× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

জীবনযাপন
7 day hill food festival in Coxs Bazar
hear-news
player
print-icon

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

কক্সবাজারে-পাহাড়ি-খাদ্য-উৎসব
কক্সবাজারে ছয় দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’ এর আয়োজন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাভিদ আহসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এ আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতিতে তুলে ধরা। এখন থেকে এই পাহাড়ি খাদ্যের স্বাদ পাবেন আমাদের হোটেলে আসা অতিথিরা।’

কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিন্ন স্বাদের পাহাড়ি খাবার খাওয়াতে ছয় দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’-এর আয়োজন করেছে টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা হোটেল। এতে সাহায্য করছে ইকো ট্রাভেলার্স ও রাঙামাটি রাজবন বিহার।

হোটেলটির ‘কাসবাহ’ রেস্তোরাঁয় সোমবার রাতে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেলের উপাধি রাজা দেবাশীষ রায়।

তিনি জানান, এই আয়োজন চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। উৎসব চলাকালীন ছয় দিন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে কাসবাহ রেস্তোরাঁয় দুই হাজার ৪৯৯ টাকায় এ আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সুস্বাদু খাবারে আগ্রহীরা।

দেবাশীষ রায় বলেন, ‘সবাই দূর পাহাড়ের মানুষ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনপদ তাদের আবাসস্থল। সেখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ আর সংস্কৃতি দেশের সমতলভূমি থেকে ভিন্ন। ভিন্নতর তাদের খাবার-দাবারও। পাহাড়ের এসব ভিন্ন খাবারের স্বাদ এখন পাবেন সমুদ্রপাড়ের হোটেলেও।’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

উৎসবে শতাধিক খাবারের পসরা বসানো হয়। তার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলার জনপ্রিয় খাবারই ছিল অর্ধ-শতাধিক।

এতে আয়োজন হয় বেম্বু চিকেন, পাচন (চিংড়ির সঙ্গে সবজি), বাচ্চুরি (বাঁশের তরকারি), হাঙ্গারা সুগরে (কুমড়া দিয়ে কাঁকড়া), মংশো মরিচ (মুরগি এবং মরিচ ভর্তা), হুরো হুরবো (মুরগি সালাত), মাচ হ্যাবাং (শৈল মাছের ঝোল), বিনি চালের পায়েস, ঝুম লাড্ডু ও কলা পিঠাসহ ৫০ ধরনের খাবারের।

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

বিখ্যাত রাঁধুনি মিলরয় নানায়াক্কারা ও রাঙ্গামাটির বিনীতা চাকমা অনুষ্ঠানটিতে খাবার প্রদর্শন করেন।

এ ছাড়াও ৬টি স্টলে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তৈরি কাপড়, আচারসহ বিভিন্ন প্রসাধনীও তুলে ধরা হয়।

রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্টের এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে দেবাশীষ রায় বলেন, ‘একটি খাবার একটি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। এটা আমাদের সংবিধানেও রয়েছে। কিন্তু এর মাধ্যমে পাহাড়ের প্রথাগত সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ও দেশের বাইরের লোকজনও পাহাড়ের খাবার সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাভিদ আহসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এ আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতিতে তুলে ধরা। এখন থেকে এই পাহাড়ি খাদ্যের স্বাদ পাবেন আমাদের হোটেলে আসা অতিথিরা।’

কক্সবাজারে ‘পাহাড়ি খাদ্য উৎসব’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলার খাবার সম্পর্কে দেশের অনেক মানুষের অজানা। তাদের জানানোর পাশাপাশি বিদেশিদের কাছেও আমাদের এই দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট এন্ড স্পা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আজিম শাল, সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাভিদ আহসান চৌধুরীসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
দীর্ঘ অনশনে কী ঘটে শরীরে?
করোনাকালে শিশুদের খাবার
ওমিক্রন থেকে সতর্ক থাকতে খান এই পাঁচ খাবার
রান্নার তেল বারবার ব্যবহারের ঝুঁকিমুক্ত কৌশল
কক্সবাজারে খাবারের দাম আসলে কত?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Lalmai goes back to find the naughty teenager in the mountains

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে
লালমাই পাহাড়ে ঘন বন আর পাতার আড়ালে উঁকি মারে টক-মিষ্টি স্বাদের এক ফল। কাঁঠালের মতো দেখতে কিন্তু তুলনামূলক ছোট এই ফলটিকেই খুঁজে ফেরে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার দুষ্টু কিশোরের দল।

আষাঢ়ের আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। রোদের উত্তাপে হাঁসফাঁস চারপাশ। এমন গরমেই দুষ্টু ছেলেমেয়ের দল হানা দেয় কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার লালমাই পাহাড়ে। সেখানে গাছে গাছে ঝুলে আছে হলুদ চাপালিশ!

পাকা এই চাপালিশ ভেঙে অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে কোষগুলো নিয়ে শুকনো মরিচ পোড়ায় কিশোর-কিশোরীর দল। হাল্কা মিষ্টি আর টক স্বাদের চাপালিশে ঝাল মিশিয়ে মুখে পুরে নেয় তারা। তারপর ওঠে তৃপ্তির ঠেকুর। দুপুরে উদরপূর্তির জন্য এর চেয়ে ভালো আয়োজন কি হতে পারে?

চাপালিশ দেখতে কাঁঠালের মতোই। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। আর পাকলে হলুদ হয়ে ওঠে। আকারে ছোট এই ফলটির ভেতরে কাঁঠালের মতোই ছোট ছোট কোষ থাকে। কোষের ভেতরে থাকা এর বীচিগুলোও অনেকে আগুনে পুড়িয়ে খায়। কিছুটা চিনা বাদামের স্বাদ পাওয়া যায় এতে।

টক মিষ্টি স্বাদের এই চাপালিশকে স্থানীয়রা চামল বা চাম্বল নামেই চেনে। লালমাই পাহাড়ে শত বছর আগে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছিল চাপালিশের বন। ঘন সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি মারা পাকা চাপালিশ যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আষাঢ় মাসেই চাপালিশ পাকতে শুরু করে। ৯০-এর দশকে লালমাই পাহাড়ে যে পরিমাণ চাপালিশ গাছ ছিল, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই।

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, পুরো লালমাই পাহাড়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক চাপালিশ গাছ আছে। এক সময় এই সংখ্যাটি ছিল হাজারেরও বেশি। কাঠের জন্য কিংবা জমি প্রশস্থ করতে গত কয়েক বছরে স্থানীয়রা বহু চাপালিশ গাছ কেটে ফেলেছে।

ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পাশের সেনানিবাসের ভেতর বর্তমানে বেশকিছু চাপালিশ গাছ রয়েছে।’

কোটবাড়ি এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিম পার্শ্বে হাতিগড়া এলাকায় চাপালিশ বিক্রি করেন চা দোকানীরা। দোকানের সামনে ঝুড়িতে রাখা থাকে ফলটি। কেউ আবার ক্রেতা আকর্ষণের জন্য এটিকে দোকানের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।

চা দোকানী খায়ের মিয়া বলেন, ‘প্রতিটা ২০ টাকা করে বেচি। আষাঢ়-শাওন মাসে কাঁঠালের সাথে চামলও পাকে। শহর থেকে আসা মানুষেরাও শখ করে কিনে নিয়ে যায়। একটা গাছে ২ থেকে ৩ মন চাপালিশ ধরে।’

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

খায়ের জানান, লালমাই পাহাড়ে একসময় এত পরিমাণ চাপালিশ হতো যে, এগুলো খেতে শত শত বানর এসে ভিড় জমাতো। চাপালিশ কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকাটিতে এখন বানরের সংখ্যাও কমে গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা বলেন, ‘চাপালিশ একটি বিপন্ন উদ্ভিদ। আবাসস্থল ধ্বংস এবং মাত্রাতিরিক্ত আহরণের জন্য চাপালিশের বিস্তৃতি নাই বললেই চলে। সরকারের উচিত পরিকল্পিত বনায়নের অংশ হিসেবে চাপালিশ বৃক্ষের আবাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা। এর কাঠ যেমন মূল্যবান, তেমনি এর ফল বন্যপ্রাণী ও মানুষের খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।’

মেহেরুন্নেসা মনে করেন, জলবায়ু সংকটে থাকা এই পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে বৃক্ষনিধন দমনের পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে চাপালিশের চাষ একটি চমকে দেয়ার মতো বিষয় হতে পারে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সারাদেশে যেসব এলাকায় চাপালিশ গাছ জন্মে, তার মধ্যে কুমিল্লার লালমাই পাহাড় অন্যতম। বিলুপ্তপ্রায় এই গাছটির কাঠ ও ফল মূল্যবান। পাখি ও বনের পশুর জন্যও চাপালিশ উন্নত খাবার। এই গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাব বছরের পর বছর টিকে থাকে। এই গাছ রক্ষায় বন বিভাগের জরুরী উদ্যোগ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা কোটবাড়িতে উদ্ভিদ উদ্যান করেছি। সেখানে চাপালিশের বীজ থেকে চারা করে গাছের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যে কেউ চাইলে আমরা বীজ কিংবা চারা দিয়ে সহযোগীতা করবো।’

আরও পড়ুন:
আগের চেয়ে বেশি ফল খাচ্ছে মানুষ
সোহেলের পরীক্ষায় পাশ মালবেরি
দাম বাড়তি খেজুরে, অন্য ফলে উনিশ-বিশ
সাড়া ফেলেছে দুই বন্ধুর মিশ্র ফলের বাগান

মন্তব্য

জীবনযাপন
People are running from Dhaka to see the Padma bridge

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ পদ্মা সেতু দেখতে গুলিস্তানের বিটিআরসি বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
আরাম পরিবহনের যাত্রী মো. সুমন বলেন, ‘যাচ্ছি সেতু দেখতে। এই সেতু নিয়ে কত কিছুই না হলো, তাই সেতু দেখার লোভ সামলাতে পারছি না। সারা দিন মাওয়া ঘাটে থেকে বিকেলে ফিরব।’

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে গতকাল, রোববার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ পার হচ্ছেন, সঙ্গে উচ্ছ্বাস-আনন্দের ছড়াছড়ি। পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে অনেকেই যাচ্ছেন। বিকেল পর্যন্ত ঢাকা থেকে অনেকেই গিয়েছেন সেতু দেখতে। অনেকে সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফেরত আসছেন।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, যোগাযোগ সুবিধার কারণে আগামী কয়েক দিন অনেক মানুষ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু দেখতে যাবেন।

গুলিস্তান থেকে বসুমতি পরিবহনের একটি বাসে পদ্মা সেতু দেখতে যাচ্ছেন জামাল উদ্দিন। কয়েকজন বন্ধু মিলে যাচ্ছেন তারা।

নিউজবাংলাকে জামাল বলেন, ‘গতকাল সেতু দেখতে যাইনি, কারণ অনেক ভিড় হবে এটা জানতাম। তাই আজকে যাচ্ছি। মাওয়া ঘাটের ইলিশ খাওয়াও হবে, সেতু দেখাও হবে।’

আরাম পরিবহনের যাত্রী মো. সুমন বলেন, ‘যাচ্ছি সেতু দেখতে। এই সেতু নিয়ে কত কিছুই না হলো, তাই সেতু দেখার লোভ সামলাতে পারছি না। সারা দিন মাওয়া ঘাটে থেকে বিকেলে ফিরব।’

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ
পদ্মা সেতুতে বাইক রেখে ছবি তুলছেন অনেকেই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ঢাকা থেকে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের টিকিট চেকার মো. মজিবর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাটে সেতু দেখতে অনেকেই যাচ্ছেন। বাসে আজকে যাত্রীদের ভালোই ভিড়। তবে গতকাল থেকে আজকে লোক কম। অনেকে পরিবার নিয়ে গেছেন ব্রিজ দেখতে।’

আরাম পরিবহন গুলিস্তান থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত যাচ্ছে। আরাম পরিবহনের কন্ডাক্টর সুজন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে মাওয়া ঘাটে নেমে যাচ্ছেন, আবার অনেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত যাচ্ছেন। তবে আমরা কাউকেই সেতুতে নামতে দিচ্ছি না। সেতুর ওপরে যারা গেছেন, তারা নিজেদের গাড়িতে গেছেন।’

রাজধানীর গুলিস্তানের বিআরটিসি কাউন্টারেও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে সকাল থেকে। বেশির ভাগই নতুন সেতু পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য এসেছেন।

তাদের একজন রামিজ উদ্দিন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক কাজে দুই কাজ করতে বাড়ি যাচ্ছি। ব্রিজ দেখাও হলো, ব্রিজের ওপর দিয়ে বাড়ি যাওয়াও হলো। তবে ব্রিজে একটু নামতে পারলে আরও ভালো লাগবে, কিন্তু সেটা তো সম্ভব না।’

সপরিবারে ঘোরাঘুরি

সাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পর গণপরিবহন ছাড়া অন্য প্রায় সব গাড়িই পদ্মা সেতুতে থামতে দেখা গেছে। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি তুলেছেন ছবি।

মাইক্রোবাস ভাড়া করে পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন। গাড়িটি দাঁড় করিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পরিবারের ১৪ সদস্য সেতু ঘুরে দেখেন; তোলেন দলবদ্ধ ছবি।

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ
পদ্মা সেতুর প্যাট্রল টিম সেতু থেকে সরিয়ে দিচ্ছে অনেক লোকজনকে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে তোফাজ্জল বলেন, ‘যেদিন সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেদিনই ঠিক করেছি প্রথম দিনই সেতু দেখতে আসব। এ জন্য আমার মা, খালা, ফুপুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সারা দিন ঘুরে আবার কুমিল্লা ফিরে যাব।’

সাধারণদের নিয়ম ভাঙার এ খেলা বন্ধ করতে সাইরেন বাজিয়ে সেতুর উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে টহল গাড়ি। থেমে থাকা গাড়ি বা মানুষকে দাঁড়াতে দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন প্যাট্রলম্যান। কখনও অনুরোধ করে, আবার কখনও গলা চড়িয়ে সরিয়ে দিচ্ছেন নিয়মকে থোড়াই কেয়ার না করা লোকজনকে।

সেতুর প্যাট্রলম্যান সাদ্দাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে শুধু ছুটেই যাচ্ছি। পাবলিক কোনো কথা শোনে না৷ এক জায়গার মানুষের গাড়ি সরাচ্ছি, অন্য জায়গায় আবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

‘কেউ কেউ আবার অনুরোধও শুনছেন না। তখন বাধ্য হয়ে আমি তাদের গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নিচ্ছি আর বলে দিচ্ছি সেতু থেকে নেমে যাওয়ার পর আমি এগুলো ফেরত দেব। কথা না শুনলে কী আর করতে পারি বলেন? এখানে নিয়ম ভাঙলে জরিমানার বিধান রাখা হয়নি।’

নিয়ম ভাঙার প্রসঙ্গ টানলে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমরা তো কত অনিয়মই করি। এতদিনের ইচ্ছা স্বপ্নের সেতুতে এসে দাঁড়াব। নিজের স্বপ্নপূরণে একটু অনিয়ম করা দোষের কিছু না।’

আরও পড়ুন:
প্রথম বাসে চড়তে টিকিট সংগ্রহ ৩ দিন আগে
বাধাহীন যাতায়াতে মাতোয়ারা মানুষ
পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা
পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে রুলের শুনানি সোমবার
পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল, স্বল্প যাত্রী ফেরিঘাটে

মন্তব্য

জীবনযাপন
5 wonderful bridges in the world

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নির্মাণকৌশল আর বৈরী পরিবেশে নির্মিত চীনের দানিয়াং-কুনশান, ফ্রান্সের দ্য মিলিউ ভিয়াডাক্ট, জাপানের আকাশি কাইকিও, দক্ষিণ কোরিয়া ইনচিওন এবং রাশিয়ার রাস্কি আইল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সেতু তালিকায় স্থান পেয়েছে।  

পদ্মা সেতু বিশ্বের দ্বিতীয় খরস্রোতা নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করেছে বটে, তবে স্রোতের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নদীর নিচে শক্ত মাটির অনুপস্থিতি। বিশ্বের অনেক জায়গায় এ রকমই প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে গড়ে উঠেছে কিছু সেতু। কোথাও খরস্রোতা নদী, কোথাও সুউচ্চ পাহাড়, কোথাও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ। প্রকৌশলীদের দক্ষতায় দুর্গম সব স্থানেও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেক সেতু। এ রকমই পাঁচ সেতুর কথা।

দানিয়াং-কুনশান সেতু, চীন

চীনের দানিয়াং-কুনশান সেতুটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটির দৈর্ঘ্য ১৬৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সেতুটি চীনের দুটি বড় শহর সাংহাই এবং নানজিংকে যুক্ত করেছে।

সেতুটি বেইজিং-সাংহাই হাই-স্পিড রেলওয়ের অংশে দানিয়াং এবং কুনশানকেও সংযুক্ত করেছে, যা বেইজিং পশ্চিম স্টেশন এবং সাংহাই হংকিয়াও স্টেশনকে সংযুক্ত করে।

কমপক্ষে ১০ হাজার কর্মী চার বছরে এটির নির্মাণ শেষ করেন। সেতুটির ৯ কিলোমিটার অংশ ইয়াংচেং হ্রদের ওপর বিস্তৃত। বড় এই অংশে সেতুটিকে সাপোর্ট দিচ্ছে ২ হাজার পিলার।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

পুরো অবকাঠামোয় সাড়ে ৪ লাখ টন স্টিল ব্যবহার করায় এটি প্রবল টাইফুন এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ সহ্য করতে পারে অনায়াসেই। পিলারগুলো এতটাই মজবুত যে তিন লাখ টন ওজনের নৌযানের ধাক্কাতেও কিছুই হয় না এই সেতুর।

সেতুতে উচ্চগতিসম্পন্ন ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা আছে। ট্রেনের গতি ২৫০-৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা যায়।

দ্য মিলিউ ভিয়াডাক্ট, ফ্রান্স

এই সেতুটিকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হতো। উচ্চতার দিক থেকে এটি আইফেল টাওয়ারকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এটি একটি মাল্টি-স্প্যান কেব্‌ল-স্টেড ব্রিজ, যা টার্ন নদীর গর্জ উপত্যকার ওপর দিয়ে গেছে। সেতুটি ১ লাখ ২৭ হাজার কিউবিক মিটার কংক্রিট এবং ২৬ হাজার ২০০ টন রিইনফোর্সিং ইস্পাত দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টন প্রি-স্ট্রেসড স্টিল কেব্‌লে পুরো সেতুটি ঢাকা।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

এই সেতুর নকশার অন্যতম আকর্ষণ এটির স্প্যানগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। অতি উচ্চতার কারণে সেতুটি বাঁকানো। তাই পিলারগুলোকে প্রশস্ত এবং শক্তিশালী করে ডিজাইন করতে হয়েছে।

আকাশি কাইকিও সেতু, জাপান

জাপানের আকাশি কাইকিও সেতু বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুগুলোর একটি। এটি ৩ হাজার ৯১১ মিটার দীর্ঘ। এটির সাপোর্ট টাওয়ারগুলো মাটি থেকে প্রায় ২৯৮ মিটার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে।

স্টিল ট্রাস স্ট্রাকচারে ডিজাইন করা পাইলনগুলো তারের স্যাডলকে টেনে সেতুর বেশির ভাগ লোড সাপোর্ট করে। পাইলনের মধ্যে দূরত্ব ১ হাজার ৯৯১ মিটার। এটিতে এমন দুই-স্তরের গার্ডার সিস্টেম আছে, যা সেতুর কাঠামোকে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৫ পর্যন্ত ভূমিকম্প এবং ২৮৬ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো বাতাস থেকে রক্ষা করতে পারে।

এই বিশেষ সেতুতে বেশ কিছু উদ্ভাবনী প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার একটি হলো এটির প্রতিটি টাওয়ারে ২০টি টিউনড মাস ড্যাম্পার (টিএমডি)। টিএমডিগুলো সেতুকে বাতাসের দোলা থেকে রক্ষা করে।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

যখন বাতাস সেতুটিকে একদিকে দেয়, তখন টিএমডিগুলো বিপরীত দিকে দোলে। এতে সেতুর ভারসাম্য বজায় থাকে।

আকাশি কাইকিও সেতুটি ‘পার্ল ব্রিজ’ নামেও পরিচিত। রাতে ২৮টি বিভিন্ন প্যাটার্ন এবং আলো সেতুটিকে আলোকিত করে।

ইনচিওন ব্রিজ, দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন ব্রিজ ১৩ কিলোমিটার লম্বা একটি সেতু। কেব্‌লে ঝোলানো ব্রিজের অংশটিকে কোরিয়ার দীর্ঘতম বিশ্বের দশম বড় ঝোলানো ব্রিজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার কেন্দ্রের মূল স্প্যান ৮০০ মিটার।

সেতুটির মূল উদ্দেশ্য হলো সোংদো এবং ইনচিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার মিডাস সিভিল ব্যবহার করে সেতুটির নকশা এবং কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

এই সেতু ৭২ এমপিএস বায়ুসহ ঝড় এবং রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। সেতুটি ইনচিওন বন্দরের কাছে অবস্থিত। নিচে ৮০ মিটার উচ্চতাসহ ইউ আকৃতির ডিজাইন করা। এতে প্রধান দুটি টাওয়ারের মাঝ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ পার হতে পারে। ইনচিওন ব্রিজের নিচের স্তম্ভ ৬ হাজার টন পর্যন্ত ওজন সহ্য করতে পারে, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাত্র আট মাসে সেতুর নির্মাণ শেষ হয়।

রুস্কি আইল্যান্ড সেতু, রাশিয়া

রুস্কি আইল্যান্ড সেতুটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম কেব্‌ল সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটির মোট দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১০০ মিটার। টাওয়ারগুলোর মধ্যে দূরত্ব এক হাজার ৪ মিটার।

এই সেতুর নকশা নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ এটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত যেখানকার আবহাওয়া চরম বৈরী।

ব্লাদিভোস্টকের আবহাওয়া মাইনাস ৪০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা-নামা করে। তাই এটির নির্মাণ ছিল শক্ত চ্যালেঞ্জের।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশলীরা মিডাস সিভিল সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা তারের অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে অজানা লোড ফ্যাক্টরগুলোর কাঠামোগত বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

কেব্‌ল সিস্টেমের জন্য কমপ্যাক্ট পিএসএস সিস্টেম নামে একটি উন্নত সিস্টেম ব্যবহার হয়েছে এটি নির্মাণে। এই সিস্টেমটি একটি কম্প্যাক্ট ডিজাইনের জন্য ব্যবহার করা হয়। ছোট ব্যাসের সঙ্গে খাপ খাওয়ার পাশাপাশি সেতুর কাঠামোতে বাতাসের গতি কমাতে সাহায্য করে এটি।

চরম তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য উচ্চ-ঘনত্বের পলিথিন (এইচপিডি) দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষামূলক কাভার ব্যবহার হয়েছে। এটি সেতুর কেবল-স্টেয়েড সিস্টেমের তারগুলোকে ঢেকে রাখে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Espresso Signature Outlet launched in Banani

বনানীতে চালু হলো এসপ্রেসো সিগনেচার আউটলেট

বনানীতে চালু হলো এসপ্রেসো সিগনেচার আউটলেট
ঢাকায় অথেনটিক ইতালিয়ান খাবার, বেকারি, পেষ্ট্রি ও শতভাগ কলম্বিয়ান আরাবিকা কফির স্বাদ নিশ্চিত করবে এ রেস্টুরেন্ট।

উদ্বোধন হলো হসপিটালিটি পার্টনার্সের ব্র্যান্ড ইতালিয়ান রেস্ট্রুরেন্ট এসপ্রেসো হাউসের সিগনেচার আউটলেট। শুক্রবার বিকেলে বনানী ১৭ নাম্বার রোডে চালু হয় নতুন এ আউটলেট।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম, পুষ্টিবিদ জেনিফার বিনতে হক, চিত্রশিল্পি আহমেদ নওয়াজ, বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার তুতলি রহমান, চিত্রনায়ক সম্রাট, মডেল আনোয়ারুল শামীম, তাহমিদ ও নিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও এসপ্রেসো হাউজ সংশ্লিষ্ট সবাই।

ঢাকায় অথেনটিক ইতালিয়ান খাবার, বেকারি, পেষ্ট্রি ও শতভাগ কলম্বিয়ান আরাবিকা কফির স্বাদ নিশ্চিত করবে এ রেষ্টুরেন্ট।

পুষ্টিবিদ জেনিফার বিনতে হক বলেন, ‘সবাই এখন বাইরে খেতে পছন্দ করেন। যারা ডায়েটে আছেন তারা এখানে পাবেন স্বাস্থ্যকর খাবার। তাই এ রেস্টুরেন্টকে রাখতে পারেন আপনার হেলদি লাইফস্টাইলের টপ লিস্টে।’

এসপ্রেসো হাউসের প্রতিষ্ঠাতা শওকত হোসেন রনি জানান, বাংলাদেশে ইতালিয়ান খাবারের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ফুডলাভারদের জন্য পরিপূর্ণ স্বাদ নিয়ে এসেছে এসপ্রেসো হাউজ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পিজ্জা তৈরি করা হচ্ছে ইষ্ট ছাড়া। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য রয়েছে বিশেষ মেনু। আমরা খাবারের মান শতভাগ নিশ্চিত করছি। রেস্ট্রুরেন্টের পরিবেশ ও আতিথেয়তা, সব মিলিয়ে কাস্টমার স্যাটিফেকশনের জন্য প্রস্তুত এসপ্রেসো হাউজ।’

প্রতিদিন সকাল ৮টা ৩০ থেকে রাত ১টা ৩০ পর্যন্ত খোলা থাকবে রেস্ট্রুরেন্ট।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Some will go on individual initiative some on package
পদ্মা সেতু

কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে

কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের পদ্মা সেতু কাছ থেকে এক নজর দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ছবি: নিউজবাংলা
সাধারণ মানুষের আগ্রহকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাড়াও মিলছে অনেক। তবে পদ্মা সেতুসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে ভালো মানের রিসোর্ট, পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউস না থাকায় দিনে দিনে ঘুরে আসার প্যাকেজ দিতে হচ্ছে এজেন্সিগুলোর।

বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় সেতু এক নজরে কাছ থেকে দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ব্যক্তি উদ্যোগে গাড়ি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে, আবার দল বেঁধে উত্তাল পদ্মার ওপর নির্মিত সেতু দেখতে যেতে অনেকে ভাড়া করছেন প্রাইভেট কার-মিনিবাস।

সাধারণ মানুষের এই আগ্রহকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাড়াও মিলছে অনেক। তবে সেতুসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে ভালো মানের রিসোর্ট, পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউস না থাকায় দিনে দিনে ঘুরে আসার প্যাকেজ দিতে হচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর।

আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের পর এক দিনে ঘুরে আসার ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ট্রাভেল সোর্স বিডি নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি। ২৯ সিটের টুরিস্ট এসি বাসে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-ফরিদপুর-ঢাকা ঘুরিয়ে আনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তারা।

এক দিনের ডে ট্যুরের জন্য পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৭ ও ২৮ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এই চার দিন নির্ধারণ করেছে এজেন্সিটি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ শাওন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। আমাদের প্যাকেজে বিশাল সাড়া পেয়েছি। প্রথম দুই দিনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সাড়ে তিন শর বেশি বুকিং পেয়েছি। আর ১ ও ২ জুলাইয়ের জন্য এক হাজারের বেশি মানুষ আগ্রহ দেখিয়েছেন।’

শাওন বলেন, ‘নির্ধারিত দিনে আমাদের এসি বাসে করে তাদের নিয়ে যাব। সকাল-বিকেলের নাশতা ও ইলিশ মাছসহ দুপুরের খাবার রয়েছে আমাদের প্যাকেজে। বাসে আমরা এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা, ফরিদপুর ঘুরিয়ে আনব। পুরো প্যাকেজ ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চাইলে পুরো মিনিবাস ভাড়া করতে পারবে।’

শাওন জানান, তাদের অনেক ট্যুরিস্ট বাস রয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি নিজেদের মতো করে প্যাকেজ ঘোষণা করে তাদের বাস ভাড়া করেছে। তাদের প্যাকেজেও কয়েক হাজার মানুষ সাড়া দিয়েছে।’

শহরের রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেতু দিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার জন্য প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করার জন্য যোগাযোগ করছেন অনেকে। মিরপুরের জননী রেন্ট-এ কারের মালিক কাওসার হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সেতু এলাকা ঘুরে আসার জন্য কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে ফাইনাল করবে।’

ব্যক্তিগত বাহনে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার জন্য প্ল্যান করে রেখেছেন অনেকে। ২৭ তারিখের মধ্যে নেত্রকোণা থেকে ঢাকা আসবেন ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে আসব, ঢাকা থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে সেতু দেখতে যাব। পরের সপ্তাহে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাব। এই সেতু আমাদের সামর্থ্যের প্রতীক। কাছ থেকে দেখার আগ পর্যন্ত মন মানছে না।’

প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে যাওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেলে দল বেঁধে যাওয়ার প্ল্যান করেছে কয়েকটি গ্রুপ। তারাও সাধারণের জন্য সেতু খুলে দেয়ার পর ছুটবেন পদ্মার পানে।

তবে সাইকেল বা পায়ে হেঁটে সেতু পাড়ি দেয়ার সুযোগ না থাকায় আক্ষেপ রয়েছে অনেকের।

পদ্মা সেতু ঘিরে ট্যুরিজম জনপ্রিয় করতে বেসরকারি উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। সেতুসংলগ্ন এলাকায় রিভার ক্রুজ শিপ চালু, ঢাকা থেকে পদ্মা হয়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে ডে ট্রিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতু ঘিরে পর্যটন করপোরেশন কিছু কাজ হাতে নিয়েছে। আমরা সেতুর আশপাশে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করছি, যারা ক্রুজশিপ চালু করবে। এতে সেতুকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে মানুষ।

‘এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে একটি ডে ট্রিপের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। যেটা ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে জাতির পিতার সমাধিস্থল ঘুরে আসবে।’

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহী জাপান
‘চুবনিতে’ আপত্তি: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে যাচ্ছে না বিএনপি 
পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে নতুন বাস নামানোর হিড়িক
পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রয়োজন বুঝে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Sex retreat in a relationship

সম্পর্ক ঝালাইয়ে ‘সেক্স রিট্রিট’

সম্পর্ক ঝালাইয়ে ‘সেক্স রিট্রিট’ গৎবাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আরও মধুর হয় সঙ্গম। ছবি: সংগৃহীত
হোটেলগুলো সুস্থ যৌনতা সম্পর্কিত বিশেষ স্পা প্যাকেজের অফার দিচ্ছে। অবকাশকে উপভোগ্য করতে যৌনতা নিয়ে মানুষ এখন খোলাখুলি আলোচনায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ভ্রমণে যৌনতায় খরচ করতে দ্বিধায় থাকা মানুষের সংখ্যাও কমে আসছে।

সংসার জীবনের খিটিমিটি কাটিয়ে সম্পর্কে রোমান্টিকতা ফেরানোর হাতিয়ার কিছু গবেষকের মতে যৌনতা।

পেশাগত জীবনে সাফল্যে আরোহণ করতে যে সময় আর পরিশ্রম করতে হয়, তা মানুষের যৌনজীবনে প্রভাব ফেলে অনেকটাই। গবেষকরা বলছেন, এই বৃত্ত ভাঙার চাবি আবার এই মানুষের হাতেই। গৎবাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আরও মধুর হয় সঙ্গম।

আর গবেষণায় বিষয়টি উঠে আসার পর বিভিন্ন কোম্পানি ছাড়ছে নানা প্যাকেজ, যেখানে গিয়ে সব কাজ ভুলে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সম্পর্কটাকে আবার ঝালাই করে নেয়া যাবে।

অনাদিকাল থেকে ‘অবকাশকালীন যৌনতা’র নিজস্ব কিছু রহস্য আছে। নিউ ইয়র্কের সেক্স থেরাপিস্ট সারি কুপার বলছেন, ‘কামুকতায় নজর দেয়ার মতো সময়, বাস্তব জীবনের প্রতিদিনের চাহিদা থেকে দূরে থাকার মতো বিষয়গুলো যৌন আত্মবিশ্বাসকে মজবুত করে।

পর্যটনবিষয়ক সংস্থা দ্য গ্লোবাল ওয়েলনেস ইনস্টিটিউট চলতি বছরের শুরুতে ভবিষ্যদ্বাণী করে, ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সুস্থতা পর্যটন ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ফলক ছুঁয়ে ফেলবে। এখানে ‘যৌন সুস্থতা’ বাজারের দ্রুততম বর্ধনশীল খাতগুলোর একটি।

গত বছর ১৩তম বার্ষিক গ্লোবাল স্পা অ্যান্ড ওয়েলনেস ট্রেন্ডস ফরকাস্টে স্পাফাইন্ডার ওয়েলনেস ৩৬৫ ঘোষণা দেয়, সুস্থ যৌনতার জন্য তারা স্পা, রিট্রিটের মতো বেশ কিছু উদ্যোগ (থেরাপি) বাজারে আনতে যাচ্ছে।

দিন দিন সেক্স রিট্রিটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। হোটেলগুলো সুস্থ যৌনতা সম্পর্কিত বিশেষ স্পা প্যাকেজের অফার দিচ্ছে। অবকাশকে উপভোগ্য করতে যৌনতা নিয়ে মানুষ এখন খোলাখুলি আলোচনায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ভ্রমণে যৌনতায় খরচ করতে দ্বিধায় থাকা মানুষের সংখ্যাও কমে আসছে।

সেক্স থেরাপিস্ট মারিশা নেলসন বলেন, ‘মানুষ যৌনতাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে সঙ্গীর সঙ্গে বোঝাপড়া কম কিংবা যদি ঘনিষ্ঠতার নতুন উপায় খুঁজতে হয়, তখন বিষয়টি কঠিন হয়ে ওঠে।

‘লোকেরা চায় যৌনতাকে অগ্রাধিকার দিতে, কিন্তু যদি তাদের সঙ্গীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সমস্যা হয় বা ঘনিষ্ঠতার নতুন উপায় অন্বেষণ করতে হয়, তাহলে কাজ করা কিছু কঠিন সমস্যা হতে পারে। সেক্স রিট্রিট মানসিক চাপের সঙ্গে ছুটির বিলাসিতাকে আসলে এক বিন্দুতে মিলিয়ে থাকে।’

সেন্ট লুইজিয়ানায় মারিশার একটি সেক্স রিট্রিট সেন্টার আছে। সেখানে সাত দিনের জন্য গুনতে হয় সাড়ে ৭ হাজার ডলার। দম্পতিদের জন্য বিশেষ কর্মশালা, আলো-আঁধারি হোটেল রুমের পাশাপাশি এই প্যাকেজে থাকছে প্রশিক্ষিত সেক্স থেরাপিস্টদের কাছ পরামর্শ নেয়ার সুযোগ।

সম্পর্ক ঝালাইয়ে ‘সেক্স রিট্রিট’

মারিশা বলেন, ‘আমার কাছে থাকা সব তথ্য বলছে, মানুষ স্টেরিওটাইপিক্যাল ও বিলাসবহুল অবকাশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা অভিজ্ঞতা অর্জনে আগ্রহী। তাদের জন্য আমাদের এই সেবা। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারা এখানে আনন্দদায়ক ছুটি উপভোগ করতে পারছেন।’

অবশ্যই সেক্স রিট্রিট নতুন কিছু নয়। তবে যারা নিজেকে খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করতে ইচ্ছুক না, তাদের কাছে ধারণাটি ‘অবাস্তব’ মনে হতে পারে। তার পরও আজকাল যৌনতা নিয়ে হোটেলের প্যাকেজগুলোর চাহিদা বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যের সেক্স এক্সপার্ট কলিন রিচার্ডস বলেন, ‘আপনি যখন ছুটিতে থাকেন, আপনি তখন কল্পনায় পা রাখতে পারেন। হতে পারে আপনি সুন্দর কোনো দ্বীপে আছেন অথবা সুন্দর পোশাক পরেছেন কিংবা সুস্বাদু খাবার খাচ্ছেন।

‘এটা হতে পারে আপনাকে বাইরে যেতে হতে পারে, আপনি আপনার পোশাক খুলে ফেলতে পারেন। যদিও এটি চরিত্রের বিপরীত মনে হতে পারে। সেক্স রিট্রিট এখন অনেক বেশি পরিশীলিত হয়ে উঠছে। এখন সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট আছে। আপনি অবশ্যই সেখানকার ছোট অন্ধকূপে বসে থাকতে পারেন। আর যদি সুইমিংপুলের পাশে বসে থাকেন, তবে অন্যসব রিসোর্টে থাকার মতোই অনুভূতি হবে। যদি না পানিতে যৌনতায় কেউ আপনাকে বাধা না দেয়।

যৌন সুস্থতাভিত্তিক ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির অর্থ হলো, ‘প্রথাগত’ হোটেলগুলো তাদের সব প্যাকেজ আকর্ষণীয় করছে। পোস্ট র‍্যাঞ্চ ইন-এ আপনি আরও চমৎকার স্পা অফারগুলোর পাশাপাশি ম্যাসাজ উপভোগ করতে পারেন।

দ্য ডব্লিউ ব্রিসবেনে একজন ‘যৌনবিদ’ আপনাকে পরামর্শ দেবে। ক্যারিলন মিয়ামিতে সিঙ্গেল এবং দম্পতিদের জন্য যৌনচক্র নিরাময় প্রোগ্রাম রয়েছে।

নেলসন বলেন, ‘মহামারিতে যেহেতু অনেক দিন সবাই আটকে ছিল, তাই মানুষ এখন বেশি রোমাঞ্চ খোঁজে। আমরা আর অসুখী হতে চাই না।

‘আমরা ভাবতে থাকি, দারুণ একটা জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছি; যা আমার সম্পর্ক এবং কাজে উন্নতিতে সাহায্য করবে। আমরা আনন্দকে অগ্রাধিকার দিতে চাই।’

মন্তব্য

জীবনযাপন
Mango train on the way to Dhaka with 6000 kg mangoes

৮ হাজার কেজি আম নিয়ে ঢাকার পথে ম্যাঙ্গো ট্রেন

৮ হাজার কেজি আম নিয়ে ঢাকার পথে ম্যাঙ্গো ট্রেন
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার এর আগে জানিয়েছিলেন, আম নিয়ে এই ট্রেন প্রতিদিন বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহমপুর থেকে যাত্রা শুরু করবে। রাজশাহী এসে আম নিয়ে আবার রাত ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে।

আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৮ হাজার কেজি আম নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন।

রহনপুর স্টেশন থেকে সোমবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে এ মৌসুমের আম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ট্রেনটি। এ স্টেশন থেকে প্রায় ৩ হাজার কেজি আম তোলা হয়েছে সেটিতে।

ওই স্টেশনে ট্রেনযাত্রার উদ্বোধন করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট শহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক সাহিদুল ইসলাম ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা।

সেখান থেকে ট্রেনটি যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশনে। প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কেজি আম সেখানে তোলা হয়। এরপর রাজশাহী হয়ে আরও আম নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে ম্যাঙ্গো ট্রেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় প্রতিকেজি আম পরিবহনে খরচ হয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সা।

গত মাসের শেষের সপ্তাহ থেকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাকতে শুরু করেছে। ওই অঞ্চলে এখন গোপালভোগ আম শেষের দিকে। বাজার দখল করে আছে হিমসাগর। কয়েক দিনের মধ্যেই ল্যাংড়া উঠবে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার এর আগে জানিয়েছিলেন, আম নিয়ে এই ট্রেন প্রতিদিন বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহমপুর থেকে যাত্রা শুরু করবে। রাজশাহী এসে আম নিয়ে আবার রাত ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে আগামী দেড় মাস ট্রেনে পাঠানোর মতো আম থাকবে। ততদিনই ট্রেন চলবে। এর আগে আম কমে গেলে ট্রেন বন্ধ করা হবে।

২০২০ সালের ৫ জুন ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের উদ্বোধন হয়। সে বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত আম ঢাকায় পৌঁছে দেয় ট্রেনটি। দ্বিতীয়বারের মতো ২০২১ সালের ২৭ মে এটি চালু করা হয়। সেবার ১৬ জুলাই পর্যন্ত আম পরিবহন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ম্যাঙ্গো ট্রেন ঢাকায় আসবে ১৩ জুন
কোথায় গেল সেই ‘ম্যাঙ্গো ট্রেন’
আম নিয়ে যেতে প্রস্তুত ট্রেন
আম আসছে স্পেশাল ট্রেনে

মন্তব্য

p
উপরে