মাছ-মাংস না খাওয়ার দিন আজ

মাছ-মাংস না খাওয়ার দিন আজ

ভিগানিজম চর্চাকারীরা বলছেন, এই খাদ্যাভাসের ভালো দিক হলো, আপনি নিজেকে রোগমুক্ত রাখতে পারবেন। নিরামিষ খাবার আপনার শরীরে জোগাবে বেশি পরিমাণ তন্তু বা আঁশ (ফাইবার) আর ন্যূনতম কোলেস্টেরল, যা সুস্থ রাখে মানবশরীরের হৃদযন্ত্রকে। রক্তের চাপ থাকবে নিয়ন্ত্রিত আর মুটিয়ে যাওয়ায় থাকবে না কোনো ভয়।

ভিগান শব্দটিকে বাংলায় প্রকাশ করতে গিয়ে ভালোই বেগ পেতে হচ্ছে। ধরেন, শাকসবজি বাদে মাছ, মাংস কিছুই খান না আপনি। তার মানে সহজ, আপনি নিরামিষভোজী।

আপনি যখন মাছ-মাংসও বাদ দিলেন, আবার দুধ-ডিম না খাওয়ারও পণ করেছেন, শুধু তাই নয়, দুধ-ডিমের তৈরি কোনো খাবারই খাবেন না, তখনই আপনি নিরামিষভোজীদের চেয়েও একধাপ ওপরে। তখন আপনাকে ডাকা হবে ‘ভিগান’।

নিত্যদিনের জীবনে যারা এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলেছেন, আজকের দিনটি তাদের। কারণ প্রতিবছর ১ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ‘ভিগান দিবস’ হিসেবে।

ভিগানিজম চর্চাকারীরা বলছেন, এই খাদ্যাভাসের ভালো দিক হলো, আপনি নিজেকে রোগমুক্ত রাখতে পারবেন। নিরামিষ খাবার আপনার শরীরে জোগাবে বেশি পরিমাণ তন্তু বা আঁশ (ফাইবার) আর ন্যূনতম কোলেস্টেরল, যা সুস্থ রাখে মানবশরীরের হৃদযন্ত্রকে। রক্তের চাপ থাকবে নিয়ন্ত্রিত আর মুটিয়ে যাওয়ায় থাকবে না কোনো ভয়।

ভিগানরা মনে করেন, মানুষের এই চর্চার জন্য প্রাণীরা তাদের ধন্যবাদ বার্তা পাঠাতে না পারলেও ঠিকই ধন্যবাদ জানায়। আর প্রাণিপ্রেমীদের কাছে ভিগানরা হলেন পরম বন্ধু। প্রাণিজগৎ রক্ষায় তারা রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এদিন বিশ্বজুড়ে ভিগান সংগঠনগুলো সচেতনতা বাড়াতে গ্রহণ করে নানা পদক্ষেপ। যুক্তরাজ্যে সাধারণ মানুষের জন্য তারা শিক্ষামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি আয়োজন করে কর্মশালার। ভিগানিজমকে প্রতিদিনের যাপনে যুক্ত করতে অন্তত ১ নভেম্বর নিরামিষভোজী হয়ে প্রাণিজ খাবার বাদ দিতে বিশ্ববাসীর কাছে আকুতি জানান তারা।

প্রাণিজ বাদ দিয়ে শুধু উদ্ভিজ খাবার গ্রহণের চিন্তা নিয়ে ১৯৪৪ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় যুক্তরাজ্য ভিগান সোসাইটি। ৫০ বছর পর ১৯৯৪ সালে নিজেদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করে সংগঠনটি। সেদিন ১ নভেম্বরকে বিশ্ব ভিগান দিবস হিসেবে পালনের দাবি তোলেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট। সেই থেকে এই দিনটি বিশ্ব ভিগান দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে দেশে দেশে।

সংগঠনটি বলছে, দিনটি উদযাপনের প্রধান কারণ প্রাণীর জন্য ভালোবাসা। পশুজাত পণ্যের সংখ্যা কম মানে গ্রিন হাউস গ্যাসের উৎপাদনও কম, আর গোটা বিশ্বের জন্য মঙ্গল। সেই সঙ্গে প্রাণিজ পণ্য গ্রহণ না করা শরীরের জন্যও ভালো। ‘ইটস আ উইন-উইন-উইন’।

আনুমানিক ২ হাজার বছর ধরে মানবসমাজে এই চর্চার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। তবে ৫০০ বছর ধরে এই চর্চা গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকে গ্রিক দার্শনিক ও গণিতবিদ পিথাগোরাস যখন ভিগানিজমকে নিজের জীবনের অংশ করে নিলেন, তার দেখাদেখি আরও অনেকে উজ্জীবিত হয়েছিলেন।

গৌতম বুদ্ধের অনুসারীদের অনেকে ভেগানিজম চর্চা করেন। কারণ, ‘প্রাণী হত্যা মহাপাপ’ বুদ্ধের মূল বাণীর একটি।

দিন দিন বাড়ছে ভিগানদের সংখ্যা। পরিবেশ বাঁচানোর আর জীববৈচিত্র্য রক্ষার চিন্তা যাদের ভাবিয়ে তুলছে, তারাই ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে ভিগানদের দলে। লাইফস্টাইলবিষয়ক ম্যাগাজিন ভিওইউ জানিয়েছে, বিশ্বে ভিগানদের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে বলেও দাবি করেছে ম্যাগাজিনটি।

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড-এর গবেষণা তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পৃথিবী নামের গ্রহের ওপর প্রভাব কমাতে হলে ভিগানিজম হলো ‘একমাত্র বৃহত্তম উপায়’।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হালকা খাবারে মিটবে বেশি খিদে

হালকা খাবারে মিটবে বেশি খিদে

অল্প অল্প ক্ষুধায় হালকা খাবার দেবে স্বস্তি। ছবি: সংগৃহীত

অনেকের কিছুক্ষণ পর পরই হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে। তাই তারা ক্ষুধা লাগলেও চিপস বা বিস্কুটজাতীয় খাবার খেয়ে ফেলেন। এসব খাবার বেশিক্ষণ পেটে থাকে না।

নানা ব্যস্ততায় মাঝেমধ্যে দেখা যায়, অনেকেই ঠিক সময়ে খাওয়ার সুযোগ পান না। পরে বেশি ক্ষুধা লাগলে হাতের কাছে যা পান তা-ই খেয়ে কাজ চালিয়ে নেন। এটি একেবারেই অনুচিত।

কিছু খাবার আছে, যা খেলে হয়তো সাময়িকভাবে পেট ভরবে, কিন্তু এতে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজের প্রতিবেদনে এমন কিছু খাবারের কথা জানানো হয়েছে। চলুন সেগুলো কী কী জেনে নেয়া যাক-

ফল

খালি পেটে ফল খাওয়া উচিত নয়। ফল সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই ক্ষুধা লাগলে ফল খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুধা তো মেটেই না, বরং আরও বেড়ে যায়। তাই ফলের পাশাপাশি সব সময় প্রোটিনজাতীয় কিছু খাওয়া উচিত। এর মধ্যে বাদাম, পিনাট বাটার, পনির বা যেকোনো কার্বোহাইড্রেট খেতে পারেন।

ঝাল খাবার

অনেক সময় দেখা যায়, স্বাভাবিক খাবার খেতে বিলম্ব হয়ে যায়। ফলে ক্ষুধা মেটানোর জন্য যেকোনো খাবারই খেয়ে ফেলেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ঝালজাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত।

কারণ ঝাল মুখরোচক হলেও এ ধরনের খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে। ঝালের জন্য যেসব মসলা ব্যবহার করা হয়, সেগুলো পাকস্থলীর আবরণের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ঝাল খাওয়ার আগে অন্য কিছু খেয়ে নেয়া উচিত।

চা বা কফি

চা আর কফি ক্যাফেইনে পরিপূর্ণ থাকে, যা অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি করে। স্বাভাবিক ক্ষুধায়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এ ধরনের পানীয়। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে কফি পান করা অনুচিত। এ ক্ষেত্রে সালাদ, সিদ্ধ ডাল বা মুরগির মাংস খেতে পারেন। তবে মাংস কম মসলাদার হওয়াই ভালো।

চিপস বা বিস্কুট

অনেকের কিছুক্ষণ পর পরই হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে। তাই তারা ক্ষুধা লাগলেও চিপস বা বিস্কুটজাতীয় খাবার খেয়ে ফেলেন। এসব খাবার বেশিক্ষণ পেটে থাকে না।

কারণ খাবারগুলোতে থাকা কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে ক্ষুধা দ্রুত ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ক্যালরি পাওয়া যায়- এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

দিনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের

দিনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামায় গোটা বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রান্না করা যায়, তা নিয়ে নিমগ্ন গবেষণা করছিলেন এক প্রকৌশলী। তার নাম পার্সি স্পেন্সার। তারপর নানা গবেষণা পেরিয়ে, ১৯৬৭ সালে বাজারে ছাড়া হয় রান্নার উপযোগী ওভেন।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ তার শক্তি হারিয়ে রূপ নিয়েছে নিম্নচাপে। কিন্তু তার প্রভাব আছে প্রকৃতিতে। সারাদিন ধরে ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টিস্নাত এমন দিনে আলস্যকে পিছনে ফেলে অনিচ্ছাতেও কাজে গেছেন অনেকে।

কিন্তু কাজ শেষে অঘ্রাণের বৃষ্টি গায়ে মেখে যারা ঘরে ফিরবেন, তাদের অনেকের রান্নার ইচ্ছেটা তখন উবে যাবে। অগত্যা ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা খাবার গরম করে খেয়ে নেয়া ছাড়া আর উপায় কী! তখনই ভরসার নাম মাইক্রোওয়েভ ওভেন।

রান্নাঘরের প্রভাবশালী এই সরঞ্জামটি জীবনকে অনেক সহজ করেছে। আর তাই প্রতি বছরের ৬ ডিসেম্বরকে বেছে নেয়া হয়েছে মাইক্রোওয়েব ওভেন দিবস উদযাপন।

এই নাগরিক ব্যস্ত জীবনে ঠান্ডা খাবার গরম করে নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় মাইক্রোওয়েভ ওভেন। চকলেট কিংবা মাখন গলানো, পানি গরম করা, কেকসহ নানা উপাদেয় খাবার তৈরিতে এই যন্ত্রটির জুড়ি মেলা ভার।

প্রচলিত ওভেনের চেয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের চাহিদাটা বেশি। তার মূল কারণ, মাইক্রোওয়েভে শক্তি অপচয় হয় অনেক কম। যা কখনও কখনও ৮০ শতাংশ কম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামায় গোটা বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রান্না করা যায়, তা নিয়ে নিমগ্ন গবেষণা করছিলেন এক প্রকৌশলী। তার নাম পার্সি স্পেন্সার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার ছিল না। স্বশিক্ষিত প্রকৌশলীর তকমা তিনি ঠিকই পেয়েছেন।

১৯৪৫ সালে রেথিয়ন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন স্পেন্সার। অ্যাক্টিভ রাডার নিয়ে কাজ করার সময় হুট করে টের পেলেন পকেটে থাকা একটি ক্যান্ডিবার গলে যাচ্ছে।

ওই ঘটনা নতুন করে ভাবতে শেখাল তাকে। মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে পপকর্ন তৈরি করলেন তিনি। এরপর মাথায় এল ডিম রান্নার কথা। চেষ্টাও করলেন। কিন্তু পপকর্নে যতটা সাফল্য পেলেন, ডিমের ক্ষেত্রে ততটাই ব্যর্থ। ব্যর্থতাকে উপহাস করলেন তার সহকর্মীরা, তারা তাকালেন বাঁকা চোখে।

তুচ্ছ, তাচ্ছিল্যে দমবার পাত্র ছিলেন না স্পেন্সার। এক পর্যায়ে ধাতব বাক্সের মধ্যে ম্যাগনেট্রনের শক্তি উৎপন্ন করে, তা আটকে রাখতে সক্ষম হন তিনি। দেখলেন, ওই বক্সে রাখা খাবার দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে।

স্পেন্সারের সাফল্যের পর ১৯৪৫ সালের ৮ অক্টোবর মাইক্রোওয়েভ ওভেনের পেটেন্ট জমা দেয় রেথিয়ন। ১৯৪৭ সালে রাডারেঞ্জ মাইক্রোওয়েভ নিয়ে আসে তারা। যা প্রায় লম্বায় ছয় ফুট। মূল্য ধরা হয় পাঁচ হাজার ডলার।

১৯৫৫ সালে টাপ্পানের সঙ্গে নিজেদের পেটেন্ট আউটসোর্স করে রেথিয়ন। তারা এক হাজার ২৯৫ ডলারের মধ্যে একটি ওভেন তৈরি করে। তবে সেটা গার্হস্থ্য ব্যবহারের উপযোগী ছিল না।

তারপর নানা গবেষণা পেরিয়ে, ১৯৬৭ সালে ৪৯৫ ডলারে একটি কাউন্টারটপ মাইক্রোওয়েভ ছাড়ে রেথিয়ন। তার কিছুদিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান লিট-অন বাজারে আনে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। সেই ডিজাইনটি আসলে মানুষ গ্রহণ করেছে। আজকের আধুনিক সময়েও যেসব ওভেন দেখা যায়, তার সবকটা লিটঅনের ডিজাইন অনুযায়ী।

১৯৭১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ হাজার মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারকারী পাওয়া যায়। কিন্তু তার চার বছরের মধ্যে অর্থ্যাৎ ১৯৭৫ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ লাখে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেনকে শুধু কেক বানানো আর খাবার গরমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কিছু নেই। ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার ডটকম বলছে, ক্রিসপি ব্যাকন, চকোলেট গলানো, সবজি সিদ্ধ, বাদামী চিনি নরম করা, হার্বস শুকিয়ে নেয়া এবং কাঁচের বৈয়ামে সেঁটে দেয়া লেবেল উঠিয়ে নিতেও ওভেন খুব কাজের যন্ত্র।

তবে যাই করুন না কেন, ওভেন পরিষ্কার রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্যও আছে টোটকা। গরম সাবান জলে তোয়ালে ভিজিয়ে মুছে নিন ওভেন। তাতে বিভিন্ন স্থানে লেগে থাকা খাদ্য কণা বা ময়লা উঠে আসবে অনায়াসে। তারপর শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

শীতকালে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

শীতকালে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

গাজর, মুলা, বিট ও শালগমের মতো মূলজাতীয় সবজি শীতকালীন খাবার হিসেবে আদর্শ। এগুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে কাজ করে। শীতের সময় ফিট থাকতে নিয়মিত এ ধরনের সবজি খাওয়া জরুরি।

বছরের অন্য সময়ের থেকে শীতকাল কিছুটা সংবেদনশীল। কারণ আবহাওয়াজনিত কারণে এ সময় মানুষের নানা ধরনের অসুখ হয়। এর মধ্যে চামড়া ফাটা, সর্দি-কাশি ও জ্বর অন্যতম। এসব থেকে বাঁচতে অনেকেই ছোটেন ডাক্তারের কাছে।

তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী মেরিল্যান্ড পেইন অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শীতকালে খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখলেই সুস্থ থাকার নিয়মকানুন। তাই অসুস্থতার হাত থেকে বাঁচতে এ সময় কোন কোন খাবারগুলো খাবেন চলুন জেনে নেয়া যাক।

ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার

শীতকালে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণে সাইট্রাস জাতীয় ফলের বিকল্প নেই। শীতের সময় বেশি বেশি লেবু, পেয়ারা, কমলা ও নেক্টারের মতো ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর জোগান দেয়ার পাশাপাশি ফাইবারের ঘাটতিও মেটায়।

স্যুপ

কনকনে শীতে শরীর চাঙা রাখতে অত্যন্ত উপকারী ও উপাদেয় একটি খাবার হলো স্যুপ। বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মাংস দিয়ে বানানো স্যুপ শরীরের পুষ্টির ঘাটতিও পূরণ করবে।

ঘি
দুগ্ধজাতীয় খাবার হওয়ায় অনেকেই মনে করেন ঘি খেলে ওজন বেড়ে যায়। তবে শীতকালে সুস্থ থাকার জন্য ঘি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঘি এমনসব উপাদানে পরিপূর্ণ, যা অস্থিসন্ধির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতারও উন্নতি করে। এ ছাড়া শীতকালে ত্বক বিবর্ণ ও শুষ্ক হয়ে যায়। এ সমস্যা কাটাতেও ঘি কার্যকর।

মধু

সুস্থ থাকতে শীতকালসহ অন্য সময়ও চিনি খাওয়া উচিত নয়। এর বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। মধু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ। এসব পদার্থ শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া মধু ঠান্ডায় শরীর গরম রাখতেও ভূমিকা রাখে।

পালং শাক

পালং শাককে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ডিপো বলা হয়। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলে। ক্যানসার প্রতিরোধেও পালং শাক কার্যকর। এসব উপকার ছাড়াও এই শাক শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে সহায়তা করে।


মূলজাতীয় সবজি

গাজর, মুলা, বিট ও শালগমের মতো মূলজাতীয় সবজি শীতকালীন খাবার হিসেবে আদর্শ। এগুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে কাজ করে। শীতের সময় ফিট থাকতে নিয়মিত এ ধরনের সবজি খাওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

অতিরিক্ত চা পানের বিপদ

অতিরিক্ত চা পানের বিপদ

অধিক চা পান শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর। প্রতিদিন বেশি বেশি চা পান থেকে তৈরি হতে পারে নানা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।

চা পান করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণে চা পানের সুফল থাকলেও অতিরিক্ত চা পান হতে পারে বড়সড় সমস্যার কারণ।

অনেকের কাছেই চা এক ধরনের নেশার মতো। প্রতিদিন বেশ কয়েক কাপ চা না পেলে যেন দিনই পূর্ণ হয় না। কিন্তু স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী হেলথলাইন ডটকমের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, অধিক চা পান শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর।

প্রতিদিন বেশি বেশি চা পান থেকে তৈরি হতে পারে নানা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। ক্ষতিকর দিকগুলো কী তা জেনে নেয়া যাক।

ঘুমের জটিলতা

গবেষণায় দেখা গেছে, চা পানের অভ্যাস আছে এমন বেশির ভাগ মানুষের অনিদ্রা রোগের অন্যতম কারণ হলো চা। চায়ে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে। যা মস্তিষ্ক উত্তেজিত রাখতে কাজ করে এবং মেলাটোনিন হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

মানসিক সমস্যা

স্বাভাবিক মাত্রার অধিক চা পানে মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। এতে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ে। তবে ভেষজ চা বা ক্যামোমাইল ও গ্রিন টিতে এসব সমস্যা নেই। গ্রিন টি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই বেশি বেশি সাধারণ চা পানের চাইতে পরিমাণমতো ভেষজ চা পান করতে চেষ্টা করুন।

পুষ্টিতে প্রতিবন্ধকতা

চায়ে অধিক পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে, যা হজমে সমস্যা তৈরি করে। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে শরীরে পুষ্টি শোষণের মাত্রা কমে যায়। এ ছাড়া ক্যাফেইনের পাশাপাশি চায়ে ট্যানিন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে, যা খাবার থেকে লৌহ শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। চা পানের অভ্যাস থাকলে তা খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পান করা উচিত নয়।

অ্যাসিডিটি

চায়ে বিদ্যমান ক্যাফেইন এক ধরনের অ্যাসিড তৈরি করে। এর থেকে পেট ফুলে যাওয়া, বুক জ্বালাপোড়াসহ অস্বস্তির মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা খাদ্যনালির দিকে পাকস্থলীর অ্যাসিড ঠেলে দেয়ার পেছনেও অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চা পান।

গর্ভবতী নারীদের সমস্যা

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চা পান মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকির কারণ। এতে শিশুর নানা রকম শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

মাথাব্যথা

অনেকে মনে করেন, চা পান মাথাব্যথার টনিক হিসেবে কাজ করে। ক্ষেত্রবিশেষে এটি একটি ভুল ধারণা। কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ মাথাব্যথা কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে দিতে পারে। আর চা পান যদি অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায় তখন বেশিক্ষণ চা না খেয়ে থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে।

বমিভাব

চায়ে এক ধরনের কষভাব থাকে, যা হজমে সমস্যা তৈরি করে। আর ঠিকমতো খাবার হজম না হওয়ার ফলে বমিভাব হয়। এ ছাড়া মাথার যন্ত্রণা থেকেও বমিভাব হতে পারে।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, 
থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

চীনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত রোবট মাছ। ছবি: ডেইলি মেইল

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অতি ক্ষুদ্র রোবটটি দেখতে ঠিক মাছের মতো। ক্যানসার প্রতিরোধে এবার এই রোবট মাছকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। কেমোথেরাপির সঙ্গে এই বস্তুটিকে সরাসরি টিউমারে পাঠানো হবে। কেমোথেরাপিতে শরীরে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, এই পদ্ধতিতে তা থেকে মুক্তি পাবেন রোগীরা।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি ক্ষুদ্র রোবট মাছগুলো আয়তনে এক মিলিমিটারের ১০০ ভাগের এক ভাগের সমান। বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে একটি জেল থেকে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এক দল চীনা বিজ্ঞানী। ভিন্ন পিএইচ মাত্রায় গেলে এরা আকৃতি পরিবর্তন করে।

আবিষ্কারের পর রোবট মাছটিগুলোকে আয়রন অক্সাইড সল্যুশনে চুবিয়ে রেখে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, এগুলোর মধ্যে চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেমো চিকিৎসায় এই চৌম্বক শক্তিকেই কাজে লাগানো হবে।

ক্যানসার চিকিৎসায় এই মাছগুলোকে প্রথমে রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে চৌম্বক শক্তি এদের নিয়ে যাবে টিউমারের কাছে।

ক্যানসার কোষগুলো টিউমারের চারপাশের রক্তরসে থাকা পিএইচ লেভেলকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কেমোর ওষুধ নিয়ে সেখানে হাজির হবে রোবট মাছ। পরে ভিন্ন পিএইচ মাত্রার সংস্পর্শে যাওয়ায় এগুলোর আকৃতির পরিবর্তন ঘটবে। এক পর্যায়ে এরা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেমোর ওষুধ মুখ হা করে ছেড়ে দেবে।

প্রাথমিকভাবে মাছগুলোর এমন আচরণ কাচের পাত্রে পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এগুলোর আকৃতি আরও ছোট করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শারীরিক অস্বস্তি ও চুল পড়ে যাওয়া এর অন্যতম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোবট মাছ শুধু ক্যানসার কোষগুলোকেই নিশানা করবে, এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকবেন রোগীরা।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

ফল ও সবজির আর্ট

ফল ও সবজির আর্ট

প্রথমে তিনি গ্রোসারি দোকান থেকে বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি কিনে আনেন। তারপর সেগুলোতে খোদাই করে করে নানা রকম আকর্ষণীয় প্যাটার্ন তৈরি করেন। এর মধ্যে জ্যামিতিক ডিজাইন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী মোফিট এবং পশুপাখির আকৃতিও থাকে।

উপকরণ শুধু একটি জাকটু ছুরি আর কিছু ফল-সবজি। জাপানের শিল্পী গাকু এই ছুরি দিয়েই ওই ফল ও সবজিতে খোদাই করে করে তৈরি করছেন অভূতপূর্ব সব ভাস্কর্য। যদিও ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তৈরি করার পর ওই ফল বা সবজিগুলোর সৌন্দর্য দেখে আশ্চর্য না হয়ে উপায় নেই। অডিটি সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গাকু জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য-খোদাই আর্ট মুকিমোনো থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই কাজগুলো করতে আগ্রহী হয়েছিলেন।

প্রথমে তিনি গ্রোসারি দোকান থেকে বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি কিনে আনেন। তারপর সেগুলোতে খোদাই করে নানা রকম আকর্ষণীয় প্যাটার্ন তৈরি করেন। এর মধ্যে জ্যামিতিক ডিজাইন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী মোফিট এবং পশুপাখির আকৃতিও থাকে। এসব করতে সবার প্রথমে দরকার হয় অসীম ধৈর্যক্ষমতা।

তবে গাকুর বিশেষত্ব হলো তার দ্রুতগতি। অসাধারণ দ্রুততার সঙ্গে তিনি এই কাজগুলো করতে পারেন। যেখানে একটু এদিক-ওদিক হলে সব নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে তিনি এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজগুলো করেন যে, চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতে হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি কাজ শেষ করে সেগুলোকে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত করে ফেলতে পারেন। এই দ্রুতগতি তাকে রপ্ত করতে হয়েছে কারণ, ফলমূল ও সবজিগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই লালচে হয়ে যায়। লালচে হওয়ার আগেই দ্রুত কাজ শেষ করেন তিনি।

ফল ও সবজির আর্ট

ফল ও সবজির আর্ট

ফল ও সবজির আর্ট

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

গাড়িতে যাত্রী বসার সিটের পাশাপাশি মিনি গলফ কোর্স, জ্যাকুজ্জি বাথটাব, ফ্রিজ-টিভি, টেলিফোন, সুইমিংপুল এমনকি হেলিপ্যাড পর্যন্ত ছিল। এর বনেটটিকে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

‘দি আমেরিকান ড্রিম’- এই নামেই পরিচিত ছিল এই অতিকায় লিমুজিন গাড়িটি। ১৯৮৬ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডস রেকর্ডেও নাম উঠেছিল। একটি সাধারণ গাড়ির দৈর্ঘ্য যেখানে ১৪ থেকে ১৫ ফিট হয়, সেখানে এই গাড়িটির দৈর্ঘ্য ছিল- ১০০ ফিট! গঠন ও গড়নে গাড়ি না হলে, একে নির্ঘাত একটি ট্রেন বলে চালিয়ে দেয়া যেত।

হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আকার-আকৃতিতে দৈত্যাকার হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক অবাক করা বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল ‘দি আমেরিকান ড্রিম’।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

এতে যাত্রী বসার সিটের পাশাপাশি মিনি গলফ কোর্স, জ্যাকুজ্জি বাথটাব, ফ্রিজ-টিভি, টেলিফোন, সুইমিংপুল এমনকি হেলিপ্যাড পর্যন্ত ছিল। এর বনেটটিকে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এককথায় আজকাল আমরা দামি বিলাসবহুল গাড়ি বলতে যা বুঝি তার চেয়েও অধিক ছিল ওয়ান্ডার কার দি আমেরিকান ড্রিম। অনায়াসে একসঙ্গে ৭০ জন মানুষ ভ্রমণ করতে পারত।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

এই গাড়িটি কোনো গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিজাইন করেনি। জে ওরবার্গ নামের এক লোক এটি ডিজাইন করে সিনেমায় ব্যবহারের জন্য। ওরবার্গ সে সময়ে হলিউড সিনেমার গাড়ি ডিজাইনের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি এই গাড়িটি ডিজাইন করেন ১৯৮০ সালে।

আমেরিকান ড্রিম মূলত ক্যাডিলাক এলডোরাডো লিমুজিন ১৯৭৬-এ নির্মিত। এটি বানাতে টানা ১২ বছর সময় লাগে। পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলে ১৯৯২ সালে এই লিমুজিনটি প্রথমবারের মতো চালানোর জন্য রাস্তায় নামানো হয়। এতে ২৬টি চাকা ছিল এবং উভয় দিক থেকেই চালানো যেত। এটি চালাতে অনেক ৮ভি ইঞ্জিনের শক্তি লাগত। আরও মজার ব্যাপার হলো- এত লম্বা গাড়ি হওয়ার পরও গাড়িটিকে মাঝখান থেকে বাঁকা করে ডান-বামে ঘোরানো যেত।

বেশ কয়েকটি সিনেমায় দি আমেরিকান ড্রিমকে ব্যবহার করা হয়। এমনকি ধনী লোকেরা প্রমোদভ্রমণের জন্যও এটি ভাড়া নিত। যার জন্য সেই সময়ই ঘণ্টাপ্রতি তাদের গুনতে হতো প্রায় ১৬ হাজার টাকা। তবে দুঃখের বিষয় হলো- একসময় ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে থাকে। সিনেমাগুলোতেও এত বড় গাড়ি ব্যবহারের আবেদন শেষ হয়ে যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

ফলে এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরকার ছিল তা কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি। ২০১২ সালে দি আমেরিকান ড্রিমের চাকা সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়। কিছু অংশ বাদে গাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে খুশির কথা হলো- আমেরিকান ড্রিমকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে ২০১৯-এ। যদিও করোনা মহামারির কারণে কাজ থমকে গিয়েছিল। গাড়িপ্রেমীরা আশা করছেন, খুব দ্রুতই গাড়িটিকে আবারও রাস্তায় দৌড়াতে দেখা যাবে।

আরও পড়ুন:
আদরের শেখ রাসেল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট
জন্মদিনের শ্রদ্ধা: উদয়ের আগে হারানো নক্ষত্র
শ্রীহীন ডাকঘর
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শেয়ার করুন