২০০ বছরেও ‘স্বাদ বদলেনি’ মণ্ডার

২০০ বছরেও ‘স্বাদ বদলেনি’ মণ্ডার

ময়মনসিংহের মণ্ডাপ্রেমীরা জানান, এর স্বাদ এখনও আছে ২০০ বছর আগের মতোই। ছবি: নিউজবাংলা

‘দূর থেকে ময়মনসিংহে কেউ বেড়াতে এলে আমাদের আসল মণ্ডার স্বাদ পেতে এই দোকানে চলে আসেন। আমরা এখনও মণ্ডার আগের স্বাদ ধরে রাখায় ক্রেতার কমতি নেই।’

‘মণ্ডা’ নামটি মুখে আসলেই ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মণ্ডার নাম চলে আসে। সারা দেশে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে মণ্ডা পাওয়া গেলেও এখানকার মণ্ডার স্বাদের কথাই সবাই বলে। ১৮২৪ সাল থেকে এই সুনাম ধরে রেখেছে এখানকার কারিগররা।

মুক্তাগাছার মণ্ডার উদ্ভাবক গোপাল পাল। তার প্রতিষ্ঠিত মণ্ডার দোকানে প্রায় ২০০ বছর ধরে মণ্ডা তৈরির ব্যবসা চলছে বংশানুক্রমে। এখন পঞ্চম পুরুষের ব্যবসা।

তবে মণ্ডার প্রসারের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন মুক্তাগাছার জমিদারেরা। মুক্তাগাছা পৌর শহরে জমিদারবাড়ীর কাছে পূর্বদিকে রাম গোপাল পাল বা গোপাল পালের মণ্ডার দোকান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর পর ক্রেতা আসছেন মণ্ডা কিনতে।

কয়েকজন দোকানের ভেতরে বেঞ্চে বসে মণ্ডা খাচ্ছেন। কেউ আবার মণ্ডা প্যাকেট করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে ক্রেতাদের আসা-যাওয়ার মধ্যে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ শহরে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন আব্দুল আলিমসহ তার পাঁচ সদস্যের পরিবার। আসল মণ্ডার স্বাদ পেতে তিনি চলে আসেন মুক্তাগাছায়। মণ্ডা কেনার সময় কথা হয় তার সঙ্গে।

আব্দুল আলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ময়মনসিংহে যখনই আসি, মুক্তাগাছার মণ্ডা খেয়ে তৃপ্তি পাই। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মণ্ডা পাওয়া গেলেও এই মণ্ডার স্বাদের সঙ্গে মেলে না। ফলে সপরিবারে মণ্ডা খেয়ে ৫৬০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি কিনে বাসায় নিচ্ছি।’

২০০ বছরেও ‘স্বাদ বদলেনি’ মণ্ডার

মণ্ডার দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মুক্তাগাছা পৌর এলাকার বয়োবৃদ্ধ জমশের আলী।

মণ্ডা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের মুক্তাগাছা উপজেলা সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে এই মণ্ডার কারণে। ঐতিহ্যবাহী এই মণ্ডা একচেটিয়া বিক্রি হয়। ফলে উপজেলাজুড়ে কমপক্ষে ছয় থেকে সাতটি মণ্ডার দোকান গড়ে উঠেছে। তবুও দূর থেকে আসা ক্রেতারা খুঁজে খুঁজে পুরাতন এই দোকানেই চলে আসেন।’

জনশ্রুতি আছে, গোপাল পাল স্বপ্নে প্রায়ই এক সাধুর দেখা পেতেন। স্বপ্নে সাধু তাকে মণ্ডা তৈরির নিয়ম শেখাতেন। প্রায় রাতেই সাধু মণ্ডা তৈরির নিয়ম বলতেন। সর্বশেষ এক রাতে মণ্ডা তৈরির শেষ নিয়মটি শেখালেন এবং বললেন, ‘তুই এই মণ্ডার জন্য অনেক খ্যাতি অর্জন করবি। তোর মণ্ডার সুখ্যাতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।’

গোপাল পাল স্বপ্নে মণ্ডা তৈরির পদ্ধতি পেয়ে মণ্ডা বানিয়ে প্রথমেই খাওয়ান মুক্তাগাছার জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীকে। মণ্ডা খেয়ে তৃপ্তি পেয়ে নিয়মিত মণ্ডা দিতে বলেন। মহারাজা সূর্যকান্তের ছেলে শশীকান্তও মণ্ডা খুব পছন্দ করতেন। সেই থেকে আজ অবধি বংশপরম্পরায় মণ্ডা তৈরি হচ্ছে।

দোকানে থাকা একটি পুস্তিকা থেকে জানা যায়, মণ্ডার কারিগর গোপাল পাল ১৭৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার আদি নিবাস মুর্শিদাবাদে। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের পর মুর্শিদাবাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। তখন গোপাল পালের বাবা রাম পাল প্রাণভয়ে পালিয়ে মালদহ হয়ে বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহীতে চলে আসেন। এরপর সেখান থেকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার তারাটি গ্রামে নতুন করে বসবাস শুরু করেন।

২০০ বছরেও ‘স্বাদ বদলেনি’ মণ্ডার

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গোপাল পালের বংশধররা শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেন। সেখানেও তারা মণ্ডা তৈরি করেন। কিন্তু ভারতের আবহাওয়া বাংলাদেশের মণ্ডার বিশেষ উপযোগী ছিল না। তাই আগের স্বাদ আর হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তাগাছায় ফিরে এসে সেই একই স্থানে মণ্ডা তৈরি আরম্ভ করেন তারা। ১০৮ বছর পর ১৯০৭ সালে মারা যান সুস্বাদু এই মণ্ডার উদ্ভাবক গোপাল পাল।

পাকিস্তান আমলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দোকানে বসে মণ্ডা খেয়ে সুনাম করেছেন।

মণ্ডা বিক্রির ফাঁকে কথা হয় দোকানের ম্যানেজার আশিষ দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি দুই বছর যাবৎ এই মণ্ডার দোকানে চাকরি করি। করোনার সময় কিছুদিন দোকান বন্ধ ছিল। তখনও মণ্ডার স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ক্রেতা দোকানে এসে ফোন দিয়েছেন। এতেই বোঝা যায় এই মণ্ডার জনপ্রিয়তা কত।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ক্রেতারা এসে মণ্ডা খাওয়ার পাশাপাশি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণ্ডা বিক্রি করতে সারা বছর ব্যস্ত সময় পার করি।’

গোপাল পালের দোকানটি পঞ্চম বংশধর রমেন্দ্র নাথ পালের মৃত্যুর পর পরিচালনা করছেন রমেন্দ্রর ছোট ভাই রবীন্দ্র নাথ পাল, রথীন্দ্র নাথ পাল, শিশির কুমার পাল ও মহির কুমার পাল।

২০০ বছরেও ‘স্বাদ বদলেনি’ মণ্ডার

গোপাল পালের বংশধর রবীন্দ্র নাথ পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা, ইফতার পার্টিসহ যেকোনো ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের মণ্ডা একচেটিয়া বিক্রি হয়। বাংলাদেশের কোথাও আমাদের কোনো শাখা, এজেন্ট, শোরুম, বিক্রয়কেন্দ্র বা বিক্রয় প্রতিনিধি নেই। দূর থেকে ময়মনসিংহে কেউ বেড়াতে এলে আমাদের আসল মণ্ডার স্বাদ পেতে এই দোকানে চলে আসেন। আমরা এখনও মণ্ডার আগের স্বাদ ধরে রাখায় ক্রেতার কমতি নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি মণ্ডার দাম ৫৬০ টাকা। প্রতি কেজিতে ২০টি মণ্ডা পাওয়া যায়। দুধের ছানা ও চিনি দিয়ে মণ্ডা তৈরি হয়। তবে ব্যবসার স্বার্থে মণ্ডা তৈরির কৌশল কাউকেই বলা হয় না। আমাদের বংশপরম্পরায় এই মণ্ডার প্রাচীন স্বাদ বজায় থাকবে যুগ যুগ ধরে।’

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেন্ট মার্টিন থেকে ফিরছেন আটকাপড়া পর্যটকরা

সেন্ট মার্টিন থেকে ফিরছেন আটকাপড়া পর্যটকরা

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফ উপজেলার ইউএনও পারভেজ চৌধুরী জানান, সাগর শান্ত হওয়ায় মঙ্গলবার সেন্ট মার্টিনে পর্যটক নিয়ে যায় পাঁচটি জাহাজ। ফিরতি পথে তারা দুই দিন ধরে আটকে থাকা তিন শতাধিক পর্যটক নিয়ে রওনা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এর কারণে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আটকা পড়া তিন শতাধিক পর্যটক নিয়ে রওনা হয়েছে পাঁচটি জাহাজ।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের নিয়ে চারটি জাহাজ টেকনাফ ও একটি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজগুলো টেকনাফ পৌঁছাবে রাত ৮টার দিকে। বাকি জাহাজটি রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছাবে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী।

তিনি জানান, সাগর শান্ত হওয়ায় মঙ্গলবার সেন্ট মার্টিনে পর্যটক নিয়ে যায় পাঁচটি জাহাজ। ফিরতি পথে তারা দুই দিন ধরে আটকে থাকা তিন শতাধিক পর্যটক নিয়ে রওনা হয়েছে। পর্যটকদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তা খেয়াল রাখছেন তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের ট্রাফিক সুপারভাইজার জহির উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব কেটে যাওয়ায় ৩ নম্বর সতর্কসংকেত নামিয়ে ফেলা হয়েছে। সাগর শান্ত হওয়ায় দুপুরে টেকনাফ থেকে চার জাহাজে ৭০০ পর্যটক দ্বীপে গেছেন। ফিরতি পথে তিন শতাধিক পর্যটক নিয়ে এসব জাহাজ রওনা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় শনিবার পর্যটক নিয়ে ফেরার পর টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে দ্বীপে আটকা পড়েন ওই পর্যটকরা।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

দুদিন পর জাহাজ গেল সেন্টমার্টিনে

দুদিন পর জাহাজ গেল সেন্টমার্টিনে

টেকনাফের ইউএনও পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোররাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে না। সকাল থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই জাহাজ চলতে শুরু করেছে। প্রথম জাহাজ সেন্টমার্টিনে পৌঁছেও গেছে।’

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় দুদিন বন্ধ থাকার পর সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার থেকে পর্যটকদের নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় একটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোররাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে না। সকাল থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই জাহাজ চলতে শুরু করেছে। প্রথম জাহাজ সেন্টমার্টিনে পৌঁছেও গেছে।

‘এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় টেকনাফ থেকে আরও চারটি জাহাজ ঘাট ছেড়ে গেছে। তবে আবহাওয়ার পরবর্তী বুলেটিন জানার জন্য এগুলোকে সমুদ্রে ঢোকার আগে কিছু সময় নাফ নদীতেই রাখি। পরে আবহাওয়া পরিস্থিতি ঠিক থাকায় সবাইকে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ এর কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানোয় রোববার দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন।

এতে সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েন তিন শতাধিক পর্যটক।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার (টুয়াক) জানায়, সকালে ছেড়ে যাওয়া পাঁচটি জাহাজ সেন্টমার্টিন পৌঁছালে আটকা পড়া পর্যটকরা ফিরতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী জানান, রোববার থেকে আর কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে না। সেটা টেকনাফ বা কক্সবাজার থেকে হোক। আবাহাওয়া পরিস্থিতি যতদিন ভালো না হচ্ছে ততদিন এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ এর কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

এ অবস্থায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন।

নিউজবাংলাকে শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী।

তিনি জানান, রোববার থেকে আর কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে না। সেটি টেকনাফ বা কক্সবাজার থেকে হোক। আবহাওয়া পরিস্থিতি যতদিন ভালো না হচ্ছে ততদিন এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ তার দিক সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন না ঘটালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ছাড়া তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে শনিবার নিউজবাংলাকে জানান আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে ৮০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে। এরপর কিছুটা দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে যেতে পারে। তারপর আরও কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টি হবে।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল আছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোনসংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থার (ইএসসিএপি) তালিকা অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘জাওয়াদ’। নামটি প্রস্তাব করেছিল সৌদি আরব।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

নাটোরের কাঁচাগোল্লার কদর বাড়ছেই

নাটোরের কাঁচাগোল্লার কদর বাড়ছেই

নাটোরের কাঁচাগোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

সুস্বাদু মিষ্টি হিসেবে সারা দেশে ও দেশের বাইরে নাটোরের কাঁচাগোল্লা এখনও বিখ্যাত। প্রস্তুতকারকদের দক্ষতার কারণে কাঁচাগোল্লার কদর এখনও অটুট। অন্যান্য মিষ্টির তুলনায় কাঁচাগোল্লার বিক্রি বরাবরই বেশি।

আড়াই শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নাটোরের কাঁচাগোল্লার খ্যাতি এখন আর দেশের সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নেই। নাটোর নামের সঙ্গে প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে এ খাবার। দিন দিন এর কদর বাড়ছে।

কীভাবে এই বিশেষ ধরনের মিষ্টির রেসিপি বা রন্ধনকৌশল তৈরি হলো, সে সম্পর্কে কয়েকটি জনশ্রুতি চালু আছে।

একটি জনশ্রুতিতে বলা হয়: প্রায় আড়াই শ বছর আগে একদিন নাটোরের লালবাজারে মধুসূদন পালের মিষ্টির দোকানে কারিগর না আসায় দোকানে থাকা ছানা নিয়ে বিপাকে পড়েন দোকানি। ছানা রক্ষায় তিনি চিনির রস ঢেলে জাল দেন। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিজেই তা খেয়ে পরীক্ষা করেন। চমৎকার স্বাদ পেয়ে নাম দেন কাঁচাগোল্লা।

অনেকে বলেন, নাটোরের রানি ভবানীর সময়ে কাঁচাগোল্লা তৈরি শুরু হয়। তবে নাটোরের ইতিহাসপ্রণেতা সমর পাল বলেন, ‘বলা হয়, রানি ভবানীর সময়ে মধুসূদন পাল কাঁচাগোল্লার উদ্ভাবক। আমার পূর্বপুরুষরা মূলত নাটোর শহরের প্রথম মিষ্টি ব্যবসায়ী। লালবাজার ও নিচাবাজারে আমাদের স্বজনরাই বিরাট জায়গাজুড়ে ব্যবসা করতেন। রানি ভবানী মারা যান ১৮০২ সালে, আর মধুসূদন পালের জন্ম ১৮৮৫ সালে। ফলে এই জনশ্রুতির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।’

কাঁচাগোল্লা নিয়ে আরেকটি জনশ্রুতি হলো, নাটোর রাজের বড় তরফের রাজা গোবিন্দ্রনাথের স্ত্রী ব্রজসুন্দরীর দত্তকপুত্র মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায় (১৮৬৮-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ) একটু খেয়ালি প্রকৃতির ছিলেন। এক রাতে মিষ্টি খাওয়ার বায়না ধরেন তিনি। ডাকা হয় রাজার মিষ্টি তৈরির কারিগরকে। কিন্তু এত রাতে কোথায় পাওয়া যাবে মিষ্টি? কীভাবেই বা মিষ্টি তৈরি হবে?

নাটোরের কাঁচাগোল্লার কদর বাড়ছেই

কারিগর নিজের বুদ্ধিতে গাভির দুধ সংগ্রহ করে ছানা তৈরি করলেন। এরপর কড়াইয়ে জল-চিনি মিশিয়ে উনুনে কিছুক্ষণ জ্বাল দিলেন। পরে তাতে ছানা ঢেলে দিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু এক নতুন মিষ্টি।

মহারাজা তা খেয়ে দারুণ খুশি। এমন স্বাদের মিষ্টির নাম জানতে চাইলেন তিনি। কোনো কিছু না ভেবেই কারিগর বললেন ‘কাঁচাগোল্লা’।

তবে কাঁচাগোল্লা নিয়ে কোনো গবেষণার কথা শোনা যায় না। এটি তৈরির সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, সেসব কারিগরের উত্তরসূরিদের অধিকাংশই সাতচল্লিশে ‘দেশভাগের’ পর ভারতে চলে যান। তাই কাঁচাগোল্লার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না।

জনশ্রুতি যাই হোক, সুস্বাদু মিষ্টি হিসেবে সারা দেশে ও দেশের বাইরে নাটোরের কাঁচাগোল্লা এখনও বিখ্যাত। প্রস্তুতকারকদের দক্ষতার কারণে কাঁচাগোল্লার কদর এখনও অটুট। অন্যান্য মিষ্টির তুলনায় কাঁচাগোল্লার বিক্রি বরাবরই বেশি।

নাটোরের কাঁচাগোল্লার কদর বাড়ছেই

নাটোরের কাঁচাগোল্লা তৈরির কারিগর সমর চন্দ্র সরকার জানান, রাজারাজড়াদের আমল থেকেই কাঁচাগোল্লা সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। নামে কাঁচাগোল্লা হলেও এ মিষ্টির আকার গোল নয়। ছানা থেকে তৈরি এক ধরনের শুকনা মিষ্টি এটি।

কাঁচাগোল্লা তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সমর চন্দ্র জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে নাটোর শহরের মিষ্টির দোকানগুলোর কারখানায় আসতে থাকে খাঁটি গরুর দুধ। শুরু হয় কাঁচাগোল্লা তৈরির প্রস্তুতি। চুলায় গনগনে আগুনের উত্তাপ ছড়াতে থাকে। সেই সঙ্গে বড় বড় কড়াই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তারপর চুলায় কড়াই বসিয়ে দুধ ঢেলে জাল দেয়া শুরু হয়।

এক থেকে দেড় ঘণ্টা ফুটিয়ে দুধ ঘন করেন কারিগররা। এরপর জাল দেয়া দুধে ছানা তৈরির উপকরণ মিশ্রিত পানি মিশিয়ে নাড়াচাড়া করলেই তৈরি হয় ছানা। পরে গরম দুধ থেকে পানি ফেলে ছেকে নেয়া হয় ছানা।

নাটোরের কাঁচাগোল্লার কদর বাড়ছেই

এক মণ দুধ থেকে সাত থেকে সাড়ে সাত কেজি ছানা হয়। তারপর সেই ছানা চুলা থেকে নামিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। দিনভর ধীরে ধীরে ছানার পানি নেমে যায়। তারপর শুকনা অবস্থায় সেই ছানা নিয়ে মধ্যরাত থেকে শেষ পর্যায়ের কাঁচাগোল্লা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারিগররা। ওজন দিয়ে প্রথমে হাত দিয়ে ছেনে ছানা মিহি করে নেন তারা।

তিন কেজি চিনি ও তরল দুধের সঙ্গে মিহি করা সাত কেজি ছানা আবারও গনগনে চুলায় জ্বাল দেয়া হয়। ১ কেজি কাঁচাগোল্লা তৈরি করতে প্রায় ১ কেজি কাঁচা ছানা ও ৪০০ গ্রাম চিনির প্রয়োজন হয়।

৪০ থেকে ৪৫ মিনিট জ্বাল দেবার পর তা চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করা হয়। কেউ কেউ কাঁচাগোল্লায় ছোট এলাচ ব্যবহার করেন। তবে বেশির ভাগ কারিগর মনে করেন, ছোট এলাচ দেবার ফলে প্রকৃত কাঁচা ছানার ঘ্রাণ ক্ষুণ্ন হয়। এভাবে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টার প্রক্রিয়া শেষে তৈরি হয় নাটোরের কাঁচাগোল্লা।

নাটোরের কাঁচাগোল্লার কদর বাড়ছেই

পরদিন সকাল থেকে তৈরীকৃত কাঁচাগোল্লা বিক্রির জন্য নেয়া হয় মিষ্টির দোকানে। দিন দিন বাড়ছে কাঁচাগোল্লা বিক্রির পরিমাণ। প্রতি কেজির দাম সাড়ে চার শ থেকে ৫০০ টাকা। নাটোরে আসা বিভিন্ন জেলার মানুষ ও পর্যটকরা কিনে নিয়ে যান কাঁচাগোল্লা।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসিবুল হাসান শান্ত জানান, বর্তমানে সব অনুষ্ঠানে কাঁচাগোল্লা দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। তারা সময় পেলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কাঁচাগোল্লা খেতে।

এ ছাড়া নাটোরে বেড়াতে আসা আদিত্য অন্তর জানান, নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা বই পুস্তকে পড়েছেন। নাটোর এসে তিনি এই মিষ্টি খেয়েছেন, যার স্বাদ অতুলনীয়।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, নাটোরের কাঁচাগোল্লার একটি ঐতিহাসিক সুনাম আছে। এর সুনাম যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। মাঝে মাঝে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রায়ই মতবিনিময় সভা করা হয়।

নাটোর শহরে কাঁচাগোল্লার বেশ কয়েকটি প্রসিদ্ধ দোকান আছে। ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে আছে লালবাজারের জয়কালীবাড়ি দোকান, শহরের মৌচাক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও আদি নিমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং শিলা মিষ্টি বাড়িসহ আরও ছোট বড় কয়েকটি দোকান।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

খাবার টেবিলের আদব

খাবার টেবিলের আদব

সাধারণত একজন মানুষ বাসায় যেভাবে খাওয়া-দাওয়া করে সবার সঙ্গে ঠিক একইভাবে নিজের ইচ্ছামতো খেতে পারে না। কারণ তা ব্যক্তিত্বের হানি করে। এ ছাড়া সবার সঙ্গে খেতে বসে যাচ্ছেতাইভাবে খেয়ে উঠে গেলে তা অন্যদের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে।

বহুকাল ধরেই খাবার টেবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। রাজনৈতিক, জাতীয়-আন্তর্জাতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যক্তিগতসহ নানা রকম কাজে মানুষ খাবার টেবিলকে ব্যবহার করেছে।

তাই এ ক্ষেত্রে নানা আদব-লেহাজ মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে সেটি যখন কোনো অনুষ্ঠান বা পেশাদারি জায়গায় হয়।

সাধারণত একজন মানুষ বাসায় যেভাবে খাওয়াদাওয়া করে সবার সঙ্গে ঠিক একইভাবে নিজের ইচ্ছামতো খেতে পারে না। কারণ তা ব্যক্তিত্বের হানি করে।

এ ছাড়া সবার সঙ্গে খেতে বসে যাচ্ছেতাইভাবে খেয়ে উঠে গেলে তা অন্যদের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে।

এমিলিপোস্ট ডটকমের (https://emilypost.com/advice/table-manners) এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে তেমনই কিছু আদবের কথা। চলুন জেনে নেয়া যাক-

০১. খাবার চিবানোর সময় সব সময় মুখ বন্ধ রাখুন। মুখ খুলে খাবার চিবানোর দৃশ্য কুৎসিত এবং অভদ্রতা বলে বিবেচিত হয়।

০২. খাবার টেবিলে মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। সবচেয়ে ভালো হয়- সাইলেন্ট করে রাখলে। গুরুত্বপূর্ণ কল বা মেসেজ চেক করতে হলে টেবিল থেকে উঠে দূরে গিয়ে করার চেষ্টা করুন।

০৩. খাবারের প্লেট-বাটি এবং চামচ-কাঁটা চামচ ঠিকভাবে ব্যবহার করুন। এমনভাবে চামচ বা কাঁটা চামচ ধরবেন না যা দেখে মনে হয়, একটি শাবল ধরে আছেন বা কারো ওপর ছুরি বসাতে যাচ্ছেন।

০৪. কখনও খাবার খাওয়ার সময় টেবিলে বসেই দাঁত পরিষ্কার করতে শুরু করবেন না। বেশি সমস্যা হলে টেবিল থেকে দূরে গিয়ে করুন।

০৫. টেবিলে বসেই হাত-মুখ ধোবেন না। নির্ধারিত জায়গায় এসব কাজ করুন।

০৬. সব সময় ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

০৭. মুখের খাবার পুরোপুরি শেষ করে পানি অথবা অন্যান্য পানীয়তে চুমুক দিন। মুখভর্তি খাবার নিয়ে গ্লাসে চুমুক লাগাবেন না।

০৮. খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না। অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাওয়া চালিয়ে যাবেন। প্লেটে একেক সময় শুধু এক ধরনের খাবার নিন। একসঙ্গে একগাদা ডিশ না নেয়াই ভালো। একটি শেষ করে অন্যটি শুরু করুন।

০৯. টেবিলে দুই হাত, বুক অথবা থুতনি ঠেকিয়ে আরাম করার প্রবণতা থাকলে পরিহার করুন।

১০. টেবিলে বসে অন্যদের সঙ্গে হালকা কথাবার্তা বলতে পারেন। সবাই যে আলোচনা করছে তাতে যোগ দিন।

তবে বেশি কথা না বলাই ভালো। এতে অন্যরা বিরক্ত হতে পারে।

১১. কোনো খাবার আপনার নাগালের বাইরে থাকলে নিজেই নিতে যাবেন না। ভদ্রভাবে অন্যকে পাস করতে বলুন।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধে মোদিকে অনুরোধ কেজরিওয়ালের

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধে মোদিকে অনুরোধ কেজরিওয়ালের

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফাইল ছবি/এএফপি

পোস্টের সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি খবরও যুক্ত করে দেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তার সংস্পর্শের আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ। তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ভারতকে সব দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার রুখতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিতের আহ্বান জানান তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদিকে এ ধরনের অনুরোধ আগেও করেছেন কেজরিওয়াল। দুইদিন আগেই মোদির উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া দেশগুলো থেকে ‘অবিলম্বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের’ আহ্বান জানান তিনি। টুইটারে চিঠির ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘সামান্য বিলম্বের পরিণতিও মারাত্মক হতে পারে’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি লেখেন, গত বছরও করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ধাক্কা আঘাত হানা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছিল মোদি সরকার। ওমিক্রন আতঙ্কে সব দেশ যখন এ সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করছে, ভারত তখন দর্শকের ভূমিকায়।

এখন পর্যন্ত আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার কমপক্ষে ১৩টি দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। সোমবারই করোনার নতুন এ প্রজাতিটি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এমন পরিস্থিতিতে ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল ও জাপান।

এ অবস্থায় কেজরিওয়াল হিন্দি ভাষায় লেখা টুইটে মোদির প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ওমিক্রন শনাক্ত দেশগুলো থেকে ফ্লাইট আসা বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। আমরা কেন অপেক্ষা করছি?

‘মহামারির প্রথম ধাক্কার সময়েও ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা দেরি করেছিলাম। ভারতে আগত বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই দিল্লিতে অবতরণ করে… সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তও তাই দিল্লিই হয়। প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে ফ্লাইট বন্ধ করুন।’

পোস্টের সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি খবরও যুক্ত করে দেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তার সংস্পর্শের আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ।

তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ওমিক্রন আতঙ্কে দিল্লি মহামারির নতুন ধাক্কার জন্য কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন কেজরিওয়াল।

মহারাষ্ট্রে উদ্ধাভ ঠাকরের সরকারও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি একই অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের বিস্তার অব্যাহত, এবার অস্ট্রেলিয়ায়

ওমিক্রনের বিস্তার অব্যাহত, এবার অস্ট্রেলিয়ায়

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে সিডনিতে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই ব্যক্তির দেহে শনিবার ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন শনাক্ত দুই ব্যক্তিরই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল বলে বিদ্যমান টিকায় করোনার নতুন প্রজাতিটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়- এমন ধারণা আরও জোরালো হলো। একই সঙ্গে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের সপ্তাহ না পেরোতেই এটি আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানা, ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং এশিয়ায় হংকংয়ে শনাক্ত হয়েছে।

একে একে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শনাক্ত হচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। ইউরোপের পর সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও রোববার ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

মাত্র এক দিন আগেই যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও ইসরায়েলে শনাক্ত হয় ভাইরাসটি। গত সপ্তাহে প্রথম এর অস্তিত্ব শনাক্ত হয় সাউথ আফ্রিকায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় দুজনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে সিডনিতে পৌঁছান তারা। তাদের দেহে ওমিক্রন সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে শনিবার।

নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দুই ব্যক্তির কারোর মধ্যেই করোনার উপসর্গ ছিল না। তারা করোনা প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করেছেন আগেই, বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা আরও ১২ বিমানযাত্রীকে ১৪ দিনের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যাত্রী ও ক্রুসহ বিমানের বাকি প্রায় ২৬০ জন আরোহীকে সেলফ আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন শনাক্ত দুই ব্যক্তিরই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল বলে বিদ্যমান টিকায় করোনার নতুন প্রজাতিটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়- এমন ধারণা আরও জোরালো হলো।

একই সঙ্গে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের সপ্তাহ না পেরোতেই এটি আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানা, ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং এশিয়ায় হংকংয়ে শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রিয়াতেও ওমিক্রন পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এখনও।

বিজ্ঞানীদের মতে, উহানে প্রথম শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে একেবারেই আলাদা করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। এটি করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কোভিডসহ করোনার বিভিন্ন ধরনের তুলনায় এটি বেশি প্রাণঘাতী কি না বা গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

বিদ্যমান টিকায় প্রতিরোধ সম্ভব না হলে দুই বছর শেষ করে তৃতীয় বছরে পা রাখতে যাওয়া বৈশ্বিক মহামারি ওমিক্রনের কারণে আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে ওমিক্রনকে উদ্বেগের কারণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এটির বিস্তার রোধে এরই মধ্যে ভ্রমণ বিধিমালা কঠোর করেছে বিভিন্ন দেশ। উৎপত্তিস্থল সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে অনেক দেশ।

পুঁজিবাজারে এরই মধ্যে ওমিক্রনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিমানসহ পর্যটনের বিভিন্ন খাতে নতুন করে ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহামারির প্রথম বছরে ধসের পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর মুখে, তখন ওমিক্রনের কারণে অর্থনীতির গতি থমকে যেতে পারে বলে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার কমেছে।

আরও পড়ুন:
হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির
ভোক্তাদের ক্ষোভে মাগুরার হোটেলে খাবার আগের দামে
লঞ্চ ঘা‌টে দুস্থ‌দের খাবার দি‌লেন ডিআই‌জি
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ
দেশে ৫০ শতাংশ পথখাবারে ব্যাকটেরিয়া থাকে

শেয়ার করুন