সাধারণের মাঝে প্রচলিত ধারণা হলো, স্তন ক্যানসারে একমাত্র নারীরাই আক্রান্ত হন। তবে এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। প্রাণঘাতী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন পুরুষও।
সংখ্যার দিক থেকে নারীর তুলনায় পুরুষের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অবশ্য বেশ কম। তবে সব মিলিয়ে সংখ্যাটি একেবারে নগণ্যও নয়। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত মোট রোগীর ১-২ শতাংশ পুরুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্তন ক্যানসার নিয়ে নারীর তুলনায় পুরুষের সংকোচ অনেক বেশি। অনেকে এটি স্বীকারই করতে চান না। ফলে তাদের ডায়াগনোসিস করানোর ক্ষেত্রে বেশ জটিলতার মুখোমুখি হন চিকিৎসকেরা। সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে পুরুষেরা স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করেন, ফলে অনেক সময়েই রোগটি ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। অত্যন্ত জটিল অবস্থায় পৌঁছে যাওয়ায় নারীর তুলনায় স্তন ক্যানসার আক্রান্ত পুরুষের মৃত্যুঝুঁকি তাই বেশি।
মুম্বাইয়ের ওকহার্ট হসপিটালের কনসালট্যান্ট ব্রেস্ট অ্যান্ড লেপারেস্কোপিক সার্জন ডা. অদিতি আগারওয়াল এ বিষয়ে বলেন, ‘ক্লিনেফেল্টার সিনড্রমে ভোগা পুরুষদের (যারা একটি বাড়তি এক্স ক্রোমোসম নিয়ে জন্মান) স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ তাদের দেহে অ্যাস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে এবং তারা গাইনিকোমাস্টিয়ায় ভোগেন। এতে করে পুরুষের স্তন টিস্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।’
স্তন ক্যানসারের শুরুটা হয় বুকের দুগ্ধনালি ও দুধ তৈরিকারী গ্ল্যান্ড সমৃদ্ধ লবিউলে। বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত স্তনবৃন্ত ও অ্যারিওলার নিচে পুরুষ ও নারী স্তনের টিস্যুর কয়েকটি নালি থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে নারী দেহে অ্যাস্ট্রোজেনের মতো হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে নালির সংখ্যা বাড়ে ও লবিউল তৈরি হয়। ডা. আগারওয়ালের মতে, পুরুষের মধ্যে এই হরমোনগুলোর নিম্নমাত্রার কারণে, নালি ও লবিউল কম তৈরি হয় এবং চর্বিযুক্ত টিস্যু থাকে।
নারীর ক্ষেত্রে ১২ বছর বয়সের আগে পিরিয়ড শুরু হওয়া ও ৫৫ বছর বয়সের পর মেনোপজ হওয়া, বেশি বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়া বা কখনও সন্তানহীনতা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডক্টর আগারওয়াল বলেন, পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই স্তন ক্যানসারের সাধারণ কারণ হচ্ছে বয়স ও জিনগত বৈশিষ্ট্য। তার মতে, অন্যান্য সাধারণ কারণ- যেমন ধূমপান, রেডিয়েশন থেরাপি, অ্যালকোহল ও ব্যায়ামের অভাবকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষণ
নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলো হচ্ছে স্তনে গুটলি বা চাকা, এক বা দুটি স্তন ফুলে যাওয়া, নরম বা ব্যথা অনুভব করা, স্তন থেকে তরল নিঃসরণ হওয়া, স্তনবৃন্তের চারদিকে চুলকানো, স্তনবৃন্ত উলটে যাওয়া বা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, স্তনের চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া ও ব্যথা করা।
ডা. আগারওয়াল বলেন, ‘পুরুষের ক্ষেত্রে স্তন ছোট থাকে বলে ক্যানসারেরও প্রাথমিক লক্ষণ ছোট হয়, কিন্তু তা আশপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’
নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ম্যামোগ্রাম ও বায়োপসি করে কোনো সন্দেহজনক গুটি বা চাকা ক্যানসারপ্রবণ কি না, তা নির্ণয় করা সম্ভব।
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. আগারওয়াল বলেন, ‘ক্যানসারের ধরন, পর্যায় ও জায়গা নিশ্চিত করার পর চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন। আপনাকে মাস্টেকটোমি বা লাম্পেকটোমি করার পরামর্শ দেয়া হতে পারে।’
পুরুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগ এড়াতে জীবনযাত্রায় বদল আনার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ব্যায়াম করা, ওজন না বাড়ানো ও সবুজ শাকসবজি, ফল, বাদাম, ডাল ও সিরিয়ালযুক্ত সুষম খাবার খাওয়া উচিত। ১৮ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
র্যাবের হাতে গ্রেফতার এক্সেল বাবু। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরে বিকাশ দোকানিকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় কুখ্যাত ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ উদ্দিন বাবু ওরফে এক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং মিরপুরের পীরেরবাগ ও ৬ ফিট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাকি পাঁচজন হলেন এই সন্ত্রাসী চক্রের বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদ, রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তসির এবং মো. তরিকুল ইসলাম। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, চাপাতি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে প্রায় ৩ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা। ঘটনার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানা পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি জাইদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয় এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরসহ মোট ৬ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে মূলহোতাদের ধরতে র্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল নজরদারি বাড়িয়ে এই ছয় শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, কব্জি কাটা গ্রুপের মূল প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান প্রধান আবু সাঈদের ‘গুরু’ বা মেন্টর হিসেবে কাজ করতেন এই এক্সেল বাবু।
তিনি আরও জানান, এক্সেল বাবু নিজেই র্যাবের কাছে এই গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। মূলত তার প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ছত্রছায়ায় এই গ্রুপটি মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। মূল প্রধান আনোয়ার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আবু সাঈদ এই পুরো গ্রুপটিকে মাঠে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছিল। র্যাব কর্মকর্তা নাঈমুল হাসান জোর দিয়ে বলেন, এক্সেল বাবুর মতো গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের যতক্ষণ পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা না যাবে, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো বারবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। এই কারণে অপরাধ দমনে র্যাব এখন থেকে আরও আক্রমণাত্মক ও কঠোর পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে র্যাবের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান রামিসা হত্যা মামলার দ্রুততম সময়ে রায় হওয়ার উদাহরণটি টেনে আনেন।
তিনি বলেন, ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের অংশ হিসেবে র্যাব শুধু অপরাধীদের আটক ও তদন্তের কাজটি করে থাকে। তবে এই ধরনের কুখ্যাত ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা যেত, তবে দেশের সাধারণ জনগণ আরও অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করতো এবং অপরাধীদের মনেও ভয় তৈরি হতো।
ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এসব অপরাধীর পক্ষে কেউ সুপারিশ করতে এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
মাদক ও ধর্ষণের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না।” রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “এদের দমনে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করেন, তবে সেই নেতাসহ তাদের একই মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, রাষ্ট্রের শত চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়া এখন অসম্ভব।
প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সকাল ৯টায় অফিস করলেও অনেক জেলা-উপজেলায় কর্মকর্তারা সময়মতো উপস্থিত হন না, যা অনভিপ্রেত। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং কোনো রাজনৈতিক তদবির সেখানে গ্রাহ্য হবে না। বিগত সময়ের মেগা প্রজেক্টগুলোতে অর্থ লোপাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় বর্তমান সরকার অনেক প্রকল্প স্থগিত করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে।
মাদক চোরাচালানে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিন পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী এই বাজেটের বিরোধিতা কেবল বিরোধিতার খাতিরেই করা হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নির্মিত একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা এবং শৈলকূপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মসূচিগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম কার্ড বিতরণের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে একটি আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, ১৯টি জেলায় বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা অঞ্চলেও এর উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড এবং খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি তথ্য দেন।
বাজেট নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, আগে বাজেট দেওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল করতেন যে, ‘এ বাজেট গরিব মারার বাজেট, এ বাজেট মানি না’। তবে এবার বাজেটের বিরুদ্ধে এই মিছিল না হয়ে মিছিল হয়েছে- ‘মদের দাম বাড়ল কেন, বিড়ির দাম বাড়ল কেন?’ তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে করের চাপ কমানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
কবরের মধ্যে জীবিত আছেন ভেবে ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিনের মাথায় মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা৷ যা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মরিয়ম ওই একই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিনী তাসনুর বেগমের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ে ছিলেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্রগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। এবং চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে,এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভীর জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে,এটি অবাস্তব।
অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন।
আরও জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে,পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে,যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন তারা।
প্রতিবেশী মো.লোকমান লাহারি বলেন,প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্রগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতো মরিয়ম। কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পাশ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুইদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন,পড়ে তাকে তার বাবা মা ডাক্তার দেখিয়েছিল। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হটাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষন পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।
পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো.কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে,আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। 'কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে,কবর খোড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি'।
এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম,মো.নাজিম,সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন,আমরা শুনেছি সে নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধির ঘ্রাণ বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুড়েছে,বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম সে কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, 'সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল,এবং সন্দেহ দূর হয়েছে'।
এনিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন,মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই।
ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের মধ্যে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।’
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আলোচিত প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজের আদালত এ মামলায় চার্জগঠন করেন। একই সাথে আগামী ৯ জুলাই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদক সৈয়দ আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছিল। আবেদ আলীর ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আবেদ আলীর ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে দুদক। পিএসসির প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত বিশাল এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। চার্জগঠনের মাধ্যমে এখন সেই দুর্নীতির বিচারের পথ প্রশস্ত হলো।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগর পাড় ও খালের ধারে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রতিবেশী আবির আলীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়। শিশুর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, শিশুটির পরিবারের বাসার ভাড়াটে আবির আলীই এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি জালাল উদ্দিন জানান যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য