কিটোজেনিক ডায়েটে একজন মানুষ তার খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট যতটা সম্ভব এড়িয়ে ছেঁটে ফেলেন। কিন্তু শরীরের জ্বালানির জোগান তো ঠিক রাখতে হবে। তাই জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে ফ্যাট বা চর্বি বেছে নেন তিনি। প্রচলিত অর্থে, চর্বি খাওয়া মানে হলো ওজন কমানো।
কিটোর সুবিধা শুধু ওজন কমানোতে আটকে নেই। এটি মৃগী রোগীদের খিঁচুনি এড়াতেও সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতেও কিটো ডায়েটকে উপযোগী মনে করা হয়।
আজকের দিনটি তাদের জন্য, যারা কিটো ডায়েট করেন। তিন বছর ধরে ৫ জানুয়ারি পালিত হচ্ছে কিটো দিবস। যারা এই ডায়েট করার চিন্তাভাবনা করছেন তারা কিটো লাইফস্টাইল শুরু করতে আজকের দিনটিকে বেছে নিতে পারেন।
আরেকটু স্পষ্ট করে বললে, কিটোজেনিক বা কিটো ডায়েট হলো বিশেষ খাদ্যব্যবস্থা, যেখানে শর্করার পরিমাণ কম ও চর্বির পরিমাণ বেশি। সাধারণ খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ থাকে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ। কিটো ডায়েটে তা কমে দাঁড়ায় ৫ থেকে ১০ ভাগ। সাধারণ খাদ্যতালিকায় চর্বির পরিমাণ থাকে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। কিটোতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ শতাংশ। তবে আমিষ বা প্রোটিনের পরিমাণ সাধারণ তালিকার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।
তবে যারা কিটো শুরু করতে চান তাদের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকাটা জরুরি, যা ‘কিটো ফ্লু’ নামে পরিচিত। কিটোজেনিক ডায়েট শুরুর ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কিটো ফ্লু’র উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, ক্লান্তি, বিরক্তি, বমি বমি ভাব, ঘুমাতে অসুবিধা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
বলা হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ডায়েট শুরু করাটা বোকামি। কারণ চিকিৎসকরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্যের বিষয় জেনেবুঝেই তার খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেন।
অবশ্য অনলাইনে কিটো ডায়েট নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শের অভাব নেই। কিম কারদাশিয়ান এবং হ্যালি বেরির মতো জনপ্রিয় হলিউড সেলিব্রিটিরাও এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
আধুনিক স্বাস্থ্য কৌশল হিসেবে কিটোজেনিক ডায়েটের উদ্ভব ১৯২০ সালের দিকে। মূলত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মৃগী রোগীদের চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার হতো। পরে খিঁচুনির কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার হলে কিটো ডায়েটের প্রভাব কিছুটা কমে আসে।
হাল সময়ে এসে ১৯৯৪ সালে বদলে যায় দৃশ্যপট। হলিউড প্রযোজক জিম অ্যাব্রাহামসের সন্তান কিটো ডায়েট করে মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আর তাতেই কিটোজেনিক থেরাপির জন্য চার্লি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাব্রাহামস।
হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপকে নিয়ে একটি টিভি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন অ্যাব্রাহামস। কিটো ডায়েটের গুণগান সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এরপরই চার্লি ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয় কেটোজেনিক্সের অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা। এর মধ্য দিয়ে তা শুধু আমেরিকা নয়, দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন আসতেই পারে, ২০ শতকের চিকিৎসকরা কীভাবে জানলেন কার্বোহাইড্রেট কমানো গেলে মৃগী রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?
প্রকৃত ইতিহাস লুকিয়ে আছে প্রাচীন গ্রিসে। ‘হিপ্পোক্রেটিক কর্পাস’-এ ওই সময়ের চিকিৎসকরা লিখেছিলেন- সাধারণ মানুষ যেভাবেই দেখুক, মৃগী রোগ অতিপ্রাকৃত কিছু নয়। তাদের মতে এটি একটি জৈবিক রোগ, যা কঠোর উপবাসে নিরাময় হয়।
বিংশ শতাব্দীর চিকিৎসা ও গবেষণায় স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে স্টার্চ ও চিনিমুক্ত খাদ্য কঠোর উপবাস থেকে মুক্তি দিতে পারে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এর বিকল্প হিসেবে তারা দাঁড় করান কিটো ডায়েট।
মস্তিষ্কের কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আলঝেইমার, পারকিনসন্স, অনিদ্রাসহ নানা কিছুতে কিটো ডায়েটকে বেশ উপযোগী হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।
২০০৭ সাল পর্যন্ত কিটো ডায়েট চর্চা ৪৫টি দেশে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তা পৌঁছে গেছে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জনপদে।
গবেষণা বলছে, ওজন কমানো এবং রক্তে সুগার বা শর্করা স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার ক্ষেত্রে কিটো ডায়েটের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। কেটোজেনিক ডায়েট মেনে চললে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের শরীরে গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তে ভালো মানের কোলেস্টেরল নিশ্চিত করা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতেও এই ডায়েট বিশেষ কার্যকর।
কিটো ডায়েটকে আরও জনপ্রিয় করতে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে কিটো দিবস পালন শুরু করে ‘ভিটামিন শপ’। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, কিটোজেনিক ডায়েটের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা এবং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যের ভালো দিকগুলো তুলে ধরে কিটো লাইফস্টাইলে মানুষকে আগ্রহী করে তোলা।
পবিত্র ঈদ উল আযহার ছুটির মাঝে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বহির্বিভাগ-১ এবং বহির্বিভাগ-২ এ আজ ২৭ মে বুধবার ২০২৬ইং তারিখ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা ছিল। এসময় সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দ প্রায় দুইশত (১৯৮) রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। বুধবার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় বিএমইউর সম্মানিত পরিচালক হাসপাতাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, সহকারী প্রক্টর ডা. শাহরিয়ার শামস লস্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রোগীদের সুবিধার্থে আগামী ৩০ মে শনিবার ২০২৬ইং তারিখে বিএমইউর বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। বিএমইউর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। আগামী ৩০ মে ২০২৬ইং তারিখের বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করার জন্য কে বিএমইউর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগসমূহ খোলা রয়েছে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৩ শিশুর। এ রোগ ও উপসর্গে ৫০০ ছাড়িয়েছে মৃত্যু।
শনিবার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ১ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১ জন এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বুধবার (২০ মে) থাইরয়েড টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির উদ্যোগে থাইরয়েড সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে এবং বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ কে সামনে রেখে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো থাইরয়েড স্বাস্থ্য রক্ষায় সঠিক পুষ্টি।
এসকল আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। মাননীয় উপার্চা তার বক্তব্যে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন প্রাকটিসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন এবং জন্মের পর নবজাতকের থাইরয়েড পরীক্ষাসহ রোগ নির্ণয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে জানানো হয়, এই নতুন গাইডলাইনটি গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের জটিলতা নিরসনে, অকাল প্রসব, গর্ভপাত, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ সন্তান জন্মদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজক চিকিৎসকরা। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য এটি একটি হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারডেম এর পরিচালক (একাডেমী) অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক পাঠান। মূল বক্তা ছিলেন বিইএস এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ও থাইরয়েড টাস্কফোর্স এর কো-অর্ডিনেটর ডা. শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন। প্যানেল অব এক্সপার্টস ছিলেন নিনমাস এর পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী, বিএমইউ এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসনাত, জেড এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শেখ জিনাত আরা নাসরীন, কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোঃ হাফিজুর রহমান। সঞ্চালক ছিলেন থাইরয়েড টাস্কফোর্স ও বিইএস এর সদস্য সচিব ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ।
নিনমাস এর পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী গ্রন্থিটি মানব শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে চারটি সময়ে জন্মের পর-পরই, বয়ঃসন্ধিকালে, মায়েদের গর্ভধারণের পূর্বে এবং বয়স ৫০ হওয়ার পর-পরই অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. বারী আরো বলেন, থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ এর মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোন কাঁটা ছেড়া ছাড়া শুধু সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়; তাতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, কিংবা রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না এবং এই পদ্ধতির কোন বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, খরচও কম হবে । টিউমার অ্যাবলেশনের পদ্ধতি দেশের মানুষের থাইরয়েড সমস্যা ও লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় অবদান রাখবে।
সেমিনারে বলা হয়, গলার নিচের অংশে শ্বাসনালীর সামনে অবস্থিত প্রজাপতির আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। এটি প্রধানত দুটি হরমোন নিঃসরণ করে: থাইরক্সিন এফটি৪ এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এফটি৩। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম), হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অবসাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। হাইপারথাইরয়েডিজম: বেশি হরমোন তৈরি করলে ধড়ফড়, ওজন কমা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম হয়।
থাইরয়েড গ্রন্থিকে একটি ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যার সঠিক জ্বালানি হলো পুষ্টি। নির্দিষ্ট কিছু খনিজ ও ভিটামিন ছাড়া থাইরয়েড হরমোন তৈরি অসম্ভব। যে উপাদানগুলো জরুরি তা হলো আয়োডিন যেমন আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম। সেলেনিয়াম যেমন ব্রাজিল নাট, টুনা মাছ, মুরগির মাংস, সূর্যমুখীর বীজ। জিঙ্ক যেমন গরুর মাংস, কুমড়ার বীজ, ছোলা, ডাল। আয়রন ও ভিটামিন ডি। আয়রনের অভাবে থাইরয়েড এনজাইমের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। থাইরয়েড রোগীদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব প্রকট থাকে।
গয়ট্রোজেনিক খাবার নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও সয়াবিনে গয়ট্রোজেন থাকে যা আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়। তবে রান্না করলে এসব যাবারের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। খাইরয়েড রোগীরা পরিমিত পরিমাণে রান্না করা এসব সবজি খেতে পারেন। যা এড়িয়ে চলবেন তা হলো ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার (সাদা ময়দা, চিনিযুক্ত পানীয়)। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা মৃদু ব্যায়াম ইত্যাদি করা প্রয়োজন।
সেমিনারে সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে থাইরয়েড রোগ নিয়ে আরও গবেষণায় উদ্যোগী হওয়ার, রোগীর সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক কর্মযজ্ঞে লিপ্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘হাইপারটেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ মে আয়োজিত এই সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপকে একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারের অংশ হিসেবে ‘হাইপারটেনশন প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ: ইমাজিং চ্যালেঞ্জেস এন্ড ফিউচার ডাইরেকশন (Hypertension Prevention in Bangladesh: Emerging Challenges and Future Direction)’ নামক একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উল্লেখ্য, এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে “একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (Controlling Hypertension Together) ”।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী দেশের বর্তমান উচ্চ রক্তচাপ পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ২১ থেকে ২৩ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনে ভুগছেন, তবে এর মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ এই রোগটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অঙ্গের জন্য মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, ‘উচ্চ রক্তচাপ হার্ট, কিডনী, ব্রেইন, রক্তনালী, চোখসহ পাঁচটি অর্গানের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ এই পাঁচটি অর্গানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ।’ তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতাসম্পন্ন ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং আক্রান্ত অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা দিতে একটি আধুনিক ড্রাগ পলিসি প্রণয়ন করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেমিনারের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কেবল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, এটি রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার একটি আগাম সংকেত। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ওষুধের দাম কমানোর ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং উদ্বেগজনকভাবে এটি এখন তরুণ প্রজন্মের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ ও তামাক ব্যবহার তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।’ এটি এখন কেবল ব্যক্তিগত রোগ নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার নগরায়ন ও দূষণসহ বিভিন্ন জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে এই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ওষুধের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এ সামাদ মৃধা। তিনি জানান, বিশেষ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রতিকূলতার মাঝেও ইডিসিএল ৪৮টি ওষুধের দাম কমাতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দিতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, দেশের ৩১০টি উপজেলায় এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। তাই তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমেই এই নীরব ঘাতক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব সূত্রে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিত হামে ও ৬ জনের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ শিশু। মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৫৬ শিশু।
এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ২৪ শিশু।
আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ১৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৯৩২ শিশু।
দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, সামাজিক বৈষম্য এবং অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলে প্রভাব ফেলছে মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুষ্টি, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, সহিংসতা থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যেগে আয়োজিত ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬ সফলভাবে ১০ মে ২০২৬ তারিখে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটি তরুণ জনগোষ্ঠী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে বাংলাদেশে তরুণদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা/সাস্টেইনাবলে ডেভেলপমেন্ট গোল (SDGs) এবং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (UHC) অর্জনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় এনে সম্মেলনে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সুশাসনে অর্থবহ যুব অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, সামাজিক বৈষম্য এবং অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কীভাবে কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলে প্রভাব ফেলছে তা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুষ্টি, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
সম্মেলন জুড়ে প্লেনারি সেশন, কুইজ প্রতিযোগিতা, ওরাল ও পোস্টার উপস্থাপনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। আলোচনার মূল থিমগুলো ছিল- যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (SRH), পুষ্টি, অসংক্রামক রোগ (NCDs) ও জীবনধারা পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, তরুণদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতা, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং জলবায়ু পরিবর্তন। সেশনগুলোতে তরুণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সহিংসতা প্রতিরোধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ’র ডিপিএইচআই-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিকুল হক, পিএইচডি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক), অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন), অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, কোষাধ্যক্ষ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাসুম আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ডা. মালালাই আহমাদজাই।
সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যুব সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ২০০-এর অধিক তরুণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং অর্থবহ যুব অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্য উন্নয়নই ছিল এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতি, সেবা ও উদ্ভাবনে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক এবং তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এই সম্মেলন তরুণদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, চেয়ারপার্সন, পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. ফারজানা ইসলাম, পিএইচডি এবং ডা. মোঃ শহিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি।
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল থ্যালাসেমিয়া সেন্টার এবং শিশু রক্ত রোগ ও ক্যান্সার বিভাগের উদ্যোগে ১০ মে ২০২৬ তারিখে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর ৮ মে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হলেও আজ হাসপাতালের মিলনায়তনে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল "Hidden No More – Finding the Undiagnosed, Supporting the Unseen," যার মূল লক্ষ্য হলো অজ্ঞাত রোগীদের শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার আওতায় আনা। থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে থ্যালাসেমিয়া রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই মরণব্যাধির ব্যয়ভার বহন করা অনেক পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য। এ অবস্থায় অসহায় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জীবন বাঁচাতে এবং তাদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মানবিক দিক বিবেচনায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। প্রতিটি নাগরিকের উচিত নিজে থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না তা পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নেওয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বারোপ করেন যে, থ্যালাসেমিয়া বাহকের সাথে বাহকের বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হলেই দেশ থেকে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই বিবাহের পূর্বে বাহক শনাক্তকরণকে তিনি একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মাহবুবুল হক, সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সেলিমুজ্জামান এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিশু রক্ত রোগ ও ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ বেলায়েত হোসেন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে এই রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন এবং থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল বার্তা।
মন্তব্য