× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

জীবনযাপন
No need for gazette on national poet State Minister for Culture
hear-news
player
print-icon

জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয়-কবিকে-নিয়ে-গেজেটের-দরকার-নেই-সংস্কৃতি-প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: নিউজবাংলা
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তা আমাদের আইনের মধ্যেই রয়েছে। তার জন্য আর আলাদা গেজেটের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। গেজেটের চেয়ে আইনই বড়।’

কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি করার বিষয়টি আইনে রয়েছে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের দরকার নেই।

কবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে গেজেট কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তা আমাদের আইনের মধ্যেই রয়েছে।

‘তার জন্য আর আলাদা গেজেটের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। গেজেটের চেয়ে আইনই বড়।’

কে এম খালিদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং তাকে জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন, কিন্তু তা নিয়ে কোনো গেজেট প্রকাশ করেননি।

‘তারপর এখন আর নতুন করে গেজেট প্রকাশটা কবির প্রতি অবমাননাস্বরূপ হতে পারে।’

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

তার নেতৃত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের শ্রদ্ধা জানানোর পর কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি। কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার নাতনি খিলখিল কাজী।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক এবং মানবতাবাদী চেতনার প্রতীক। তিনি মানবতাবাদী চেতনার ধারক ও বাহক ছিলেন।

‘তিনি ধর্মান্ধতা, বৈষম্য এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন।’

কাদের বলেন, ‘আজকে জাতীয় কবির বাংলাদেশে ফিরে আসার ৫০ বছর পূর্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন। জাতীয় কবির কবিতা এবং গান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’

দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ রয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশও আজও সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ আছে; শাখা-প্রশাখা আছে। এগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সার্থকতা তখনই হবে যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের মূল উৎপাটন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

আরও পড়ুন:
দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি
সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটন চান কাদের
‘তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’
নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
রবির ভুল স্বীকার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Hajj without begging bond

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি ফাইল ছবি
২২ জুন মতিয়ার মদিনায় ভিক্ষা করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

হজের সময় ভিক্ষা করার অপরাধে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। পরে বাংলাদেশ হজ মিশনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

কাউন্সিলর (হজ) জহরুল ইসলামের বরাতে বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, ওই ব্যক্তির নাম মতিয়ার রহমান, বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। ধানসিঁড়ি ট্র্যাভেল এয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হজ করতে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ জুন মতিয়ার মদিনায় ভিক্ষা করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রাণলয় ইতোমধ্যে ওই হজ এজেন্সিকে নোটিশ পাঠিয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে হজ ও ওমরাহ আইন, ২০২১-এর ১৩ ধারার অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না।

উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হজ অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাসলিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে জননিরাপত্তার অধীনে এক সৌদি নাগরিকসহ ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এদের বেশির ভাগের সৌদিতে থাকার বৈধতা নেই।

তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হজ প্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুয়া হজ ও ওমরাহ প্রচার কার্যালয় পর্যবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন।

সৌদি গ্যাজেটের খবরে বলা হয়, রিয়াদের চারটি স্থান এবং আল-কাসিম অঞ্চলের দুটি এলাকায় জাল হজ প্রচারণার বিজ্ঞাপন এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা। তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছিল।

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, গ্রেপ্তার অবৈধ বিদেশিদের মধ্যে ১১ জন মিসরীয়, ১০ জন সিরিয়ান, ২ জন করে পাকিস্তানি ও সুদানি এবং একজন ইয়েমেনি ও বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সৌদি দূতাবাসের রাস্তার নাম ‘খাশোগজি ওয়ে’
হজযাত্রীদের আসন রিজার্ভের তথ্য চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়
হজে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু
হজের খুতবায় বাংলাসহ ১০ ভাষা
হজযাত্রীদের জন্য এক্সিম ব্যাংকের বাস উপহার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Obstacles to boat crossing over the Padma bridge

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা পদ্মা সেতু পার হতে গিয়ে আটকে গেছে মিনারুলের এই নৌকা। ছবি: নিউজবাংলা
আবেগতাড়িত হয়ে মূলত নৌকার আদলে দুটি মোটরযানকে সাজিয়েছিলেন মিনারুল ইসলাম ও শহিদুল শেখ নামের দুই ব্যক্তি। তারা চেয়েছিলেন এই নৌকা দুটি নিয়ে পার হবেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে পার হতে গিয়ে সেতুর দুই প্রান্তে আটকে গেল দুই নৌকা।

নিয়ম না মানায় রোববার সকালে এই দুই বাহন আটকে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আবেগতাড়িত হয়ে মূলত নৌকার আদলে দুটি মোটরযানকে সাজিয়েছিলেন মিনারুল ইসলাম ও শহিদুল শেখ নামের দুই ব্যক্তি। তারা চেয়েছিলেন এই নৌকা দুটি নিয়ে পার হবেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

কিন্তু বিধি বাম। মিনারুলের নৌকা তিন চাকার ইজিবাইক ও শহিদুলের নৌকা ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর মোটরসাইকেল হওয়ায় বাহন দুটিকে সেতু পাড়ি দেয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার পদ্মার মাওয়া প্রান্তে রাজধানীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মিনারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হয় নিউজবাংলার প্রতিবেদকের।

মিনারুল একটি মোটরযানকে নৌকার আদলে সাজিয়ে তা নিয়ে ছুটে যান জাজিরা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে যোগ দিতে। মেয়েকে সঙ্গে করে তিন দিন এই নৌকাতেই ছিলেন তিনি।

মিনারুল ওইদিন জানিয়েছিলেন, তার ইচ্ছা নিজের বানানো এই নৌকা নিয়ে জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ফিরতে চান তিনি। কিন্তু মিনারুলের এ ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা
সেতু পার হতে গিয়ে আটকে গেছে শহিদুলের নৌকা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার সকালে মিনারুল তার নৌকা নিয়ে হাজির হন জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায়। প্রথমে সেতু কর্তৃপক্ষ তার নৌকাটিকে মাইক্রোবাস মনে করে ১৩০০ টাকা টোল নির্ধারণ করে। কিন্তু তারপর আবার যাচাই করা হলে দেখা যায়, এটি মূলত তিন চাকার ইজিবাইক। এরপরই হয় মিনারুলের স্বপ্নভঙ্গ।

মিনারুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অনেক অনুরোধ করলাম, ১৩০০ টাকা টোলও দিতে চাইলাম কিন্তু তারা আমার কোনো কথাই শুনল না। আমার মেয়েটারও মন খুব খারাপ হয়ে গেল। এখন আবার ফেরিতেই নদী পার হতে হবে।’

এদিকে সকালে মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় সেতু কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েন শহিদুল শেখের নৌকা নিয়ে। একটি ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর মোটরবাইককে নৌকায় রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার শহিদুল।

প্রথমে শহিদুলের কাছে টোল চাওয়া হলে তিনি জানান, তার কাছে টোলের টাকা নেই। এরপর তার মোটরসাইকেল পরীক্ষা করে দেখা হয় এটির ফিটনেসও নেই। বিষয়টি শহিদুল মানতে নারাজ। তাকে বোঝাতে গিয়ে সেতুর একটি টোলঘরের কার্যক্রম আটকে থাকে বেশ কিছুক্ষণ।

শহিদুল শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি তো আমাগো এত বড় অর্জনে আনন্দ করতে আইছি। আমি গরিব মানুষ, পকেটে খালি তেল নিবার ৩০০ ট্যাকা আছে, টোল দিমু কইথেইক্যা? তিন দিন ধইরা এইখানে পইড়া ছিলাম আমার নৌকাডা নিয়া বিরিজে উঠমু এই আশায়, অহন মনডা খারাপ লাগতাছে।’

এ বিষয়ে সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুতে কী ধরনের যান চলবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। আমরা তো এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারি না। থ্রি হুইলার সেতুতে চলবে না, আর অন্য যে মোটরসাইকেল সেটির অবস্থা খুব খারাপ। তো এই অবস্থায় এগুলোকে সেতু পার হওয়ার অনুমতি কীভাবে দেয়া যায়?’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল, স্বল্প যাত্রী ফেরিঘাটে
পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Competition to break the rules on the Padma Bridge

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’ নিয়ম ভেঙে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ে বসে ছবির জন্য পোজ দেন এক যুবক। ছবি: নিউজবাংলা
ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ভোরে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর অনেককে সড়কে হাঁটাহাঁটি করতে ও ছবি তুলতে দেখা যায়। কেউ আবার এক ধাপ এগিয়ে সেতুর রেলিংয়ে বসে দেন পোজ।

পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার সময় থামানো যাবে না গাড়ি। যানবাহন থেকে নেমে সেতুতে তোলা যাবে না ছবি; করা যাবে না হাঁটাহাঁটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সেতুর নামফলক উন্মোচনের আগেই উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো দিয়েছিল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। যদিও সেতু উদ্বোধনের পরপরই সে নির্দেশনা কাগুজে বিষয়ে পরিণত হয়।

উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। তাদের নামাতে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ভোরে সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার পরও একই চিত্র দেখা যায়। যে যার মতো করে সেতুতে হাঁটাহাঁটি করছেন; তুলছেন ছবি। কেউ আবার এক ধাপ এগিয়ে সেতুর রেলিংয়ে বসে দিচ্ছেন পোজ।

এ যেন নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা। এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হাইওয়ে ও সেতুর টহল দলের চেষ্টাও যাচ্ছে বৃথা।

সপরিবারে ঘোরাঘুরি

সাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পর গণপরিবহন ছাড়া অন্য প্রায় সব গাড়িকে সেতুতে থামাতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি তুলেছেন ছবি।

মাইক্রোবাস ভাড়া করে পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন। গাড়িটি দাঁড় করিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পরিবারের ১৪ সদস্য সেতু ঘুরে দেখেন; তোলেন দলবদ্ধ ছবি।

নিউজবাংলাকে তোফাজ্জল বলেন, ‘যেদিন সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেদিনই ঠিক করেছি প্রথম দিনই সেতু দেখতে আসব। এ জন্য আমার মা, খালা, ফুপুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সারা দিন ঘুরে আবার কুমিল্লা ফিরে যাব।’

নিয়মে ভাঙার প্রসঙ্গ টানলে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমরা তো কত অনিয়মই করি। এতদিনের ইচ্ছা স্বপ্নের সেতুতে এসে দাঁড়াব। নিজের স্বপ্নপূরণে একটু অনিয়ম করা দোষের কিছু না।’

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

পরিবার নিয়ে গোপালগঞ্জ যাচ্ছিলেন শিক্ষক নিহার রঞ্জন দাস। তাদের বাহনও মাইক্রোবাস। সেতুতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেমে পড়েন এ শিক্ষক। সেলফি তোলাসহ ভিডিও ধারণ করেন সেতু ও নদীর।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গোপালগঞ্জ যাচ্ছি। আজকেই যেহেতু সেতুর ওপেনিং হলো, তাই সেতুতে দাঁড়ানোর সুযোগটা মিস করতে চাইনি। এটা আমাদের অনেক বড় একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন। কে না চায় স্বপ্ন সত্যি হলে সেটা দুই চোখ ভরে দেখতে?

‘এটা ঠিক আমরা নিয়ম ভাঙছি, কিন্তু এই সুযোগ আর কখনও নাও পেতে পারি, তবে সরকারের উচিত ছিল কয়েক দিন মানুষকে দেখতে সুযোগ দেয়ার, কারণ সবারই আগ্রহের কেন্দ্র এখন পদ্মা সেতু।’

ঝুঁকি নিয়ে রেলিংয়ে

নিহার রঞ্জন যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেখান থেকে কিছুটা দূরে দেখা মিলল উচ্ছ্বাসে প্রাণঝুঁকির কথা ভুলে যাওয়া এক যুবকের। নাম তার হৃদয়। বসা ছিলেন সেতুর রেলিংয়ের ওপর।

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

কাছে গিয়ে কথা জানা গেল, হৃদয় ঢাকা থেকে নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে এসেছেন সেতু দেখতে। তার সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন কয়েক বন্ধু।

কথাগুলো বলার সময় রেলিয়ের ওপরই বসা ছিলেন হৃদয়। রেলিংয়ে বসা নিয়ে প্রশ্ন করতেই সেখান থেকে নেমে পড়ে তিনি বলেন, ‘একটা ছবি তোলার জন্য বসছিলাম। ভুল হয়ে গেছে।’

টহল গাড়ির ছোটাছুটি

সাধারণদের নিয়ম ভাঙার এ খেলা বন্ধ করতে সাইরেন বাজিয়ে সেতুর উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে টহল গাড়ি। থেমে থাকা গাড়ি বা মানুষকে দাঁড়াতে দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন পেট্রলম্যান। কখনো অনুরোধ করে, আবার কখনো গলা চড়িয়ে সরিয়ে দিচ্ছেন নিয়মকে থোড়াই কেয়ার করা লোকজনকে।

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

সেতুর পেট্রলম্যান সাদ্দাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে শুধু ছুটেই যাচ্ছি। পাবলিক কোনো কথা শোনে না৷ এক জায়গার মানুষের গাড়ি সরাচ্ছি, অন্য জায়গায় আবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

‘কেউ কেউ আবার অনুরোধও শুনছেন না। তখন বাধ্য হয়ে আমি তাদের গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নিচ্ছি আর বলে দিচ্ছি সেতু থেকে নেমে যাওয়ার পর আমি এগুলো ফেরত দেব। কথা না শুনলে কী আর করতে পারি বলেন? এখানে নিয়ম ভাঙলে জরিমানার বিধান রাখা হয়নি।’

আরও পড়ুন:
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে যানের দীর্ঘ সারি
পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে উচ্ছ্বাস
‘কালের সাক্ষী হয়ে রইলাম’
‘এটা স্বপ্নযাত্রা, স্বপ্নের ভেতরে আছি’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Even after the opening of the Padma Bridge the short distance passengers are suffering

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী না তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
ফরিদপুর ভাঙার বাসিন্দা কামরুল হাসান রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসেছেন। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার জন্য কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। ভাঙা থেকে যেসব বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সেতু পার হচ্ছে তার সবই দূরপাল্লার (চেয়ারকোচ)। এসব বাসে স্বল্প দূরত্বের কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না। এদিকে লোকাল কোনো বাস সার্ভিসও নেই, এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে।

পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিনে দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী না তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফরিদপুর ভাঙার বাসিন্দা কামরুল হাসান রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসেছেন। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার জন্য কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। ভাঙা থেকে যেসব বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সেতু পার হচ্ছে তার সবই দূরপাল্লার (চেয়ার কোচ)।

এসব বাসে স্বল্প দূরত্বের কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না। এদিকে লোকাল কোনো বাস সার্ভিসও নেই। এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে। ভিড় বেড়েছে জাজিরা টোল প্লাজায়। বাসে উঠতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা

ফরিদপুর, মাদারীপুর থেকে অনেকে রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে টোল প্লাজায় ফি নিয়ে সেতুতে গাড়ি ছাড়া হয়। একের পর এক গাড়ি সেতু পার হয়। কিন্তু কোনো গাড়িতে উঠতে পারছেন না স্থানীয়রা। শতাধিক মানুষের ভিড় জমে যায় টোল প্লাজার সামনে। এতে বিপাকে পড়েন টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের কর্মীরা। সড়ক থেকে এই ভিড় সরাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

ঢাকার কোনো গাড়িতে উঠতে না পেরে হতাশ মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা শিমুল। সেতুতে গাড়ি চালুর পর ঢাকায় যেতে চেয়েও পারছেন না তিনি। শিমুল বলেন, ‘কোনো গাড়িই নিচ্ছে না। এখন যাব কীভাবে?’

শনিবার খুলনা থেকে এসেছেন শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল শেখ। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ফেরি বন্ধ থাকায় তিনি গতকাল পদ্মা পার হতে পারেননি। রোববার সকালে সেতু চালুর পর বাসে সেতু পার হতে পারবেন ভেবে জাজিরা টোল প্লাজায় এসেছেন তিনি। অন্য সবার মতো তারও একই অবস্থা। দাঁড়িয়ে আছেন বাসে ওঠার আশায়।

ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ার জিবুল আক্তার।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় দাঁড়ানো নিষেধ। এখন প্রচুর মানুষ আসছে বাসে ওঠার জন্য। কিন্তু আমাদের হাতে তো এর কিছুই নেই। তাদের সড়কের পাশ থেকে সরানোর চেষ্টা করছি।’

ভায়াডাক্টসহ ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির টোল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতি করতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের দুটি টোল প্লাজায় বসানো হয়েছে সাতটি করে মোট ১৪টি গেট।

যান চলাচলে সেতুটি খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে গেছে। সব কটি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর টোল

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল হার প্রকাশ করে সরকার। সে হিসাবে এই সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে টোল ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাইক্রোবাস পারাপারে সেতুর টোল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি বাসের টোল ২ হাজার টাকা। বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাঁচ টনের ট্রাক এই সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা। আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

থ্রি এক্সেলের ট্রাক পারাপারে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। মালবাহী ট্রেইলারের (চার এক্সেল) টোল ৬ হাজার টাকা। চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে ফেরিতে নদী পারাপারে যে হারে মাশুল দিতে হয়, সেতুতে তা দেড় গুণ বা আশপাশে বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-খুলনা রুটে বেড়েছে গণপরিবহন, উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা
‘জীবন ধন্য হয়ে গেছে’
জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক
পদ্মা সেতুতে প্রথম
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Life has become blessed

‘জীবন ধন্য হয়ে গেছে’

‘জীবন ধন্য হয়ে গেছে’ যাত্রী নিয়ে পদ্মা সেতু পার হলো বাস। ছবি: নিউজবাংলা
রোববার সকাল ৬টার দিকে সেতু চালুর পর জাজিরা প্রান্ত থেকে সেতুতে ওঠে যাত্রীবাহী ইমাদ পরিবহন। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বাসটির চালক মো. হানিফ টোল প্লাজায় টোল পরিশোধ করে ‘আনন্দের সীমা নাই’ বলে চিৎকার করেন।

জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম বাস হিসেবে পদ্মা সেতু পার হয়েছে ইমাদ পরিবহনের একটি বাস; এমন ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে উচ্ছ্বসিত বাসের চালক ও যাত্রীরা। আবেগ, অনুভূতি আর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।

সব থেকে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন গাড়িটির চালকের সহযোগী মজিবুর মিয়া। তিনি সেতু পার হওয়ার পর গাড়ি থেকে নেমে হাত উঁচু করে লাফাতে থাকেন। মনে হয় যেন পর্বত জয় করলেন।

এ সময় মজিবুর বলেন, ‘আমার জীবন ধন্য হয়ে গেছে।’

রোববার সকাল ৬টার দিকে সেতু চালুর পর জাজিরা প্রান্ত থেকে সেতুতে ওঠে যাত্রীবাহী ইমাদ পরিবহন। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বাসটির চালক মো. হানিফ টোল প্লাজায় টোল পরিশোধ করে ‘আনন্দের সীমা নাই’ বলে চিৎকার করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক স্যালুট।’ এ সময় গান গেয়ে হানিফ বলেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, জন্ম দিয়েছ মাগো, বড় বেশি ভালোবাসি।

‘আমরা আমরা করবো জয়। আমরা করবো জয় একদিন... ’

তিনি বলেন, ‘মনে করি নাই বাঁইচা থাকতে পদ্মা সেতুতে গাড়ি চালাইয়া যাইব। আমার অনেক খুশি লাগতাছে। আমাদের সব ড্রাইভারের পক্ষ থেকে হাজারবার স্যালুট।’

এ সময় যাত্রীরা সমস্বরে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেন। এক যাত্রী বলেন, ‘সেতু চালু হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু আসছে দুবাই থেকে, ওকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি।’
আরেক যাত্রী বলেন, ‘রাত দেড়টা থেকে সেতুতে ওঠার অপেক্ষায় ছিলাম। সবার আগে উঠতে পেরেছি, এ জন্য নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি। এটা ছিল আমার সৌভাগ্য। টোল প্লাজায় লাইনে প্রথম ঢুকেই আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

খুলনা থেকে আসা ইমাদ পরিবহনের যাত্রী সিয়াম বলেন, ‘প্রথম বাস হিসেবে পদ্মা সেতুতে উঠেছি। এই অনুভূতির ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমরা ইতিহাসের অংশ হয়েছি। বাসে করে সেতু পার হব, এটা কল্পনাও করিনি।’

আরেক যাত্রী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বহু রাত্রী আমরা মাওয়াতে নদীর পাড়ে কাটিয়েছি। বহু ছেলে মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে রওনা দিয়ে ঘাটে বসে রাত কাটিয়েছে। অনেক রোগী এই ঘাটে থেকেই অ্যাম্বুলেন্সে মারা গেছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। দেশবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা।’

পদ্মা সেতু বরিশালের জন্য একটি গর্বের বিষয় উল্লেখ করে আরেক যাত্রী সুমন বলেন, ‘এখন আমাদের ঢাকায় যাওয়া সহজ হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক
পদ্মা সেতুতে প্রথম
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Nazmus Shakibs bike was the first to leave with the edge of Jazira

জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক

জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পদ্মা সেতু প্রথম পাড়ি দিল ফরিদপুরের নাজমুস সাকিবের মোটরসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা পাড়ি দিতে যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় বলেন, ‘এই ব্রিজের স্বপ্ন আমাদের পূর্বপুরুষরা দেখে গেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমিতো বাগেরহাট থেকে আসছি, দেড় ঘণ্টার মধ্যে এখানে চলে আসছি। দেখি কতক্ষণ লাগে সেতু পার হতে। এই আবেগের কথা বুঝানোর ভাষা নেই। আমি নিজে গাড়ি চালাচ্ছি, ব্রিজে গাড়ি চালাতে চাই, দেখতে চাই। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই।’

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয় শনিবার। অপেক্ষা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়ার। সেই অপেক্ষায় অবসান ঘটিয়ে রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতুর দুয়ার খুলে দেয়া হয়।

নির্ধারিত টোল পরিশোধ করে প্রথম গাড়ি হিসেবে ছেড়ে যায় ফরিদপুরের বাসিন্দা নাজমুস সাকিবের মোটরসাইকেল। এরপর একে একে প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ অনুমোদিত যানগুলো টোলপ্লাজা পেরিয়ে মাওয়া প্রান্তের দিকে ছুটে চলেছে।

রোববার সকালে আলো ফোটার আগেই জাজিরাপ্রান্তে টোল প্লাজার সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে যানবাহনের। গাড়ি নিয়ে কেউ এসেছে শখে, কেউ প্রয়োজনে।

আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়ার পর বাইক নিয়ে সেতু পার হতে ভোর সাড়ে ৪টায় জাজিরাপ্রান্তের টোল প্লাজায় এসে হাজির হন ফরিদপুরের বাসিন্দা নাজমুস সাকিব।

তিনি বলেন, ‘আমার টার্গেট ছিল প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেতু পার হবো। খবরে জানছিলাম, সকাল ৬টায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা খুলে দিবে, সেজন্য মাঝরাত থেকে এখানে এসে অপেক্ষা করছি।’

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রথমবার সেতু দিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিতে খুব সকালে আসেন বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়। বাগেরহাট থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে টোল প্লাজায় এসে হাজির হন এই তরুণ সাংসদ।

পদ্মা পাড়ি দিতে যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ব্রিজের স্বপ্ন আমাদের পূর্বপুরুষরা দেখে গেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমিতো বাগেরহাট থেকে আসছি, দেড় ঘণ্টার মধ্যে এখানে চলে আসছি। দেখি কতক্ষণ লাগে সেতু পার হতে। এই আবেগের কথা বুঝানোর ভাষা নেই। আমি নিজে গাড়ি চালাচ্ছি, ব্রিজে গাড়ি চালাতে চাই, দেখতে চাই। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই।’

রোগী নিয়ে সেতু পাড়ি দিতে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভীষণ খুশি। ফরিদপুরের ভাঙা থেকে রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যাচ্ছেন চালক তানভীর হাসান।

তিনি বলেন, ‘আগে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যাইতো ফেরির কারণে। চোখের সামনে গাড়িতে মানুষ মারা যাইতে দেখছি, এই দৃশ্য দেখার কষ্ট অনেক। আজকে পাঁচ মিনিটে পার হয়ে যেতে পারবো, এর চেয়ে খুশির কিছু নেই।’

সব গাড়ি নিয়ে পার হতে পারলেও অনুমোদিত না পাওয়ায় সেতু পাড়ি দিতে পারেননি খুলনার কয়রার বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম। তিনি অটোরিক্সায় নৌকার আদলে কাঠামো তৈরি করেন। ঢাকায় বসবাস করা এই ব্যক্তি নৌকার আদলে গাড়ি নিয়ে সমাবেশে এসেছিলেন, দিনভর ছিলেন কাঁঠালবাড়ী এলাকায়। আজ সেতু পাড়ি দেয়ার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু টোলপ্লাজায় তার গাড়ি আটকে দেয়া হয়েছে।

মিনারুল বলেন, ‘কত শখ করে নৌকার মতো গাড়ি বানাইছি। টোলও দিছি কিন্তু যাইতে দিচ্ছে না।’

টোলপ্লাজায় দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী জানান,’ উনার গাড়ি অনুমোদিত নয়, আমাদের কোনো ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না। যে কারণে আমরা উনাকে যেতে দিতে পারছি না।’

সকাল ৫টা ৫০ থেকে ৭টা পর্যন্ত কয়েকশ মোটরসাইকেল জাজিরাপ্রান্ত থেকে টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতুতে উঠে। তাদের অধিকাংশ হেলমেট ব্যবহার করেননি। কোনো মোটরসাইকেলে চালক-আরোহী দুজনেরই হেলমেট নেই, কোনোটাতে চালকের আছে আরোহীর নেই।

জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, টোল কর্তৃপক্ষ থাকলেও যাত্রী ও চালকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার এই বিষয়গুলো দেখার কেউ নেই।

ভায়াডাক্টসহ ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির টোল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতি করতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের দুটি টোলপ্লাজায় বসানো হয়েছে সাতটি করে মোট ১৪টি গেট।

যান চলাচলে সেতুটি খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে গেছে। সব কটি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর টোল

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল হার প্রকাশ করে সরকার। সে হিসাবে এই সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে টোল ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাইক্রোবাস পারাপারে সেতুর টোল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি বাসের টোল ২ হাজার টাকা। বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাঁচ টনের ট্রাক এই সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা। আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

থ্রি এক্সেলের ট্রাক পারাপারে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। মালবাহী ট্রেইলারের (চার এক্সেল) টোল ৬ হাজার টাকা। চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে ফেরিতে নদী পারাপারে যে হারে মাশুল দিতে হয়, সেতুতে তা দেড় গুণ বা আশপাশে বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে যানের দীর্ঘ সারি
পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে উচ্ছ্বাস
‘কালের সাক্ষী হয়ে রইলাম’
‘এটা স্বপ্নযাত্রা, স্বপ্নের ভেতরে আছি’

মন্তব্য

জীবনযাপন
First on the Padma Bridge

পদ্মা সেতুতে প্রথম

পদ্মা সেতুতে প্রথম পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রথম হওয়া গাড়ির ছয় চালক। ছবি: নিউজবাংলা
ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় পদ্মা সেতু। এর আগে শনিবার রাতেই সেতুর উত্তর প্রান্ত মাওয়ায় গাড়ি নিয়ে ছুটে আসেন অনেকে। এসব চালকের মধ্যে কারা আগে সেতুতে চড়েন, তা জানতে পেরেছে নিউজবাংলা।

পদ্মায় স্বপ্নের সেতু উদ্বোধন হয়েছে শনিবার। ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সেতু।

এর আগে শনিবার রাতেই সেতুর উত্তর প্রান্ত মাওয়ায় গাড়ি নিয়ে ছুটে আসেন অনেকে। এসব চালকের মধ্যে কারা আগে সেতুতে চড়েন, তা জানতে পেরেছে নিউজবাংলা।

মোটরসাইকেল

উত্তর প্রান্তে প্রথমেই টোল দিয়ে সেতু পাড়ি দেন মোটরসাইকেলচালক জসিম। তার মোটরসাইকেলের নম্বর ঢাকা মেট্রো ল ১৯-৮৩৫৮। গন্তব্য শরীয়তপুর।

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম মোটরসাইকেলচালক জসিম। ছবি: নিউজবাংলা

প্রথমবারের মতো সেতুতে চড়ার উচ্ছ্বাস দেখা যায় জসিমের চোখে-মুখে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি বাইক নিয়ে প্রথম সবার আগে পদ্মা সেতু পার হব—এই ইচ্ছা নিয়ে রাতেই মাওয়া চলে এসেছিলাম। আল্লাহ আমার ইচ্ছা পূরণ করেছেন।

‘আমি খুবই খুশি। সারা জীবন বলতে পারব আমি ইতিহাসের সাক্ষী।’

ট্রাক

সেতুর এ প্রান্তে প্রথম যে ট্রাকটি পৌঁছায়, তার নম্বর ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৭২২২। চালক মো. শিপু পণ্য নিয়ে যাচ্ছিলেন বরিশালে।

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে ওঠা প্রথম ট্রাকের চালক মো. শিপু। ছবি: নিউজবাংলা

এক প্রান্তের প্রথম ট্রাকের চালক হিসেবে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব আনন্দ লাগতাছে; গর্ব হইতাছে যে আমি সেতুতে প্রথম ট্রাক চালায়া যাব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আমাদের এতদিনের কষ্ট দূর করার জন্য।’

অ্যাম্বুলেন্স

যে অ্যাম্বুলেন্সটি টোল দিয়ে সেতুতে ওঠে, তার নম্বর ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-১৩০৯। চালক আশিক বলেন, ‘মনটাই ভালো হয়ে গেছে। ব্রিজে প্রথম রোগী নিয়ে পার হইতাছি।

‘আগে প্রতিবার ঘাট আর ফেরির চিন্তায় থাকতাম। কত রোগী মারা গেল আমার গাড়িতে। এখন আর এসব চিন্তা মাথায় আসব না।’

পদ্মা সেতুতে প্রথম
পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে টোল দিয়ে ওঠা প্রথম অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: নিউজবাংলা

কাভার্ডভ্যান

ঢাকা মেট্রো ট ১৪-৫৪২৩ নম্বরের কাভার্ডভ্যানটি প্রথম টোল দেয় মাওয়া প্রান্তে। এর চালক ফেরদৌস বলেন, ‘আমি বুঝি নাই যে প্রথমে আমি কাভার্ডভ্যান নিয়া ব্রিজ পার হইতে পারব। আমি মাল নিয়া যাব মাদারীপুর। গত তিন দিন ধইরা ঘাটে বইসা ছিলাম।

‘পরে মালিক বলল ব্রিজ দিয়া পার হইয়া যাইতে। এই জন্য আসলাম। আমার খুব খুশি লাগতাছে; আমার কাভার্ডভ্যান প্রথম ব্রিজে উঠল।’

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম কাভার্ডভ্যানের চালক ফেরদৌস। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাইভেটকার

মাওয়া প্রান্তে প্রাইভেটকারের মধ্যে মো. রাজুর গাড়িটিই প্রথম সেতুতে ওঠে। টয়োটা করল্লা ব্র্যান্ডের গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ১৪-৪৭৭১।

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম প্রাইভেটকারের চালক রাজু। ছবি: নিউজবাংলা

রাজু বলেন, ‘আমরা যাচ্ছি মাদারীপুর। আজকেই যাচ্ছি ব্রিজ দেখব বলে। রাতের বেলা এখানে আসছি, যেন সবার আগে আমার গাড়ি ব্রিজে উঠতে পারে। তা-ই হলো। এখন খুব ভালো লাগছে।’

এসইউভি

মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) ছিল নিশান এক্সট্রেইল মডেলের ঢাকা মেট্রো ঘ ১৫-০৬৮৬ নম্বর গাড়িটি।

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম এসইউভির মালিক শাহিন (বামে)। ছবি: নিউজবাংলা

সেতুতে নিজের গাড়ির চাকা প্রথম ঘোরানোর পরিকল্পনা নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন শাহিন। বেলুন হাতে গাড়ির ছাদ খুলে আনন্দ করতে করতে সেতু পাড়ি দেয়ার আগে গাড়িটির মালিক বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমার গাড়ি সবার আগে সেতুতে উঠবে। সবার প্রথম হতে পারিনি, কিন্তু জিপ গাড়ির মধ্যে আমারটাই প্রথম, এটাই বা কম কী! আমি খুব খুশি।’

পিকআপভ্যান

সেতুর এক প্রান্তে চড়া প্রথম পিকআপভ্যানের চালক রাশেদুল। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ন ১৮-১৬০৪।

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম পিকআপভ্যান ও তার চালক রাশেদুল। ছবি: নিউজবাংলা

পিকআপ ক্যাটাগরিতে গাড়িটি যে সবার আগে, তা বুঝতে পারেননি রাশেদুল। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো বুঝিই নাই যে, আমার পিকআপ প্রথম৷ ভাবছিলাম আগে যামু। এই জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলাম, কিন্তু এত জ্যাম দেখে বুঝছি আমার আগে যাওয়া আর হইব না।

‘অহন আপনে কইলেন আমার আগে অন্য কোনো পিকআপ যায় নাই। এইডা তো খুব খুশির কতা। বাসায় ফোন কইরা জানামু।’

বাস

মাওয়া প্রান্তে সেতুতে চড়া প্রথম যাত্রীবাহী বাসটি এনা পরিবহনের। এর নম্বর ঢাকা মেট্রো ব ১৫-৪৬২৪।

পদ্মা সেতুতে প্রথম
মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে চড়া প্রথম বাসের চালক বাবুল। ছবি: নিউজবাংলা

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসটির চালক মো. বাবুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি খুবই খুশি আমার বাস প্রথম ব্রিজ দিয়া যাবে। এই আনন্দ আপনারে বুঝাইতে পারব না। আমি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, কিন্তু বাস চালাই উত্তরবঙ্গ রুটে।

‘পদ্মা সেতু দেখতাম আর ভাবতাম, এই ব্রিজে কি আমার গাড়ি চালানোর সৌভাগ্য হইব? দেখেন আল্লাহ আমার আশা পূরণ করছে। প্রথম বাস আমারটাই উঠল।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু নিয়ে ‘বাজে পোস্ট’, যুবদলকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
পদ্মা-উৎসবের ঢেউ মিরপুর স্টেডিয়ামে
কলকাতায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন
পদ্মা সেতু চালুতে পিরোজপুরে ঘটবে কৃষিবিপ্লব
পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু

মন্তব্য

p
উপরে