১৯ নভেম্বর মালেতে পাখা মেলছে ইউএস-বাংলা

১৯ নভেম্বর মালেতে পাখা মেলছে ইউএস-বাংলা

মালদ্বীপের রাজধানী মালের আকাশে উড়বে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রতি মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে, প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এবং প্রতি রোববার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইট যাবে মালেতে।

একমাত্র বাংলাদেশি এয়ারলাইনস হিসেবে এবার মালদ্বীপের রাজধানী মালের আকাশে পাখা মেলতে যাচ্ছে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে ঢাকা থেকে মালেতে ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে এয়ারলাইনসটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ফ্লাইট শুরু হলে ইউএস-বাংলাই হবে মালেতে ফ্লাইট চালানো একমাত্র বাংলাদেশি এয়ারলাইনস।

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রতি মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে, প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এবং প্রতি রোববার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইট যাবে মালেতে।

ফিরতি ফ্লাইট থাকবে প্রতি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট, প্রতি শুক্রবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিট এবং প্রতি রোববার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে।

রুটটিতে প্রাথমিক ভাড়া শুরু হবে একমুখী যাত্রীদের জন্য ২৯ হাজার ৫০৮ টাকা। ফিরতি ভাড়া শুরু হবে ৪৫ হাজার ৫৪৫ টাকা থেকে।

এ রুটে ফ্লাইট চালাতে ব্যবহার করা হবে ১৬৪ আসনের বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন মডেলের উড়োজাহাজ।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

পদ্ম ফুল কমে যাচ্ছে বিলগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের তিন গ্রামের জলাশয়ে বর্ষা থেকে ফুটতে শুরু করে পদ্মফুল। তবে এবার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে পদ্ম। হাতে গোনা পদ্মে হতাশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে কমছে পদ্ম। স্থানীয় লোকজন এসব পদ্মকে চেনেন বোরল ফুল নামে। উপজেলার মাগুড়া, ভাতুরিয়া ও জাদুরাণী গ্রামের বিলে দেখা মেলে এই ফুলের।

উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বিলটি ছেয়ে যেত পদ্মফুলে। একই দৃশ্য দেখা যেত ভাতুরিয়া গ্রামের ধূলিয়া বিলেও। এবার বিল দুটিতে চিরচেনা রূপ নেই। পদ্মের সংখ্যা হাতে গোনা।

কেবল জাদুরাণী গ্রামের তালুকদার বস্তি এলাকায় ‘সবার পুকুর’ নামে পুকুরে আশানুরূপ ফুটে আছে সাদা পদ্ম।

‘সবার পুকুরে’ গিয়ে দেখা গেল, শিশু-কিশোররা পানিতে নেমে তুলছে পদ্মফুল।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

সবার পুকুরের একাংশের মালিক মোমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুকুরটির প্রায় তিন একর জমি পদ্মফুলে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অংশীদার বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পুকুরটি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পদ্মফুলের তেমন বিস্তার হতে পারছে না।’

উপজেলার তালুকদার বস্তির কৃষক জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘সবার পুকুরে দীর্ঘদিন থেকে এই ফুল ফুটে আসছে। তবে এটা যে পদ্মফুল আমরা তা জানতাম না। স্থানীয়ভাবে বোরল নামে জানি পদ্মফুলকে। অনেক মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ফুল তুলে নিয়ে যায়।’

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

মাগুরা ও ভাতুরিয়া গ্রামের বিল ঘুরে দেখা যায়, কিছু পদ্ম সেখানেও ফুটেছে।

সেখানকার লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এসব বিলে বর্ষায় পদ্মের আড়ালে পানিই দেখা যেত না। এখন সেখানে আর তেমন ফুল ফোটে না।

ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাবণী পারভীন বলেন, ‘গত বছর হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। এ বছরও গেছিলাম। তবে ওই পুকুরটিতে এবার মাছ চাষ হয়েছে। সে জন্য পদ্মফুল হয়নি। এবার পাশের গ্রাম তালুকদার বস্তি এলাকায় সবার পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। বইয়ে পড়েছি; বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বিলগুলোতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেখা দেয় পদ্ম। এর পাতা বেশ বড়, গোলাকার ও পুরু হয়ে থাকে। পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি, লাল ও নীল রঙের হয়।

একসময় গ্রামের হাট-বাজারে ঝোলাগুড়, মাংস বা ছোট মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদ্মের পাতা ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থালা হিসেবে কলাপাতার বদলে পদ্মের পাতাও ব্যবহার হতো।

হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম পবিত্রতার প্রতীক। তাদের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই ফুল ব্যবহার হয়।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান নাসরিন জাহান বলেন, ‘পদ্ম সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল রঙের পদ্মফুল পাওয়া যায়। সম্প্রতি হলুদ রঙের পদ্মফুল দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালাচ্ছে।’

নাসরিন জানান, শিল্পায়নের কারণে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। জলাশয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারণে পদ্ম জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে আসছে এই জলজ ফুল।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাদা পদ্মের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হৃদরোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডায়রিয়া সারাতে এর বোটা কাঁচা খায় অনেকে। পদ্মের চাক, বীজ বা বোটা বেশ সুস্বাদু। পদ্মের পাতাতেও ওষধি গুণ আছে। এই পাতা দিয়ে চা-ও বানানো হয়।’

পদ্মফুলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের সচেষ্ট হওয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাসরিন বলেন, ‘সরকারি জলাশয় যেন বেদখলে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানির উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। পদ্মফুলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিষয়ে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

টিকার ডোজ সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ৮ নভেম্বর থেকে

টিকার ডোজ সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ৮ নভেম্বর থেকে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করোনার যে কোনো একটি টিকা গ্রহণ করলেই তাদের প্রবেশ করতে দেবে আমেরিকান প্রশাসন। নতুন নিয়মে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীরা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

বিদেশি নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল হচ্ছে আগামী মাসে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের জন্য ৮ নভেম্বর থেকে দরজা খুলছে দেশটি। ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। বিশ্বের ৩৩টি দেশের নাগরিকরা পাবেন এ সুবিধা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সবশেষ হালনাগাদকৃত ভ্রমণ নীতিমালা প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ। এতে বলা হয়েছে যে, টিকা নেয়া থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হতে হবে ভ্রমণেচ্ছু ব্যক্তিদের।

বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ২০২০ সালের মার্চে বিদেশি ভ্রমণকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ পদক্ষেপের ফলে সেসব নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা মাথায় রেখেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হবে।’

করোনাকালীন বিদ্যমান বিধিনিষেধ অনুযায়ী কয়েকটি দেশে ভ্রমণের ১৪ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ নেই বিদেশি নাগরিকদের। এসব দেশের তালিকায় আছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান ও ব্রাজিল।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করোনার যে কোনো একটি টিকা গ্রহণ করলেই তাদের প্রবেশ করতে দেবে আমেরিকান প্রশাসন।

নতুন নিয়মে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীরা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

নতুন নিয়ম নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ করোনার উচ্চ সংক্রমণে জর্জরিত ১৫০টি অন্য দেশের নাগরিকরা এখনও অবাধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছে।

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক দেরিতে ভ্রমণ নীতিমালা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তাপও দেখা দিয়েছিল ওয়াশিংটনের।

প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর থেকে মঙ্গলবার সীমান্তপথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এ সিদ্ধান্ত কেবল পূর্ণ টিকা গ্রহণকারীদের ওপর প্রযোজ্য। টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ওপর সীমান্তপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

১৯ মাস পর ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

১৯ মাস পর ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

গত বছর ভারতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২৮ লাখে নেমে আসে, ২০১৯ সালেও যে সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি। ছবি: এএফপি

ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া শুরু করলেও নতুন নির্দেশনাতেও কিছু বিধিনিষেধ রাখছে ভারত। জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগে সরবরাহকৃত সব ধরনের ট্যুরিস্ট ভিসাই অকার্যকর গণ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আগের ভিসার মেয়ার থেকে গেলেও এখন ভারতে প্রবেশে নতুন করে ভিসা নিতে হবে। অবশ্য ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষা, টিকা ও কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি নয়া দিল্লি।

দেড় বছরের বেশি সময় পর বিদেশি পর্যটকদের ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করেছে ভারত। কেবল ভাড়া করা বা ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ভারতে যাবেন, শুক্রবার থেকে কেবল এমন পর্যটকরা ঢুকতে পারবেন দেশটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈনিক সংক্রমণ কমতে থাকায় করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ শিথিলের প্রেক্ষিতে সীমান্ত খুলে দিয়েছে ভারত। তবে প্রাথমিকভাবে শুধু চার্টার্ড ফ্লাইটে ভারতগামীরাই ভিসা পাচ্ছেন।

এক মাস পর থেকে এ সুবিধার পরিসর আরও বাড়বে। বাণিজ্যিক বিমানে চড়ে ভারতগামী পর্যটকরা ভিসা পাবেন ১৫ নভেম্বর থেকে।

মহামারিকালীন বিধিনিষেধের কারণে গত ১৯ মাস ধরে ভারতে পা পড়েনি কোনো বিদেশি পর্যটকের। ২০২০ সালের মার্চে নরেন্দ্র মোদির সরকার মহামারির কারণে লকডাউন জারি এবং দেশের সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশটিতে ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া বন্ধ ছিল।

গত কয়েক মাস ধরে কেবল বিদেশি কূটনীতিক ও ব্যবসায়িক কারণে হাতেগোণা কিছু পেশাজীবীকে বিশেষ ভিসা দিয়েছে ভারত।

চলতি মাসের শুরুতেই বিদেশি পর্যটকদের ধাপে ধাপে ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করার ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। দেশটিতে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারে নেমে এসেছে, যা পাঁচ থেকে ছয় মাস আগেও ছিল প্রায় চার লাখ।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় করোনায় সংর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু দেখে ভারত।

ভারতে মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশের বেশি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার কমপক্ষে এক ডোজ নিয়েছেন।

কিন্তু সন্তোষজনক পরিস্থিতি এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন ভারতের বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মহামারির তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানলে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো করোনা ছড়ানোর কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠতে পারে।

মহামারির তৃতীয় ধাক্কা অনিবার্য বলে শঙ্কা ভারতীয় স্বাস্থ্যবিদদের।

এদিকে, বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে ভারতের পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ দেশটিতে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ারও সময় এখন। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ভারতীয় পেশাজীবীদের প্রত্যাশা, এবার ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরবে খাতটিতে।

ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ ভারতে তাজমহলের মতো সপ্তাশ্চর্য, প্রাচীন মন্দির ও দুর্গের মতো শৈল্পিক স্থাপনা, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা বরফে ঢাকা পর্বত এবং পশ্চিম ও দক্ষিণে সমুদ্র সৈকত বিদেশি পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত দেড় বছর ধরে এসব পর্যটনকেন্দ্র ছিল প্রাণহীন।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনার কারণে অর্থনীতি অচল হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২৮ লাখে নেমে এসেছিল। ২০১৯ সালেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি।

ভারতে মোট বার্ষিক প্রবৃদ্ধির প্রায় সাত শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। এ খাত সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িত কয়েক কোটি মানুষ। অর্থনীতিতে নজিরবিহীন সংকটের কারণে এ বছর পর্যটন খাতের সম্ভাব্য রাজস্ব ধরে রাখতে মরিয়া নয়া দিল্লি।

এ অবস্থায় ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া শুরু করলেও নতুন নির্দেশনাতেও কিছু বিধিনিষেধ রাখছে ভারত। জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগে সরবরাহকৃত সব ধরনের ট্যুরিস্ট ভিসাই অকার্যকর গণ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আগের ভিসার মেয়ার থেকে গেলেও এখন ভারতে প্রবেশে নতুন করে ভিসা নিতে হবে।

অবশ্য ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষা, টিকা ও কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি নয়া দিল্লি।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে গেছেন হাজার কর্মব্যস্ত মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদারআবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ছুটির দিনে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০% ভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। আর গত দুই দিনে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে।’

মৃদুমন্দ ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে। তাতে পা ভিজিয়ে হাঁটছেন নবদম্পতি রাজিয়া ও কবির। সিলেট থেকে এসেছেন মধুচন্দ্রিমায়।

কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্টে শুক্রবার সকালে গিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে।

কবির জানান, এটিই প্রথম সমুদ্র দেখা তাদের। সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে কক্সবাজার এসেছেন বৃহস্পতিবার রাতে। এসেই সৈকতে বসে জ্যোৎস্না দেখার সুযোগ পেয়ে যান।

কবির বলেন, ‘প্রথম এসেছি সমুদ্র সৈকতে। আবার জ্যোৎস্না রাতও পেয়েছি। জীবনে এমন সময় কখনও ভুলব না।’

সাপ্তাহিক ছুটি ও পূজার ছুটি এবার একই দিনে পড়েছে। তাই কেউ পূজা উপলক্ষে, কেউ সপ্তাহ শেষে অবসর কাটাতে জড়ো হয়েছেন সৈকতে। শুক্রবার সকাল থেকে তাই পর্যটকের ঢল সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে।

কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি সমুদ্র সৈকত জুড়ে শুক্রবার সকাল হতেই হাজার হাজার পর্যটক দেখা গেছে।

শহরের রাস্তায়ও ভিড়। রীতিমতো দেখা দিয়েছে যানবাহন সংকট। গণপরিবহণগুলো পর্যটকদের ‘রিজার্ভ’ ভাড়া ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা গেছে।

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘লকডাউনে দীর্ঘ দিন ঘরবন্দী মানুষগুলো এখন মুক্ত হাওয়ার সন্ধানে সাগর দেখতে আসছে। কক্ষ বুকিংয়ের প্রচুর কল পাই আমরা। তবে একটি কক্ষে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত পর্যটক থাকার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাপল বেড ও টুইন বেডে সর্বোচ্চ ২ জন অবস্থান করতে পারছেন।’

তিনি জানান, কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার পর্যটক রাত যাপন করতে পারছে এখন। করোনার আগে এই সক্ষমতা ছিল দ্বিগুণ।

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

আবুল কাশেম বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ছুটির দিনে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০% ভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। আর গত দুই দিনে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে।’

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এম এ হাসিব বাদল বলেন, ‘কক্সবাজারে এখন লাখো পর্যটক অবস্থান করছেন। শীত যতই ঘনিয়ে আসবে, কক্সবাজারে পর্যটকও তত বাড়বে।’

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন আহমদ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পুলিশের একাধিক দল সাদা পোশাকে সৈকতসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান করেছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত তারা।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

চা বাগান, হাওর ঘুরতে ট্যুরিস্ট বাস

চা বাগান, হাওর ঘুরতে ট্যুরিস্ট বাস

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নূসরাত লায়লা নীরা বলেন, ‘ট্যুরিস্ট বাসে দুইটি প্যাকেজ থাকছে। প্রথম প্যাকেজের ট্যুরিস্ট বাস প্রতিদিন সকাল ৯টায় পর্যটক নিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রা শুরু করবে বড়লেখার দিকে। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের বাস একই সময়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে বড়লেখা থেকে যাত্রা শুরু করবে।’

অটোরিকশা বা জিপে নয়, এখন থেকে ৩০০ টাকায় মৌলভীবাজারের পর্যটনস্পটগুলো ঘুরে দেখা যাবে ট্যুরিস্ট বাসে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যুরিস্ট বাস উদ্বোধন করা হবে। তবে আগেই বিক্রি শুরু হয়ে গেছে টিকিট।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নূসরাত লায়লা নীরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক করতে ৪০ সিটের দুইটি বাস দিয়ে এ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এতে দুইটি প্যাকেজ থাকছে। প্রথম প্যাকেজের ট্যুরিস্ট বাস প্রতিদিন সকাল ৯টায় পর্যটক নিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রা শুরু করবে বড়লেখার দিকে। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের বাস একই সময়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে বড়লেখা থেকে যাত্রা শুরু করবে।’

যদি সাড়া ফেলে তাহলে প্রয়োজনে আরও বাস নামানো হবে বলে জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এস কে দাস জানান, জেলা প্রশাসনের ট্যুরিস্ট বাস চালুর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এতে জেলায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে বাস সার্ভিস নিয়মিত তদারকির মধ্যে রাখতে হবে।

কী কী আছে দুই প্যাকেজে?

প্রথম প্যাকেজের যাত্রা শুরু হবে শ্রীমঙ্গল থেকে। চা বাগান, গগন টিলা, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ঘুরে বাস গিয়ে থামবে বড়লেখায়। টিকিটের দাম জনপ্রতি ৩০০ টাকা। দুপুরের খাবার খেতে চাইলে দিতে হবে আরও ১০০ টাকা।

বড়লেখা থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় প্যাকেজের যাত্রা। লাউয়াছড়া ইকোপার্ক, মাধবপুর লেক, সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা ও বাইক্কা বিল ঘুরে যাত্রা শেষ হবে শ্রীমঙ্গলে। এই প্যাকেজের টিকিটের দাম জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। খাবারের জন্য দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রথম দিন খাবার হিসেবে দেয়া হবে পোলাও, রোস্ট, ডিম ও আলুর চপ। প্রতিদিন মেন্যু পরিবর্তন করা হবে।

এই বাসে ভ্রমণ করলে কোনো ট্যুরিস্ট স্পটে দিতে হবে না প্রবেশ ফি।

কোথায় পাওয়া যাবে টিকিট?

শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডের শ্যামলী, মৌলভীবাজারের হানিফ ও বড়লেখার শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে ট্যুরিস্ট বাসের টিকিট কেনা যাবে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির

হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির

অষ্টগ্রামে ১০ থেকে ১২টি পরিবার এখন জড়িত পনির তৈরির কাজে। বাপ-দাদার পুরোনো পেশাকে ধরে রেখেছেন তারা। তাও আবার কৃষি কাজের ফাঁকে করেন পনির তৈরির কাজ। তবে তাদের অনেক সদস্য আবার পরিবারে কাজ শিখে চলে যাচ্ছেন জেলার বাইরে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে তৈরি পনিরের কদর সারা দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এটির প্রসার সম্প্রতি বেড়েছে।

মোগল আমল থেকেই দেশে-বিদেশে সুনাম কুড়িয়ে আসছে অষ্টগ্রামের পনির। সম্প্রতি এটি নিয়মিত যাচ্ছে গণভবন ও বঙ্গভবনে। আবার উপহার হিসেবে এ পনির যাচ্ছে দেশের বাইরেও।

তবে অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২টি পরিবার জড়িত আছেন পনির তৈরির কাজে। বাপ-দাদার পুরোনো পেশাকে ধরে রেখেছেন তারা। তাও আবার কৃষিকাজের ফাঁকে করেন পনির তৈরির কাজ। তবে তাদের অনেক সদস্য আবার পরিবারে কাজ শিখে চলে যাচ্ছেন জেলার বাইরে।

অনেকে আবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে গিয়েও পনির তৈরির কাজ করছেন। কেউ অন্যের দোকানে কারিগর হিসেবে, কেউ আবার নিজেই দোকান দিয়ে করছেন পনির তৈরির কাজ।

কথা হয় পনির তৈরির কারিগর ৭৫ বছর বয়সী মো. তোরাব আলীর সঙ্গে। তিনি কুতুবশাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। পনির তৈরি করতেন তার দাদা। দাদা থেকে শিখেছেন তার বাবা। আর বাবার কাছ থেকে এ কাজ শিখেছেন তিনি। তোরাব আলী জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার সঙ্গে পনির তৈরির কাজ করে আসছেন।

দাদার মুখ থেকে পনির তৈরির যে গল্প তোরাব আলী শুনেছেন, সে হিসেবে ধারণা করা হয়, প্রায় ৩০০ বছর আগে থেকে এ এলাকায় লোকেরা পনির তৈরি করে আসছেন। তিনি আরও জানান, এ উপজেলায় দত্তপাড়া নামের একটি বসতি ছিল। তখনকার অভিজাত শ্রেণির দত্ত বংশীয়দের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে পনির তৈরি শুরু হয়।

অষ্টগ্রামের মৌলভীবাজারে গিয়ে দেখা যায়, পনির তৈরি করছেন মন্টু মিয়া। তার সঙ্গে কাজ করছেন তার স্ত্রী সাফিয়া এবং কলেজপড়ুয়া ছেলে আকাশ।

হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির


মন্টু মিয়া জানান, মোগল ও পাঠানরা উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নে এসে ছাউনি ফেলে কিছুদিন সেখানে বসবাস করেন। সেখান থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস করতে শুরু করেন তারা। ওই সময় অষ্টগ্রামের বড় হাওরে কৃষকরা প্রচুর পরিমাণ গরু-মহিষ চরাতেন। এ সব গবাদিপশু থেকে যে দুধ পাওয়া যেত, তা ছিল চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে দুধ ফেলে দিত পানিতে। তবে কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ছানা তৈরি করতেন।

মোগল ও পাঠানরা একদিন হাওরে ঘুরতে গিয়ে দেখেন কৃষকরা দুধ দিয়ে ছানা তৈরি করছেন। শখ করে তারাও কৃষককে এ কাজে সহযোগিতা করেন। পরে এই ছানা দিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু খাবার। তারা এ খাবারের নাম দেন পনির। তখন থেকেই পনির তৈরি হয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।

যে কারণে সেরা অষ্টগ্রামের পনির

মন্টু মিয়ার ছেলে আকাশ জানান, বাংলাদেশে মূলত সাদা ও মোজারেলা– এ দুই ধরনের পনির তৈরি হয়। তবে পুরো অষ্টগ্রামে তৈরি হয় সাদা পনির।

অষ্টগ্রামের পনিরের বিশেষত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় গরু-মহিষ যে ঘাস খায়, সেগুলো পুরোপুরি সবুজ ও সতেজ। তাই এখানকার গবাদিপশু থেকে যে দুধ পাওয়া যায়, তা একদম নির্ভেজাল। অন্যদিকে খামারের গরু-মহিষকে বিভিন্ন জাতের কেমিক্যাল খাওয়ানো হয়। দুধেও ভেজাল থাকে। তা ছাড়া শহরে যারা পনির তৈরি করেন তারা আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে দুধ থেকে ক্রিম তুলে ফেলেন। দুধের ক্রিমই হচ্ছে আসল। যার ফলে ওই দুধ দিয়ে তৈরি পনির দেখতে মোটামুটি এক রকম হলেও স্বাদ ও গুণগত মানের দিক থেকে অনেক পার্থক্য থাকে, যেটা কেউ না খেলে বুঝবে না।

যেভাবে তৈরি হয় পনির

মন্টু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া আক্তার জানান, প্রথমে কাঁচা দুধ সংগ্রহ করে বড় একটি পাত্রে রাখা হয়। তারপর পুরোনো ছানার পানি (যেটাকে বীজ পানি বলা হয়) অথবা মাওয়া (গরু জবাইয়ের পর পর্দা কেটে সেটাকে শুকিয়ে তৈরি করা হয় মাওয়া)। এই মাওয়া অথবা বীজ পানি দিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দেওয়া হয়। রেখে দেওয়ার ৫-৭ মিনিট পর বাঁশের কাঠি দিয়ে পরীক্ষা করা হয় দুধ জমাট বাঁধছে কি না। দুধ জমাট হয়ে ছানায় পরিণত হলে চাকু দিয়ে ছানা কেটে পিস পিস করা হয়। আর পাত্রে জমানো পানি ফেলে দেওয়া হয়।

হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির

এরপর ছানার পিসগুলো বাঁশের টুকরি বা ফর্মায় তোলা হয়। পনিরের পানি ঝরে যাওয়ার পর প্রতিটি পনিরের মাঝে তিনটি ছিদ্র করে লবণ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। লবণ দিলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপায় থাকে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, লবণ দেয়ার পর পনির পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে প্যাকেট করা হয়।

এক কেজি পনির তৈরিতে ১০ কেজি দুধের প্রয়োজন হয়। দুই বছর আগেও ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় প্রতি কেজি পনির বিক্রি করা সম্ভব ছিল, কিন্তু এখন দুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি কেজি পনির বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

কারবালা হাটির পনিরের কারিগর এস এম নিশান মিয়াও বাপ-দাদার পুরোনো পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও পনিরের চাহিদা তেমন ছিল না। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে বেড়েছে পনিরের চাহিদা। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক এসে পনির নিয়ে যান। অনেকে মোবাইলে অর্ডার দিয়ে রাখেন।

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রপতি হাওরে এলে এসএসএফ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপস্থিতিতে পনির তৈরি করেন তিনি। আবার রাষ্ট্রপতি ফেরার পথেও অষ্টগ্রামের পনির নিয়ে যান। পরে বঙ্গভবন থেকে সে পনির উপহার হিসেবে পাঠানো হয় গণভবনেও।

হাওরের ঐতিহ্য অষ্টগ্রামের পনির

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, অষ্টগ্রামে একসময় অনেকে পনির তৈরি করলেও বর্তমানে এ সংখ্যা খুবই কম। যারা বর্তমানে এই পেশার সঙ্গে জড়িত, তারাও বেশির ভাগ কৃষক এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। কৃষিকাজের ফাঁকে ফাঁকে পনির তৈরির কাজ করেন তারা।

অষ্টগ্রামের পনিরের স্বাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বঙ্গভবন ও গণভবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা অষ্টগ্রামের পনির খাওয়ার আগ্রহ দেখান।

এই জনপ্রতিনিধি জানান, উপজেলা প্রশাসন পনির উৎপাদনকারীদের তালিকা করে পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। পনির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন

বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আকাশ পথে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আকাশ পথে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

ফাইল ছবি

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আকাশপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আজ সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। সিলেট-কক্সবাজার রুটে আগে থেকেই বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু রয়েছে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আকাশপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। বললেন, এর অংশ হিসেবে সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।

কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে বৃহস্পতিবার বিমানের সৈয়দপুর-কক্সবাজার ফ্লাইট উদ্বোধনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আকাশপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আজ সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। সিলেট-কক্সবাজার রুটে আগে থেকেই বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু রয়েছে।

‘সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যটকেরা সরাসরি কক্সবাজার আসতে পারবেন এবং কক্সবাজারের পর্যটকরা উত্তরবঙ্গের দর্শনীয় স্থান দেখতে সেখানে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আধুনিক ও তারুণ্যদীপ্ত বহরের উড়োজাহাজে ভ্রমণ করে যাত্রীরা এই সেবা গ্রহণ করবেন।’

মাহবুব আলী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজারকে ভালবাসতেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছেন। মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, নৌবাহিনীর সাবমেরিন স্টেশন নির্মাণ, মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ, চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, তিনটি পর্যটন পার্ক ও একটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল স্থাপনসহ কক্সবাজারকে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন তিনি।’

পর্যটনের প্রসারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া দ্বীপেও পর্যটন সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও জানান মাহবুব আলী।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি বৃহম্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সৈয়দপুর থেকে সরাসরি কক্সবাজার এবং ৯ অক্টোবর থেকে প্রতি শনিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে সরাসরি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম এয়ারলাইনস হিসেবে সৈয়দপুর থেকে কক্সবাজারে ফ্লাইট চালু করে বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজ ইউএস-বাংলার
ঢাকা-মাস্কাট রুটে চালু হচ্ছে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

শেয়ার করুন