× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Another Bengali conquered Everest
google_news print-icon

আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়

আরেক-বাঙালির-এভারেস্ট-জয়
এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক আখলাকুরের চাচাতো ভাই শামীনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আখলাকুরের এভারেস্ট জয়ের তথ্য তার সঙ্গে থাকা গাইড বেস ক্যাম্পে জানিয়েছেন। এরপর বেস ক্যাম্প থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আখলাকুরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভাই বলেছেন- আলহামদুলিল্লাহ, আমি সাকসেস হইছি। আমার জন্য দোয়া করিও।’

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন আরেক বাঙালি। শুক্রবার নেপাল সময় সকাল ৭টার দিকে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন আখলাকুর রহমান (আকি রাহমান)।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক আখলাকুরের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়ায়।

তার চাচাতো ভাই শামীনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আখলাকুরের এভারেস্ট জয়ের তথ্য তার সঙ্গে থাকা গাইড বেস ক্যাম্পে জানিয়েছেন। এরপর বেস ক্যাম্প থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আখলাকুরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে জানিয়ে শামীনুর বলেন, ‘ভাই বলেছেন- আলহামদুলিল্লাহ, আমি সাকসেস হইছি। আমার জন্য দোয়া করিও।’

এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এলব্রুস পর্বত জয় করেন আখলাকুর। তিনিই প্রথম বাঙালি হিসেবে এলব্রুস পর্বত জয়ের রেকর্ড করেন।

ওই বছরের ২২ জুলাই আফ্রিকা মহাদেশের সর্ববৃহৎ তানজানিয়ায় অবস্থিত কিলিমাঞ্জারো পর্বতও প্রথমবারের মতো জয় করেন তিনি। এই পর্বতটির উচ্চতা ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার। এটি জয়ের সাত দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো ২৯ জুলাই ইউরোপের মন্ট ব্ল্যাঙ্ক পর্বত চূড়ায় ওঠেন।

আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৃত হাজি ইছকন্দর আলীর ছেলে আখলাকুর রহমান প্রায় ৩৬ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। তখন তার বয়স ছিল দেড় বছর। লন্ডনের ওল্ডহাম শহরে তিনি বেড়ে ওঠেন। সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।

এর আগেও মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা পড়েছে আরও কয়েকজন বাঙালির। এর মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন মুসা ইব্রাহীম।

আর বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ২০১২ সালে এ এভারেস্টে আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছর সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে পা রাখেন আরেক বাংলাদেশি নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

তারও আগে ২০১১ সালে দ্বিতীয় এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান এম এ মুহিত।

আরও পড়ুন:
এভারেস্টের ২ সহস্রাব্দের বরফ গলেছে ২৫ বছরে
এভারেস্টের চূড়া ‘দেখলেন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা
এভারেস্টের উচ্চতা বাড়ল ৩ ফুটের বেশি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Buy Infinix smartphone on Eid and win a bike to visit Coxs Bazar

ঈদে ইনফিনিক্স স্মার্টফোন কিনে বাইক জেতা, কক্সবাজার ঘোরার সুযোগ

ঈদে ইনফিনিক্স স্মার্টফোন কিনে বাইক জেতা, কক্সবাজার ঘোরার সুযোগ ‘ঈদ বোনানজা’ নামের ক্যাম্পেইনে গ্রাহকদের জন্য থাকছে কক্সবাজার ট্যুর, মোটরসাইকেল, নিশ্চিত ক্যাশব্যাকসহ বেশ কিছু পুরস্কার। ছবি: ইনফিনিক্স
গ্রাহকদের উচ্চমানের উদ্ভাবনী স্মার্টফোনের পাশাপাশি মূল্যবান উপহার ও সুন্দর অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরস্কৃত করতে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইনফিনিক্স।

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স।

‘ঈদ বোনানজা’ নামের এ ক্যাম্পেইনে গ্রাহকদের জন্য থাকছে কক্সবাজার ট্যুর, মোটরসাইকেল, নিশ্চিত ক্যাশব্যাকসহ বেশ কিছু পুরস্কার।

ইনফিনিক্সের নির্দিষ্ট কিছু স্মার্টফোন কিনে বিশেষ মূল্যছাড়সহ এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ক্যাম্পেইনটি চলবে ৫ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত।

ক্যাম্পেইনে ইনফিনিক্সের নোট ৩০ এবং ৪০ সিরিজ, হট ৩০ (৪+১২৮ এবং ৮+১২৮ জিবি সংস্করণ), হট ৪০ সিরিজ এবং স্মার্ট ৮ সিরিজের স্মার্টফোনগুলো কিনলেই কেবল এ পুরস্কার পাওয়া যাবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে অফিশিয়াল স্টোর থেকে ইনফিনিক্সের এ মডেলগুলোর যেকোনো একটি কিনলে বিশেষ পুরস্কার হিসেবে কক্সবাজার ভ্রমণ এবং একটি এক্সক্লুসিভ বাইক জেতার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।

বিশেষ পুরস্কার ছাড়াও ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক জিতে নিতে পারবেন। আর স্মার্টফোন কিনলেই থাকছে ১০০ টাকার নিশ্চিত ক্যাশব্যাক।

এ ছাড়া স্টক থাকা সাপেক্ষে নিশ্চিত উপহার হিসেবে গ্রাহকরা পেতে পারেন নেক ব্যান্ড, টি-শার্ট ও ছাতা।

গ্রাহকদের উচ্চমানের উদ্ভাবনী স্মার্টফোনের পাশাপাশি মূল্যবান উপহার ও সুন্দর অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরস্কৃত করতে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইনফিনিক্স।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ‘ঈদ বোনানজা’ ক্যাম্পেনইটির মূল লক্ষ্য আকর্ষণীয় সব পুরস্কার জেতার মাধ্যমে গ্রাহকদের ঈদ আনন্দ দ্বিগুণ করে তোলা।

ট্রেন্ডি ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স সম্প্রতি নোট ৪০ সিরিজে প্রথমবারের মতো ওয়্যারলেস ম্যাগচার্জ প্রযুক্তি চালু করেছে।

আরও পড়ুন:
পেশাদারদের নিত্যসঙ্গী হতে পারে ইনফিনিক্স ইনবুক এক্স২
সারা দেশে মিলছে ইনফিনিক্সের বাজেট ফোন স্মার্ট ৮ প্রো
ইনফিনিক্স ইনবুক ওয়াইটু প্লাস: নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য সাশ্রয়ী পাওয়ারহাউজ
২ বছরের সফটওয়্যার আপডেটসহ দেশজুড়ে মিলছে ইনফিনিক্স নোট ৪০ সিরিজ
ম্যাগচার্জ প্রযুক্তি নিয়ে দেশের বাজারে ইনফিনিক্সের নোট ৪০ সিরিজ

মন্তব্য

জীবনযাপন
Travel fees for Bangladeshi tourists are low in Bhutan

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ ফি কমাল ভুটান

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ ফি কমাল ভুটান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক এবং রানি জেৎসুন পেমা। ছবি: সংগৃহীত
নতুন ভ্রমণ নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের টেকসই উন্নয়ন ফি হিসেবে ১০০ ডলারের পরিবর্তে প্রতি রাতের জন্য এখন মাত্র ১৫ ডলার দিতে হবে। এটি ভারতীয় পর্যটকদের ওপর আরোপিত ফির সমতুল্য।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য টেকসই উন্নয়ন ফি (এসডিএফ) ১০০ ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ১৫ ডলার নির্ধারণ করেছে ভুটান। বোরবার থেকে এ নীতি কার্যকর হয়েছে।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে ।

নতুন ভ্রমণ নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের টেকসই উন্নয়ন ফি হিসেবে ১০০ ডলারের পরিবর্তে প্রতি রাতের জন্য এখন মাত্র ১৫ ডলার দিতে হবে। এটি ভারতীয় পর্যটকদের ওপর আরোপিত ফির সমতুল্য।

নতুন নীতিমালার আওতায় বছরে ১৫ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক এ ফি দিয়ে ভুটানে ভ্রমণ করতে পারবেন।

২০২২ সালের ২০ জুন পর্যটকদের জন্য টেকসই উন্নয়ন ফি (এসডিএফ) ৬৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০ ডলার আরোপ করে ভুটান সরকার। গত বছরের জুনে এই ফি কমিয়ে ১০০ ডলার করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল ভীষণ পছন্দ হয়েছে ভুটানের রাজার
বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা
ভুটানের রাজা ঢাকায় আসছেন সোমবার
কুড়িগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে আসছে ভুটানের দল
বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্ক: থিম্পুতে স্থাপন হবে বিশেষ বার্ন ইউনিট

মন্তব্য

জীবনযাপন
Supreme Court of Nepal asked to stop the commercialization of Everest

এভারেস্টের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের নির্দেশ

এভারেস্টের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের নির্দেশ আরোহণ মৌসুম শুরুর আগে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে এভারেস্টে ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ন্ত্রণে আনার আদেশ দেয়। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট
মৌসুমজুড়ে হোটেল থেকে এয়ারলাইনস, রেস্তোরাঁ থেকে হেলিকপ্টার কোম্পানি—সবাই ব্যবসার প্রসার দেখেছে। এভাবে এভারেস্টকেন্দ্রিক লাখ লাখ ডলারের শিল্প গড়ে উঠেছে, তবে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, এমন বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের আদেশ দিয়েছে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট।

নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবারের বসন্তকালীন আরোহণ মৌসুমে ২০০ বিদেশিসহ ৬০০ জন এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে পৌঁছান। মৌসুমটি শেষ হয় বুধবার।

এভারেস্টের চূড়ায় যেতে ৬০ দেশের পর্বতারোহীরা দেড় মাসের যাত্রা শুরু করে কাঠমান্ডু থেকে। সেখান থেকে লুকলা হয়ে বেজ ক্যাম্পে যান তারা। তারপর ধীরে ধীরে পর্বতচূড়ায় ওঠেন আরোহীরা।

এ যাত্রা অনেকের জন্য হয়েছে আনন্দের উপলক্ষ। তেমনই কারও কারও জন্য যাত্রাটি হয়েছে বেদনার, যারা হারিয়েছেন তাদের স্বজন।

মৌসুমজুড়ে হোটেল থেকে এয়ারলাইনস, রেস্তোরাঁ থেকে হেলিকপ্টার কোম্পানি—সবাই ব্যবসার প্রসার দেখেছে। এভাবে এভারেস্টকেন্দ্রিক লাখ লাখ ডলারের শিল্প গড়ে উঠেছে, তবে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, এমন বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত।

কাঠমান্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী, আরোহণ মৌসুম শুরুর আগে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে এভারেস্টে ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ন্ত্রণে আনার আদেশ দেয়।

আদেশে আরোহীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করা এবং তাদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে পর্বতারোহণের অনুমতির কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট।

এভারেস্টে ক্রমবর্ধমান মনুষ্যসৃষ্ট জট ও পর্বতের ঢালে মানববর্জ্যের বিষয়টি আমলে নিয়ে নেপালের সর্বোচ্চ আদালত উল্লিখিত আদেশ দিয়েছিল।

নেপালের পর্যটন বিভাগের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন, যাদের মধ্যে তিনজন নিখোঁজ ছিলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হয়েছে।

গত বছর এভারেস্ট আরোহণের সময় মৃত্যু হয়েছিল ১৭ জনের।

আরোহীদের গাইডদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের এভারেস্টযাত্রা একই সঙ্গে ছিল বিজয় ও ট্র্যাজেডির।

হিমালয়কন্যার পর্যটন বিভাগের পরিচালক রাকেশ গুরুং জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আরোহীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নেপালে ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১২৮, আহত ১৪১
৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কাঠমান্ডু উপত্যকা
এভারেস্টে রেকর্ড গড়তে চাওয়া ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু
পেট কেটে বের করা হলো আস্ত মদের বোতল
নেপালের নতুন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওদেল

মন্তব্য

জীবনযাপন
Bangladeshi Fuchkai is the best

‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা’

‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা’ ফুচকার স্বাদ নিতে নিতে একসঙ্গে ডোনাল্ড লু ও পিটার হাস বলেন, ‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা।’ ছবি: সংগৃহীত
ভিডিওতে ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু ও রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলছেন, ‘পূর্ব বা পশ্চিম, ফুচকাই সেরা! ভাবুন তো কী রান্না হয়েছে! আমরা ফুচকা এবং ঝাল-মুড়ির সঙ্গে স্বাদের মিশ্রণ করতে সেলিব্রিটি শেফ রহিমা সুলতানার সঙ্গে দল বেঁধেছি!’

বাংলাদেশি ফুচকার স্বাদের প্রশংসা করে একটি ছোট ভিডিও শেয়ার করেছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

ভিডিওতে ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু এবং রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে দেখা যাচ্ছে।

ফুচকার স্বাদ নিতে নিতে একসঙ্গে তাদের বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশি ফুচকাই সেরা।’

ক্ষুদ্র ভিডিওটির সঙ্গে ট্যাগ করা একটি বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘পূর্ব বা পশ্চিম, ফুচকাই সেরা! ভাবুন তো কী রান্না হয়েছে! আমরা ফুচকা এবং ঝাল-মুড়ির সঙ্গে স্বাদের মিশ্রণ করতে সেলিব্রিটি শেফ রহিমা সুলতানার সঙ্গে দল বেঁধেছি!

‘আপনি এই মহাকাব্যের রন্ধন সম্পর্কীয় দুঃসাহসিক কাজের জন্য প্রস্তুত? স্নিগ্ধ শিখর উপভোগ করুন এবং পুরো ভিডিওটির জন্য আমাদের সঙ্গে থাকুন!’

‘দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার’ করতে এবং একটি উদার, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রদর্শনের জন্য মঙ্গলবার সকালে ডোনাল্ড লু ঢাকায় পৌঁছেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পৌঁছেছেন ডোনাল্ড লু
ঢাকায় হাসের উত্তরসূরি হিসেবে বাইডেনের মনোনয়ন পেলেন মিল

মন্তব্য

জীবনযাপন
You can visit four places in Saudi on a short vacation

স্বল্প ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন সৌদির চার স্থানে

স্বল্প ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন সৌদির চার স্থানে সৌদির দর্শনীয় চার পর্যটন গন্তব্য। কোলাজ: নিউজবাংলা
সৌদিতে স্পা ট্রিটমেন্ট ও নানা ধরনের খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ থেকে শুরু করে আছে চমৎকার দর্শনীয় স্থান, বুটিক ও শপিং মল। পর্যটকদের নতুন আকর্ষণীয় দেশটিতে গিয়ে চমকে যেতে পারেন আপনিও।

স্বল্প ছুটিতে অনেকেই দেশের বাইরে বিশেষ কোনো স্থানে ঘুরতে যেতে চান। সে ক্ষেত্রে গন্তব্য হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকতে পারে সৌদি আরব। কারণ দেশটিতে আছে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর, চমকপ্রদ ও ঐতিহাসিক স্থান।

সৌদিতে স্পা ট্রিটমেন্ট ও নানা ধরনের খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ থেকে শুরু করে আছে চমৎকার দর্শনীয় স্থান, বুটিক ও শপিং মল। পর্যটকদের নতুন আকর্ষণীয় দেশটিতে গিয়ে চমকে যেতে পারেন আপনিও।

১. নতুন পৃথিবীর সন্ধানে: আকাশে উড়ুন আলউলায়

সৌদির প্রথম কোনো স্থান হিসেবে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে আলউলা। বালি ও পাথুরে ভূমির এই বাদামি উপত্যকায় আছে সৌদির অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের অনন্য ব্যবস্থা। বেলুনে চড়ে আকাশে ভেসে এ উন্মুক্ত জাদুঘরের স্বাদ নেয়া যাবে হেগরা থেকে এলিফ্যান্ট রক পর্যন্ত। দেখা মিলবে ২ লাখ বছরেরও আগের ইতিহাসের।

২. দেখুন পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য: আল বালাদের রাস্তায়

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আরেক শহর আল বালাদ। জায়গাটি বেশি পরিচিত ‘ঐতিহাসিক জেদ্দা’ বা ‘পুরোনো শহর’ নামে। জেদ্দার আল বালাদ জেলায় দেখা যাবে সপ্তম শতকের স্থাপত্য।

চমৎকার এসব স্থাপত্য পর্যটকদের নিয়ে যায় কয়েক হাজার বছর পেছনে। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য এই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় কেনাকাটার সুযোগ আছে নানা ধরনের মসলা, গয়না, টেক্সটাইল ও পারফিউমের মতো পণ্য। স্মৃতি হিসেবে নেয়ার জন্য পাওয়া যাবে হরেক রকম স্যুভেনির। রাস্তার পাশের এসব দোকান ছাড়াও বিশেষ কিছু আকর্ষণ আছে এই জায়গায়। যেমন: সুন্দর গয়নার জন্য যাওয়া যাবে আল বালাদ গোল্ড মার্কেটে। আর লেখকদের লেখা ফিকশন কিংবা ঐতিহাসিক বইয়ের জন্য যেতে পারেন আওয়ার ডেইজ অফ ব্লিস বুকশপে।

৩. লোহিত সাগরের তীরে আরামদায়ক স্পা: সিক্স সেন্সেস সাউদার্ন ডুনস

পরিপূর্ণ অবকাশ যাপনের জন্য সোজা চলে যাওয়া যায় সিক্স সেন্সেস সাউদার্ন ডুনস স্পাতে। সৌদির লোহিত সাগর উপকূলের বালিয়াড়িতে অবস্থিত এই স্পাতে আছে অসাধারণ সব অন্দরসজ্জা। সৌদির পরিবেশের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে সেখানে। স্পাজুড়ে বিরাজ করা স্নিগ্ধ সুগন্ধ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেবে। স্পাতে থাকা চমৎকার আয়োজন ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরবের সুস্থতার ঐতিহ্য ফুটে ওঠে। এ ছাড়া আছে হাতে-কলমে শেখার ব্যবস্থা বা কর্মশালা। সেখানে মসলা ও সুগন্ধি থেকে স্কিন কেয়ার পণ্য তৈরি করা শেখানো হয়। শত শত বছর আগে আরবের প্রাচীন নাবাতেন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে এসব মসলা ও সুগন্ধি এই অঞ্চলে প্রবেশ করে।

৪. রিয়াদে বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা: ভিআইএ রিয়াদে কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়া

বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার সঙ্গে কেনাকাটা ও বিনোদনের জন্য চমৎকার ওয়ান-স্টপ গন্তব্য হতে পারে ভিআইএ রিয়াদ। স্থানীয় ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে জায়গাটিতে। বেলুচ্চি, ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানা, টম ফোর্ড, ব্র্যান্ডন ম্যাক্সওয়েলসহ বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ডিজাইনারের ব্র্যান্ড স্টোরও রয়েছে এখানে।

সারা দিনের কেনাকাটা শেষে মাকে নিয়ে যেতে পারবেন সুন্দর কোনো রেস্টুরেন্টে। সুস্বাদু এশিয়ান খাবার বা ফরাসি ক্যাফে— সব ধরনের এবং সবার পছন্দের খাবারই এখানে আছে। স্বাচ্ছন্দ্যময় দুর্দান্ত সব অভিজ্ঞতা নিতে যাওয়া যাবে রেনেঁসা সিনেমায়।

সৌদি সরকার দেশটিতে ভ্রমণ এখন অনেক সহজ করেছে। ভিসা প্রক্রিয়া ক্রমাগত উন্নত করা হচ্ছে। এখন বিশ্বের ৬৩টি দেশ ই-ভিসা প্রোগ্রামের আওতায় আছে, সঙ্গে আরও আছে ৯৬ ঘণ্টার ফ্রি স্টপওভার ভিসা।

আরও পড়ুন:
ঈদের বার্তায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বন্ধে জোর সৌদি বাদশাহর
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ‘চায়ের রাজধানী’
সৌদিতে এক দিনে ৭ শিরশ্ছেদ
ভিসা ছাড়াই ওমরাহ করতে পারবেন ২৯ দেশের নাগরিক
হত্যার শিকার ২ বাংলাদেশির পরিবারকে ৩০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ সৌদির

মন্তব্য

জীবনযাপন
One trumpet weighs two kilograms

এক শিঙাড়ার ওজন দুই কেজি

এক শিঙাড়ার ওজন দুই কেজি জসিমের দোকানে দুই কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। ছবি: নিউজবাংলা
জসিমের দোকানে দুই কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায় ও ২৫০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি।

ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার অনেকেরই পছন্দ। আর গরম গরম মচমচে শিঙারার স্বাদই আলাদা, তবে সেই শিঙারা যদি হয় দুই কেজি ওজনের তাহলে বেড়ে যায় কৌতূহল।

দুই কেজি ওজনের শিঙারা তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন নামে এক দোকানি। তার তৈরি বড় শিঙারার খ্যাতি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিকেল হলেই শুরু হয় সুস্বাদু শিঙারা ভাজার কাজ। একবারে ভাজা হয় দুই কেজি ওজনের শিঙারা। দুই কেজি ছাড়াও এক কেজি, ৫০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম ওজনের শিঙারাও মেলে জসিম উদ্দিনের দোকানে।

গরম গরম মচমচে শিঙারা খেতে অপেক্ষা করেন ভোজন রসিকরা। কালো জিরা, বাদাম, কিসমিসসহ ৩০ পদের মসলা ও মাংস দিয়ে তৈরি হয় এসব বড় শিঙারা। কেউ পছন্দ করেন গরুর মাংস, কেউ খাসির মাংস আবার কেউ পছন্দ করেন মুরগির মাংসের শিঙারা।

পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের কাছে শিঙারা সরবরাহ করেন জসিম। শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষ শিঙারা খেতে আসেন এখানে। কেউ বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বসে শিঙারার স্বাদ নেন। কেউ আবার নিয়ে যান পরিবারের সদস্যদের জন্য।

জসিমের দোকানে দুই কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায় ও ২৫০ গ্রাম ওজনের শিঙারা বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি।

কথা হয় জসিমের সঙ্গে। তিনি জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শিঙারার ব্যবসা করছেন। প্রথমে পরিবারের লোকজনের জন্য একটি দুই কেজি ওজনের বড় শিঙারা তৈরি করেন তিনি। পরে সেই বড় আকারের শিঙারা আকৃষ্ট করে ক্রেতাদের। প্রথমদিকে ছোট্ট পরিসরে শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে তার কাজের পরিধি। আস্তে আস্তে বড় শিঙারার চাহিদা বাড়তে থাকে।

জসিম জানান, প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকার শিঙারা বিক্রি হয় তার দোকানে। শিঙারা বিক্রির টাকা দিয়েই চলে তার সংসার। চলে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ।

শিঙারা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাত বছর আগে মেহেরপুরের বামনপাড়া গ্রামের আমার নানা শামছদ্দিনের কাছ থেকে শিঙারা বানানো শিখেছি। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। গত তিন মাস থেকে বড় শিঙারা তৈরি করে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মাঠে তেমন জমিজমা নেই। শিঙারার ব্যবসা করে আমার সংসার চলে। আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। আমার কাজে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা সহযোগিতা করে। যখন কেউ আমার শিঙারা খেয়ে প্রশংসা করেন তখন আমি খুবই আনন্দিত হই। আমি খুব তৃপ্তি পাই।’

মেহেরপুর থেকে আসা আবির হাসান বলেন, ‘ফেসবুকে জসিম উদ্দিনের বড় শিঙারার ছবি দেখে বন্ধুদের নিয়ে খেতে চলে এসেছি। এতো বড় শিঙারা আমি আগে কখনও দেখিনি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজু শিঙারা খেয়েছি, কিন্তু এই শিঙারার স্বাদই আলাদা। সবাই মিলে বসে মজা করে খেলাম। বাড়ির জন্যও চার কেজি নিয়ে যাচ্ছি।’

চারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিজন শেখ বলেন, ‘চারুলিয়া গ্রামের দোকানি জসিম উদ্দিনের সুস্বাদু দুই কেজি ওজনের শিঙারার খ্যাতি এখন সবার মুখে মুখে। ফেসবুকে তার শিঙারা দেখে অনেকেই স্বাদ নিতে ছুটে আসছেন।’

আরও পড়ুন:
সাগর মোহনায় ধরা পড়ল ২৬ কেজির কোরাল
রেললাইনের পাত খুলে বিক্রি করতেন তারা
মোবাইল কিনতে আপন ভাগ্নেকে অপহরণ, বিক্রি!
আট মাস বয়সী সন্তান ‘বিক্রি করে’ আইফোন কিনল এক দম্পতি
ডলার বিক্রিতে রেকর্ড, রিজার্ভ নামছে ৩২ বিলিয়নে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Hotel resorts in Ruma and Thanchi are empty due to lack of tourists

পর্যটক-শূন্যতায় রুমা ও থানচির হোটেল রিসোর্ট ফাঁকা

পর্যটক-শূন্যতায় রুমা ও থানচির হোটেল রিসোর্ট ফাঁকা বান্দরবানের থানচি উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট তমা তুঙ্গী। ফাইল ছবি
বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পর্যটন খাতে কালো ছায়া পড়েছে। ভয়ে-আতঙ্কে পর্যটকরা বুকিং বাতিল করছেন। ফলে ভরা মৌসুমেও লোকসানের মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসা-সংশ্লিষ্টরা।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রতি বছর ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হয়। বছর ঘুরে এসব উৎসব এলেও এবারের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। বিশেষত জেলার রুমা ও থানচিতে পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। হোটেল-রিসোট পড়ে থাকছে ফাঁকা। দেখা মিলছে না দেশি-বিদেশি পর্যটকের।

সম্প্রতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর পর্যটন খাতে কালো ছায়া পড়েছে। ভয়ে ও আতঙ্কে পর্যটকরা আগে থেকে করে রাখা বুকিং বাতিল করছেন। ফলে ভরা মৌসুমেও লোকসানের মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসা-সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থানকারী জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম বান্দরবান। জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। ইতোমধ্যে এসব স্পটের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে থানচির অবস্থান। আর রোয়াংছড়ি ২০ কিলোমিটার ও রুমার দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার।

বান্দরবান-থানচি সড়কের মাঝামাঝি জীবননগর নামক স্থানে রয়েছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট নীলগিরি। নীল দিগন্ত বিস্তৃত এলাকাটি ম্রো অধ্যুষিত।

থানচি-আলিকদম সংযোগ সড়কে থানচি সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ক্রাউডং (মারমা) ডিম পাহাড় (বাংলা)। নৌপথে সাংগু নদী বেয়ে তিন্দু ইউনিয়নে রয়েছে রাজা পাথর (বাংলা)।

এরপর রয়েছে রেমাক্রী খাল। জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের রোয়াংছড়ি উপজেলার শীলবাঁধা পাড়ায় দেবতাখুমের অবস্থান। এছাড়াও রয়েছে অনেক পর্যটন স্পট।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত প্রাকৃতিক হ্রদ হলো বগা লেক। রুমা উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তিন হাজার সাতশ’ ফুট উচুঁতে এর অবস্থান। লেকটি পাহাড় চূড়ায় ১৫ হাজার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।

বগা লেক নিয়ে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল বিজয় (তাজিং ডং)। সমতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৫শ’ ফুট। রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে এর অবস্থান।

রুমা উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। শীত মৌসুমে এই পর্বত দেখতে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে।

এছাড়াও রয়েছে কেওকারাডং, জলপ্রপাতের পানি ঝিরসহ অনেক পর্যটন স্পট। আবার জেলার থানচিতে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে নাফাখুম ঝরনা, আমিয়াখুং ঝরনা, ভেলাখুং ঝরনা, সাত ভাই খুং ঝরনা, লাংলুক ঝরনা, লৈক্ষ্যং ঝরনা, চিংড়িৎ ঝরনা।

প্রকৃতি এতোসব সম্ভার সাজিয়ে বসে আছে। কিন্তু তা দেখার জন্য পর্যটকের আগমন ঘটছে না। সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ভয় আর আতঙ্কে তারা পার্বত্য এসব পর্যটন স্পট এড়িয়ে চলছেন।

পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবান জেলায় পর্যটকদের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো হচ্ছে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায়। বিরাজমান পরিস্থিতিতে এই তিন উপজেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। ফলে এসব দর্শনীয় স্থানে যাতায়াত করাটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন পর্যটকরা। অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ। যানবাহন চলাচলও সীমিত। সন্ধ্যার আগেই লোকজন ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে।

রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ চলে গেল। এসব উৎসবের ছুটিতে এখানে হোটেল-মোটেলের শতভাগ রুম বুকিং হওয়ার কথা। কিন্তু এবার সেসবের কিছুই হয়নি।

হঠাৎ করে ২ এপ্রিল রাতে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি, অস্ত্র লুট, ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ করে। পরদিন দুপুরে থানচি সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে পড়েছে বান্দরবান।

কেএনএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। আর এই খবর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ভয়-আতঙ্কে মুখ ফিরিয়ে নেয় পর্যটকরা। অথচ এই সময়টাতে থানচি রেমাক্রীতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হওয়ার কথা ছিল।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক না আসার কারণে এই ঈদ মৌসুমে তাদেরকে লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে।

নৌকার এক মাঝি জানান, থানচিতে পর্যটকের ছুটে চলার একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা। এখানে নৌকার সংখ্যা রয়েছে পাঁচ শতাধিক। আর এসব নৌকা চালানোর জন্য সমসংখ্যক মাঝি রয়েছেন। তাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটক। নৌকা চালাতে পারলে সংসারের চাকা ঘুরবে, অন্যথায় উপোস থাকতে হবে। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা দিনশেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন বলেন, ‘সরকারিভাবে পর্যটকদের এই এলাকা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়নি। তবে এমন পরিস্থিতি শোনার পর আর কেউ এখানে ঘুরতে আসবে বলে মনেও হয় না। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিটরা অনেক কষ্ট ও লোকসানে পড়বে বোঝা যাচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কেএনএফ-এর শতাধিক অস্ত্রধারী ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে রুমা উপজেলার ইউএনও অফিস সংলগ্ন মসজিদ ও ব্যাংক ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকের টাকাসহ ডিউটিরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা যাওয়ার সময় রুমা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকেও অপহরণ করে। পরদিন থানচি উপজেলা শহরের সোনালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি হয়।

যৌথ অভিযান চালিয়ে সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার নেজাম উদ্দীনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে র‌্যাব ও সেনাবাহিনী। এরপর কেএনএফের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এসব ঘটনায় আটটি মামলা করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জড়িতদের ধরতে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ৬ এপ্রিল যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। দুদিনের অভিযানে ১৮ নারীসহ ৫৬ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনী। বাকি সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পাহাড়ের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কম্বিং অপারেশন চলবে: সেনাপ্রধান
বান্দরবানের ঘটনার প্রভাব পড়বে না পর্যটনে: টুরিস্ট পুলিশ
ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় বিদেশি মদদ নেই: কাদের
বান্দরবানে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘কেএনএফের হুমকি’: বান্দরবানের দুই উপজেলায় বন্ধ গণপরিবহন

মন্তব্য

p
উপরে