সেই অচেনা প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল

সেই অচেনা প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল

অচেনা প্রাণীর খোঁজে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রশাসন ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা অভিযান চালিয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা থেকে যাওয়া বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ কামরুদ্দীন রাশেদ বলেন, ‘সরেজমিনে আমরা অনেকটা জায়গাজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীর পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেছি। এসব এলাকায় ছোট ছোট শিয়াল ও খ্যাঁকশিয়ালের অবাধ বিচরণ আছে। রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এটা ছোট প্রকৃতির শিয়াল বা খ্যাঁকশিয়াল।’

গুজব নয়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অচেনা প্রাণীর হামলার বিষয়টি সত্য। সেই প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ কামরুদ্দীন রাশেদ বুধবার বেলা ২টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর নিউজবাংলাকে জানান, তারা অভিযান চালিয়ে হামলা চালানোর মতো কোনো প্রাণী পাননি। বিষয়টি গুজব হতে পারে বলে ধারণা ছিল তার।

তবে মঙ্গল ও বুধবারের অভিযান শেষে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল।

ঢাকা থেকে যাওয়া বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ কামরুদ্দীন রাশেদ বলেন, ‘আমরা এসব এলাকায় সরেজমিন কাজ করেছি। নিহতের পরিবার ও আহতের সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলেছি। তা ছাড়া স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলাসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। পর্যবেক্ষণের সময় আমরা আক্রান্তদের ধরন, সময়, প্রাণীর আকার-আকৃতি, আচঁড়ের দাগ ও কামড়ের দাগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি।

‘সরেজমিনে আমরা অনেকটা জায়গাজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীর পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেছি। এসব এলাকায় ছোট ছোট শিয়াল ও খ্যাঁকশিয়ালের অবাধ বিচরণ আছে। এসব প্রাণীর আধিক্যও আছে। রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এটা ছোট প্রকৃতির শিয়াল বা খ্যাঁকশিয়াল।’

সেই অচেনা প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল

কামরুদ্দীন জানান, এসব এলাকার বেশির ভাগ শিয়ালকে স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে অল্পসংখ্যক শিয়াল জলাতঙ্ক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে।

এর আগে রাজশাহীর পরিদর্শক দলের প্রধান জাহাঙ্গীর কবীর বলেছেন, ‘দিনে ও রাতে দুই টাইমে এটা নিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। সঠিক তথ্যটি বের করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন ক্লু দিয়ে প্রাণীটি শনাক্তের চেষ্টা করছি।

‘এলাকায় শিয়ালের সংখ্যা, রাত্রীকালীন সেখানে অন্য প্রাণীর বিচরণ আছে কি না, র‍্যাবিস আক্রান্ত কোনো কুকুর আছে কি না, সেটার উপদ্রব কেমন; সেখানকার মানুষদের মানসিকতা কেমন, তারা যে আতঙ্কের কথা বলছেন, সে ক্ষেত্রে তাদের স্বস্তির বিষয়টিও ভাবতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীকে যেসব প্রতিরোধ কৌশল ও পরামর্শ দিচ্ছি, তারা তা অবলম্বন করেননি। পরামর্শকে গুরুত্ব দেননি। তারা অনেকটাই অসত্য তথ্যে বিশ্বাসী। এটাকে আমরা গুজব বলতে পারি।’

অচেনা প্রাণী নিয়ে মানুষের চিন্তাধারা, আতঙ্ক ও অন্য প্রাণী হত্যার বিষয়টি একটি ছোট্ট গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন জাহাঙ্গীর কবীর। তিনি বলেন, ‘চিল পাখি কান ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। এটা শুনেই পাখি ধরতে গেলাম। এখানকার ঘটনাটিও কিছুটা এই গল্পের মতোই ঘটে চলেছে।’

সেই অচেনা প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল

তবে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অবাধে বন্য প্রাণী হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যা এই এলাকাগুলোতে ঘটানো হচ্ছে। ডুমুরগাছায় মেছোবিড়াল হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এটা কখনোই কাম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় সন্ধ্যার দিকে আমরা এক জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে আছি। এ সময় চিল্লাচিল্লি শুনে দৌড়ে সেখানে গেছি। তখন একজন বলেন, ‘সেই প্রাণীটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’ এটা শুনে তাকে প্রশ্ন করলাম, ‘সেই প্রাণী আপনি কীভাবে বুঝলেন?’ তখন তিনি বলছেন, ‘এই তো আমাকে ধাওয়া করছিল। দৌড়ে পালাইছি। আমাকে মেরেই ফেলত।’

এরপর আশপাশে খোঁজাসহ সেখানকার লোকদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, ‘লোকটি কিছু না দেখেই চিল্লাইছে। এ ধরনের মানসিক সমস্যার কারণে সেখানে আতঙ্ক বেড়েছে।’

পলাশবাড়ীর হরিনাথপুর, তালুকজামিরা, কিশামত কেঁওয়াবাড়ি ও কেঁওয়াবাড়ি গ্রামে গত দেড় মাসে নানা সময় ওই প্রাণীটিকে দেখা গেছে বলে দাবি গ্রামবাসীর। এরই মধ্যে হামলায় একজন মারা গেছেন বলে তাদের দাবি। অন্তত ১০ জন জানিয়েছেন যে, তারা ওই প্রাণীর হামলার শিকার হয়েছেন।

সেই অচেনা প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল

অচেনা প্রাণীর আতঙ্কে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছিল শিয়াল। গত কয়েক দিনে গ্রামের লোকজন অন্তত ১০টি শিয়াল মেরেছে। শিয়াল মারতে গিয়ে রোববার দুপুরে একটি মেছোবিড়াল পিটিয়ে মেরেছে একদল যুবক। মৃতদেহ রশিতে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে উল্লাসও করেছে তারা।

ওই প্রাণীর হামলার শিকার হয়ে যিনি মারা গেছেন বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন, তিনি হলেন হরিনাথপুর গ্রামের উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ফেরদৌস সরকার রুকু।

তার মৃত্যুর বিষয়ে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ কামরুদ্দীন রাশেদ বলেন, ‘ইমাম সাহেবের বিভিন্ন চিকিৎসাপত্র ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তার সুচিকিৎসা হয়নি। তা ছাড়া তার চিকিৎসায় অনেক বিলম্ব হয়েছে। অথবা চিকিৎসায় কিছু ভুলের কারণে তিনি মারা গেছেন।’

ঢাকা থেকে যাওয়া বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ দলে আরও ছিলেন মাহবুব-ই-খোদা জুয়েল ও গাজী সাইফুল তারিক।

সেই অচেনা প্রাণীটি খ্যাঁকশিয়াল
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অচেনা প্রাণীর আতঙ্কে পিটিয়ে মারা হয়েছে শিয়াল-মেছোবিড়াল

মাহবুব-এ-খোদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি শিয়ালের প্রজনন সময়। এই সময় অনেক পশু-পাখির গায়ের রঙে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। যা এখানকার শিয়ালের ক্ষেত্রেও হয়েছে। এ জন্য লোকজন আগের দেখা শিয়াল আর এখনকার শিয়ালের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারছে না।’

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান নয়ন নিউজবাংলাকে জানান, হতাহতের আর্থিক সহযোগিতার জন্য দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কুমিল্লার কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুইজনকে। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ গ্রেপ্তার দুইজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু। এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

সবশেষ গ্রেপ্তার দুইজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু।

এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকা থেকে জিসান ও দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

জেলা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার দিন অন্তুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খান এজাহারভুক্ত ৭ আসামি। এ কারণে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

বাসচালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

চট্টগ্রামে মারধরে বাসচালক নিহতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই তিনজন হলেন আনোয়ার হোসেন, মো. মোর্শেদ ও মো. রবিউল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছিলেন, বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নোহা গাড়িকে সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিম।

পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সকালে হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা।

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে নগর পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে গাড়ি চলাচল শুরু করে।

ওইদিন রাতে বায়েজিদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আব্দুর রহিমের স্ত্রী জোছনা বেগম।

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

কী হয়েছিল সেদিন?

ওসি জানান, হাটহাজারী থেকে আসার সময় চৌধুরী হাটের আগে ওভারটেক করা নিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ঝামেলা হয়। মিনিবাসে যাত্রী ওঠানামার কারণে মাইক্রোবাসের পথরোধ হয়েছিল।

এরপর চৌধুরী হাট এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা দ্রুতযান পরিবহনের আরেকটি বাসের চালক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। মারধরে ওই চালক অজ্ঞান হয়ে যান। ভুল চালককে মারধরের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত অক্সিজেনের দিকে চলে যান।

বালুছড়া এলাকায় আব্দুর রহিমের বাসটি চিনতে পেরে পিছু করা শুরু করেন। আমিন জুট মিলের সামনে তারা বাসের গতিরোধ করে চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান নীরবতা। ছবি: নিউজবাংলা

হামলায় অভিযুক্ত পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি। আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

নির্বাচনি সহিংসতায় এক বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান।

ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে গুমট পরিবেশ। পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

ফল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুবেল বাহিনীটির নায়েক ছিলেন।

এ ঘটনার পর পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই প্রার্থীর এক স্বজন।

সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেন।

‘ওই সময় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করলে আমি নিজে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কয়েকজন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য আহত হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।’

বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: এলাকা সুনসান



সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসসহ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।’

নির্বাচনি সহিংসতার পর গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়ায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম জানান, প্রথম শোনা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার জানা গেল সে হেরে গিয়ে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শুনছি সে সময় বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোনো মানুষ নেই।

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

‘আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

প্রতিবেশী ফজিলা বেগম বলেন, ‘রাতে শুনেছি হাঙ্গামার খবর। সকাল থেকে এই এলাকায় কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি।’

সহিংসতার ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি কথা বলতে চাননি মামলা হওয়া প্রসঙ্গেও।

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কোথায়

মেয়র আব্বাস কোথায়

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলায় রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

মেয়রকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি চলছে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর পরই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি।

মেয়র অফিস করছেন না। তবে তার মোবাইল ফোনটি চালু। কখনও ফোন ধরছেন, কখনও সাড়া দিচ্ছেন না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আব্বাস দাবি করেন, অডিওটি এডিট করা। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফেসবুকে লাইভে এসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানো নিয়ে আপত্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ক্ষমাও চান।

ওই দিন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। আমি ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। সেখানেই অনেক বিষয়ে আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দিব।’

কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে গত ২৪ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। নগরীর বোয়ালিয়া থানায় করা মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন। এ ছাড়া ২৩ নভেম্বর চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমান এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই অভিযোগ এনে দুটি এজাহার জমা দেন।

অডিও প্রকাশের পর থেকে রাজশাহী শহর এবং কাটাখালীতে আলাদা কর্মসূচি থেকে আব্বাস আলীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। তবে এখন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, ‘গত ১৫ নভেম্বরের পর থেকেই আব্বাস আলী পৌরসভায় যাননি। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবি করেছি। কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, এটি আমরাও নিশ্চিত হতে পারছি না।’

আব্বাসের অনুপস্থিতিতে পৌরসভার সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য কাউন্সিলররা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আব্বাস আলী যে অপরাধ করেছেন তার জন্য তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তিনি কোথায় সেটি নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনতে পারছি তিনি ঢাকায় থাকতে পারেন।’

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরাও আব্বাস আলীকে খুঁজছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তাও নিচ্ছি। আমরা আশা করছি তাকে পেয়ে যাব।’

ওসি বলেন, ‘মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত চলছে। অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রক্রিয়ার মাঝেই তিনি ২৬ নভেম্বর নিজেই ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকারোক্তি দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। কাজেই এটি আর খতিয়ে দেখার কিছু নাই।’

ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘তিনি যে মামলার আসামি তাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এখন আমরা মূলত তাকে খুঁজে বের করার জন্য যা যা করার দরকার করছি।’

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলো চারজন।

কুমিল্লার র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মামলার ৬ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান রকি ও ৭ নম্বর আসামি আলম মিয়া।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, আশিককে লালমনিরহাটের চন্ডীবাজার থেকে এবং আলমকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড়জালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শিগগিরই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বৃহস্পতিবার আসামি মো. মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুম হত্যা মামলায় ৯ নম্বর আসামি। এর আগে মো. সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

কাউন্সিলর সোহেল হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, মামলায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি জানান, কাউন্সিলর সোহেল সুজানগরে তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন হরিপদ সাহা, পাথুরীয়াপাড়ার মো. রিজু ও মো. জুয়েল এবং সুজানগর এলাকার সোহেল চৌধুরী ও মাজেদুল।

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেম ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায় এ কার্ড। ফাইল ছবি

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়ির মূল চালক ছিলেন হারুন মিয়া।

রাজধানীর গুলিস্তানের গোল চত্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হয়েছিলেন, তার মূল চালক হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৩-এর অপারেশন্স অফিসার বীণা রানী দাস নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে আটক করে। পরে নাঈমের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

এদিকে ময়লার গাড়ির চাপায় নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে কর্মচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত দপ্তর আদেশ পাঠান।

আরও পড়ুন:
সেই অচেনা প্রাণী ‘গুজব’: বন বিভাগ
অচেনা পশুর আতঙ্কে মারা হচ্ছে শিয়াল
গাইবান্ধায় আতঙ্ক ছড়ানো সেই অচেনা প্রাণীটি কী?
১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে
বনে ফিরল হরিণছানা

শেয়ার করুন