গবেষণা

৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

গবেষকদের মতে, নদীর গতি পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রার পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম-বেশি হওয়া ও পলি জমে যাওয়ার কারণে পদ্মায় এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মানবসৃষ্ট নানা কারণ বিশেষ করে অবকাঠামোগত প্রকল্প এবং দখল-দূষণ পদ্মা নদীকে পরিবেশগতভাবে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে।

৫০ বছর ধরে স্থানে স্থানে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা নদী। বেড়েছে নদীর ভাঙন। নদীর পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে ইলিশ উৎপাদনেও।

দেশের ৬ গবেষকের যৌথ গবেষণায় মিলেছে এই তথ্য।

আমেরিকান জার্নাল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যানথ্রোপজেনিক ইন্টারফিয়ারেন্স ফর দ্য মরফোলজিক্যাল চেঞ্জেস অব দ্য পদ্মা রিভার ইন বাংলাদেশ’ নামের এই গবেষণা প্রতিবেদন।

এতে পদ্মার বৈশিষ্ট্যের ব্যাপক পরিবর্তনের বেশ কিছু কারণ শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টি, উষ্ণায়ন, পলির মাত্রা বৃদ্ধি ও দখল-দূষণে পদ্মা তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৬ জন গবেষক যৌথভাবে এই গবেষণাটি করেন।

এ দলের প্রধান গবেষক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম। অন্যরা হলেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাইজার আহমেদ সুমন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, চাঁদপুরে অবস্থিত মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ জোরদারকরণ প্রকল্পের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল বাশার, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মিলন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনীর।

৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

গবেষকদের মতে, নদীর গতি পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রার পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম-বেশি হওয়া ও পলি জমে যাওয়ার কারণে পদ্মায় এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মানবসৃষ্ট নানা কারণ বিশেষ করে অবকাঠামোগত প্রকল্প এবং দখল-দূষণ পদ্মা নদীকে পরিবেশগতভাবে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে।

অধ্যাপক কাইজার আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় তিন বছর ইলিশ উৎপাদনের অভয়াশ্রম পদ্মা নদীর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি করতে গিয়ে আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে ১৯৬৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের তথ্যও পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২১টি আবহাওয়া অফিস থেকে।

তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫০ বছরে পদ্মা নদীর বৈশিষ্ট্যে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন যে হারে বাড়ার কথা ছিল, সে হারে তো বাড়েনি, বরং কমেছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতেও দেখা গেছে, এ নদীর চ্যানেল অস্বাভাবিক হারে পরিবর্তিত হয়েছে।

৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

তিনি আরও জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে জোয়ারের উচ্চতা থাকে বেশি। একই সঙ্গে উজান থেকে নিচের দিকে পানির প্রবাহও বেশি থাকে। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে বন্যার পানির তীব্রতা ও উচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে উজানের পানিপ্রবাহেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পলি জমা ও পাড় ক্ষয়ের কারণে বন্যার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গবেষক দলের আরেক সদস্য ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, মাছের বংশ বিস্তারে তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মাছের ডিম ছাড়ার সময় তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে সামান্যতম তারতম্য হলে তা মাছের বংশবিস্তারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

তিনি জানান, দখল-দূষণে পদ্মা ধ্বংসের মুখে। এ নদীতে ভাঙনের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে, যা নদীতীরবর্তী জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। স্থানে স্থানে নদী সংকুচিত হয়ে পড়ায় মাছের পরিমাণ ক্রমেই কমেছে।

৫০ বছরে সংকুচিত হয়েছে পদ্মা, কমেছে ইলিশ

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ৫০ বছরে বৃষ্টিপাত ১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমান সময়ে জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত না হয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হচ্ছে। আগে এই মাসে কখনও বৃষ্টি হতো না।

‘চাপাইনওয়াবগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত কখনও নদীর ডান পাশে আবার কখনো বাম পাশের পালির পরিমাণ কমছে-বাড়ছে। এজন্য নদীর বিভিন্ন অংশে নিয়মিত ভাঙন দেখা দেয়। নদীর হার্ডিঞ্জ সেতুর পর থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে শাখা নদীর মতো হয়েছে। ১৯৮০ সালের দিকে এই অংশটুকু একত্রে থাকলেও এখন আর আগের অবস্থানে নেই। নদীর গতিপথ ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।’

অধ্যাপক আজহারুল আরও বলেন, ‘নদীর অন্যতম প্রধান মাছ ইলিশের আবাসস্থল ও মাছকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে গবেষণায়। পদ্মা মূলত সর্পিল নদী, একেঁবেঁকে চলাই এর প্রধান কাজ। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং নদীর ক্ষয় ও পলি জমার কারণে এটি অনেকটা চুলের বিনুনির আকার ধারণ করেছে, অর্থাৎ অনেক শাখা নদী সৃষ্টি হয়েছে।

‘বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ভৌগোলিক নির্দেশক অর্থাৎ জিআই পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃত ইলিশ। ইলিশ উৎপাদনেও বাংলাদেশ পৃথিবীতে প্রথম, কিন্তু এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ উৎপাদন ধরে রাখা।’

আজহারুল জানান, যে হারে পদ্মা নদী পরিবর্তিত হচ্ছে তা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইলিশ উৎপাদনের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এ কারণে পদ্মা ও ইলিশ উৎপাদনে অন্য নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে।

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাটির ওপর অত্যাচারে হুমকিতে প্রাণ-প্রকৃতি

মাটির ওপর অত্যাচারে হুমকিতে প্রাণ-প্রকৃতি

মাটির অবক্ষয়ে পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: এএফপি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়। এটি মানবজাতিকে ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আমাদের খাদ্য, অক্সিজেনসহ অনেক নিত্য প্রয়োজন মেটানো গাছের জন্ম মাটি থেকে। এটি থাকা না থাকার ওপর নির্ভরশীল প্রাণের অস্তিত্ব। অথচ পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এ সম্পদের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা দেখিয়েছে মানুষ। এর ফলে প্রাণ ও প্রকৃতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, মাটির অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়। এটি মানবজাতিকে ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবেশগত বিপর্যয়ের চাপে আমরা খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছি। প্রকৃতিগতভাবে আমাদের নাভিশ্বাস বাড়ছে। কারণ মাটির ব্যবহার আসলে নিয়মতান্ত্রিক হচ্ছে না। আবার ভূমণ্ডলে মাটির আকারও বাড়ানো সম্ভব না। অথচ ক্রমাগত মানুষ বাড়ছে। এর মানে হচ্ছে সীমাবদ্ধ ভূমিতে ক্রমাগত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হচ্ছে এবং নানামাত্রিক ব্যবহারে জমির চাহিদা বাড়ছে।

‘নগরব্যবস্থা গড়ে উঠছে; রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ বাড়ছে। এতে ব্যবহারযোগ্য জমি বা মাটি কমে আসছে। যেটুকু আছে তার সুরক্ষাও আমরা দিতে পারছি না। নানামাত্রিক অপরিকল্পনায় ভূমির অবক্ষয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে গাছপালা কমছে; বনজঙ্গলের পরিধি ছোট হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাব পরিবেশের ওপর এসে পড়ছে।’

মাটির অবক্ষয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আইনুন নিশাত বলেন, ‘এতে বন্যা, খরা, উষ্ণতা বাড়ছে; সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের উর্বর মাটিও লবণাক্ত হচ্ছে। প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা লবণাক্ততায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর মানে মাটির যে উৎপাদিকা শক্তি ছিল, তা অনেকাংশে কমে আসছে।

‘ফসলের উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই জমি থেকে বারবার খাদ্য উৎপাদনের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।’

বাড়ছে লবণাক্ততা

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ২০০৯ সালের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কারণ হলো মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ১.০৫৬ মিলিয়ন হেক্টর আবাদযোগ্য জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ত। এসব জমির বেশিরভাগ শুষ্ক মৌসুমে পতিত থাকে। বাকি সময়ে জমিগুলোর উৎপাদনশীলতা দেশের অন্যান্য ভূমির তুলনায় সর্বনিম্ন স্তরে।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাটির ওপর নির্বিচার অত্যাচার হচ্ছে; ব্যবহারে চরম অব্যস্থাপনা চলছে। কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে মাটি।

‘কৃষি জমিতে হচ্ছে ইটভাটা; ফাঁকা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে রাসায়নিক। এতে মাটির মাইক্রোস্কোপিক (ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র) উপাদান মইরা শেষ। সবাই মনে করে মাটি জীবনবিহীন, কিন্তু মাটি সার্বজনীন জীবন্ত। এটা তো কেউ মানেই না।’

মাটি বাঁচিয়ে স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বারোপ করে এ অধ্যাপক বলেন, ‘এটা ঠিক, আমাদের ঘরবাড়ি, নালা, বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো সবকিছুরই দরকার আছে, তবে এর সবকিছুই হতে হবে পরিবেশবান্ধব। যা-ই আমরা করিনা কেন, তা মাটিকে বাঁচিয়ে রেখেই করতে হবে, তবেই পরিবেশ ভালো থাকবে।

‘পরিবেশ ভালো না রাখা গেলে মাটির জীবনশক্তি কমে যাবে। এতে গাছপালা, উদ্ভিদ মরে যাবে এবং কমে যাবে। ফসলের উৎপাদনও কমে আসবে। মাটির অপরিকল্পিত ব্যবহার ও জীবনচক্র নষ্ট করে আসলে আমরা নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনছি। এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য যে খুব খারাপ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বে ৮৩৩ মিলিয়ন (৮৩ কোটি ৩০ লাখ) হেক্টর জমি আছে লবণাক্ত। বাংলাদেশেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটা বড় এলাকা লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার একর। এই অঞ্চলে শুধু বর্ষাকালেই ধান হয়; বাকি সময়ে আবাদশূন্য থাকে। তাই লবণাক্ত মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করাই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘এর জন্য এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা দরকার যাতে করে লবণ কম হয়। এ রকম ২২টি প্রযুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি আমরা, যার ব্যবহারে সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

‘আগামীতে এ ধরনের নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে লবণাক্ত অঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়াতে নিরন্তর কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।’

লবণাক্ততা কমানোর চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়ে ৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন হচ্ছে মৃত্তিকা দিবস। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়, ‘লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি।’

ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে

ভারতের বিখ্যাত যোগগুরু জগদীশ বাসুদেব ওরফে সাধগুরু বলেন, ‘এই পৃথিবীর মাটির আমরা যে ক্ষতি করেছি, তা সাংঘাতিক। অন্যান্য জিনিস, যেমন: কোথাও বরফ গলছে, সেটা হয়তো দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মাটির যে ক্ষতি আমরা করেছি, তা খুবই ভয়ংকর।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য, অধিকাংশ মানুষ মাটিকে অবহেলা করেন। যখন বুঝতে শেখেন, ততক্ষণে একটু বেশিই দেরি করে ফেলেন। এটাই সর্বনাশের বড় কারণ।’

পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তার উপায় বাতলে দিয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট, মেগাপ্রজেক্ট কিংবা সব ধরনের শিল্প-কারখানা পরিকল্পনামাফিক করা উচিত। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অনুমোদন ছাড়া আর কোনো প্রকল্প বা অবকাঠামো নির্মাণ করা উচিত নয়। কৃষিজমি কেটে ইট ও ইটের ভাটা তৈরি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।

‘মাটিকে জীবন্ত রাখতে হবে। মাটিতে থাকা অণুজীবগুলোকে বাঁচাতে হবে। তাহলেই ভূমি উর্বর থাকবে। ফসলি জমিতে রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি শিল্পের পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।’

অভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আন্তর্জাতিক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘আমাদের ঘরও লাগবে, গাছপালা, কৃষিজমি, বাগানও রক্ষা করতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া ভবিষ্যৎ কারও জন্যই নিরাপদ হবে না।

‘নদীভাঙন ও বন্যা ঠেকানোর জন্য শক্তিশালী বাঁধ তৈরি, সার্বক্ষণিক নদীর নাব্য রক্ষা এবং খরা থেকে বাঁচতে সহজলভ্য সেচ ব্যবস্থাই কার্যকর সমাধান আনতে পারে।’

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে তিনি আরও উন্নত প্রযুক্তির পানিশোধন প্রকল্প নেয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের অন্যতম উন্নয়ন লক্ষ্যই হলো টেকসই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বাড়িয়ে এবং মাটির অবক্ষয় কীভাবে সর্বোত্তম উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নির্ধারণ করে কৃষিজমি সুরক্ষা দিয়ে শিল্পোৎপাদন বাড়ানো।

‘একই সঙ্গে শিল্পের পরিত্যক্ত বর্জ্যের ব্যবহারও পরিকল্পিত রাখা, যাতে করে মাটি, পানি ও পরিবেশ বিষময় না হয়। আমরা সবকিছুর মধ্যে সেই ব্যালেন্স রক্ষা করেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ছড়িয়ে পড়েছে ছাই। ছবি: এএফপি

অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরির ঘন ছাইয়ে সূর্য আড়ালে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে উড়ছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই। এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাউন্ট সেমেরুতে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অগ্ন্যুৎপাতের ঘন ছাইয়ে সূর্য অনেকটাই আড়ালে পড়েছে। ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে উড়ছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই। এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আগ্নেয়গিরির ছাই ১৫ হাজার মিটার ওপরে ওঠায় সে বিষয়ে এয়ারলাইন্সকে সতর্ক করা হয়েছে। এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আশপাশের গ্রামগুলো ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। ঘন ধোঁয়া সূর্যকে ঢেকে ফেলছে। পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা তরিকুল হক বলেন, ‘ওই এলাকা থেকে মালাং শহরের একটি সড়ক ও ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

সমুদ্র থেকে মাউন্ট সেমেরুর উচ্চতা ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে টাস্ক ফোর্স

দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে টাস্ক ফোর্স

দিল্লি ও আশপাশ এলাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। ফাইল ছবি

রাজধানীতে দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করতে ভারত সরকার এবং রাজ্যগুলোর অক্ষমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার একদিন পর সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বায়ুর গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে একটি ‘এনফোর্সমেন্ট টাস্ক ফোর্স’ গঠন করেছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে ভারত সরকার।

রাজধানীতে দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করতে ভারত সরকার এবং রাজ্যগুলোর অক্ষমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার একদিন পর শুক্রবার সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা একটি হলফনামায় সরকার জানিয়েছে, পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স দূষণ নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের অংশ হিসেবে আরও ১৭টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তারা সরাসরি মূল টাস্কফোর্সকে রিপোর্ট করবে।

এর আগে, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করতো।

সরকার হলফনামায় জানিয়েছে, এই ফ্লাইং স্কোয়াডগুলো ২ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে ২৫টি জায়গায় অতর্কিত পরিদর্শন চালিয়েছে। সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই জাতীয় স্কোয়াডের সংখ্যা ৪০-এ উন্নীত করা হবে।

হলফনামায় বলা হয়েছে, দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের সব স্কুল ও কলেজ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সিএনজি বা বিদ্যুতচালিত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ছাড়া ট্রাকের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের শিল্প ইউনিটগুলো যেগুলো পিএনজি বা ক্লিনার জ্বালানিতে চলছে না তাদের সপ্তাহের দিনগুলোতে দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে এবং সপ্তাহান্তে বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, দিল্লির ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১১টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে।

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারে একটি মেছো বিড়াল হত্যার মামুন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে আদালত।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিড়াল হত্যার এক বছর পর মামুনকে সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইফুর রহমান সোমবার মামুন মিয়াকে সাজা দেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় এই প্রথম বন আদালতে কাউকে সাজা দেয়া হলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাড়ির পুকুরের মাছ খাওয়ার সময় সহযোগীদের নিয়ে মেছো বিড়ালটি হত্যার অভিযোগ ওঠে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাজীরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজীরহাটে মেছো বিড়ালটি হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মো. আনিসুজ্জামান।

ঘটনার তদন্ত ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রাজনগর থানা।

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, ‘দেশে এই প্রথম মেছো বিড়াল হত্যায় শাস্তি হলো। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এসব অপরাধের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বিচার দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

বাঁশখালীতে ফের মৃত হাতি

বাঁশখালীতে ফের মৃত হাতি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আবারও মিলল মৃত হাতি। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদল লোক ওই হাতিকে মাটিচাপা দিচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে বনবিভাগের লোকজন সেখানে যায়। মাটি খুঁড়ে হাতির মৃতদেহটি তোলা হয়। তবে কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।’ 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকা থেকে আবারও একটি মৃত বন্যহাতি উদ্ধার করেছে বনবিভাগ।

বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি এলাকা থেকে মঙ্গলবার দুপুরে হাতির মৃতদেহটি পাওয়া গেলে বুধবার বিকালে তা সংবাদমাধ্যমকে জানান বনবিভাগ কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদল লোক ওই হাতিকে মাটিচাপা দিচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে বনবিভাগের লোকজন সেখানে যায়। মাটি খুঁড়ে হাতির মৃতদেহটি তোলা হয়। তবে কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

‘হাতিটির শরীরের আঘাতে চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করে মেরে ফেলা হয়েছে। এরপর বিষয়টি গোপন করার জন্য মাটিতে পুতে ফেলা হচ্ছিল।’

হাতিটি মাঝবয়সী বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য আলামত রেখে মৃতদেহটি মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে চিকিৎসক আনা হয়েছে।

বন কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধনপুর বিট কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এই ঘটনায় বাঁশখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর আমরা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এই নভেম্বরেই শেরপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গুলিতে ও বিদ্যুতায়িত হয়ে ৮টি হাতি মারা গেছে।

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত

পেরুতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: এএফপি

পেরুর মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় বেতার ও টেলিভিশনগুলো জানিয়েছে।

পেরুর প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। এতে কমপক্ষে ৭৫টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, আহত হয়েছেন ১০ জন। প্রাণহানির কোনো খবর মেলেনি এখনও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রত্যন্ত আমাজন অঞ্চলে স্থানীয় সময় রোববার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কম্পন অনুভূত হয়েছে সুদূর রাজধানী লিমা পর্যন্ত।

পেরুর ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ পেরু (আইজিপি) জানিয়েছে, কনডরক্যানক্যু প্রদেশের সান্তা মারিয়া ডি নিয়েভা শহর থেকে ৯৮ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১৩১ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনটির উৎসস্থল।

পেরুর মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় বেতার ও টেলিভিশনগুলো জানিয়েছে।

পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ২২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৮১টি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ৭৫টি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও দুটি শপিং সেন্টার।

বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর ফুটেজে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে আমাজন বনাঞ্চলের পেরুর অংশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোপেরুর এক হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তেলের পাইপলাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি ভূমিকম্পে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ ও ভুক্তভোগীদের সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ক্যাসটিলো।

ভূমিকম্পের ফলে সুনামির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন

শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি

শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি

ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এখন থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রোববার ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল শ্রীমঙ্গলেই।

তাপমাত্রা নিচে নামার কারণে বাড়ছে শীত। রোববার সকাল ও শনিবার রাতে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল পুরো জেলা।

আবহাওয়াবিদ আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এখন থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।

আরও পড়ুন:
এক দিনের ব্যবধানে বরিশালে ইলিশ কম কেন?
পাঙাশের দখলে ইলিশের বাজার
ভারতে ইলিশ যাবে আরও ১০ দিন
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনে ৩০৪৯ অভিযান
প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

শেয়ার করুন