্রমণ করেন আসমা। বাকি সময়টাতে সে ভ্রমণের টাকা জোগাতে করেন চাকরি।

তিনি বলেন, ‘আমি নিউজল্যান্ডে রেডক্রিসেন্টে চাকরি করতাম। এখন অস্ট্রেলিয়ান একটা কোম্পানিতে আছি। ওখানে এইচআর ও ফাইন্যান্সের দেখাশোনা করছি। অনলাইনে কাজ করছি মে মাস থেকে।

‘এটা একটা অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারনাশন্যাল কোম্পানি। সোর্স অফ ইনকামটা হলো প্রত্যেক দুই বছরে দেড় বছর চাকরি করি আর ছয় মাসের জন্য আমি বিশ্বভ্রমণ শুরু করি। এইভাবেই আমি করে আসছি আজ পর্যন্ত।’

ইচ্ছা ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের: আসমা আজমেরী

আগামী দুই বছরে বিশ্বের আরও ৬৩ দেশ ভ্রমণের ইচ্ছা আসমার। তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আছে বিশ্বের ১৯৩টি দেশ ঘুরে দেখার। সেটা পূরণ করতে আরও ৬৩টি দেশ বাকি। আগামী দুই বছরে সেসব দেশে যাওয়ার ইচ্ছা।’

ভ্রমণের পাশাপাশি বাংলাদেশের পাসপোর্টকে বিশ্ব পরিসরে পরিচিত করাচ্ছেন বলেও জানান আসমা। এরই মধ্যে তিনি আখ্যা পেয়েছেন ‘গ্রিন পাসপোর্ট গার্ল’ হিসেবে।

ইচ্ছা ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের: আসমা আজমেরী

‘বাংলাদেশি মানুষ যে বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারে, আমরা যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পরিবর্তন না করেও কিছু করতে পারি, এটা আমি দেখাতে চেয়েছি’, বলেন আসমা।

আরও পড়ুন:
২০ বছর পর বাড়ি খুঁজে পেলেন আসমা

মন্তব্য

জীবনযাপন
After the launch of Padma Bridge the skies of Barisal are hibernating

পদ্মা সেতু চালুর পর শীতনিদ্রায় বরিশালের আকাশপথ

পদ্মা সেতু চালুর পর শীতনিদ্রায় বরিশালের আকাশপথ প্রতীকী ছবি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যাত্রী কমতে থাকলে উপযোগিতা হারাতে পারে ৩৪ বছরের পুরাতন বিমানবন্দরটি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও দেশি এয়ারলাইনসগুলো বলছে, এ সংকট সাময়িক। তাদের আশা, শীত মৌসুমে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে জমে উঠতে পারে ফ্লাইট চলাচল।  

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে যাত্রী কমছে বরিশালের আকাশপথে। এরই মধ্যে বেসরকারি এয়ারলাইনস নভো এয়ার এ রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ফ্লাইট কমিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে উপযোগিতা হারাতে পারে ৩৪ বছরের পুরাতন বিমানবন্দরটি। অবশ্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও দেশি এয়ারলাইনসগুলো বলছে, এ সংকট সাময়িক। তাদের আশা, আগামী শীত মৌসুমে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে জমে উঠবে ফ্লাইট চলাচল।

বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো বলছে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরম আর রোদের দাপট থাকায় এ সময়টিকে পর্যটনের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হয়। যেহেতু এ সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে, তাই স্বাভাবিকভাবে এয়ারলাইনসগুলোতে যাত্রীর চাপ‌ও কমে আসে।

তার ওপর গত এক বছরে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল বা এভিয়েশন ফুয়েলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এর প্রভাব পড়েছে ভাড়ায়। অতিরিক্ত খরচের কারণে আগে যারা সময় বাঁচাতে আকাশপথ বেছে নিতেন, তাদের অনেকে অন্য মাধ্যমগুলোতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যায় প্রতি বছর যে প্রবৃদ্ধি হতো, তা হোঁচট খেয়েছে।

অন্যদিকে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার কারণে সড়কপথে ভ্রমণ ও সেতু দেখার জন্য মানুষের বাড়তি আগ্রহ জন্মেছে। এই কারণে বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবহার করা যাত্রী কমে গেছে।

আকাশ থেকে শস্যক্ষেতে কীটনাশক ছিটাতে ১৯৬৩ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয় প্রায় ২ হাজার ফুটের রানওয়ে। সে সময় এটিকে প্ল্যান্ট প্রোটেকশন বন্দর হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

১৯৮৫ সালে এই রানওয়েটিকে বিমানবন্দরে রূপ দেয়া হয়, তবে সে সময় এখানে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। ১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই বেসরকারি এয়ারলাইনস অ্যারো বেঙ্গলের ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিমানবন্দরটির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরেরই নভেম্বর মাসে বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চালু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

শুরু থেকেই এ পথে যাত্রীর খরা ছিল। ২০০৬ সালে যাত্রীর অভাবে বিমানবন্দরটিতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৯ বছর পর ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল আবার এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট শুরু হয়।

১৬০ দশমিক ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিমানবন্দরটির রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ফুট; প্রস্থ ১০০ ফুট।

বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও আমরা বরিশালে দিনে একটি করে ফ্লাইট চালাচ্ছি, তবে যাত্রীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কম। এর একটি কারণ এখন পর্যটনের জন্য অফ সিজন। আর তার ওপর পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়কপথে ভ্রমণে মানুষের বাড়তি আগ্রহ আছে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে আমি মনে করি না যে সড়কপথ ও আকাশপথ একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে।

‘এখন হয়তো পদ্মা সেতু দেখার বিষয়ে অনেকের বাড়তি আগ্রহ রয়েছে, আকাশপথের যাত্রী কিন্তু ভিন্ন। এ কারণে ৩-৪ ঘণ্টার দূরত্বের একটি পথ কখনও ২৫-৩০ মিনিটের যাত্রার সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে তিন দফা টোল দিতে হয়। তাতে অর্থের যে খুব বেশি সাশ্রয় হচ্ছে, তাও না। এখন হয়তো সাময়িক একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে এটা দীর্ঘ মেয়াদে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।

‘আগামী পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের প্রতি মানুষের একটি আগ্রহ তৈরি হবে বলে মনে হচ্ছে। এতে করে ঢাকার বাইরে থেকে যারা এখানে যেতে চাইবেন, তাদের একটি বড় অংশই আকাশপথ ব্যবহার করবেন বলে মনে হচ্ছে।’

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) মনে করছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে বাড়বে যাত্রী।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে আমরা গর্বিত। এর একটা সুফল পাওয়া গেছে যে, অনেক যাত্রী এখন বাই রোডে যাওয়া-আসা করছে, কিন্তু এটা সাময়িক।

‘যখন সময়ের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে, তখন কিন্তু আবার এয়ারলাইনসগুলোর যাত্রীসংখ্যা বাড়বে। এখন হয়তো কৌতূহলের কারণে অনেকে সড়কপথ ব্যবহার করছে, কিন্তু যখন সেবার বিষয়টি আসবে, তখন আশা করি বিমানবন্দরগুলো সচল থাকবে এবং যাত্রী সংখ্যাও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোভিডের সময়েও দেখেছি, আমাদের যাত্রীরা আকাশপথেই বেশি আস্থা রাখছেন। হয়তো কোনো একটি বিমানবন্দরে কমলেও অন্য বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী বাড়ছে। বিমানবন্দরকেন্দ্রিক রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগুলো যদি আরও তৈরি হয়, তাহলে আকাশপথে চলাচল আরও বাড়বে।

‘যেমন: নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে বিমানে ওঠার চেয়ে অনেকেই রাস্তার ঝক্কি কমাতে সেখান থেকেই বাসে করে চট্টগ্রাম চলে যান। শুধু বিমানবন্দর না, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যে ব্যবস্থাপনা, এগুলো যদি আরও ভালো করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিমান চলাচল আরও বাড়বে।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা দিয়ে পোশাক রপ্তানি শুরু
পদ্মা সেতুর প্রভাবে যাত্রী কম আকাশপথেও
পদ্মা সেতুর প্রভাবে বন্ধ গ্রিন লাইন
৯৯৯ টাকায় পদ্মা সেতু ঘুরতে সরকারের প্যাকেজ
মমতাকে পদ্মা সেতু পরিদর্শনের আমন্ত্রণ শেখ হাসিনার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Hotel free with two tickets to Bangkok

ব্যাংককের দুই টিকিটে হোটেল ফ্রি

ব্যাংককের দুই টিকিটে হোটেল ফ্রি
অফারে অন্তর্ভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংককের হোটেল ম্যানহাটন সুকুমভিত, অ্যাম্বাসেডর হোটেল ও গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট হোটেল। এই অফার ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে

ব্যাংকক যেতে টিকিট কিনলে দুই রাত বিনা মূল্যে হোটেলে থাকার অফার ঘোষণা করেছে বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইউএস বাংলা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। যাত্রা শুরুর প্রথম দিন থেকে বাংলাদেশি পর্যটকরা দুটি টিকিট কিনলেই দুই রাত ফ্রি হোটেলে থাকার সুযোগ পাবেন।

এই অফার ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। অফারে অন্তর্ভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংককের হোটেল ম্যানহাটন সুকুমভিত, অ্যাম্বাসেডর হোটেল ও গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট হোটেল। আকর্ষণীয় এ অফারটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যেকোনো নিজস্ব সেলস্ কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

এই প্যাকেজের জন্য জনপ্রতি ন্যূনতম খরচ ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা। অফারটি প্রাপ্তবয়স্ক দুইজন পর্যটকের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্যাকেজের সাথে বুফে ব্রেকফাস্ট অন্তর্ভুক্ত। শর্তসাপেক্ষে প্যাকেজে অতিরিক্ত রাত ও শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এ মাসেই ঢাকা-মালে সরাসরি ফ্লাইট, নতুন বছরে কলম্বো
মালেতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট নভেম্বর থেকে
টিকিট বেচে ২১ যাত্রীকে বিপাকে ফেলল ইউএস-বাংলা
ইউএস-বাংলার মাস্কাট ফ্লাইট স্থগিত
এবার ৪ আন্তর্জাতিক রুটে ইউএস-বাংলার বিশেষ ফ্লাইট

মন্তব্য

p
উপরে