মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে ভূতের সিনেমা

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে ভূতের সিনেমা

স্ক্রিম থেরাপির কারণে যকৃত ও শ্বাসযন্ত্রের ভালো ব্যায়াম হয়। এ ছাড়া ভূতের সিনেমা দেখার সময় অতিরিক্ত চেঁচামেচি করলে এন্ডোরফিনস প্রোডাকশনও ট্রিগার করে। যা মুড ভালো রাখতে সহায়ক।

সিনেমা দেখতে কে না ভালোবাসে। অনেকের কাছেই আবার ভূতের সিনেমা প্রিয়। অনেকে আবার সহ্য করতে পারেন না বলে দেখেন না। মনে করেন অতিরিক্ত ভয়ের সিনেমা মানসিক অত্যাচার। তবে জানলে অবাক হয়ে যাবেন যে, ভূতের সিনেমা আসলে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

সম্প্রতি একদল গবেষক এমনটাই দাবি করেছে। তাদের মতে, টেনশন আর ভয় থেকে মুক্ত হতে হলে ভূতের সিনেমা দেখা জরুরি।

কিন্তু কেন? ওই গবেষকেরা মনে করে- মানুষ যখন ভয় পায় বা কোনোকিছু নিয়ে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ভোগে; তখন শরীরের ভেতর বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। যেমন, দ্রুত হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা কমা ইত্যাদি।

অনেকেরই আবার শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করে। কিন্তু একজন মানুষ যত বেশি ভূতের সিনেমা দেখবে, তার দেহে এসব প্রতিক্রিয়া সে হারে কমে আসবে। গবেষকদের ভাষায় এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘স্ক্রিম থেরাপি’।

একদল মানুষের ওপর দীর্ঘ গবেষণা করে দেখা যায়, এই স্ক্রিম থেরাপির কারণে যকৃত ও শ্বাসযন্ত্রের ভালো ব্যায়াম হয়। এ ছাড়া ভূতের সিনেমা দেখার সময় অতিরিক্ত চেঁচামেচি করলে এন্ডোরফিনস প্রোডাকশনও ট্রিগার করে। যা মুড ভালো রাখতে সহায়ক।

অপর দিকে ভূতের সিনেমা দেখার কারণে হার্ট বিট বেড়ে যায় ফলে শরীর থেকে ক্যালোরি ঝরতে থাকে। যা অতিরিক্ত মেদ কমাতেও সাহায্য করে। এতে শরীর ফিট থাকে। আর ফিট শরীর মানসিক সুস্বাস্থ্যের অন্যতম নিয়ামক।

সূত্র: সিএনইটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মৃত বন্ধুকে নিয়ে ‘শেষ’ বাইক ভ্রমণ

মৃত বন্ধুকে নিয়ে ‘শেষ’ বাইক ভ্রমণ

মৃত বন্ধুকে এভাবেই কফিন থেকে বাইকে নিয়ে তোলা হয়। ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত একটি কাঠের কফিন থেকে এরিককে টেনে বের করে আনছেন তার বন্ধুরা। তারপর তারা তাকে একটি বাইকে নিয়ে তোলেন।

আততায়ীর গুলিতে খুন হয়েছে বন্ধু! ব্যাপারটিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না একদল যুবক। বন্ধুকে হারিয়ে তারা পাগলপ্রায়। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নিয়ে যেতে তাই মৃত বন্ধুকেই তুলে নেয়া হলো মোটরসাইকেলে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ইকুয়েডরের মানাবি প্রদেশে।

শনিবার ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মানাবির পর্তোভিজো শহরেই বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে দিনগুলো কাটছিল ২১ বছর বয়সী এরিক শেডেনোর। কিন্তু এই হাসি-আনন্দ থেমে যায় গত সপ্তাহের শেষ দিনটিতে। সে সময় একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার পথ আগলে দাঁড়ায় দুই আততায়ী। তাদের গুলিতেই অকালে প্রাণ হারান এরিক।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত একটি কাঠের কফিন থেকে এরিককে টেনে বের করে আনছেন তার বন্ধুরা। তারপর তারা তাকে একটি বাইকে নিয়ে তোলেন। বাইকটি চালাচ্ছিলেন এক বন্ধু। আর মৃত এরিককে মাঝখানে বসিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন আরেক বন্ধু।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বন্ধুকে কফিন থেকে বের করে বাইকে তোলার ঘটনাটি আশপাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল অসংখ্য মানুষ। বাইকটি যাত্রা শুরু করার পর পেছনে দাঁড়ানো অন্য বন্ধুদের হাত উঁচিয়ে উল্লাস করতেও দেখা গেছে।

স্পেনিশ ভাষার পত্রিকা লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, কবর দেয়ার সময় এরিকের কফিনে মদও ঢেলে দিয়েছেন তার বন্ধুরা। তারা দাবি করেছেন, এরিকের বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়েই তাকে বাইকে চড়িয়ে শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাটিকে ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে শেষকৃত্যানুষ্ঠান ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা কোনো তদন্ত হয়নি।

শেয়ার করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

গাড়িতে যাত্রী বসার সিটের পাশাপাশি মিনি গলফ কোর্স, জ্যাকুজ্জি বাথটাব, ফ্রিজ-টিভি, টেলিফোন, সুইমিংপুল এমনকি হেলিপ্যাড পর্যন্ত ছিল। এর বনেটটিকে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

‘দি আমেরিকান ড্রিম’- এই নামেই পরিচিত ছিল এই অতিকায় লিমুজিন গাড়িটি। ১৯৮৬ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডস রেকর্ডেও নাম উঠেছিল। একটি সাধারণ গাড়ির দৈর্ঘ্য যেখানে ১৪ থেকে ১৫ ফিট হয়, সেখানে এই গাড়িটির দৈর্ঘ্য ছিল- ১০০ ফিট! গঠন ও গড়নে গাড়ি না হলে, একে নির্ঘাত একটি ট্রেন বলে চালিয়ে দেয়া যেত।

হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আকার-আকৃতিতে দৈত্যাকার হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক অবাক করা বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল ‘দি আমেরিকান ড্রিম’।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

এতে যাত্রী বসার সিটের পাশাপাশি মিনি গলফ কোর্স, জ্যাকুজ্জি বাথটাব, ফ্রিজ-টিভি, টেলিফোন, সুইমিংপুল এমনকি হেলিপ্যাড পর্যন্ত ছিল। এর বনেটটিকে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এককথায় আজকাল আমরা দামি বিলাসবহুল গাড়ি বলতে যা বুঝি তার চেয়েও অধিক ছিল ওয়ান্ডার কার দি আমেরিকান ড্রিম। অনায়াসে একসঙ্গে ৭০ জন মানুষ ভ্রমণ করতে পারত।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

এই গাড়িটি কোনো গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিজাইন করেনি। জে ওরবার্গ নামের এক লোক এটি ডিজাইন করে সিনেমায় ব্যবহারের জন্য। ওরবার্গ সে সময়ে হলিউড সিনেমার গাড়ি ডিজাইনের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি এই গাড়িটি ডিজাইন করেন ১৯৮০ সালে।

আমেরিকান ড্রিম মূলত ক্যাডিলাক এলডোরাডো লিমুজিন ১৯৭৬-এ নির্মিত। এটি বানাতে টানা ১২ বছর সময় লাগে। পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলে ১৯৯২ সালে এই লিমুজিনটি প্রথমবারের মতো চালানোর জন্য রাস্তায় নামানো হয়। এতে ২৬টি চাকা ছিল এবং উভয় দিক থেকেই চালানো যেত। এটি চালাতে অনেক ৮ভি ইঞ্জিনের শক্তি লাগত। আরও মজার ব্যাপার হলো- এত লম্বা গাড়ি হওয়ার পরও গাড়িটিকে মাঝখান থেকে বাঁকা করে ডান-বামে ঘোরানো যেত।

বেশ কয়েকটি সিনেমায় দি আমেরিকান ড্রিমকে ব্যবহার করা হয়। এমনকি ধনী লোকেরা প্রমোদভ্রমণের জন্যও এটি ভাড়া নিত। যার জন্য সেই সময়ই ঘণ্টাপ্রতি তাদের গুনতে হতো প্রায় ১৬ হাজার টাকা। তবে দুঃখের বিষয় হলো- একসময় ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে থাকে। সিনেমাগুলোতেও এত বড় গাড়ি ব্যবহারের আবেদন শেষ হয়ে যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

ফলে এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরকার ছিল তা কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি। ২০১২ সালে দি আমেরিকান ড্রিমের চাকা সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়। কিছু অংশ বাদে গাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে খুশির কথা হলো- আমেরিকান ড্রিমকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে ২০১৯-এ। যদিও করোনা মহামারির কারণে কাজ থমকে গিয়েছিল। গাড়িপ্রেমীরা আশা করছেন, খুব দ্রুতই গাড়িটিকে আবারও রাস্তায় দৌড়াতে দেখা যাবে।

শেয়ার করুন

বাঘের থাবা থেকে সন্তান ছিনিয়ে আনলেন মা

বাঘের থাবা থেকে সন্তান ছিনিয়ে আনলেন মা

চিতাবাঘের মুখ থেকে বেঁচে আসা মা ও ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়ার পর বাঘটিও কিছুটা ঘাবড়ে যায়। নিজেকে আড়াল করতে একটি ঝোপের পেছনে লুকিয়ে পড়ে। খুব ঠান্ডা মাথায় বাঘের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন কিরন। সফলও হন।

চিতাবাঘের আক্রমণের মুখে সন্তানের প্রতি ভালোবাসার অনন্য প্রমাণ দিলেন এক মা। নিজের জীবন বাজি রেখে কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াই বাঘের থাবা থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে এনেছেন তিনি।

সস্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঝিরিয়া গ্রামের ঘটনাটি ঘটে বলে ইন্ডিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওই নারী একাই লড়াই করে বাঘের থাবা থেকে উদ্ধার করেন তার শিশু ছেলেকে। তার কাছে ছিল না কোনো অস্ত্র। এরপরও সন্তানকে বাঁচাতে কোনো কিছুর পরোয়া করেননি তিনি।

বাইগা সম্প্রদায়ের ওই নারীর নাম কিরন। তার ভাষ্য, ঘরের বাইরে তিন সন্তানকে নিয়ে আগুন পোহানোর সময় চিতাবাঘ হানা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে দৌড় দেয় বাঘটি। সঙ্গে সঙ্গে বাঘের ধাওয়া করেন তিনিও।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়ার পর বাঘটিও কিছুটা ঘাবড়ে যায়। নিজেকে আড়াল করতে একটি ঝোপের পেছনে লুকিয়ে পড়ে।

খুব ঠান্ডা মাথায় বাঘের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন কিরন। একটি লাঠি জোগাড় করে বাঘটিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। বাঘটি তখন ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাল্টা লাঠির আঘাতেই চিতাটি কিরণ ও তার ছেলেকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মা ও ছেলে উভয়েই আহত হয়। পরে বনবিভাগের লোকজন তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। এই ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন কিরন।

শেয়ার করুন

চিঠি পাঠানোর জন্য কেন পায়রাকেই বেছে নেয়া হতো

চিঠি পাঠানোর জন্য কেন পায়রাকেই বেছে নেয়া হতো

একটা সময় ছিল যখন কোনো দুর্গম প্রান্ত যেখানে ডাকপিয়নরা পৌঁছতে পারতেন না, সেখানে বার্তা পাঠাতে পায়রাই ছিল একমাত্র অবলম্বন। এর জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। বার্তা পাঠানোর জন্য সেনাবাহিনীতেও পায়রাকে একটা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

ইন্টারনেটের এই যুগে এখন ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনেক আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের হাতের মুঠোয়। এখন এক ক্লিকেই বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে প্রাপকের কাছে।

ফলে পায়রা দিয়ে বার্তা পাঠানোর কথা শুনলে ব্যাপারটাকে রূপকথার গল্প বলে মনে হয়।

কিন্তু একটা সময় ছিল যখন কোনো দুর্গম প্রান্ত যেখানে ডাকপিয়নরা পৌঁছতে পারতেন না, সেখানে বার্তা পাঠাতে পায়রাই ছিল একমাত্র অবলম্বন। এর জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। বার্তা পাঠানোর জন্য সেনাবাহিনীতেও পায়রাকে একটা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এই প্রথা তিন হাজার বছর আগে থেকে মিশরীয়রা প্রথম ব্যবহার করেন। পরে ধীরে ধীরে অন্যরাও এই প্রথাকে রপ্ত করে।

কাক, টিয়া, কাকতুয়ার মতো অনেক পাখিই তো আছে যারা সহজে মানুষের আদবকায়দা রপ্ত করতে পারে। কিন্তু তাদের এই কাজে ব্যবহার না করে কেন শুধু পায়রাকেই পত্রবাহক বা বার্তাবাহক হিসেবে ব্যবহার করা হতো?

চলুন, এবার সেই কারণ জেনে নেয়া যাক।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পায়রার মধ্যে রাস্তা চেনার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। পায়রাকে যেকোনো জায়গায় ছেড়ে দিয়ে এলে ঠিক রাস্তা চিনে ঘরে ফিরে আসবে।

তা ছাড়া পাখিরা ম্যাগনেটোরিসেপশনের মাধ্যমে বুঝতে পারে তারা পৃথিবীর কোন জায়গায় আছে।

দাবি করা হয়, সূর্যের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পায়রা নাকি ঘরে ফেরার রাস্তা ঠিক খুঁজে নিতে পারে।

শুধু রাস্তা চেনার ক্ষমতাই নয়, গতির জন্যও পায়রাকে পত্রবাহক হিসেবে কাজে লাগোনোর জন্য বেছে নেওয়া হতো।

ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে পায়রা। এক দিনে হাজার কিলোমিটার পথ উড়ে যেতে পারে।

শুধু তা-ই নয়, ছয় হাজার ফুট উচ্চতাতেও উড়তে পারে পায়রা।

এসব কারণের জন্যই পায়রাকে পত্রবাহক বা বার্তাবাহক হিসেবে বেছে নেওয়া হতো।

শেয়ার করুন

ভালুকের জেলখানা

ভালুকের জেলখানা

হেলিকপ্টার থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্টের মাধ্যমে অজ্ঞান করার পর ভালুকটিকে ট্রাকে করে পোলার বিয়ার প্রিজন বা মেরু ভালুকের জেলখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য জেলখানা রয়েছে। তবে কানাডার চার্চিল প্রদেশের ম্যানিটোবা শহরে রয়েছে অন্য রকম এক জেলখানা। সেই জেলখানায় মানুষের পরিবর্তে আটকে রাখা হয় মেরু ভালুককে।

শহরটিতে এত বেশি মেরু ভালুকের উৎপাত যে, এদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসনকে এটি তৈরি করতে হয়।

ব্লিটজলাইফ ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া স্যামুয়েল রিজনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভালুকের যন্ত্রণায় অঞ্চলটিতে পোলার বিয়ার অ্যালার্ট প্রোগ্রাম নামে একটি অভিযান শুরু হয়েছে।

ভালুকের জেলখানা

প্রোগ্রামটির কর্মীরা রীতিমতো শক্তিশালী ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্ট (অজ্ঞান করার অস্ত্র, যার মাধ্যমে দূর থেকে গুলির মতো ইনজেকশন ছোড়া যায়) হাতে হেলিকপ্টারে করে অঞ্চলটিতে ঘুরে ঘুরে মেরু ভালুক খুঁজে বেড়ান। তাদের মতে আগেভাগেই পশুগুলোকে পাকড়াও না করলে পরে তারা নানা রকম ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

গ্রেপ্তারকৃত ভালুকগুলোকে মানুষের মতোই নাম্বারে চিহ্নিত করা হয়।

যেমন এখন যে ভালুকটিকে নিয়ে কথা বলছি, তার নাম্বার হলো- ১৯১৭৩। এটি ৮০০ পাউন্ডের এক বিশালাকার পুরুষ ভালুক। এই ভালুকটি খাবারের খোঁজে মানুষের এলাকায় ঢুকে পড়ে। ভেঙে ফেলে একটা দামি পোরশে গাড়ি। একটা হাসপাতালেও সে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর চালায়। তার ভয়ে লোকজনকে হাসপাতাল ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

ভালুকের জেলখানা

এই মেরু ভালুকটির ধারণা হয়েছিল, শীতকাল অর্থাৎ বরফের দিন চলে গেলে সবচেয়ে ভালো খাবার পাওয়া যায় শহরে থাকা ডাস্টবিনগুলোতে। আর এখান থেকেই যত বিপত্তি।

মনে রাখতে হবে, মেরু ভালুকদের কাছে মানুষ সব সময় প্রিয় শিকার। তাদের মধ্যে কোনো মনুষ্যভীতি নেই। সামনে পেলে তারা অনায়াসেই মানুষ শিকার করে।

হেলিকপ্টার থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্টের মাধ্যমে অজ্ঞান করার পর ভালুকটিকে ট্রাকে করে পোলার বিয়ার প্রিজন বা মেরু ভালুকের জেলখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

জেলখানাটি যেখানে অবস্থিত, সেটি নর্দার্ন ক্যাপিটেল অব দি ওয়ার্ল্ড বা পৃথিবীর উত্তরের রাজধানী নামেও পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বমানচিত্রে পোলার বিয়ার ক্যাপিটেল বা মেরু ভালুকের রাজধানী বলেও ডাকা হয়।

এই পোলার বিয়ার প্রিজন প্রথমে আর্মির বিমানের হ্যাঙ্গার (যেখানে বিমান রাখা হয়) ছিল। পরবর্তীকালে ভালুকের উৎপাত থেকে বাঁচতে ১৯৮১ সালে একে জেলখানা বানানো হয়। এটিতে মোট ২৮টি সেল রয়েছে।

এখানে নিয়ে আসা ভালুকগুলোকে প্রথম ৩০ দিন শুধু তুষার আর পানি খেতে দেয়া হয়। এতে করে প্রাণীগুলোর মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে এরা খাবারের খোঁজে শহরে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এক মাস কারাদণ্ডের পর এদেরকে মেরুর বরফে ছেড়ে আসা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় আইস রিলিজ বা বরফ মুক্তি।

ভালুকের জেলখানা

যদিও অনেকের মতে ভালুকগুলোকে এমনভাবে জেলে বন্দি করে রাখা একটি নির্মম ব্যাপার। কিন্তু কর্মীরা মনে করেন, এটি কেবলই একটি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া। কোনো না কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি নর্দার্ন শহরকেই করতে হয়।

কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভালুকের খাবারের উৎস কমে গেছে। ফলে নিজেদের বাসস্থানে পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে, খুঁজতে খুঁজতে এরা শহরের দিকে চলে আসে।

ভালুকের আবাসস্থলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ম্যানিটোবা অঞ্চলটিতে এ সমস্যা বেশি।

যদিও আগে উৎপাত থেকে বাঁচতে লোকজন ভালুকগুলোকে গুলি করে মেরে ফেলত। কিন্তু বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো ভালুককে মারা যাবে না। নিয়ম হচ্ছে কোনোভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণীগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া। আর যেসব ভালুক বেশি সমস্যা করে, যেগুলোকে ভয় দেখিয়েও তাড়ানো যায় না, তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই কারাগার।

শেয়ার করুন

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

দ্য ওমাহা বেকারি। ছবি: ফেসবুক

বেলভিউ শহরের দ্য ওমাহা বেকারিতে কাজ করা প্রিস্টন রেইথ বলেন, ‘নিকোলাস নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি আমাদের এখানে আসেন। অর্ডার করেন দুটি টার্নওভার; যার মূল্য ৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৮ টাকা)। এই সেবার জন্য তিনি বকশিশ দেন ২০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৭ টাকা)।

রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে বকশিশ দেয়ার প্রচলন বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় রয়েছে। তবে সেই পরিমাণটা যদি হয় আকাশছোঁয়া, তবে অবাক না হয়ে উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের একটি রেস্টুরেন্টে এমন ঘটনা ঘটেছে।

বেলভিউ শহরের দ্য ওমাহা বেকারিতে কাজ করা প্রিস্টন রেইথ বলেন, ‘নিকোলাস নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি আমাদের এখানে আসেন। অর্ডার করেন দুটি টার্নওভার; যার মূল্য ৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৮ টাকা)। এই সেবার জন্য তিনি বকশিশ দেন ২০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৭ টাকা)।

দ্য ওমাহা বেকারি কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ওই রসিদটি শেয়ার করে। বকশিশের পুরো টাকা সব কর্মচারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে জানান বেকারির মালিক মিশেল কায়সার।

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

তিনি বলেন, ‘ওই ক্রেতা বুঝতে পেরেছেন, মহামারির মধ্যে কঠিন সময় পার করছি সবাই। সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি খেয়াল করেছিলেন, আমাদের কর্মীরা খুব আন্তরিক ও পরিশ্রমী।’

শেয়ার করুন

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। ছবি: বিবিসি

অ্যালবেট্রস নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততায় অ্যালবেট্রস পাখিরা জগদ্বিখ্যাত। এর মানে এই নয় যে, তারা কখনও একে অপরকে ছেড়ে যায় না। তবে সেই সংখ্যাটি নগন্যই বলা চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই পাখিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার বেড়ে গেছে বহুগুণে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি জার্নালে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে ফকল্যান্ড আইল্যান্ডে সাড়ে ১৫ হাজার অ্যালবেট্রস যুগলের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। একবার তাদের মনের মিল হয়ে গেলে- সারাজীবনই তারা একে অপরকে সঙ্গ দিয়ে চলে। সাধারণ হিসেবে, খুব বেশি হলে এক শতাংশ অ্যালবেট্রস যুগলের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে; যা মানুষের সমাজের চেয়ে অনেকাংশেই কম।

অ্যালবেট্রস নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

কিন্তু বিগত বছরগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রা যত বাড়ছে অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের হারও তত বাড়ছে। বর্তমানে এমন বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে হচ্ছে ৮ শতাংশেরও বেশি অ্যালবেট্রস যুগলকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত কোনো অ্যালবেট্রস যুগল প্রজননে ব্যার্থ হলেই তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজনন মৌসুমের জন্য তারা নতুন সঙ্গীর খোঁজ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একটি সফল প্রজনন মৌসুম কাটানোর পরও অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, অ্যালবেট্রসদের বিচ্ছেদ বাড়ার নেপথ্যে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী একটি সম্পর্ক মানিয়ে চলতে তারা হয়তো অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয়ত, পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকার কারণে অ্যালবেট্রস পাখিদের আরও দীর্ঘ সময় শিকার খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে। শিকারের সন্ধানে তারা আগের চেয়েও দূর-দূরান্তে উড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে তাদের অনেকেই সময়মতো নীড়ে ফিরতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই ফাঁকে তাদের সঙ্গীরা নতুন কোনো সঙ্গীকে বেছে নিচ্ছে।

আবার এমনও হতে পারে, বিরূপ আবহাওয়া অ্যালবেট্রস পাখিদের হরমোনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার বৈশিষ্ট্যগুলো তারা হারিয়ে ফেলছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, ‘প্রজনন শর্তগুলো কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়া আর খাদ্যের অভাব অ্যালবেট্রস পাখিদের মধ্যে ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। ফলে তারা একে অপরের সক্ষমতায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না। যার ফল শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদেই গড়াচ্ছে।

এমন প্রবণতা অ্যালবেট্রসের সংখ্যার ওপরও প্রভাব ফেলছে। ২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮০-এর দশকের তুলনায় প্রজননক্ষম অ্যালবেট্রস যুগলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফ্রান্সিকো মনে করেন, বৈশ্বিক ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যত বাড়বে অ্যালবেট্রস পাখিদের সমাজে এমন বিচ্ছেদের গল্পও তত বাড়বে।

শেয়ার করুন