× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

জীবনযাপন
Shopping from sidewalks to shopping malls late at night
hear-news
player
print-icon

ফুটপাত থেকে শপিংমলে গভীর রাতেও কেনাকাটা

ফুটপাত-থেকে-শপিংমলে-গভীর-রাতেও-কেনাকাটা চলছে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন শপিং মল, শো-রুম ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, পছন্দের জিনিস কিনতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। ক্রেতাদের পছন্দের জিনিস বুঝিয়ে দিতে ব্যস্ত দোকানিরা।

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। বাকি মাত্র এক বা দুই দিন। পরিবারের সবার জন্য চাই নতুন পোশাক। সাধ্যের মধ্যে সবাইকে ঈদ উপহার দিতে বড় বড় শপিংমল থেকে ফুটপাতে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।

গত দুই বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসব তেমন চাঙা হয়নি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে।

রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন শপিং মল, শো-রুম ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, পছন্দের জিনিস কিনতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। ক্রেতাদের পছন্দের জিনিস বুঝিয়ে দিতে ব্যস্ত দোকানিরা।

আলো ঝলমল বিপণীবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গ্রাহকদের আনাগোনা। পণ্য কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে হন্যে হয়ে ঘুরছে মানুষ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই বছর পর ব্যবসায় দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে উৎসবকেন্দ্রিক বাণিজ্যের পালে হাওয়া লেগেছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবার ঈদের বাজারে নেই কোনো কড়াকড়ি, বিধিনিষেধ। দীর্ঘদিন পর ক্রেতারা ফিরে এসেছেন ঈদের কেনাকাটায়।

মিরপুর-১০ এ শাহ আলী মাকের্টে জুতা কিনতে আসা রায়হানা শামস বলেন, ‘এই মার্কেটে কম দামে নতুন ডিজাইনের জুতা পাওয়া যায়। অনেক জুতার দোকান আছে, তাই প্রতি বছরই জুতা কিনতে আসি এখানে। কিন্তু এবার অন্যান্যবারের তুলনায় দাম বেশি। আগে যে জুতা ৭০০ বা ৮০০ টাকায় কিনেছি, এখন সেসব জুতা কিনতে হাজারের উপর টাকা গুণতে হচ্ছে।’

পাঞ্জাবি কিনতে আসা আবদুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের সবার জন্য কেনা শেষ। এখন নিজের জন্য পাঞ্জাবি কিনব। এবার পোশাকে দাম চড়া।’

ফুটপাত থেকে শপিংমলে গভীর রাতেও কেনাকাটা
চলছে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মেসার্স মিয়াদ স্টোরের ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এবার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে।

ঈদের আর দুই দিন বাকি। গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। আর ঈদের আগে চাঁদ রাতে সারা রাত বিক্রি করবেন তারা।

প্রতিটি বিপণীবিতানে দেখা গেছে প্রচণ্ড ভিড়। ভিড় ঠেলে দোকান পর্যন্ত পৌঁছাতে ক্রেতাদের গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। ক্রেতার চাপে হাঁপিয়ে উঠেছেন বিক্রেতারাও।

মিরপুর বেনারসি পল্লীতেও দেখা যায় একই চিত্র।

ব্যবসায়ীরা জানান, বেনারসি পল্লীতে পাইকারি বিক্রি বেশি। ২৫ রমজানের মধ্যে পাইকারি বিক্রি শেষ হয়েছে। দিনে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার কেনাবেচা করেছেন তারা। এখন খুচরা ক্রেতারা শাড়ি কিনছেন। নারীদের জামদানি শাড়ির চাহিদা বেশি। অনেকে আবার সুতি শাড়িও কিনছেন।

এখানকার বিক্রেতারাও বললেন, গত দুই বছর ব্যবসায় লোকসান ছিল। এবার ঋণ করে ভয়ে ভয়ে বিনিয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু তাদের হতাশ হতে হয়নি। এ বছর প্রথম রোজা থেকেই বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিনই বিক্রি বাড়ছে। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাণিজ্য হবে বলে আশা করছেন তারা।

মিরপুর-২ এর বিভিন্ন শো রুমেও ক্রেতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বৈশাখী, চন্দ্রবিন্দু, ক্যাটস আই, অঞ্জনস, কে ক্রাফট, জেনটেল পার্ক, গ্রামীণ চেক, ইজিসহ বিভিন্ন শো-রুম ঘুরে দেখা গেছে, পছন্দের পোশাক কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রাত দিন ক্রেতা সমাগম ঘটছে। আর বেচাবিক্রিও বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। সকালে দোকান খোলার পর থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়, চলে সেহরির আগ পর্যন্ত। সন্ধ্যায় ইফতারির সময় কিছুটা ভিড় কম থাকে। প্রায় প্রতিটি দোকানে ক্রেতার চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মিরপুর-২ শোরুমের সামনের ফুটপাতও ছিল জমজমাট। বিভিন্ন দাম বলে হাঁকডাক দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ফুটপাতগুলোতে বসছে ব্যাগ, প্রসাধনী, চিরুণী, ইফতার সামগ্রী, কম মূল্যের জুতা, আতর-সুরমা, টুপিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

ফুটপাত থেকে জামা কিনছিলেন মো. রফিক। তিনি বলেন, ‘শোরুমে বেশি দাম, তাই ফুটপাত ঘুরে দেখছি। দামে মিললেই কিনে নেব। ঈদের বাকি দুই দিন। এ জন্য পরিবারের সবার জন্য সাধ্যের মধ্যে কিনব।’

ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, করোনার দুই বছরে কোনো বেচাবিক্রি হয়নি। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন তারা। কিন্তু এবার অবস্থা ফিরেছে। প্রথম দশ রোজা পর্যন্ত কম বিক্রি ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিক্রি ভালো।

আরও পড়ুন:
সুতার দামে অস্থিরতা, বাবুরহাটে কাপড়ের দাম বেশি
ঈদের খুশিতে লাপাত্তা করোনা!
ঈদ শপিংয়ে চিড়েচ্যাপ্টা স্বাস্থ্যবিধি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Kazi Nazrul Islam Betrayal love who remembers as well

দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি

দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
কাজী নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম হয় তার।

দেশে সম্প্রতি কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান ও গানটি লেখার পেছনের গল্প নিয়ে বেশ ভালোই তর্ক-বিতর্ক হয়ে গেল।

নজরুলের লেখা ‘বাগিচায় বুলবুলি’ গানটি কোক স্টুডিও বাংলা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পর সমালোচকরা বলছেন, গানটি নজরুল লিখেছিলেন পুত্র হারানোর শোকে।

পরে অবশ্য নজরুল পরিবারের সদস্য খিলখিল কাজী এবং অনির্বাণ কাজী নিশ্চিত করেন যে, ‘বাগিচায় বুলবুলি’ গানটি পুত্র হারানোর শোকে নয়। বিতর্ক মিটে গেল, কিন্তু রয়ে গেল এক পিতার পরিচয়। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, যাকে ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘সাম্যের কবি’, ‘প্রেমের কবি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

তার বিভিন্ন লেখায় প্রকাশ পায় বিদ্রোহী ভাব। কবির কলমে বের হয়ে আসে, ‘মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ ভূমে রণিবে না/বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত।’

পুত্র হারানো শোকগ্রস্ত বাবার আবেগও বেরিয়ে আসে কবির কাব্য, লেখা, সুর ও গানে। কবি লেখেন, ‘ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি/করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঝের ঝরা ফুলগুলি/ফুল ফুটিয়ে ভোরবেলাকে গান গেয়ে/নীরব হ’লো কোন বিষাদের বান খেয়ে/বনের কোলে বিলাপ করে সন্ধ্যারাণী চুল খুলি।’

কবির আরেক ছেলে কাজী সব্যসাচীর স্মৃতিচারণামূলক লেখা থেকে জানা যায়, একদিন নজরুলের বাড়ি তল্লাশি করতে আসে কলকাতা পুলিশ। নিষিদ্ধ কোনো বই তার কাছে আছে কি না, সেটা খুঁজতেই তল্লাশি। ‘বিষের বাঁশি’, ‘ভাঙার গান’, ‘প্রলয়শিখা’ বাজেয়াপ্ত ছিল তখন। শুরু হলো তল্লাশি। নজরুল এতে কোনো বাধা দিলেন না।

খোঁজাখুঁজি করে কিছুই পেল না পুলিশ। বাড়ির জিনিসপত্রের অনেক কিছুই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেদিকে নজর নেই কবির।

হঠাৎ একটা বাক্সের দিকে নজর গেল পুলিশের। ওই দিকে এগোতেই কবি পাগলের মতো হয়ে গেলেন। তল্লাশি চালাতে আসা পুলিশের দলটির প্রধানকে অনুরোধ করে বললেন, ‘আর যাই করুন, এ বাক্সে হাত দেবেন না।’

পুলিশ সদস্যও জেদ করে বাক্স খুলে দেখলেন। পাওয়া গেল খেলনা ও ছোট ছেলের জামা, সুন্দরভাবে সাজানো। সেগুলো ছিল নজরুলের প্রয়াত ছেলে বুলবুলের স্মৃতি। লজ্জিত পুলিশ দলের প্রধান দেখলেন, চোখে পানি টলমল করছে নজরুলের।

যে বুকে এত দ্রোহ থাকে, সেই বুকে যে সন্তানের জন্য অনেক ভালোবাসাও থাকে, এ যেন তারই উদাহরণ।

প্রেমিক নজরুল প্রচণ্ড স্পর্ধা রাখেন। যেমন: তার ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দেব খোঁপায় তারার ফুল/কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির, চৈতী চাঁদের দুল’ গানে প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল পরানোর বাসনার কথা শুনে প্রেমিক মনের স্পর্ধার কথা বোঝা যায়।

সাম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারেও তার লেখাই যেন আশ্রয়। নজরুল লিখেন, ‘এল নন্দের নন্দন নব-ঘনশ্যাম/এল যশোদা-নয়নমণি নয়নাভিরাম/এল যশোদা-নয়নমণি নয়নাভিরাম/প্রেম রাধা-রমণ নব বঙ্কিম ঠাম/চির-রাখাল গোকুলে এল গোলক ত্যজি/কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী/কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী।’

তুমুল প্রতিভাধর এ মানুষটির জন্মদিন আজ। ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম হয় তার।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৫ মে কবি জন্মদিনে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে। ঢাকায় এনে তাকে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কবির ‘চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’কে সামরিক সংগীত হিসেবে নির্বাচিত করে তাকে সম্মানিত করা হয়।

১৯৭৬ সালে নজরুলকে দেয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। ওই বছরের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় জাতীয় কবির।

মৃত্যুর পর কবির ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত জাতীয় কবি।

আরও পড়ুন:
‘রবি’কে নজরুল নাতনির ‘ধিক’
‘বহুমাত্রিক দর্শনের সমাহার ঘটিয়েছিলেন জাতীয় কবি’
মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা ছিলেন নজরুল: কাদের
সংকটে প্রেরণা নজরুল: খালিদ
বিদ্রোহী কবির জন্মদিন

মন্তব্য

জীবনযাপন
Gathering of devotees at Rajban Bihar to celebrate Buddha Purnima

বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের সমাগম

বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের সমাগম বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নানা এলাকা থেকে হাজারও পুণ্যার্থী আসেন রাজবন বিহারে। ছবি: নিউজবাংলা
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নানা এলাকা থেকে রাজবন বিহারে আসেন হাজারও পুণ্যার্থী। বুদ্ধের মাথায় পানি ঢেলে তারা সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের পায়ে শ্রদ্ধা জানান।

রাঙ্গামাটিতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা।

বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে সকালে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা ও রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভিক্ষু ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।

এরপর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি থেকে রাজবন বিহার পর্যন্ত গৌতম বুদ্ধের ধাতু প্রদক্ষিণ করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রা শেষে রাজবন বিহারে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।

প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির বিশ্বে শান্তি ও মঙ্গল প্রার্থনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, হাজার বাতিদান, টাকা দান, ফানুসবাতি উৎসর্গ ও দান।

বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের সমাগম

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে নানা এলাকা থেকে রাজবন বিহারে আসেন হাজারও পুণ্যার্থী। বুদ্ধের মাথায় পানি ঢেলে তারা সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের পায়ে শ্রদ্ধা জানান।

জল্পনা চাকমা নামের এক পুণ্যার্থী বলেন, ‘বুদ্ধের তিন স্মৃতিবিজড়িত এই দিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে পরিবার ও নিজের মঙ্গল প্রার্থনার উদ্দেশ্যে বিহারে এসেছি।’

গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ উপলক্ষে প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। রোববার সারা দেশে বুদ্ধপূর্ণিমার উৎসব হলেও রাজবন বিহারে হচ্ছে এক দিন পর।

রাজবন বিহারের বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েকজন ভিক্ষু জানান, রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি। রোববার বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন করলে তা বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে পড়ে না। তাই সোমবার সব আয়োজন করা হয়েছে।

এই আয়োজনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নিখিল কুমার চাকমা ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান ও পঞ্চশীল পাঠ করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা।

আরও পড়ুন:
সাড়ম্বরে পালিত বুদ্ধপূর্ণিমা
বুদ্ধপূর্ণিমা আজ
বুদ্ধপূর্ণিমায় করোনা মুক্তির প্রার্থনা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Buddha Purnima was solemnly celebrated

সাড়ম্বরে পালিত বুদ্ধপূর্ণিমা

সাড়ম্বরে পালিত বুদ্ধপূর্ণিমা ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর নির্বাণলাভের দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন ভক্তরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
রোববার রাজধানীর অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরের মতো মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মন্দিরেও ছিল নানারকম আয়োজন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বৌদ্ধ বিহারে এসে আনন্দ প্রকাশ করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

করোনায় দুই বছর কিছুটা অনাড়ম্বরভাবে পালিত হলেও এবার সাড়ম্বরেই পালিত হলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা।

রোববার রাজধানীর অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরের মতো মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মন্দিরেও ছিল নানারকম আয়োজন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বৌদ্ধ বিহারে এসে আনন্দ প্রকাশ করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

এতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি।

তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ বসবাসের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ফরিদুল হক খান বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির ধর্ম। সব ধর্মেই বলা আছে শান্তি ও সম্পৃতির কথা। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একটি ধর্ম নিরপেক্ষ শান্তি-সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে সকল বৌদ্ধমন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের বাইরেও বৌদ্ধমন্দিরে প্রধানমন্ত্রী সহায়তা প্রদান করেছেন।’

বৌদ্ধ ভিক্ষু সুনিন্দ মিত্র বলেন, ‘মনের শুদ্ধি লাভ করাটাই আজকের দিনের প্রার্থনা। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক– গৌতম বুদ্ধের এই বাণী মাথায় রেখে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই একমাত্র লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথেরর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত সুদর্শন দীপাল সুরেশ সিনিভিরন্তে। বোদ্ধ ধর্মের ভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রাজবন বিহারে বুদ্ধপূর্ণিমা ১ দিন পর কেন?
বুদ্ধপূর্ণিমা আজ
বুদ্ধপূর্ণিমায় করোনা মুক্তির প্রার্থনা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Buddhas philosophy can play a role in preventing war President

যুদ্ধ-বিগ্রহ রোধে বুদ্ধের দর্শন ভূমিকা রাখতে পারে: রাষ্ট্রপতি

যুদ্ধ-বিগ্রহ রোধে বুদ্ধের দর্শন ভূমিকা রাখতে পারে: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।
মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। অহিংসা পরম ধর্ম- বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।’

অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগত হানাহানি রোধসহ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শনিবার এক বাণীতে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহামতি বুদ্ধ ছিলেন জীবের মঙ্গল কামনায় সত্যসন্ধ। পৃথিবীকে সুখী ও শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য তিনি নিরন্তর প্রয়াস চালান। বুদ্ধের চেতনায় ছিল দুঃখ জয়ের মাধ্যমে জীবের মুক্তি কামনা। তিনি মানব জীবনে দুঃখ ও দুঃখের কারণ এবং তা নিবারণের উপায় সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন, যা চতুরার্য সত্য নামে পরিচিত।’

আব্দুল হামিদ বলেন, ‘মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। অহিংসা পরম ধর্ম- বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।

‘প্রাচীনকাল থেকে বাংলার জনপদের সঙ্গে বৌদ্ধ সভ্যতা ও কৃষ্টি গভীরভাবে মিশে আছে। পাহাড়পুর ও ময়নামতি শালবন বিহার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানাদি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে আসছে। এটা এ দেশের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য।’

আরও পড়ুন:
ইটনায় স্কুল, কলেজ ও সেতু পরিদর্শন রাষ্ট্রপতির
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পাঁচ দিনের সফরে কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি
৫ দিনের সফরে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র দিলেন ৯ দেশের দূত

মন্তব্য

জীবনযাপন
Poets philosophy must be used Speaker

কবিগুরুর দর্শন কাজে লাগাতে হবে: স্পিকার

কবিগুরুর দর্শন কাজে লাগাতে হবে: স্পিকার কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনের জাতীয় অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
স্পিকার বলেন, ‘কবিগুরুর সত্য ও সুন্দরের দর্শন কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। কুঠিবাড়ির গুরুত্ব অনুধাবন করে এর উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। সরকারের কাছে আমার এমনই প্রত্যাশা।’

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কবিগুরুর সত্য ও সুন্দরের দর্শন কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

কুষ্টিয়ায় রোববার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠানে তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি এ আহ্বান জানান।

স্পিকার বলেন, ‘বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ির ঐতিহ্য ও গৌরব বিরল। এটা আমাদের গর্ব। কুঠিবাড়ি সম্পর্কে যেন দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারেন, গবেষণা করতে পারেন।

‘কবিগুরুর সত্য ও সুন্দরের দর্শন কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। কুঠিবাড়ির গুরুত্ব অনুধাবন করে এর উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। সরকারের কাছে আমার এমনই প্রত্যাশা।’

কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার কুঠিবাড়ির ঐতিহাসিক বকুলতলায় একটি বকুলগাছের চারা রোপণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা পাঠ ও নাটক মঞ্চায়ন হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কুঠিবাড়িতে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরিবিলি পরিবেশ এবং জমিদারি দেখাশোনার জন্য বারবার কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়িতে এসেছেন কবিগুরু। প্রত্যন্ত শিলাইদহে কেটেছে কবির জীবনের অনেকটা সময়।

আরও পড়ুন:
রাজনীতি ও রবীন্দ্রনাথ 
আমার রবীন্দ্রনাথ
‘…তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময়’
বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুই কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন
রবীন্দ্রনাথ: জীবনের পরতে পরতে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Rabindra Jayanti celebrations in two Kachari Bari with colorful arrangements

বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুই কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুই কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়ি মিলনায়তনে আয়োজিত জন্মবার্ষিকী উৎসব। ছবি: নিউজবাংলা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের পতিসরে এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই কাচারিবাড়িতে উদযাপিত হচ্ছে তার ১৬১তম জন্মবার্ষিকী।

২৫শে বৈশাখ মানেই গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দিনে নানা আয়োজনে কবিগুরুকে স্মরণ। এবারে দেশের নানা জায়গায় বৃষ্টির কারণে খরতাপ নেই। তবে বৃষ্টি বন্ধ করতে পারেনি কোনো আয়োজন।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের পতিসরে এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই কাচারিবাড়িতে উদযাপিত হচ্ছে তার ১৬১তম জন্মবার্ষিকী।

নওগাঁয় কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে রোববার সকাল ১০টার দিকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ফেস্টুন ও কবুতর উড়িয়ে জন্মোৎসব উদ্বোধন করেন।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুই কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন

কয়েকটি পর্বে সাজানো হয়েছে পুরো দিনের আয়োজনকে। এর মধ্যে আছে চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রথম পর্বে ‘রং-তুলিতে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এই প্রদর্শনীতে অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও নওগাঁ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা।

এরপর দেবেন্দ্র মঞ্চে ‘মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নওগাঁ ৩ আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার, ৬ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল ও জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের একজন দিকপাল। বাঙালির জীবনে নানা অনুষঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এখনও প্রাসঙ্গিক। বাঙালি জীবনের যত বৈচিত্র্য আছে তার পুরোটাই উঠে এসেছে কবিগুরুর কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাসে।

‘কবিগুরু তার লেখনীতে মানবতার সংকট থেকে উত্তরণের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রবীন্দ্র সাহিত্য চর্চা করলে মানবজীবনের নানা সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

শাহজাদপুরে কাচারিবাড়ি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুই কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন, তিনি একজন মহাপুরুষ। আমার মতো মানুষের কবিকে নিয়ে বক্তব্য দেয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার। রবীন্দ্রনাথ একজন জমিদার বংশের লোক হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।

‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বকবিকে বুকে ধারণ করেছিলেন বলেই তিনি সাধারণ মানুষকে ভালোবাসতেন, গান ভালোবাসতেন, কবিতাকে ভালোবাসতেন। আমরা যদি রবীন্দ্রনাথকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে পারতাম তাহলে আমাদের অবস্থান আরও উন্নত শিখরে থাকত।’

আমাদেরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনকে অনুসরণ করে জীবন গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফারুক আহাম্মদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা।

আরও পড়ুন:
রবীন্দ্রনাথ: জীবনের পরতে পরতে
রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী: কুঠিবাড়িতে ৩ দিনের আয়োজন
বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মবার্ষিকী
রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়িতে বর্ণিল সজ্জা
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে পুলিশের ভালোবাসা পেল পথশিশুরা

মন্তব্য

জীবনযাপন
3 day event on Rabindranaths birth anniversary at Kuthibari

রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী: কুঠিবাড়িতে ৩ দিনের আয়োজন

রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী: কুঠিবাড়িতে ৩ দিনের আয়োজন কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনের জাতীয় অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিদিন আলোচনা ছাড়াও থাকছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাটক প্রদর্শন। অনুষ্ঠানের জন্য কুঠিবাড়ির মূল চত্বরে বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। আর কুঠিবাড়ির বাইরে বড় মাঠে বসেছে গ্রামীণ মেলা। মেলাও চলবে তিন দিন।

কুষ্টিয়ায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হচ্ছে তিন দিনের জাতীয় অনুষ্ঠান। থাকছে গ্রামীণ মেলারও আয়োজন।

কবির স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হচ্ছে এ আয়োজন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিন দিনের এ বর্ণিল অনুষ্ঠানমালা চলবে।

প্রতিদিন আলোচনা ছাড়াও থাকছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাটক প্রদর্শন। অনুষ্ঠানের জন্য কুঠিবাড়ির মূল চত্বরের ভেতর বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আর কুঠিবাড়ির বাইরে বিশাল মাঠে বসেছে গ্রামীণ মেলা। এটিও চলবে তিন দিন।

আয়োজন নিয়ে তরুণ রবীন্দ্র গবেষক রেফুল করিম বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯১ সালে প্রথম কুষ্টিয়ার শিলাইদহে ছায়াশীতল নিরিবিলি এ কুঠিবাড়িতে আসেন। জমিদারি পরিচালনার উদ্দেশ্যে আসলেও রবীন্দ্রনাথ পুরোটা সময় মগ্ন ছিলেন সাহিত্য রচনায়। তিনি গীতাঞ্জলির অধিকাংশ কাব্য এখানে বসে রচনা করেছেন।

‘আর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও রচনা করেন এ কুঠিবাড়িতেই। পদ্মাপারের এই শিলাইদহ গ্রামের চিত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের পট এঁকেছিলেন।’

রেফুল আরও বলেন, ‘এই এলাকার প্রজারা রবীন্দ্রনাথকে খুব ভালোবাসতেন। এই কুঠিবাড়িকে তারা ঠাকুরবাড়ি হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। কুঠিবাড়িতে তিনি হিন্দু-মুসলিম সবাইকে এক কাতারে বসিয়েছেন। কৃষকদের জন্য ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

‘তাই রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে প্রতি বছর শিলাইদহে মানুষের ঢল নামে। প্রাণের মানুষ, মনের মানুষ রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন যা আছে, কুঠিবাড়ির ভেতর ঘুরে ঘুরে দেখেন দর্শনার্থীরা। এত বছর পরও সাহিত্য ও দর্শনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমান প্রাসঙ্গিক।’

করোনায় গত দুই বছর কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ায় এবার রবীন্দ্রপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যেতে পারে কুঠিবাড়িতে।

আরও পড়ুন:
বিশ্বকবির ১৬১তম জন্মবার্ষিকী
রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়িতে বর্ণিল সজ্জা
তুমি রবে নীরবে
রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসেও নীরব কাচারিবাড়ি
কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে ছায়ানটের আয়োজন

মন্তব্য

p
উপরে