× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

জীবনযাপন
The mother gave the child breast milk jewelry
hear-news
player

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

সন্তানকে-বুকের-দুধের-গয়না-দিলেন-মা জমাট বাঁধা বুকের দুধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই গয়না। ছবি: অরেঞ্জ ভিজুয়ালস।
বুকের দুধ দিয়ে কেন গয়না বানানো- এমন প্রশ্নে সুমনা জানান, তার ব্রেস্টফিডিং জার্নিটা খুব কঠিন ছিল। সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা ভেবেই এই আইডিয়া মাথায় আসে।

এক জোড়া কানের দুল ও একটি নেকলেসের নজরকাড়া সেট। ছবি দেখে যে কেউ ভাববেন, সোনার তৈরি অলঙ্কারে বসানো হয়েছে মুক্তা।

তবে ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয়া পোস্টটি পড়ে জানা গেল, সোনার গয়নায় বসানো সাদা রংয়ের যে বস্তুটি আসলে জমাট বুকের দুধ!

এক নারীর বুকের দুধ দিয়ে বানানো হয়েছে গয়নাটি। সেটি বানিয়েছে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি নামের ফেসবুকভিত্তিক একটি গয়নার দোকান।

ভিন্নধর্মী নকশার গয়নার জন্য সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি তারকাদেরও পছন্দের পেজ এটি।

এবার মা দিবসের সন্ধ্যায় ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে তৈরি গয়না হাজির করে সবাইকে চমকে দিয়েছে অনলাইন শপটি।

সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির উদ্যোক্তা জেরিন তাসনিম খান ও গয়নাটির গ্রাহক সুমনা রশীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিউজবাংলা জানতে পারে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে মায়ের এক সংগ্রামের গল্পও।

জেরিন জানান, সুমনা রশীদ প্রায় ছয় মাস আগে তার পেজের নক করে নিজের বুকের দুধ দিয়ে মেয়ের জন্য গয়না বানিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন।

জেরিন বলেন, ‘সুমনা আপু প্রায় ৬ মাস আগে আমাদের পেজে নক করে জানান যে তিনি তার মেয়ের জন্য তার ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে জুয়েলারি বানাতে চান। আমাদের কাজ তার পছন্দ বলে আমাদের দিয়েই বানাতে চান।

‘তিনি (সুমনা) জানান যে এ রকম বাইরের দেশে হয়, তাই তিনি নিশ্চিত এটা সম্ভব এবং আমরাই পারব। আমার পেজ ম্যানেজাররা বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি পরে ওই আপুর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করি। আমি তাকে জানাই যে আমি ইন্টারেস্টেড, তবে সাকসেসফুল হবো কি না সে নিশ্চয়তা দিতে পারব না।

‘সুমনা আপু বললেন তিনি তার মেয়েকে এই জুয়েলারি দিতে চান; সময় লাগলেও আমরা যেন করে দেই। তিনি জুয়েলারিটা সোনার উপর চান। এইতো। এভাবেই কাজ শুরু করি।’

বুকের দুধ দিয়ে গয়না বানাতে গিয়ে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

জেরিন বলেন, ‘এ রকম তো আগে কখনও করিনি, বিভিন্ন দেশে এমন হয় আমিও শুনেছি। তবে ঠিক কীভাবে করে তা জানতাম না, জানার দরকারও ওভাবে হয়নি। সুমনা আপু বলার পর আমি ইউটিউব ঘেঁটে, বিভিন্ন আর্টিক্যাল পড়ে শিখতে চেষ্টা করি।

‘তবে সেসব কন্টেন্ট বিদেশের। সেখানে যেসব ম্যাটেরিয়াল অ্যাভেইল্যাবল, সেসব দিয়ে বানানো। আমাকে তো দেশে পাওয়া যায় এমন জিনিস দিয়ে বানাতে হবে। তাই দেশি এলিমেন্টও খুঁজতে হয়েছে। প্রথম কাজই ছিল বুকের দুধ প্রিজার্ভ কীভাবে করা যায় সেটা বের করা।

‘আমরা পরীক্ষামূলকভাবে গরুর দুধ দিয়ে জুয়েলারির মূল অংশটা বানাতে ট্রাই করলাম। সেটা হওয়ার পর মেটালে সেট করে সুমনা আপুকে দেখাই। আপুর অ্যাপ্রুভালের পরই তার বুকের দুধ আনিয়ে সোনার উপর মূল কাজ শুরু করি।’

জেরিন জানান, শুরুতে গয়নার কোনো নকশা মাথায় ছিল না। কাজটা সম্ভব কি না সেটা নিয়ে নিরীক্ষা চলছিল। সম্ভব নিশ্চিত হওয়ার পরই নকশা নিয়ে ভাবেন তিনি।

জেরিন বলেন, ‘নকশা কী হবে ভাবতে গিয়ে মাথায় আসে, বুকের দুধের ফোটার মতো নকশা করা যেতে পারে। সুমনা আপুকে দেখালাম স্যাম্পল। তিনি খুবই পছন্দ করলেন। সেভাবেই বানিয়ে দিয়েছি। অনেক সময় লেগেছে, প্রায় ৬ মাস... তারপরও আপু খুব ধৈর্য ধরে সঙ্গে ছিলেন। তিনি খুবই খুশি। এমন ভিন্ন ধরনের কাজ করতে পেরে আমারও বেশ ভালো লেগেছে।’

এই গয়নার ছবি ও পোস্ট ফেসবুক পেজে দেয়ার পরপরই বেশ সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান জেরিন। অনেকেই তার পেজে নক করে ব্রেস্টমিল্ক জুয়েলারি বানিয়ে দিতে বলেছেন। তবে পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও এসেছে।

জেরিন বলেন, ‘ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে ওই সেটটা বানানোর একটা ভিডিও দিয়েছিলাম পেজে। এরপর বেশ কিছু বাজে ফিডব্যাক পাই। পরে ভিডিওটা ডিলিট করে দেই।

‘আসলে ব্রেস্টফিডিং নিয়ে এখনও নানা ট্যাবু আছে এ দেশের মানুষের মধ্যে। প্রকাশ্যে এসব নিয়ে আলোচনা তো হয় না। সেখানে এমন একটা কাজ করেছি, সেটা অনেকেই হয়ত হজম করতে পারেননি।’

ওই গয়নার ক্রেতা সুমনা রশীদের সঙ্গেও কথা বলেছে নিউজবাংলা।

তিনি জানান, তার মেয়ে মেহভীশ আনিরা মোহসীনের জন্য এই গয়না বানিয়েছেন। মেয়ের বয়স প্রায় দুই বছর।

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

বুকের দুধ দিয়ে কেন গয়না বানানো- এমন প্রশ্নে সুমনা জানান, তার ব্রেস্টফিডিং জার্নিটা খুব কঠিন ছিল। সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা ভেবেই এই আইডিয়া মাথায় আসে।

কী ধরনের সংগ্রাম?

সুমনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়ে জন্মের পর থেকে ল্যাচ (স্তন্যগ্রহণ) করছিল না। করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির সময় তার জন্ম। তাই নার্সরাও কাছে ঘেঁষত না। ডাক্তাররাও কিছু বলতে পারে না। আমিও বুঝতে পারছিলাম না কেন মেয়ে দুধ খাচ্ছে না। কারও কোনো গাইডেন্সও পাইনি। উল্টো সবাই আমাকে বলতে থাকে আমারই ব্রেস্টমিল্ক নেই।

‘আমি ফেসবুকে তখন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মম গ্রুপে অ্যাড হই। সেখান থেকে জানতে পারি যে ল্যাচ করে না এমন নিউবর্ন (নবজাতক) আরও আছে। সেসব গ্রুপ আর ইন্টারনেট ঘেঁটে আমি বুঝতে পারি যে আমার মেয়ের লিপ-টাই সমস্যা আছে। এ সমস্যা থাকলে বাচ্চা ঠিকমতো ল্যাচ করতে পারে না। পরে বিষয়টা নিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হই আমার মেয়ের এটাই সমস্যা।

‘এরপর নেট ঘেঁটেই বিভিন্ন পদ্ধতি শিখে আমি বাচ্চাকে ট্রেনিং দিতে শুরু করি। জন্মের প্রায় আড়াই মাস পর আমার মেয়েকে ব্রেস্টফিড করাতে পারি। ওই স্ট্রাগলের সময়টা খুব কঠিন ছিল। একে তো মেয়ে দুধ খেতে পারছিল না, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা। তার উপর আশপাশের লোকজনের নানা কটূ-তীর্যক কথা ছিলই।’

সুমনা জানান, এই ওয়েবসাইট ঘাঁটতে গিয়েই তিনি জানতে পারেন বাইরের দেশে বুকের দুধ নিয়ে গয়না বা কিপসেক বানানো যায়। অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে এমন বানায়। তখন তিনিও এমন কিছু করার কথা ভাবলেন। সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির গয়না তার এমনিতেই পছন্দ ছিল। তাই তাদের সঙ্গেই আইডিয়া শেয়ার করেন।

সুমনা বলেন, ‘আমি আমার আইডিয়া বলি, তারাও আগ্রহ দেখায়। আমার তাড়া ছিল না, খুব যে প্রয়োজন তাও না, ভেবেছিলাম বলে দেখি। যদি হয়ে যায় আর কি। তারা জানাল করে দেবে। আমি সে সময়ই ব্রেস্টমিল্ক কালেক্ট করে ফ্রিজে রেখে দেই। এই মাস দুয়েক আগে গয়নাটা হাতে পাই। খুবই ভালো লেগেছে পেয়ে।’

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

তবে গয়নাটি নিয়ে পরিচিতজনদের কাছ থেকে অপ্রীতিকর মন্তব্য শুনতে হয়েছে বলে জানান সুমনা।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব আগ্রহ নিয়ে সবাইকে সেটটা দেখিয়েছি। কেউ কেউ বলেছে এটার কী দরকার ছিল, এটা আর এমন কী, এই গয়নার পেছনে টাকা নষ্ট করার কী আছে, এমন কোনো প্রেশিয়াস স্টোন তো না যে সোনার উপর করতে হলো। এরা আসলে এটার গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। এটার পেছনে যে আমার ইমোশন সেটা বোঝেনি।’

সুমনা বলেন, ‘আমার মেয়ে এই গয়না দেখে আমার ব্রেস্টফিডিংয়ের স্ট্রাগলটা মনে রাখুক, এটা আমি চাই না। তাকে আমার স্ট্রাগল জানতে হবে না। আমি চাই, এটা দেখে সে জানবে যে আমার মাধ্যমে সে ব্রেস্টমিল্কের রূপে আসলে একটা ব্লেসিং পেয়েছে। আর ব্রেস্টফিডিংয়ের জার্নিটা আমার কাছেই না হয় মেমোরেবল থাকুক।’

আরও পড়ুন:
মায়ের প্রতি অপার ভালোবাসা কৃষকের
৩৮ মা পেলেন রত্নগর্ভা পুরস্কার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Who wants new sneakers

‘পুরো বিধ্বস্ত’

‘পুরো বিধ্বস্ত’ ‘পুরো বিধ্বস্ত’ স্নিকার। ছবি: সংগৃহীত
মোটামুটি ছেঁড়া স্নিকার্সগুলোর দাম ৬২৫ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি দাঁড়াচ্ছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।

স্লিকার্সগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করে র‌্যাকে ফেলা রাখা নয়। এগুলো আবর্জনা হিসেবে ভাগাড়ে ফেলা দেয়াও নয়, কিন্তু এগুলো দেখলে তা-ই মনে হয়।

ভোক্তাদের জন্য অদ্ভুত এ স্লিকার্স বাজারে এনেছে ফরাসি ফ্যাশন হাউস ব্যালেন্সিয়াগা। শ্রীহীন, ছেঁড়া-ফাটা জুতাগুলোর নাম দেয়া হয়েছে ‘পুরো বিধ্বস্ত’।

‘পুরো বিধ্বস্ত’

এবার দামের বিষয়ে আসা যাক। মোটামুটি ছেঁড়া স্নিকার্সগুলোর দাম ৬২৫ ডলার।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি দাঁড়াচ্ছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এই স্নিকার্সগুলোর অবস্থা একটু ভালো। ছেঁড়া-ফাটা কম।

এর চেয়ে খারাপ অবস্থা যেগুলোর, সেই ‘পুরো বিধ্বস্ত’ স্নিকার্সগুলোর দাম আরও বেশি। ১ হাজার ৮৫০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা।

‘পুরো বিধ্বস্ত’

স্নিকার্সগুলোর ১০০ জোড়া বানানো হয়েছে। অনেকে এগুলোর সমালোচনা করছেন; সিটকাচ্ছেন নাক।

তারা বলছেন, এত টাকা দিয়ে ছেঁড়া-ফাটা স্নিকার্স কেনার দরকার কী। বিপরীতে অনেকে স্নিকার্সগুলো কিনছেন।

পাদুকাগুলোর এক জোড়া পেতে চাইলে ক্লিক করতে হবে এই লিংকে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Eid fashion trends

ঈদ ফ্যাশনে চলতিধারা

ঈদ ফ্যাশনে চলতিধারা
ঈদুল ফিতর মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। ডিজাইনাররা বলে থাকেন, সারা বছর আমরা যত কাজ করি তার সিংহভাগ এই ঈদকে কেন্দ্র করেই। কাজেই নতুন ট্রেন্ড ঈদের পোশাকেই অনেক বেশি লক্ষণীয়। ঈদের পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো রং নেই। যেহেতু ধরাবাঁধা কিছু নেই, তাই ডিজাইনাররা ইচ্ছেমতো রং নিয়ে কাজ করতে পারেন।

ফ্যাশন কখনও এক জায়গায় স্থির বা নির্দিষ্ট কোনো বিষয় না। এটা সময়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। তাই এখন যেটা হালফ্যাশন, কিছু দিন পরেই হয়তো সেটা হয়ে যাবে ওল্ড ফ্যাশন। আসলে ফ্যাশন ধারায় সব সময়ই নিরীক্ষা চলতে থাকে। তবে আমাদের দেশে সাধারণত বড় কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় ফ্যাশন ট্রেন্ড বা ফ্যাশনের চলতি ধারা। আমাদের দেশে বড় উৎসব মানে ঈদ, পূজা, বর্ষবরণ। এখন অবশ্য আরও কিছু দিবসভিত্তিক উৎসবকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন ধারার নতুনত্ব দেখা যায়। যেমন বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস, নারী দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস। এসব উৎসব উপলক্ষে ডিজাইনাররা গ্রাহকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের। পোশাকে ফ্যাশন ধারায় মূলত নিজস্ব সংস্কৃতিকেই তুলে ধরা হয়। আবার শুধু ট্র্যাডিশনাল সোর্স দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ধারা তৈরি হয় না। তাই অনেক সময় দেশি ও বিদেশি উপকরণের সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেন্ড তৈরি হয়। আবার ফ্যাশন ধারায় অনেক সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনুসারী যেমন হতে হয়, তেমনি ক্রেতার মনোভাবের ওপরও খানিকটা নির্ভর করতে হয়। তবেই সেই ধারা অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পায়।

ঈদের পোশাকে ফ্যাশন ধারা

ঈদুল ফিতর মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। ডিজাইনাররা বলে থাকেন, সারা বছর আমরা যত কাজ করি তার সিংহভাগ এই ঈদকে কেন্দ্র করেই। কাজেই নতুন ট্রেন্ড ঈদের পোশাকেই অনেক বেশি লক্ষণীয়। ঈদের পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো রং নেই। যেহেতু ধরাবাঁধা কিছু নেই, তাই ডিজাইনাররা ইচ্ছেমতো রং নিয়ে কাজ করতে পারেন। তবু একেক ঈদে দেখা যায় কিছু রং প্রবলভাবে দখল করে আছে ঈদের পোশাকের ক্যানভাস। তবে নিরীক্ষা চলে পোশাকের নকশা, মোটিফ, কাটিং এবং অন্য কিছু ক্ষেত্রে। ঈদে শাড়ি নারীদের পোশাকের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। হাজারটা শাড়ি থাকলেও ঈদে হাল ফ্যাশনের একটা শাড়ি না হলে যেন চলেই না। শাড়ির ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় ডিজাইনের নানা পরিবর্তন। ছোট পাড়, বড় পাড়, কখনো কুঁচিতে ডিজাইন, কখনওবা আঁচলে বেশি ডিজাইন। কাজের মাধ্যম হিসেবে কখনো ব্লক প্রিন্ট জনপ্রিয় তো কখনওবা এমব্রয়ডারি, হাতের সেলাই, কারচুপি, হ্যান্ডপেইন্ট ইত্যাদির নিরীক্ষা চলতেই থাকে। ব্লাউজের ডিজাইনেও পরিবর্তন দেখা যায়। হাতায়, গলায়, কাজে। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে কামিজের কাটিং, হাতার ডিজাইন, গলার ডিজাইন, নকশার মোটিফ, কাজের মাধ্যম ইত্যাদির পরিবর্তন দেখা যায়। তবে গত এক দশকে মেয়েদের সালোয়ারের ডিজাইনে অনেক বেশি বৈচিত্র্য দেখা গেছে। কখনো চাপা সালোয়ার তো কখনো ঢিলেঢালা। আবার চুড়িদার, চোস্ত, সারারা, লেগিংস, জেগিংস এবং হালের প্লাজো। ছেলেদের পাঞ্জাবির ডিজাইনেও নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। কখনো লম্বায় বেড়েছে আবার কখনোবা হাঁটুর ওপরে উঠেছে। নকশায় পরিবর্তন তো ছিলই। বৈচিত্র্য ছিল রঙেও। একটা সময় ঈদের পাঞ্জাবি মানে সাদা রং ছিল। এখন সব রঙেরই পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। এমনকি আগে যে রংগুলো শুধু মেয়েরাই পরত, ছেলেদের পাঞ্জাবিতে এখন সে রংগুলোও দেখা যায়। যেমন লাল, গোলাপি, বেগুনি ইত্যাদি। যার যার বয়স ও রুচি অনুযায়ী বেছে নেন। ডিজাইনে পরিবর্তন দেখা যায় ছোটদের পোশাকেও।

কেমন হচ্ছে এবারের ঈদ পোশাকের ফ্যাশন ধারা? জানতে চাইলে ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিশ্বরঙের স্বত্বধিকারী বিপ্লব সাহা বলেন, আসলে দুইটা বছর তো আমরা পার করেছি করোনার মধ্যে। এখন যেহেতু ঘুরে দাঁড়ানোর একটা ব্যাপার আছে। তাই অনেকগুলো বিষয় মাথায় রেখে আমরা ঈদের কাজ করেছি। এবার আসলে ঈদ আর বৈশাখ পাশাপাশি আসছে। এই বিষয়টি মাথায় নিয়েই পোশাকের ডিজাইন করেছি। আসলে কে যে কোনটা কিনবে এটা তো আমরা জানি না। তাই পোশাকের কালারটোনে ফেস্টিভ লুকটা রাখতে চেষ্টা করেছি। যেন যেকোনো উৎসবেই পোশাকটা পরা যায়। এবার একটা শাড়ি করেছি আমরা। নাম দিয়েছি মৃগয়নী। একদম গর্জিয়াস লুকের শাড়িটা। মাল্টি কালারে সুতায় ট্রাইবাল, শতরঞ্জি, জিওমেট্রিক ইত্যাদি প্যাটার্ন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে শাড়ি যেহেতু এখন আর মানুষ ঘরোয়াভাবে পরে না, উৎসব- অনুষ্ঠানে পরে, আমরা তাই কাতান, সিল্ক, হাফ সিল্ক, এন্ডি ইত্যাদি মেটেরিয়াল ব্যবহার করেছি। ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও এবার গর্জিয়াস লুক করেছি। শার্টেও ভেরিয়েশন আছে। ছোটদের পোশাকেও ফেস্টিভলুক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এবার পোশাকের রঙে একটা বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। বিশ্বরঙ সব সময় উজ্জ্বল রং নিয়ে কাজ করে। কিন্তু এবার আমরা তুলকামূলকভাবে হালকা রং বেশি ব্যবহার করেছি। তবে যেখানে যেখানে উজ্জ্বল রং ডিমান্ড করে, সেখানে তো ব্যবহার করা হয়েছেই। কিন্তু রং হালকা হলেও সাইশিলুকটা থাকবে। কারণ উৎসবে তো আর ম্যাটমেটে রং মানায় না। উৎসব মানেই রঙিন।

আরও পড়ুন:
ঈদে বাহারি জুতা
ঈদের পাঞ্জাবি
সোনামনিরও চাই ঈদের নতুন জামা
বাহারি পোশাকে আনন্দের ঈদ
ঈদে এলিট লাইফের ব্যতিক্রম অফার

মন্তব্য

জীবনযাপন
Bahari shoes for Eid

ঈদে বাহারি জুতা

ঈদে বাহারি জুতা
ঈদে শিশুদের ক্ষেত্রে এমনভাবে জুতা নির্বাচন করতে হবে যেন আরামটাই বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ শিশুরা ছোটাছুটি করবে, ঘুরে বেড়াবে। তাই জুতাটিও নির্বাচন করতে হবে সেভাবেই। যদিও শিশুদের ফ্যাশনকেও গুরুত্ব দিতে হবে সমানতালে।

ঈদ মানেই নতুন ড্রেস। ঈদ আয়োজনে আমাদের সাজসজ্জার যেন কোনো কমতি থাকে না। তবে ঈদের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে নতুন জুতা না হলে সবই ভেস্তে যাবে। উৎসবের জুতা বলে কথা, খানিকটা বৈচিত্র্য না থাকলে কি হয়! আর তাই নতুন নতুন ডিজাইনের জুতা শোকেসে সাজিয়ে রেখেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড আর ফ্যাশন হাউসগুলো। বাটা, গ্যালারি অ্যাপেক্স, বে-এম্পোরিয়াম, জেনিস, অরিন, লোটো থেকে শুরু করে ফুটপাতের জুতার দোকানগুলোতেও ক্রেতার ভিড় থাকে এই সময়ে।

-

কেমন জুতা আসছে এবার ঈদে

কয়েক বছর ধরেই জুতা-স্যান্ডেলের বাজারে মিক্সড ফ্যাশন চলছে। গৎবাঁধা কালো বা চকোলেট রঙের স্যান্ডেলের চাহিদা এখন অনেকটাই কম। অ্যান্টিক সোনালি, মেরুন এবং সাদা রঙের স্যান্ডেল বা জুতার চাহিদা এখন বেশি। মেয়েদের জুতা বা স্যান্ডেলের ক্ষেত্রে পাথর ও পুঁতির কাজ খুব বেশি চাহিদাসম্পন্ন। এ ছাড়া সুতার কাজ করা স্যান্ডেলও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। মেয়েদের আগ্রহের তালিকায় থাকছে দুই ফিতার স্যান্ডেল আর মিডিয়াম হিলের স্যান্ডেল। শিশুদের ক্ষেত্রে আউটার-সিন্থেটিক ও ইনার ম্যাশের সমন্বয়ে সোল দিয়ে তৈরি জুতার চাহিদা বেশি।

জুতার ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে বাটা, অ্যাপেক্স, বে-এম্পোরিয়াম, ওরিয়ন, জেনিস, নাইক, পিকাসো, লোটোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এবার ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি ব্র্যান্ডই নতুন ডিজাইনের জুতা আনছে। এর মধ‌্যে মেয়েদের পেনসিল হিল, বেলোরিনা সু; শিশুদের নতুন ধরনের লোপার, বাবল গামসের জুতা। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিনই আসবে আরও নতুন ডিজাইন।

-

শিশুদের ফ্যাশন

ঈদে শিশুদের ক্ষেত্রে এমনভাবে জুতা নির্বাচন করতে হবে যেন আরামটাই বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ শিশুরা ছোটাছুটি করবে, ঘুরে বেড়াবে। তাই জুতাটিও নির্বাচন করতে হবে সেভাবেই। যদিও শিশুদের ফ্যাশনকেও গুরুত্ব দিতে হবে সমানতালে। শিশুদের জুতার প্রধান সুবিধা হলো এই জুতা উষ্ণ ঋতুর জন্য আদর্শ এবং শিশুর পায়ে ‘শ্বাস নিতে’ দেয়।

আপনার সোনামনির আরামের কথা মাথায় রেখেই চামড়ার নরম জুতা, কিংবা কাপড়ের জুতাও আনছে ফ্যাশন হাউসগুলো। স্টাইলিশ শেপস্কিন, লোপার, সোল দিয়ে তৈরি জুতা প্রভৃতির চাহিদা বেশি।

ছোট শিশুর জুতা কেনার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন-

১. ফ্যান্সি জুতার বদলে আরামদায়ক হবে এমন জুতা বেছে নিন। শিশুদের ফ্যাশনের থেকে বেশি জরুরি তাদের সুস্বাস্থ্য।

২. চামড়া বা সুতি কাপড়ের তৈরি জুতা বেছে নিন। ফ্যান্সি প্লাস্টিকের জুতা প্রথম থেকেই এড়িয়ে চলুন। নয়তো তা ওই ছোট্ট পায়ে অস্বস্তির কারণ দেখা দিলেও দিতে পারে। দেখবেন, জুতার ওজনও যাতে বেশি না হয়।

৩. শক্ত চামড়ার জুতা এড়িয়ে চলাই ভালো। যেহেতু এই সময় শিশুরা খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়, তাই খুব টাইট জুতা তাদের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

৪. জুতার সোল ভালো করে দেখে নিন। দেখে নিন শিশু তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে কি না। খুব বেশি শক্ত সোল এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. ছোট মেয়েদের হাইহিল স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই শিশুকে মনের মতো সাজাতে হলে বেছে নিন মনের মতো সুন্দর ও স্টাইলিশ জুতা। এমন জুতা যাতে হিল নেই, কিন্তু আরাম আছে।

৬. শিশুর জুতার সাইজ তার পায়ের মাপ বরাবর হওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত বড় বা খুব টাইট জুতা একেবারেই পরাবেন না।

৭. ক্যানভাসজাতীয় জুতা কিনলে ভালো করে দেখে নিন, তা পায়ে ঠিক করে ফিট হয়েছে কি না।

৮. শিশুদের বাড়ন্ত বয়সে সময় সময় জুতা বদলানো প্রয়োজন। একবার কিনে বহুদিন চলে যাবে এমন চিন্তাভাবনা জুতার ক্ষেত্রে না রাখাই ভালো।

-

মেয়েদের জুতা

এবার ঈদ গরমে আসছে বলে মেয়েদের ফুল সামার বোহেমিয়া সুইট স‌্যান্ডেল হতে যাচ্ছে একটি অন‌্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়া ঈদে যেমন কাটতি থাকে স্লিপারের, তেমনি থাকে হাইহিল, মিড চুঙ্কি, ব্যালেরিনা টাইপের জুতার চাহিদাও। হাইহিলগুলো যেমন পেনসিল হিল টাইপের আছে, তেমনি আছে গোড়ালি সমান টাইপের হাই। রয়েছে নাগরা জুতাও। কয়েক বছর ধরেই ফ‌্যাশনসচেতন মেয়েদের পছন্দের তালিকায় থাকে ব্রেথেবল ফ্ল‌্যাট ক‌্যাজুয়াল সু। এবার বাজারে আসছে চামড়ার তৈরি এসব সু। পাশাপাশি থাকছে গোড়ালি বুট, থাকছে ফ্ল‌্যাট লোফার, সিনথেটিক জুতাও।

অন্যদিকে শুধু ফ্যাশন নয়, স্বাচ্ছন্দ্যের কথা যারা ভাবেন, তাদের জন‌্য রয়েছে স্লিপারও। দিনের বেলা ঘোরাঘুরির জন্য আরাম পেতে স্লিপার বা ব্যালেরিনার আসছে এই ঈদে।

-

ছেলেদের জুতা

ঈদে মেয়েদের ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে ছেলেদের ফ্যাশনটাও। ছেলেদের ফ্যাশনের জন্য যেমন ফরমাল সু দোকানে পাবেন, তেমনি পাবেন সিম্পল টাইপের স্যান্ডেলও। তাই পাঞ্জাবির সঙ্গে পরতে বেছে নেবেন দুই ফিতার কোনো স্যান্ডেল। আর রাতের কোনো প্রোগ্রামের জন্য বেছে নিতে পারেন ফরমাল সু।

ঈদ কিংবা যেকোনো অকেশনে পুরুষদের পছন্দের তালিকায় সবার প্রথমে থাকে চামড়ার জুতা। চামড়া দিয়ে তৈরি জুতাগুলো সাধারণত নতুন, ফরমাল জুতা বা নৈমিত্তিক জুতা হয়। সাধারণত চামড়া থেকে তৈরি জুতা খুব টেকসই হয়, সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং ছেঁড়া বা বিবর্ণ হয় না। এমনকি চামড়ার জুতা সহজেই যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়, সেটা হোক ফরমাল বা ক‌্যাজুয়াল।

-

কোথায় পাবেন

দেশের প্রায় নামকরা সব জুতার শোরুমেই ঈদের জুতার কালেকশন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আপনি যেতে পারেন বাটা, অ্যাপেক্স, জেনিস, বেসহ আরও নিত্যনতুন জুতার শোরুমে। ঈদ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বাটার এলিফ্যান্ট রোড শাখা কিংবা বসুন্ধরা সিটির শাখায়ও রয়েছে অনেক কালেকশন। সেখানে দাম তুলনামূলক বেশি পড়লেও জুতাগুলো বেশ আকর্ষণীয় এবং টেকসই। আর যদি মনে করেন তা আপনার সাধ্যের বাইরে, তবে যেতে পারেন এলিফ্যান্ট রোড, চৌরঙ্গী ভবন, মৌচাক মার্কেট, চাঁদনী চক, নিউ মার্কেট কিংবা অরচার্ড পয়েন্টে। সেখানে আপনি আপনার সাধ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দসই জুতা পেয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন:
ঈদের পাঞ্জাবি
সোনামনিরও চাই ঈদের নতুন জামা
বাহারি পোশাকে আনন্দের ঈদ
ঈদে এলিট লাইফের ব্যতিক্রম অফার
মাতৃত্ব আর দৃঢ়তার গল্প শুনুন নাওমি ক্যাম্পবেলের কাছে

মন্তব্য

ঈদের পাঞ্জাবি

ঈদের পাঞ্জাবি পোশাক: অঞ্জন’স
বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, সুবাস্তু আর্কেড, রাপা প্লাজা, পুলিশ প্লাজার মতো বড় বড় মার্কেটের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে পাওয়া যাবে ঈদের নতুন পাঞ্জাবি। এছাড়া একটু কম দামে ভালো মানের পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে নিউ মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, বেইলি রোড, মিরপুর শাহ আলী মার্কেটসহ ছোট বড় মার্কেটগুলোতে।

ঈদের দিন পাঞ্জাবি না পরলে ছেলেদের ফ্যাশনে অপূর্ণতা থেকে যায়। আর তাই প্রতিবছর নতুন নকশা, থিম ও প্যাটার্নের পাঞ্জাবি নিয়ে আসে ফ্যাশন হাউসগুলো। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে এবং শো রুম ঘুরে এবারকার ঈদের পাঞ্জাবির খোঁজ জানাচ্ছেন এস. এম. আতাউর রহমান

-

পাঞ্জাবি পরতে ভালোবাসেন সব ছেলেরাই। বিশেষ করে শুক্রবার ও ঈদের দিনের বিশেষ পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবির তুলনা নেই। এজন্য ঈদকে ঘিরে বিশেষ ডিজাইনের নতুন নতুন পাঞ্জাবির পসরা সাজিয়ে বসে ফ্যাশন হাউসগুলো। এবারও ব্যতিক্রম নেই। ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটেও দেখা গেল ঈদের নতুন পাঞ্জাবির সমাহার। লাল, নীল, সাদা, কালো, খয়েরিসহ বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণ ঘটেছে কে ক্র্যাফটের এবারকার ঈদের পাঞ্জাবিতে। পাঞ্জাবির গলা ও হাতায় রয়েছে আলাদা নকশা ও কাজের বৈচিত্র্য। ট্রাডিশনাল কাথা, কাথা স্টিচ, মোঘল শৈলী, উইভিং মোটিফের অনুপ্রেরণা ছাড়াও গুজরাটি, ইক্কত, কলকা আর্ট, জামদানি, ফ্লোরাল, ট্রাডিশনাল, টার্কিশ আর্ট ও ইসলামিক মোটিফের ছোয়ায় আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে ঈদের পাঞ্জাবি। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার খালিদ মাহমুদ খান জানালেন, ‘প্রতি ঈদেই ছেলেদের পাঞ্জাবিতে আমরা নতুন কিছু যোগ করার চেষ্টা করি। এবার পাঞ্জাবির গলা, বুক ও হাতার পাশাপাশি কাধেও নতুন নকশা করা হয়েছে। কটন, ডিজাইন কটন, হ্যান্ডলুম কটন, লিনেন, জর্জেট, সিল্ক, হাফসিল্ক, টিস্যু ও সার্টিনের মতো আরামদায়ক কাপড় বেছে নেয়া হয়েছে গরমে স্বস্তির জন্য। হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, কারচুপি ও টাইডাইয়ের সাহায্যে পাঞ্জাবির নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’

বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সবগুলো ফ্যাশন হাউসেই এসে গেছে এবারকার ঈদের নতুন পাঞ্জাবি। এসব পাঞ্জাবিতে বৈচিত্র্যের কমতি নেই। তবে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আরামে। বিশ্বরঙের শোরুমে ম্যানিকুইনগুলোর বেশিরভাগই ঈদের পাঞ্জাবি পরা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, ‘প্রতিবছরই ঈদ উপলক্ষে আমরা নতুন নকশা ও থিমের পাঞ্জাবি নিয়ে আসি। এবার একটু আগেভাগেই পাঞ্জাবি নিয়ে আসা হয়েছে। তার কারণ কোভিডের কারণে যারা ভিড় এড়িয়ে কেনাকাটা করতে চান তারা একটু আগেভাগেই শোরুমে চলে আসবেন। আবার অনেকেই রোজার মাসে পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করেন। তাদের কথা মাথা রেখেই এমন উদ্যোগ। তবে এবার নকশা ও থিমের চেয়ে আরামটাকেই বেশি প্রাধাণ্য দিয়েছি পাঞ্জাবির কাপড়ে। তার কারণ এবার গরমের মধ্যে ঈদ পরেছে। ঈদে যাতে পাঞ্জাবি পরে ক্রেতারা হাসফাস না করেন সেজন্যই আরামকে বেছে নেওয়া। সুতি, কটন, সেমি কটন, লিনেন ও পাতলা তাতের কাপড়ে তৈরি হয়েছে এবারকার ঈদ পোশাক। একই সঙ্গে মোটিফেও থাকছে ইসলামিক, ফ্লোরাল, ফুল, লতাপাতা ও মোগল কারুকার্য।’

ঈদের পাঞ্জাবি
পোশাক: স্মার্টেক্স

ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশও ঈদ উপলক্ষে নতুন নকশার পাঞ্জাবির পসরা সাজিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ডিজাইনার সৌমিক দাস জানালেন, ‘গরমের মধ্যে লিনেন, সুতি, রিমি কটন, ফাইন কটনের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি থাকে। এবার তাই ঈদের পাঞ্জাবিতে এমন কাপড়ই বেছে নিয়েছি। পাঞ্জাবি এমনিতেই অন্যান্য পোশাকের চেয়ে একটু বেশি আরামদায়ক। কারণ এটি ঢিলেঢালা হয় বলে বেশি বাতাস চলাচল করতে পারে। তারপরও গরমের মধ্যে ঈদ বলে এদিকটাতে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়েছে। পাঞ্জাবিতে উৎসবের আমেজ আনতে গলা ও কাফে নানারকম নকশা করা হয়েছে। আলাদা কাপড় জুড়ে দিয়ে ফিউশনে ভিন্নতা আনা হয়েছে।’

প্রকৃতির পরিবর্তন, গরমের তীব্রতায় আরামের কথা মাথায় রেখে ঈদের পাঞ্জাবির নকশা করেছে নিপুণ। গরমে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সুতি, লিনেন, জয়সিল্ক ও তাত কটনে তৈরি করা হয়েছে পাঞ্জাবি। নিপুণের প্রধান ডিজাইনার ফয়সাল মাহমুদ জানালেন, ‘ফ্লোরাল, রাজবাড়ি, ইসলামিক মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে এবারকার ঈদের পাঞ্জাবির নকশায়।’

-

প্রিন্টে পরিপাটি

প্রিন্টের পাঞ্জাবির প্রতি ছেলেদের আকর্ষণ সবসময়ই। এবারও প্রিন্টের পাঞ্জাবির জয়জয়কার। ফ্যাশন হাউস ওটু, জেন্টল পার্ক, লা রিভ, টুয়েলভ, অঞ্জন’স, লুবনান, রিচম্যান থেকে শুরু করে ছোট বড় সব প্রতিষ্ঠান ঈদ উপলক্ষে প্রিন্টের নতুন পাঞ্জাবি এনেছে। লালচে সুতি পাঞ্জাবিতে কালো প্রিন্টের নকশা, হাতায় কালো রঙের পাইপিংয়ের প্রিন্ট যেমন দারুণ সাড়া ফেলেছে, তেমনি গাঢ় সবুজ শেডের জমিনে হালকা সবুজ প্রিন্ট, তার সঙ্গে এমব্রয়ডারির নকশা যুক্ত করে অভিজাত ভাব আনা হয়েছে। এসব পাঞ্জাবির বোতামে আলাদা নকশা ও ম্যাটেরিয়ালেও পাওয়া যাবে ভিন্নতা। এছাড়া ফুল, ফল, পাখি, লতাপাতা ও প্রকৃতির নানা মোটিফ যুক্ত হয়েছে এবারকার প্রিন্টের পাঞ্জাবিতে।

-

কাটছাটে নতুন কী

ভিন্ন কাটছাট ও প্যাটার্নের পাঞ্জাবিও পাওয়া যাচ্ছে ঈদ উপলক্ষে। গলা, বুক, হাতা ও কাধের কাটছাটে রয়েছে আলাদা বৈচিত্র্য। সারা লাইফ স্টাইলের শো রুমে বিভিন্ন পাঞ্জাবির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে বুকের কাছে আলাদা কাটের পাঞ্জাবি। প্রতিষ্ঠানটির ডিজাইনার শামীম রহমান জানালেন, ‘মূলত কম বয়সী ও তরুণরা একটু জমকালো ও ভিন্ন ধাচের কাট ও প্যাটার্নের পাঞ্জাবি বেশি পছন্দ করে। তাদের জন্যই পোশাকে উৎসবের বাড়তি মাত্রা আনতে কাটে ও প্যাটার্নে ভিন্নতা এনেছি। আলাদা কাপড় জুড়ে দেয়া, বোতামের পরিবর্তন, বুকের কাটে ভিন্নতা, এমব্রয়ডারি ও সুই সুতার কাজের সাহায্যে নতুনত্ব যোগ করা হয়েছে। কখনো বুকের একপাশ খালি রেখে আরেকপাশে নকশা, কখনো কাধের কাছে ভিন্ন কাপড় জুড়ে দিয়ে ভিন্নতা আনা হয়েছে।’

পাঞ্জাবিতে বুক পকেট কমই দেখা যায়। তবে বুকে একটি বা দুইটি পকেটযুক্ত পাঞ্জাবিও পাওয়া যাচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এছাড়া একেকজনের একেকরকম চাহিদার কথা মাথায় রেখে পাওয়া যাবে তিন ধরনের কাটের পাঞ্জাবি-রেগুলার ফিট, স্লিম ফিট ও স্লিম শর্ট। এখনকার ট্রেন্ড লম্বা কাটের লুজ ফিট পাঞ্জাবি। তরুণরা এমন পাঞ্জাবিই বেশি চাইছেন বলে জানালেন শো রুমগুলোর বিক্রয়কর্মীরা।

অভিজাত লুকেরও পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এমন পাঞ্জাবি ঈদের দিনে সহজেই নবাবি লুক এনে দেবে। সিল্ক, মসলিনের মতো দামি কাপড়ে তৈরি এসব পাঞ্জাবিতে অভিজাত ভাব তুলে ধরতে অতিরিক্ত ভ্যালু অ্যাড করতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা রকম ম্যাটেরিয়ালের অলঙ্কার। এর অধিকাংশই দেখা মিলবে শেরওয়ানি প্যাটার্নের পাঞ্জাবিতে।

-

কখন কেমন পাঞ্জাবি

ঈদের সকালে হালকা রঙের পাঞ্জাবি বেশি মানানসই। কারণ ঈদের জামাতে বেশি উজ্জল রং বেমানান মনে হবে। তারচেয়ে হালকা রঙের পাঞ্জাবি সকালের আবহে স্নিগ্ধ ভাব এনে দেবে। ঈদের সকালে হালকা নীল, হালকা মিন্ট, সাদা কিংবা ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি পরতে পারেন। বিকেলে ও রাতে উজ্জ্বল রঙের পাঞ্জাবি বেছে নিন। কমলা, হালকা সোনালি, হলুদ ও গাঢ় নীল রঙের পাঞ্জাবি পরা যাবে। বিকেলের সূর্যের সোনালি রঙ কিংবা রাতের আলো আধারি পরিবেশে দারুণ মানিয়ে যাবে এমন পাঞ্জাবি।

-

ম্যাচিং পাঞ্জাবি

কয়েক বছর ধরেই সেট পোশাক ট্রেন্ডে বেশ এগিয়ে। সেই ধারাবাহিকা রয়েছে এবারও। পরিবারের সব বয়সী সদস্যদের জন্য পাওয়া যাবে একই ডিজাইনের বিভিন্ন সাইজের পাঞ্জাবি। যাতে বাবা, ছেলে, ভাই সবাই মিলিয়ে পরা যায়। এছাড়া শাড়ী, সালোয়ারের সঙ্গে মিল রেখেও পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে বিভিন্ন শোরুমে।

-

কোথায় পাবেন কেমন দাম

বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, সুবাস্তু আর্কেড, রাপা প্লাজা, পুলিশ প্লাজার মতো বড় বড় মার্কেটের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে পাওয়া যাবে ঈদের নতুন পাঞ্জাবি। এছাড়া একটু কম দামে ভালো মানের পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে নিউ মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, বেইলি রোড, মিরপুর শাহ আলী মার্কেটসহ ছোট বড় মার্কেটগুলোতে। মিরপুর, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, বঙ্গবাজারে আলাদা পাঞ্জাবির মার্কেট রয়েছে। এসব দোকান থেকে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে পাঞ্জাবি কিনতে পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের দোকানের পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ১৩শ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫ শ টাকার মধ্যে। আর ননব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৩ শ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে।

আরও পড়ুন:
সোনামনিরও চাই ঈদের নতুন জামা
বাহারি পোশাকে আনন্দের ঈদ
ঈদে এলিট লাইফের ব্যতিক্রম অফার
মাতৃত্ব আর দৃঢ়তার গল্প শুনুন নাওমি ক্যাম্পবেলের কাছে
তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত

মন্তব্য

জীবনযাপন
Bahari bag in Eid fashion

ঈদ ফ্যাশনে বাহারি ব্যাগ

ঈদ ফ্যাশনে বাহারি ব্যাগ ছবি: আড়ং
এবারের ঈদে এসেছে বিভিন্ন ধরন-ফ্যাশন-ব্র্যান্ড অনুযায়ী ব্যাগ। সাধারণ হাতব্যাগের মধ্যে দেখা যায় কয়েক পদ। সেটা হতে পারে মেয়েদের 'ক্লচ' বা 'কলেজ ব্যাগ'। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কোয়ালিটি, ম্যাটেরিয়ালস আর ডিজাইনভেদে বিভিন্ন দামের লেডিস হ্যান্ডব্যাগ।

সঠিক ব্যাগ ছাড়া মেয়েদের সাজ সম্পূর্ণ হওয়া অসম্ভব। ব্যাগ যে শুধু প্রয়োজনের, তা কিন্তু নয়। ব্যক্তিত্বকে অনন্য রূপে উপস্থাপন করাও এর কাজ। শুধু তা-ই নয়, ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগের প্রাধান্যও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, অফিস কিংবা বাইরে বেড়ানো- সব সময়ই ব্যাগের ভূমিকা অনন্য। নিজেকে আরও স্টাইলিশভাবে উপস্থাপন করা যায় রুচিশীল ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে। ঈদের ফ্যাশনেও থাকা চাই মানানসই ব্যাগ।

পার্টি কি ক্যাজুয়াল লুক; ঈদ-রোজার প্রতিটি অনুষ্ঠানে ব্যাগ অপরিহার্য। শুধু অনুষ্ঠান অনুযায়ী নয়, পোশাকের ধরনের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে আপনি কেমন ব্যাগ ক্যারি করবেন। ডিজাইনের পোশাক, ট্রেন্ডি গয়নার সঙ্গে মানানসই ব্যাগ না থাকলে সাজটাই যেন সম্পূর্ণ হয় না। আবার হাতে থাকা ব‌্যাগের মাধ‌্যমে আপনি আপনার ব‌্যক্তিত্ব বা রুচি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

এবারের ঈদে এসেছে বিভিন্ন ধরন-ফ‌্যাশন-ব্র‌্যান্ড অনুযায়ী ব‌্যাগ। সাধারণ হাতব্যাগের মধ্যে দেখা যায় কয়েক পদ। সেটা হতে পারে মেয়েদের 'ক্লচ' বা 'কলেজ ব্যাগ'। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কোয়ালিটি, ম্যাটেরিয়ালস আর ডিজাইনভেদে বিভিন্ন দামের লেডিস হ্যান্ডব্যাগ। ঈদে আরও আসছে নতুন ডিজাইনের রেক্সিনের চায়নিজ ক্লচ, বিডস, আর্টিফিসিয়াল লেদারের ওপর পাফ করে দারুণ নকশাদার ক্লচ, প্যাটেন মডেল বা প্যালেক্স লেদারের চায়নিজ ব্যাগ, ফোমের হাতব্যাগ, স্লিং ব্যাগ, সিন্থেটিক লেদার ব্যাগ, ট্রান্সপারেন্ট ব্যাগ, ইক্কত ব্যাগ, সিকুইন ক্লচ ব্যাগ প্রভৃতি।

-

স্লিং ব্যাগ

হাত ভেঙে গেলে স্লিংয়ে হাত বেঁধে রাখার বিষয়টি সবারই জানা। স্লিং শব্দটা শুনলেই এক টুকরা বড় কাপড়ে বেঁধে, গলা থেকে ঝোলানো ভাঙা হাতের কথা মনে পড়ে যায়। যুগের হাওয়া বদলেছে। এখন কাঁধে ঝোলা ব্যাগের কেতাবি নাম স্লিং ব্যাগ।

ফ্যাশন জগৎটা যদি লক্ষ করে দেখেন তবে দেখবেন বেশির ভাগ পুরোনো আদবকায়দা ফিরে আসছে। সে রকমই একটি হলো এই স্লিং ব্যাগ। শাড়ি, কুর্তি, সালোয়ার স্যুট সব কিছুর সঙ্গেই বেশ মানিয়ে যায় স্লিং ব্যাগ বা সেকেলে ঝোলা ব্যাগ।

ভারী আর বিশাল ব্যাগের পরিবর্তে কাঁধে এখন ঝোলা ব্যাগ বা ব্যাগপ্যাকের ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে অনেককেই। প্রয়োজন, অনুষ্ঠান বা ভ্রমণের ব্যাপ্তির ওপর নির্ভর করে এখন নানা সাইজের ঝোলা ব্যাগ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে বাজারে আসছে বাহারি ডিজাইনের স্লিং ব্যাগ।

-

মেসেঞ্জার ব্যাগ

হাল ফ্যাশনে সব থেকে জনপ্রিয় মেসেঞ্জার ব্যাগ। এ ধরনের ব্যাগ সাধারণত ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে মানানসই। তরুণীদের কাছে এর চাহিদা সব থেকে বেশি। এই ব্যাগে লম্বা হাতল থাকে বলে সহজে কাঁধে বহন করা যায়। আকারে এই ব্যাগ ছোট ও মাঝারি হয়। বড় হয় না। প্রয়োজনীয় অল্প কিছু জিনিস নেয়া যায়। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীরা এটি বেশি ব্যবহার করে থাকেন। এই ব্যাগে দু-একটি বই, খাতা, পানির বোতল, ছাতা, ট্যাব সহজেই এঁটে যায়। এটি দেখতেও ফ্যাশনেবল।

-

বড় হাতব‌্যাগ

বাইরে বের হতে মেয়েদের সঙ্গে থাকতে হয় অতি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস। ছেলেদের বেলায় এত কিছু না থাকলেও পকেটে টাকা তো থাকতেই হয়। আর এসব বহনে থাকা চাই একটি ভালো ব্যাগ। প্রয়োজনের এমন তাগিদে ব্যবহারকৃত মেয়েদের হ্যান্ডব্যাগ থেকে শুরু করে ছেলেদের পকেটের ওয়ালেটেও আজকাল দেখা যায় রকমারি। মেয়েদের ফ্যাশনে বেশ বড়সড় জায়গাই দখল করে নিয়েছে নানা রকম হাতব্যাগ।

-

বাকেট ব্যাগ

বাকেট ব্যাগ ঠিক বাকেটের মতো দেখতে। এই ব্যাগের মুখের দিক অনেকটা প্রসারিত থাকে এবং তলের দিকটা থাকে চ্যাপ্টা। এই ব্যাগ সাধারণত সালোয়ার-কামিজের বা কুর্তি টাইপ পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তবে এর মধ্যে খুব বেশি জিনিস বহন করা যায় না।

-

বিডস

ফ্যাশনে আলাদা মাত্রা যোগ করে বিডস ব্যাগগুলো। এগুলো দেখতেও যেমন সুন্দর, ব্যবহারেও আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। তবে এই ব্যাগগুলো সব সময় ক্যারি করার জন্য নয়। এতে বেশি জিনিস নেয়া যায় না। কাঁধের একপাশে বেল্ট বা চেইন দিয়ে ঝুলিয়ে কিংবা হাতল ধরেও ব্যবহার করা যায় এই ব্যাগগুলো।

-

সিকুইন ক্লচ

যেকোনো পার্টি ড্রেসের সঙ্গে সিকুইন ক্লচ ঘরানার ব্যাগ বেশ মানানসই। এই ব্যাগগুলোর বেশির ভাগই জরি, সুতা, পুঁতি-পাথর ও সিকুইনের হয়ে থাকে। তাই আলোতে চকচক করে ওঠে ব্যাগগুলো।

সিকুইনের একটা ব্যাগ হাতে থাকলে ভিড়ের মধ্যেও আপনি হয়ে উঠবেন অনন্য। এই ধরনের ব্যাগের বেশি যত্ন নিতে হয় না। মাঝে মাঝে শুকনো নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই নতুনের মতো দেখাবে।

-

ন্যাপস্যাক

তরুণীদের জন্য স্টাইলিশ ব্যাগ। ব্যাগে একটা মাত্র অংশ থাকে। আলাদা কোনো পকেটও থাকে না এবং কোনো চেইন বা লকের সিস্টেম নেই। দড়ি দিয়ে এর মুখ পেঁচিয়ে বন্ধ করতে হয়। এই ব্যাগ লেদার ও কাপড় দুই ধরনের হয়ে থাকে। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রায় সবাই এই ব্যাগ ব্যবহার করে। বেশ কালারফুল বলে যেকোনো পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। তবে জিনস ও টপসের সঙ্গে বেশি মানানসই।

-

ক্লাচ ব্যাগ

এ ধরনের ব্যাগকে পার্সও বলা হয়। এটি আকারে ছোট ও পাশে লম্বা হয়। দেখতে অনেকটা আয়তাকার। এই ব্যাগ হাতে বহন করতে হয়। কাঁধে নেয়ার সুযোগ নেই কেননা এর কোনো হাতল নেই। এ ধরনের ব্যাগ সাধারণত বিয়ে, জমকালো কোনো অনুষ্ঠানে কনে এবং অন্য মেয়েরা সঙ্গে রাখে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, লেহেঙ্গা, গাউন এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ক্লাচ ব্যাগে জায়গা কম থাকায় খুব বেশি জিনিস নেয়া যায় না। প্রয়োজনীয় টাকা, মোবাইল ও দু-একটা কসমেটিকস ছাড়া খুব বেশি কিছু নেয়ার সুযোগ নেই।

-

টোটি ব্যাগ

এই ব্যাগ সাইজে বেশ বড়, কিন্তু এর হাতল তুলনামূলক ছোট। কর্মজীবী মেয়েদের কাছে খুবই পছন্দের। ব্যাগের ভেতরে জায়গা থাকায় প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই একসঙ্গে বহন করা যায়। এ ব্যাগ মাঝারি ও বড় সাইজের হয়ে থাকে। প্রায় সব মেয়েই ব্যবহার করে থাকেন। শাড়ি থেকে শুরু করে সেলোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, কুর্তি, টপস সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে এটি মানিয়ে যায়।

-

হোবো ব্যাগ

সাদাসিধে পোশাকের সঙ্গে হোবা ব্যাগ বহন করা যায়। দেখতে সিম্পল হলেও এই ব্যাগ স্টাইলিশ লুক এনে দেয়। সাধারণত ট্র্যাডিশনাল পোশাকের সঙ্গে এই ব্যাগ বেশি মানায়।

-

মিনাউদিরে

তারকাদের অন্যতম পছন্দ হলো মিনাউদিরে। আকারে ছোট হলেও বেশ ভারী ও জমকালো নকশার হয়ে থাকে। সাধারণত ওয়েস্টার্ন ও গাউন টাইপ পোশাকের সঙ্গে এটি মানানসই এবং পার্টি ও জমকালো আয়োজনে এটির চল বেশি। ফ্যাশনেবল সেই সঙ্গে আভিজাত্যপূর্ণ। অনেকে শাড়ির সঙ্গেও এই ব্যাগ নিয়ে থাকেন।

-

ফ্রেম ব্যাগ

ফ্রেম ব্যাগের লক সিস্টেম দুপাশে মেটাল দিয়ে আটকানো থাকে। দেখে মনে হবে ফ্রেমের মতো। এটি অন্যান্য ব্যাগের তুলনায় ভারী। তাই নিত্যদিন বহন করাটা কষ্টসাধ্য। এই ব্যাগ বিভিন্ন রঙের ও নকশার হয়ে থাকে এবং ছোট, বড়, মাঝারি সব সাইজের পাওয়া যায়। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও গাউনের সঙ্গে ফ্রেম ব্যাগ মানানসই।

-

রিসটাইল ব্যাগ

ওয়েস্টার্ন পোশাকের জন্য সব থেকে উপযোগী হলো রিসটাইল ব্যাগ। মেকআপ মেটেরিয়াল বহনের জন্য এটি জনপ্রিয়। এই ব্যাগ কাপড়, রেকসিন ও লেদারের হয়ে থাকে। বিভিন্ন নকশায় এই ব্যাগ পাওয়া যায়, তবে তরুণীরা সব থেকে বেশি ব্যবহার করেন ফ্লাওয়ার মোটিফের ব্যাগগুলো। দেখতে ছোট হলেও ভেতরে অনেক জায়গা থাকে। সাধারণত হাতে ও কাঁধে দুভাবেই বহন করা যায়।

-

হ্যান্ডক্রাফটেড ব্যাগ

পুরো বছর কলেজ, কোচিং, বিশ্ববিদ্যালয়, শপিং, অফিস, বন্ধুদের আড্ডা সব জায়গায় ব্যবহারের সব থেকে উপযোগী এই ব্যাগ। এই ব্যাগ কাপড় ও পাটের তৈরি বলে বেশ টেকসই। ওয়েস্টার্ন থেকে শুরু করে ট্র্যাডিশনাল সব পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। এটি স্টাইলিশ, সেই সঙ্গে রুচিশীলতারও প্রকাশ ঘটায়।

-

ব্যাকপ্যাক

ভ্রমণের জন্য সব থেকে জনপ্রিয় ব্যাকপ্যাক। তবে এখন তা শুধু ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে না। স্কুল, কলেজ, কোচিং, বিশ্ববিদ্যালয়, ট্রাভেল, অফিস, শপিং, পার্টি, মিটিং, আড্ডা, দাওয়াত সবখানেই এখন মেয়েদের নিত্যসঙ্গী ব্যাকপ্যাক। এই ব্যাগের অনেকগুলো পার্ট থাকে এবং অনেক জিনিস বহন করা যায়।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Sonamni also wants new Eid clothes

সোনামনিরও চাই ঈদের নতুন জামা

সোনামনিরও চাই ঈদের নতুন জামা পোশাক: লা রিভ
এবার ঈদ যেহেতু গরমে হতে যাচ্ছে, তাই গরমে শিশুর পোশাক কেনার সময় রঙের বিষয়েও প্রাধান্য দিতে হবে। হালকা যেকোনো রং আপনি বেছে নিতে পারেন। কারণ হালকা রংগুলো পরলে গরমে শরীর ঠান্ডা থাকে, বেশি ঘামে না। বড়-ছোট কারও জন্যই গরমে গাঢ় পোশাক পরা উচিত নয়।

ঈদ উৎসবে শিশুদের আনন্দটাই থাকে সবচেয়ে বেশি। আর তাইতো যেকোনো উৎসবে সবার আগে প্রাধান্য দেয়া হয় শিশুদের। শিশুদের ঘিরেই ঈদের আনন্দ। ঈদ মানেই তো শিশুর খুশি। শিশুদের জামাটা তাই কিনতে হয় সবার আগে। সবচেয়ে আদরের ছোট্ট সোনামোনির পোশাক বলে কথা। যেন তেন হলে তো হবে না, আরামদায়ক হতে হবে, রংচঙ্গে, সুন্দর হতে হবে, একটু অন্যরকম, যেন সবার থেকে আলাদা।

এবারের ঈদে দেশীয় ফ্যাশন হাউজ ও অনলাইন বিভিন্ন শপে শিশুদের ঈদ পোশাকে তাই গুরুত্ব পেয়েছে ফেব্রিকস। বাহারি ডিজাইনের সুতি, নেট, হাফ সিল্ক ও লিলেনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের জন্য। নেটের উপর কারুকাজ করা পোশাকের পাশাপাশি অ্যাম্ব্রোয়েডারি করা পোশাকও প্রাধান্য পেয়েছে।

বিগত বছরের ঈদগুলোর তুলনায় এবার পোশাকে বাহার ও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেক বেশি। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো এখন শিশুদের জন্য তৈরি করছে দারুণ স্টাইলিশ সব পোশাক। তাদের শোরুমগুলো সাজানো হয়েছে শিশুদের রঙ বেরঙের পোশাক দিয়ে। দেশি পোশাকের সঙ্গে শিশুদের জন্য রয়েছে ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের পোশাক। রয়েছে রঙের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার।

-

নবজাতকের জন্য পোশাক

যাদের শিশু আছে তারাই জানেন শিশুদের জন‌্য পছন্দমতো জামা কিনতে কতটা সময় দিতে হয়, ভাবতে হয় এবং মেলাতে হয়! সাইজ মিলে তো রঙ মিলেনা, রঙ মিল্লে সাইজ মিলেনা। আবার অনেক বয়সের পছন্দের জামা পাওয়া যায়না।

শিশুর জন্মের প্রথম কয়েক মাসে ড্রেসসহ আনুষাঙ্গিক প্রচুর জিনিস কিনতে হয়। এর মধ‌্যে যদি ঈদ চলে আসে তাহলে আপনাকে এসব জিনিস মেলাতে বাড়তি সময় দিতে হবে। এ জন‌্য বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে- উপযুক্ত শিশুর গিয়ার, খাওয়ানোর সরবরাহ, স্বাস্থ্যকর পণ্য, খেলনা, জামাকাপড় সবই নবজাতকের শপিং চেকলিস্ট তৈরি করে। ঈদে সোনামনির নতুন ড্রেসের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার চেকলিস্ট অনুযায়ী কেনাকাটা শুরু করে দিন।

১. অনেসি এবং রম্পার্স

অনেসি এবং রম্পার্স হ'ল প্রথম জিনিস যা আপনার নবজাতকের জন্য কেনা উচিত। এটি আপনার শিশুর মাথাটি পায়ের আঙুল পর্যন্ত ঢেকে রাখে। নিরাপদে তাকে জড়িয়ে রাখে। বাচ্চার শরীরের সমস্ত উপাদেয় ত্বককে তার ক্ষতি করতে পারে এমন বহিরাগত কারণগুলো (ধুলো, তাপ, ঠান্ডা, বৃষ্টি ইত্যাদি) থেকে রক্ষা করতে অনেসি এবং রম্পার্স রাখতে পারেন আপনার চেকলিস্টে। ঈদ সামনে রেখে বাজারে আসছে নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন অনেসি এবং রম্পার্স।

২. সেটস ও স্যুট

বাচ্চাকে ড্রেস করার সবচেয়ে বড় আনন্দ হ'ল সবকিছু কীভাবে রঙিন সমন্বিত হতে পারে বা আমরা যেমন বলতে চাই, "ম্যাচিং-ম্যাচিং"! সুতরাং নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার শিশুর জন্য সুন্দর সেট এবং স্যুট বেছে নিয়েছেন।

নবজাতকের জন্য কাপড় কেনার জন্য কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ:

ত্বক-বান্ধব কাপড়: আপনার শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এমন সিন্থেটিক এবং মোটা ফাইবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক ফাইবার (সুতি, সিল্ক ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি পোশাক বেছে নেয়া ভাল।

জ্বালামুক্ত হিমেলাইনস: কখনও কখনও এটি ফ্যাব্রিক হয় না, তবে সেলাই এবং / বা হিমেলিনগুলি ত্বককে জ্বালাতন করতে পারে। বিশেষত আপনার শিশুর ব্যক্তিগত অংশের কাছে এবং বাহুগুলির নীচে। নরম হিমেলিনের জন্য কাপড়টি পরীক্ষা করুন।

কম রক্ষণাবেক্ষণের পোশাক: আপনি শিশুর জন্য এক হাজার এবং একটি জিনিস করতে ব্যস্ত হতে চলেছেন, এবং শেষ জিনিসটি আপনি চান এমন পোশাক যা উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। সহজে ধোয়া যেতে পারে এমন কাপড়ের সন্ধান করুন এবং যত্ন নেওয়ার পরে ন্যূনতম প্রয়োজন (আয়রণ, শুকনো-পরিস্কারের ক্ষেত্রে)।

ইলাস্টিকের জন্য নজর রাখুন: ইলাস্টিক্সের সাথে কাপড় কেনা (কোনও ধরনের বোতল, প্যান্টি ইত্যাদি) খুব জটিলও হতে পারে। সুতরাং, নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি স্থিতিস্থাপকের শক্তি পরীক্ষা করেছেন - এটি আপনার শিশুর গায়ে হালকাভাবে বসে থাকা উচিত, এবং তার ত্বকটি খনন করা বা কোনও উপায়ে চিমটি না ফেলে। সংকীর্ণ ইলাস্টিকের বিপরীতে বিস্তৃত ইলাস্টিকগুলিও সন্ধান করুন - সংকীর্ণগুলো ত্বকের ঘষা লাগতে পারে।

-

কন্যাশিশুদের ড্রেস

ঈদ পোশাকের তালিকায় কন্যাশিশুদের নানা কাটের গাউন, টপ ও শর্ট স্কার্টও দেখা যাচ্ছে। ব্লক ও অ্যাম্ব্রোয়েডারি করা সালোয়ার কামিজ ও লং স্কার্টও কিনতে পারেন। সুতি ও নেটের পোশাকের উপর সুতা, পুঁতি বা সিকুইন কাজের বাহারি ডিজাইনের পোশাক মিলছে। পোশাকের মোটিফে থাকছে ফুলেল নকশা ও কার্টুনের প্রাধান্য।

কাপড়ে থাকছে ভয়েল, সুতি, সিল্ক, জর্জেট, লিনেন, টু টোন কটন ইত্যাদি। ক্রিট, কলমকারি, এথনিক, জ্যামিতিক, ফ্লোরাল, টেক্সটাইল টেক্সচার মোটিফের ছোঁয়া রয়েছে ছোটদের ঈদের পোশাকে।

ঈদের শপিংয়ে যত ফ্যাশন সব কিছুই যেন মেয়েদের ঘিরে। ছোট্ট মেয়ে শিশুদের জন্যও এবার ঈদে বাজারে এসেছে নানা রঙ বেরঙের আর ডিজাইনের পোশাক। সুতি, সিল্ক, জর্জেট আর নিটের এই পোশাকগুলোর আবার আলাদা আলাদা কিছু নামও রয়েছে। তাছাড়া দেশীয় বুটিক হাউজগুলোতে আনা হয়েছে নানা ডিজাইনের ছোট ছোট থ্রিপিচ।

ঈদ সামনে কন্যাশিশুদের জন্য সবচে’ বেশি চলছে ফ্রিল দেয়া পার্টি ফ্রক, হাতের জমকালো কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, ঘাঘরা চোলি।

সালোয়ার ও প্যান্টের কাজে নকশা এবং কাটে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। সালোয়ার-কামিজ পরতে চাইলে কাতান, টিস্যু, মসলিন ও সার্টিনের ব্যবহার ভালো লাগবে পার্টি পোশাকে। এছাড়া সুতির কাপড় তো রয়েছেই। আর এ লাইন কাটের চল থাকছে এবার। নকশায় প্রাধান্য পাচ্ছে কারচুপি, অ্যামব্রয়ডারিসহ হাতের কাজ। আর শিশুদের জন্য বরাবরের মতো বেছে নেয়া হয়েছে উজ্জ্বল রঙ।

-

ছেলেশিশুদের ড্রেস

এবারের ঈদে ছেলেশিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রে ফতুয়া, হাফ শার্ট, টি-শার্ট এবং কাজ করা পাঞ্জাবির সঙ্গে নকশা করা কটি কিনতে পারেন। ছেলে শিশুর জন্য রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট প্যান্টের সেট। অতিরিক্ত গরমের কারণে এবারে ক্রেতারা সুতি পোশাকের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছেন। স্ক্রিণ প্রিন্ট, বিভিন্ন কার্টুনের আঁকা ডিজাইনের হাফহাতা শার্ট বা টি শার্টে ভরে গেছে দোকানগুলো। পাশাপাশি প্যান্টের মধ্যে চলছে হাফ, ফুল এবং থ্রি কোয়ার্টারের জিন্স এবং গ্যাবার্ডিন প্যান্টগুলো। এ ছাড়াও শিশুদের একরঙা শার্টের সঙ্গে ছোট্ট বো-টাইও পাবেন।

এবারের ঈদ ফ্যাশনে ছেলেশিশুদের পাঞ্জাবিতে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ডি, সিল্ক, মসলিন ও খাদি। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন রকম হাতের কাজ দিয়ে। প্রায় সমস্ত ফ্যাশন হাউজেই শিশুদের পোশাকের কাটিংয়ে নান্দনিক নকশা করা হয়েছে।

এবার ঈদ যেহেতু গরমে হতে যাচ্ছে, তাই গরমে শিশুর পোশাক কেনার সময় রঙের বিষয়েও প্রাধান্য দিতে হবে। হালকা যেকোনো রং আপনি বেছে নিতে পারেন। কারণ হালকা রংগুলো পরলে গরমে শরীর ঠান্ডা থাকে, বেশি ঘামে না। বড়-ছোট কারও জন্যই গরমে গাঢ় পোশাক পরা উচিত নয়। পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব বিষয় মাথায় রেখে ঈদে আনছে শিশুদের নতুন ড্রেস।

-

শিশুদের পোশাক কেনার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন-

  • সব শিশুরই স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্বা রয়েছে। তারা পোশাকেও অলংকরন পছন্দ করে। পোশাকের বোতাম, লেস, নকশা, ছবি, ফিতা অথবা ফুল এ সবই শিশুকে প্রলভিত করে। তাই শিশুকে তার পছন্দের রঙ বা নকশার পোশাক কিনে দিন।
  • শিশুরা তাদের বন্ধু অথবা সহপাঠীদের মত পোশাক পছন্দ করে। ঠিক এক রকম না হলেও একই নকশা বা ধরনের পোশাক ও তাদের জন্য ভারী আনন্দের।
  • শিশুদের পোশাক হতে হবে আবহাওয়া উপযোগী। যেহেতু শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাই বয়স্কদের তুলনায় তারা বেশি রোগে আক্রান্ত হয়। তাই তাদের পোশাক তাপ অনুযায়ী হওয়া বাঞ্চনীয়।
  • শিশুদের পোশাক অবশ্যই সৌন্দর্য বর্ধক হতে হবে। বেশি আঁটসাট অথবা বেশি ঢিলা পোশাক শিশুদের চলা ফেরায় বিঘ্ন ঘটায়। জুতা মোজা বেশি টাইট হলে শিশুদের হাঁটতে অসুবিধা হয়। বেশি টাইট জামা শিশুকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ফেলে। তাই সঠিক মাপের পোশাক কেনার চেষ্টা করুন।
  • নতুন পোশাক সবারই পছন্দ। শিশুদের ক্ষেত্রে সেটি বেশি প্রযোজ্য। তারা প্রতি মুহূর্তেই নতুন চায়। তাই তাকে নতুন ধরনের, ভিন্ন বর্ণের পোশাক কিনে দিন, যাতে অভিনবত্বটা বজায় থাকে। নতুন পোশাকের নব নব পরিচিতি তাদের উৎফুল্লকরে।
  • শিশুরা হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পছন্দ করে। পরিমিত ওজনের পোশাকে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যে পোশাক খুলতে বা পরতে অধিক সময় লাগে তা না কেনাই ভালো। এতে শিশু যেমন বিরক্ত বোধ করে, আপনি-ও বিব্রত হন। পোশাক শিশুর নিজে পরার উপযোগী হলে বেশি ভাল হয়।
  • শিশুকে আরাম আর নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই পোশাকের প্রয়োজন। আপনার শিশুর শখ ও চাহিদা মনে রেখে কিনে ফেলুন সোনামনির জন্য তার নতুন জামা। তার ঈদকে করে তুলুন রঙ্গিন আর ঝলমলে।
আরও পড়ুন:
বাহারি পোশাকে আনন্দের ঈদ
ঈদে এলিট লাইফের ব্যতিক্রম অফার
মাতৃত্ব আর দৃঢ়তার গল্প শুনুন নাওমি ক্যাম্পবেলের কাছে
তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার নীল রানাউত
তারকাদের জমজমাট ফ্যাশন শো

মন্তব্য

উপরে