বিলুপ্তপ্রায় সোনালি বিড়াল মৌলভীবাজারের বনে

বিলুপ্তপ্রায় সোনালি বিড়াল মৌলভীবাজারের বনে

সাঙ্গু-মাতামুহুরীর সংরক্ষিত বনে পাওয়া গেছে সোনালি বিড়াল। ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে এমন বিড়াল দেখার নজির ১০টিরও কম। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশ ২০১৫ সালে সোনালি বিড়ালকে ‘বিপদাপন্ন’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় একটি বিড়ালের নাম ‘এশীয় সোনালি বিড়াল’। সাধারণত এর গায়ের রং কমলা-সোনালি, তবে আরও অন্তত পাঁচটি রং এরা ধারণ করতে পারে। দেশে এই বিড়ালটি দেখার রেকর্ড খুবই কম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ক্যামেরা-ট্র্যাপিংয়ে গত আগস্টে ধরা পড়ে এই বিড়ালের ছবি। তাতে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বনে এদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। মৌলভীবাজারের রাজকান্দি, পাথারিয়া, সাগরনাল, ভানুগাছ সংরক্ষিত বন, হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা, রঘুনন্দন এদের আবাসস্থল।

গবেষক দলের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মুনতাসির আকাশ নিউজবাংলাকে জানান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বনগুলো ভারত সীমান্তঘেঁষে অবস্থিত। এই বন ভারতের ত্রিপুরা পাহাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত। সীমান্তের এ অঞ্চল ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রামের বনাঞ্চলকেও সোনালি বিড়ালের বাসস্থান হিসেবে মনে করা হয়। তবে সারা দেশে এমন বিড়াল দেখার নজির ১০টিরও কম। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশ ২০১৫ সালে সোনালি বিড়ালকে ‘বিপদাপন্ন’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

মুনতাসির আকাশ জানান, এশীয় সোনালি বিড়াল (বৈজ্ঞানিক নাম: Catopuma temminckii) একটি মাঝারি আকারের বিড়াল। এদের ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনে দেখা যায়। এসব বিড়ালের লেজের দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৫৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মাথা থেকে শরীরের দৈর্ঘ্য ৬৬ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। আর পূর্ণবয়স্ক বিড়ালের কাঁধের উচ্চতা মাটি থেকে ৫৬ সেন্টিমিটার হতে পারে।

বিশিষ্ট প্রাণী গবেষক ড. রেজা খান ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে একটি সোনালি বিড়ালের চামড়া সংগ্রহ করেন। আর বাংলাদেশের সোনালি বিড়ালের বিস্তারিত গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান।

বিলুপ্তপ্রায় সোনালি বিড়াল মৌলভীবাজারের বনে

২০০৮ সালের সেই গবেষণায় পার্বত্যাঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকারকে বিড়ালের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স (সিসিএ) নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাঙ্গু-মাতামুহুরীর সংরক্ষিত বনে ক্যামেরা-ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সোনালি বিড়ালের উপস্থিতি শনাক্ত করে।

সিলেট বিভাগে এ বিড়াল দেখতে পাওয়ার হাতে গোনা কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে। ২০০৯ সালে সিলেটের মেঘালয় সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে ‘কালো চিতা’ ভেবে একটি সোনালি বিড়ালকে হত্যা করে স্থানীয় লোকজন। ২০১৭ সালে আরেকটি গবেষণায় মৌলভীবাজারের এক বনে এই প্রজাতির বিড়াল ধরা পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সোনালি আবরণের বাইরে আরও পাঁচটি রং ধারণ করতে পারে এ বিড়াল। এসব রঙের আবরণকে বলা হয় মর্ফ। বাংলাদেশে দেখা পাওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে এর আগে সোনালি, ধূসর ও কালো রঙের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

২০০৫ সালে উত্তর-মধ্য থাইল্যান্ডে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, একটি সোনালি বিড়াল অন্তত ৩০ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে থাকে। তবে বনের পরিধি কমে গেলে এরা স্বল্প জায়গায় নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

খাবার সংগ্রহ থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ এরা দিনের মধ্যে সেরে ফেলতে পছন্দ করে। এদের খাদ্য তালিকায় বনের ছোট প্রাণী থেকে শুরু করে সাপও রয়েছে। এশীয় সোনালি বিড়ালই এশিয়ার একমাত্র বহুরূপী বন্য বিড়াল। গবেষকরা বলছেন, বিভিন্ন হুমকিতে থাকা এ বিড়াল এখন বিশ্বব্যাপী বিলুপ্তির মুখে।

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি

ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি

ভারতের উত্তরাখন্ডে বন্যার তোড়ে ভেঙে পড়েছে সেতুটি। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে প্রতিবেশী নেপালেও দেখা গেছে এমন বন্যা। ছবি: এএফপি

এ বছর বর্ষা মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা ও ভূমিধসে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

ভারত ও নেপালে ভয়াবহ বন্যায় গত পাঁচ দিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১২৮ জনের। নিখোঁজ রয়েছে অনেক মানুষ।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা আর ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েছে সড়ক, বাড়িঘরসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা।

নিখোঁজদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কিংবা পানির তোড়ে ভেসে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখন্ডে গত তিন দিনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। শুধু মঙ্গলবারই রাজ্যটিতে মারা গেছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

প্রাণহানির বড় অংশই পর্যটন শহর নৈনীতালে হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিধসে বাড়ি ভেঙে পড়ায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ গেছে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। আলমোরা জেলায় বিশাল বিশাল পাথরের খণ্ড আর কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন আরও পাঁচজন।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আবহাওয়া সতর্কতার পরিসর বাড়ায় ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। তারা জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে আরও অনেক বেশি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় সোমবার ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায় নৈনীতাল হ্রদের পানি।

ঋষিকেশে গঙ্গা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোসি নদী থেকে উপচে পড়া পানির ঢলে বিভিন্ন রিসোর্টে আটকা পড়েছেন শত শত পর্যটক।

এ অবস্থায় রাজ্যটির সব স্কুল বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি সব ধরনের তীর্থযাত্রা ও পর্যটনকেন্দ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রিনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রিনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ বলে ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বদ্রিনাথ মহাসড়ক। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

আর দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় শুক্রবার থেকে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৯ ছুঁয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন। এর মধ্যে বুধবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে রয়েছে শঙ্কা।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের বড় অংশে দুই দিন ধরে জারি ছিল ইয়েলো অ্যালার্ট বা তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। এটি একধাপ বাড়িয়ে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতায় উন্নীত করা হয়েছে বুধবার।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শবরীমালা মন্দিরে রাজ্যের সবচেয়ে বড় তীর্থোৎসব স্থগিত করা হয়েছে।

বন্যার তাণ্ডব চলছে প্রতিবেশী নেপালেও। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৩ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩০ জন।

পুলিশের বুধবারের বিবৃতি উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশজুড়ে বন্যা হলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত কুনওয়ার জানান, অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সেতি নামের গ্রামটিতে দুই দিন ধরে পানিবন্দি ৬০ জন বাসিন্দা।

বাড়িঘরের পাশাপাশি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক সেতু ও সড়ক; ভেঙেও গেছে বেশ কয়েকটি। এতে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ শস্য।

আগামী কয়েক দিনে দেশটিতে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

বাংলাদেশের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে সারা দেশে ১৩৫টি গ্রুপে প্রায় ৪৬৮টি উল্লুক আছে। ছবি: সাবিত হাসান

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুন নাহার জানান, ১৯৮০ সালের একটি গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩ হাজার উল্লুক ছিল। এখন আছে ৪৬৮টি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মানুষের আগ্রাসনসহ নানা কারণে গত দুই দশকে উল্লুক প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বে বিপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন উল্লুক। এলাকাভেদে এটিকে বনমানুষও ডাকা হয়। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামে এদের বসবাস।

চলতি মাসের ৬ তারিখে ডাইভারসিটি জার্নালে প্রকাশিত বাংলাদেশের উল্লুকবিষয়ক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে সারা দেশে ১৩৫টি গ্রুপে প্রায় ৪৬৮টি উল্লুক আছে। সবচেয়ে বেশি উল্লুক আছে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে।

বন বিভাগের অনুমতি ও সহায়তায় আমেরিকার ইউএস ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের অর্থায়নে এই গবেষণা হয়েছে। গবেষকরা দেশের মোট ২২টি বনে এই গবেষণা করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহারের নেতৃত্বে হওয়া এই গবেষণায় জানা গেছে, গত দুই দশকে দেশে উল্লুক কমেছে ৯০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইউসিএন) তালিকায় বিপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকায় আছে উল্লুক। এর ইংরেজি নাম Western Hoolock Gibbon ও বৈজ্ঞানিক নাম Hoolock hoolock

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে প্রায় ১২২টি, পাথারিয়া সংরক্ষিত বনে প্রায় ৯১টি, লাউয়াছড়ায় ৪০টি, সাগরনাল বনে ২টি, হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে ৫টি এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৯টি উল্লুক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে উল্লুকের সংখ্যা নির্ণয়, উল্লুকের বসবাসযোগ্য বনের অবস্থা ও সম্ভাব্য বনের তথ্য জানার উদ্দেশ্যে এই গবেষণা করা হয় ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের (UAEU) জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবির বিন মুজাফফারের নেতৃত্বে এই গবেষণায় অংশ নেন বাংলাদেশের বন্য প্রাণী গবেষক হাসান আল রাজী চয়ন, তানভীর আহমেদ, সাবিত হাসান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিজ জারাদাত।

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

গবেষক দলের সাবিত হাসান জানান, বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার বন ছাড়াও ভারত (উত্তর-পূর্বাংশ), মিয়ানমার (পশ্চিমাংশ) এবং চীনে (দক্ষিণাংশে) উল্লুক দেখা যায়। নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে উল্লুকের বাসস্থান, খাদ্যসংকট ও শিকার এদের সংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ।

সাবিত আরও জানান, উল্লুকের খাবারের তালিকার বড় জায়গাজুড়ে রয়েছে ফল। তারা গাছের কচি পাতা, ফুল ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। গাছের ডালে ঝুলে ঝুলে চলতে পছন্দ করে। যেহেতু তাদের খাবারের বড় জায়গাজুড়েই রয়েছে নানান প্রজাতির ফল, সেহেতু তারা মনকালচার বা সমজাতীয় গাছের বনে থাকতে পারে না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক প্রাকৃতিক বন কেটে একসময় সেগুন বাগান করা হয়েছে, যেসব বন থেকে উল্লুক হারিয়ে গিয়েছে। সরকারের উচিত এসব বনকে আবারও প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া এবং যেসব জায়গায় এখনও উল্লুক টিকে আছে, সেসব জায়গাকে টিকিয়ে রাখা ও তদারকি করা।

‘এতে করে উল্লুকের সংখ্যা যেমন সারা দেশে বাড়বে, অন্য অনেক বন্য প্রাণীও সংরক্ষণের আওতায় আসবে।’

গবেষক দলের আরেক সদস্য বানর গবেষক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব বনে উল্লুক আছে তার বেশির ভাগেই চশমাপরা হনুমান ও লজ্জাবতী বানরসহ নানা বিপন্ন প্রাণীর বসবাস রয়েছে। আমাদের গবেষণা উল্লুক বসবাসকারী বনগুলোকে চিহ্নিত করেছে। সেসব বনে কী পরিমাণ উল্লুক টিকে থাকতে পারে সেটারও একটা স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।

‘এখন ওই বনগুলোতে উল্লুক সংরক্ষণে সঠিক উদ্যোগ নেয়া হলে তা অন্য প্রাণীদের জন্যও আশীর্বাদ হবে। সে বিচারে সিলেট বিভাগের পাথারিয়া ও রাজকান্দি বনকে উল্লুক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।’

এই গবেষণা প্রকল্পের ম্যানেজার ও গবেষক হাসান আল রাজি জানান, কিছু বনে উল্লুকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও তা আসলে খুব বেশি খুশির খবর না। উল্লুক পাওয়া যায় এমন সব বনই আসলে ছোট ছোট দ্বীপের মতো, একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে করে এক বনের উল্লুকের সঙ্গে অন্য বনের উল্লুকের কোনো রকম যোগাযোগ হয় না।

এ কারণে জিনগতভাবেও এক বনের উল্লুকেরা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। জিন প্রবাহ না থাকায় টিকে থাকা উল্লুকদের মাঝে জিনগত বৈচিত্র্যতা কমে যাচ্ছে। এটি উল্লুকদের জন্য একসময় বড় ধরনের হুমকি হতে পারে।

হাসান জানান, জিনগত বৈচিত্র্যতা কম হলে যেকোনো ধরনের দুর্যোগে, যেমন রোগবালাই বা আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে, সব প্রাণীর একসঙ্গে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, ‘এসব কারণে উল্লুকের জিনগত গবেষণা এখন সব থেকে জরুরি। সেই সঙ্গে আমাদের ভেবে দেখতে হবে কীভাবে এই বিচ্ছিন্ন উল্লুকের পপুলেশনের মাঝে একটা যোগাযোগ তৈরি করা যায়।’

গবেষক দলের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুন নাহার জানান, ১৯৮০ সালের একটি গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩ হাজার উল্লুক ছিল। এখন আছে ৪৬৮টি। একসময় সিলেট বিভাগের হাজারিখিলসহ কয়েকটি বনে উল্লুক থাকলেও এখন নেই। সবচেয়ে বেশি উল্লুক পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি এবং পাথারিয়া রিজার্ভ ফরেস্টে।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মানুষের আগ্রাসনসহ নানা কারণে উল্লুকগুলো হয় অন্যত্র চলে গেছে, নয়তো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়েছে। তবে নিশ্চিত করে সেটা বলা কঠিন। নিশ্চিত করতে হলে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। সবচেয়ে জরুরি এদের সংরক্ষণ, কারণ গত দুই দশকে এর সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।’

এই গবেষণা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মৌলভীবাজারের পাথারিয়া ও রাজকান্দিতে এত উল্লুক পাওয়া ভালো খবর। উল্লুক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। আমার অফিস থেকে এর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করা হবে।

‘আমরা উল্লুকের বিষয়ে সচেতন। কিছু দিন আগে লাউয়াছড়ায় উল্লুক চলাচলের জন্য বিশেষ ধরনের সেতু তৈরি করা হয়েছে। তাই উল্লুক রক্ষায় কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

উত্তরাখন্ডের কোসি নদীর পানিতে ডুবে আছে সড়ক ও যানবাহন, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা। ছবি: এনডিটিভি

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরাখন্ডে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জনে। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বন্যায় যারা বাড়িঘর হারিয়েছে, তাদের ১ লাখ ৯০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। গবাদিপশু ও কৃষিজমি হারানো ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নিখোঁজ অনেকে, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতালের। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবনধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিংনগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালিসংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়কে।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

উত্তরাখান্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে কোসি নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। এতে তলিয়ে গেছে লেমন ট্রি হোটেল, ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন অতিথিরা। ছবি: এনডিটিভি

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালী সংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংস্তস্তুপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়ক। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার পর বন্যার তাণ্ডব চলছে উত্তরের উত্তরাখান্ড রাজ্যে।

টানা তৃতীয় দিনের অতিবৃষ্টি আর প্রবল গতিতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্টি ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৬ জনের। নিখোঁজ অনেকে, যারা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতাল। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবন ধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিং নগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালী সংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংস্তস্তুপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়ক।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোল ঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রা পরিবারে এর আগে চলতি বছরেই আরও সাতটি জেব্রার জন্ম হয়েছে। নতুন শাবকটি বছরের অষ্টম শাবক।’

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে এক জেব্রা দম্পতির ঘরে নতুন শাবকের জন্ম হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান।

দুপুরে পার্কে গিয়ে শাবকটিকে তার মায়ের সঙ্গে ঘুরতে দেখা যায়। ভোরে জন্ম নেয়া শাবকটি পুরুষ।

এর আগে পার্কে ১৪টি পুরুষ ও ১৬টি মাদি জেব্রা ছিল। নতুন শাবক নিয়ে পার্কে জেব্রার সংখ্যা দাঁড়াল ৩১টিতে।

তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রা পরিবারে এর আগে চলতি বছর আরও সাতটি জেব্রার জন্ম হয়। নতুন শাবকটি বছরের অষ্টম শাবক। মা ও শাবক উভয়ই সুস্থ আছে।

‘শাবকটি তার মায়ের সঙ্গে পার্কের বেষ্টনীতে ঘোরাফেরা করছে। আফ্রিকান প্রজাতির পুরুষ জেব্রাগুলো চার ও মাদিগুলো তিন বছরে প্রজননের উপযোগী হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।’

সাফারি পার্কের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মা জেব্রার স্বাস্থ্য বিবেচনায় রেখে খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি একে দেয়া হচ্ছে ছোলা, গাজর ও ভুষি।’

পার্কের পরিবেশে জেব্রাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রজাতির পশু-পাখির বংশবৃদ্ধি হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

কেরালায় বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৩৫

কেরালায় বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৩৫

কেরালায় ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উল্টে যাওয়া একটি গাড়ি সরাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: এএফপি

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে কেরালায়। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জনে। আরও অনেক প্রাণহানির শঙ্কা জানিয়েছে প্রশাসন।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের বড় অংশে আরও দুই থেকে চার দিনের জন্য ইয়েলো অ্যালার্ট বা তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ। বিশেষ করে বুধবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে রয়েছে শঙ্কা।

প্রবল বন্যার কারণে ধাপে ধাপে কয়েকটি বাঁধ খুলে দিয়ে পানি বেরিয়ে যেতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে বন্যাকবলিতদের সন্ধান ও উদ্ধারে সোমবারও সেনা ও নৌবাহিনী কাজ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং নিখোঁজ অনেকে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোট্টায়াম ও ইদুক্কি জেলা। কোট্টায়ামে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের সবাই নিখোঁজ।

প্রতিবছর বন্যার ধ্বংসযজ্ঞ দেখলেও এবারের মতো পরিস্থিতি গত ১০ বছরে দেখেননি বলে জানিয়েছেন কেরালার অনেক বাসিন্দা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বাসিন্দাদের বৃষ্টি কমলেও উচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শতাধিক অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার শিকার হয় কেরালা। সে বছর বর্ষার মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে রাজ্যটিতে প্রাণ যায় চার শতাধিক মানুষের, গৃহহীন হয় লাখো মানুষ।

তবে এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে কেরালায়। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শবরীমালা মন্দিরে রাজ্যের সবচেয়ে বড় তীর্থোৎসব স্থগিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

পদ্ম ফুল কমে যাচ্ছে বিলগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের তিন গ্রামের জলাশয়ে বর্ষা থেকে ফুটতে শুরু করে পদ্মফুল। তবে এবার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে পদ্ম। হাতে গোনা পদ্মে হতাশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে কমছে পদ্ম। স্থানীয় লোকজন এসব পদ্মকে চেনেন বোরল ফুল নামে। উপজেলার মাগুড়া, ভাতুরিয়া ও জাদুরাণী গ্রামের বিলে দেখা মেলে এই ফুলের।

উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বিলটি ছেয়ে যেত পদ্মফুলে। একই দৃশ্য দেখা যেত ভাতুরিয়া গ্রামের ধূলিয়া বিলেও। এবার বিল দুটিতে চিরচেনা রূপ নেই। পদ্মের সংখ্যা হাতে গোনা।

কেবল জাদুরাণী গ্রামের তালুকদার বস্তি এলাকায় ‘সবার পুকুর’ নামে পুকুরে আশানুরূপ ফুটে আছে সাদা পদ্ম।

‘সবার পুকুরে’ গিয়ে দেখা গেল, শিশু-কিশোররা পানিতে নেমে তুলছে পদ্মফুল।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

সবার পুকুরের একাংশের মালিক মোমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুকুরটির প্রায় তিন একর জমি পদ্মফুলে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অংশীদার বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পুকুরটি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পদ্মফুলের তেমন বিস্তার হতে পারছে না।’

উপজেলার তালুকদার বস্তির কৃষক জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘সবার পুকুরে দীর্ঘদিন থেকে এই ফুল ফুটে আসছে। তবে এটা যে পদ্মফুল আমরা তা জানতাম না। স্থানীয়ভাবে বোরল নামে জানি পদ্মফুলকে। অনেক মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ফুল তুলে নিয়ে যায়।’

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

মাগুরা ও ভাতুরিয়া গ্রামের বিল ঘুরে দেখা যায়, কিছু পদ্ম সেখানেও ফুটেছে।

সেখানকার লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এসব বিলে বর্ষায় পদ্মের আড়ালে পানিই দেখা যেত না। এখন সেখানে আর তেমন ফুল ফোটে না।

ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাবণী পারভীন বলেন, ‘গত বছর হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। এ বছরও গেছিলাম। তবে ওই পুকুরটিতে এবার মাছ চাষ হয়েছে। সে জন্য পদ্মফুল হয়নি। এবার পাশের গ্রাম তালুকদার বস্তি এলাকায় সবার পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। বইয়ে পড়েছি; বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বিলগুলোতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেখা দেয় পদ্ম। এর পাতা বেশ বড়, গোলাকার ও পুরু হয়ে থাকে। পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি, লাল ও নীল রঙের হয়।

একসময় গ্রামের হাট-বাজারে ঝোলাগুড়, মাংস বা ছোট মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদ্মের পাতা ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থালা হিসেবে কলাপাতার বদলে পদ্মের পাতাও ব্যবহার হতো।

হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম পবিত্রতার প্রতীক। তাদের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই ফুল ব্যবহার হয়।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান নাসরিন জাহান বলেন, ‘পদ্ম সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল রঙের পদ্মফুল পাওয়া যায়। সম্প্রতি হলুদ রঙের পদ্মফুল দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালাচ্ছে।’

নাসরিন জানান, শিল্পায়নের কারণে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। জলাশয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারণে পদ্ম জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে আসছে এই জলজ ফুল।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাদা পদ্মের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হৃদরোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডায়রিয়া সারাতে এর বোটা কাঁচা খায় অনেকে। পদ্মের চাক, বীজ বা বোটা বেশ সুস্বাদু। পদ্মের পাতাতেও ওষধি গুণ আছে। এই পাতা দিয়ে চা-ও বানানো হয়।’

পদ্মফুলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের সচেষ্ট হওয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাসরিন বলেন, ‘সরকারি জলাশয় যেন বেদখলে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানির উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। পদ্মফুলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিষয়ে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
এবার ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর মামলা, আসামি ১৫ বিড়ালপ্রেমী
লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

শেয়ার করুন