মৌচাক কাটা হয় কীভাবে

player
মৌচাক কাটা হয় কীভাবে

মৌয়ালের দেয়া ধোঁয়ায় নিমেষেই দুর্বল হয়ে পড়ে মধুকরদের এ রক্ষাব্যুহ। ছবি: নিউজবাংলা

চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে এক ধরনের পিণ্ড বানায়। একে কোনো কোনো এলাকায় বুন্দা বলা হয়। সে বুন্দা দিয়েই মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়।

ফুলে ফুলে ঘুরে তিলে তিলে চাক গড়ে মৌমাছি। নিজেদের প্রয়োজনে মধুমক্ষিকার অর্ধবৃত্তাকার সে সুরম্য সৌধ নিমেষেই গুঁড়িয়ে দেয় মানুষ। কীভাবে সেটি করা হয়, তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্ণধার।

অনলাইন শপ দেশির উদ্যোক্তা হাসানুল বান্না নিউজবাংলাকে জানান, চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে এক ধরনের পিণ্ড বানায়। একে কোনো কোনো এলাকায় বুন্দা বলা হয়। সে বুন্দা দিয়েই মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়।

বান্না আরও জানান, মৌয়াল মগডালে বা ভবনের কার্নিশে চাকের কাছাকাছি গিয়ে খড়ের সে বুন্দায় আগুন ধরান। সে আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাকের আশপাশে উড়তে থাকে।

মধু সংগ্রহের চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে এ উদ্যোক্তা বলেন, মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর আবার তা বানাতে তৈরি শুরু করে মৌমাছি।

বান্নার বক্তব্যের সঙ্গে কিছু বিষয় যোগ করেন সিরাজগঞ্জভিত্তিক ‘নাহল মাল্টি এগ্রো’ নামের প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জহুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, চাক কাটতে গাছে বা কার্নিশে ওঠার আগে মৌয়ালকে কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হয়। গাছে বা ভবনে খুব ধীরে ধীরে ওঠার কৌশল রপ্ত করা লাগে তার।

চাক মধুতে পূর্ণ হয়েছে কি না, সেটা বোঝার উপায় নিয়েও কথা বলেন জহুরুল। তার ভাষ্য, বেশিরভাগ মৌচাকে মধু থাকে উপরের অংশে। যখন মৌচাকটির উপরের দিক বেশ ভারী এবং নিচের দিক সরু হয়ে যায় তখনই সেটি মধুতে পূর্ণ হয়ে যায়। নিয়মিত যারা মধু সংগ্রহ করেন, তারা সেটি বোঝেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রাজশাহীর রসগোল্লা দোকানের মিষ্টি। ছবি: নিউজবাংলা

বিচিত্র ধরনের আর স্বাদের উদ্ভাবনী মিষ্টি এনে রাজশাহী শহরে সাড়া ফেলে দিয়েছে একটি মিষ্টির দোকান। খেজুরের গুড়ের মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন আমের রস থেকে বানানো মিষ্টি এবং কাঁচা মরিচ মিষ্টির কথা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজশাহী শহরের অলিগলিতে রয়েছে অগণিত মিষ্টির দোকান। এর মধ্যে অনেক দোকানেরই বেশ নামডাক। পরিচিত হতে এগুলোর লেগেছে বছরের পর বছর। তবে ভিন্নধর্মী কিছু উদ্যোগ নিয়ে দুই সপ্তাহে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি দোকান, যেটির নাম ‘রসগোল্লা’।

শুরুর দিন খেজুর গুড়ের মিষ্টি নিয়ে আলোচনায় আসে তারা। এরপর কাঁচা মরিচের মিষ্টি, আমের স্বাদে মিষ্টি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে দোকানটি। এখন এ মিষ্টির দোকানে ভিড় প্রতিদিনকার। বেশির ভাগ ক্রেতাই ছাত্র-ছাত্রী।

রাজশাহী শহরের ভদ্রা রেলক্রসিংয়ের পাশেই দুই খামারি বন্ধু মিলে চালু করেছেন এই মিষ্টির দোকান। একজন ‘সওদাগর এগ্রো’ নামক একটি খামারের মালিক আরাফাত রুবেল, অন্যজন ‘আবরার ডেইরি ফার্ম’-এর মালিক রবিউল করিম। নিজেদের খামারের দুধ থেকে ছানা করে মিষ্টি বানাচ্ছেন তারা।

গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে তাদের এ যাত্রা। প্রথম দিনই আলোচনায় জায়গা করে নেয় খেজুর গুড় দিয়ে বানানো রসগোল্লা। তাদের প্রচারের ধরনেও আছে ভিন্নতা। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তারা প্রচারে কাজে লাগিয়েছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন বিকেলে চালু হওয়ার পর রাতেই শেষ হয়ে যায় খেজুর গুড়ের মিষ্টি। এরপর গত কয়েক দিনে দোকানে এসেছে কমলার মিষ্টি, কাঁচা মরিচ মিষ্টি, জাফরান মিষ্টি, নারকেল কাশ্মীরি মিষ্টি, ল্যাংচা, রাজকুমার, চাঁদকুমারী, নবাব, জাফরান এবং ফজলি আমের মিষ্টি। ফজলি আম খাওয়ার জন্য যেভাবে আম কাটা হয় মিষ্টির ধরনও করা হয় ঠিক তেমনই। দেখে যে কারো মনে হতে পারে সত্যিকারের আমের ফালি। আমের ফ্লেভারও বেশ টাটকা।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

ফজলি মিষ্টি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ১২ জানুয়ারি তারা নিয়ে এসেছে হাঁড়িভাঙা মিষ্টি। রংপুরের আলোচিত আম হাঁড়িভাঙা। আমের মিষ্টি বানানোর পরিকল্পনা তাদের কয়েক মাস আগেরই। এই লক্ষ্য নিয়ে তারা আমের মৌসুমে পাকা আম পাল্প করে রেখেছিলেন ফ্রিজে। এখন সেই পাল্পের সঙ্গে দুধ আর মসলা দিয়ে প্রথমে জাল করে শুকানো হচ্ছে। ওদিকে দুধের ছানা, চিনি, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চেরি, কিশমিশ আর এলাচের সংমিশ্রণে করা হচ্ছে খামির। এই খামির থেকে প্রথমে বানানো হচ্ছে মিষ্টি। মিষ্টির গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোয়া। তারপর মিষ্টিটা বার্গারের মতো কেটে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে দুধে জাল দেওয়া আমের পাল্প। তার ওপরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে কাঠবাদাম, কিশমিশ আর চেরি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

দোকানের উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রুবেল জানান, করোনাকালে নিজেদের খামারের দুধ বিক্রি করতে বেগ পাচ্ছিলেন তারা। এই অবস্থায় বিকল্প ভাবনা হিসেবে তাদের মাথায় আসে দুধ থেকে মিষ্টি বানানোর ভাবনা। তারই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে।

দুই বন্ধু নিজেদের খামারের দুধ থেকে খাঁটি ছানার মিষ্টি বানাচ্ছেন। এর বাইরে মাঠ পর্যায়ের খামার থেকেও প্রতিদিন দুধ আনতে হচ্ছে। প্রতিদিন তারা প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ দুধের ছানা করছেন। বানাচ্ছেন মিষ্টি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রুবেল জানান, তারা কিছুটা ভিন্ন ভাবনা নিয়েই এটি শুরু করেছেন। গতানুগতিক ধারার মিষ্টির বাইরে এসে তারা মানুষকে নতুন স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য খেজুর গুড়, আম, মরিচের স্বাদের মিষ্টির চাহিদা অনেক। যারা বাইরে থেকে আসছেন তাদের কাছে আমের মিষ্টির চাহিদা বেশ। এ ছাড়া এখন যেহেতু আমের মৌসুম নয়, তাই আমের স্বাদ পেতে অনেকেই কিনছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

সব থেকে বেশি চাহিদা খেজুর গুড়ের মিষ্টির। প্রতি কেজি খেজুর গুড়ের মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা করে। আর আমের মিষ্টির কেজি ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া ল্যাংচা ৩৫০ টাকা, কাঁচা মরিচের মিষ্টি ৩২০ টাকা, টাটকা কমলার ফালি দিয়ে বানানো মিষ্টি ৩২০ টাকা কেজি।

রুবেল জানান, আমের মৌসুম এলে আমের তৈরি মিষ্টির দাম কিছুটা কমবে।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন থেকেই দোকানে সাড়া মিলছে প্রত্যাশার থেকেও বেশি। মানুষের আগ্রহ দেখে তারা অনেক বেশি আশাবাদী হচ্ছেন। তবে এখানকার বেশির ভাগ ক্রেতা শিক্ষার্থী বা তরুণ। বাসায় নেয়ার জন্য মিষ্টির ক্রেতা তুলনামূলক কম। তারা এখানে বসে দু-একটা মিষ্টি খেয়ে চলে যাচ্ছেন।

রুবেল বললেন, তাদের মূল প্রচার হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যারা এর পাঠক, তারাই মিষ্টির দোকানে আসছেন বেশি।

শেয়ার করুন

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

উপহার পাওয়া পাতিলটি কুড়িগ্রাম সদরের একটি গ্রামে বসিয়েছে বিদ্যানন্দ। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যানন্দের হেড অফ কমিউনিকেশন সালমান খান ইয়াসিন নিউজবাংলাকে জানান, ১২ ফুট ব্যাস ও ৬ ফুট গভীর এ পাত্রে একবারে ১০ হাজার মানুষের খাবার রান্না সম্ভব। ২০ বছর আগে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি পাতিলটি ডুববে না। বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রয়োজনে এটি ভাসিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য কোথাও নেয়া যাবে।

মানুষকে খাইয়ে আনন্দ পেতেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী ও সাধক সৈয়দ এস এম জাহিদুল হক। বিশাল এক পাতিলে রান্না হতো সে খাবার। দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের বছর ২০২০ সালে সংক্রমণে জাহিদুলের মৃত্যুর পর সে আয়োজনে ভাটা পড়ে। এতে পাতিলটিও অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। এমন বাস্তবতায় বিশাল পাত্রটি কাউকে উপহার দেয়ার চিন্তা করেন জাহিদুলের তিন সন্তান।

এত বড় পাতিল কাদের দরকার হবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনার পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দের কথা মাথায় আসে তাদের। সে ভাবনা থেকেই বিদ্যানন্দের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জানুয়ারি পাতিলটি এক টাকায় আহার করানো সংগঠনকে উপহার দেয়া হয়।

পাতিলটির বিশেষত্ব

বিদ্যানন্দের হেড অফ কমিউনিকেশন সালমান খান ইয়াসিন নিউজবাংলাকে জানান, ১২ ফুট ব্যাস ও ৬ ফুট গভীর এ পাত্রে একবারে ১০ হাজার মানুষের খাবার রান্না সম্ভব। ২০ বছর আগে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি পাতিলটি ডুববে না। বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রয়োজনে এটি ভাসিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য কোথাও নেয়া যাবে।

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

রান্না শুরু কবে

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরসুভরকুটি গ্রামে এরই মধ্যে পাতিলটি বসানো হয়েছে। শিগগিরই এতে রান্না শুরু হবে।

বিদ্যানন্দের কর্মকর্তা সালমান জানান, সংগঠনটির আগে থেকে বড় একটা পাতিল ছিল। তাতে সাড়ে তিন হাজার মানুষের রান্না করা যেত। আরও বড় পাতিল পাওয়ায় এখন তিন গুণের বেশি মানুষকে খাওয়ানো যাবে।

তিনি আরও জানান, আগের পাতিলের মতো এটিতেও গ্যাসে রান্না হবে। একসঙ্গে বেশি মানুষের খাবার আয়োজনের সুবিধা থাকায় এর মাধ্যমে জনবল ও খরচ কমে আসবে বিদ্যানন্দের।

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

পাতিলে কি নিয়মিত রান্না হবে

এ বিষয়ে বিদ্যানন্দের হেড অফ কমিউনিকেশন সালমান খান জানান, বর্তমানে ছয় বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিদ্যানন্দের কিচেনে রান্না হয়। দিনে গড়ে তিন হাজার মানুষ এক টাকার এসব খাবার খান। এ কারণে রোজই এত বড় পাতিল ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, তবে যেকোনো উৎসব বা বিশেষ মুহূর্তের আয়োজনে এমন পাতিলের প্রয়োজন হবে। সে সময় এটি ব্যবহার করা হবে।

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

তিনি আরও জানান, বিদ্যানন্দ দুই ঈদ, দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা কিংবা বড়দিনের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবে ৫ হাজারের বেশি মানুষের খাবারের আয়োজন করে। এর বাইরে বন্যার মতো প্রাকৃতিক ‍দুর্যোগে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের খাবার রান্না করা হয়। এমন মুহূর্তগুলোতে উপহারের পাতিলটি ব্যবহার করা হবে, তবে প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটি ব্যবহার করা হবে।

শেয়ার করুন

আইসক্রিম খেলা এখন ঢাকায়

আইসক্রিম খেলা এখন ঢাকায়

বনানীর এই আইসক্রিম পার্লার ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

টার্কুইশ বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার আশিক কায়সার নিউজবাংলাকে বলেন, আমরা শুধু আইসক্রিম বিক্রি করি না, আমরা চাই ক্রেতার মুখে হাসি ফুটুক। তাই বিক্রির আগে একটু খেলা করি।’

দোকানে গিয়ে আইসক্রিম চেয়েছেন ক্রেতা। বিক্রেতাও হাসিমুখে এগিয়ে দিয়েছেন আইসক্রিম। কিন্তু নানা বাহানা আর চালাকিতে ক্রেতাকে ধরতে দিচ্ছেন না সেই আইসক্রিম।

আইসক্রিম নিয়ে এই খেলার উদ্ভাবন তুরস্কে। সেখানকার আইসক্রিম বিক্রেতা ও ক্রেতাদের প্রথম এমন খেলায় দেখা যায়। জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এটি এখন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউটিউব-ফেসবুকে এমন ভিডিও এখন ব্যাপকভাবে আলোচনায়। জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় সেই আইসক্রিম খেলা এখন ঢাকায়। রাজধানীর বনানীতে চালু হয়েছে টার্কুইশ আইসক্রিম পার্লার। সেখানে তুরস্কের ট্র্যাডিশনাল আইসক্রিমের সঙ্গে ক্রেতারা উপভোগ করতে পারছেন খেলাও।

পার্লারে সরবরাহ করা আইসক্রিমের ধরনও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইসক্রিমের চেয়ে আলাদা বলে জানালেন টার্কুইশ বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার আশিক কায়সার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে যে আইসক্রিম দিচ্ছি সেটাতে কোনো পাউডার ও কেমিক্যাল নেই। তুরস্কের তিনজন নাগরিক আমাদের এখানে কাজ করেন। তারাই মূলত আইসক্রিম বানানো এবং বিক্রির কাজটা করেন।

আইসক্রিম খেলা এখন ঢাকায়
টার্কুইশ বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার আশিক কায়সার। ছবি: নিউজবাংলা

‘তাদের মধ্যে শাহিন অজতুর্ক আইসক্রিম বানানো ও বিক্রির মাস্টার। তিনি বেশ পরিচিত এই অঙ্গনে। শাহিন হলিউডের সিনেমায় অভিনয়ও করেছেন। তার সহযোগী অনুর বায়েজিত ও আলী রিজা।’

আশিক আরো বলেন, ‘আমরা এখানে শুধু আইসক্রিম বিক্রি করি না। একইসঙ্গে আমাদের চাওয়া- ক্রেতার মুখে হাসি ফুটুক। তাই আমরা আইসক্রিম বিক্রির আগে একটু খেলা করি। এই আইসক্রিম শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।’

আইসক্রিম পার্লারটি চালু হয়েছে ১ জানুয়ারি। বিভিন্ন বয়সের ক্রেতারা এখানে আসছেন এবং আইসক্রিম কেনার ফাঁকে একটু খেলায়ও অংশ নিচ্ছেন। আর সঙ্গে কেউ থাকলে খেলার অংশটি ভিডিও করে নিচ্ছেন মোবাইল সেটে।

শেয়ার করুন

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সৈকতে সমাগম নেই পর্যটকদের। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ভরা মৌসুমেও রয়েছে হতাশা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশের মতো কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরের সাপ্তাহিক ছুটিতেও ৮০ শতাংশের মতো রুম ফাঁকা। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। 

কক্সবাজারে সম্প্রতি পর্যটকের সংখ্যায় ধস নেমেছে। এর পেছনে নিরাপত্তাহীনতা, খাবারের বেশি দামসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

আকস্মিকভাবে পর্যটকদের সৈকতবিমুখ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজারের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণের সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার দুই সপ্তাহের পরিস্থিতিও যাচাই করা হয়েছে।

দেখা গেছে, কক্সবাজারের মতো কুয়াকাটাতেও দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটক-খরা চলছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকেই মন্দা শুরু হয়। এর জন্য বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী বলে মনে করছেন দুটি সৈকতের পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

শীতে পর্যটনের ভরা মৌসুমে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ছিল টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি। এ সময়ে কক্সবাজারে ঢল নামে পর্যটকের। সে সময় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কক্সবাজারে শুধু ডাল-ভাতের দামই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রাখা হচ্ছে। আবাসিক হোটেলের চড়া ভাড়া নিয়েও প্রকাশিত হয় বেশ কিছু প্রতিবেদন। এগুলো ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা যায়, হোটেল কক্ষের ভাড়া লাগামহীন হলেও ডাল-ভাতের দাম ৩০০-৪০০ টাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে খাবারের দাম আসলে কত?

এরপর ২৩ ডিসেম্বর সৈকত এলাকা থেকে এক ‘পর্যটক দম্পতি’কে অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। ধর্ষণের অভিযোগটি তদন্ত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

তবে নিউজবাংলার আরেকটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ধর্ষণের অভিযোগ তোলা নারী পর্যটক হিসেবে সেখানে যাননি। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে তিন মাস ধরেই কক্সবাজারে আছেন। ধর্ষণে অভিযুক্তরা তাদের পরিচিত।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী

এ দুটি ঘটনার পর পরই কক্সবাজারে পর্যটক-খরা তৈরি হয়েছে। থার্টিফার্স্ট নাইটেও প্রাণহীন ছিল এই পর্যটন নগরী। এর এক সপ্তাহ পর সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেখা যায়নি ভ্রমণপিপাসুর চাপ।

সৈকতে গত শুক্রবার যাদের দেখা গেছে তাদের বেশির ভাগই আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে এসেছেন। শহরের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ভরা মৌসুমেও রয়েছে হতাশা।

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে
আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে শুক্রবার কক্সবাজারে আসেন অনেকে

ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশের মতো কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরের সাপ্তাহিক ছুটিতেও ৮০ শতাংশের মতো রুম ফাঁকা। অথচ স্বাভাবিক চিত্র হলো, বছরের এ সময়ে পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। সেখানকার পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে এই মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

দুটি সৈকতের ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবারের দাম নিয়ে অপপ্রচার ও নারী ধর্ষণের অভিযোগ এবার ব্যবসার ক্ষতি করেছে। তবে এর সঙ্গে থার্টিফার্স্টের আগে লম্বা ছুটি, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেও পর্যটকরা সৈকতে ছুটি কাটানোর আগ্রহ হারিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা বা লাবনীতে রয়েছে ৫১৬টি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। এসব হোটেলে দেড় লাখের বেশি পর্যটক থাকতে পারেন।

শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, অতীতে পর্যটন মৌসুমে (শীতকালে) কক্সবাজারে ১৫ লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে অন্তত দুই লাখ পর্যটকের সামগম থাকত। তবে এবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

‘ভিজতা বে’ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থার্টিফার্স্টের আগে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং ছিল। গত শুক্রবার তাও হয়নি। উল্টো অনেক বুকিং বাতিল হচ্ছে। বিকাশের একটি দল আসার কথা ছিল। রুমও বুকিং দিয়েছিল তারা। কিন্তু ওমিক্রনের কারণ দেখিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছে।’

সুগন্ধা মোড়ের হোটেল হিল টাওয়ারের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হোটেলে শতাধিক কক্ষ আছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ছুটির দিন ঘিরে বুকিং ছিল মাত্র ১২টি, আগে এমন হয়নি।’

তবে সৈকতে কিছুটা পর্যটক ভিড় দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাতলীর হোটেল আমিন ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই কুমিল্লা, নোয়াখালী বা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। এ ছাড়া কক্সবাজারের আশপাশের উপজেলার পর্যটক তো আছেনই। এদের অনেকে দিনে এসে দিনে চলে যান।’

তার কথার সত্যতা মেলে নোয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা সাজ্জাদুর রহমানের কথায়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ৮০ জনের মতো ব্যবসায়ী পিকনিক করতে এসেছি। দুটি বাসে ভোরে রওনা দিয়েছিলাম, পৌঁছেছি ১০টার দিকে। আবার রাতে ফিরে যাব।’

চট্টগ্রাম থেকে পরিবারের ১৪ সদস্য নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন মাওলানা রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর থেকে ভোরে রওনা দিলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছানো যায়। সে কারণে হোটেল ভাড়া নিইনি, রাতে আবার ফিরে যাব।’

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থার্টিফার্স্টের আগে খাবারের দাম নিয়ে অপপ্রচার ও নারীকে ধর্ষণের মামলা আমাদের ব্যবসার ক্ষতি করেছে। সেই ক্ষতি বড় হয়ে উঠছে করোনার নতুন ধরন ঠেকাতে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের ঘোষণায়।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারের নিরাপত্তা অনেক ভালো রয়েছে। যে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে, তেমন কিছু দেখছি না। তবে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সচেতন করা হচ্ছে।’

কুয়াকাটাতেও হতাশা


কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজ তুষার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে টানা ছুটির সময় (বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি) পর্যটকের অনেক চাপ ছিল। তখন সব হোটেল-মোটেল হাউসফুল ছিল। মূলত ওই ছুটি কাটিয়ে যাওয়ার কারণেই থার্টিফার্স্ট নাইট এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে পর্যটক উপস্থিতি কম।’


সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে
পর্যটক উপস্থিতি কমেছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতেও


কুয়াকাটায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে পর্যটক সমাগমের পর ভিত্তিহীন কিছু প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কুয়াকাটার সমুদ্রবাড়ী রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়ে প্রচুর মানুষ কুয়াকাটায় আসেন। তখন বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করে কুয়াকাটায় কোনো সিট নেই। এর ফলে অনেকেই থার্টিফার্স্ট উদযাপনে আর কুয়াকাটাকে বেছে নেননি।’

গুজবের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার সব আবাসিক হোটেলে নভেম্বরে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছিল। তবে ডিসেম্বরে ওই ছাড় বাতিল করা হয়। বিষয়টি না জেনে যারা কুয়াকাটা এসেছিলেন, তাদের অনেকে পরে ফেসবুকে বাড়তি ভাড়া নেয়ার গুজব ছড়ান।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আ. মোতালেব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকের মনের মধ্যে আশঙ্কা, করোনা দিন দিন বাড়ছে। যেকোনো সময় আবার লকডাউন হতে পারে। এ কারণেও অনেকে দূরে কোথাও যাওয়ার চিন্তা করছেন না।’

শেয়ার করুন

খেজুরের রস নামালে গাছের কতটা ক্ষতি?

খেজুরের রস নামালে গাছের কতটা ক্ষতি?

খেজুর গাছ থেকে চলছে রস সংগ্রহ। ছবি: নিউজবাংলা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেজুর গাছ থেকে সাধারণত অতিরিক্ত রস খাওয়ার জন্য নামানো হয়। সে হিসাবে রস সংগ্রহের ফলে খেজুরের গুণগত মান কমবে না। তবে গাছ কাটার ফলে ফলন স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।

শীতকাল এলেই গ্রামে গ্রামে খেজুর গাছ থেকে শুরু হয় রস সংগ্রহ। অনেকেরই প্রিয় এই খেজুরের রস। আবার এই রস দিয়ে তৈরি পাটালি গুড় শীতের পিঠা-পায়েসের অবিচ্ছেদ্য উপকরণ।

খেজুর গাছে রস কেন তৈরি হয়, আর সেই রস সংগ্রহ করলে গাছের ‘স্বাস্থ্যে’ কী প্রভাব পড়ে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে নিউজবাংলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের পাশাপাশি গরমকালেও খেজুর গাছে রস তৈরি হয়, তবে পরিমাণে খুবই কম। শীতকালে গাছে অতিরিক্ত রস হয় বলেই সেটি সংগ্রহ করা যায়। এতে গাছের কিছুটা ক্ষতি হলেও দেশি প্রজাতির খেজুর গাছের ফল তেমন জনপ্রিয় নয় বলে রস সংগ্রহই লাভজনক।

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) তথ্য অনুযায়ী, খেজুর গাছ একবীজপত্রী, এক লিঙ্গ বৃক্ষ। অর্থাৎ পুরুষ ও মেয়ে গাছ আলাদা। মেয়ে গাছে ফল ধরে। শাখাহীন গাছ চার থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয়।

খেজুরের রস নামালে গাছের কতটা ক্ষতি?

দেশি খেজুর গাছ দ্রুতবর্ধনশীল, শাখাবিহীন এক কাণ্ডবিশিষ্ট। দেশি খেজুর গাছের গোড়া মোটা ও স্তূপের মতো শিকড় থাকে। গাছের মাথায় পত্রগুচ্ছ নারিকেল-সুপারি গাছের মতো। চৈত্র মাসে গাছের কাঁদিতে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল ফোটে। মেয়ে গাছে ফল হয় গ্রীষ্মকালে। দেশি পাকা খেজুরের রঙ লালচে বাদামি থেকে খয়েরি হয়।

আরবের খেজুরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া হলেও দেশি খেজুর গাছের ফলের কদর বলতে গেলে একেবারেই নেই। তবে বাংলাদেশে খেজুর গাছ সমাদৃত মূলত এর রসের কারণে।

দেশি খেজুর গাছের বয়স চার বছর পার হলেই রস সংগ্রহ শুরু হয়। শীতের সময়ে গাছ বিশেষ পদ্ধতিতে চেঁছে তা থেকে রস নামানো হয়। এ পেশায় নিয়োজিত বলা হয় ‘গাছি’।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথমে যে রস নামানো হয় সেটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। সপ্তাহের প্রথম দিন নামানো রসকে ‘জিরান কাটের রস’ বলে, দ্বিতীয় দিনেরটিকে বলে ‘দো কাটের রস’ আর তৃতীয় দিনের রসকে বলে ‘ঝরা রস’। প্রথদিনের রস থেকে ভালো মানের গুড় ও পাটালি তৈরি হয়। ঝরা রস থেকে হয় ‘তোয়াক গুড়’ ও ‘ঝোলা গুড়’।

খেজুরের রস নামালে গাছের কতটা ক্ষতি?

গবেষকরা বলছেন, সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খেজুর গাছে রস তৈরি হয়। এই সালোক সংশ্লেষণে সূর্যের আলো ব্যবহার করে গাছ কার্বোহাইড্রেট তৈরি করে। কার্বোহাইড্রেট চিনির ফর্মে তৈরি হয় বলে রস মিষ্টি লাগে। গরমকালেও একই প্রক্রিয়ায় কিছুটা রস উৎপন্ন হয়। তবে সেটি শীতকালের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷ ফলে গ্রীষ্মে উৎপন্ন রসের পুরোটাই গাছের প্রয়োজনেই ব্যয় হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শীতকালে খেজুর গাছ রসে টইটম্বুর থাকে। গাছ নিজের প্রয়োজনে এই রস তৈরি করে। চেঁছে এই রস বের না করলে গাছের পাতা দ্রুত বৃদ্ধি পেত। পাতা সতেজ, খেজুরের আকার বৃদ্ধিসহ গাছের আকার আরও বৃদ্ধি পেতো।’

গাছ থেকে রস বের করলে খেজুরের গুণগত মান কিংবা ফলন কমে যায় কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশীয় প্রজাতির খেজুরের গুণগত মান ভালো না। এজন্য খেজুরের চারাও কেউ রোপন করেন না। খেজুরের বীজ থেকে বাড়ির উঠোনে, খেতের আইলে বা ঝোপের মধ্যে আপনা আপনি চারা উৎপন্ন হয়।

‘সাধারণত এসব গাছ থেকে অতিরিক্ত রস খাওয়ার জন্য নামানো হয়। সে হিসাবে খেজুরের গুণগত মান কমবে না। তবে গাছ কাটার ফলে ফলন স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।’

খেজুরের রস নামালে গাছের কতটা ক্ষতি?

সৌদি আরবের মতো মরু অঞ্চলের দেশে খেজুরের ফল উৎপাদনে বেশি জোর দেয়া হয়। এজন্য সেসব দেশে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয় না বলে জানান অধ্যাপক আব্দুল কাদের।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশি খেজুরের ফলের শাঁস পাতলা, বিচি বড়, পাকা ফল সংরক্ষণ করাও কঠিন। এরপরেও পাকা ফলের সুমিষ্ট গন্ধ ও মিষ্টি স্বাদ অনেককে আকৃষ্ট করে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত চার বছর বয়সের পর থেকে খেজুর গাছের রস আহরণ করা যায়। তখন গাছে ১২-১৫টি পাতা থাকে। সপ্তাহে তিন দিন গাছ কাটা হয়। বিরতি দিয়ে সপ্তাহের প্রথমে যে রস নামানো হয় সেটাই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের। দেশীয় খেজুর ফলের মান ভালো না বলে গাছের রস বের করে খাওয়াই উত্তম।’

চট্টগ্রাম কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সমীর কান্তি নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খেজুর গাছের মতো তাল গাছ থেকেও রস সংগ্রহ করা হয়। আমাদের দেশে না হলেও কয়েকটি দেশে নারকেল গাছ থেকেও রস সংগ্রহের নজির রয়েছে। এ ধরনের গাছ মাটি থেকে পানি আহরণ করে পাতায় সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ উৎপাদন করে। এরপর সেগুলো সুক্রোজ আকারে কাণ্ডের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়।

‘আমরা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ আকারে জমা থাকা তরল রস আকারে সংগ্রহ করি। এতে গাছের কিছুটা ক্ষতি তো অবশ্যই হয়।’

খেজুরের রস নামালে গাছের কতটা ক্ষতি?

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. মতিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বয়স্ক গাছে রস খুব কম হয়। তবে শীত যত বাড়ে, সমান্তরালে কম বয়স্ক গাছে রস বাড়ে। গাছের উপরিভাগের নরম অংশে চাঁছ দিয়ে রস নামানো হয়। একবার গাছে চাঁছ দিলে দুই থেকে তিন দিন রস পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ছয় হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এগুলো থেকে নিয়মিত রস নামানো হচ্ছে। শীতকালে অনেকে শুধু রস বিক্রি করেই সংসারের ভরণপোষণ করছেন। খেজুরের গাছ থেকে প্রচুর রস কিংবা খেজুর উৎপাদনের জন্য বাণিজ্যিকভাবে কেউ চাষাবাদ করলে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

ভালো মিষ্টি চিনবেন কীভাবে

ভালো মিষ্টি চিনবেন কীভাবে

মিষ্টির ভালো-মন্দ ছানার খাঁটিত্বের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ছবি: নিউজবাংলা

মিষ্টান্ন সম্পৃক্ত তিনজন নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, মিষ্টির ভালো-মন্দ অনেকটাই নির্ভর করে তার মূল উপাদান দুধ থেকে তৈরি ছানার ওপর। ছানা খারাপ হলে মিষ্টি কখনোই ভালো হবে না।

দোকানে পাশাপাশি ট্রেতে বাহারি মিষ্টি দেখে জিভে জল আসে। পছন্দেরটা খেতে ইচ্ছা করে, কিন্তু সে মিষ্টি ভালো নাকি মন্দ, তা চেনার উপায় জানেন না অনেকে। তাদের সহায়তা করতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সংশ্লিষ্ট তিনজনের সঙ্গে।

মিষ্টান্ন সম্পৃক্ত তিনজনই জানিয়েছেন, মিষ্টির ভালো-মন্দ অনেকটাই নির্ভর করে তার মূল উপাদান দুধ থেকে তৈরি ছানার ওপর।

তাদের একজন মধুবন সুইটসের রাজধানীর মধ্যবাড্ডা শাখার প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভালো গাছের জন্য যেমন ভালো বীজ দরকার, তেমনি ভালো মিষ্টির জন্য দরকার ভালো দুধ। ভালো দুধ না দিলে মিষ্টি কখনোই ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভালো দুধ থেকে যে ছানা হয়, তা জমাট বাঁধা থাকে। অন্যদিকে ভেজাল দেয়া দুধের ছানা হয় ছাড়া ছাড়া।’

রসগোল্লা বা অন্য ধরনের মিষ্টিতে ভেজালের প্রক্রিয়া নিয়ে মধুবনের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভালো মিষ্টিতেও ছানার সঙ্গে অল্প পরিমাণ ময়দা মেশানো হতে পারে, তবে ময়দা বেশি দিয়ে অল্প একটু ছানা দিলে মিষ্টি কখনো ভালো হবে না। এর সঙ্গে অনেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক হাইড্রোজও মেশায়।’

আলমগীরের উল্লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘এই যে কথাগুলো বললেন, এগুলো তো মিষ্টির সঙ্গে জড়িতরা জানবে। আমাদের মতো যারা সাধারণ মানুষ তারা ভালো মিষ্টি চিনবে কীভাবে?’

ভালো মিষ্টি চিনবেন কীভাবে

জবাবে তিনি বলেন, ‘দোকানদারকে বলে এক পিস মিষ্টি খেয়ে নেবেন। ভালো মিষ্টিটা মুখে দিলে গলতে সময় নেবে না। খারাপ মিষ্টিটা শক্ত হবে। অন্যরকম একটা গন্ধ আসবে।’

‘অন্যরকম গন্ধ’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন হাইড্রোজ দেয়া মিষ্টিকে।

দামের বিষয়টি দেখেও ভালো মিষ্টি চেনা যায় বলে মনে করেন আলমগীর। তিনি জানান, ঢাকার বাস্তবতায় উপাদান, কারিগরের পারিশ্রমিকসহ অন্য সব খরচ মিলিয়ে এক কেজি মিষ্টি বানাতে ন্যূনতম খরচ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সে মিষ্টি দোকানে বিক্রি হয় ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। এর কমে রাজধানীতে ভালো মিষ্টি পাওয়ার সুযোগ নেই।

মধুবন সুইটসের প্রোডাকশন ম্যানেজার আরও বলেন, ‘দোকানে ভালো একটা মিষ্টির দাম কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। এর কমে এক পিস ভালো মিষ্টি বেচা সম্ভব নয়।’

ঢাকার সাভারভিত্তিক মিষ্টান্ন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সঙ্গীতা’স ইয়ামি কেক-এর প্রতিষ্ঠাতা সঙ্গীতা ঘোষ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা বিশুদ্ধ মিষ্টি নরমালি দুই থেকে তিন দিন ভালো থাকে সাধারণ তাপমাত্রায়। তারপর এর স্বাদ এবং রং পরিবর্তন হয়।

‘এ কারণে ভালো মিষ্টি কেনার আগে দেখতে হবে দোকানটা রানিং কি না। যে দোকানে দুই-তিন দিনের পুরোনো মাল থাকে না, সেখান থেকে মিষ্টি কেনা নিরাপদ।’

ভালো মিষ্টির আরেকটি বৈশিষ্ট্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো ছানার মিষ্টিগুলো ওজনে খুবই হালকা হয়ে থাকে। মুখে দিলেই মুখের মধ্যে দুধের একটা স্বাদ আসে এবং ছানার মধ্যে যে একটা ক্রিমি ভাব, সেটা মিষ্টিতে পাওয়া যায়।’

ভালো মিষ্টি চিনবেন কীভাবে

মিষ্টিতে ভেজাল করা নিয়ে সঙ্গীতা বলেন, ‘পাউডার দুধ নিয়ে অনেকে মিষ্টি বানিয়ে থাকে। এ মিষ্টিতে হালকা একটা হাইড্রোজের গন্ধ আসে। দুধের কোনো টেস্ট নেই বললেই চলে।’

ভেজাল-নির্ভেজাল মিষ্টি নিয়ে সিরাজগঞ্জভিত্তিক অনলাইন শপ বাথান ডেইরির উদ্যোক্তা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ আগের দুজনের মতো ভালো ছানার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘মিষ্টির স্বাদ ও মান শতভাগ নির্ভর করে মিষ্টি বানানোর প্রধান উপকরণ ছানার ওপর। ছানায় ক্রিমের পরিমাণের ওপর স্বাদে ভিন্নতা দেখা যায়। মিষ্টির কারিগরের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।

‘দুধ থেকে ছানা বের করার সময় দুধের ক্রিম আলাদা না করে যে ছানা বের করা হয়, তাকে ফুল ক্রিম ছানা বা সারান ছানা বলে। সাধারণত ৪০ কেজি দুধ থেকে ৬-৭ কেজি সারান ছানা পাওয়া যায়। এই ক্রিমযুক্ত ছানা দিয়ে সবচেয়ে ভালো মিষ্টি (রসমালাই, সরমালাই, চমচম) বানানো হয়।’

ছানার আরেক ধরন নিয়ে পলাশ বলেন, ‘দুধ থেকে ছানা তৈরির সময় অনেকে দুধের সব অথবা অর্ধেক ক্রিম বের করে রাখে। এগুলোকে ছাটি ছানা বা ক্রিমবিহীন ছানা বলে। ৪০ কেজি দুধ থেকে ৬-৭ কেজি ছাটি ছানা পাওয়া যায়। এখানে কমে যাওয়া ক্রিমের অংশ ময়দা বা আটা দিয়ে পূরণ করা হয়। এই ছাটি ছানা দিয়ে নিম্ন মানের মিষ্টি বানানো হয়। যেমন: কম দামি রসগোল্লা।’

মিষ্টি বানানোর সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাথান ডেইরির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘মিষ্টি তৈরির সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মিষ্টি কম সিদ্ধ হলে এর ভেতরে বড় দানা বা গুটি থাকতে পারে। আবার কখনো পরিমাণমতো আটা না মিশালে মিষ্টি ভেঙে যেতে পারে।

‘যেসব দোকানি নিজেরাই দুধ থেকে ছানা বের করে মিষ্টি তৈরি করে, তারা চাইলে ভালো মানের মিষ্টি বানাতে পারে, কিন্তু যারা অন্যের ছানা কিনে মিষ্টি বানায়, তাদের ছানার মান ততটা ভালো হয় না এবং এর প্রভাব পড়ে মিষ্টির মান ও স্বাদে।’

ভালো মিষ্টি চিনবেন কীভাবে

মিষ্টি দেখে চেনার কোনো উপায় আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মিষ্টি দেখে আসলে চেনা যায় না, তবে গরম গরম মিষ্টি অর্থাৎ বানানোর দিনই নিতে পারলে বা কেনার সময় খেয়ে, টেস্ট করে নিলে ঠকার সুযোগ কম থাকে। ভালো মিষ্টি বিক্রি হয়, এমন দোকান পরিচিত থাকলে, সেখান থেকে পণ্যটি কেনা উচিত।’

মিষ্টির স্বাদ ও ঘ্রাণ নিয়ে এ উদ্যোক্তা বলেন, ‘একেক মিষ্টির একেক স্বাদ, তবে যে মিষ্টির ছানাতে ক্রিম বেশি থাকে, সেসব মিষ্টির স্বাদ সবচেয়ে বেশি।

‘গরমের সময় অথবা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে মিষ্টি টক হয়ে যেতে পারে। টেস্ট করে না নিলে দোকানি এসব টক অথবা বাসি মিষ্টি আপনাকে ধরিয়ে দিতে পারে।’

শেয়ার করুন

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

দুই থেকে তিন ঘণ্টা জাল দেয়ার পর তরল গুড় ঢালা হয় মাটির পাত্রে। ছবি: নিউজবাংলা

খেজুরের রস থেকে কীভাবে গুড় তৈরি হয়, তা নিয়ে আগ্রহ আছে অনেকের। জানার সে ক্ষুধা মেটাতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সিরাজগঞ্জভিত্তিক একটি অনলাইন শপের উদ্যোক্তার সঙ্গে।

দেশে শীতের মৌসুমে পিঠা-পায়েসের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের গুড়। এর বাইরেও সারা বছর এ গুড় খেয়ে থাকেন অনেকে। খেজুরের রস থেকে কীভাবে পণ্যটি তৈরি হয়, তা নিয়ে আগ্রহ আছে অনেকের। জানার সে ক্ষুধা মেটাতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সিরাজগঞ্জভিত্তিক অনলাইন শপ দেশির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নার সঙ্গে।

তিনি জানিয়েছেন, গাছের রস ধারণ থেকে শুরু করে জমাট বাঁধার আগ পর্যন্ত কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে তৈরি হয় গুড়।

এ উদ্যোক্তার ভাষ্য, শুরুতে খেজুরগাছে উঠে ডালপালা ছাঁটাই করেন গাছিরা। পরে তারা গাছের বুক চিড়তে শুরু করেন। আধা হাতের মতো জায়গায় বাকল তুলে ফেলেন তারা। এভাবে সাত দিন রাখা হয়। এ সময়ের মধ্যে ছাল তুলে ফেলা জায়গাটা শুকিয়ে যায়।

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

বান্না জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে গাছে উঠে একই জায়গা আবার কাটতে শুরু করেন গাছিরা। সাধারণত দ্বিতীয়বার কাটার পর গাছ থেকে রস বের হয়। রস বের না হলে পরের দিন আবার তা কাটা হয়।

তৃতীয় পর্যায় নিয়ে দেশির প্রতিষ্ঠাতা জানান, রস এলে হাঁড়ি নিয়ে খেজুরগাছে ওঠেন চাষিরা। তারা দড়ি দিয়ে হাঁড়িটি গাছের ছাল ছাড়ানো অংশের একটু নিচের দিকে বাঁধেন। নিচের সে অংশ থেকে হাঁড়ি পর্যন্ত দূরত্বে এক টুকরা বাঁশ দেয়া হয়। বাঁশের সে টুকরা দিয়ে ওপর থেকে গড়িয়ে রস পড়ে হাঁড়িতে।

বান্না জানান, গাছিরা সন্ধ্যার আগে কোনো এক সময় গাছে হাঁড়ি বাঁধেন। পরের দিন সকাল সকাল তারা হাঁড়ি নামিয়ে ফেলেন। পরে আরেকটি হাঁড়ি গাছে বেঁধে দেয়া হয়।

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

তিনি আরও জানান, দুপুরের পর থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত জমা রস দিয়ে আসল গুড় হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যে রস হয়, সেটার গুণগত মান ভালো থাকে না। এ দিয়ে নিম্নমানের গুড় তৈরি করে বাজারজাত করেন অসাধু কারবারিরা।

পঞ্চম পর্যায়ে নামানো রস বড় কলসিতে ছেঁকে ঢালা হয়। এরপর সে রস মাটির চুলার ওপর রাখা চতুর্ভুজ আকৃতির বড় তাওয়া বা পাত্রে ঢালা হয়। জমাট বেঁধে গুড়ের উপযোগী হওয়ার আগ পর্যন্ত রস দুই থেকে তিন ঘণ্টা জাল দেয়া হয়।

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

বান্না জানান, রস তাওয়ায় থাকার সময় একটু পরপর ফেনা জমে যায়। জাল দেয়া ব্যক্তি সে ফেনা তুলে ফেলে দেন। একই সঙ্গে বাষ্পীভূত হওয়ায় রসের পরিমাণও কমতে থাকে।

তিনি আরও জানান, জাল দেয়ার সময় বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরনের লাকড়ি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ খেজুরের ডাল ব্যবহার করেন। কেউ আবার পাটখড়ি বা অন্য কোনো লাকড়িকে জ্বালানি বানান।

ষষ্ঠ পর্যায়ে তাওয়ায় আধা ঘণ্টা ধরে রস ঠান্ডা করা হয়। ঠান্ডা হয়ে গেলে রস কমে তাওয়া বা পাত্রের এক অংশে থাকে। সেখান থেকে জাল দেয়া ব্যক্তি একটু রস আলাদা করে নিয়ে তাওয়ায় ঘষতে থাকেন। এতে রসের রং সাদা হয়ে যায়।

সাদা এ অংশটাকে বীজ বলা হয়। এ বীজ রসকে গাঢ় করতে সাহায্য করে। এ কারণে বীজ বানিয়ে তা আবার রসের মধ্যে নাড়া হয়। এভাবেই তৈরি হয়ে যায় খেজুরের গুড়।

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

সপ্তম পর্যায়ে লাল রং ধারণ করা রস বড় গোলাকার একটি মাটির পাত্র বা গামলায় রাখা হয়। সেখান থেকে ফয়েল পেপারে কিংবা বিভিন্ন ফর্মায় ফেলে গুড়ের বিভিন্ন আকৃতি দেয়া হয়।

কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়

পরবর্তী সময়ে এসব গুড় বাজারজাত করা হয়।

শেয়ার করুন