× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Climate is affecting sex life
hear-news
player
google_news print-icon

যৌন জীবনে প্রভাব ফেলছে জলবায়ু

যৌন-জীবনে-প্রভাব-ফেলছে-জলবায়ু
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব পড়ছে যৌন সম্পর্কে। ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বেগ জনগণের সম্পর্ক এবং যৌন জীবনকে প্রভাবিত করছে। কেউ কেউ সন্তানধারণের পরিবেশগত খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন; অন্যরা কনডম দিয়ে সমুদ্রকে দূষিত করার জন্য দোষী বোধ করেন।

পৃথিবী যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে বিছানা। পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ মানুষের খাদ্য, কেনাকাটা বা ভ্রমণকে যেমন প্রভাবিত করছে, তেমনি তা প্রভাব ফেলছে তার রোমান্টিক এবং যৌন সম্পর্কেও

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালে চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৩৮ শতাংশ বিশ্বাস করেন, সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

আগের বছর অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাদের কম সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।

সেক্স থেরাপি অ্যাপ ব্লুহার্টের লরা ভোয়েলস বলছেন, ‘আমার বেশ কিছু ক্লায়েন্ট আছে, যাদের জন্য পরিবেশগত উদ্বেগ একটি সমস্যা। এটি তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করেছে।

‘বিশেষ করে তারা কার সঙ্গে ডেট করবে (সেই ব্যক্তি কি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন?), তারা কোথায় ডেটিং করবে (রেস্তোরাঁটি কি টেকসই উপাদান ব্যবহার করে?), কীভাবে তারা সঙ্গম করে (সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব গর্ভনিরোধক কোনটা?) এবং কীভাবে তাদের সন্তান হবে (তাদের কি দত্তক নেয়া উচিত?) এসব বিষয়ে দারুণ প্রভাব ফেলে পরিবেশ নিয়ে এই উদ্বেগ।’

ফিলিপাইনের ম্যানিলার বাসিন্দা ক্যারি নাকপিলের বয়স ২৬। তিনি সাসটেইনিবিলিটি এবং পরিবেশবিষয়ক একটি পডকাস্ট চালান। এই উদ্বেগগুলো ভীষণভাবে তিনি অনুভব করেন।

নাকপিল সন্তান নিতে চান। পাশাপাশি বিশ্বকে জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষা করতেও চান। যদিও তিনি জানেন, এই দুটো একসঙ্গে পাওয়া কঠিন।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, উন্নত কোনো দেশে একটি সন্তান নেয়া মানেই বছরে প্রায় ৫৮.৬ টন অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপাদন। পুনরুৎপাদনের চেয়ে পৃথিবীর নবায়নযোগ্য সম্পদের বেশির ভাগই মানুষ ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি কেবল এই ব্যয়কে আরও বাড়াবে

লরা ভোয়েলস বলছেন, ‘পরিবেশগত প্রভাবের কারণে বা তাদের সন্তানরা জলবায়ু সংকটের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে অনেকে সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গর্ভবতী হয়ে পড়ার চিন্তায় দম্পতিরা ভীত থাকেন। আর এ উদ্বেগের কারণে তারা সঙ্গমের মুহূর্তকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না।’

বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বাড়ানোর চেয়ে অনেকেই ভিন্ন পন্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভোয়েলস বলছেন, কারও কারও জন্য কনট্রাসেপটিভ বা গর্ভনিরোধকগুলো পরিবেশ উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ১০ বিলিয়ন ল্যাটেক্স কনডম উৎপাদন হয়। ব্যবহারের পর যেগুলোর বেশির ভাগই ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন স্থানে। এই কনডম পুনর্ব্যবহার করা যায় না। কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব কনডম উৎপাদনের দাবি করলেও সেগুলো সচরাচর পাওয়া যায় না।

কনডমের বিকল্প অন্যান্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও ভ্যাসেকটমি রয়েছে। তবে এগুলো সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে না। তাই কেবল ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে’ থাকা দম্পতিদের জন্য এগুলো ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে (বহুগামী) এটা সেরা বিকল্প নাও হতে পারে।

ভোয়েলস তাই জোর গলায় বলেছেন, ‘কনডম ব্যবহারের অপরাধবোধ এড়াতে মানুষের যৌন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নেয়া একেবারেই উচিত নয়।

‘ধরুন আপনি পরিবেশবান্ধব গর্ভনিরোধক পাচ্ছেন না, কিন্তু জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা মেনে চলছেন। তাহলে নিশ্চিত থাকুন, আপনি আপনার সাধ্যের সবটুকুই ইতোমধ্যে করেছেন।

‘এটা খারাপ না, কারণ এর বিকল্প হলো একটি সন্তানধারণ, যা পরিবেশের জন্য একটি কনডমের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর।’

অনেকে কোন ধরনের গর্ভনিরোধক ব্যবহার করবেন সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। এই অনুভূতি যৌনতায় আগ্রহ কমিয়ে দেয়ার অন্যতম কারণ।

ভোয়েলস বলেন, ‘আপনি যদি উদ্বিগ্ন থাকেন তবে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়া খুব কঠিন। আপনার উদ্বেগের শারীরিক লক্ষণগুলো যদি অনুভব করেন, তবে যৌন অভিজ্ঞতা উপভোগ করা বা যৌনতা নিয়ে চিন্তা করার অবস্থায় থাকবেন না আপনি।’

এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে যৌনতা একটি চমৎকার স্ট্রেস রিলিভার এবং উদ্বেগ মোকাবিলার পদ্ধতি। তাদের ক্ষেত্রে ইকো-অ্যাংজাইটি বা পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ যৌনতা বাড়াতে পারে।

ভোয়েলস বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধারণা ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে’ থাকাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ‘সত্য’ হতে পারে। তাদের গর্ভবতী হওয়া বা কনডম ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তা করতে হয় না।”

তবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কগুলোও পরিবেশগত উদ্বেগের নাগালের বাইরে নয়। ভোয়েলস বলেন, ‘ইকো-উদ্বেগ আপনার এবং আপনার সঙ্গীর মধ্যে সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। যদি আপনার মধ্যে একজন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে বেশি মনোযোগী হন আর অন্যজন ততটা নন, তবে তা সম্পর্কের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

ফিরে যাই নকপিলের ঘটনায়। তিনি চার বছর ধরে তার ছেলে বন্ধুর সঙ্গে থাকছেন। নকপিল বলেন, ‘দুজন মানুষকে একত্রিত করার বিষয়টি বেশ জটিল। তবে যুগল হিসেবে যখন আপনারা একটি সবুজ ভবিষ্যতের দিকে এগোবেন, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।’

এ ধরনের যুগলদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন সেক্স থেরাপিস্ট ভোয়েলস। তার পরামর্শ, কোন বিষয়টিকে তারা অগ্রাধিকার দেবে, সে বিষয়ে তাদের খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। একে-অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। মতের কিছু অমিল থাকতেই পারে। এগুলোকে মেনে নিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ অমিলগুলোকে কীভাবে সহজ করা যায়।

নকপিল জানিয়েছেন, তিনি এবং তার প্রেমিক একটি মধ্যম অবস্থান খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এমন না যে আমরা সব সময় সবুজে থাকব। এটা আদর্শবাদী, তবে (আমার বয়ফ্রেন্ড) আমাকে বাস্তববাদী রাখে। এটা চমৎকার যে একটি মধ্যম অবস্থান থেকে চিন্তা করি, যেখান থেকে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়ে থাকি।’

নকপিল স্বীকার করেছেন, দৈনন্দিন জীবন এবং সম্পর্কের বাস্তবতার সঙ্গে পরিবেশের যত্নের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে, তবে তিনি এটি বজায় রাখতে আগ্রহী।

‘এই মুহূর্তে জানি না কীভাবে (আমার পরিবেশের বিষয়ে চেতনা) বন্ধ করতে হবে বা আমি কি তা সত্যি চাই?’

আরও পড়ুন:
‘জলবায়ুজনিত ক্ষতি কমাতে ন্যাপ জরুরি’
অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে
বৈশ্বিক উষ্ণতা বাদ দিয়েই গ্লাসগো চুক্তি সই
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
‘জলবায়ু অভিযোজনে প্রয়োজন প্রতিশ্রুত বরাদ্দ’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
30 surgeries in a 4 week coma from one mosquito bite

মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!

মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি! এশিয়ান টাইগার মশা। ছবি: সংগৃহীত
অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রটস্কে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে যাইনি। জার্মানিতেই ওই মশা আমাকে কামড়িয়েছে। এরপরই ধকল শুরু । আমি শয্যাশায়ী হলাম, বাথরুমেও যেতে পারতাম না। জ্বর ছিল। কিছুই খেতে পারতাম না। মনে হচ্ছিল, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকরা ধারণা করে, এশিয়ান টাইগার মশা আমাকে কামড়িয়েছে। তারা বিশেষজ্ঞকে ডাকেন।’

মশার কামড় সবসময় বিরক্তিকর। অনেক সময় এটির কামড় জটিল রোগের কারণ। দেশে প্রতি বছরই বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে ডেঙ্গুতে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এটি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এডিসবাহী মশার মতোই একটি মশার কামড় ভুগিয়েছে ২৭ বছর বয়সী জার্মান যুবক সেবাস্তিয়ান রটস্কেকে। ৩০টি অস্ত্রোপচার এবং ৪ সপ্তাহ কোমায় থাকার পর বেঁচে ফিরেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবাস্তিয়ান রটস্কে জার্মানির রোডারমার্ক শহরের বাসিন্দা। গত বছরের গ্রীষ্মে ‘এশিয়ান টাইগার’ নামে এক ধরনের মশা তাকে কামড়েছিল। এরপর তার সর্দি–জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়।

তবে সেটা ছিল কেবল শুরু। এরপর ভয়াবহ সব শারীরিক জটিলতায় ভোগতে হয় রটস্কেকে।

গত দেড় বছরে রক্তদূষণ, যকৃৎ, কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস অকার্যকর হয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে চার সপ্তাহ কোমায় ছিলেন রটস্কে। অস্ত্রের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন ৩০ বার।

ঊরুতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে রটস্কের। সেখানে মারাত্মক একটি ফোড়া ছিল। এ কারণে ঊরুর একটা অংশে পচন ধরেছিল। তখন রটস্কের মনে হয়েছিল, তার বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম।

মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!
এশিয়ান টাইগার মশার কামড়ে শয্যাশায়ী সেবাস্তিয়ান রটস্কে

অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রটস্কে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে যাইনি। জার্মানিতেই ওই মশা আমাকে কামড়িয়েছে। এরপরই ধকল শুরু । আমি শয্যাশায়ী হলাম, বাথরুমেও যেতে পারতাম না। জ্বর ছিল। কিছুই খেতে পারতাম না। মনে হচ্ছিল, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকরা ধারণা করে, এশিয়ান টাইগার মশা আমাকে কামড়িয়েছে। তারা বিশেষজ্ঞকে ডাকেন।’

‘এশিয়ান টাইগার মশা’ জংলি মশা নামেও পরিচিত। এই মশাগুলো দিনের বেলায় কামড়ায়। জিকা ভাইরাস, ওয়েস্ট নিল ভাইরাস, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক সব রোগের জীবাণু বহন করে এই মশা।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Winter mood in West Bengal

পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ

পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আগামী চার-পাঁচ দিন জেলাগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি নিচে থাকবে। তবে তীব্র শীত নামতে কিছুদিন লাগবে।

পশ্চিমবঙ্গে জেঁকে বসছে শীত। গত শুক্রবার থেকে টানা তিনদিন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে কলকাতায়। সোমবার ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে তা হয়েছে ১৭।

আবহাওয়া অফিস বলছে, সামনের কয়েকদিন কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সামান্য ওঠানামা করলেও, শীতের আমেজ বজায় থাকবে। সোমবার কলকাতার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে অবশ্য উত্তরের শুষ্ক হাওয়ার দাপটে ভালোই ঠান্ডা পড়েছে। কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আগামী চার-পাঁচ দিন জেলাগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি নিচে থাকবে। তবে তীব্র শীত নামতে কিছুদিন লাগবে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বীরভূম শ্রীনিকেতনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রোববার ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস; মুর্শিদাবাদে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আগামী ৪-৫ দিন রাজ্যে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। বাধাহীনভাবে রাজ্যে প্রবেশ করছে শুষ্ক হওয়া। কমছে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ। ফলে জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগে, আগামী কয়েক দিন এই আমেজ বজায় থাকবে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The brick kiln is still running without permission from the Department of Environment

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৫৩টি ইটভাটার ৫৩টিতে ছাড়পত্র ছাড়াই ইট তৈরি করা হচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবে। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯টি উপজেলায় ইটের ভাটা ১৫৩টি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে মাত্র ১০০টি ইটের ভাটাকে। বাকি ৫৩টি ছাড়পত্র না পেয়েও ইট তৈরি করে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলায় একটি, বটিয়াঘাটায় চারটি, ফুলতলায় ১৩টি, দিঘলিয়ায় চারটি, রূপসায় ৬৮টি, তেরখাদায় ৭টি, কয়রায় তিনটি, ডুমুরিয়ায় ৪১টি ও পাইকগাছায় ১২টি ইটভাটা লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী খুলনায় বৈধ ইটভাটা রূপসায় ৬৩টি, ডুমুরিয়ায় ২০টি, বটিয়াঘাটায় পাঁচটি, তেরখাদায় ৯টি ও দিঘলিয়ায় তিনটি। বাকিগুলোর ছাড়পত্র নেই।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতি এবং নির্ধারিত দরখাস্ত-ফি, দলিলাদি ও তথ্যাদি প্রদানসাপেক্ষে ইট প্রস্তুতকরণের লাইসেন্সের জন্য ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীন ইস্যুকৃত পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন না।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, ডিগ্রেডেড এয়ার শেডে ইটের ভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ও বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইট ভাটার ছাড়পত্র দেয়া হয় না।

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ইটের ভাটাগুলো লোকালয়ের ভেতরে হওয়ায় সেখানে কোনো ভাটাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়নি। তবে ওই ভাটার মালিকরা এসব আমলে না নিয়ে বছরের পর ধরে ভাটা পরিচালনা করছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবেন। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবেন।’

অন্যদিকে নদীর জায়গা, কৃষিজমি বর্গা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হওয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার ২১টি ইটের ভাটাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করায় কয়েকটি ভাটার ছাড়পত্র নেই। আমি এখানে নতুন এসেছি। ইটের ভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। সব কিছুর কাগজপত্র দেখে অভিযান চালাতে সময় লাগবে।’

একইভাবে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে ঘনবসতি এলাকায় রয়েছে কয়রার এবিএম নামের ভাটা। পাইকগাছায় কৃষি জমির মধ্যে এআরবি ব্রিকস, যমুনা ব্রিকস, এসকেবি ব্রিকসসহ ১২টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে, যাদের কোনো ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটা থেকে নির্গত হচ্ছে পরিবেশগত দূষক, যা বায়ুমণ্ডলে মিশে স্বাস্থ্য, কৃষি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী ও পরিবেশ নিয়ে ২৫ বছর ধরে গবেষণা করছেন গৌরাঙ্গ নন্দী।

তিনি বলেন, ‘ইটভাটা থেকে দূষিত গ্যাস ও তাপ আশপাশের জলাভূমি, জীবজন্তু, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। অথচ নিয়ম না মেনে পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে যেখানে-সেখানে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে। কৃষিজমি নষ্ট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন প্রক্রিয়ায় ইটভাটাগুলোয় ইট তৈরি বন্ধ করতে হবে। আইনের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন ও সালফার নিঃসরণ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, টিলাসংলগ্ন সমতলে ইটভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে যেসব উপকরণ ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, তার ব্যবহার বাড়াতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আইন মোতাবেক প্রতি তিন বছর পর পর জেলা প্রশাসন থেকে ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এ ছাড়া প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। যেগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় না, তাদের এক বছর সময় দেওয়া হয় ভাটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। এর বাইরে যেসব ভাটা ছাড়পত্র ছাড়া চলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মধুমতিতে মিলে প্রবাহ ফিরে পেতে যাচ্ছে পাঁচুড়িয়া খাল
১৫ হাজার কি.মি. হেঁটে যে বার্তা নিয়ে এলেন যুবক
ইটভাটা বন্ধ করতেই হবে: মেয়র আতিক
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে চাই পরিবেশবান্ধব শিল্প
চেয়ারম্যানের ইটভাটায় সিসা কারখানা, বাড়ছে রোগব্যাধি

মন্তব্য

জীবনযাপন
People no longer have to leave their homes in disasters

‘দুর্যোগে মানুষকে এখন আর ঘর ছাড়তে হয় না’

‘দুর্যোগে মানুষকে এখন আর ঘর ছাড়তে হয় না’ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কার্যকর পদক্ষেপেই দুর্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি দুর্যোগ মোকাবেলা করছে।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দুর্যোগ মোকাবিলা ও হ্রাসের ক্ষেত্রে একজন অগ্রগামী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য তিনিই প্রথম একটি সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে ‘ইউএনডিআরআর’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে রেডক্রস স্থাপন করে প্রায় বিশ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দেন।’

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রশমনে আগাম সতর্কবার্তা’ শীর্ষক সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জাতির পিতার কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের সুবাদে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

‘দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রী ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেয়া হয়েছে। এ ঘরগুলো হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় এখন মানুষকে ঘরহারা হতে হয় না, বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে হয় না।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত এ ধরনের সভা-সেমিনার আয়োজন করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কিউ. এম মাহবুব।

মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহেদুর রশীদ।

স্বাগত বক্তব্য দেন সেমিনার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

জীবনযাপন
World agrees to create climate compensation fund

জলবায়ু ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনে সম্মত বিশ্ব

জলবায়ু ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনে সম্মত বিশ্ব জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন উপলক্ষে সাজানো হয় মিসরের শারম আল-শেখকে। ছবি: এএফপি
জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে দেশগুলো ক্ষতিপূরণ তহবিলে সায় দেয়, তবে সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমাধানের বৃহত্তর কোনো চুক্তি হয়নি।

জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ধুঁকতে থাকা দরিদ্র দেশগুলোকে সাহায্যে তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে মিসরের শারম-এল শেখে জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ২৭) দেশগুলো তহবিল গঠনে সম্মতি দেয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দেশগুলো তহবিলে সায় দিলেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমাধানের বৃহত্তর চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি।

মিসরের লোহিত সাগরপারের শহরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি গড়ায় শনিবার রাত পর্যন্ত। একপর্যায়ে সম্মেলনে সভাপতিত্বকারী মিসরের পক্ষ থেকে খসড়া চুক্তির লিখিত অংশ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে একে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দিতে একটি প্লেনারি সেশনের আহ্বান করা হয়।

সম্মেলনের রাত্রিকালীন ওই অধিবেশনে খসড়া চুক্তির বিধানগুলো অনুমোদন করা হয়, যার মধ্য দিয়ে ঝড় ও বন্যার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তায় তহবিল গঠনে সম্মতি দেয় বিভিন্ন দেশ।

খসড়া অনুমোদনের পরপরই অধিবেশন ৩০ মিনিট মুলতবি রাখার আহ্বান জানায় সুইজারল্যান্ড, যাতে করে চুক্তির লিখিত অংশ পড়ে দেখা যায়।

জাতিসংঘের এবারের জলবায়ু সম্মেলনে সার্বিক রাজনৈতিক চুক্তি অনুমোদনে প্রায় ২০০ দেশের সমর্থন দরকার।

আরও পড়ুন:
ওজোন স্তরের ক্ষয় জলবায়ু পরিবর্তনের বড় কারণ: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
জলবায়ুর অর্থায়নে ব্লু এবং গ্রিন বন্ডকে উৎসাহিত করছে বাংলাদেশ
নদীর বুকে জেগে উঠল ৩ বুদ্ধমূর্তি
জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা কম, আসলেই কি
ইউরোপে ভয়ংকর ঝড়ে মৃত্যু ১৩

মন্তব্য

জীবনযাপন
Youth arrested for strangling peacocks throat

ময়ূরের গলা চেপে ধরায় যুবক গ্রেপ্তার

ময়ূরের গলা চেপে ধরায় যুবক গ্রেপ্তার
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অতিরিক্ত ফিল্ড ডিরেক্টর পল্লব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াযর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। বনদপ্তরের আইনে সিডিউল ওয়ানে আছে ময়ূর। ময়ূরকে বিরক্ত করা, উত্ত্যক্ত করা কিংবা ধরা বন্যপ্রাণ আইনে বড় অপরাধ। এ ঘটনা বন্যপ্রাণী শিকারের সামিল।’

ময়ূরের গলা চেপে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি প্রকাশের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগ।

যুবকের নাম শিবু বর্মণ। বন্যপ্রাণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাকে দমনপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অতিরিক্ত ফিল্ড ডিরেক্টর পল্লব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াযর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। বনদপ্তরের আইনে সিডিউল ওয়ানে আছে ময়ূর। ময়ূরকে বিরক্ত করা, উত্ত্যক্ত করা কিংবা ধরা বন্যপ্রাণ আইনে বড় অপরাধ। এ ঘটনা বন্যপ্রাণী শিকারের সামিল।’

পল্লব আরও বলেন, ‘ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা ওই ময়ূরের হদিস পাইনি। কী উদ্দেশ্যে আইন অমান্য করে তিনি ছবি পোস্ট করা হয়েছে, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’

অভিযুক্ত শিবুকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন আলিপুর আদালত।

ময়ূর হত্যা করেনি দাবি করে গ্রেপ্তার শিবুর স্ত্রীর জানান, রাস্তার ধারে একটা ময়ূর পড়ে থাকতে দেখে সেটিকে তুলে সরিয়ে দেন শিবু। সে সময় ময়ূরটির সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় বনবিভাগ তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন:
ইকোপার্ক থেকে উদ্ধার বন্যপ্রাণী সুন্দরবনে অবমুক্ত
ইকো পার্কে অভিযান: জব্দ বন্য প্রাণী ও চামড়া
পিকনিক স্পট থেকে উদ্ধার কুমির, অজগর, শজারু
শিয়াল মেরে সমালোচনায় জনপ্রতিনিধি
সীমান্ত থেকে ৯ বন্য প্রাণী উদ্ধার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Panchuria Canal is going to get back flow at Madhumati

মধুমতিতে মিলে প্রবাহ ফিরে পেতে যাচ্ছে পাঁচুড়িয়া খাল

মধুমতিতে মিলে প্রবাহ ফিরে পেতে যাচ্ছে পাঁচুড়িয়া খাল
জেলা শহরের পাচুড়িয়া এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, ‘এত বছর খালের মুখটি বন্ধ থাকায় পানি চলাচল বন্ধ ছিল। পানি পঁচে গিয়ে গন্ধ ছড়াতো। আমরা যারা খালপাড়ের বাসিন্দা তাদের অশেষ দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন খালের পানি অনায়াসেই নদীতে গিয়ে পড়বে এবং নদীর পানি খালে প্রবেশ করতে পারবে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজ‌ড়িত গোপালগঞ্জের পাঁচুড়িয়া খাল মধুমতি নদীর সঙ্গে ৬৩ বছর পর যৌবন ফিরে পেতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার ওই খালের পুনঃসংযোগ কাজের উদ্বোধন করেছে। মধুমতি নদীর সঙ্গে এটির সংযোগ স্থাপন করা হবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘এটা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজ‌ড়িত পাঁচুড়িয়া খাল। দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহ বন্ধ ছিল। এই খাল দিয়ে বঙ্গবন্ধু এখানে যে লঞ্চঘাট ছিল, সেখানে নামতেন। স্মৃতিটা আস্তে আস্তে মানুষের স্মৃতি থেকে চলে যাচ্ছিল। আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম এ খালটি উন্মুক্ত করতে।

‘দীর্ঘ ১ মাস ১৬ দিন কাজ করার পর আজকে আমরা সফল হলাম। এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসতি স্থাপন করেছিলেন- তাদের একটা বড় সহযোগিতা আছে। তারা নিজেদের মতো করে জায়গাগুলো থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। সব মানুষের স্বপ্ন ছিল ১৯৫৯ এর মতো এই খাল দিয়ে মানুষ নৌপথে চলাচল করবে, এটি যাতে ফিরে আসে- প্রত্যেকের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল।’

খালের মুখ উন্মুক্ত করার খবরে স্থানীয়রা সেখানে ভিড় জমান। খাল প্রবাহ ফিরবে জেনে তারা আনন্দিত।

জেলা শহরের পাচুড়িয়া এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, ‘এত বছর খালের মুখটি বন্ধ থাকায় পানি চলাচল বন্ধ ছিল। পানি পঁচে গিয়ে গন্ধ ছড়াতো। আমরা যারা খালপাড়ের বাসিন্দা তাদের অশেষ দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

‘এখন খালের পানি অনায়াসেই নদীতে গিয়ে পড়বে এবং নদীর পানি খালে প্রবেশ করতে পারবে। এতে খালের পানি দুষিত হতে পারবে না।’

স্থানীয় মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এখন নৌ চলাচল সহজ হবে। মধুমতি নদী থেকে নৌকায় করে টুঙ্গিপাড়া চলে যাওয়া যাবে। পণ্য পরিবহনেও এলাকার মানুষ সুবিধা পাবে।’

পৌর মেয়র শেখ মো. রকিব হোসেন বলেন, ‘এই খালের স্বপ্ন জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও ছিল। আমি যখন উনার সঙ্গে কথা বলি, উনার কথাই ছিল- আমার বাবা নৌকায় করে এই পাঁচুড়িয়া খালে চলতেন। তিনি পাঁচুড়িয়া খালটাকে মধুমতি নদী ও বর্ণির বাওড়ের সঙ্গে সংযোগ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।’

মন্তব্য

p
উপরে