× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
Cries of wife abandoned men on WhatsApp
google_news print-icon

স্ত্রী পরিত্যক্ত পুরুষদের হাহাকার হোয়াটসঅ্যাপে

স্ত্রী-পরিত্যক্ত-পুরুষদের-হাহাকার-হোয়াটসঅ্যাপে
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। নিজেদের সহায়-সম্বল দিয়ে স্ত্রীদের আগে পাঠিয়েছিলেন পিআর-এর পথ সুগম করতে। তবে দেশটিতে পৌঁছে অল্প দিনেই স্বামীদের ভুলে গেছেন স্ত্রীরা। অনেকে বেছে নিয়েছেন বিদেশি সঙ্গী। সেই হতাশা এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পরিত্যক্ত স্বামীদের।

ঝুজর সিংয়ের বিয়েটা আচমকাই হয়েছিল। তিন বছর আগে উত্তর ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা ঝুজর যখন ২৪ বছরের টগবগে যুবক, বিয়ে করেন ১৮ বছরের এক তরুণীকে।

পারিবারিকভাবে আয়োজিত হওয়ায় বিয়ের আগে মাত্র কয়েকবারের জন্য হবু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল ঝুজরের। ধীরে ধীরে মেয়েটির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। একদিন ঝুজরকে তার স্ত্রী জানায় নিজের স্বপ্নের কথা। বলেন, কানাডায় থিতু হতে চান তিনি।

কানাডায় বাস করা অভিবাসীর বড় একটা অংশ পাঞ্জাবের। সেখানে তাদের অবস্থান বেশ শক্ত। কানাডায় ব্যবহৃত ভাষাগুলোর মধ্যে পাঞ্জাবি তৃতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা তারই প্রমাণ। এ ছাড়া কানাডার পার্লামেন্ট সদস্যদের অনেকেই পাঞ্জাবের। সংখ্যাটা ভারতের পার্লামেন্টে পাঞ্জাবের সদস্যদের চেয়ে বেশি।

ঝুজর জানতেন পড়াশোনায় ঢের ভালো তার স্ত্রী। তাই ঝুঁকিটা নেন। শুরু হয় তার স্ত্রীর কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতি।

আনন্দের সঙ্গেই ঝুজর এতে টাকা ঢেলেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, স্ত্রী একবার কানাডায় স্থায়ী হতে পারলে, তার যাওয়ার পথটা মসৃণ হবে।

ভাইসকে ঝুজর জানান, স্ত্রীর বিদেশ যাত্রার জন্য ভিসা ফি, টিকিট, কাপড়, বাসস্থান ও আইইএলটিএস ফি বাবদ ২৪ হাজার ডলার খরচ হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই মাস আমরা নিয়মিত যোগাযোগে ছিলাম। প্রায় প্রতিদিনই ভিডিও কলে কথা বলতাম। এরপর থেকে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমার নম্বর ব্লক করে, কানাডার ঠিকানাও বদলে ফেলে।’

ঝুজর একা নন, যিনি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। তিনিসহ আরও ৮০ জনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। হোয়াটসঅ্যাপে তারা একটি গ্রুপ খুলে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। উপযুক্ত নামও দেয়া হয়েছে গ্রুপের, ‘থুগিয়া দে পিডিট’। যার অর্থ জালিয়াতির শিকার।

পাঞ্জাবের বাথিন্দা শহরের রবিন্দর ভালো এই গ্রুপের অন্যতম সদস্য। ভাইসকে তিনি বলেন, কানাডায় যাওয়ার চার মাসের মধ্যে সে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করে দেয়। তারপর থেকে তার খোঁজ পাইনি। গোটা পাঞ্জাবজুড়েই এই অবস্থা।’

স্ত্রী পরিত্যক্ত পুরুষদের হাহাকার হোয়াটসঅ্যাপে

রবিন্দর ভালোর বিয়ের দিন। ছবি: সংগৃহীত

এই গ্রুপের সবার গল্প অনেকটা একই রকম। স্বামী ও তার পরিবার স্ত্রীকে কানাডায় পড়াশোনার অর্থায়ন করেন। সবার আশা থাকে, স্ত্রী কানাডার নাগরিকত্ব পেলে স্বামীকে সেখানে নিয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কয়েক মাসের মাথায় সম্পর্ক আর টেকে না। স্ত্রী কানাডায় গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অনেকে সঙ্গী খুঁজে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন।

স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবিবিএনএইচআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সতবিন্দর কৌর বলেন, ‘গ্রামে পাঞ্জাবি নারীদের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। কোনো মেয়ের অভিভাবক এই দাবি করতে পারবেন না। এই মেয়েগুলো যখন কানাডার মতো একটি দেশে যান, সেখানে তারা ব্যক্তিস্বাধীনতা নামক বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত হন। সেটা উপভোগ করার চেষ্টা করেন। আর এ কারণেই তারা আগের জীবনে ফিরতে চান না।’

এসব ঘটনা হয়তো স্বামী ছেড়ে দেয়া নারীদের স্বার্থপর হিসেবে প্রমাণ করে। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবিন্দর কৌর নারীদের এমন আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এই অধ্যাপক বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য তারা স্বামী থেকে দূরে থাকেন। নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া, সেখানের নতুন জীবনধারায় এক ধরনের দোটানায় পড়েন তারা। তখন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি পার্লামেন্টে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের কাছ থেকে চার হাজার ৬৯৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্ত্রী পরিত্যক্ত পুরুষের সংখ্যার আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই৷ ভাইস এমন স্বামী পরিত্যক্ত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিল। তবে কেউই সাড়া দেননি।

কীভাবে এই প্রবণতার শুরু এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক রবিন্দর বলেন, ‘আসলে পাঞ্জাবের বেশির ভাগ পুরুষ আত্মতুষ্টিতে ভোগেন। তাদের অনেকের কৃষি জমি থাকে। কাজ করার চেয়ে ঘুরে বেড়াতেই স্বাছন্দ্যবোধ করেন তারা। এ ছাড়া মাদক ও অ্যালকোহলের আসক্তি তো আছেই।’

রবিন্দর আরও বলেন, ‘পাঞ্জাবি নারী-পুরুষের চিন্তাভাবনা ও সামাজিক সক্ষমতার প্রায়শ অমিল থাকে। তাই যখন নারী কানাডায় পাড়ি জমান, তাদের বদলে যাওয়ার প্রবণতা প্রবল হয়ে ওঠে।’

কিন্তু এসব মানতে নারাজ ঝুজর। তার মতে, কানাডায় একবার ঢুকতে পারলে নারীরা পরিবারের অবাধ্য হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘বয়স এখানে বড় বিষয়। বেশির ভাগের বিয়ে হয় ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। নতুন পরিবেশে তারা বদলে যান।

‘আমার স্ত্রীর এখন ছেলেবন্ধু আছে। ওর রুমমেট আমাকে জানিয়েছে। বলেছে, বাসা ভাড়া না দিয়েই একদিন সে চলে যায়।’

লাভপ্রীত সিং নামে ২৪ বছরের এক যুবকের উদাহরণ তুলে ধরেন ঝুজর। বলেন, গত বছরের জুনে পাঞ্জাবের একটি ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। ওর স্ত্রী বেন্ট কৌর কানাডায় গিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

কিন্তু ভারতের আইনে পরিত্যক্ত স্বামীদের জন্য আইনি প্রতিকার সীমিত। ভারতে এমন কোনো আইন নেই, যা পরিত্যক্ত স্বামীদের স্বীকৃতি দেয়।

পাঞ্জাব সরকারের জন্য এনআরআই কর্মকর্তা নীরজা ভি বলেন, ‘যদি কেউ পরিত্যক্ত হন, তাহলে তারা আইনি আশ্রয় নিতে পারেন। তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে ৪২০ ধারায় (প্রতারণা) মামলা করতে পারেন অথবা ৪৯৮ ধারার ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা যেতে পারে। যদিও এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অধিকার কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত।’

কিন্তু ঝুজর ও তার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যরা এসব বিশ্বাস করেন না। কানাডিয়ান দূতাবাসে আসা-যাওয়া করতে করতে ক্লান্ত ঝুজরের পরিবার একসময় তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতায় আসে। ঝুজরের পরিবারের খরচ হওয়া টাকা ফেরত দেবেন তার সাবেক স্ত্রী।

ঝুজর বলেন, ‘পাওনার অর্ধেকের বেশি এখনও পরিশোধ করেনি। আমি এখন আমার ভাগ্য মেনে নিয়েছি। কত যুদ্ধ করতে পারি? সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Two dead bodies of a young man and a woman with their hands and feet tied were recovered from Feni

ফেনীতে যুবকের গলাকাটা ও নারীর হাত-পা বাঁধা দুই মরদেহ উদ্ধার

ফেনীতে যুবকের গলাকাটা ও নারীর হাত-পা বাঁধা দুই মরদেহ উদ্ধার ফাইল ছবি

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নিজ বাড়ির সামনে যোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবকের গলা ও হাতকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৭ জুন) ছাগলনাইয়ায় ঘোপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজকুঞ্জরা গ্রামে যোবায়ের হোসেন পারভেজকে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পারভেজ ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী ছিলেন। অনেকেই বলছেন তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

পারভেজের বাবা আবু তাহের দাবি করেন, প্রতিবেশী সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারভেজের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় একটি দোকানে মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধের জেরেই পারভেজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৫টি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি যুবলীগের সমর্থক ছিলেন বলে জানতে পেরেছি।

ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিহতের স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, ফেনীর ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম কাজল (৩৫)। তিনি তিন সন্তানের জননী এবং ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী।

জানা গেছে, নিহত কাজলের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সিলোনীয়া মাদরাসা এবং মেজো ছেলে তালবাড়িয়া মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাতে কাজল তার মাত্র দুই বছর বয়সী ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘরে একাই ছিলেন। গভীর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের উপরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কাজলের হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান।

এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ওসি এম এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The family of Banlata Halder who has been chained for 18 years wants medical help

১৮ বছর শিকলবন্দি বনলতা হালদারের জীবন, চিকিৎসা সহায়তার আকুতি পরিবারের

১৮ বছর শিকলবন্দি বনলতা হালদারের জীবন, চিকিৎসা সহায়তার আকুতি পরিবারের ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর ডাসার উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় বিচিত্রা হালদারের কন্যা পিতৃহীবনলতা হালদার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে ১৮ বছর ধরে গাছের সাথে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও নবগ্রামের শশিকর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদারে কাছ থেকে আলাদাভাবে জানা যায়, তার মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবার বিষয়টি তাদের নজরে এলে যথাক্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন কার্যালয় দপ্তর হতে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চালু করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, সরকারিভাবে তার সুচিকিৎসা সহায়তার জন্য উক্ত পরিবারের অভিভাবকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার বিবরণে মানসিক প্রতিবন্ধী বনলতার বৃদ্ধা মা বিচিত্রা হালদার, তার দুই ভাই ও দুই বৌদি জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে বনলতা সম্পূর্ণ সুস্থ্য ছিল, স্কুলে যেত, লেখাপড়া করত কিন্তু হঠাৎ করে পেটে প্রচণ্ড ব্যাথার জন্য ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলে তার পেটে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং এতে সে অনেকটা সুস্থ্য হয়েও উঠলেও তার মধ্যে ক্রমান্বয়ে অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়।

পরবর্তীতে সে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। প্রথম-প্রথম তাকে খোলামেলা রাখা হলেও পাগলামি বেড়ে যাওয়ায় পরে তাকে গাছের সাথে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। সেই থেকে বনলতা হালদার দেড় যুগ তথা ১৮ বছর যাবৎ খোলা আকাশের নিচে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অসহায় ও গরিব পরিবারটির আশা সরকারিভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা করা হলে পিতৃহারা বনলতা সুস্থ্য হয়ে

আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হবে এবং পরিবারের সবার সীমাহীন কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে যাবে। এছাড়াও তারা সমাজের বিত্তবান সহ সবাইকে তার সুচিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার অনুরোধ করেছেন।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Job aspirants complain of nepotism in outsourcing recruitment at Bagerhat Hospital

বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ চাকরি প্রত্যাশীদের

বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ চাকরি প্রত্যাশীদের ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে সুপারিশ এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাকরি প্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।

‎জানা যায়, হাসপাতালের ৯৪ জন কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজটি লাভ করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাবেক এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদন গ্রহণ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে পরীক্ষার ফলাফলের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত সুপারিশ ও তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‎এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৬৬ জন কর্মীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অভিযোগমুক্ত কর্মীদের বহাল রাখার পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মত দিলেও এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

‎চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরবর্তীতে জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) জমা দিয়ে নিয়োগ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অভিযোগটি সত্য হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে চাকরি হারালে পরিবার নিয়ে সংকটে পড়তে হবে।’

‎তারা যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

‎এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় যারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে পূর্বে কর্মরত যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’

‎তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Besides mother Sifat with three daughters is lying in eternal sleep in 4 graves

পাশাপাশি ৪ কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত তিন কন্যাসহ মা, বাকরুদ্ধ সিফাত

পাশাপাশি ৪ কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত তিন কন্যাসহ মা, বাকরুদ্ধ সিফাত ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের মরদেহ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে মা ও তিন মেয়েকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।

হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখতে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে মো. সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সিফাত একাই মা ও তিন বোনের মরদেন নিয়ে হোমনায় পৌঁছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। প্রিয়জনদের হারানোর শোকে সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।

জানাযার নামাজে উপস্থিত হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও সিফাতের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করবেন।

উল্লেখ্য, ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি পাঁচ তলা ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই শাহীনূর আক্তার, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার (১০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান মেঝো মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তার। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হামলাকারী অন্তর মজুমদারও নিহত হয়।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The Minister of State ordered to speed up the work to prevent the erosion of the Karatoya river

করতোয়া নদীভাঙন রোধে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

করতোয়া নদীভাঙন রোধে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তিনি উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী এলাকা এবং দেবীডুবা ইউনিয়নের দাড়ারহাট তেলীপাড়া এলএলপি, দাড়ারহাট ডাক্তারপাড়া ও সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে প্রায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দাড়ারহাট ও তেলীপাড়া এলাকার প্রতিরক্ষা কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে।

তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, ‘এ কাজ জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হবে। তাই কাজের মান সঠিকভাবে বুঝে নেবেন এবং তদারকি করবেন। কোথাও যেন প্রকল্প এলাকার আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে কাজ না করা হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।’

এ সময় তিনি করতোয়া নদীতে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

মন্তব্য

জীবনযাপন
Son arrested for brutal attack on old mother for greed of property

সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলা, ছেলে গ্রেপ্তার

সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলা, ছেলে গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর ধামইরহাটে মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশে বৃদ্ধ মায়ের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগে এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ছেলে প্রথমে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা ৬৭টি বছর বয়সি আনজুমান আরার নামে কিছু জমিজমা রয়েছে। ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন শামীম হত্যার উদ্দেশে ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আনজুমান আরা চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে গেলে গত ১৪ জুন পুনরায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় শামীম ধারালো চাকু দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয় বলে গত ২৪জুন করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নজরে আনা হলে তার নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিনের ধারাবাহিক অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পিতামাতার প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মন্তব্য

জীবনযাপন
A day long discussion meeting was held in Khulna on the occasion of Holy Ashura

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে খুলনায় দিনব্যাপী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে খুলনায় দিনব্যাপী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় চৌদ্দশত বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

১লা হতে ১০ মহররম পর্যন্ত এই আলোচনা সভায় মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। সমাপনী দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র শাহাদত স্মরণে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ি হতে এক শোক মিছিল বের করা হয়।

শোক মিছিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী বলেন: ‘কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনায় মুসলমানদের জন্য এক গভীর শিক্ষা রয়েছে। কারবালার আদর্শ মুসলমানদের অন্যায় ও মিথ্যার সাথে আপোস না করা এবং সত্যের পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেতনা জাগ্রত করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল কোনো ক্ষমতার লড়াই ছিল না, এটি ছিল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন সংগ্রাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জীবন দিয়ে হলেও কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আজ বিশ্বজুড়ে যেখানেই নিপীড়ন, সেখানেই কারবালার চেতনা আমাদের প্রেরণা জোগায়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শাহাদাতের পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এর গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটুকুও কমেনি; বরং সময়ের সাথে সাথে আশুরার চেতনা বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল শোক মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়িতে এসে শেষ হয়। এই শোক মিছিলে বিপুল সংখ্যক শিয়া মুসলিম নারী ও পুরুষ অংশ নেন।

সমগ্র মিছিল পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-টাঞ্জাতানী ট্রাস্ট এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিরুল হাসান।

মন্তব্য

p
উপরে