‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

অচিনপুরী পরিচয়ে সিলেটি ভাষায় গান গেয়ে ভাইরাল চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়। অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানে তেমন কোনো তালিম না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

কক্ষের আশপাশে ছড়িয়ে আছে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। দেয়ালে ঝোলানো ওষুধ কোম্পানির ওয়ালম্যাট। সাদামাটা একটি চক্ষু চিকিৎসার চেম্বার। ভেতরে বসা ঝাকড়া চুলের মধ্যবয়স্ক এক লোক। পাশে কয়েকজন বসে বাদ্য বাজাচ্ছেন। গান গাইছেন মধ্যবয়সী ব্যক্তিটি।

এ রকম কয়েকটি গান ফেসবুকে এখন ভাইরাল। বিশেষত সিলেট অঞ্চলের শ্রোতা-দর্শকদের কাছে গানগুলো বেশ আলোচিত।

ওই চেম্বারে বসে যিনি গান গেয়েছেন তিনি চিকিৎসক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ। নিজের সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘আমি আসলে গানের লোক, গান ছাড়া তৃপ্তি পাই না।’

এ ‘গানের লোক’ হলেন চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। গানের ভনিতায় নিজেকে পরিচয় দেন ‘জহির অচিনপুরী’ হিসেবে। শ্রোতারা তাকে ‘অচিনপুরী’ নামেই সম্বোধন করেন।

ফেসবুক পেজে নিজের পরিচয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আমি, করি চোখের ডাক্তারি/গান আমার প্রাণের খোরাক, রচি সংগীত অচিনপুরী।’

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়।

অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

মরমী সাধনার এক উজ্জ্বল চারণভূমি সুনামগঞ্জ। হাসন রাজা, রাধারমণ, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমের মতো মরমী সাধকরা ঋদ্ধ করে গেছেন বাংলা সংগীতকে।

জহির অচিনপুরীর জন্ম এ জেলারই ছাতকে। তার বাবা ময়না মিয়াও মরমী ধারার লোক; গানও লিখেন। সেই সূত্রে তার মধ্যেও বহমান মরমী ধারা।

রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জহির। এ ছাড়া ঢাকার রায়েরবাজারে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য চেম্বার আছে তার।

কাজের কারণে মূলত ঢাকাতেই থাকেন। প্রতি বৃহস্পতিবার চলে আসেন সিলেট। শনিবার পর্যন্ত তিন দিন নগরের লামাবাজারে ‘সালেহা আই কেয়ার সেন্টার’ নামে নিজের চেম্বারে বসেন।

শরতের এক তপ্ত দুপুরে লামাবাজারে চেম্বারে দেখা মেলে জহির অচিনপুরীর। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তার দলবলও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তারা আবার ওই চেম্বারেই কাজ করেন।

চেম্বারটির ব্যবস্থাপক আব্দুল মনাফ বাজান পারকাশন, কর্মী সিজান বাজান হারমোনিয়াম। আর জুয়েল তাল তোলেন তবলায়।

চেম্বারের কাছে অচিনপুরীর স্টুডিও। যখন রোগী থাকে না তখন স্টুডিওতেই সময় কাটান তিনি। নিউজবাংলার এই প্রতিবেদককে দেখে চেম্বারেই গান শুরু করেন তিনি। এর ফাঁকে চলে গল্প।

অচিনপুরী বলেন, ‘ছোটবেলায় মজা করে গান করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে গাইতাম। গানের লোকদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তবে কখনো সেইভাবে গান শিখিনি।’

ছাতকে স্কুলে পড়াকালীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন জহির। এরপর সংগীতশিল্পী কেতকী আচার্যের কাছে কিছুদিন স্বরলিপি শিখেছেন।

অচিনপুরী বলেন, ‘সে সময় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী গৌরি চৌধুরীসহ কয়েকজন কেতকী আচার্যের কাছে গান শিখতেন। আমিও তাদের সঙ্গে যেতাম; তাদের সঙ্গে গলা মিলাতাম। তবে তখন আমার আগ্রহ ছিল অভিনয়ে। যদিও গান শুনতাম প্রচুর।’

ছোটবেলার এক অভিজ্ঞতার কথা জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে প্রথমবারের মতো একটি গানের প্রতিযোগিতায় নাম দেই। সেখানে তৃতীয় হই। তবে পড়াশোনার কারণে গানে মনোযোগ দিতে পারিনি। আর মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় কবিতার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ি।’

এইচএসসি শেষে জহির ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে পড়ার সময় আবার গানের ঝোঁক পেয়ে বসে তাকে। সংগীত শিক্ষক বিপ্রদাস ভট্টাচার্য বাপ্পুর কাছে কিছুদিন গানও শেখেন। সেই সঙ্গে চলে কবিতা লেখালেখি।

বন্ধুদের আড্ডায় জনপ্রিয় গানের প্যারোডি করতেন তিনি। আর সবসময় শুনতেন মরমী সাধকদের গান।

জহির বলেন, ‘হাসন রাজার গান আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তার জীবনদর্শনও আমাকে টানে। হাসন রাজা জমিদার হয়েও জমির মায়ায় জড়াননি। তিনি দুনিয়ার ভেতরে থেকেও অন্য দুনিয়ায় ছিলেন। এসব কারণে তাকে ভালো লাগে।’

২০০৫ সালের দিকে যখন গান গাওয়া শুরু করলেন, তখন হাসন রাজাকে ভালোবেসে নিজের নাম বদলে রাখেন ‘জহির কানাই’। তখন সবে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানকারই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতেন।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জহির গান লেখা শুরু করেন ২০১০ সালে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার মাথায় দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চিন্তা পেয়ে বসেছে। এর মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণে ভারতে যাই। সেখানে গিয়েই ভাবনা পাল্টে যায় আমার। ভারতে গিয়ে দেখি, অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিদেশের বিলাসী জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে নিজ দেশে থেকে মানুষের সেবা করছেন। আমিও তখন সিদ্ধান্ত নিই, দেশে থেকেই মানুষের চিকিৎসায় কাজ করব।’

তিনি বলেন, “এ রকম সময়ই আমার মাথায় হঠাৎ একটি গান আসে। মাকে নিয়ে গান, ‘আমি হব না দেশান্তরি, থাকিব থাকিব মায়ের চরণ ধরি।’ এরপর গানটি রেকর্ড করি। তখন আমার এক সহকর্মী আমার নাম দেন, ‘অচিনপুরী’। তার নামটি আমার পছন্দ হয়। নামের সঙ্গে অচিনপুরী জুড়ে দেই।”

২০১৩ সালে ইউটিউবে প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলেন তিনি। নাম দেন ‘অচিনপুরী মিউজিক ভ্যালি’। এরপর ফেসবুকেও একই নামে পেজ খুলেন।

অচিনপুরী বলেন, “প্রথমে আমার ছাত্র, বন্ধু, সহকর্মীরাই কেবল আমার গান শুনত; বাইরের লোকজন তেমন শুনত না। তবে ২০১৬ সালে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া ‘মুই বালা নায়’ শিরোনামে একটি গান অনেক জনপ্রিয় হয়। এরপর ‘খাউজ্জানি’ নামে সিলেটের ভাষার আরেকটি গান করি। এটা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে; আমাকে পরিচিতি এনে দেয়।”

কথা বলতে বলতেই অচিনপুরী গেয়ে ওঠেন, ‘পরোর বালা দেখলে আমার গতরো উঠে খাউজ্জানি/ও বাবু বুঝছোনি, হায়রে মজার খাউজ্জানি।’

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গান লেখার কথা জানিয়ে অচিনপুরী বলেন, ‘সবগুলো রেকর্ড করা হয়নি। সংরক্ষণের অভাবে কিছু হারিয়েও গেছে। আমি অগোছালো মানুষ। সব সামলে রাখতে পারি না।’

‘চিকিৎসক হওয়ায় ব্যস্ত জীবন। তবু গানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া কেন?’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জবাবে অচিনপুরী বলেন, ‘আমি নিজের আত্মিক উন্নয়ন ও আত্মতুষ্টির জন্যই গান করি। নিজেকে পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গানে গানে মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চাই। এ ছাড়া একটা মায়ার জগৎ গড়ার লক্ষ্যে গান করি, যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না; সম্প্রীতি থাকবে, বন্ধন থাকবে।’

মরমী গানকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করতে চান জহির। নতুন প্রজন্মের কাছে সেগুলো নতুনভাবে সামনে আনতে চান।

গান গাইতে গিয়ে কিছু মানুষের কটূ কথার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার গান শুনলে ভালো লাগে, আনন্দ হয়। আমি চাই আমার সৃষ্টিগুলো মানুষ দেখুক, শুনুক। মানুষ যখন আমার গান শুনে প্রশংসা করে, তখন খুশি হই। আবার গান করায় ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকারও হতে হয়। অনেকে কটূ মন্তব্য করে।

‘এখন ফেসবুক বা ইউটিউবে আপ দেয়া গানের নিচের মন্তব্যগুলো আর পড়ি না। এগুলো পড়লে হতাশ হয়ে যাই। সব সৃজনশীল মানুষকে এই সমস্যায় পড়তেই হয়। ফলে এগুলো গায়ে মাখি না। আমি দেখি নিজের অবস্থানে-বিশ্বাসে ঠিক আছি কি না।’

জহির আরও বলেন, ‘আমার মধ্যে কৃত্রিমতা নাই। যা বিশ্বাস করি, যা ধারণ করি তাই কথা ও সুরে প্রকাশ করি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টাইমস স্কয়ারে প্রথমবার দেশের সিনেমা

টাইমস স্কয়ারে প্রথমবার দেশের সিনেমা

ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি প্রেক্ষাগৃহে এবং কানাডার ২টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শন শুরু হবে ১৯ নভেম্বর থেকে। পরবর্তী সময়ে প্রেক্ষাগৃহ সংখ্যা বাড়বে আশা করি।’

যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে ২৫টি থিয়েটার স্ক্রিন নিয়ে গঠিত এমসি এম্পায়ার ২৫। এসব প্রেক্ষাগৃহে মূলধারার ও স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এই যেমন এখন জেমস বন্ড, মারভেলের সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে সেখানে।

এই এমসি এম্পায়ার ২৫-এ প্রদর্শিত হবে দেশের সিনেমা ঊনপঞ্চাশ বাতাস। এটিই টাইম স্কয়ারের প্রেক্ষাগৃহে বাংলাদেশের কোনো সিনেমার প্রথম প্রদর্শন। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করছেন সিনেমার পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।

নভেম্বরের ১৯ তারিখে সিনেমাটি প্রদর্শন হবে এমসি এম্পায়ার ২৫-এর প্রেক্ষাগৃহে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রেক্ষাগৃহে একই দিনে বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি প্রেক্ষাগৃহে এবং কানাডার ২টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শন শুরু হবে ১৯ নভেম্বর থেকে। পরবর্তী সময়ে প্রেক্ষাগৃহ সংখ্যা বাড়বে আশা করি।’

টাইমস স্কয়ারে প্রথমবার দেশের সিনেমা
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রেক্ষাগৃহে ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমা প্রদর্শনীর সময়সূচি। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমাটি দুই দেশে পরিবেশনার কাজটি করছে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব সপ্তক। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে জানিয়েছেন তিনি।

২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তি পায় ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমাটি। পরিচালক উজ্জ্বলের প্রথম সিনেমা এটি। এ সিনেমার মাধ্যমে অভিষেক হয় শার্লিন ফারজানা ও ইমতিয়াজ বর্ষণের।

পরিচালনার পাশাপাশি উজ্জ্বল নিজেই করেছেন সিনেমার কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্য, শিল্প নির্দেশনা ও সংগীত পরিচালনা।

শেয়ার করুন

ফের চালু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি

ফের চালু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি

‘নতুন কুঁড়ি’ ফের চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ৷ ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশে মাঝেমধ্যে যে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের আস্ফালন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়, এসব আরও কমে যাবে যদি আমরা শিশুদের সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাদের ভেতরে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা সঞ্চার করতে পারি।’

প্রতিভা অনুসন্ধানে শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ফের চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ৷ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিশুদের সংস্কৃতিচর্চা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা মিলনায়তনে নর্থ বেঙ্গল জার্নালিস্ট ফোরাম (এনবিজেএফ) আয়োজিত শিশু সংগঠক ও সাংবাদিক রফিকুল হকের (দাদু ভাই) স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশে মাঝেমধ্যে যে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের আস্ফালন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়, এসব আরও কমে যাবে যদি আমরা শিশুদের সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাদের ভেতরে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা সঞ্চার করতে পারি।’

এ সময় শিশুপ্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানটি আবার চালুর নির্দেশ দেন তথ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে সাপ্তাহিকভাবে শিশুতোষ পাতা প্রকাশের অনুরোধ করেন তিনি।

ফের চালু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা মিলনায়তনে শিশু সংগঠক ও সাংবাদিক রফিকুল হকের (দাদু ভাই) স্মরণসভায় বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ৷ ছবি: নিউজবাংলা

মানুষের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তারে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. হাছান মাহমুদ। রফিকুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুদের প্রতিভা বিকাশে তার ভূমিকা অনুসরণীয়। এ জন্য কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেছেন, দাদু ভাই না থাকলে তার হয়তো লেখক হওয়াই হতো না।’

সাংবাদিকরা দেশের মানুষের মনন তৈরিতে সক্ষম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকদের হাতে কলম রয়েছে, ক্যামেরাও রয়েছে। মানুষের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তারে কাজ করার মাধ্যমে তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

দৈনিক বর্তমানের নির্বাহী সম্পাদক ও এনবিজেএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজমুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামালসহ এনবিজেএফের সদস্যরা বক্তৃতা দেন।

তারানা হালিম, সামিনা চৌধুরী, রুমানা রশীদ ঈশিতা, তারিন আহমেদ, তমালিকা কর্মকার ও মেহের আফরোজ শাওনসহ অনেক প্রতিভাবান শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছিল নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে।

১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানটি সবশেষ সম্প্রচারিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। ১৬ বছর পর ফের টিভি রিয়েলিটি শোটি শুরু হতে যাচ্ছে।

কোরআন তেলাওয়াত, গল্প বলা, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয়, দলীয় অভিনয়, লোকনৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকগীতি, ছড়া আবৃত্তি ইত্যাদি বিষয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ শাখায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শাখার প্রতিযোগীদের বয়সসীমা ৬ থেকে ১০ এবং ‘খ’ শাখার ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছর।

শেয়ার করুন

আরিয়ানকে গাঁজা জোগাড় করে দিতে চেয়েছিলেন অনন্যা

আরিয়ানকে গাঁজা জোগাড় করে দিতে চেয়েছিলেন অনন্যা

এনসিবি ডেকে নিয়েছিল অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডেকে। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার দ্বিতীয় দফা জেরার জন্য বেলা ১১টার দিকে এনসিবি ডেকে পাঠিয়েছিল অনন্যাকে। তিনি বেলা ২টার দিকে এনসিবির দপ্তরে পৌঁছান। এনসিবির সঙ্গে অনন্যার কী কথা হয়েছে, সেটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

বৃহস্পতিবারই বলিউড অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডের কন্যা বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডের বাসায় তল্লাশি করেছে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি)।

পরদিন অর্থাৎ শুক্রবারেই পাওয়া গেল নতুন তথ্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মাদক মামলায় অভিযুক্ত শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ানের সঙ্গে অনন্যার অনেকবার কথা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। সেই কথোপকথনে বারবারই এসেছে মাদক প্রসঙ্গ।

এমনকি এনসিবির হাতে আসা একটি কথোপকথনে আরিয়ানকে গাঁজার জোগান দেয়ার আশ্বাসও দিতে দেখা যায় অনন্যাকে।

তবে এনসিবি জানিয়েছে, অনন্যার বিরুদ্ধে গাঁজা সংগ্রহ বা সরবরাহের কোনো প্রমাণ এখনও হাতে পায়নি তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনন্যার দাবি তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ‘নিছক রসিকতা করতেই ওই সব কথা বলেছিলেন তিনি।’

শুক্রবার দ্বিতীয় দফা জেরার জন্য বেলা ১১টার দিকে এনসিবি ডেকে পাঠিয়েছিল অনন্যাকে। তিনি বেলা ২টার দিকে এনসিবির দপ্তরে পৌঁছান।

এনসিবির সঙ্গে অনন্যার কী কথা হয়েছে, সেটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সেখানে বলা হয়েছে, গাঁজার জোগান চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে অনন্যাকে অনুরোধ করেছিলেন আরিয়ান। জবাবে অনন্যা বলেন, ‘আমি ব্যবস্থা করব।’

এনসিবির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়, এ কথা ছাড়াও মাদক নিয়ে অনেকবার কথা হয়েছে আরিয়ান-অনন্যার।

অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মাদক মামলায় আরও জেরা হতে পারে ভেবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনন্যা। বেশ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখছেন শুটিংও।

শেয়ার করুন

নায়কের গুলিতে ক্যামেরাম্যান নিহত

নায়কের গুলিতে ক্যামেরাম্যান নিহত

অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন (বাঁয়ে) ও ক্যামেরাপার্সন গালিনা হাচিন্স। ছবি: সংগৃহীত

খেলনা বন্দুকের মধ্যে কী উপাদান ছিল এবং শুটিং সেটে খেলনা বন্দুকের জায়গায় আসল বন্দুক ঢুকে গেল কি না- তাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সিনেমায় নায়ককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গোলাগুলি করতে দেখা যায়। এটি সিনেমার নিয়মিত, প্রচলিত ও স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে গেছে এখন।

সেই গোলাগুলি যেমন কৃত্তিমভাবে তৈরি করা হয় তেমনি সেই দৃশ্যে যাদের মৃত্যুবরণ করতে দেখা যায় তারাও কিন্তু সত্যি সত্যি মারা যান না। এ সব এখন সবারই জানা।

সেভাবেই শুটিং সেটে খেলনা বন্দুক দিয়ে শুটিং করছিলেন হলিউড অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। মজা করার ছলে সেই খেলনা বন্দুক দিয়ে সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার বা ক্যামেরাম্যানকে গুলি করেন বল্ডউইন।

অভিনয় করার মতোই গুলি গুলি খেলার মতো ঘটনা ঘটবে বলেই মনে করেছিলেন সবাই কিন্ত যা ঘটলো তাতে সবাই হতবাক, বিস্মিত।

বল্ডউইনের খেলনা বন্দুক দিয়ে করা সেই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ক্যামেরাপার্সন গালিনা হাচিন্স।

আহত হয়েছেন সিনেমার পরিচালক জোয়েল সুজা। নিউ মেক্সিকোতে অ্যালেক অভিনীত এবং প্রযোজিত সিনেমার দৃশ্যাধারণ চলছিল। সেখানেই ঘটে এ দুর্ঘটনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি এ ঘটনায়। আপাতত তদন্ত চলছে।

খেলনা বন্দুকের মধ্যে কী উপাদান ছিল এবং শুটিং সেটে খেলনা বন্দুকের জায়গায় আসল বন্দুক ঢুকে গেল কি না- তাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ক্যামেরাপার্সন গালিনা হাচিন্সকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসা চলছে পরিচালকের। সিনেমার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

নোরাকে বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছিলেন প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ

নোরাকে বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছিলেন প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ

বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইডির অনুমান, অভিযুক্ত সুকেশ নোরাকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন।

২০০ কোটি রুপির একটি আর্থিক প্রতারণার মামলার তথ্য পেতে সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে তলব করেছিল ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

এই অর্থ প্রতারণা মামলার মূল অভিযুক্ত চেন্নাইয়ের বাসিন্দা সুকেশ চন্দ্রশেখর। তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দিল্লির এক ব্যবসায়ী।

তদন্তকারী সংস্থার অনুমান, এই অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করেছিলেন প্রতারণাকারী। বলিউডের বেশ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে এই মামলায়।

নোরাকে বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছিলেন প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ
বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইডির অনুমান, অভিযুক্ত সুকেশ নোরাকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন।

নোরাকে বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছিলেন প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ
বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। ছবি: সংগৃহীত

ইডিকে নোরা জানিয়েছেন, তাকে সুকেশের স্ত্রী অভিনেত্রী লীনা মারিয়া পল একটি ইভেন্টের জন্য আমন্ত্রণ করেছিলেন ৷ চেন্নাইতে গত বছর ডিসেম্বরে ওই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ৷

নোরাকে বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছিলেন প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ
গত ১৪ অক্টোবর নোরা ফাতেহিকে তলব করেছিল ইডি। ছবি: সংগৃহীত

একই মামলায় একাধিকবার তলব করা হয় আরেক বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকেও। সবশেষ গত ১৫ অক্টোবর জ্যাকুলিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সংস্থাটি।

এই অর্থ প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত সুকেশ ও তার স্ত্রী লীনা আপাতত বন্দি রয়েছেন দিল্লির রোহিনী জেলে।

ইডি সূত্রের বরাত দিয়ে সেই খবরে বলা হচ্ছে, এই দুই অভিযুক্তের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে জ্যাকুলিন এবং নোরার।

শেয়ার করুন

৬ প্রেক্ষাগৃহে ‘ঢাকা ড্রিম’

৬ প্রেক্ষাগৃহে ‘ঢাকা ড্রিম’

‘ঢাকা ড্রিম’ সিনেমার দৃশ্যে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। ছবি: সংগৃহীত

পরিচালক প্রসূন রহমানের কথায়, ঢাকা ড্রিম সিনেমাটি ঢাকা বাদ দিয়ে বাকি ৬৩ জেলার যেকোনো জেলার গল্প। যে কেউ এ গল্পের সঙ্গে নিজেকে রিলেট করতে পারবেন। এর চরিত্রগুলো আমাদের দেখা, আমাদের চেনা ‌চারপাশ থেকে নেয়া। কেউ হয়তো আমাদেরই একজন।

অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি, জীবিকার প্রয়োজন এবং উন্নত জীবনের আশায় ঢাকায় আসতে‌ চাওয়া, আসতে বাধ্য হওয়া কিছু প্রান্তিক মানুষের স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ঢাকা ড্রিম

দেশের ৬টি প্রেক্ষাগৃহে শুক্রবার মুক্তি পেল সিনেমাটি। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা ড্রিম-এর নির্মাতা প্রসূন রহমান।

ঢাকা ড্রিম যেসব প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে- স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা সিটি), স্টার সিনেপ্লেক্স (সনি স্কয়ার, মিরপুর), ব্লকবাস্টার সিনেমাস (যমুনা ফিউচার পার্ক), শ্যামলী সিনেমা (শ্যামলী স্কয়ার), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ) ও রাজ সিনেমা (কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ)।

পরিচালক প্রসূন রহমানের কথায়, ঢাকা ড্রিম সিনেমাটি ঢাকা বাদ দিয়ে বাকি ৬৩ জেলার যেকোনো জেলার গল্প। যে কেউ এ গল্পের সঙ্গে নিজেকে রিলেট করতে পারবেন। এর চরিত্রগুলো আমাদের দেখা, আমাদের চেনা ‌চারপাশ থেকে নেয়া। কেউ হয়তো আমাদেরই একজন।

এর আগে কানাডার দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইফসা টরন্টো’তে আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার হয় ঢাকা ড্রিম সিনেমাটির।

ইমোশন ক্রিয়েটরের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, মনিরা মিঠু, শাহাদাত হোসেন, জয়ীতা মহলানবীশ, পূর্ণিমা বৃষ্টি, আবদুল্লাহ রানা, হিন্দোল রায়, শাহরিয়ার সজীব, নাইরুজ সিফাত, ইকবাল হোসেন, সুজাত শিমুল, আরশ খান, সায়মা নীরা এবং প্রয়াত এস এম মহসীনসহ অনেকে। চলচ্চিত্রটির সংগীতায়োজন করেছেন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ।

শেয়ার করুন

হলিউডের সিনেমা ‘ডিউন’ চলছে ঢাকায়

হলিউডের সিনেমা ‘ডিউন’ চলছে ঢাকায়

‘ডিউন’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমায় তিমোথির নাম পল অ্যাট্রেইডেস। এমন কিছু ক্ষমতা ও আশীর্বাদ নিয়ে তিনি জন্ম নিয়েছেন, যা তার নিজেরই অজানা। মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর গ্রহে তিনি সংগ্রাম করছেন পরিবার ও নিজের লোকদের রক্ষা করতে।

২০২০ সালে মুক্তির তালিকায় থাকা অনেক সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে ২০২১ সালে। সে তালিকার একটি নাম ডিউন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিভিত্তিক সিনেমাভক্তরা সিনেমাটি দেখে আনন্দ নিতে পারেন।

প্রথম ট্রেলারেই দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয় সিনেমাটি নিয়ে। করোনাকালে অন্য অনেক সিনেমার মতো এটিও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেয়া হবে বলে গুঞ্জন ছিল। সে গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সিনেমাটি বড় পর্দাতেই মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রযোজকরা।

শুক্রবার আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে সিনেমা ডিউন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই দিনে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।

ফ্র্যাঙ্ক হার্বার্টের ১৯৬৫ সালের উপন্যাস ‘ডিউন’ অবলম্বনে একই নামে বড় পর্দার জন্য সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অস্কার মনোনীত পরিচালক ডেনিস ভিলেনিউভে।

সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিমোথি স্যালামে, রেবেকা ফার্গুসন, অস্কার আইজ্যাক, জোশ ব্রোলিন, স্টেলান স্কার্সগার্ড, ডেভ বুটিস্টা, চ্যাং চেন, জেনডায়া, স্টিফেন ম্যাককিনলি হেন্ডারসন ও অস্কারজয়ী জ্যাভিয়ের বারডেম।

সিনেমায় তিমোথির নাম পল অ্যাট্রেইডেস। এমন কিছু ক্ষমতা ও আশীর্বাদ নিয়ে তিনি জন্ম নিয়েছেন, যা তার নিজেরই অজানা। মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর গ্রহে তিনি সংগ্রাম করছেন পরিবার ও নিজের লোকদের রক্ষা করতে।

ডিউক লেটু বিপজ্জনক মরু গ্রহ আরাকাইসের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেটি কেবল মহাবিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এক পদার্থের একমাত্র উৎস, যা মানবজীবনকে দীর্ঘায়িত করে এবং মানবচিন্তাশক্তির স্তরকে প্রসারিত করে।

লেটু সেই মূল্যবান পদার্থের খনির কার্যভার নিয়ন্ত্রণ করেন, যাতে দৈত্য স্যান্ডওর্মসের উপস্থিতিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শেয়ার করুন