সুরমা যেন আবর্জনার ভাগাড়

সুরমা যেন আবর্জনার ভাগাড়

সিলেট নগরের কুশীঘাট থেকে টুকেরবাজার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই সুরমাকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একেবারে বিবর্ণ হয়ে গেছে সুরমা। নদীর পানিতে ভাসছে অসংখ্য আবর্জনার স্তুপ।

দেখে মনে হতে পারে একটা ড্রেন; আবর্জনার ভাগাড়ও মনে হতে পারে। এমনই দশা সিলেট নগরের বুক চিড়ে বয়ে চলা সুরমা নদীর। যেন নগরীর সব কদর্যতা ধারণ করে আছে সুরমা।

তার উপর নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবেই, সিলেটে সুরমার দুই তীর দখল করে রেখেছেন ১১১ দখলদার। তারা গড়ে তুলেছেন দুই শতাধিক স্থাপনা। তবে পরিবেশকর্মীদের হিসাবে দখলদারের সংখ্যা আরও বেশি।

অব্যাহত দখল ও দূষণে হুমকির মুখে দেশের দীর্ঘতম এই নদী।

বিশ্বের সব দেশের মতো পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার পালিত হয় এই দিবস। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মানুষের জন্য নদী’।

নদী দিবসে যেন সুরমা তার দুঃখ মেলে ধরেছে। শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয় সুরমা। হেঁটেই পার হওয়া যায় নদীর এপার থেকে ওপার। পলি জমে গজিয়ে ওঠে চর। এর মধ্যে তীর দখল ও নদীতে বর্জ্যের কারণে এখন মৃতপ্রায় সুরমা। বর্ষায় তীর উপচে পানি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জনপদে। দেখা দেয় বন্যা।

সিলেট নগরের কুশীঘাট থেকে টুকেরবাজার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই সুরমাকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একেবারে বিবর্ণ হয়ে গেছে সুরমা। নদীর পানিতে ভাসছে অসংখ্য আবর্জনার স্তুপ।

নগরীর কাজীর বাজার মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায় ককশিট ও মাছের খাঁচা ভাসছে নদীতে। বাজারের সব আবর্জনা সরাসরি ফেলে দেয়া হয় নদীতে।

কাজীরবাজারের মাছের আড়তের শৌচাগারের পাইপ সরাসরি নামানো হয়েছে নদীতে। সরেজমিন দেখা গেছে, নদীতে গিয়ে পড়ছে শৌচাগারের ময়লা। এছাড়া পাশের বস্তির টয়লেটের ময়লার পাইপও নদীতে সরসরি লিংক করা সুরমায়।

একইভাবে সিলেটের পাইকারী বাজার কালীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পেঁয়াজ-রসুনের খোসা ভেসে যাচ্ছে নদীতে। কালীঘাটের সব আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হয় বলে জানালেন ওই এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবুল হোসেন।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে যে আবর্জনা নিয়ে যায় তার চেয়ে পাঁচগুণ আবর্জনা ফেলা হয় নদীতে। নদীর পানি দিন দিন দুষিত হয়ে পড়ছে। ওই পানি হাতে লাগলে চুলকায়।

নগরীর মাছিমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গৃহস্থালির যাবতীয় ময়লা ফেলা হচ্ছে নদীতে। আবার পাশেই দলবেঁধে নদীতে গোসল করছেন এলাকার লোকজন।

নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার নগরবাসীর সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, ‘নদীর এ চিত্র আমাকেও পীড়া দেয়। আমাদের অফিসটাও নদীর পাশেই। সিলেট সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি আছে। তারা চাইলে নদীর পানি দূষণ রোধ ও আবর্জনা ফেললে ব্যবস্থা নিতে পারত, কিন্তু তারা সেটি করছে না। তারা যদি ব্যবস্থা নেয় তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা যাবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে না। সবার আগে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সচেতন হতে হবে। সচেতন হলেই আমাদের নদী রক্ষা করা সম্ভব।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের দায়িত্ব। তারা এ ব্যপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা জানান, ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নদী, খাল, পুকুর ভরাট ও দূষণ করা যাবে না, এমনকি শ্রেণি পরিবর্তণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালের পানি অধিকার আইনেও পানি নিষ্কাশনে বাধা দেয়া যাবে না বা দূষণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ২০০০ সালের জলাধার আইনেও নদীর শ্রেনী পরিবর্তন করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীর পানি দূষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এসব তথ্য সংগ্রহ হলেই বেলার পক্ষ থেকে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বন্ধ উচ্ছেদ অভিযান

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সুরমা নদীর দখলদারের চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর মধ্যে সিলেট নগরে সুরমা নদীর ১১১ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়। তারা নদীর ৩ হাজার ৬০০ মিটার জায়গা দখর করে রেখেছেন বলে জানা যায়।

পাউবোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদীর তীর দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনায় আছে চাউলের আড়ত, মাইকের দোকান, কাপড়-জুতার দোকান, সেলুন, ফার্নিচার, সোনার দোকান, ফাস্টফুডের দোকান ও মাংসের দোকান। তবে প্রকৃত চিত্র এর চেয়ে আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালিকা করার পর ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। সিলেট নগরসহ কয়েকটি উপজেলায় চলে এই অভিযান। তবে একমাস পরেই এই উচ্ছেদ অভিযান মাঝপথে থেমে যায়।

উচ্ছেদ অভিযান থেমে যাওয়ার পর দখলমুক্ত হওয়া অনেক জায়গায় আবারও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘প্রকৃত দখলদারের সংখ্যা তালিকার চেয়েও বেশি সন্দেহ নেই। উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযান সব সময় চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় পুনরায় দখল হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নোটিসে আছে। যে কোনো সময় সেগুলো আবার উচ্ছেদ করা হবে।’

মৃতপ্রায় বেহাল সুরমার বিষয়ে নদী সুরক্ষার আন্তর্জাতিক অ্যালায়েন্সের সদস্য সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘অব্যাহত দখল ও দূষণে এই নদী এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। নদীর দূষণ ও দখল ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

পদ্ম ফুল কমে যাচ্ছে বিলগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের তিন গ্রামের জলাশয়ে বর্ষা থেকে ফুটতে শুরু করে পদ্মফুল। তবে এবার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে পদ্ম। হাতে গোনা পদ্মে হতাশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে কমছে পদ্ম। স্থানীয় লোকজন এসব পদ্মকে চেনেন বোরল ফুল নামে। উপজেলার মাগুড়া, ভাতুরিয়া ও জাদুরাণী গ্রামের বিলে দেখা মেলে এই ফুলের।

উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বিলটি ছেয়ে যেত পদ্মফুলে। একই দৃশ্য দেখা যেত ভাতুরিয়া গ্রামের ধূলিয়া বিলেও। এবার বিল দুটিতে চিরচেনা রূপ নেই। পদ্মের সংখ্যা হাতে গোনা।

কেবল জাদুরাণী গ্রামের তালুকদার বস্তি এলাকায় ‘সবার পুকুর’ নামে পুকুরে আশানুরূপ ফুটে আছে সাদা পদ্ম।

‘সবার পুকুরে’ গিয়ে দেখা গেল, শিশু-কিশোররা পানিতে নেমে তুলছে পদ্মফুল।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

সবার পুকুরের একাংশের মালিক মোমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুকুরটির প্রায় তিন একর জমি পদ্মফুলে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অংশীদার বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পুকুরটি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পদ্মফুলের তেমন বিস্তার হতে পারছে না।’

উপজেলার তালুকদার বস্তির কৃষক জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘সবার পুকুরে দীর্ঘদিন থেকে এই ফুল ফুটে আসছে। তবে এটা যে পদ্মফুল আমরা তা জানতাম না। স্থানীয়ভাবে বোরল নামে জানি পদ্মফুলকে। অনেক মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ফুল তুলে নিয়ে যায়।’

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

মাগুরা ও ভাতুরিয়া গ্রামের বিল ঘুরে দেখা যায়, কিছু পদ্ম সেখানেও ফুটেছে।

সেখানকার লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এসব বিলে বর্ষায় পদ্মের আড়ালে পানিই দেখা যেত না। এখন সেখানে আর তেমন ফুল ফোটে না।

ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাবণী পারভীন বলেন, ‘গত বছর হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। এ বছরও গেছিলাম। তবে ওই পুকুরটিতে এবার মাছ চাষ হয়েছে। সে জন্য পদ্মফুল হয়নি। এবার পাশের গ্রাম তালুকদার বস্তি এলাকায় সবার পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। বইয়ে পড়েছি; বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বিলগুলোতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেখা দেয় পদ্ম। এর পাতা বেশ বড়, গোলাকার ও পুরু হয়ে থাকে। পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি, লাল ও নীল রঙের হয়।

একসময় গ্রামের হাট-বাজারে ঝোলাগুড়, মাংস বা ছোট মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদ্মের পাতা ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থালা হিসেবে কলাপাতার বদলে পদ্মের পাতাও ব্যবহার হতো।

হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম পবিত্রতার প্রতীক। তাদের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই ফুল ব্যবহার হয়।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান নাসরিন জাহান বলেন, ‘পদ্ম সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল রঙের পদ্মফুল পাওয়া যায়। সম্প্রতি হলুদ রঙের পদ্মফুল দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালাচ্ছে।’

নাসরিন জানান, শিল্পায়নের কারণে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। জলাশয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারণে পদ্ম জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে আসছে এই জলজ ফুল।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাদা পদ্মের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হৃদরোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডায়রিয়া সারাতে এর বোটা কাঁচা খায় অনেকে। পদ্মের চাক, বীজ বা বোটা বেশ সুস্বাদু। পদ্মের পাতাতেও ওষধি গুণ আছে। এই পাতা দিয়ে চা-ও বানানো হয়।’

পদ্মফুলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের সচেষ্ট হওয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাসরিন বলেন, ‘সরকারি জলাশয় যেন বেদখলে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানির উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। পদ্মফুলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিষয়ে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় ভারী বর্ষণে ছয় জন প্রাণ হারায়। ছবি: ইন্ডিয়া টিভি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। নিখোঁজ অনেকে।

উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সাহায্য করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। ইতোমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ কেরালায় এনডিআরএফের ১১টি দল পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুরোধে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে কেরালায় অতিবৃষ্টি চলছে। একাধিক জায়গায় নেমেছে বাঁধভাঙা ঢল। পাঠানামথিত্তা, কোট্টায়াম, এর্নাকুলাম, ইদুক্কি, ত্রিচূর এবং পালাক্কাদ জেলাগুলোকে রেড অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এর বাইরে তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা, মালাপ্পুরাম, কোজিকোড আর ওয়াইনাদ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেরালার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টির কারণে ইদুক্কি এবং কোট্টায়াম জেলায় কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি জারি থাকবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে বন্যায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

মোদি কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সাথেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইটারে লিখেছেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রেক্ষিতে আমরা কেরালার কিছু অংশের পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছি। অভাবী মানুষকে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।’

কংগ্রেস নেতা ও কেরালার ওয়াইনাদ আসনের এমপি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, ‘আমার প্রার্থনা কেরালার মানুষের সঙ্গে আছে। দয়া করে নিরাপদ থাকুন এবং সব সুরক্ষা সতর্কতা অনুসরণ করুন।’

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

সুনামগঞ্জে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।’

আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তাহিরপুর উপজেলার শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি লেক) শনিবার দুপুরে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিসি বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।

‘আমরা পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেব। তারা লগি-বৈঠার নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাবেন। এটি কার্যকর হলে হাওরবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে। তাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

উদ্বোধন শেষে ডিসি হাওর এলাকার প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করেন এবং বিভিন্ন নৌকায় সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টানান।

ডিসি জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে অনেক পর্যটক এসেছেন।

‘তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাওরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্লেট, ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান, যার কারণে এখানে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। আমরা এগুলো আর মেনে নেব না। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সব পর্যটকদের সর্তক করে দিতে চাই আমরা।’

জেলা প্রশাসক জানান, তাদের এ অভিযান চলতে থাকবে। এছাড়া হাওরের মাঝিদের তালিকা করে নিবন্ধনের আওতায় এনে মাঝিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এছাড়া এখন থেকে সব নৌকায় একটি করে ডাস্টবিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও তার আশপাশের হাওর এলাকার পরিবেশদূষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

বাইডেন পেল দুই বোন

বাইডেন পেল দুই বোন

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দুটি মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছে বাঘিনী জয়া। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটের শাহাদাত হোসেন জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়ে শাবক দুইটির জন্ম হয়। শাবক দুটি সুস্থ আছে। সবকিছুই এখন স্বাভাবিক।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জয়া নামের বাঘিনী দুই মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাবক দুটির জন্ম হলেও বিষয়টি শনিবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন চিড়িয়াখানার কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ।

শাহাদাত জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়ে শাবক দুইটির জন্ম হয়। শাবক দুটি সুস্থ আছে। সবকিছুই এখন স্বাভাবিক।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৪ নভেম্বর প্রথম ছেলে শাবকের জন্ম দেয় জয়া। ওই শাবকের নাম রাখা হয় জো বাইডেন। তবে ওই শাবকের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করায় সেটিকে চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধানে ক্যাপটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে বড় করা হয়।

ক্যাপটিভ ব্রিডিং বলতে কৃত্রিম অবরুদ্ধ পরিবেশে যে কোনো ছানাকে তা (উত্তাপ) দেয়াকে বোঝায়।

শাহাদাত বলেন, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১ মাস বয়সী রাজ এবং ৯ মাস বয়সী পরী নামের দুটি বাঘকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই রাজ-পরি যুগলের তিনটি ছানার জন্ম হয়, যার মধ্যে দুটি ছিল হোয়াইট টাইগার, অন্যটি কমলা-কালো ডোরাকাটা।

পরদিন একটি হোয়াইট টাইগার মারা যায়। অন্য সাদা বাঘিনীটির নাম রাখা হয় শুভ্রা। কমলা-কালো বাঘিনীটির নাম দেয়া হয় জয়া। সেই জয়ার ঘরেই জন্ম নিলো দুই মেয়ে শাবক।

নগরীর ফয়’স লেক এলাকায় ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ৬৬ প্রজাতির ৬২০টি পশু-পাখি রয়েছে। এর মধ্যে বাঘ, সিংহ, কুমির, জেব্রা, ময়ূর, ভালুক, উটপাখি, ইমু, হরিণ, বানর, গয়াল, অজগর, শিয়াল, সজারু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এদিকে নতুন দুই বাঘ শাবক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২টি।

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

মুক্ত আকাশ পেল ২০ বক

মুক্ত আকাশ পেল ২০ বক

নাটোরের চলনবিল থেকে উদ্ধার পাখির ফাঁদ। ছবি: নিউজবাংলা

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে চলনবিলের কলিগ্রাম ও শালিখা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০টি বক। জব্দ করা হয় কলা ও খেজুরপাতার তৈরি ফাঁদঘর।

নাটোরে তিন পাখি শিকারীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যামাণ আদালত। এ ছাড়া মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে দুইজনকে।

শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার ২০টি বক অবমুক্ত করা হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে পাখি ধরার ফাঁদ।

সিংড়া সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসানের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয় ওই পাঁচ শিকারীকে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে চলনবিলের কলিগ্রাম ও শালিখা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন সিংড়া উপজেলার কলিগ্রামের মজিবুর রহমান, শালিখা গ্রামের সোলেমান হোসেন, কামরুল ইসলাম, নয়ন হোসেন ও নুর-এ-আলম।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে চলনবিলের কলিগ্রাম ও শালিখা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০টি বক। জব্দ করা হয় কলা ও খেজুরপাতার তৈরি ফাঁদঘর।

তিনি আরও বলেন, পাখিগুলো মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে পাখি ধরার ফাঁদ।

এ সময় রাজশাহী বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

ক্ষেতের পাশে পড়ে ছিল অর্ধশতাধিক মৃত বানর

ক্ষেতের পাশে পড়ে ছিল অর্ধশতাধিক মৃত বানর

স্থানীয়দের অভিযোগ, বানরগুলো প্রায় সময় লাউ ক্ষেতে নেমে গাছ নষ্ট করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষেতের মালিক দিনের কোনো এক সময় বিষ মেশানো কলা রেখে যায়। সেগুলো খেয়েই বানরগুলোর মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি লাউ ক্ষেতের পাশে অর্ধশতাধিক মৃত বানর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউ গাছের ক্ষতি করায় ক্ষেতের মালিক কলার সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বানরগুলো হত্যা করেছে।

উপজেলার বড় মহেশখালী মৌজার ভারিতিল্যা ঘোনা পাহাড়ে মঙ্গলবার মৃত বানরগুলো পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ি জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় লাউ ক্ষেতের পাশে বানরগুলোকে মৃত অবস্থায় দেখেন তারা। কিছু বানরের মৃতদেহ ছিল গাছে।

তাদের অভিযোগ, বানরগুলো প্রায় সময় লাউ ক্ষেতে নেমে গাছ নষ্ট করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষেতের মালিক দিনের কোনো এক সময় বিষ মেশানো কলা রেখে যায়। সেগুলো খেয়েই বানরগুলোর মৃত্যু হয়।

তবে ওই ক্ষেতের মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দুটি পরিচয় পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে মামলা করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের মহেশখালী উপজেলার সভাপতি দিনুর আলম বলেন, ‘বন্যপ্রাণী হত্যা আইনগত অপরাধ। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলায় পাহাড়ে বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল হুমকিতে পড়ছে। সবার অগোচরে পাহাড়ি এলাকায় নির্বিচারে চলছে বন্যপ্রাণী হত্যা।

এ বিষয়ে জানতে মহেশখালী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ভালুকা উপজেলায় তিন শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সবটাতেই বর্জ্য শোধনাগার রয়েছে। তবে বেশির ভাগের মান ভালো না। ভালোভাবে বর্জ্য শোধন করা হচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান খিরু নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলে দূষিত করছে।’

দেড় দশক আগেও খিরু নদীর বুকচিরে চলত লঞ্চ ও পালতোলা নৌকা। স্বচ্ছ টলমলে পানিতে পাওয়া যেত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এলাকার কৃষিকাজে ব্যবহৃত হতো ওই পানি। নদীর জলেই গোসল সারতেন দুই পারের বাসিন্দারা।

শিল্প-কারখানার দূষণে সেসব শুধুই স্মৃতি। স্বচ্ছ পানি আলকাতরার রং ধারণ করে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দখল আর দূষণে ময়মনসিংহের ভালুকায় খিরু নদী পরিণত হয়েছে সংকীর্ণ খালে।

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত নদীটি খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, ‘আগে এই নদীর পানি দিয়ে জমি চাষ করেছি। সাঁতার কেটে গোসল করেছি। সময়ের ব্যবধানে নদীর দৃশ্য পাল্টে পানি কালো কুচকুচে রং ধারণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন এই পানি কোনো ফসলেই ব্যবহার করা যায় না। স্পর্শ করলে চুলকানি হয়।’

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

একই গ্রামের বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য অবাধে নদীর পানিতে ফেলা হচ্ছে। ফলে কোনো ধরনের মাছ নদীতে নেই।’

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে ভালুকায় গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানাগুলোর বর্জ্যে দূষিত হয়েছে খিরু নদী। নদীটিকে দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে বারবার বলেছি। অথচ অজানা কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।’

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জাহান বলেন, ‘কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে অ্যালুমিনিয়াম বেশি থাকে। এ ছাড়া কেমিক্যাল ও ধাতব পদার্থ থাকে। ফলে এ পানি কৃষিজমিতে ব্যবহার করা যাবে না। যদি ব্যবহার করা হয় তাহলে পাতা মরে ফলন নষ্ট হবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, ‘খিরু নদীর দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর সীমান্ত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়ে ভালুকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এ নদী। অনেক বছর ধরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীটি।’

তিনি বলেন, ‘দখল হওয়া জায়গাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত দখলকারীদের তালিকা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দখল-দূষণে মৃত উত্তাল খিরু নদী

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা আক্তার বলেন, ‘এ বছরের ১২ জুন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম খিরু নদী পরিদর্শন করেছেন। নদীটি খনন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত খননকাজ শুরু হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ভালুকা উপজেলায় তিন শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সবটাতেই বর্জ্য শোধনাগার রয়েছে। তবে বেশির ভাগের মান ভালো না। ভালোভাবে বর্জ্য শোধন করা হচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান খিরু নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলে দূষিত করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই এসব প্রতিষ্ঠানকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করছি। সম্প্রতি টাইটেল বাংলা, মাহদী ও আকিজ গ্রুপসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে। নদীটিকে রক্ষার স্বার্থে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও বর্জ্য শোধনাগার না থাকলে কিংবা সঠিকভাবে বর্জ্য শোধন না করলে জরিমানার পাশাপাশি অধিদপ্তরে লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
নদীর আবর্জনা সরাতে বিনিয়োগ করতে চায় স্পেন
ফেনী নদীর ভাঙন পাল্টে দিতে পারে মানচিত্র

শেয়ার করুন