× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Juicy Fest for Women Entrepreneurs Saturday
google_news print-icon

নারী উদ্যোক্তাদের জুসি ফেস্ট শনিবার

নারী-উদ্যোক্তাদের-জুসি-ফেস্ট-শনিবার
‘অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা পরিচিতি, উদ্যোক্তা অ্যাওয়ার্ড প্রদান, পণ্য প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পাশাপাশি আরও থাকছে কৃষিভিত্তিক সেশন ছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক সেশনও।’

কৃষি খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণে দিনব্যাপী ‘জুসি ফেস্ট’ আয়োজন করতে যাচ্ছে নারী উদ্যোক্তা ফোরাম।

‘মধু মাসে রসনা বিলাসে, চল সবে মাতি উৎসবে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী শনিবার ঢাকার মিরপুরের পল্লবী সেতারা কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। যেখানে অংশ নেবেন দেশের বিভিন্ন স্থানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তারা।

নারী উদ্যোক্তা ফোরামের সভাপতি রাফিয়া আক্তার বলেন, ‘দেশের নারী উদ্যোক্তাদের বাজার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও অফলাইনে ট্রেনিংসহ সচেতনতামূলক নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি আমরা। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটির সহযোগিতা এটিকে আরও গতিশীল করেছে।’

জুসি ফেস্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা পরিচিতি, উদ্যোক্তা অ্যাওয়ার্ড প্রদান, পণ্য প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পাশাপাশি আরও থাকছে কৃষিভিত্তিক সেশন ছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক সেশনও।’

এটি সবার জন্য উন্মুক্ত বলেও জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশে ফেসবুকভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে নারী উদ্যোক্তা ফোরাম। অনলাইন ছাড়াও অফলাইন উদ্যোক্তাদের ডিজিটালাইজেশনেও কাজ করছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ব্যারিস্টার ওলোরা
নারী উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম শেখাল আইডিয়া প্রকল্প
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আরও বরাদ্দ চান পরিকল্পনামন্ত্রী
সিএমএসএমই ঋণে নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা
নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত করতে হবে: দীপু মনি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
The festival ended with a chariot procession

উল্টো রথযাত্রায় শেষ হলো উৎসব

উল্টো রথযাত্রায় শেষ হলো উৎসব ছবি: সংগৃহীত
উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকালে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। ইসকন বিকেলে রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের করে।

উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে সোমবার শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় পর্ব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছে জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকালে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। এর মধ্যে ছিল হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।

ইসকনসহ রাজধানীর রাম-সীতা মন্দির ও তাঁতীবাজার জগন্নাথ মন্দিরে এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে সোমবার বিকেলে শোভাযাত্রা বের করে। উল্টোরথ যাত্রার উদ্বোধনী উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

পরে এখান থেকে বর্ণাঢ্য সাজে তিনটি বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা পলাশী মোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, সরকারি কর্মচারী হাসাপাতাল, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, বঙ্গভবন, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, ইত্তেফাক মোড় ও টিকাটুলি হয়ে ইসকন মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

সনাতনী রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।

এর আগে ৭ জুলাই রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। ইসকন রথযাত্রা উপলক্ষে ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আরও পড়ুন:
মানিকগঞ্জে রথযাত্রা উৎসব শুরু
বগুড়ায় রথযাত্রার গাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ৫, আহত ৪০
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব শুরু মঙ্গলবার
যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Rath Yatra festival started in Manikganj

মানিকগঞ্জে রথযাত্রা উৎসব শুরু

মানিকগঞ্জে রথযাত্রা উৎসব শুরু রোববার মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ী কালিমন্দিরের সামনে থেকে রথযাত্রা বের হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আনন্দমুখর পরিবেশে রোববার মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ী কালিমন্দিরের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। এতে শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সাতদিন পর ১৫ জুলাই বিকেলে জগন্নাথ দেবের উল্টো শোভাযাত্রার মাধ্যমে শেষ হবে এই রথ উৎসব।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে মানিকগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে।

সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুসারে রোববার দুপুরে আনন্দমুখর পরিবেশে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ী কালিমন্দিরের সামনে থেকে রথযাত্রা বের হয়। রথযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সাতদিন পর ১৫ জুলাই বিকেলে জগন্নাথ দেবের উল্টো শোভাযাত্রার মাধ্যমে শেষ হবে এই রথ উৎসব।

সাতদিন ব্যাপী রথযাত্রা উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী। এ সময় শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ী মন্দিরের সভাপতি শংকর লাল ঘোষ, সহ-সভাপতি সুভাষ সরকার, সাধারণ সম্পাদক দোলন ঘোস্বামী, সদস্য অসিম বিশ্বাস, সৌমিত্র সরকার মনা ও পুরোহিত কানু ঘোস্বামীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বগুড়ায় রথযাত্রার গাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ৫, আহত ৪০
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব শুরু মঙ্গলবার
যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

মন্তব্য

জীবনযাপন
5 dead 30 injured due to electrocution in Rath Yatra car in Bogra

বগুড়ায় রথযাত্রার গাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ৫, আহত ৪০

বগুড়ায় রথযাত্রার গাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ৫, আহত ৪০ ‘বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি জামতলা এলাকায় রোববার এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেউজগাড়ি ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। একশ’ গজ এগুতেই রাস্তার পাশে ১১ হাজার ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সঙ্গে রথযাত্রার গম্বুজের ধাক্কা লাগে। এ সময় লোহার তৈরি পুরো রথ বিদ্যুতায়িত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বগুড়ায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের রথযাত্রার উৎসবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন শিশুসহ অন্তত ৪০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হওয়ার পর ১০০ গজ দূরে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি আমতলা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল গ্রামের রঞ্জিতা, আদমদিঘী উপজেলার কুন্ডু গ্রামের নরেশ মহন্ত, সদর উপজেলার তিনমাথা রেলগেটের লঙ্কেশ্বরের স্ত্রী আতসী রানী ও শিবগঞ্জ উপজেলার কুলুপাড়া গ্রামের অলক কুমার। অপর এক নারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

আহতরা হলেন- রীপা, তুর্ণ, কৃষ্ণা, প্রীতিলতা, চুমকী, পূজা, ডলি, শিউলি, নীপা, রীমা, রত্না, পুতুল, শান্তি, স্বরস্বতি, মোহনা, ঝর্ণা, চুমকী, গীতা ও ফুলকীসহ ৪০ জন। আহতরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হাসপাতালে যান এবং সবার চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

বগুড়া মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেউজগাড়ি ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। একশ’ গজ এগুতেই রাস্তার পাশে ১১ হাজার ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সঙ্গে রথযাত্রার গম্বুজের ধাক্কা লাগে। এ সময় লোহার তৈরি পুরো রথ বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দুজন ও পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৪০ জন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. স্নিগ্ধ আখতার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে রোববার। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর চান্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে আনন্দমুখর পরিবেশে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই বিকেল ৩টায় উল্টো রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Holy Ashura 17 July

পবিত্র আশুরা ১৭ জুলাই

পবিত্র আশুরা ১৭ জুলাই প্রতীকী ছবি।
বাংলাদেশের আকাশে শনিবার পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে হিসাবে মহররম মাস গণনা শুরু হবে সোমবার। সে অনুযায়ী ১৭ জুলাই বুধবার পালিত হবে পবিত্র আশুরা।

বাংলাদেশের আকাশে শনিবার ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে হিসাবে পবিত্র জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে রোববার। আর সোমবার মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী ১৭ জুলাই বুধবার পালিত হবে পবিত্র আশুরা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে সভায় পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে কোথাও মহররম মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তাই আগামীকাল রোববার জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আর সোমবার মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী ১৭ জুলাই (বুধবার) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
A pineapple adorns the folds of the mountain

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা বান্দরবানে ফারুকপাড়া শৈলপ্রপাতসহ পাহাড়ের ঢালে ভাঁজে ভাঁজে আনারসের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সদরের চিম্বুক, লাইমিপাড়া, ফারুক পাড়া, শৈলপ্রপাতসহ সব পাহাড়ে এখন একই চিত্র। প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল ঢেকে গেছে পাকা আনারসে। আকারে বড়, রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে এখানকার আনারস।

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সুভাষ ছড়াচ্ছে পাকা আনারস। বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি সদরসহ চিম্বুক এলাকার প্রতিটি পাহাড়ের ঢালে এখন শোভা পাচ্ছে পাকা আনারস।

আকারে বড়, রসালো ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে বান্দরবানে উৎপাদিত আনারস। ফলন ভাল ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি জুমিয়ারা।

জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সদরের চিম্বুক, লাইমিপাড়া, ফারুক পাড়া, শৈলপ্রপাতসহ সব পাহাড়ে এখন একই চিত্র। প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল ঢেকে গেছে পাকা আনারসে।

প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পাহাড়ের জমি প্রস্তুত করে লাগানো হয় আনারসের চারা। মে-জুন মাসে বিক্রির উপযোগী হয় প্রতিটি আনারস। আর কাঁধে থুরুং নিয়ে বাগান থেকে বিক্রয় উপযোগী এসব আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা। সেই আনারস বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজার ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা
বান্দরবানের পাহাড়ে আবাদ করা আনারস বাজারজাত করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন জুমিয়ারা। ছবি: নিউজবাংলা

এছাড়াও পাইকারি বিক্রেতারা বাগানে গিয়ে আনারস কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ জাতের আনারস আকারে বড় ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বাজারে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

শুধু তাই নয়, পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া জায়ান্ট কিউ আনারস চাষের উপযোগী হওয়ায় স্বল্প পরিশ্রম ও কম খরচে অধিক লাভবান হচ্ছেন জুমিয়া চাষীরা।

লাইমিপাড়া এলাকার চাষী পাকসিয়াম বম বলেন, ‘এ বছর আনারসের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। আমাদের পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস অন্যান্য জেলার আনারসের চেয়ে অনেক ভালো। খুবই মিষ্টি, রসালো ও আকারে বড় হওয়ায় পাইকাররা বাগানে এসে আনারস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

‘আমাদের বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে হয় না। পর্যটকরাও আসেন। অনেকে এখানে বসেই আনারসের স্বাদ নেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্য নিয়ে যান। তবে পাইকারি বিক্রির চেয়ে খুচরা বিক্রি করতে পারলে আমাদের লাভ বেশি হয়।’

ফারুক পাড়া এলাকার আরেক কৃষক সানতোয়াল বম বলেন, ‘এ বছর ছয় একর জায়গায় আনারসের বাগান করেছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলেও ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় দামও মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

‘অন্যান্য ফসল চাষের তুলনায় আনারস চাষে পরিচর্যা তেমন একটা না করলেও চলে। অনেক সময় একই জমিতে দুবার ফলন পাওয়া যায়।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এম এম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এ অঞ্চলে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ এবং হানি কুইন আনারস আকারে বড়, রসালো ও খেতে খুবই সুস্বাদু। এ কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ অঞ্চলে উৎপাদিত আনারসের চাহিদাও রয়েছে বেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফলন বাড়াতে আনারস চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানে আনারসসহ মৌসুমি ফল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল এসব পণ্য অনেক সময় কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। তাই যাতে আনারস সংরক্ষণের মাধ্যমে আনারস থেকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিগত বছর জেলায় তিন হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ৯৭ হাজার টন আনারস। আর চলতি বছর তিন হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার টন।

মন্তব্য

জীবনযাপন
First time travel to Saudi Things to keep in mind

সৌদিতে প্রথমবার ভ্রমণ: মাথায় রাখবেন যেসব বিষয়

সৌদিতে প্রথমবার ভ্রমণ: মাথায় রাখবেন যেসব বিষয় সৌদি আরবের দর্শনীয় কিছু স্থান। কোলাজ: নিউজবাংলা
সৌদি ভ্রমণে দীর্ঘদিন বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পর্যটকদের জন্য এখন সেটি অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটি দুয়ার খুলে দিয়েছে, যাতে করে পর্যটকরা সেখানকার সব আকর্ষণীয় ও ধর্মীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন। 

হজ ও ওমরাহ পালন করতে প্রতি বছর সৌদি আরবের পবিত্র নগর মক্কা ও মদিনায় যান বিশ্বের ধর্মপ্রাণ বিপুলসংখ্যক মুসলমান। এর বাইরেও সৌদিতে রয়েছে দর্শনীয় অনেক স্থান।

সৌদি ভ্রমণে দীর্ঘদিন বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পর্যটকদের জন্য এখন সেটি অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটি দুয়ার খুলে দিয়েছে, যাতে করে পর্যটকরা সেখানকার সব আকর্ষণীয় ও ধর্মীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন।

অবকাশযাপন, বোমাঞ্চ বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করতে দূরদুরান্তের মানুষ এখন সৌদিতে ভিড় জমাচ্ছেন। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশি পর্যটকরাও, তবে আপনি যদি প্রথমবারের মতো সৌদি আরব বেড়াতে যেতে চান, তাহলে কিছু বিষয় জানা জরুরি।

সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

বাংলাদেশিদের জন্য এখন সৌদিতে ওমরাহ, ট্যুরিজম বা স্টপওভার ভিসার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে সৌদি ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আগের তুলনায় অনেক সহজ। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও শেনজেন ভিজিট ভিসা আছে এমন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন অ্যারাইভাল ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তা ছাড়া সম্প্রতি চালু হওয়া ৯৬ ঘণ্টার স্টপওভার ভিসা ব্যবহার করে গন্তব্যে যাওয়ার আগে সৌদিতে ৯৬ ঘণ্টা সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে দেশটি স্টপওভার হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য চমৎকার গন্তব্য।

বাংলাদেশ থেকে সহজলভ্য ফ্লাইট

সৌদির বিমান চলাচল খাত বিশ্বে অন্যতম প্রধান স্থান অধিকার করে আছে। সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই খাত কাজ করে। নতুন নতুন এয়ারলাইনস সৌদির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি দ্বিতীয় রুট হিসেবে চট্টগ্রামের সাথে যুক্ত হয়েছে সৌদিয়া। এর আওতায় সপ্তাহে চারবার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। জেদ্দা, মদিনা ও রিয়াদ থেকে ঢাকার বিদ্যমান রুটের সাথে এটি যুক্ত হবে।

সৌদিয়ার এ নতুন ফ্লাইটের পাশাপাশি বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা পর্যন্ত সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে ফ্লাইনাসও। ফলে বাংলাদেশ-সৌদির মধ্যে সংযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

পর্যটকদের কাছে সৌদির জনপ্রিয়তা

সৌদি ২০২৩ সালে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে, যা ২০১৯ সালের চেয়ে ১৫৬ শতাংশ বেশি। এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের সাত বছর আগেই ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন পর্যটক নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (ইউএনটিডব্লিউও) ২০২৪ সালের ব্যারোমিটার রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে সৌদি।

নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক সূচক অনুসারে, জি২০ দেশগুলোর মধ্যে সৌদি সবচেয়ে নিরাপদ। এ ছাড়া টানা তৃতীয়বারের মতো মদিনা সারা পৃথিবীর মাঝে একা ভ্রমণকারী নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ দেশের রেটিং দিয়েছে ইনশিওরমাইট্রিপ।

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্থান

১০ হাজারের বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সাতটি স্থান আছে সৌদিতে। স্থানগুলো হলো উরুক বানি মা’রিদ, হিমা সাংস্কৃতিক অঞ্চল, আল-আহসা মরুদ্যান, হাইল অঞ্চলের পাথর শিল্প, ঐতিহাসিক জেদ্দা, মক্কার প্রবেশদ্বার, আদ-দিরিয়াহ্‌র আত-তুরাইফ জেলা ও হেগরা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

ডাইভারদের জন্য স্বপ্নের জায়গা

সৌদি পৃথিবীর অন্যতম সেরা ডাইভিং স্পট। লোহিত সাগর উপকূল আর আরব সাগরের আদিম পানি, সাদা বালির সৈকত, সমৃদ্ধ প্রবাল প্রাচীর ও চমৎকার কিছু জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখার মতো আছে অনেক কিছুই। সুন্দর ও দুর্লভ কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর দেখাও পেতে পারেন ডাইভার।

পর্যটকদের হঠাৎ চোখে পড়ে যেতে পারে মিনিটে ১০৯ কিলোমিটার গতিতে চলা পৃথিবীর দ্রুততম মাছ ব্ল্যাক মার্টিন কিংবা বিপন্ন প্রজাতির নেপোলিয়ন ফিশ, যেটি কুইন অফ দ্য কোরাল রিফ নামেও পরিচিত।

লোহিত সাগর এলাকার আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল এবং তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে। ফলে সাঁতারু ও ডাইভাররা বছরজুড়েই পাবেন উষ্ণ পানি।

আতিথেয়তা

আতিথেয়তাকে সৌদিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। এটি এ দেশের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষত পর্যটকদের সঙ্গে উদার ও সদয় আচরণের জন্য সৌদির মানুষ পরিচিত। তাই ভ্রমণকারীরা স্থানীয়দের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার আশা করতেই পারেন। এ ছাড়া দেশটিতে সুনির্দিষ্ট পোশাক পরার বিধান অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। আর নারীরা চাইলেই গলায় রঙিন স্কার্ফ কিংবা দেশটির ঐতিহ্যবাহী ঢিলেঢালা লম্বা পোশাক আবায়াও পরতে পারেন।

ঐতিহ্যবাহী বাজার

নামকরা ফ্যাশন ও ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ব্র্যান্ড সংবলিত আধুনিক ও বিলাসবহুল অনেক শপিং মল সৌদিতে আছে। সেই সঙ্গে আছে সুন্দরভাবে সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী বাজার বা সুউক। গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় আল বালাদের রাস্তাগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে।

ঐতিহাসিক নাইটস রুফটপ ক্যাফে থেকে উপভোগ করুন জেদ্দার আকাশ আর প্রদর্শিত শত শত প্রাচীন জিনিসপত্র। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘ঐতিহাসিক জেদ্দা’ কিংবা পুরোনো শহর নামে পরিচিত জেদ্দার আল বালাদ জেলা।

সপ্তম শতকের প্রাচীন ভবনের দেখা মিলবে এ জায়গায়। এর অসাধারণ স্থাপত্য দেখে দর্শনার্থীদের মনে হতে পারে যে, তারা অনেকটা সময় পিছিয়ে গিয়েছেন। এ ছাড়া আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য এর রাস্তায় রাস্তায় আছে অনেক পণ্য।

আল বালাদের ভিড়ে ভরা বাজারগুলোতে মিলতে পারে অনেক গুপ্তধনের দেখা। পুরোনো শহরেই আছে সাতটি সুউক। সুউক আল আলাউয়ি নামক জেদ্দার সবচেয়ে পুরোনো সুউকটিও এখানেই অবস্থিত। চামড়ার জিনিস, আরবীয় সুগন্ধি, গহনা, পোশাকসহ আরও অনেক পণ্যসম্ভারের কারণে স্যুভেনির কেনাকাটার জন্য স্থানটি দারুণ।

আরও পড়ুন:
সৌদিতে হজের নতুন আইন কার্যকর, ভাঙলেই সাজা
বাংলাদেশ থেকে ৩৪,৭৪১ হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন
ট্যুরিস্ট ভিসায় তিন দিন ভারতে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা
চট্টগ্রাম থেকে বিমানের হজ ফ্লাইট উদ্বোধন
হজযাত্রীদের থেকে কোরবানির টাকা নিতে পারবে না এজেন্সি

মন্তব্য

জীবনযাপন
Their language indicates friendship

ওদের ভাষা ‘ইশারা’, সম্পর্ক বন্ধুত্বের

ওদের ভাষা ‘ইশারা’, সম্পর্ক বন্ধুত্বের একান্তে আড্ডায় চার বন্ধু- এনামুল, সাজু, রায়হান ও ফারদিন হাসান শাকিল। বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী পাঁচ বন্ধুর মধ্যে ছবিতে ফিরোজ অনুপস্থিত। ছবি: নিউজবাংলা
সবাই স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। রয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো অ্যাকাউন্ট। তাদের যোগাযোগের মাধ্যম এগুলোই। ভিডিও কলে কথা হয় তাদের। তারা বিশেষ দিনগুলোতে সবাই একত্রিত হন। মাঝে মধ্যে তাদের টিমে যোগ হয় একই সমস্যায় আক্রান্ত আরও দু-একজন।

ভালবাসা, যত্ন আর সহমর্মিতা পেলে ওদের আর কিছু লাগে না। অন্যায় করেন না এবং তা পছন্দও করেন না।

স্বাভাবিক মানুষের মতোই চলাফেরা। ভিনদেশিও নন। তবে ভাষাটা স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে পুরোই ভিন্ন। কথা বলেন ইশারায়। কারণ ওরা জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

জন্মগত এই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই পাঁচজনের গল্পটা অন্যদের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম। তারা একে অপরের বন্ধু। একেকজনের বাড়ি একেক জায়গায়। তবে বন্ধনটা বেশ পোক্ত। কোথাও বেড়াতে কিংবা ঘুরতে গেলে একত্রিত হন তারা।

ওদের ভাষা অন্যরা তেমন না বুঝলেও নিজেরা ঠিকই বোঝেন। ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়াতেও জড়ান তারা, হয় মান-অভিমানও। তাদের এই বন্ধুত্ব উপভোগ করেন স্থানীয়রাও।

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এই পাঁচ বন্ধু হলেন এনামুল, সাজু, ফিরোজ, রায়হান ও ফারদিন হাসান শাকিল। ওরা প্রায় সমবয়সী। এদের মধ্যে এনামুলের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের ভোলা পাড়া গ্রামে। একই ইউনিয়নের দলুয়াপাড়ায় বাড়ি সাজুর। ফিরোজের বাড়িও এই ইউনিয়নের প্রধানপাড়ায়। অপরদিকে রায়হানের বাড়ি জেলা শহরের কামাত পাড়ায় এবং শাকিলের কায়েতপাড়ায়।

প্রতিবন্ধী এই পাঁচজনের সঙ্গে মিশে জানা গেছে, সবাই স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। রয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো অ্যাকাউন্ট। তাদের যোগাযোগের মাধ্যম এগুলোই। ভিডিও কলে কথা হয় তাদের। তারা বিশেষ দিনগুলোতে সবাই একত্রিত হন। মাঝে মধ্যে তাদের টিমে যোগ হয় একই সমস্যায় আক্রান্ত আর‌ো দু-একজন।

শুক্রবার (২২ জুন) রাতে প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তাদের টিমের চারজনের। এদিন অনুপস্থিত ছিলেন ফিরোজ। ইশারায় তারা জানালেন, অভিমান করে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন ফিরোজ। ম্যাসেঞ্জারে অ্যাকটিভ থাকলেও তাদের সঙ্গে কথা হয় না ঈদের দিন থেকে।

অভিমানের কারণ হিসেবে জানা গেল, ঈদের দিন ফিরোজকে রেখেই বাকিরা ঘুরতে বের হন। দেখা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে। ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেসব ছবি দেখে মনঃক্ষুণ্ন হন ফিরোজ। তবে এনামুল ও সাজুর দাবি- সেদিন তাকে ভিডিও কলে পাওয়া যায়নি। এই অভিমান বেশিদিন থাকবে না বলেও জানালেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা সবাই সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। এছাড়া সবাই কাজ করে উপার্জন করেন। দিনভর কাজ করে তারা একত্র হন সন্ধ্যার পর। প্রতিদিন সবাই একত্র হতে না পারলেও একই ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামে বাড়ি হওয়ায় এনামুল, সাজু ও ফিরোজকে একসঙ্গে দেখা যায় প্রায় প্রতিদিনই। স্থানীয় তালমা বাজারে তাদের আড্ডা চলে মধ্যরাত অবধি।

তালমা বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তাদের চালচলন সবাইকে আনন্দ দেয়। মানুষের সঙ্গে খুব সহজে মিশতে পারে ওরা। অপরিচিত কেউ তাদেরকে দেখলে মনোযোগ সহকারে তাদের কাণ্ড উপভোগ করেন। তাদের কথা বোঝার চেষ্টা করেন। আমরাও তাদের সঙ্গে মজা করি।’

হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহাতাব প্রধান মারিফ বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওদের দারুণ সুসম্পর্ক। মাঝে মধ্যে আমার বাড়িতে এসেও আনন্দ-উল্লাস করে। ছোটখাটো আবদার করে, তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে আমার কাছে অভিযোগ দেয়। বুঝিয়ে বললে সহজেই বুঝে যায়। ওরা উপহার পেলে ভীষণ খুশি হয়।’

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুমানা খানম বলেন, ‘এনামুল, সাজু, ফিরোজ- এই তিনজন আমার ওয়ার্ডের। এদের দেখে কেউ প্রতিবন্ধী বলবে না। বেশ পরিপাটি হয়ে চলে, দেখতেও সুদর্শন। বর্তমানে তারা প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি ভাতা পায়। এছাড়া তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা
প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
শ্রুতিলেখকের কলমে স্বপ্ন যাদের
সুস্থ হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ১ পরিবারের ১২ জন
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও দেশের উন্নয়নের অংশীদার: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে