× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
People of all ages are losing interest in sex
hear-news
player
google_news print-icon

যৌনতায় আগ্রহ হারাচ্ছে সব বয়সী মানুষ!

যৌনতায়-আগ্রহ-হারাচ্ছে-সব-বয়সী-মানুষ
গবেষণা বলছে, যৌনতায় অংশ নেয়ার হার উদ্বেগজনক মাত্রায় কমছে। ছবি: সংগৃহীত
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, মানুষের যৌন আচরণে যেমন বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, তেমনি কমেছে যৌনতায় অংশ নেয়ার হার। যৌনতায় অনাগ্রহ কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক- সবার ক্ষেত্রেই বাড়ছে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের যৌন আচরণ। সেই সঙ্গে যৌনতায় অংশ নেয়ার হার কমে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা।

যৌনতার সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, আনন্দের পাশাপাশি প্রজননের বিষয়টিও সরাসরি জড়িত। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, যৌনতার হার উদ্বেগজনক মাত্রায় কমছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত করা গবেষণায় মানব সঙ্গীর মাঝে সব ধরনের যৌনতার পরিমাণ কমার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি কিশোর-কিশোরীর মাঝে স্ব-মৈথুনের প্রবণতা কমছে।

আর্কাইভস অফ সেক্সুয়াল বিহেভিয়রে গত বছরের ১৯ নভেম্বর গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

গবেষকদের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে স্ব-মৈথুন বা সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় অংশ নেয়নি এমন কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা বেড়েছে। এই হার ছেলেদের ক্ষেত্রে ২৮.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ৪৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সার্ভে অফ সেক্সুয়াল হেলথ অ্যান্ড বিহেভিয়রে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারীদের দেয়া তথ্য ব্যবহার করেছেন গবেষকেরা। তারা ২০০৯ সালে ৪ হাজার ১৫৫ জন ও ২০১৮ সালে ৪ হাজার ৫৪৭ জনের তথ্য পর্যালোচনা করেছেন। নাম ও পরিচয় গোপন রেখে করা এ জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৪ থেকে ৪৯ বছর।

গবেষণায় অবশ্য যৌনতার হার কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গবেষক দলের অন্যতম দুই সদস্য ডেবি হারবেনিক ও সুং-চিয়ে (জেন) ফু-এর সঙ্গে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান। অধ্যাপক হারবেনিক ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ পাবলিক হেলথ-ব্লুমিংটনের শিক্ষক এবং ফু একই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সহযোগী। তাদের সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন রুবাইদ ইফতেখার

প্রশ্ন: বিশ্বের অন্যান্য জায়গার গবেষণাতেও দেখা গেছে, মানুষের যৌনতার মাত্রা কমছে, আপনাদের গবেষণাটি এ ক্ষেত্রে বাড়তি কী যোগ করছে?

হারবেনিক: আমাদের গবেষণাতেও একই ধারা লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার ধারাকে আমাদের গবেষণাটি আরও বিস্তৃত করেছে। জেন এবং আমাদের দল বিস্তারিতভাবে মানুষের যৌন আচরণকে বিশ্লেষণ করতে পেরেছে। আমরা সঙ্গম, মাস্টারবেশন ও ওরাল সেক্সের ক্ষেত্রগুলো দেখেছি। সব ক্যাটাগরিতেই যৌনতার মাত্রা কমেছে।

আমাদের গবেষণায় কিশোর-কিশোরীরাও অংশ নিয়েছে। তাদের মাঝে মাস্টারবেশনের হার কমে যাওয়াটা অবাক করার মতো। আমরাই প্রথম এ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। একে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত।

প্রশ্ন: তরুণদের মাঝে যৌনতার হার কমে যাওয়ার কারণ কী হতে পারে?

ফু: এর উত্তর জানতে হলে আরও গবেষণা করতে হবে। তবে কম্পিউটার গেমস, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বৃদ্ধি, ভিডিও গেম তরুণদের যৌনতার সময়টুকু নিয়ে নিচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে। তরুণদের জন্য বিষয়টি ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে।

হারবেনিক: যৌনতার হার কমে যাওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট একটি কোনো ব্যাখ্যা বা কারণ দায়ী বলে আমরা মনে করছি না। ভিন্ন ভিন্ন বয়স, লিঙ্গ, সঙ্গীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে, এমনটাই আমাদের ধারণা। যৌনতার হার কেন কমে যাচ্ছে- তা সামগ্রিকভাবে বোঝার জন্য আলাদা করে ওই কারণগুলো ব্যাখ্যারও হয়তো খুব বেশি দরকার নেই।

প্রশ্ন: অনেকেই নিজেদের অ্যাসেক্সুয়াল (যৌনতায় অনাগ্রহী) হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, এটা কী যৌনতার হার কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে?

হারবেনিক: আমরা জানি না কেন অনেকে তাদের অ্যাসেক্সুয়াল হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে আমার মতে, অনেকেই এটিকে একটি ‘সঠিক লিঙ্গ পরিচয়’ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।

২০০৩ সালে যখন আমি মানব যৌনতা পড়ানো শুরু করি, তখন আমার ক্লাসে একজন ছাত্র ছিলেন, যিনি নিজেকে অ্যাসেক্সুয়াল পরিচয় দিতেন। এখন সেখানে তিন থেকে চারজন আছে। বিষয়টি আমার কাছে চমকপ্রদ। তরুণরা নিজেদের প্রকাশ করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপায় সম্বন্ধে এখন সচেতন- বিষয়টি আমার অত্যন্ত ভালো লাগে। তাদের অনেকের কাছেই মনে হয় তারা যৌনতা বিষয়টি থেকে দূরে থাকবেন।

প্রশ্ন: আপনাদের গবেষণায় যৌনতার হার কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘রাফ সেক্স’-এর বিষয়টি তুলে এনেছেন। বিষয়টিকে কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?

হারবেনিক: ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই এই ‘রাফ সেক্স’-এর আচরণ বেড়েছে। এ বিষয়ে গবেষণা খুব বেশি হয়নি। এখন হাজারও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর তথ্য বলছে, তারা একে অপরের গলা চেপে ধরছে বা শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করছে। কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে এ আচরণের আধিক্য বেশি।

অনেকের ক্ষেত্রে এটি সম্মতি নিয়েই ঘটছে এবং অনেকের সঙ্গীই এমনটা করতে বলেন। অনেকের জন্য আবার বিষয়টি উপভোগ্য হলেও ভীতিকর। এ বিষয়টি আমাদের গবেষণার বড় একটা অংশ। আমরা বোঝার চেষ্টা করছি তারা কেমন অনুভব করেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কী এবং সার্বিকভাবে এমন আচরণ যৌনতার ক্ষেত্রে কোথায় অবস্থান করে।

ফু: আমরা এ ধরনের আচরণে বড় পরিবর্তন দেখেছি। আমরা জানি না ঠিক কী কারণে অনেকেই নিজের যৌনতা থেকে মুক্তি চান। তবে আমরা জানতে পেরেছি, অনেকেই, বিশেষ করে কম বয়সীরা বিষয়টিকে ভয়ের চোখে দেখেন এবং তারা জানেন না কী ঘটতে চলেছে তাদের সঙ্গে।

তারা যৌনতায় সম্মতি দেন, কিন্তু শ্বাসরোধ করার মতো একটি বিষয় হয়তো তাদেরকে ধারণার বাইরে ঘটতে পারে। হেটারোসেক্সুয়াল (বিপরীতকামী) নন, এমন অনেকের ক্ষেত্রে এর বড় ধরনের লৈঙ্গিক প্রভাব দেখেছি, যেমন বাইসেক্সুয়াল (বিপরীত লিঙ্গ এবং সমলিঙ্গ দুইয়ের প্রতিই যৌন আকর্ষণ অনুভবকারী) নারীদের অনেকেই আগ্রাসী আচরণের শিকার হন।

হারবেনিক: আমরা আসলেই রহস্যটি বোঝার চেষ্টা করছি। আমাদের গবেষণা থেকে এখনও বোঝা যাচ্ছে না, আগ্রাসী যৌনতার বাড়তে থাকা হারের কতটুকু আকাঙ্ক্ষিত অথবা কতটুকু অনাকাঙ্ক্ষিত। এর কারণ হচ্ছে বাইসেক্সুয়াল নারীরাও উচ্চ হারে যৌন সহিংসতার শিকার হন।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকগুলো কারণ রয়েছে যার কারণে মানুষের যৌনতার আচরণ প্রকাশের ধরন পালটে গেছে।

হারবেনিক: বিশ্বের নানা গবেষণায় বিষয়টিকে অর্থনৈতিক অবস্থাসহ নানা দিক থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হয়েছে। আয় কম হলে যৌনতায় অনাগ্রহ বাড়ে। এক গবেষণায় সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে তরুণদের কম্পিউটার গেমস খেলার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অনেকেই যৌন বিমুখতার সঙ্গে অ্যালকোহলের যোগাযোগ খোঁজার চেষ্টা করছেন। আমরা জানি, অ্যালকোহল নিষ্ক্রিয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

আমরা সেক্স টয় ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে দেখেছি, যদিও সেটি অনেক বেশি মাত্রায় নয়। যে পরিবর্তন দেখা গেছে তা হয়তো যৌন বিমুখতার একটা কারণ, তবে আমি একে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করি না।

প্রশ্ন: যারা এ সাক্ষাৎকারটি পড়ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গী বা সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা ভাবছেন, তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?

ফু: মা-বাবার উচিত যৌনতা নিয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, বিশেষ করে টিনএজারদের সঙ্গে। নতুন যৌন আচরণ বা প্রযুক্তির কারণে এখন যৌনতার ধারণা অনেকটাই পালটে গেছে। আমরা আশা করি, মা-বাবারা তাদের সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

বাবা-মা শুধু যে তাদের সন্তানদের বিভিন্ন যৌন আচরণের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করবেন তা নয়, বরং কীভাবে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক ও তা থেকে আনন্দদায়ক যৌনতা উপভোগ করতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারেন।

হারবেনিক: আমাদের অনেকেরই কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকা উচিত, যেমন: আমার যৌনজীবন নিয়ে আমি কী ভাবছি? আমার সঙ্গী কী ভাবছে- এগুলো নিজেকে জিজ্ঞেস করা উচিত।

অনেকে চারপাশ ভেবে বলবেন- তাদের যৌন সম্পর্কগুলো আনন্দদায়ক, উপভোগ্য এবং তাদের যৌনজীবন সন্তোষজনক। অনেকে বলবেন, ১০-১৫ বছর আগে যখন এতগুলো মজার টিভি শো ছিল না, অনেক কম টিভি দেখতাম তখন অনেক বেশি যৌনতা ছিল।

প্রশ্ন: সাধারণভাবে, সঙ্গীদের সঙ্গে বা সঙ্গী ছাড়া যৌনতা কীভাবে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বা ‘যৌন স্বাস্থ্য’ প্রকৃতপক্ষে কেমন হওয়া উচিত- সে সম্পর্কে আমাদের বলতে পারেন?

হারবেনিক: যৌনতা জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানব অভিজ্ঞতা কীভাবে বদলে যাচ্ছে তা বুঝতে হলে যৌনতার পরিবর্তনও আমাদের বুঝতে হবে।

আমরা জানি, যৌন কার্যকলাপ মানুষকে প্রশান্তি দিতে পারে। এটি ঘুমিয়ে পড়তে, মানসিক চাপ কমাতে, ঘনিষ্ঠ বোধ করতে ও সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

যৌন স্বাস্থ্য বহুমাত্রিক, এটি কেবল সংক্রমণ বা রোগের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি সম্পর্কিত বিষয় নয়। আনন্দের সম্ভাবনা, যৌনতা সম্পর্কে সঠিক তথ্যের সহজলভ্যতা, শারীরিক নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংসতা বা জবরদস্তি থেকে মুক্ত যৌন অভিজ্ঞতা অর্জনও যৌন স্বাস্থ্যের অন্তর্গত।

প্রশ্ন: এ আচরণগুলোর ওপর করোনা মহামারির কোনো ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে কি অনুমান করছেন, যা আপনাদের গবেষণায় তুলে ধরা হয়নি?

ফু: আমরা জানি, মানুষ ঘরে থাকলে অনেক কিছুই বদলে যায়। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কারণে সঙ্গীদের আগের চেয়ে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে বা একসঙ্গে থাকার সুযোগ দিয়েছে। তবে যারা একসঙ্গে থাকেন না এবং যাদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ নেই, চলাচলের অসুবিধা রয়েছে তারা হয়তো একসঙ্গে কম সময় কাটিয়েছেন।

আবার সঙ্গীর সঙ্গে বাড়িতে বেশি সময় কাটানো মানেই যে অনেক বেশি আনন্দদায়ক যৌনতা- বিষয়টি সে রকমও নয়। কোয়ারেন্টিনে থাকা, সামাজিক দূরত্ব, আর্থিক অসুবিধা, বাড়িতে থেকে কাজ করা- সবই সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণ হতে পারে। মহামারির কারণে শিশুদের যত্ন কমে যাওয়া বা অস্থিরতা মা-বাবার যৌনজীবনকে সীমাবদ্ধ করতে পারে।

হারবেনিক: যারা সঙ্গীদের সঙ্গে বসবাস করেন না, তাদের যৌন সম্পর্ক গত দুই বছরে বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে টিকা ও বুস্টার ডোজের সহজলভ্যতার কারণে এখন পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হয়েছে।

আমরা তো দিন শেষে শূন্যে বসবাস করি না, আমাদের যৌনজীবনও শূন্য থেকে আসে না। যে কারণে এতে অসংখ্য দিক রয়েছে। গত দুই বছরে কোভিডে যারা আপনজনকে হারিয়েছেন তাদের জন্য সময়টি ছিল শোকের।

অনেকে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন, অনেকে চাকরি হারিয়েছেন ও অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মহামারি শুরুর পর থেকে সব বয়সী মানুষ অনেক বেশি উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় ভুগছেন। এ সবকিছুই যৌন চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন:
কেন আমরা চুমু খাই
বিজ্ঞানী বানাতে চাই: সেঁজুতি সাহা
আমার অনুপ্রেরণা দেশ: ফেরদৌসী কাদরী
‘এলেম আমি কোথা থেকে’
আলো-আঁধারির তান্ত্রিক যৌনতা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Asexual American women fear pregnancy

গর্ভধারণের শঙ্কায় যৌনতাবিমুখ আমেরিকান নারীরা

গর্ভধারণের শঙ্কায় যৌনতাবিমুখ আমেরিকান নারীরা
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট গত জুনের শেষ দিকে আলোচিত এক রায় দেয়ার পর তৈরি হয়েছে এমন অবস্থা। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে দেশটিতে বিদ্যমান গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দেয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক গর্ভধারণের ভয় আমেরিকার নারীদের ক্রমশ যৌনতাবিমুখ করে তুলছে। গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার আদালত বাতিল করার পর তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক ভীতি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন যৌনতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসৌরিতে একসঙ্গে থাকা দুই তরুণী সম্প্রতি তাদের বেডরুমে পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। পুরুষ আমন্ত্রণ পেলে তারা গর্ভবতী হতে পারেন, এমন শঙ্কা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দুজনকে।

ফ্লোরিডার অনেক নারী এই ভয়ে চূড়ান্ত যৌনমিলন থেকে সরে এসেছেন অথবা যৌনতার মাত্রা কমিয়ে দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকা নারীও আছেন।

উইসকনসিনের

কিছু নারী তাদের সম্ভাব্য সঙ্গীদের সঙ্গে যৌনতায় অংশ নেয়ার আগে বন্ধ্যত্বের অস্ত্রোপচার (ভ্যাসেকটমি) করতেও বলছেন ।

সারা দেশের যৌন থেরাপিস্টদের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে যৌনতা, ডেটিং এবং ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে মানুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির এগুলো সামান্য কিছু উদাহরণমাত্র।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট গত জুনের শেষ দিকে আলোচিত এক রায় ঘোষণার পর তৈরি হয়েছে এমন অবস্থা। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে দেশটিতে বিদ্যমান গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দেয়

এর আগে ১৯৭৩ সালে ঐতিহাসিক রো বনাম ওয়েড মামলায় আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে রায় দিয়েছিল। তবে এ নিয়ে বিতর্ক চলে কয়েক দশক ধরে। এরপর গত ২৪ জুন সুপ্রিম কোর্ট নতুন এক রায়ে বলেছে, গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

উচ্চ আদালতের আগের রায় ‘অবশ্যই বাতিল করতে হবে’ উল্লেখ করে বিচারকরা বলেন, কারণ সেটি ছিল ‘ভয়াবহ ভুল’, ‘দুর্বল যুক্তির’ এবং ‘বিচারিক কর্তৃত্বের অপব্যবহার’।

নতুন এই রায়ের পর অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এবং ম্যাচের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. জাস্টিন গার্সিয়া বলছেন, ‘আমাদের সবার শয্যার ওপর এখন বিপদঘণ্টা বাজছে।’

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বা বিপজ্জনক গর্ভাবস্থার ভয় সঙ্গীর সঙ্গে আপনার বন্ধনকে আলগা করে দেয়। এই ভয় মানুষজনের মধ্যে কেবল বেডরুমকেন্দ্রিক ভীতির জন্ম দয় না, সেখানে দুজনের ভালো সময় কাটানোকেও কঠিন করে তোলে।

একাকী জীবনযাপন করা পাঁচ হাজারের বেশি আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ম্যাচ পরিচালিত একটি জরিপের ফল গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে অংশ নেয়া প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদের যৌন জীবন বদলে দিয়েছে, ২০ শতাংশ বলেছেন আদৌ আর যৌনতায় অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্ত। উত্তরদাতাদের ২৭ শতাংশ বলছেন যৌনমিলন নিয়ে তারা অনেক বেশি দ্বিধায় ভুগছেন।

এমনকি ডেটে যেতে ভয় পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ১৩ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপকারী প্রতিষ্ঠার ম্যাচ-এর হিসাবে আমেরিকায় অবিবাহিতের সংখ্যা ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি। তাদের মধ্যে এক কোটির ডেটিং অভ্যাসে পরিবর্তন ঘটাতে পারে সুপ্রিম কোর্টের রায়।

পরিস্থিতি নিয়ে সেক্স থেরাপিস্ট লেক্সক্স ব্রাউন-জেমস ভীষণ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন ক্লায়েন্ট পাচ্ছি যিনি বাস্তবে বহুগামী, কিন্তু এখন আর গর্ভবতী হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।’

উইসকনসিনের সেক্স থেরাপিস্ট ম্যাডেলিন এস্পোসিটো-স্মিথ বলেন, ‘যৌনতা হলো মানুষের সবচেয়ে দুর্বলতম সময়ে ঘটা ক্রিয়ার একটি। এ সময়ে ভীতিতাড়িত হলে কামোত্তেজনা চরমে পৌঁছানো অসম্ভব।

‘এ সময়ে গর্ভধারণের শঙ্কা ভর করলে এবং গর্ভাবস্থার পরিণতি নিয়ে ভাবতে হলে সঙ্গীর সঙ্গে আপনার নিবিড় মিলন ঘটা কঠিন।’

আরও পড়ুন:
পুরুষের সমকামিতা বৈধতা পাচ্ছে সিঙ্গাপুরে
পাথরকে ‘সেক্সটয়’ বানিয়ে বানরের স্বমেহন
ভারতবর্ষজুড়ে এত নাভিপ্রীতির কী কারণ?
নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায়
যৌন জীবনে প্রভাব ফেলছে জলবায়ু

মন্তব্য

জীবনযাপন
The VR headset will smell everything from kisses to sex

চুমু থেকে যৌনতার গন্ধ, সব দেবে ভিআর হেডসেট

চুমু থেকে যৌনতার গন্ধ, সব দেবে ভিআর হেডসেট বিশেষ এই দুটি ভিআর সেটে চুমু (বাঁয়ে) ও যৌনতার গন্ধ অনুভব করা যাচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ক্যামসোডার বিশেষ এক ভিআর হেডসেট পরে পর্নোগ্রাফি কন্টেন্ট দেখলে যৌনক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সময়কার শারীরিক গন্ধ ঝাপটা দেবে ব্যবহারকারীর নাকে। আর পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিউচার ইন্টারফেসেস গ্রুপের একদল গবেষক তৈরি করা আরেক হেডসেট দেবে চুমু খাওয়ার অনুভূতি।

প্রযুক্তির উন্নয়নে দিনে দিনে সহজলভ্য হচ্ছে যৌনতা। এক দশক পরে এটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সে ব্যাপারে ধারণা করাও মুশকিল। তবে কিছু ইঙ্গিত এরই মধ্যে দিতে শুরু করেছে অনলাইন ভার্চ্যুয়াল জগৎ।

জনপ্রিয় পর্ন ওয়েবসাইট ক্যামসোডা বাজারে এনেছে বিশেষ এক ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) হেডসেট। এটি মাথায় আটকে পর্নোগ্রাফি কন্টেন্ট দেখতে বসলে যৌনক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সময়কার শারীরিক গন্ধ ঝাপটা দেবে ব্যবহারকারীর নাকে।

ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় এমন তৃপ্তি পেতে গুনতে হবে ১০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১০ হাজার টাকার সামান্য বেশি। এই টাকায় কেনা ডিভাইসটিতে থাকবে শরীরসংশ্লিষ্ট ৩০ ধরনের গন্ধ।

চুমু থেকে যৌনতার গন্ধ, সব দেবে ভিআর হেডসেট
এই ভিআর হেডসেট দেবে যৌনতার গন্ধের অনুভূতি

ক্যামসোডা বলছে, ডিভাইসটি অনেকটা গ্যাস মাস্কের মতো কাজ করে। পর্ন দেখার সময় ডিভাইসে যৌনাঙ্গ থেকে শুরু করে অন্তর্বাস এমনকি যৌন উদ্দীপক অ্যাফ্রোডিসিয়াকসের (খাদ্য, পানীয় বা অন্য জিনিস) মতো বিভিন্ন ধরনের গন্ধ ছড়াতে থাকে। ব্যবহারকারী যেদিকে মনোযোগ দিচ্ছেন সেখানকার গন্ধই নাকে এসে আলোড়িত করবে।

এ ধরনের উদ্ভাবন পর্নোপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হেডসেটের গন্ধে আরও প্রাণবন্ত হবে ভার্চ্যুয়াল পর্নো-দুনিয়া।

ভিআর হেডসেট ও মাস্কটি একসঙ্গে একটি অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করে। এতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সুগন্ধগুলোকে বেছে নিতে পারেন।

নতুন এই ভিআর সেট ব্যবহার করে দারুণ আলোড়িত হয়েছেন জেমস বি নামের একজন। তিনি বলেন, ‘আমি অন্তর্বাস, যৌনাঙ্গ এমনকি ত্বকের গন্ধ পর্যন্ত উপভোগ করেছি। এটা এতটাই বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে যে মনে হচ্ছিল, নিজে সরাসরি যৌনক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছি।’

চুমুর অনুভূতিও দিচ্ছে ভিআর হেডসেট

পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিউচার ইন্টারফেসেস গ্রুপের একদল গবেষক তৈরি করেছেন আরেক বিশেষ ভিআর হেডসেট। এটি আপনাকে দেবে চুমু খাওয়ার অনুভূতি

চুমু থেকে যৌনতার গন্ধ, সব দেবে ভিআর হেডসেট
এই ভিআর হেডসেট দেবে চুমু খাওয়ার অনুভূতি

গবেষক দল তাদের উদ্ভাবিত ওকুলাস কোয়েস্ট-২ হেডসেটে হ্যাপটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই প্রযুক্তি শরীরের বিভিন্ন অংশে বলপ্রয়োগ, কম্পন এমনকি নড়াচড়ার অনুভূতি তৈরিতে সক্ষম।

হেডসেটের নিচের অংশে একত্রিত ট্রান্সডুসারগুলোর পাতলা অ্যারেটি (ডেটা স্ট্রাকচার) ব্যবহারকারীর নাকের ঠিক ওপর থেকে মুখের বিভিন্ন অংশে আল্ট্রাসাউন্ড শক্তি উৎপাদন করে।

উদ্ভাবনটি হ্যাপটিক ফিডব্যাকের একটি চমৎকার উদাহরণ। সাধারণত ভিডিও গেমের সঙ্গে ব্যবহারকারীর অনুভূতির সংমিশ্রণ ঘটাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন, ফুটবল পোস্টে আঘাত করার কম্পন অনুভব করা যায় ফিফা গেমিং কন্ট্রোলারের সাহায্যে।

উদ্ভাবকরা বলছেন, তাদের ভিআর হেডসেট চুমুর অনুভূতির পাশাপাশি ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় দাঁত ব্রাশ, ফোয়ারা থেকে পানি পান করা কিংবা সিগারেট টানার অনুভূতি পেতেও ব্যবহার করা যাবে।

আরও পড়ুন:
বেগুনে ক্ষতিকর ধাতু, মাটিদূষণে অন্য সবজি নিয়েও শঙ্কা
৭ মাস কোমায় থাকা সাফিয়ার সন্তান প্রসব
যে বাবল ফাটবে না এক বছরেও
গর্ভে শিশুর হৃদযন্ত্রে ত্রুটি সারানো কতটা সম্ভব?
নাক দিয়েও দেখতে পায় কুকুর

মন্তব্য

জীবনযাপন
Porn addiction is not responsible for male impotence

পুরুষের উত্থানহীনতায় দায়ী নয় পর্ন আসক্তি

পুরুষের উত্থানহীনতায় দায়ী নয় পর্ন আসক্তি পর্ন আসক্তির সঙ্গে লিঙ্গ উত্থানে সমস্যার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীত
পর্নোগ্রাফি নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় মানুষ চাইলেই এখন পর্ন দেখতে পারে। যদিও পর্নোগ্রাফি নিয়ে সমাজে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে পর্নগ্রাফিতে আসক্তির সঙ্গে পুরুষের যৌনাঙ্গ উত্থান সমস্যা ও যৌনতায় অতৃপ্তির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি গবেষণায়।

পর্নোগ্রাফি নিয়ে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, পর্নগ্রাফি ব্যক্তিকে যৌনতায় আগ্রাসী করে তোলে। এ ছাড়া যৌনতায় অতৃপ্তি, বিলম্বিত বীর্যপাত, অস্বাভাবিক যৌন আচরণ এবং শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা বলছেন, সঙ্গমের সময় পুরুষাঙ্গের অঙ্গের উত্থানের সঙ্গে পর্ন আসক্তির সম্পর্ক নেই। যৌনতায় অতৃপ্তির পেছনেও পর্নগ্রাফির ভূমিকা নেই। মূলত বয়স বৃদ্ধি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, হস্তমৈথুন, যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলার মতো বেশকিছু কারণে এ সমস্যায় ভোগেন পুরুষ।

আমেরিকার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড রোল্যান্ড ও তার দল সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এমন ফল পেয়েছেন। তাদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইমপোটেন্স রিসার্চে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় মানুষ চাইলেই এখন পর্ন দেখতে পারে। যদিও পর্নোগ্রাফি নিয়ে সমাজে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে পর্নগ্রাফিতে আসক্তির সঙ্গে পুরুষের যৌনাঙ্গ উত্থান সমস্যার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি গবেষণায়।

এর আগে ইতালির অন্য এক দল গবেষকের গবেষণায় বলা হয়, পর্ন-আসক্তির কারণে অনেকে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থান সমস্যায় ভোগেন। তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নন অধ্যাপক ডেভিড রোল্যান্ড। তিনি মনে করছেন, ওই গবেষণায় পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি থাকায় আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।

পুরুষের উত্থানহীনতায় দায়ী নয় পর্ন আসক্তি

বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে রোল্যান্ড ও তার সহকর্মীরা ইংরেজিভাষী দেশ এবং হাঙ্গেরি থেকে অনলাইন মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৮৬ জন পুরুষকে বেছে নিয়ে তাদের ওপর জরিপ চালান।

উত্তরদাতাদের মধ্যে যারা সঙ্গীর সঙ্গে যৌনমিলন করেননি বা যাদের কখনও সঙ্গী ছিল না তাদের বক্তব্য বাদ দেয়া হয়। বাকিদের সামনে জনসংখ্যা সংক্রান্ত প্রশ্ন, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা, চিকিৎসা পরিস্থিতি, যৌন মিলন, বর্তমান যৌন সঙ্গীর সংখ্যা, যৌনতায় আগ্রহ বা গুরুত্ব, সম্পর্ক, যৌন তৃপ্তি, হস্তমৈথুন, সঙ্গীর যৌনতা এবং পর্ন দেখার সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। তারা দ্রুত বা দেরিতে বীর্যপাত এবং লিঙ্গ উত্থানজনিত প্রশ্নগুলোরও উত্তর দেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লিঙ্গ উত্থানে সমস্যার সঙ্গে পর্নগ্রাফির খুব একটা সম্পর্ক নেই। মূলত বয়স বৃদ্ধি, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা, চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা, মাঝেমধ্যে যৌনমিলন, যৌনতায় কম গুরুত্ব দেয়া এবং যৌন ও সম্পর্কের তৃপ্তি কমে যাওয়ায় তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

জরিপে একইসঙ্গে উঠে এসেছে কেউ বেশি বেশি হস্তমৈথুনে আসক্ত থাকলে লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যায় পড়তে পারেন।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক রোল্যান্ড বলেন, ‘পর্নগ্রাফি ও যৌন তৃপ্তি বিষয়ক আগের গবেষণায় পদ্ধতিগত বেশকিছু সমস্যা ছিল। এবারের গবেষণায় সেসব কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়। তারপরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

‘জরিপটি অনলাইনে চালানো হয়েছে। অনেকেই হয়ত বিষয়টিকে গুরুত্বসহ নেননি বা অনেকে যেনতেনভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাই এই জরিপ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

‘এছাড়া এই গবেষণা-জরিপে কেবল পশ্চিমা নাগরিকদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সম্প্রদায়গুলোকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে যারা যৌনতা নিয়ে কথা বলতে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তাদের বক্তব্য পেলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা মিলবে।’

আরও পড়ুন:
নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায়
যৌন জীবনে প্রভাব ফেলছে জলবায়ু
নিজের শরীর সম্পর্কে নারীরও অজানা অনেক
দুজনের চরম যৌনাকাঙ্ক্ষায় আসে মধুর দাম্পত্য
পুরুষ তেলাপোকার কষ্ট ঘোচাবে কে?

মন্তব্য

জীবনযাপন
Syphilis outbreak in Europe hits sex workers head on

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত সিফিলিস আতঙ্কে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে যৌনবাহিত রোগ- সিফিলিস। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। এই অবস্থায় দেশটিতে হুমকিতে পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো পেশাটি।

সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

যৌনকর্মী থেকে যৌন শিক্ষাবিদ বনে যাওয়া লিয়ান ইয়ং বলেন, ‘যদিও এটা ভয়ঙ্কর, তবে এই দুর্যোগে যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীদের এক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাদের এখন পেশাদার আরচণ করা উচিত। সেক্স ইন্ড্রাস্টির নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।’

ইয়াং আটজন যৌনকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই রোগ নিয়ে, যারা সিফিলিস আতঙ্কে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

ইয়াং বলেন, ‘তারা রোজগার হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। এতেই মিলবে সমাধান।

‘কয়েক বছর ধরেই একটি ইউনিয়ন চাইছে এ পেশায় জড়িতরা। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে ইউএস ইউনিয়ন দ্য অ্যাডাল্ট পারফরম্যান্স আর্টিস্ট গিল্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালানা ইভান্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’

ঢালাও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পেশাদার যৌনকর্মীদের সুরক্ষা দেয়া সবচেয়ে সহজ সমাধান। আমেরিকা ও ইউরোপের যৌনকর্মীদের ৭ বা ১৪ দিন পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে যুক্তরাজ্যে ২৮ দিন পর পর এই পরীক্ষা হয়।

ইউরোপের দেশটিতে সিফিলিস দ্রুত ছড়িতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগে আছেন লিয়ান ইয়ং। তিনি বলেন, ‘যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদের উচিত, পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড এবং পুলিশের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ স্থাপন করা। আর এ জন্য প্রয়োজন একটি ইউনিয়ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের যৌনকর্মীর স্বাস্থ্যের তথ্য সংগ্রহে রাখে পাস নামে একটি সংস্থা। এটি জানায়, ইউরোপে সিফিলিসে আক্রান্ত কয়েকজন যৌনকর্মীর তথ্য পেয়েছে তারা। সেক্স ইন্ড্রাস্টির খবর ছাপানো প্রকাশনা সংস্থা Xbiz-এ গত সপ্তাহে একটি সতর্কতাও দেয়া হয়েছিল

ইউরোপে এসটিডি পরীক্ষার মান অতোটা ভালো না। অন্যদিকে পাস আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপে কাজ করে না। এ জন্য তাদের কাছে যৌনরোগে আক্রান্তদের সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হয় না।

ইউনিয়ন গড়ে অবশ্য এসটিডি প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর নিশ্চয়তা নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিএসডি) সেপ্টেম্বরে জানায়, গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেড়েছে তাদের দেশে সিফিলিসে আক্রান্ত।

মন্তব্য

জীবনযাপন
The more self love a man has the faster he slips

পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন

পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন দ্রুত বীর্য স্খলন নারী-পুরুষের সম্পর্ককে হতাশার দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্রতীকী ছবি
একদল মনোবিজ্ঞানী দেখেছেন, আত্মপ্রেম ও যৌন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আত্মপ্রেমী (নার্সিসিস্ট) পুরুষ অর্গাজমে (চূড়ান্ত যৌন সুখানুভূতি) পৌঁছাতে পারেন কম এবং তাদের অকাল বীর্যপাতের সম্ভাবনা বেশি।

শারীরিক সম্পর্কের সময় দ্রুত বীর্যস্খলন নিয়ে দুর্বাভনার শেষ নেই বহু পুরুষের। এ ধরনের দুর্বলতা নারী-পুরুষের সম্পর্ককে চূড়ান্ত হতাশার দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে দ্রুত বীর্য স্খলনের মূল কারণ মানসিক। তাছাড়া অনভিজ্ঞতা ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন উত্তেজনাও ভূমিকা রাখতে পারে পুরুষের দ্রুত স্খলনে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। একদল মনোবিজ্ঞানী দেখেছেন, আত্মপ্রেম ও যৌন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আত্মপ্রেমী (নার্সিসিস্ট) পুরুষ অর্গাজমে (চূড়ান্ত যৌন সুখানুভূতি) পৌঁছাতে পারেন কম এবং তাদের অকাল বীর্যপাতের সম্ভাবনা বেশি।

পিয়ার-প্রিভিউ জার্নাল সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপিতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি। এতে বলা হয়েছে, আত্মপ্রেমী পুরুষের উত্তেজনা মূলত যৌন ক্রিয়া সম্পর্কিত নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাদের সঙ্গী নতুন কি না সেটার ওপরেও তাদের উত্তেজনার মাত্রা (অ্যারাউজাল) নির্ভর করে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার ভলপারাইসো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড এল. রোল্যান্ড। তিনি বলছেন, ‘যৌন প্রতিক্রিয়া ও তুষ্টির সঙ্গে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন, আত্মপ্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের গবেষণা আত্মপ্রেমের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে গবেষণাটি ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য পুরুষের যৌন প্রতিক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে সে সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে।’

১৮ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ১ হাজার ২৯৭ পুরুষকে বেছে নিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে গবেষণায়। তাদের বৈশিষ্ট্য, চিকিৎসাগত অবস্থা, গত ১২ থেকে ২৪ মাসের যৌনতা ও সম্পর্কের ইতিহাস এবং যৌন দুর্বলতা ও আত্মপ্রেমের খতিয়ান নেয়া হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, যৌনতার সময়ে আত্মপ্রেমে ভুগতে থাকা পুরুষের যৌন সঙ্গী বদলানোর সম্ভাবনা বেশি। তারা সন্তুষ্টি অর্জনে ঘন ঘন স্বমেহন ও সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌন মিলনে আগ্রহী হন। তবে এটা করেও যৌন তৃপ্তি লাভসহ সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে তাদের সন্তুষ্টি কম। শেষমেশ তারা শারীরিক সম্পর্কের চেয়ে স্বমেহনকেই বেশি পছন্দ করেন।

যৌন আত্মপ্রেমের সঙ্গে লিঙ্গ উত্থান সমস্যার (ইরেক্টাইল ডিসফাংশন) সম্পর্ক নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মপ্রেমে ভোগা পুরুষ তাদের সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতার সময় অর্গাজমে পৌঁছাতে অসুবিধা বোধ করেন এবং অকাল বীর্যপাতের প্রবণতা তৈরি হয়।

রোল্যান্ড বলেন, ‘আত্মপ্রেমী পুরুষ আনন্দের জন্য তাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দৃঢ়ভাবে চালিত হন। অর্গাজমের চেয়ে অন্যান্য কারণ, যেমন অন্তরঙ্গতার মাধ্যমে তারা বেশি যৌন তৃপ্তি লাভ করেন। তাদের দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা দেখা যেতে পারে। এ থেকে বোঝা যায়, তাদের যৌন উত্তেজনার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ-স্থিতিশীল কারণগুলোর চেয়ে পরিস্থিতিগত কারণ দিয়ে বেশি চালিত।’

গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে অবশ্য সতর্ক করছেন রোল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘এটি একটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত গবেষণা। ফলে উপসংহার টানার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের গবেষণায় মূল্যায়ন করা হয়নি এমন কারণও এ ফলের জন্য দায়ী হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
পুরুষের সমকামিতা বৈধতা পাচ্ছে সিঙ্গাপুরে
কিছু মানুষ কেন বদলায়, কেউ থাকে আগের মতোই
পাথরকে ‘সেক্সটয়’ বানিয়ে বানরের স্বমেহন
অনিশ্চয়তা শেষে মুক্তি পেলাম: হৃদয় মণ্ডল
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা

মন্তব্য

জীবনযাপন
What is the reason for so much navipriti across India?

ভারতবর্ষজুড়ে এত নাভিপ্রীতির কী কারণ?

ভারতবর্ষজুড়ে এত নাভিপ্রীতির কী কারণ? ভারতীয় সিনামায় উত্তেজক দৃশ্যে নাভি দেখানোর প্রবণতা নিয়মিত। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সিনেমায় ঐতিহ্যগতভাবে যৌন দৃশ্য বা চুম্বন দৃশ্য দেখানো হয় না। এর কারণ এই অঞ্চলে আবেগের প্রকাশ্য প্রদর্শনকে ভালো চোখে দেখা হয় না। প্রকৃত ঘনিষ্ঠতা, মেক আউট বা যৌন মিলনের জায়গায় ফিল্মগুলো যৌনতার ইঙ্গিত দেয়ার জন্য দুটি ফুলের ক্লোজ-আপ বা যুগলকে লুকানোর ছাতা বা গাছ দেখিয়ে এসেছে। এ অবস্থার ‘বিকল্প’ হয়ে উঠেছে নাভি।

শিশুর জন্মের সময় মায়ের গর্ভের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী কর্ডটিকে কেটে ফেলার প্রক্রিয়ায় জন্ম হয় নাভির। গোটা পৃথিবীতে নাভিকে শরীরের স্বাভাবিক অংশ মনে করা হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে একে নিয়ে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে ভারতীয় সিনেমায় দীর্ঘকাল ধরে নাভিকে যৌন উত্তেজক অঙ্গ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করেছে নাভি নিয়ে এই বাড়তি আগ্রহের উৎস। নিউজবাংলার পাঠকের জন্য প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

সঙ্গিনীকে একটি খাবার টেবিলে শুয়ে পড়তে বলছেন নায়ক। সায় দিতেই ‘খুব ভালো মেয়ে’ বলে প্রশংসার বাক্য ঝরে নায়কের কণ্ঠে। এরপর কৌশলী হাতে শাড়ি সরিয়ে সঙ্গিনীর নাভি উন্মোচন। সঙ্গিনীর পেটের ওপর একসঙ্গে দুটি ডিম ভেঙে ছড়িয়ে দেন নায়ক।

একটি শটে দেখা যায় উত্তাপে ডিম ফুটছে। বিস্মিত নায়কের মুখের সামনে উড়তে দেখা যায় বাষ্প। পরক্ষণেই অনুমতির অপেক্ষায় সঙ্গিনীর দিকে ফিরে তাকান তিনি। ডিম রান্নার সময় নায়ক চামচ দিয়ে অমলেটটি উল্টেও দেন একপর্যায়ে। দুজনের কিছু গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাঝে প্রস্তুত হয় ‘ডিনার’।
১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া লাভ বার্ডস সিনেমার একটি দৃশ্য এভাবেই ডিম ভাজছিলেন সুপারস্টার প্রভু দেবা। যার নাভির ওপরে ভাজা হচ্ছিল তিনিও আরেক মহাতারকা নাগমা।
বলিউড বা বলিউডের বাইরে ভারতীয় সিনেমায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই নাভির যৌনতাপূর্ণ চিত্রায়ণ হয়েছে। হতে পারে এটি সংস্কৃতির অংশ বা ফেটিশ (বিশেষ কোনো বস্তুর প্রতি আকর্ষণ)।

নারীর জন্য তৈরি বেশির ভাগ ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক নাভিকে উন্মুক্ত রাখে। দক্ষিণ ভারতীয় বহু চলচ্চিত্রে নাভিকে নারী দেহের সংবেদনশীল ও কামুক অংশ হিসেবে দেখানো হয়। নাভির ক্লোজ-আপ শট বা অভিনেত্রীর নাভিতে পুরুষ অভিনেতা মুখ বা হাত মন্থনের দৃশ্য যৌন দৃশ্যের সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত।

চলচ্চিত্রের বাইরে গুগল ট্রেন্ডসে ‘নাভি’ বহুবার সার্চ করা একটি শব্দ। ২০০৪ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত নাভি শব্দটি নিয়ে গুগল করা শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত। ভারতীয়রা অনলাইনে এ-সম্পর্কিত যেসব ট্রেন্ড খুঁজছেন তার মধ্যে রয়েছে ‘শাড়িতে হট নাভি’, ‘কাজল নাভি’ ও ‘আনুশকা নাভি’। এই সার্চের মূল লক্ষ্য অভিনেতা কাজল আগরওয়াল ও আনুশকা শেঠি, যারা মূলত দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

নাভি নিয়ে এমন আকর্ষণ কেন?

ভারতীয় চলচ্চিত্রে এখন প্রায়ই ‘আইটেম সং’ দেখা যায়। এসব গানে অভিনেত্রী স্বল্প পোশাকে প্রলুব্ধ করার ভঙ্গিতে নাচেন। আইটেম গান নারীকে ‘বস্তু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। একই সঙ্গে এটি নারীর যৌনতা ও আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ্য ঘোষণা, যদিও তার নির্মাতা পুরুষ। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রায় সব আইটেম গানে অভিনেত্রীর কোমর ঝাঁকুনি ও দোলানোসহ প্রলোভন ভরা নাচের সঙ্গে তার নাভি দৃশ্যমান রাখা হয়। এর প্রচুর ক্লোজ-আপ থাকায় দর্শকের মনোযোগ আরও আকর্ষিত হয়।

শিশুর জন্মের পর যখন মায়ের গর্ভের সঙ্গে যুক্তকারী কর্ডটি কেটে ফেলা হয়, ওই কর্ডের গোড়াটি শেষ পর্যন্ত শুকিয়ে যায় ও বাইরের দিকে কিংবা ভেতরের দিকে কিছুটা উঁচু বা গভীর হয়ে নাভি পূর্ণতা পায়।

পর্ন ওয়েবসাইটে ‘ভারতীয় নাভি’ সার্চ করলে অভিনেত্রীদের ছোট ছোট ক্লিপ বা তাদের নাভি দেখা যায় এমন দৃশ্যগুলোতে নিয়ে যাবে৷ ‘ন্যাভাল কুইন’ শব্দটি তামান্না ভাটিয়া, ক্যাটরিনা কাইফ, কৃতি শ্যানন, সামান্থা রুথ প্রভু ও তেজস্বী প্রকাশসহ বেশ কয়েকজন ভারতীয় অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

মুম্বাইয়ের ৩৫ বছর বয়সী প্রকৌশলী ভারুন টিনএজ বয়স থেকেই নাভির প্রতি আকৃষ্ট।

তিনি বলেন, ‘সিনেমা হোক বা বিজ্ঞাপন, নাভির দৃশ্য সব জায়গায় দেখতাম। কিছু ইরোটিক গানে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করতে নাভির দৃশ্য যুক্ত করা হতো। নাভি নারী দেহের এমন একটা অংশ ছিল, যার সঙ্গে বাস্তব জগতে আমার পরিচয় ঘটে। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নাভির দৃশ্য আমি অনেক পরে দেখেছি। আমি ৯০-এর দশকে বলিউড ফিল্ম দেখে বড় হয়েছি, যেখানে নাভির দৃশ্য দেখানো হয়েছে।’

নাভির প্রতি এমন আকর্ষণকে ভারতীয় সিনেমার অনন্য বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেছেন চলচ্চিত্র সাংবাদিক কিরুবাখার পুরুষোত্তম।

তিনি বলেন, ‘হলিউডে এমন কিছু পাবেন না। একই সঙ্গে যেসব ভারতীয় সিনেমায় নাভি প্রদর্শিত হচ্ছে, সেগুলোতে চুমু খাওয়া বা যৌনতার দৃশ্যও নেই।’

শুরুতে উল্লেখ করা ডিম ভাজার দৃশ্যটি অবশ্য ১৯৯১ সালের হলিউড সিনেমা হট শটসের অনুকরণে নির্মিত। ওই সিনেমায় নায়ক চার্লি শিন নায়িকা ভ্যালেরিয়া গোলিনোর পেটের ওপর বেকন ভেজেছিলেন।

ভারতীয় সিনেমায় ঐতিহ্যগতভাবে যৌন দৃশ্য বা চুম্বন দৃশ্য দেখানো হয় না। এর কারণ এই অঞ্চলে আবেগের প্রকাশ্য প্রদর্শনকে ভালো চোখে দেখা হয় না। প্রকৃত ঘনিষ্ঠতা, মেক আউট বা যৌন মিলনের জায়গায় ফিল্মগুলো যৌনতার ইঙ্গিত দেয়ার জন্য দুটি ফুলের ক্লোজ-আপ বা যুগলকে লুকানোর ছাতা বা গাছ দেখিয়ে এসেছে।

পুরুষোত্তম বলেন, ‘আমার মতে সমাজ হিসেবে, প্রকৃত যৌনতার চেয়ে আমাদের কাছে যৌনতার ইঙ্গিত বেশি গ্রহণযোগ্য। কোনো পুরুষ নারীর নাভি স্পর্শ করলে সেটা ঠিক আছে, কিন্তু অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করলেই সিনেমাটি বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। এমনকি তা নিষিদ্ধও হয়ে যেতে পারে।’

২০০০ সালের তামিল সিনেমা ‘কুশি’তে এক নারী তার নাভির দিকে তাকিয়ে থাকা পুরুষের সঙ্গে মারামারি করেন। ভারতীয় সিনেমায় ‘ব্যক্তিগত অঙ্গ’ প্রদর্শনে বিধিনিষেধ থাকায় নাভিকে শরীরের একটি যৌন অংশ হিসেবে দেখানো হয় এবং এটি সহজেই দেখা যায়। এ অঞ্চলে নাভি শুধু শরীরের একটি আবেদনময় ও দৃষ্টিনন্দন অংশই নয়, কামোদ্দীপক অংশও।

পুরুষোত্তম ভারতীয় সিনেমায় ফুল, ছাতা এবং গাছ ব্যবহারের মতো ইঙ্গিতপূর্ণ যৌন ক্রিয়াকে জাপানি পর্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে তাদের অশ্লীলতার আইন এড়ানোর জন্য যৌনাঙ্গ ঝাপসা করা হয়।

পুরুষোত্তম বলেন, ‘জাপানে হেনতাইয়ের মতো হার্ডকোর পর্ন রয়েছে। তারপরও সেখানে যৌনাঙ্গ ঝাপসা করে রাখা হয়। আমার মতে সাংস্কৃতিক দমন যৌন আকাঙ্ক্ষা ও ফ্যান্টাসিগুলোকে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রকাশ করে।’

তেলেগু সিনেমার পরিচালক কে রাঘবেন্দ্র রাও প্রায়ই তার সিনেমায় নাভিকেন্দ্রিক যৌনতার দৃশ্য রাখেন। যেমন, ১৯৯১ সালের সিনেমা ‘চিন্না গুনদার’-এ নায়ক ভিজয়কান্ত নায়িকার পেটের ওপর একটি লাটিম রেখেছিলেন।

তবে, কেবল ভারতীয়দেরই নাভিপ্রীতি আছে বিষয়টি তেমনও নয়। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি নাভিকে একটি কামোদ্দীপক স্থান হিসেবে দেখে। জাপানে একটি বার্ষিক নাভি উত্সব রয়েছে।

আমেরিকার সিনেমাগুলো ১৯৩৪ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত হেইস কোড অনুসরণ করেছে। এ কোডের বিধিনিষেধের মধ্যে একটি ছিল, নাভিকে সব সময় ঢেকে রাখতে হবে। ১৯৫০ সালের সিনেমা সাম লাইক ইট হট-এ মেরিলিন মনরো এমন একটি পোশাক পরেছিলেন যাতে তার দেহের প্রায় পুরোটা দেখা গেলেও একটি ছোট কাপড়ে তার নাভি ঢাকা ছিল। ১৯৬০-এর দশকে কমিউনিটি গাইডলাইনের সঙ্গে এ অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে।

১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে দক্ষিণ ভারতে সফটকোর পর্ন সিনেমার উত্থান ঘটে। কাহিনি আইয়ার মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আরকের একটি ভিডিওতে বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতারা তখন একটি আন্দোলন শুরু করেন যা ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ ও জার্মান আর্টহাউস সিনেমার মতো ছিল।

১৯৭৮ সালে আইভি শশীর সিনেমা ‘আভালুদে রাভাকাল’ ছিল এ-রেটিং পাওয়া প্রথম মালয়ালম সিনেমা। একইভাবে ভরথান পরিচালিত ‘রথিনিরভেদম’ এক কিশোরের সঙ্গে এক বয়স্ক নারীর প্রেমের মতো নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে। এ সময়ে মূলত দক্ষিণ ভারতে নির্মিত সফটকোর পর্ন ভারতজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সিল্ক স্মিতা ও ডিস্কো শান্তির মতো অভিনেত্রীরা এ সময়ে খ্যাতনামা হয়ে ওঠেন। ভরথান ও শশীর সিনেমাগুলো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছিল।

ভারতীয় চলচ্চিত্র সমালোচক সি এস ভেঙ্কিটেস্বরন তার বই ‘মালয়ালম সিনেমা: ন্যাচারালাইজিং জেন্ডার হাইরার্কিস’-এ লিখেছেন, ‘এই গল্পগুলো নারী দেহের যৌনতা প্রদর্শনের দারুণ এক সুযোগ দিয়েছে। সিমা (আভালুদে রাভুকালের নায়িকা) ও সুভার মতো অভিনেতারা কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন। তারা যে ধরনের যৌনতা প্রকাশ করছেন, যা এর আগে নৈতিক বা আদর্শতার কারণে বাতিল করা হয়নি। তাদের দেহকে ফ্রেমের সামনে ও বর্ণনার উভয় ক্ষেত্রেই সামনের দিকে রাখা হয়েছিল। নায়িকা নিজেকে এমনভাবে স্থাপন করায় ক্যাবারে বা খলনায়কের অশ্লীল আস্তানা তৈরির প্রয়োজন ছিল না।’

এসব মোটা কোমর ও বিশাল বক্ষা নারীর সঙ্গে আইয়ার তুলনা করেছেন প্রাচীন কুশনা সাম্রাজ্যের ইয়াক্সি (যক্ষী) মূর্তিগুলোর।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার এ সংস্কৃতি আসলে প্রাচীন আবেদনের ফল। কুশান সাম্রাজ্যের ইয়াক্সিদের (যক্ষী) মতো নাভি উন্মুক্ত করা শাড়ি পরিহিত মোটা কোমর ও বিশাল বক্ষা নারীদের প্রতি কামশক্তির প্রতিফলন এটি।’

চেন্নাইয়ের ২৫ বছর বয়সী প্রকৌশলী নরেন তামিল ও তেলেগু সিনেমা দেখে বেড়ে উঠেছেন। ম্যাগাজিন কিংবা সিনেমা সব জায়গায় তিনি নাভির প্রতি এ আকর্ষণ লক্ষ করেছেন।

ভারুণের মতো নরেনও অনেকগুলো নাভিসংক্রান্ত সাবরেডিটে (রেডিটের গ্রুপ) জড়িত। তিনি ভাইসকে বলেন, ‘আমার মতে নারী দেহে এটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। আমি এও দেখেছি, কোনো সিনেমায় গ্ল্যামারাস দৃশ্যের প্রয়োজন না থাকলেও একটি আইটেম গান যুক্ত করা হয়, যেখানে অভিনেত্রীরা তাদের নাভি প্রদর্শন করেন।’

নরেনের একজন সঙ্গিনী আছেন, যার সঙ্গে তিনি নাভি নিয়ে খেলা উপভোগ করেন। এর মধ্যে রয়েছে স্পর্শ করা, হাত বোলানো, আঙুল দেয়া বা শুধু তাকিয়ে থাকা।

তিনি বলেন, ‘ডেটিং শুরুর আগে আমরা বন্ধু ছিলাম। তাই তার কাছে এটি প্রকাশ করা সহজ ছিল। নাভির প্রতি আমার আকর্ষণ সম্পর্কে আমি সব সময়ই সৎ। আমার সঙ্গিনী আমাকে এটা উপভোগ করতে দেয়।’

সিনেমার প্রভাবে মানুষের কি ভিন্ন ধরনের আকর্ষণ জন্মাতে পারে? ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যময় যৌনতাবিষয়ক মনোবিদ পম্পি ব্যানার্জির মতে, সিনেমার প্রভাবকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারদিকে যে ধরনের ছবি রয়েছে সেগুলো আমাদের যৌনতার ওপর প্রভাব ফেলে। সিনেমা আমাদের আকাঙ্ক্ষার ধারণাকে আরও পূর্ণ করে তোলে। ভারতীয় সিনেমায় যৌন দৃশ্য কম থাকে বলে নাভিকে যোনিসংক্রান্ত যৌনতার একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই সঙ্গে নাভি নিয়ে খেলা যৌনকর্মের একটি বিকল্প হয়ে ওঠে।’

ব্যানার্জি নাভির সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও তুলে ধরেন। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ কামসূত্রে নাভিকে কামপূর্ণ জায়গা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কামসূত্রে নাভির উল্লেখ আছে। এ থেকে ধারণা করা যেতে পারে, তখনকার মানুষও নাভি নিয়ে খেলতে পছন্দ করতেন।’

কামসূত্রে কীভাবে নাভিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায় ও কীভাবে এর যত্ন নিতে হয় বা অলংকার দিয়ে সাজাতে হয় সে বর্ণনাও আছে।

ব্যানার্জি বলেন, ‘ভারতীয় অনেক গহনাই কোমরের সৌন্দর্যকে বিকশিত করে। নাভি প্রেম আসলে আমরা বংশানুক্রমিকভাবে পেয়েছি।’

যৌনতা ও উত্তেজনাকে পরিষ্কারভাবে দেখানো কোনো দৃশ্য ভারতীয় সেন্সর বোর্ডে এ-রেটিং পায়। এ কারণে নির্মাতারা স্বল্পবসনা অভিনেত্রীর নাভির কিছু উত্তেজক দৃশ্য সিনেমায় ঢুকিয়ে দেন। এতে করে এ-র বদলে সিনেমাটি ইউ/এ রেটিং পায়। এর অর্থ হলো, সিনেমাটি সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।

তবে, অনলাইনে ভারতীয় অভিনেত্রীদের নাভি নিয়ে এতটা হইচই হবে সেটা নিশ্চিতভাবেই চলচ্চিত্র নির্মাতারা ভাবেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অভিনেতা কারিশমা কাপুরের নাভির ভক্তদের নিয়ে খোলা একটি ফেসবুক গ্রুপে ২০ হাজারের বেশি সদস্য আছে। মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে খোলা গ্রুপে আছে ৪২ হাজারের বেশি। রেডিটের সাবরেডিত ও গ্রুপে নাভিপ্রেমীদের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। একজন রেডিট ব্যবহারকারী স্বীকার করেছেন, তিনি শুধু নাভিসংক্রান্ত যৌন উত্তেজক পোস্ট দেন। কারণ এতে সাড়া বেশি আসে ও ফলোয়ার বাড়ে।

শুধু সিনেমাতেই নাভিকে যৌনতাপূর্ণ দেখানো হয় তা নয়। রিয়েলিটি টিভি সিরিজ শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ায় এক কোম্পানি তাদের ‘বেলি বাটন শার্পার’ নিয়ে এসেছিল। তাদের এ পণ্য নাভিকে আরও গভীর ও বৃত্তাকার করে তুলবে এমনটাই ছিল দাবি। তবে এ পণ্যটি শার্ক ট্যাঙ্কের বিচারকদের মাঝে হাস্যরস সৃষ্টি করে এবং তারা একে বাতিল করে দেন।

ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেতা তাপসী পান্নুর দাবি, তেলেগু সিনেমার গানের শুটিংয়ের সময় তার পেটে একবার নারকেল ছুড়ে মারা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘অন্যদের দিকে ফুল বা ফল ছুড়ে মারা হয়। আমার সময় নারকেল ছুড়ে মারা হলো! আমি একেবারে প্রস্তুত ছিলাম না। আমি জানি না পেটে নারকেল লাগার মধ্যে উত্তেজক কোন বিষয়টা আছে।’

আরেক অভিনেতা ইলিয়ানা ডিক্রুজ ভারতের ডিএনএ পত্রিকাকে তার পেটে চীনামাটির তৈরি ঝিনুক ছুড়ে মারার ঘটনা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম তেলেগু সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল যেখানে একটা চীনামাটির তৈরি ঝিনুক স্লো-মোশনে আমার পেটের ওপর ফেলা হবে। ঝিনুকটা বেশ বড় ও ভারী ছিল। ওই দৃশ্যধারণের পর আমার পেটের পেশিগুলো ব্যথা করছিল। আমার বয়স ছিল ১৮ বছর, আর আমি তখন মোটেই বুঝতে পারছিলাম না বিষয়টিকে কেন সেক্সি হিসেবে ধরা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ডব্লিউডব্লিউই মঞ্চ কাঁপালেন আরব নারী
জ্যাক স্প্যারো চরিত্রে জনিকে ফেরাতে ৩০ কোটি ডলার
ড্র করেই চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবল দল
এমআর-নাইন সিনেমায় এলিনা শাম্মী, ঢাকায় শুটিং শুরু
মালয়েশিয়াকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করল সাবিনা-আঁখিরা

মন্তব্য

জীবনযাপন
Abolition of Abortion Rights Act in the United States

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল প্রায় ৫০ বছর ধরে গর্ভপাতের জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা শেষ করার পর গর্ভপাতবিরোধী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের বাইরে উদযাপন করছেন। ছবি: এপি
প্রজনন অধিকার সংগঠন গুটমাচার ইনস্টিটিউট বলছে, ১৯৭৩ সালের আইনি নজির উল্টে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৪টির বেশি রাজ্যে এখন গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিম্ন আয়ের নারীর ওপর প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল হলো গর্ভপাত অধিকার আইন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার ঐতিহাসিক এ রায় দেয়। এতে দেশজুড়ে গর্ভপাতকে বৈধতা দেয়া ১৯৭৩ সালের আইনি সিদ্ধান্ত ‘রো বনাম ওয়েড’ আর থাকছে না। ফলে প্রতিটি রাজ্যই এখন নিজস্বভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে পারবে।

রায়ে বিচারকরা জানান, সংবিধান গর্ভপাতের অধিকার দেয় না। সিদ্ধান্তের পক্ষে সমর্থন দেন ছয়জন বিচারক, বিপক্ষে তিনজন।

এ রায়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। প্রজনন অধিকারের সমর্থকরা বলছেন, লাখ লাখ নারী গর্ভপাত পরিষেবাগুলো নিতে পারবেন না।

প্রজনন অধিকার সংগঠন গুটমাচার ইনস্টিটিউট বলছে, ১৯৭৩ সালের আইনি নজির উল্টে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৪টির বেশি রাজ্যে এখন গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিম্ন আয়ের নারীর ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিচারকরা জানান, আগের আইনে ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত বৈধ ছিল। এটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ সংবিধানে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই।

রো বনাম ওয়েডের রায়ে যুক্তি দেয়া হয়েছিল, সংবিধানের অধীনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার একজন নারীর গর্ভাবস্থা বন্ধ করার ক্ষমতাকে রক্ষা করে।

সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯২ সালের সাউথইস্টার্ন পেনসিলভানিয়া বনাম ক্যাসি প্ল্যানড প্যারেন্টহুড নামে একটি রায়ে গর্ভপাতের অধিকারকে পুনরায় নিশ্চিত করেছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, গর্ভপাতের বিষয়ে ‘অযথা বোঝা’ চাপিয়ে দেয়া আইনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো বলেন, ‘রো এবং প্ল্যানড প্যারেন্টহুড বনাম কেসি ভুল ছিল। এটি অবশ্যই বাতিল করা উচিত।

‘আমরা মনে করি যে রো এবং কেসিকে অবশ্যই বাতিল করা উচিত। সংবিধানে গর্ভপাত উল্লেখ নেই। এ ধরনের অধিকার সাংবিধানিক বিধান দ্বারা সুরক্ষিত নয়।’

বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, নিল গর্সুচ, ব্রেট কাভানাফ এবং অ্যামি রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে দেয়া তিন বিচারপতি ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত।

উদারপন্থি বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ার, সোনিয়া সোটোমায়র এবং এলেনা কাগান ভিন্নমত পোষণ করেন।

তারা জানান, ‘এটা আদালতের জন্য দুঃখের খবর। তবে লাখ লাখ আমেরিকান নারী আজ একটি মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষা হারিয়েছেন। আমরা ভিন্নমত পোষণ করছি।’

জনমত জরিপ দেখা গেছে, বেশির ভাগ আমেরিকান গর্ভপাতের অধিকারকে সমর্থন করেন।

গত মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টের ফাঁস হওয়া একটি গোপন খসড়া নথিতে ঐতিহাসিক গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল হতে পারে বলে আভাস মিলেছিল। রাজনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো সেই নথি প্রকাশ করেছিল।

আরও পড়ুন:
অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে স্বামীর নামে মামলা
‘যৌতুক না পেয়ে’ গর্ভপাত, স্বামী-নার্সসহ গ্রেপ্তার ৫
কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গর্ভপাত ৪৩ শতাংশ বেশি: গবেষণা
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণে দ্বিগুণ বেড়েছে গর্ভপাত
এক নারীর পরিবর্তে আরেক জনের গর্ভপাতের চেষ্টা তদন্তে কমিটি

মন্তব্য

p
উপরে