× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

জীবনযাপন
There will be no immigration in Dhaka without dedicated flight Hub
hear-news
player

ডেডিকেটেড ফ্লাইট ছাড়া ঢাকায় ইমিগ্রেশন হবে না: হাব

ডেডিকেটেড-ফ্লাইট-ছাড়া-ঢাকায়-ইমিগ্রেশন-হবে-না-হাব বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের প্যাকেজ মূল্য তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার কাকরাইলে এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে হাব। ছবি: নিউজবাংলা
হাব সভাপতি বলেন, ‘হজযাত্রীদের জন্য একটি বিড়ম্বনার কারণ হয় ইমিগ্রেশন। সৌদি সরকারের শর্ত রয়েছে, শুধু ডেডিকেটেড ফ্লাইটের হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায় করা যাবে। এয়ারলাইন্সগুলো ডেডিকেটেড ফ্লাইট না দিলে আমরা এই সুবিধা পাব না।’

ডেডিকেটেড ফ্লাইট পেলে সব হজযাত্রীর বাংলাদেশ ও সৌদি আরব প্রান্তের ইমিগ্রেশন দেশের বিমানবন্দরে করা সম্ভব হবে। অন্যথায় ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্ভব হবে না। আর শিডিউল ফ্লাইটের যাত্রীদের সৌদি আরব প্রান্তের ইমিগ্রেশন সে দেশেই করতে হবে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

হজযাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবস্থা গ্রহণে এয়ারলাইনস ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হাবের সভাপতি।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের প্যাকেজ মূল্য তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাব।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য এবার শুধু একটি সাধারণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হাব। ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। এই প্যাকেজের বাইরে কোরবানির জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীকে ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার সরকারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে।

সংস্থাটির সভাপতি বলেন, ‘হজযাত্রায় হাজীদের জন্য একটি বিড়ম্বনার কারণ হয় ইমিগ্রেশন। আমরা অনেক চেষ্টায় কয়েক বছর ধরে ঢাকায় ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করেছি। সেক্ষেত্রে সৌদি সরকারের শর্ত ছিল, শুধু হজের ডেডিকেটেড ফ্লাইটের যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায় করা যাবে।

‘এয়ারলাইন্সগুলো হজযাত্রীদের ডেডিকেটেড ফ্লাইট না দিলে আমরা এই সুবিধা পাব না। তাই হাজিদের ভোগান্তি এড়াতে ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতি আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। আর বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ধর্ম ও বিমান মন্ত্রণালয়ের তদারকি প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ থেকে এবার ৬৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে পারবেন না। একইসঙ্গে সবার করোনা টিকা-বুস্টার ডোজ ও করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে।

শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘প্রত্যেক হাজীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা, বুস্টার ডোজসহ করোনা টিকা গ্রহন সনদ ও যাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে আরটিপিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা নেগিটিভ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। করোনা আক্রান্ত কেউ হজে যেতে পারবেন না।’

করোনা সংক্রমণের কারণে কেউ হজে যেতে না পারলে তার জমা দেয়া অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

হাব সভাপতি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমরা এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কথা বলব, টিকিটের টাকাটা যেন অন্তত ফেরত দেয়া যায়। কারণ সৌদি আরবে বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য খরচের টাকা সেদেশের সরকার ফেরত দেবে না।’

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য এবার শুধু একটি সাধারণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হাব। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। এ প্যাকেজের বাইরে কোরবানির জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীকে ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার সরকারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে।

শাহাদতা হোসাইন বলেন, ‘প্যাকেজের বাইরে হজযাত্রীদের কোরবানির টাকা গ্রহণের জন্য সৌদি সরকার মক্কায় বুথ স্থাপন করবে। টাকা জমার বিপরীতে বুথ থেকেই কোরবানির রশিদ সরবরাহ করা হবে।’

হাবের হজ প্যাকেজ

হাবের ঘোষণা করা প্যাকেজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। এর মধ্যে বিমান ভাড়া এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৬ টাকা, সার্ভিস ও পরিবহন ব্যয় ৪২ হাজার ৬৩৫ টাকা।

এ ছাড়া জমজমের পানি ২৯২ টাকা, অন্যান্য সার্ভিস চার্জ ৬২ হাজার ২৩৬ টাকা, লাগেজ পরিবহন ৭২৯ টাকা, ভিসা ফি ৮ হাজার ৩৮৪ টাকা, ইন্স্যুরেন্স ২ হাজার ৬৭৩ টাকা, স্থানীয় সার্ভিস চার্জ এক হাজার টাকা।

আরও রয়েছে-ক্যাম্প তহবিল বাবদ ২০০, প্রশিক্ষণ ৩০০, খাওয়া বাবদ ৩২ হাজার, নিবন্ধন দুই হাজার, মোয়াজ্জেম খরচ চার হাজার ও হজ গাইড খরচ ১০ হাজার ২৩৮ টাকা।

কোরবানি দিতে আগ্রহী প্রত্যেক হজযাত্রীকে এর বাইরে ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা সঙ্গে নিতে হবে।

হাব সভাপতি বলেন, ‘প্যাকেজের টাকা চলতি মে মাসের ১৮ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে। টাকা জমা দিয়ে এজেন্সির ব্যাংক হিসাব অথবা টাকা জমা দেয়ার রসিদ নিতে হবে।’

এছাড়া হাজীদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে৷ প্রথম হজ ফ্লাইট ৩১ মে পরিচালনার কথা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে এর ব্যত্যয় হতে পারে বলেও জানান শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

আরও পড়ুন:
বেসরকারিভাবে হজের ন্যূনতম খরচ ৪ লাখ ৬৪ হাজার
হজযাত্রা: হাবের প্যাকেজ ঘোষণা আজ
হজে যেতে ন্যূনতম খরচ চার লাখ ৬২ হাজার
৩১ মে হজ ফ্লাইট শুরুতে অনিশ্চয়তা
হজযাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
No worries about rice prices wheat too Food Minister

চালের দাম কমবে, চিন্তা নেই গম নিয়েও: খাদ্যমন্ত্রী

চালের দাম কমবে, চিন্তা নেই গম নিয়েও: খাদ্যমন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘চালের যোগান কম নেই। কোনোভাবেই দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই। গম রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশী দেশের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। সরকারিভাবে আমরা তাদের চিঠিও দিয়েছি। গম নিয়ে চিন্তা করছি না।’

খুব শিগগিরই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। সেই সঙ্গে ভারত থেকে গম আমদানি নিয়েও কোন সংকট নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মৌসুমের শুরু ও শেষের মধ্যবর্তী সময়ের কারণে চালের দাম কিছুটা বাড়তি বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ধানের মৌসুমের শেষ ও শুরুর সন্ধিক্ষণ। অটো রাইস মিলওয়ালাদের ধান এখনও চাতালে। তারা উত্পাদনে যায় নি। আর হাসকিং মিলওয়ালারা বৃষ্টির জন্য যে ধান ২ দিনে শুকাতো সেটা ৫-৭ দিন লাগছে। তবে চিন্তার কিছু নেই। খুব শিগগিরই দাম সহনীয় হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

‘চালের যোগান কম নেই। কোনোভাবেই দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।

‘গম রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশী দেশের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। সরকারিভাবে আমরা তাদের চিঠিও দিয়েছি। গম নিয়ে চিন্তা করছি না,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

বেসরকারিভাবে যারা আমদানি করবে তাদেরও সমস্যা হবে না। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ভারত অনুমতি দেবে।

মন্ত্রী আরও জানান, তারপরও আমরা বিকল্প খুঁজছি। বুলগেরিয়ার সঙ্গে কথা চলছে।

‘বিশ্বে খাদ্য সমস্যা আছে। তবে কৃষি প্রধান দেশ বলেই ধান-চালে আমরা সম্পূর্ণ। গম যতটুকু লাগবে আমরা আমদানি করে নিতে পারবো,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
ভারত থেকে গম আমদানিতে বাধা নেই: মন্ত্রী
কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ?
গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয়
ভারতের নিষেধাজ্ঞা: বিশ্ববাজারে বাড়ল গমের দাম
ভারতের গম রপ্তানি বন্ধে দেশে প্রভাব পড়বে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Decision to increase production of mustard and rice bran oil

সরিষা ও ধানের কুঁড়ার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

সরিষা ও ধানের কুঁড়ার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
বর্তমানে দেশের রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন মাত্র কেবল ৫০ হাজার টন। সরকার হিসাব করে দেখেছে এটি সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছেন, এটা করতে পারলে মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ রাইস ব্রান থেকেই মিটে যাবে।

ভোজ্যতেলে আমদানিনির্ভর সয়াবিননির্ভরতা থেকে বের হয়ে সরিষা ও ধানের কুঁড়ার রাইন ব্র্যান অয়েলের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দেশে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন হয় তার কুঁড়া দিয়ে তেল উৎপাদন করলে চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ পূরণ করা সম্ভব বলে প্রাথমিক এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

সরিষার চাষ ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলেও মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এর বাইরে তিনি ক্যানোলার তেলকে জনপ্রিয় করতে চান। এই তিনের মিলেশে টালমাটাল বিশ্ববাজার পরিস্থিতিতেও দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দূর করা সম্ভব বলে ধারণা তার।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে এই তিন উদ্যোগের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটে সয়াবিন, পাম অয়েলের দাম ক্রমেই বাড়ছে। দেশের বাজারেও পড়েছে এর প্রভাব। এক বছরের কিছু বেশি সময়ে দেশে দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। মিলারও জানিয়েছেন, দেশে তেল আছে তা দিয়ে আমাদের প্রয়োজন মিটে যাবে। প্রশ্ন হলো সেটি কতদিন?

আরও পড়ুন: যে কারণে বাজার পেল না রাইস ব্র্যান অয়েল

‘আমরা শুধু সয়াবিন ও আমদানিনির্ভর এই থাকব না সয়াবিনের বিকল্প সরিষা ও রাইস ব্রান কিংবা ক্যানোলা তেল খাব, আমাদেরকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাকে ও তার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে দেশে সরিষা ও রাইস ব্রান উৎপাদন বাড়ানোর। কৃষি মন্ত্রণালয় এ নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করছে।’

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন মাত্র কেবল ৫০ হাজার টন। সরকার হিসাব করে দেখেছে এটি সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমাদের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার ২৪ থেকে ২৫ পার্সেন্ট রাইস ব্রান থেকেই মিটে যাবে।

সরিষা ও ধানের কুঁড়ার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

‘একইভাবে আমরা সরিষা উৎপাদনেও জোর দিতে যাচ্ছি। আমাদের সরিষা উৎপাদন ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব যার থেকে আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হবে। এছাড়া ক্যানোলা অয়েল আমদানির বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

দেশে বর্তমানে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টনের মতো। এর সিংহভাগই আমদানি করে মেটানো হয়। রান্নায় ব্যবহৃত ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাম তেলের নির্ভরতা বেশি।

৮০ দশকেও দেশে সরিষার তেলের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকলেও পরে তা কমে আসে। তবে গত কয়েক বছরে এই তেলের চাহিদাও বাড়ছে।

সয়াবিন তেলের বিকল্প এসব তেলের উপকারিতা সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সাংবাদিক সবাইকে জোরালোভাবে প্রচারের ওপরও জোর দেন মন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান সহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অবৈধ মজুত: আরও ৪৭ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ
৮ ভোজ্যতেল কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা
পুরোনো বোতলের সয়াবিন নতুন দামে বিক্রি, জরিমানা
ভোজ্যতেল: পাঁচ দিনে জব্দ সাড়ে ১০ লাখ লিটার
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযান চলবে

মন্তব্য

জীবনযাপন
That is why CandF agents are on strike in Chittagong

যে কারণে কর্মবিরতিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা

যে কারণে কর্মবিরতিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। ছবি:নিউজবাংলা
চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সালাউদ্দিন রিজভী জানিয়েছেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি সঠিক নয়৷ আমাদের কাছে ৬৭টি লাইসেন্সের তালিকা রয়েছে যেগুলো নানা কারণে নবায়ন করা হচ্ছে না। এর মধ্যে ৪টি লাইসেন্সের মালিক মারা গেছেন। বাকি ৬৩টির যথাযথ কাগজপত্র জমা না দেয়ায় নবায়ন হচ্ছে না। 

দুই শতাধিক ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট (সিঅ্যান্ডএফ) লাইসেন্স নবায়ন না করার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে কর্মবিরতি পালন করছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়েছে কর্মবিরতি।

বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা হাউজের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন।

লাইসেন্স বিধিমালা ২০১৬ ও ২০২০ এর কিছু ধারার অপব্যাখা দিয়ে কাস্টমস এসব লাইসেন্স নবায়ন করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লাইসেন্সিং রুলের অপব্যাখা করে দুই শতাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না। এতে মঙ্গলবার রাত থেকে এসব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাজ করতে পারছে না। বিধিমালায় বলা আছে লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়।

‘তবে একই বিধিমালার আরেকটি অনুচ্ছেদে বলা আছে, পার্টনারশিপ ও কোম্পানি অ্যাক্টের আওতায় লাইসেন্সের গঠনগত পরিবর্তন করা যাবে। সেভাবেই লাইসেন্সগুলোর পরিবর্তন করেছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘এতো বছর পর কাস্টমস হাউজ এটি সঠিক নয় বলে লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রেখেছে। এর প্রতিবাদে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’

এ দিকে এজেন্টদের কর্মবিরতির কারণে কাস্টমসের শুল্কায়নসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ধীর গতির কথা শোনা গেছে।

তবে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সালাউদ্দিন রিজভী জানিয়েছেন, কর্মবিরতি চললেও কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

তিনি বলেন, ‘সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি সঠিক নয়৷ দুই শতাধিক লাইসেন্স নবায়ন না করার দাবি ভিত্তিহীন। আমাদের কাছে ৬৭টি লাইসেন্সের তালিকা রয়েছে যেগুলো নানা কারণে নবায়ন করা হচ্ছে না।

‘এর মধ্যে ৪টি লাইসেন্সের মালিক মারা গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই লাইসেন্সের মালিকানা পেতে তাদের উত্তরসূরীদের পরীক্ষা দিতে হবে। তারা পরীক্ষা না দেয়ায় লাইসেন্স নবায়ন করা যাচ্ছে না। বাকি ৬৩টি লাইসেন্সের যথাযথ কাগজপত্র জমা না দেয়ায় নবায়ন হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স রয়েছে মোট ৩ হাজার ৩২টি।

আরও পড়ুন:
সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তার নামে দুদকের মামলা
যে বিপদ ওত পেতে আছে চবি রেলস্টেশনে
ট্রেন যখন যানজটে আটকা
শাটল সংকট: ট্রেনের বিকল্প দুইটি বাস কীভাবে
মঙ্গলবার থেকে চলবে চবির সব শাটল

মন্তব্য

জীবনযাপন
Actor Ilyas Kanchan has joined Vista

ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন
ভিসতায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নাম লেখালেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এর আগে তিনি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এবার যোগ দিলেন ভিসতা ইলেকট্রনিকসে। উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

‘গ্র্যান্ড রিসিপশন টু ইলিয়াস কাঞ্চন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভিসতা ইলেকট্রনিকসের চেয়ারম্যান সামছুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন আকাশ, পরিচালক প্রকৌশলী মইনুল হক, উদয় হাকিম, এইচভ্যাকের পরিচালক প্রকৌশলী শহীদ উল্লাহ, ভিসতার হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং তানভীর জিহাদ প্রমুখ।

ভিসতায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের নাম লেখালেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এর আগে তিনি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এবার তিনি ভিসতায় এলেন উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই নামের একটি সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত।

চলচ্চিত্র, মানুষের জন্য সামাজিক আন্দোলন, পণ্যের প্রচার-প্রসার সব ক্ষেত্রেই তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি সফল হবেন বলে ভিসতা পরিবারের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে ভিসতা ইলেকট্রনিকসের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের অন্তর্ভুক্তিতে ভিসতা টিম আরো শক্তিশালী হলো। ভিসতা পণ্যের প্রসারে ইলিয়াস কাঞ্চন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।’

ভিসতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন আকাশ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিকস সেক্টরে আমাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন। এই সেক্টরের বিকাশে তিনি শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। দেশি ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্রসারেও তার অবদান রয়েছে। এবার একসঙ্গে কাজ করে ভিসতাকে আমরা দেশের নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই।’

ভিসতার পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ‘সারা বিশ্বে ইলেকট্রনিকস শিল্প একটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং পরিবর্তনশীল খাত। ভিসতা মেধা ও পেশাদারি দিয়ে এই চ্যালেঞ্জের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে চায়। ভিসতার মূলশক্তি এর অভিজ্ঞ ম্যানেজমেন্ট টিম। ইলিয়াস কাঞ্চন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে দেশীয় ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড জনপ্রিয় করার কাজ করেছেন। তিনি যোগ দেয়ায় ভিসতার শক্তি অনেক গুণ বাড়ল।’

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি সব সময় লড়াকু মানুষ। সব ক্ষেত্রে সৎ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। সস্তা গ্রাহকপ্রিয়তা নয়, ভিসতার লক্ষ্য উচ্চমানের পণ্যসেবা দেয়া। সব শ্রেণির গ্রাহকের কাছে ভিসতা তার সেরা ইমেজ তুলে ধরতে চায়। আমার বিশ্বাস পণ্যের মান যদি সেরা হয় গ্রাহক ভিসতাকেই বেছে নেবে।’

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভিসতার যাত্রা শুরু। ভিসতা শব্দের অর্থ দূরদর্শী। এর ভাবার্থ সাফল্যের সিঁড়ি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ভিসতা ইলেকট্রনিকস পণ্যের কারখানা স্থাপন করেছে। সেখানে অ্যান্ড্রয়েড এবং বিভিন্ন ধরনের টিভি উৎপাদন চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং এসি উৎপাদন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর স্মার্ট রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে যাবে ভিসতা।

এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বিভিন্ন ধরনের মনিটর, ভিডিও ওয়াল, ডিজিটাল সাইনেজ, ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ড, রাউটার, ল্যাপটপ, স্মার্ট মিরর, মেডিক্যাল ডিসপ্লে, ভিআরএফ এসি, এক্সেসরিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য বাজারজাত করবে ভিসতা।

আরও পড়ুন:
ছিল প্রেমের গুঞ্জন, রোজিনার উল্টোপথে হাঁটতেন কাঞ্চন
২২ দফা ইশতেহার কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের

মন্তব্য

জীবনযাপন
Islami Bank received Bangladesh Bank Remittance Award

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামী ব্যাংক রেমিট্যান্স আহরণে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য ব্যাংকটি এই পুরস্কার পেয়েছেG
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

রেমিট্যান্স আহরণে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য ব্যাংকটি এই পুরস্কার পেয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মোঃ নাছের ও নির্বাহী পরিচালক আবুল বশর, ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আ ন ম সিদ্দিকুর রহমান ও মিফতাহ উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভা
ইসলামী ব্যাংক রামপুরা শাখা স্থানান্তর
ইসলামী ব্যাংক খুলনা জোনের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
ইসলামী ব্যাংকে ইন্টারনাল অডিট নিয়ে কর্মশালা
রমজানজুড়ে পথচারীদের ইফতার করাবে ইসলামী ব্যাংক

মন্তব্য

জীবনযাপন
Besamal economy in dollar crisis

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি
গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, ডলারের দর আরও বাড়বে। এই গুজবে অনেকেই এখন ডলারের পেছনে ছুটছেন। অনেকে ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে ডলার কিনছেন। অনেকে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে ডলারে বিনিয়োগ করছেন। কেউ কেউ আবার ব্যাংকের ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়েও কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন।

ডলারের উল্লম্ফনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো; বাধ্য হয়ে ব্যাংক রেটের চেয়ে সাত-আট টাকা বেশি দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। ডলার বাজারের এই অস্থিরতা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বাধ্য হয়ে সরকার আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তাদেরও বিদেশ সফর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিলাস পণ্য আমদানিতে ৭৫ শতাংশ এলসি মার্জিন রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাজারের অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিন বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলার ছাড়ছে । তারপরও বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না। বেড়েই চলেছে দাম। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় দরপতন হয়েছে। এক দিনেই ইউএস ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারিয়েছে টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক দিনে টাকার এতটা দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে; গত সপ্তাহের শেষ দিনে যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।

‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানি কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। সে সুবাদে রিজার্ভ বাড়বে।’

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

ব্যাংকেও ডলারের দর ৮ টাকা বেশি

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে মঙ্গলবার ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার বিক্রি হলেও ব্যাংকগুলো তার চেয়ে ৭/৮ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক করেছে ৯৪ টাকায়। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আর বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৬ টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মঙ্গলবার পর্যন্ত সাড়ে ১০ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৭ মে পর্যন্ত) ৫২৫ কোটি (৫.২৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সে কারণে দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছর জুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। তখন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবারও ৩০ কোটি ডলারের মতো বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

আমদানি না কমলে অস্থিরতা কাটবে না

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন ,‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম উঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাৎ। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

রিজার্ভের স্বস্তি আর নেই

আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন (৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে। আকুর (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) রেকর্ড ২২৪ কোটি (২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর গত সপ্তাহে রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ- প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দু'মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৬৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের ১০ মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়কালে (জুলাই-এপ্রিল) ১৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এটা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই ১০ মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে দেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

সবাই ছুটছে ডলারের পেছনে

দেশে অদ্ভুত এক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, ডলারের দর আরও বাড়বে। এই গুজবে প্রভাবিত হয়ে অনেকেই এখন ডলারের পেছনে ছুটছেন। অনেকে ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে ডলার কিনছেন। অনেকে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে সেই অর্থ ডলারে বিনিয়োগ করছেন। কেউ কেউ আবার ব্যাংকের ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়েও কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন। ব্যাপক চাহিদার কারণে মঙ্গলবার খোলাবাজারে ডলারের দর এক লাফে ১০৪ টাকায় উঠেছে। দু'দিনের ব্যবধানে এই বাজারে ডলারের দর বেড়েছে ১০ টাকার বেশি।

রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশা ডলারের কার্ব মার্কেট হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় হাঁটতে থাকলেই ‘ডলার লাগবে নাকি’ বলে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায় অনেককে। এরাই কার্ব মার্কেটের ডলার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অবৈধ হলেও যুগ যুগ ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন তারা ডলার কেনাবেচা।

মঙ্গলবার দিলকুশায় গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অনেকে টাকা দিয়ে ডলার কিনতে চাইলেও মুদ্রা ব্যবসায়ীরা বলছেন ডলার নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডলার ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে কী হয়েছে জানি না! ডলারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সবাই ডলার চাচ্ছে। গত সপ্তাহেও ৯৩-৯৪ টাকায় ডলার বিক্রি করেছি। আজ সেটা ১০৪ টাকায় উঠেছে। তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

‘আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার কিনে ১০/১৫ পয়সা লাভে বিক্রি করি। কিন্তু আজ কোনো ডলার কিনতেও পারিনি, বিক্রিও করিনি। কেউ আর ডলার বিক্রি করতে আসছে না; সবাই কিনতে আসছে। এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি।’

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা আবার ওলটপালট করে দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে ডলারের অস্থিরতায় বেসামাল হয়ে পড়েছে অর্থনীতি।’

উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক রেট ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যাংকগুলো বিক্রি করছে ৯৪/৯৬ টাকায়। কার্ব মার্কেটে ১০৪ টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব। কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী করছে?

‘আমার পরিচিত অনেকেই পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ডলার কিনে এই কয় দিনে ‘লালে লাল’ হয়ে গেছেন। ডলারের দাম নাকি আরও বাড়বে। তাই যাদের যা কিছু আছে তা দিয়ে এখন ডলার কিনতে ছুঁটছে।’

ইটিবিএল সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান রাহমান ডলারের বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন। এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আর দেরি না করে ডলারের ভিন্ন ভিন্ন দাম বন্ধ করতে হবে। বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। তাহলে বাজার এমনিতেই ঠিক হয়ে আসবে।’

শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীরা ডলার কিনছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গুজব আছে, অনেকেই নাকি ডলারের দিকে ছুটছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই ডলার কিনতে গেলে এত ডলার পাবে কোথায়?

‘পুঁজিবাজারে পতন শুরু হলেই অনেক গুজব ছড়ানো হয়, এর-ওর সঙ্গে মেলানো হয়। এখন বাজারের অবস্থা খারাপ, তাই নানা গুজব ঘুরছে চারদিকে। তবে কিছু লোক বেশি লাভের আশায় ডলার কিনছে এটা ঠিক।’

আরও পড়ুন:
ডলারের উচ্চদরে বিদেশি ঋণধারীদের মাথায় হাত
ছুটছেই ডলার, ব্যাংকেই ৯২ টাকা
ডলার বন্ডে সীমাহীন বিনিয়োগের সুযোগ
ডলারের একক আধিপত্য খর্বের মুখে
ডলারের বিপরীতে আরও দুর্বল টাকা

মন্তব্য

জীবনযাপন
What is the difference between Bangabandhu and Padma Bridge toll rates?

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য পদ্মা সেতু ও যমুনার উপর বঙ্গবন্ধু সেতুতে কিলোমিটার প্রতি টোলহারের তুলনামূলক চিত্র। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
যে ১২ ধরনের গাড়ির জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হিসাব করে দেখা যায়, ছয় ধরনের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটার হিসাবে টোল বেশি। বাকি ছয় ধরনের গাড়িতে কম।

যান চলাচলে খুলে দেয়ার অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু পারাপারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ফেরি পারাপারের বিদ্যমান হারের দেড় গুণ হিসাবে।

পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার এক মাসেরও বেশি সময় আগে ঘোষণা করা এই টোল হার নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে।

সেতু পারাপারে মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা আর বড় বাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা দিতে হবে- সেতু বিভাগ এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর এই হার বেশি কি না, সেই আলোচনা এখন সামাজিক মাধ্যমে।

পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়েছে আট বছর আগে জারি করা টোল নীতিমালা অনুযায়ী। এই নীতিমালায় থাকা ফেরির মাশুলের তুলনায় দেড় গুণ টোল ঠিক করা হয়েছে।

এই নীতিমালায় সেতুর দৈর্ঘ্যের বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে। সেই বিবেচনাতে যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে তুলনা করা যায়।

পদ্মা সেতুর সঙ্গে প্রায় দুই যুগে আগে খুলে দেয়া বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল হারের তুলনা করলে দেখা যায়, উত্তরের পথের সেতুটির তুলনায় দক্ষিণের পথের সেতুর টোল হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ।

তবে দুই সেতুর নির্মাণ ব্যয় আর দৈর্ঘ্যেও পার্থক্য আছে। ১৯৯৮ সালে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া বঙ্গবন্ধু সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সঙ্গে মূল সেতুতে উঠতে দুই পাশে ভায়াডাক্ট আছে ১২৮ মিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটারের কম।

তবে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য আরও বেশি। এখানে মূল সেতু ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। আর দুই প্রান্তের ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৪৮ কিলোমিটার। সেই হিসাবে সেতুর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৯৮ কিলোমিটার।

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

দুই সেতুর নির্মাণ ব্যয়েও আছে পার্থক্য। কংক্রিটের বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। ডলারের সঙ্গে টাকার সে সময়ের বিনিময় হারে এই ব্যয় ছিল ৪ হাজার কোটি টাকার আশপাশে। তবে বর্তমান বিনিময় হারের সঙ্গে তুলনা করলে এটি দাঁড়ায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অন্যদিকে, চার লেনের পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে স্টিলের ওপরে, যাতে সড়কসেতুর নিচ দিয়ে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর নির্মাণে সবশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

যে ১২ ধরনের গাড়ির জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হিসাব করে দেখা যায়, ছয় ধরনের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটার হিসাবে টোল বেশি। বাকি ছয় ধরনের গাড়িতে কম।

বাইকে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি টোল বঙ্গবন্ধুর তুলনায় ৬০ পয়সা বেশি। পিকআপ ভ্যানে পদ্মায় কিলোমিটারে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় টোল বেশি ৭ টাকা ৩১ পয়সা।

মাঝারি বাসে বঙ্গবন্ধুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটারে টোল বেশি ১২ টাকা ১৭ পয়সা আর বড় বাসে বেশি ৫৫ টাকা ১৯ পয়সা।

ট্রাকের ক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের গাড়ির মধ্যে পদ্মায় খরচ কম তিন আকারের গাড়িতে। অন্যদিকে বেশি ধরা হয়েছে দুই আকারের গাড়িতে।

বড় আকারের থ্রি এক্সেলের ট্রাকে যমুনার তুলনায় পদ্মা পাড়ি দিতে কিলোমিটারে বেশি খরচ হবে ১৮৫ টাকা ৬৮ পয়সা। ফোর এক্সেল ট্রাকে বেশি ৩৬ টাকা ৫৩ পয়সা।

অন্যদিকে প্রাইভেট কারে বঙ্গবন্ধুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটারে টোল কম ৩০ টাকা ৯৫ পয়সা।

মাইক্রোবাসে বঙ্গবন্ধুর তুলনায় পদ্মায় কিলোমিটারে টোল কম ১২ টাকা ৩৭ পয়সা। ছোট বাসে এই ব্যয় কম হবে কিলোমিটারে ১ টাকা ৬২ পয়সা।

পাঁচ টনের ট্রাকে পদ্মা পাড়ি দিতে কিলোমিটারে খরচ কম পড়বে ৩০ টাকা ৮৫ পয়সা। ৮ টনের ট্রাকে এই খরচ ২৭ টাকা ৭৯ পয়সা আর ১১ টনের ট্রাকে কম ২৩ টাকা ৫৪ পয়সা।

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

টোল নীতিমালায় কী বলা আছে

সড়ক ও সেতুর টোল নির্ধারণে ২০১৪ সালে জাতীয় টোল নীতিমালা করা হয়।

এই নীতিমালা অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য হিসাবে টোল নির্ধারণ হবে। আর যে পথে সেতু হয়েছে, সেখানে যদি আগে থেকে ফেরি থাকে, তাহলে ফেরির মাশুলের দেড় গুণ হবে সেতুর টোল।

পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটাই হয়েছে। তবে খুচরা টাকার ঝামেলা এড়াতে কিছুটা কম-বেশি হয়েছে।

যেমন মোটরসাইকেলে ফেরি পারাপারে ৭০ টাকা লাগে। দেড় গুণ হিসাবে সেতুর টোল হয় ১০৫ টাকা। কিন্তু পাঁচ টাকা খুচরা নিয়ে ঝামেলা এড়াতে তা করা হয়েছে ১০০ টাকা।

বড় বাসের ক্ষেত্রে ফেরির মাশুলের দেড় গুণ হিসাবে হয় ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু ২৫ টাকা খুচরার ঝামেলা এড়াতে তা করা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

দেশের দুই প্রধান সেতুর টোলের হিসাব-নিকাশ

সেতু বিভাগের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে একটি মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা। মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ফেরি পার হতে এই খরচ ৭০ টাকা।

পদ্মার তুলনায় দৈর্ঘ্যে অর্ধেক বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে মোটরসাইকেলের খরচ ৫০ টাকা।

দৈর্ঘ্যের হিসাবে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের টোল দাঁড়াচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা ৭৫ পয়সা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে তার পরিমাণ ১০ টাকা ১৫ পয়সা।

সেই হিসাবে পদ্মা পাড়ি দিতে যমুনার তুলনায় মোটরসাইকেলকে প্রতি কিলোমিটারে বেশি দিতে হবে ৬০ পয়সা।

বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতুর টোল হারে কী পার্থক্য

পদ্মা পাড়ি দিতে প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। ফেরিতে বর্তমানে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।

যমুনা পাড়ি দিতে পদ্মার তুলনায় অর্ধেক দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু সেতুর ক্ষেত্রে এই টোলের পরিমাণ ৫৫০ টাকা।

সে ক্ষেত্রে প্রাইভেট কারে যমুনা পাড়ি দিতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ ১১১ টাকা ৬১ পয়সা। আর পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ ৮০ টাকা ৬৬ পয়সা।

পদ্মা সেতুতে টোল প্রতি কিলোমিটারে কম ৩০ টাকা ৯৫ পয়সা।

পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে ফেরিতে দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। পদ্মা সেতু পার হতে সেই টোলের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ টাকা।

পদ্মার তুলনায় অর্ধেক বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই টোল ৬০০ টাকা।

সেই হিসাবে এই ধরনের গাড়িতে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি টোল খরচ ১২৯ টাকা ৬ পয়সা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে তা ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্থাৎ পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারে খরচ বাড়ছে ৭ টাকা ৩১ পয়সা।

মাওয়া প্রান্তে মাইক্রোবাস পারাপারে ফেরিতে লাগে ৮৬০ টাকা। সেটি বাড়িয়ে পদ্মা সেতুতে করা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

অর্ধেক দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু সেতুতে মাইক্রোবাসের খরচ লাগে ৭৫০ টাকা।

সেই হিসাবে পদ্মা সেতুতে মাইক্রোবাসে প্রতি কিলোমিটারে টোল ১৩৯ টাকা ৮২ পয়সা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে তার পরিমাণ ১৫২ টাকা ১৯ পয়সা।

অর্থাৎ মাইক্রোবাসে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটার হিসাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় খরচ কমে আসবে ১২ টাকা ৩৭ পয়সা।

৩১ আসন বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য পদ্মা সেতুতে দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ফেরিতে এসব গাড়িকে দিতে হচ্ছে ৯৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যমুনা পাড়ি দিতে এই ধরনের বাসকে দিতে হচ্ছে ৭৫০ টাকা।

তার মানে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য কিলোমিটারপ্রতি টোল আসে ১৫২ টাকা ১৯ পয়সা। আর পদ্মা সেতুতে আসে ১৫০.৫৭ টাকা।

এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারে খরচ কম পড়বে ১ টাকা ৬২ পয়সা।

মাওয়া প্রান্ত দিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে মাঝারি বাসকে ফেরিতে দিতে হয় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সেতু দিয়ে পারাপারে তা লাগবে ২ হাজার টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যমুনা পাড়ি দিতে এই ধরনের বাসকে দিতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে মাঝারি বাসের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ২১৫ টাকা ১০ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই খরচ কিলোমিটারে ২০২ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে পদ্মায় বাসমালিকদের খরচ বাড়ছে প্রতি কিলোমিটারে ১২ টাকা ১৮ পয়সা।

মাওয়া প্রান্ত দিয়ে বড় বাসে ফেরিতে পদ্মা পারাপারে লাগছে ১ হাজার ৫৮০ টাকা। সেতুতে লাগবে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই ধরনের বাসে খরচ পড়ে ১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে বড় বাসের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ২৫৮ টাকা ১২ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই খরচ ২০২ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে পদ্মায় বড় বাসমালিকদের খরচ বাড়ছে প্রতি কিলোমিটারে ৫৫ টাকা ১৯ পয়সা।

পদ্মা সেতুতে ৫ টনের ট্রাক এ সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন পর্যন্ত এই ট্রাক পারাপারে ফেরিতে দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই ধরনের ট্রাক পারাপারে টোল দিতে হয় ১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে পাঁচ টনের ট্রাকের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ১৭২ টাকা ৮ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই দূরত্বের খরচ ২০২ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে পদ্মা সেতুতে ছোট ট্রাকে খরচ কমছে প্রতি কিলোমিটারে ৩০ টাকা ৮৫ পয়সা।

পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য পদ্মা সেতুতে দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা, ফেরিতে লাগছে ১ হাজার ৪০০ টাকা।

একই আকারের ট্রাকের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতুতে দিতে হয় ১ হাজার ২৫০ টাকা।

এই হিসাবে পদ্মা সেতুতে পাঁচ থেকে আট টনের ট্রাকে টোলের খরচ পড়বে কিলোমিটারে ২২৫ টাকা ৮৬ পয়সা। বঙ্গবন্ধুতে এই দূরত্বের খরচ ২৫৩ টাকা ৬৫ পয়সা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে এই ধরনের ট্রাতে কিলোমিটারপ্রতি কম নেয়া হচ্ছে ২৭ টাকা ৭৯ পয়সা।

পদ্মা সেতুতে আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। ফেরিতে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে লাগছে ১ হাজার ৮৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই গাড়িগুলোকে টোল হিসেবে দিতে হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মাঝারি ট্রাকে প্রতি কিলোমিটারে পদ্মা সেতুর খরচ ৩০১ টাকা ১৪ পয়সা। বঙ্গবন্ধুর সেতুতে এই খরচ ৩২৪ টাকা ৬৮ পয়সা।

এই হিসাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ কমবে ২৩ টাকা ৫৪ পয়সা।

থ্রিএক্সেলের ট্রাক পারাপারে পদ্মা সেতুতে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। ফেরিতে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে লাগছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে এই ধরনের ট্রাক পারাপারে লাগছে ২ হাজার টাকা।

কিলোমিটারপ্রতি খরচের হিসাবে দেখা যায় পদ্মা সেতুতে ৫৯১ টাকা ৫৩ পয়সা। যা বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৪০৫ টাকা ৮৫ পয়সা।

এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুতে খরচ বাড়ছে প্রতি কিলোমিটারে ১৮৫ টাকা ৬৭ পয়সা।

মালবাহী ট্রেইলারের (ফোর এক্সেল) টোল পদ্মা সেতুতে ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ফেরিতে এই ধরনের গাড়ি পারাপারে লাগে ৪ হাজার টাকা।

আর যমুনা পাড়ি দিতে এই ধরনের ট্রাককে দিতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা।

দেখা যাচ্ছে মালবাহী ট্রেইলারে (ফোর এক্সেল) প্রতি কিলোমিটারে পদ্মা সেতুর খরচ ৬৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। বঙ্গবন্ধুর সেতুতে এই খরচ ৬০৮ টাকা ৭৭ পয়সা।

অর্থাৎ পদ্মা সেতুতে খরচ বাড়ছে কিলোমিটারপ্রতি ৩৬ টাকা ৫৩ পয়সা।

চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে পদ্মা সেতুতে যোগ হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে যোগ হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন:
ঈদ বিনোদনে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতু জুনেই চালু: কাদের
বঙ্গবন্ধু সেতুর মুখে যে কারণে বাইকের দীর্ঘ লাইন
পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে রাতে চলছে ফেরি
রানীশংকৈলে হাটে ‘অতিরিক্ত’ টোল আদায়ের প্রতিবাদ

মন্তব্য

উপরে