ভালুকের জেলখানা

player
ভালুকের জেলখানা

হেলিকপ্টার থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্টের মাধ্যমে অজ্ঞান করার পর ভালুকটিকে ট্রাকে করে পোলার বিয়ার প্রিজন বা মেরু ভালুকের জেলখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য জেলখানা রয়েছে। তবে কানাডার চার্চিল প্রদেশের ম্যানিটোবা শহরে রয়েছে অন্য রকম এক জেলখানা। সেই জেলখানায় মানুষের পরিবর্তে আটকে রাখা হয় মেরু ভালুককে।

শহরটিতে এত বেশি মেরু ভালুকের উৎপাত যে, এদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসনকে এটি তৈরি করতে হয়।

ব্লিটজলাইফ ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া স্যামুয়েল রিজনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভালুকের যন্ত্রণায় অঞ্চলটিতে পোলার বিয়ার অ্যালার্ট প্রোগ্রাম নামে একটি অভিযান শুরু হয়েছে।

ভালুকের জেলখানা

প্রোগ্রামটির কর্মীরা রীতিমতো শক্তিশালী ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্ট (অজ্ঞান করার অস্ত্র, যার মাধ্যমে দূর থেকে গুলির মতো ইনজেকশন ছোড়া যায়) হাতে হেলিকপ্টারে করে অঞ্চলটিতে ঘুরে ঘুরে মেরু ভালুক খুঁজে বেড়ান। তাদের মতে আগেভাগেই পশুগুলোকে পাকড়াও না করলে পরে তারা নানা রকম ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

গ্রেপ্তারকৃত ভালুকগুলোকে মানুষের মতোই নাম্বারে চিহ্নিত করা হয়।

যেমন এখন যে ভালুকটিকে নিয়ে কথা বলছি, তার নাম্বার হলো- ১৯১৭৩। এটি ৮০০ পাউন্ডের এক বিশালাকার পুরুষ ভালুক। এই ভালুকটি খাবারের খোঁজে মানুষের এলাকায় ঢুকে পড়ে। ভেঙে ফেলে একটা দামি পোরশে গাড়ি। একটা হাসপাতালেও সে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর চালায়। তার ভয়ে লোকজনকে হাসপাতাল ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

ভালুকের জেলখানা

এই মেরু ভালুকটির ধারণা হয়েছিল, শীতকাল অর্থাৎ বরফের দিন চলে গেলে সবচেয়ে ভালো খাবার পাওয়া যায় শহরে থাকা ডাস্টবিনগুলোতে। আর এখান থেকেই যত বিপত্তি।

মনে রাখতে হবে, মেরু ভালুকদের কাছে মানুষ সব সময় প্রিয় শিকার। তাদের মধ্যে কোনো মনুষ্যভীতি নেই। সামনে পেলে তারা অনায়াসেই মানুষ শিকার করে।

হেলিকপ্টার থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্টের মাধ্যমে অজ্ঞান করার পর ভালুকটিকে ট্রাকে করে পোলার বিয়ার প্রিজন বা মেরু ভালুকের জেলখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

জেলখানাটি যেখানে অবস্থিত, সেটি নর্দার্ন ক্যাপিটেল অব দি ওয়ার্ল্ড বা পৃথিবীর উত্তরের রাজধানী নামেও পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বমানচিত্রে পোলার বিয়ার ক্যাপিটেল বা মেরু ভালুকের রাজধানী বলেও ডাকা হয়।

এই পোলার বিয়ার প্রিজন প্রথমে আর্মির বিমানের হ্যাঙ্গার (যেখানে বিমান রাখা হয়) ছিল। পরবর্তীকালে ভালুকের উৎপাত থেকে বাঁচতে ১৯৮১ সালে একে জেলখানা বানানো হয়। এটিতে মোট ২৮টি সেল রয়েছে।

এখানে নিয়ে আসা ভালুকগুলোকে প্রথম ৩০ দিন শুধু তুষার আর পানি খেতে দেয়া হয়। এতে করে প্রাণীগুলোর মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে এরা খাবারের খোঁজে শহরে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এক মাস কারাদণ্ডের পর এদেরকে মেরুর বরফে ছেড়ে আসা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় আইস রিলিজ বা বরফ মুক্তি।

ভালুকের জেলখানা

যদিও অনেকের মতে ভালুকগুলোকে এমনভাবে জেলে বন্দি করে রাখা একটি নির্মম ব্যাপার। কিন্তু কর্মীরা মনে করেন, এটি কেবলই একটি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া। কোনো না কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি নর্দার্ন শহরকেই করতে হয়।

কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভালুকের খাবারের উৎস কমে গেছে। ফলে নিজেদের বাসস্থানে পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে, খুঁজতে খুঁজতে এরা শহরের দিকে চলে আসে।

ভালুকের আবাসস্থলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ম্যানিটোবা অঞ্চলটিতে এ সমস্যা বেশি।

যদিও আগে উৎপাত থেকে বাঁচতে লোকজন ভালুকগুলোকে গুলি করে মেরে ফেলত। কিন্তু বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো ভালুককে মারা যাবে না। নিয়ম হচ্ছে কোনোভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণীগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া। আর যেসব ভালুক বেশি সমস্যা করে, যেগুলোকে ভয় দেখিয়েও তাড়ানো যায় না, তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই কারাগার।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাড় মুড়মুড় কমাতে ১২ বার করোনার টিকা

হাড় মুড়মুড় কমাতে ১২ বার করোনার টিকা

বিহারের এই ব্যক্তি আধার কার্ড ও ভোটার আইডি দেখিয়ে ১২ বার করোনার টিকা নেয়ার দাবি করেছেন। ছবি: দ্য ওয়্যার

ভারতে চলছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। তা মোকাবিলায় গণটিকা কর্মসূচি চালাচ্ছে দেশটির সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিহারের এক বৃদ্ধ দাবি করছেন, এ পর্যন্ত দুটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে ১২ ডোজ টিকা নিয়েছেন তিনি। তার দাবি, করোনার টিকা নিলে উপশম হয় হাড়ের ব্যথা।

করোনা টিকায় সারে হাড়ের ব্যথা- এমন বিশ্বাস থেকে ১২ বার টিকা নেয়ার দাবি করেছেন ভারতের ডাক বিভাগের সাবেক এক কর্মী। এর মধ্যে আধার কার্ডে ৯ বার এবং তিনবার টিকা নিয়েছেন ভোটার কার্ড দেখিয়ে। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে ২৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মাধেপুর জেলার বাসিন্দা ব্রহ্মদেব মণ্ডল। ৮৪ বছরের এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভুগছেন।

ব্রহ্মদেব বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানান ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে এই ব্যথা। তারা ওষুধ দিলেও কাজ হয়নি।

‘এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমি করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিই। পরের মাসে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার আগে মনে হচ্ছিল ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে। শরীর ঠিক রাখতে তখন আরও টিকা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এরপর যতবার সুযোগ পেয়েছি, টিকা নিয়েছি।’

ব্রহ্মদেব বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহকারীরা যখন জানতে চাইতেন, আগে টিকা নিয়েছি কি না- আমি না বলতাম এবং টিকা নিয়ে নিতাম।’

আধার কার্ডে ৯ টিকা, তিনটি ভোটার কার্ডে

ব্রহ্মদেবের দাবি, তার নেয়া ১২ টিকার ৯টি নিয়েছেন আধার কার্ড দিয়ে, বাকি তিনটি ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে।

তবে আধার কিংবা ভোটার কার্ডে টিকা নেয়ার তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ খুবই কম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দ্য ওয়্যারকে বলেন, ‘তিনি দুটি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে থাকলে চার ডোজ টিকা পাওয়ার কথা। অথচ দুই কার্ডে ১২ ডোজ পাওয়া মানে, তথ্য ঠিকমতো পোর্টালে সংরক্ষণ হচ্ছে না বা তিনি নকল টিকা নিয়েছেন।’

ব্রহ্মদেব বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টিকা নেয়ার সময় আমার আইডি কার্ডের তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়নি। একটি রেজিস্ট্রার খাতায় লিখে রাখা হতো।’

এ পর্যন্ত টিকা নেয়ার পাঁচটি সনদ পেয়েছেন ব্রহ্মদেব। সেখানে নাম-ঠিকানা একই। পার্থক্য কেবল টিকা নেয়ার তারিখে।

তদন্ত শুরু

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিহারের স্বাস্থ্য বিভাগ। মাধেপুরার সিভিল সার্জন অমরেন্দ্র নারায়ণ সাহি বলেন, ‘আমরা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। টিকা নেয়া ব্যক্তিদের তথ্য কোথায় সংরক্ষণ হচ্ছে, তা দেখাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিহারে টিকা নিয়ে জটিলতা শুরু থেকেই। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, টিকা না নিয়েই তারা টিকা নেয়ার মেসেজ পেয়েছেন। অনেকে বলছেন, মেসেজে উল্লেখ করা কোম্পানির টিকা তারা পাননি।

বিহারে টিকাদান পরিস্থিতি নিয়ে গত বছর একটি অনুসন্ধান চালায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে রাজ্যের ছয়টি কেন্দ্রে চরম অনিয়মের চিত্র উঠে আসে।

করোনার টিকায় শরীরের ব্যথা কি দূর হয়

ভারতের মহামারি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিদ অ্যান্থনি কোল্লানোর বলেন, ‘করোনার টিকায় স্বাস্থ্যের অন্য কোনো উপকার হয় কি না, তা নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় কীভাবে টিকাকে আরও কার্যকর করা যায়। তাই ওই ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক।’

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

বিয়ের জন্য রাস্তায় বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট খুলে বিজ্ঞাপন

বিয়ের জন্য রাস্তায় বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট খুলে বিজ্ঞাপন

পাত্রী খুঁজতে বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন। ছবি: বিবিসি

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে (পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়ে) আস্থা কম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ মালিকের। তাই বিলবোর্ডে পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি। আশা করছেন, শিগগিরই উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন তিনি।

বিয়ে নিয়ে যেসব ভীতি কাজ করে, সেগুলোর অন্যতম- কেমন হবে হবু জীবনসঙ্গী। প্রেমের বিয়েতে এই ঝঁক্কি না থাকলেও পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়েতে (অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ) এই অনিশ্চয়তা কাজ করে প্রচণ্ড।

এমন এক দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন মোহাম্মদ মালিক নামে এক যুবক। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে ভীষণ ভয় তার। তাই তো পাত্রী খুঁজতে অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন ২৯ বছরের এই ব্রিটিশ যুবক।

লন্ডন এবং বার্মিংহামের বিলবোর্ডে পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন মালিক। আগ্রহীদের জন্য খুলেছেন একটি ওয়েবসাইটও।

বিলবোর্ডে লেখা, ‘সেভ মি ফ্রম অ্যান অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’ অর্থাৎ (পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়ে থেকে আমাকে বাঁচান)।

তিনি বলেন, ‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে আমার আপত্তি নেই। তবে আমার পছন্দ, নিজে থেকে কাউকে খুঁজে বের করা।’

পেশায় ব্যাংক পরামর্শক মালিক এখন পর্যন্ত উপযুক্ত কারও সাড়া পাননি। তবে হাল ছাড়তে চান না মালিক। আশা করছেন, তার বিশেষ ওয়েবসাইট findmalikawife.com ভাগ্য বদলে দেবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার বিজ্ঞাপনটি দেয়ার পর থেকে ইনবক্সে শত শত আগ্রহীর বার্তা পেয়েছেন মালিক।

তিনি বলেন, ‘এখনও সেসব দেখার সময় পাইনি। আমাকে এ জন্য কিছু সময় বের করতে হবে। এ ধাপটি নিয়ে আগে ভাবিনি।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মালিক আরও বলেন, ‘বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে নারীদের সঙ্গে দেখা করার নানা উপায় খুঁজছিলাম। ডেটিং অ্যাপস, ডেটিং ইভেন্ট ছিল। কিন্তু এগুলোয় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম না।

‘অবশেষে বন্ধুর পরামর্শে বিজ্ঞাপনের ধারণা মাথায় আসে। ভাবলাম, এটা তো খারাপ কিছু নয়।’

বিয়ের জন্য রাস্তায় বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট খুলে বিজ্ঞাপন
মালিকের দাবি ইনবক্সে শত শত আগ্রহীর বার্তা পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন ও বার্মিংহামের রাস্তায় এই বিজ্ঞাপনগুলো থাকবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ কাজে শুরু থেকে পরিবারের সমর্থন ছিল বলে দাবি মালিকের। যদিও তাদের মানাতে বেগ পেতে হয়েছে যথেষ্ট।

মালিকের আশা, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে নিজের ধর্মীয় মতাদর্শ মিলবে; স্ত্রীর সুসম্পর্ক থাকবে তার পরিবারের সঙ্গে।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

আকাশ থেকে পড়ল জীবন্ত মাছ!

আকাশ থেকে পড়ল জীবন্ত মাছ!

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের টেক্সারকানা শহরে ২৯ ডিসেম্বর বৃষ্টির সঙ্গে পড়া মাছ। ছবি: ফক্স নিউজ

বড়দিন শেষে নতুন বছর উদযাপনের প্রস্তুতিতে তখন ব্যস্ত সবাই। সচরাচর এ সময়ে ওই অঞ্চলে খুব একটা বৃষ্টি হয় না। তারপরও সেদিন বর্ষণমুখর ছিল শহর। সেই বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে টুপটাপ পড়ছিল জীবন্ত মাছ, ছোট ব্যাঙ আর কাঁকড়া।

বৃষ্টির সঙ্গে শীলা পড়ার দৃশ্যের সঙ্গে কম-বেশি সবাই পরিচিতি। ছোটবেলায় অনেকের ঝুম বৃষ্টিতে শীলা কুড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তাই বলে বৃষ্টির সঙ্গে মাছ পড়বে!

বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে আটলান্টিকের ওপারে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের টেক্সারকানা শহরে।

দিনটি ছিল ২৯ ডিসেম্বর। বড়দিন শেষে নতুন বছর উদযাপনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই। সচরাচর এই সময়ে ওই অঞ্চলে খুব একটা বৃষ্টি হয় না। তারপরও সেদিন বর্ষণমুখর ছিল শহর। ছিল দমকা হাওয়া। সেই বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে টুপটাপ পড়ছিল জীবন্ত মাছ, ছোট ব্যাঙ আর কাঁকড়া।

মাছবৃষ্টি ফেসবুকে লাইভ করেছেন স্থানীয়রা। মুহূর্তেই সেগুলো ভাইরাল হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছে শহর কর্তৃপক্ষও। তাদের বরাতে এই খবর ছেপেছে ফক্স নিউজ

শহরের সরকারি ফেসবুক পেজে ২৯ ডিসেম্বর একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘বিস্ময়ের সব বাঁধ ভেঙেছে ২০২১ সালে… টেক্সারকানা শহরে আজ মাছবৃষ্টি হয়েছে… এটা কিন্তু কোনো কৌতুক নয়।’

ওই পোস্টে অবশ্য এমন ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

তারা লেখেন, ‘এমন ঘটনা তখনই ঘটে, যখন জলাশয়ের উপরিভাগের তুলনামূলক হালকা প্রাণী ঝড়ের দাপটে ভূপৃষ্ঠের ওপরে উঠে আসে। পরে সেগুলো বৃষ্টির সঙ্গে নিচে পড়তে থাকে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে, এমন ঘটনা তখনই ঘটে যখন বাতাসের তীব্রতায় পানিতে শক্তিশালী ঘূর্ণি হয়। তখন হালকা প্রাণী ও বস্তু ওপরের দিকে ধাবিত হয়। বৃষ্টি শুরু হলে কিছুটা শক্তি হারায় বাতাস। তখন বৃষ্টির সঙ্গে এসব মাটিতে আছড়ে পড়ে।

আকাশ থেকে পড়ল জীবন্ত মাছ!
বাতাসের তীব্রতায় শক্তিশালী ঘূর্ণিতে হালকা বস্তু বা প্রাণী ওপরের দিকে ধাবিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

মাছবৃষ্টির পর নতুন বছরে সব জায়গায় সাবধানে পা ফেলার পরামর্শও দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

এমন ঘটনার সাক্ষী আগে একবার হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরেক রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া। ২০১৭ সালে ওরোভিল শহরের একটি স্কুলে বৃষ্টির সঙ্গে মাছ পড়েছিল।

এ ছাড়া গত তিন দশকে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের লাজামানু শহরবাসী অন্তত তিনবার এমন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

মানুষের মতো দেখতে বাচ্চার জন্ম দিল ছাগল!

মানুষের মতো দেখতে বাচ্চার জন্ম দিল ছাগল!

জন্মের কিছু সময়ের মধ্যে মারা যায় বাচ্চাটি। ছবি: টুইটার

গঙ্গাপুর গ্রামে গত ২৭ আগস্ট জন্ম হয় বাচ্চাটির। বাচ্চাটির মুখ, চোখ, নাক অবিকল মানুষের মতো। চার পায়ের জায়গায় দুটি পা। শরীরে ছিল না লোম। লেজহীন বাচ্চাটির কান দুটো কেবল মায়ের মতো।

ভারতের আসামে মানুষের চেহারার মতো দেখতে একটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে ছাগল। বাচ্চাটির মুখ, চোখ, নাক অবিকল মানুষের মতো। চার পায়ের জায়গায় বাচ্চাটির দুটি পা। শরীরে ছিল না লোম। লেজহীন বাচ্চাটির কান দুটো কেবল মায়ের মতো।

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গঙ্গাপুর গ্রামে গত ২৭ আগস্ট জন্ম হয় বাচ্চাটির। এটিকে দেখে প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলেন বলে জানান ছাগলের মালিক শঙ্কর দাস।

তিনি বলেন, ‘এমন বাচ্চার জন্মের খবরে প্রতিবেশীরা এটিকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসে। মানুষের বাচ্চার মতো চেহারা দেখে সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে ছুটে আসে অনেক মানুষ।’

তবে ছাগলের সেই বাচ্চাটি বেঁচে ছিল কিছুক্ষণ। স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের মতে, পরিপুষ্ট ও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় এটি দেখতে এমন অদ্ভুত ছিল।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

টিকার ভয়ে চড়লেন গাছে

টিকার ভয়ে চড়লেন গাছে

টিকা নেয়ার আতঙ্কে গাছে চড়লেন এক ভারতীয়। ছবি: সংগৃহীত

টিকার ভয়ে ভারতের মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তি চড়ে বসলেন গাছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ গাছেই ছিলেন তিনি। স্থানীয় লোকজন ও স্বাস্থ্যকর্মীর শত অনুরোধও কাজে আসেনি। ব্যর্থ স্বাস্থ্যকর্মীরা একপর্যায়ে ফিরে যান।   

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত এবার ভাইরাসটি মোকাবিলায় জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি চালানো হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচার। কিন্তু কিছু মানুষ এসব পাত্তা দিতে চান না। টিকা নিতে তাদের দারুণ অনীহা।

কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির একটি গ্রামে সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার ডিভিও ভাইরাল হয়েছে।

আঞ্চলিক সরকার শতভাগ টিকা নিশ্চিতে বাড়ি বাড়ি পাঠাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী। আর তাদের দেখে কনেরিকুপ্পম গ্রামের এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি চড়ে বসলেন গাছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ গাছ থেকে নামানো যায়নি ওই ব্যক্তিকে। স্থানীয় লোকজন ও স্বাস্থ্যকর্মীর শত অনুরোধও কাজে আসেনি। ব্যর্থ স্বাস্থ্যকর্মীরা একপর্যায়ে সেখান থেকে চলে যান।

করোনার টিকা নিয়ে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। টিকা না নিলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল ইতালি সরকার। এর পরই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা।

ডিসেম্বরের শুরুতে তুরিন শহরের কাছে দাঁতের এক চিকিৎসক টিকা এড়াতে নকল হাত লাগিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু ধরা পড়েন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে। সিলিকনের তৈরি হাতে শিরা খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ হয় স্বাস্থ্যকর্মীর। ব্যাপক সামালোচনার মুখে পরে অবশ্য টিকা নিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক।

বিশ্বজুড়ে তৃতীয় দফায় আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস। এবার ভাইরাসটির নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। কারণ ওমিক্রন নিয়ে খুব একটা তথ্য হাতে নেই তাদের কাছে। এখন পর্যন্ত এই ধরন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, অতি সংক্রামক ভাইরাসটির প্রভাব মৃদু। প্রাণহানির দিক থেকে করোনার ডেল্টা ধরন থেকে অনেকটায় দুর্বল ওমিক্রন।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীতে ‘২০২২’ নিয়ে যা আছে

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীতে ‘২০২২’ নিয়ে যা আছে

বলকানের নস্ত্রাদামুস খ্যাত বাবা ভাঙ্গা। ছবি: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। দাবি করা হয়, অন্ধ হয়েও তিনি আমেরিকার টুইন টওয়ার হামলা, সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলাসহ আলোচিত অসংখ্য ঘটনার নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এমন অলৌকিক ক্ষমতার জন্য বুলগেরিয়ান এই নারীকে বলকানের নস্ত্রাদামুস বলেও আখ্যায়িত করেন অনেকে।

১২ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক মানুষের মতোই বেড়ে উঠেছিলেন বাবা ভাঙ্গা। কিন্তু সে সময়ই ঘটে এক বিপত্তি। প্রলয়ংকরী এক ঘূর্ণিঝড়ের পর রহস্যজনকভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি।

নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কয়েক দিন পর মুমূর্ষু অবস্থায় কিশোরী বাবা ভাঙ্গার খোঁজ পায় তার পরিবার। মারাত্মক আঘাতে তার চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে বাবা ভাঙ্গা দাবি করেন, নিখোঁজ থাকার সময়টিতে একটি আধ্যাত্মিক শক্তির দেখা পেয়েছেন তিনি। যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দেখা যায়। এ ছাড়া মানুষের রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা অর্জনেরও দাবি করেন তিনি।

দাবি করা হয়, এখন পর্যন্ত বাবা ভাঙ্গা যত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তার ৮৫ ভাগই মিলে গেছে। এর মধ্যে ২০০০ সালে কুরস্ক পারমাণবিক সাবমেরিন দুর্ঘটনা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএস জঙ্গিদের উত্থান, সিরিয়ার রাসায়নিক হামলা, ব্রেক্সিট, আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট, নাইন ইলেভেন হামলার মতো ঘটনাগুলোর ইঙ্গিত বহু আগেই দিয়েছিলেন তিনি।

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, নতুন বছর ২০২২ সালেও বেশ কিছু আলোচিত ঘটনা ঘটবে পৃথিবীতে। এমনকি সদ্য শেষ হতে যাওয়া মহামারিগ্রস্ত ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালটি আরও নাটকীয় হতে পারে বলেই ইঙ্গিত রয়েছে।

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ২০২২ সালে পৃথিবীতে যেসব ঘটনা ঘটতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নতুন বছরে পুরো পৃথিবীতেই কর্তৃত্ব করবে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি।

২০২২ সালে আরেকটি মহামারির মুখোমুখি হতে পারে পৃথিবীর মানুষ। বাবা ভাঙ্গার মতে এই ভাইরাসটির সূত্রপাত হবে সাইবেরিয়া থেকে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরফ গলে যাওয়ার কারণেই বেরিয়ে আসবে লাখো বছরের পুরোনো সেই ভাইরাস।

নতুন বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে পানিস্বল্পতাও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এই পানিস্বল্পতার ফলে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ঘোলাটে হতে পারে।

একটি গ্রহাণু আছড়ে পড়ার মাধ্যমে নতুন বছরে পৃথিবীতে এলিয়েনদেরও আগমন ঘটতে পারে।

২০২২ সালে ভারতে একটি দুর্ভিক্ষেরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা। আর এটা হতে পারে তাপমাত্রা কমে গিয়ে ফসলের ওপর প্রভাব পড়ার মধ্য দিয়ে। দেশটির ফসলি জমিগুলোতে পঙ্গপালের আক্রমণও হতে পারে।

এ ছাড়া নতুন বছরটিতে আরও বেশি হারে ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে তীব্র বন্যা আঘাত হানতে পারে।

২৫ বছর আগে বাবা ভাঙ্গা মারা গেলেও তার বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর এখনও অসংখ্য মানুষ আস্থা রাখেন।

বাবা ভাঙ্গার অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে দূর হবে বৈশ্বিক ক্ষুধা। সুপার পাওয়ার হিসেবে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে চীন।

এ ছাড়া ক্লোনিং টেকনোলজির মাধ্যমে ভবিষ্যতে চিকিৎসকরা যেকোনো রোগ সারাতে পারবেন।

মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। তার মতে, পৃথিবী ধ্বংস হবে ৫০৭৯ সালে।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন

এবার মার্সিডিজে মজলেন মোদি, ঠেকাবে গুলি-বিস্ফোরণ

এবার মার্সিডিজে মজলেন মোদি, ঠেকাবে গুলি-বিস্ফোরণ

মোদির বহরে নতুন গাড়ি যুক্ত হয়েছে মার্সিডিজের। ছবি: সংগৃহীত

একটি এস সিক্স-ফিফটি গার্ডের দাম ১২ কোটি রুপি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য এমন দুটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ব্যবহার করবেন, আরেকটি ‘সম্ভাব্য হামলাকারীকে’ বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করা হবে।

সময়ের পরিবর্তনে উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহার করার ঝোঁক রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এবার নিজের সুরক্ষা আর নিরাপত্তার জন্য কিনেছেন গার্ড। যাকে ‘রক্ষাকারী বর্ম’ বলা যেতে পারে। যে বর্ম চাপাতে হবে না গায়ে, বরং সেখানে চেপে বসেই নিরাপদ থাকতে চান তিনি।

তেমন নতুন বর্ম দেখা গেছে দিল্লিতে। হায়দরাবাদ হাউসের সামনে দাঁড় করানো ছিল। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

কালো কাচ আর ঝা চকচকে কালো চার চাকার লিমুজিনের নামই গার্ড।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোদির জন্য গাড়িটি তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ। গার্ডের পুরো নাম ‘মার্সিডিজ-মে ব্যাচ এস সিক্স-ফিফটি গার্ড’। এটি মার্সিডিজের এস সিরিজের সবশেষ মডেল।

এবার মার্সিডিজে মজলেন মোদি, ঠেকাবে গুলি-বিস্ফোরণ
নতুন বাহর মার্সিডিজ গার্ড থেকে নেমে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

মার্সিডিজের ‘এস সিরিজ’ গাড়ির দুনিয়ায় বেশ কদর। তবে এটা সাধারণ কেউ তেমন ব্যবহার করেন না। এর ব্যবহারকারীরা মূলত বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এস সিরিজের মতো যাত্রী-নিরাপত্তা খুব কম গাড়িই দিতে পারে।

মোদি তার বাহনের বিষয়ে বরাবরেই শৌখিন। যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার গাড়ি নির্বাচন খুব নজরকাড়া।

সে সময় মোদি চড়তেন বুলেটপ্রুফ মাহিন্দ্রা স্কর্পিওতে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পুরোনো গাড়ি বদলান।

প্রধানমন্ত্রী মোদির বাহন হয় বিএমডব্লিউয়ের সেভেন সিরিজের গাড়ি। বিএমডব্লিউ সিরিজের যে কয়েকটি গাড়ি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন তার মধ্যে একটি সেটি।

এরপর ঘন ঘন বাহন বদলাতে থাকেন মোদি। সাত বছরে আরও দুইবার গাড়ি বদলান তিনি। প্রথমে ল্যান্ড রোভারের রেঞ্জ রোভার ভোগ কেনেন। পরে সেটিও বদলিয়ে কেনেন টয়োটার ল্যান্ড ক্রুজার।

গাড়িটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, ১৬টি ক্যামেরায় নজরদারি করার ব্যবস্থা। পাশাপাশি টয়োটার গাড়িটিতে ব্যবহারকারীর চাহিদামতো পরিবর্তনও আনা যেত।

সেটিও এখন অতীত মোদির বহর থেকে। সে স্থানে নতুন যুক্ত হয়েছে এস সিক্স-ফিফটি গার্ড। যাতে একে-৪৭-এর গুলিও মোকাবিলা করতে পারবে খুব সহজেই। বুলেটপ্রুফের সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি বিস্ফোরণও প্রতিরোধ করতে পারবে।

মার্সিডিজের তৈরি গাড়িতে থাকা অবস্থায় দুই মিটার দূরত্ব থেকে যদি কেউ ১৫ কেজির বিস্ফোরণও ঘটায়, তবুও বনেটে একটু টোলও পড়বে না।

এস ৬৫০-এর জানালার ভেতরে রয়েছে পলি কার্বোনেটের আস্তরণ। মাইনজাতীয় বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে গাড়ির নিচের অংশেও রয়েছে বিশেষ সুরক্ষা বর্ম। এমনকি যদি গ্যাস হামলাও হয়, তবে আরোহীকে প্রয়োজনমতো বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে গার্ডে।

গাড়িটির ইঞ্জিন ৬.০ লিটার টুইন টার্বো ভি ১২, যা ৫০০ হর্সপাওয়ার এবং ৯০০ নিউটন মিটার শক্তি উৎপাদন করতে পারে। অবশ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে গাড়ির গতি থাকবে ১৬০ কিলোমিটারের।

এবার মার্সিডিজে মজলেন মোদি, ঠেকাবে গুলি-বিস্ফোরণ
মার্সিডিজ গার্ডের ভেতরের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

গার্ডেরে টায়ার পাংচার হওয়ার কোনো ভয় নেই। কেননা পুরো চাকাটাই নিরেট বা ফ্ল্যাট টায়ার।

তাই মোদির এ বাহনটিকে বলা হচ্ছে ভিআর-১০ স্তরের নিরাপত্তা। এই মুহূর্তে গাড়ির জগতে এটিই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

গাড়িটি অন্ধকারে দূর থেকে যে কোনো বস্তুকে চিহ্নিত করার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি চালকের উল্টোদিকের আয়নায় ব্লাইন্ড স্পট থেকেও যদি কোনো গাড়ি হামলা করতে চায়, তবে তা ধরা পড়বে চালকের চোখে।

বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে গাড়ির পেছনের আসনেও রয়েছে এয়ারব্যাগ সুরক্ষা। এমনকি সিটবেল্ট যাতে বুকের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেয়, তার জন্য বেল্টের ভেতরেও আছে এয়ারব্যাগ।

একটি এস সিক্স-ফিফটি গার্ডের দাম ১২ কোটি রুপি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য এমন দুটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ব্যবহার করবেন, আরেকটি ‘সম্ভাব্য হামলাকারীকে’ বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

শেয়ার করুন