× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

জীবনযাপন
Centuries of Nazruls rebellious poetry
hear-news
player
print-icon

নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে ‘শতবর্ষে শতদৃষ্টি’

নজরুলের-বিদ্রোহী-কবিতার-শতবর্ষে-শতবর্ষে-শতদৃষ্টি
নজরুলকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরণের সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনে একাডেমি প্রকাশ করেছে ‘বিদ্রোহী: শতবর্ষে শতদৃষ্টি’ শীর্ষক সাত শতাধিক পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থ।

১৯৭২ সালের ২৪ মে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতোই বাংলাদেশে নজরুলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরণ করার সুবর্ণজয়ন্তীও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একইসঙ্গে ২০২১ সালে ডিসেম্বরে পূর্ণ হয়েছে নজরুলের কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’র শতবর্ষ।

নজরুলকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরণের সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনে একাডেমি প্রকাশ করেছে ‘বিদ্রোহী: শতবর্ষে শতদৃষ্টি’ শীর্ষক সাত শতাধিক পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থ।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‘বিদ্রোহী: শতবর্ষে শতদৃষ্টি’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলা একাডেমির প্রয়াত সভাপতি, নজরুল-সাধক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের স্মৃতিতে।

এই গ্রন্থে কবি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ রচনার পটভূমি-ইতিহাস, সমকালীন সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতি-বিশ্বপরিস্থিতি, বাংলা কবিতা-সাহিত্যে ও সমাজে ‘বিদ্রোহী’র সমকালীন এবং উত্তরপ্রভাব, বিশ্বসাহিত্যের কালজয়ী অন্যান্য কবিতার সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’র তুলনামূলক আলোচনাসহ এ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে ১০০ নবীন-প্রবীণ লেখকের একটি নতুন লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

গ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী মোস্তাফিজ কারিগর। যার দাম ৭৫০ টাকা।

আরও পড়ুন:
গৌরবের ১৪৮ বছরে কবি নজরুল কলেজ
‘ছাত্রলীগ না করায়’ মারধর: তদন্ত প্রতিবেদন জমা
‘অপমানে’ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাচেষ্টা, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি
‘অপমানে’ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাচেষ্টা, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. সৌমিত্র

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Bangladesh is not getting compensation for its climate promises

জলবায়ু প্রতিশ্রুতির ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

জলবায়ু প্রতিশ্রুতির ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশের ৫০: সাফল্য ও সম্ভাবনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে লেখক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে আমরাও এ নিয়ে কথা বলেছি। জি-২০ দেশগুলো তারাই সবচেয়ে বেশি পরিবেশন দূষিত করে থাকেন। এসব দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না। জলবায়ুর প্রভাবের ফলে বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন লোক বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতির ১০০ বিলিয়ন ডলারের এক পয়সাও এখন পর্যন্ত পায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

সোমবার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে ‘বাংলাদেশের ৫০: সাফল্য ও সম্ভাবনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে আমরাও এ নিয়ে কথা বলেছি। জি-২০ দেশগুলো তারাই সবচেয়ে বেশি পরিবেশন দূষিত করে থাকেন। এসব দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না। জলবায়ুর প্রভাবের ফলে বিশ্বজুড়ে মিলিয়ন লোক বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশের ৫০: সাফল্য ও সম্ভাবনা’ বইয়ের লেখক হিসেবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক বড় বড় অর্জন রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে আমাদের বড় ইভেন্ট হয়েছে। বাংলাদেশের ৫০ বছর ও মুজিব শতবর্ষ আমরা পালন করেছি। এগুলো নিবন্ধন আকারে যখন পত্রিকায় লিখেছি, তখন সেগুলো সংরক্ষণে বই আকারে সন্নিবেশিত করেছি।

‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্য ও তার ধারাবাহিকতা নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসসহ বিশ্ব নেতারা যে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সাফল্য ও জলবায়ু পরিবর্তনে যে শক্তিশালী ভূমিকা সেটি নিয়েও তারা বিস্মিত হয়েছেন। আমি এগুলোকে স্থান দেয়ার চেষ্টা করেছি।’

আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের অর্থনীতিকে যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন, আজ তার অবর্তমানে সেই ধারাবাহিকতার সাফল্য উল্লেখ করার মতো।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সফলভাবেই সম্পন্ন করা গেছে। বঙ্গবন্ধুর দর্শন বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমরা যাদের দাতা বলি, তারা কেউ কিন্তু আমাদের এমনি এমনি লোন দেয় না। লোন দেয়ার মধ্য দিয়ে তারা লাভবান হবে না।

‘করোনা ম্যানেজমেন্টে আমরা সারা বিশ্বে পাঁচ নম্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এক নম্বর। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই কেবল সেটি সম্ভব হয়েছে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে লোন দেয়া নিয়ে বিশ্বব্যাংক সরে গেল, কিন্তু সেতু করতে এর থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল টেকনিক্যাল ও টেকনোলজির বিষয়গুলো। বিশ্বব্যাংক একটা শিক্ষা পেয়েছে।’

বইটিতে বাংলাদেশের সব বিষয় লেখক স্থান দিয়েছেন, এ জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

পাবলিক সার্ভিস কমিশশের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘৫০ বছরে এসে বাংলাদেশের অর্জনগুলো বইটিতে স্থান পেয়েছে। আগামী তারুণ্যর জন্য বইটি অনুপ্রেরণা।’

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বইতে তার আন্তর্জাতিক ভাবনা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও লিখেছেন। সরকারের দায়িত্বশীল হয়েও তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন এটার জন্য বেশ সাহসের। কারণ এত ব্যক্তি চিন্তার প্রতিফলন ও মতামত ঘটে।’

ভিশন ২০৪১ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তন আমাদের অনুধাবন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বড় অর্জন। আমরা আমাদের সাফল্যকে স্বীকার করাসহ আত্মবিশ্বাসের জায়গায় আরও বেশি নজর দিতে হবে।’

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজালসহ অন্যরা।

‘বাংলাদেশের ৫০: সাফল্য ও সম্ভাবনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের শুরুতেই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

এরপর আলোচক-অতিথি বক্তাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। মূল আলোচনা পর্ব শুরুর আগে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আলোচকরা।

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এবি ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঝুমঝুমি’-এর প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:
গম আমদানিতে জি-টু-জির প্রস্তাব বাংলাদেশের
ভারত সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর মোমেনের
‘বাংলাদেশ নিজের ক্ষতি করে কোনো জোটে যাবে না’
এনআইডিধারী থেকে রিটার্ন নেয়ার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
‘রোহিঙ্গাদের কারণে আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Unveiling of 71 book release of 71 statues

‘মূর্তির ৬১ মুক্তির ৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

‘মূর্তির ৬১ মুক্তির ৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
তানভীর মোকাম্মেল বলেন, ‘বইটি অশেষ গুণ, ৪৩০ পৃষ্ঠার বইটিতে অনেক কিছু রয়েছে। ভবিষ্যতে যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখবেন তাদের জন্য স্মৃতিচারণমূলক বইটি অনেক সাহায্য করবে। বইটি পড়ে যে কেউ উৎসাহিত হবেন। সেই সময়ের তরুণরা কী ভাবতেন, সেই সামাজিক অবস্থানও ফুটে উঠেছে এতে।’

প্রথম বাংলাদেশ ওয়্যারকোর্স স্মারক গ্রন্থ ‘মূর্তির ৬১ মুক্তির ৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার সন্ধ্যায় অনালাইনে যুক্ত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বীর উত্তম মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রনির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, তাজউদ্দীন আহমেদের জ্যেষ্ঠ কন্যা শিক্ষাবিদ শারমিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা ট্রাস্টি ও সাহিত্য প্রকাশের পরিচালক মফিদুল হক এবং প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএলের পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তানভীর মোকাম্মেল বলেন, ‘বইটি অশেষ গুণ, ৪৩০ পৃষ্ঠার বইটিতে অনেক কিছু রয়েছে। ভবিষ্যতে যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখবেন তাদের জন্য স্মৃতিচারণমূলক বইটি অনেক সাহায্য করবে। বইটি পড়ে যে কেউ উৎসাহিত হবেন। সেই সময়ের তরুণরা কী ভাবতেন, সেই সামাজিক অবস্থানও ফুটে উঠেছে এতে।’

শিক্ষাবিদ শারমিন আহমেদ বলেন, ‘বইটিতে যে কথাগুলো লেখা আছে সেটা আমাদের ইতিহাসের উপাদান। যারা সত্যের অনুসন্ধান করতে চান, জানতে চান তাদের জন্য বইটি, যারা ইতিহাসের চর্চা করেন, তাদের অনেক সাহায্য করবে।

‘আজকের তরুণ, যারা বইটি পড়বেন তারা আলোড়িত হবেন। বইটি পড়ে আমি সেই জনযুদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

সেই সঙ্গে বইটি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করারও দাবি জানান এই শিক্ষাবিদ।

বইটির বাংলা ও ইংরেজি দুটি সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশনা সাহিত্য প্রকাশ বের করেছে বাংলা, আর ইউপিএল প্রকাশ করেছে ইংরেজি সংস্করণ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন সেক্টরে ট্রেনিংপ্রাপ্ত দক্ষ সামরিক অফিসার তৈরি করার জন্য ভারতে অবস্থানকারী বাঙালি তরুণদের বাছাই করে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৬১ জন ক্যাডেট নির্বাচন করা হয়। এই কোর্সটির নাম দেয়া হয় 'প্রথম বাংলাদেশ ওয়্যারকোর্স'। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ কামাল এই ৬১ জনের সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত শিলিগুড়ি থেকে ৪০ মাইল দূরে মূর্তি নামক ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিল্ড স্টেশনে এদের ট্রেনিং শুরু হয় এবং ১৯৭১ সালে ৯ অক্টোবর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে এরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

পরে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ কোর্সের ৬১ জনের মধ্যে মোট ১৭ জন বীরত্বসূচক খেতাব পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, পাসিং আউট প্যারেডে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কমান্ডার সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল আতাউল গণি উপস্থিত ছিলেন ।

এ বইটিতে প্রথম বাংলাদেশ ওয়্যারকোর্সের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা বর্ণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
খুলনায় মেলায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বই বিক্রি
পর্দা নামল বইমেলার
বইমেলা শেষ হচ্ছে আজ
বইমেলায় সাংবাদিক সবুজ ইউনুসের ‘১৯৭১: মার্চ এবং ডিসেম্বর’
বইমেলায় বিক্রি নিয়ে হতাশা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Attack on Ratan Siddiquis house Demand for arrest of those involved

ভুয়া অভিযোগে তাণ্ডব মৌলবাদীদের: উদীচী

ভুয়া অভিযোগে তাণ্ডব মৌলবাদীদের: উদীচী নাট্যকার, গবেষক, শিক্ষক রতন সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত
বিবৃতিতে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী এ ধরনের জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এ ঘৃণ্য কাজের সাথে জড়িত সবার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। এ ছাড়া, অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী এবং তার পরিবারের সদস্যদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানাচ্ছে।

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

ভুয়া অভিযোগ তুলে, মৌলবাদী গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে উদীচী। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানায় সংগঠনটি।

শুক্রবার রাতে উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

দুপুরে একদল মুসল্লি জুমার নামাজের পর রাজধানীর উত্তরায় ৫ নম্বর সেক্টরে ৬এ রোডে ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলা চালায়।

উদীচীর বিবৃতিতে বলা হয়, বাসার গেটের সামনে ভ্যানে সবজির দোকান বসানো এবং গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে যে বচসার শুরু, তা থেকে রতন সিদ্দিকীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছাড়াও তার স্ত্রী, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য নাট্যকর্মী, শিক্ষক ফাহমিদা হক কলিকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা এবং অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাসার দারোয়ান, গাড়িচালককেও মারধর করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

নামাজের সময় বাধা সৃষ্টি করার ভুয়া অভিযোগ তুলে এসব তাণ্ডব চালিয়েছে একদল মৌলবাদী বলেও বিবৃতিতে জানায় উদীচী।

বিবৃতিতে বলা হয়, উদীচী এ ধরনের জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এ ঘৃণ্য কাজের সাথে জড়িত সবার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। এ ছাড়া, অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী এবং তার পরিবারের সদস্যদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানাচ্ছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হলে সব প্রগতিশীল মানুষকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় উদীচী।

সিপিবির নিন্দা

অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী ও তার সহধর্মিণী ফাহমিদা হক কলির উপর হামলায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে সিপিবি।

সিপিবি ঢাকা নগর উত্তর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক লুনা নুর বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানান।

হামলাকে উগ্র সাম্প্রদায়িক বলে দাবি করে বিবৃতিতে নেতারা বলেন, 'ড. রতন সিদ্দিকীর উপর এ হামলা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধিচর্চা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উপর হামলা! অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থার জোর দাবি জানাই।'

যেভাবে হামলা

রতন সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বিকেলে বলেন, ‘‘আজকে দুপুরের সময় এক দল মুসল্লি ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে আমার বাসায় হামলা করে। তারা আমার কলাপসিবল গেইট ভাঙার চেষ্টা করে। এক ঘণ্টা চলার পর পুলিশ-র‌্যাব এসে তাদেরকে সরিয়ে দেয়। প্রায় শ দুয়েক লোক ছিল।’

কেন হামলা চালিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে একজন এসে বলেছে, আমি নাকি বলেছি, এখানে ধর্মের নামে ভণ্ডামি হয়। অথচ আমি কিছুই বলিনি। আমার বাসার সামনে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল, সেটি সরানোর জন্য ড্রাইভার হর্ন দেয়। একজন মসজিদ থেকে এসে বলেছে, নামাজের সময় কেনো হর্ন দিল। এরপরই আরেকজন এসে বলে, আমি নাাকি ধর্মের বিরুদ্ধে বলি। এই বলে হামলা করে।’

রতন সিদ্দিকীর মেয়ে পূর্ণাভা হক সিদ্দিকী তার বাবা ও তাদের বাসায় হামলার অভিযোগ নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজকে জুম্মার পর আমাদের গেটের সামনে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়, আমার বাবাকে ঘুষি দেয়, ধাক্কা দেয়, নাস্তিক মালাউন হিন্দু বলে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়, আমার আম্মুকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়, আমাদের ড্রাইভার এবং দারোয়ানের উপর হামলা করে।’

এই হামলার নেপথ্যে বাসার গেটের সামনে ভ্যানে করে বাজার বসানোকে বাধা দেয়াকে কারণ বলে জানান।

লেখেন, ‘আমাদের গেটের সামনে ভ্যান দিয়ে বাজার বসে আর শুক্রবার আমাদের রাস্তা পুরোটা ব্লক করে রাখে। আমাদের গাড়ি ঢোকার জন্য দুইবার হর্ন দেয়ার সাথে সাথে একজন এসে বলল গাড়ি ঢুকতে দিবে না। গাড়িতে আম্মু-বাবা ছিল, একটা বাইক গেটের সামনে। সরানোর জন্য বলল। মুহূর্তেই বলল নামাজের সময় গাড়ি ঢুকবে না।

‘বাবা গাড়ি থেকে নামার পর পর আম্মুকে আর বাবাকে মালাউন হিন্দু নাস্তিক বলে গালাগাল করে। একপর্যায়ে বলে এই বাড়িতে নাস্তিক থাকে, এরা ইসলাম অবমাননা করেছে। বলেই নারায়ে তাকবির বলে হামলা শুরু করে।’

হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া এটি মৌলবাদীদের কাজ বলেও দাবি করেন। লেখেন, ‘আমার বাবার উপর আজকে এই সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য দায়ী কারা? বাবার রাজনৈতিক আদর্শ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মৌলবাদের প্রতি সোচ্চার হওয়া, কুকুর খাওয়ানো, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কথা এগুলো অপরাধ?’

এ ছাড়া ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বাসার সামনে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত হয় বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য শুরু
নৌকার সমর্থকদের বাড়িতে বিজয়ী প্রার্থীর ‘হামলা’
শেখ হাসিনার বহরে হামলা: অস্ত্র আইনে বিচার শুরু
রমনায় বোমা হামলা: বিস্ফোরক মামলার যুক্তি উপস্থাপন ১৪ জুলাই
আ.লীগের সম্মেলনে ইমাম-ওলামাদের হামলা-ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

মন্তব্য

জীবনযাপন
The attack on the playwrights house created tension

উত্তেজনা তৈরি করে নাট্যকারের বাসায় হামলা

উত্তেজনা তৈরি করে নাট্যকারের বাসায় হামলা শতাধিক মুসল্লি নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আজকে দুপুরের সময় এক দল মুসল্লি ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে আমার বাসায় হামলা করে। তারা আমার কলাপসিবল গেইট ভাঙার চেষ্টা করে। এক ঘণ্টা চলার পর পুলিশ-র‌্যাব এসে তাদেরকে সরিয়ে দেয়। প্রায় শ দুয়েক লোক ছিল।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নাট্যকার-গবেষক ও শিক্ষক ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ৫ নম্বর সেক্টরে ৬এ রোডের একটি মসজিদ থেকে শতাধিক মুসল্লি বেরিয়ে এই হামলা চালায় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রতন সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘‘আজকে দুপুরের সময় এক দল মুসল্লি ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে আমার বাসায় হামলা করে। তারা আমার কলাপসিবল গেইট ভাঙার চেষ্টা করে। এক ঘণ্টা চলার পর পুলিশ-র‌্যাব এসে তাদেরকে সরিয়ে দেয়। প্রায় শ দুয়েক লোক ছিল।’

কেন হামলা চালিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে একজন এসে বলেছে, আমি নাকি বলেছি, এখানে ধর্মের নামে ভণ্ডামি হয়। অথচ আমি কিছুই বলিনি। আমার বাসার সামনে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল, সেটি সরানোর জন্য ড্রাইভার হর্ন দেয়। একজন মসজিদ থেকে এসে বলেছে, নামাজের সময় কেনো হর্ন দিল। এরপরই আরেকজন এসে বলে, আমি নাাকি ধর্মের বিরুদ্ধে বলি। এই বলে হামলা করে।’

উত্তেজনা তৈরি করে নাট্যকারের বাসায় হামলা
নাট্যকার, গবেষক ও শিক্ষক ড. রতন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

কলাপসিবল গেইট আটকানোর সময় ড. রতন সিদ্দিকী কয়েকটি কিল ঘুষি খেয়েছেন এবং এ সময় মুসল্লিরা তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

খরব পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারাও সেখানে রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘স্যার গাড়ি নিয়ে বাসায় ঢুকছিলেন, এ সময় তার বাসার সামনে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। তখন নামাজ চলছিল, স্যার মোটরসাইকেল সরাতে বলায় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এখন সেটা সমাধান হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি।’

রতন সিদ্দিকী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

তিনি উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।

রতন সিদ্দিকী ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
নৌকার সমর্থকদের বাড়িতে বিজয়ী প্রার্থীর ‘হামলা’
শেখ হাসিনার বহরে হামলা: অস্ত্র আইনে বিচার শুরু
রমনায় বোমা হামলা: বিস্ফোরক মামলার যুক্তি উপস্থাপন ১৪ জুলাই
আ.লীগের সম্মেলনে ইমাম-ওলামাদের হামলা-ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
বন্দুক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

জীবনযাপন
Writ to Nazrul for publishing gazette as national poet

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে গেজেট প্রকাশে রিট

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে গেজেট প্রকাশে রিট মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। ফাইল ছবি
রিটকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের আপামর জনগণ এমনকি ছোট্ট শিশুটিও জানে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু বাস্তবে এটির কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই। মৌখিকভাবে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই।’

কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী হাইকোর্ট বিভাগে এ রিট করেন।

রিটটি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবীরা।

রিটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের আপামর জনগণ এমনকি ছোট্ট শিশুটিও জানে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু বাস্তবে এটির কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই। মৌখিকভাবে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই।

বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে তাকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং কবির মৃত্যুর ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়ে কোনো যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যদিও ইতোপূর্বে নজরুল ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দু-একবার চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি কোনো আলোর মুখ দেখেনি।

আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে।

বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য জাতীয় পুরস্কার ও পদক প্রদানে অনিবার্য কিছু আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলতে হয়। সম্মাননাপত্র, পদক ইত্যাদি দেয়া হয়। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবি ঘোষণায় এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতার তথ্য বা প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনো অলিখিত থাকতে পারে না। অলিখিত ইতিহাস ও তথ্য সময়ের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণার দাবিতে কবি পরিবারের পক্ষ হতে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। নজরুল গবেষক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও অনেক দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই দেশের সচেতন নাগরিক এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে রিট আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

রিট আবেদনকারী অন্য আইনজীবীরা হলেন- মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, মো. রেজাউল করিম ও মো. আলাউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘বাজাও শঙ্খ, দাও আজান’
১১ জ্যৈষ্ঠ: সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মুখর দিন
জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

জীবনযাপন
Bengali started from the Brahmi of Sabyasachi Hazra

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’ প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া ঘ্রোজঁ, চিত্রশিল্পী ও অভিনেতা আফজাল হোসেন, শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্য এবং স্থপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর। ছবি: সংগৃহীত
সব্যসাচী হাজরা বলেন, ‘গ্রন্থটির বিষয়বস্তু হলো মুদ্রিত বাংলা হরফ। মূলত প্রমিত বাংলা হরফের পরিক্রমা দেখানো হয়েছে এখানে। এই বই ও প্রদর্শনী ১৯৫২ সালের সব ভাষা শহীদ এবং ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হলো চিত্রশিল্পী সব্যসাচী হাজরার ব্রাহ্মী থেকে বাংলা শীর্ষক প্রদর্শনী। একইসঙ্গে প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে তার তৃতীয় প্রকাশনা ‘অ- ইন দ্য কোয়েস্ট অফ বাংলা টাইপোগ্রাফি’।

অক্ষরবিন্যাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা হরফকে নান্দনিক ও ব্যবহারিকভাবে বিশ্লেষণ এই প্রদর্শনী ও প্রকাশনার প্রধান উপজীব্য।

প্রদর্শনীটির উদ্বোধন ও বইটি প্রকাশ হয় মঙ্গলবার বিকেলে। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন, শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য, স্থপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া ঘ্রোজঁ।

মুখের ভাষার মতো লেখার হরফও প্রতিনিয়ত রূপ বদলায়। সময়, প্রযুক্তি, মাধ্যম, প্রয়োগ, বৈষয়িক বোঝাপড়া ও নন্দনতাত্ত্বিক নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভিন্নতা পায় হরফের আদল ও ব্যঞ্জনা।

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
প্রদর্শিত হচ্ছে সব্যসাচী হাজরার তৃতীয় প্রকাশনা ‘অ- ইন দ্য কোয়েস্ট অফ বাংলা টাইপোগ্রাফি’।

প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে হাতে লেখার প্রয়োজন সীমিত হয়ে আসছে। কিন্তু হস্তাক্ষর ও লেখাঙ্কনের অনুশীলন অক্ষরবিন্যাস-সংশ্লিষ্টদের জন্য খুবই জরুরি। মুদ্রিত বাংলা অক্ষরের প্রমিত রূপ বিগতকালের হস্তাক্ষরের অনুকরণেই গৃহীত। অক্ষরবিন্যাসের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা নিয়ে চর্চার প্রয়োজনে বাংলা অক্ষরের প্রমিত রূপকে প্রকৃতভাবে চেনা, জানা ও আত্মস্থ করার তাগিদে এই প্রয়াস।

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
অভিনেতা আফজাল হোসেনকে প্রদর্শনীর কাজ দেখাচ্ছেন চিত্রশিল্পী সব্যসাচী। ছবি: সংগৃহীত

এই প্রদর্শনী ও প্রকাশনার মাধ্যমে সব্যসাচী হাজরা মূলত তরুণ শিল্পীদের জন্য বাংলা অক্ষর বিষয়ে তার অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

সব্যসাচী আশা করেন, তরুণ শিল্পীরা এই চর্চাকে এগিয়ে নেবেন এবং এই প্রকাশনার তথ্যগত ঘাটতি পূরণ করবেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, ভাষা আন্দোলনের সত্তর বছর ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবার্ষিকীর সন্ধিক্ষণে এই প্রকাশনা ও প্রদর্শনীটি হচ্ছে।

সব্যসাচী হাজরা বলেন, ‘গ্রন্থটির বিষয়বস্তু হলো মুদ্রিত বাংলা হরফ। মূলত প্রমিত বাংলা হরফের পরিক্রমা দেখানো হয়েছে এখানে। আমি ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বারা প্রচণ্ডভাবে অনুপ্রাণিত। এই বই ও প্রদর্শনী ১৯৫২ সালের সব ভাষা শহীদ এবং ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

আফজাল হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে একদল মানুষ রয়েছে যারা সৃজনশীল। যারা সবকিছুকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে পারেন। এ রকম একটা দুঃসময়ে একটা মানুষ হরফের সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করছে। এটা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি, আনন্দিত হই।’

এনামুল করিম নির্ঝর বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বাংলা হরফ নিয়ে নানা কাজের উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। সব্যসাচী হাজরার এই দারুণ কাজটি অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বাংলা হরফ নিয়ে কাজ করতে।’

প্রদর্শনীটি চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছাড়া গ্যালারি প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Legal notice for Nazrul to be declared a national poet

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণায় গেজেট প্রকাশে আইনি নোটিশ

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণায় গেজেট প্রকাশে আইনি নোটিশ মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। ফাইল ছবি
নোটিশকারীদের মধ্যে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামী প্রজন্ম একদিন হয়তো না-ও জানতে পারে যে আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম।’

মৌখিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে এবার ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে লিখিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা দিতে গেজেট প্রকাশের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিনসহ ১০ আইনজীবী রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশটি সংস্কৃতি সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেয়া না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন নোটিশকারীরা।

নোটিশে বলা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম মৌখিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কোনো মৌখিক বিষয় নয়।

নোটিশকারীদের মধ্যে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে তাকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়। সব কিছুরই ছবি, তথ্যসহ লিখিত দলিল আছে। কিন্তু নির্মম সত্য এটিই যে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সরকারি ঘোষণার কোনো লিখিত দলিল বা প্রমাণ নেই।

বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামী প্রজন্ম একদিন হয়তো না-ও জানতে পারে যে, আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম।

আইনজীবী বলেন, ‘কবি নজরুল ইসলাম আমাদের ইতিহাসের অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনও অলিখিত থাকতে পারে না। অলিখিত ইতিহাস ও তথ্য সময়ের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যায়। এ জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়। এ ছাড়া নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণার দাবিতে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি তোলা হয়েছে। নজরুল গবেষক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও অনেক দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই দেশের সচেতন নাগরিক এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আসাদ উদ্দিন ছাড়াও বাকি ৯ আইনজীবী হলেন মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, মো. রেজাউল করিম ও মো. আলাউদ্দিন।

মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। এ বিষয়ে গত বছর ২০ জুন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির বিষয় নয়।’

আরও পড়ুন:
১১ জ্যৈষ্ঠ: সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মুখর দিন
জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে ‘শতবর্ষে শতদৃষ্টি’
গৌরবের ১৪৮ বছরে কবি নজরুল কলেজ

মন্তব্য

p
উপরে