৩১ শয্যার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে দীর্ঘ ৯ বছরেও এখানে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ নিয়ে ছয়বার আবেদন করা হয়। সবশেষ গত বছরের মার্চে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লোকবল বাড়ানোর চিঠি পাঠানো হয়। তাতেও কাজ হয়নি।
এমনকি এখানে ৩১ শয্যার সেবা চালানোর লোকবলও নেই। এ ছাড়া ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফ যন্ত্র থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এক্স-রে মেশিন বিকল অনেক দিন ধরে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকেও ২০১৬ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। পাঁচ বছরেও বাড়ানো হয়নি এর লোকবল। নেই ৫০ শয্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধপাতি। এখানেও একমাত্র এক্স-রে মেশিন বিকল। বিকল অ্যাম্বুলেন্সও।
সিলেটের প্রায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সেবার নাজুক অবস্থা। তড়িঘড়ি করে শয্যার বাড়ানোর নামে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু বাড়ছে না সেবার পরিধি। শয্যা বাড়ালেও বাড়ছে না লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুবিধা। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগী ও চিকিৎসকদের।
হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের অনেক যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। কোনোটিতে যন্ত্র থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর দুরবস্থা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘সিলেটের স্বাস্থ্য খাত অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। জনবল সংকট রয়েছে সিলেট জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। ২০১১ সালের পর আর কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি এই বিভাগে।’
তিনি বলেন, ‘সিলেট বিভাগে শুধু হাসপাতাল ভবনের নামে বক্স বানানো হচ্ছে। কিন্তু এই বক্সে কে থাকবে, কারা সেবা নিবে, কারা সেবা দিবে, কী দিয়ে সেবা দিবে– এগুলো নিয়ে কেউ ভাবে না। শুধু একের পর এক ভবন বানানো হচ্ছে। আর হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।’
৩০ শতাংশ চিকিৎসক
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে ৩৮ উপজেলায় ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ বছরে পর্যায়ক্রমে ২২টিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ১২টি এখনও আছে ৩১ শয্যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য একটি ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন চিকিৎসক, ১৫ জন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা, ৬৭ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও ২৩ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রয়োজন। প্রতিটি হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা রয়েছে।
তবে ২৪ জনের জায়গায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ ৫০ শয্যার হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৪ থেকে ৭ জন চিকিৎসক। দিরাই ও কুলাউড়ায় আছেন ৪ জন, শ্রীমঙ্গলে ৫ জন।
৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আছেন মাত্র একজন চিকিৎসক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলো প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৩০ শতাংশ চিকিৎসক, ৩৫ শতাংশ ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পদে (দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) মাত্র ৩০ শতাংশ জনবল রয়েছে।
বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১১টিতে আছে উপজেলা হাসপাতাল। এগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালে গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতাল ৩১ থেকে ৫০ শয্যা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৬ সালে জৈন্তাপুর, ২০১৭ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ ও ২০১৮ সালে দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে হাসপাতাল ভবন নির্মাণেই এখন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হাসপাতালের কার্যক্রম। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৩১ শয্যার হাসপাতালের জনবলই নেই। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
পুরো বিভাগে চিকিৎসক প্রয়োজন ৯১০ জন; কিন্তু কমর্রত আছেন ৪০০ জন। সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রয়োজন ১ হাজার ৩২৩ জন, কর্মরত আছেন ১ হাজার ১৪৭ জন। নার্সিং সুপারভাইজার প্রয়োজন ৪৬ জন, আছেন ২৩ জন। স্টাফ নার্স প্রয়োজন ৫৬ জন, আছেন ২৭ জন। মিডওয়াইফ প্রয়োজন ১৭৪ জন, আছেন ৯৫ জন। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রয়োজন ৯০ জন, আছেন ২২ জন। রেডিওগ্রাফি (এক্স-রে) টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন ৩৪ জন, কমর্রত আছেন ১০ জন। ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন ১৭০ জন, আছেন ২৯ জন।
সরঞ্জাম সংকট
বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৪০টি এক্স-রে মেশিন থাকলেও সচল আছে মাত্র ১৪টি। সচল এক্স-রে মেশিনের মধ্যে সিলেট জেলায় আছে চারটি, সুনামগঞ্জ জেলায় তিনটি, হবিগঞ্জ জেলায় দুটি ও মৌলভীবাজার জেলায় আছে পাঁচটি।
সিলেট বিভাগের ৩৪ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে ৪৭টি। এর মধ্যে সচল আছে ৩৪টি। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আছে ১১টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ৯টি, হবিগঞ্জ জেলায় আছে ছয়টি ও মৌলভীবাজার জেলায় আছে আটটি।
সুনামগঞ্জ
জেলার সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল সম্প্রতি আটতলা ভবন ও নতুন নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম পেলেও লোকবলের অভাবে তা নষ্ট হচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৯৩ পদের বিপরীতে আছেন ৯৮০ জন। পদ শূন্য ১০১০টি।
প্রথম শ্রেণির ২৯৮ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ১৬৬টি। সিনিয়র কনসালট্যান্ট ১০টির মধ্যে কর্মরত আছেন পাঁচজন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ৬৬টির মধ্যে আছেন ৯ জন, আবাসিক চিকিৎসক ১৩টি পদের মধ্যে খালি আছে ৮টি, আবাসিক ফিজিশিয়ান ও আবাসিক সার্জনের একটি করে পদ থাকলেও সেগুলো খালি রয়েছে।
চিকিৎসা কর্মকর্তার ৬১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৪ জন। জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার ২৯টির মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। সহকারী রেজিস্ট্রার/সার্জন পদে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৯ জন, চিকিৎসা কর্মকর্তা (আয়ুর্বেদিক/ হোমিওপ্যাথিক) পদে দুই জনের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন। রেডিওলজিস্ট দুটি পদের মধ্যে সব খালি। প্যাথোলজিস্ট দুটি পদের মধ্যে আছেন একজন। আর অ্যানেসথেসিস্ট আটটি পদের বিপরীতে আছেন একজন।
জেলার স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৪৭ পদের বিপরীতে আছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগ সংকট রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ পদে। এগুলোতে ৪২৭ জনের বিপরীতে আছেন ২৫৩ জন। নার্সিং সুপারভাইজার ১৩টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে পাঁচটি।
তৃতীয় শ্রেণির ৮৯৮ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৪৩৭টি। চতুর্থ শ্রেণির ২৮৪ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ১৯৪টি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, ‘জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট খুব বেশি। শূন্য পদে নিয়োগের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। আমরা প্রতিনিয়ত চিঠিপত্র পাঠাচ্ছি। আশা করি, দ্রুতই এর সমাধান হবে।’
হবিগঞ্জ
যন্ত্রপাাতি, জনবল, পানি আর উন্নত সেবাসহ নানামুখী সংকটে হবিগঞ্জের চিকিৎসাব্যবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো তো বটেই, হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালেও মিলছে না সঠিক চিকিৎসা। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে আছেন তত্ত্বাবধায়ক ও একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা। ৫৭ জন চিকিৎসকের জায়গায় আছেন মাত্র ২২ জন; ১২৩ জন নার্সের স্থলে আছেন ৩৭ জন এবং টেকনিশিয়ানসহ অন্য পদে ১১২ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৫৫ জন।
হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হলেও প্রকৃত অর্থে চলছে ১০০ শয্যাতে। এখানে নেই পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা, স্যালাইন লাগানোর স্ট্যান্ড, ট্রলি বা হুইলচেয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিকল এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি, অ্যানেসথেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, অ্যানালাইজার, রেফ্রিজারেটর ও জিন এক্সপার্ট মেশিন।
এর মধ্যে নতুন কয়েকটি মেশিন এলেও দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে সাদা কাপড়ে। রক্ত পরীক্ষা ছাড়া কোনো ধরনের পরীক্ষাই হয় না হাসপাতালটিতে। আবার অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একমাত্র পানির ট্যাংকটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেটি প্রতিস্থাপন করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালের পানির একমাত্র উৎস করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়ার জন্য বসানো বেসিন ও হাসপাতাল কোয়ার্টারের একটি টিউবওয়েল।
এদিকে উদ্বোধনের চার বছর পরও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ভবনটি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস, পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ড এবং ষষ্ঠ তলায় করোনা আইসোলেশন সেন্টার। বাকি তলাগুলো এখনো ফাঁকা।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণ চিকিৎসাসেবা অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যেও আমরা শতভাগ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে জনবল সংকট নিরসনে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। আশা করি, শিগগির জনবল সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে।’
তিনি বলেন, ‘পানি সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে অনেক কাজই সম্ভব হয়নি। শয্যাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামেরও চাহিদা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ভবনের কার্যক্রম আংশিক চালু করা হয়েছে। সেখানে অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ চলমান।’
নতুন ভবনের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস থাকায় পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা এখান থেকে স্থানান্তর হলেই হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হবে বলে জানান তিনি।
আধুনিক সদর হাসপাতালের মতোই নাজুক অবস্থা জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সেখানেও চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রচুর পরিমাণে জনবল সংকট। কোথাও নেই অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ড্রাইভার। আর যন্ত্রাংশ সংকট আরও চরমে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা যায়, জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে আছেন ৭৫৪ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৭৪ জনের স্থলে আছেন মাত্র ১০৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬৮ জনের স্থলে আছেন ১২৭ জন, তৃতীয় শ্রেণির ৬৯১ জনের স্থলে আছেন ৪৪০ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ১৪৮ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৮৪ জন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের সংখ্যা ১৮টি, মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৩টি, চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫২টি, বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৪টি, লাখাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯টি, নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭টি, বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬১টি এবং আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৬টি।
জেলার কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটির সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
মৌলভীবাজার
যন্ত্রপাতির অভাব, চিকিৎসক নার্সসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে মৌলভীবাজারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিকিৎসাসেবাও।
জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ভর্তি হয় ৩০ থেকে ৫০ জন রোগী। তবে চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির সংকটে সেবা বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে রোগীদের।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের রতন বৈদ্য বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। রোগীকে ভালো করে দেখার আগেই সদর হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল চেয়ে সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি পাঠিয়েছি। ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ হলে রোগীরা আরও ভালো সেবা পাবেন।’
কমলগঞ্জ উপজেলায় ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি তিন বছর আগে ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ হয়। তবে এখানকার ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সনোলজি মেশিন থাকলেও তা বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। সনোলজিস্ট, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি।
এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ১২ জনের জায়গায় আছেন ৯ জন। ফার্মাসিস্ট পদে ৩ জনের স্থলে কেউই নেই। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২ জনের জায়গায় কাজ করছেন ১ জন।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘চিকিৎসকের চারটি পদ শূন্য আছে। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট নেই। লোকবলের অভাবে ডিজিটাল এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন চালানো যাচ্ছে না। কোনো ফার্মাসিস্ট নেই।
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পদ আছে ১০টি। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চারটি পদ শল্যচিকিৎসক (সার্জারি), দন্ত চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি চিকিৎসকের পদ অনেক দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এখানে ৬ জন মেডিক্যাল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে ৪ জন কর্মরত আছেন।
১৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে আছেন ৮ জন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাব নেই। এক্স-রে মেশিন থাকলেও অপরারেটর না থাকায় ২০১১ সাল থেকে এটি অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটারও। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল।
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাস বলেন, ‘লোকবল যা আছে, তা দিয়েই আমরা চালাচ্ছি। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯৫ সালে এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। তবে ১৯৯৮ সালে এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য রেডিওলজিস্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর থেকে এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকে। ১০ বছর আগে আসা ইসিজি যন্ত্রটিও টেকনোলজিস্টের অভাবে এখনও প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মী জানান, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে অস্থায়ী একজন রেডিওলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। পরে টেকনিশিয়ানরা মেশিনটি পর্যবেক্ষণ করে জানান, এটি আর সচল করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, ‘২০২০ সালের নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় নতুন এক্স-রে মেশিন সংযোজনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী টেমো (গাড়ি মেরামত) কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেখানকার বিশেষজ্ঞ একটি টিম কয়েক মাস আগে অ্যাম্বুলেন্সটি দেখে গিয়েছেন। এখনও সেটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আকতার বলেন, ‘আমি মাস তিনেক হলো এখানে এসেছি। লোকবলসহ এক্স-রে মেশিন নতুন সংযোজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো আছে। এ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল করতে প্রতি মাসেই লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।’
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১৮ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল; কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি সেবার মান। বাড়েনি লোকবলও।
এমনকি ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি ১৫ বছর ধরে শূন্য। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সুবিধা পাচ্ছেন না। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) দুটি পদের একটি শূন্য। এতে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের ছুটতে হয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
অন্যদিকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পদটি শূন্য আছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের (স্যাকমো) ১৩টি পদের মধ্যে ৮টি পদ শূন্য, নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি পদের মধ্যে একটি শূন্য, মিডওয়াইফের ৫টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাতটি পদের মধ্যে ৬টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ২টি পদের ২টিই শূন্য, অফিস সহকারীর ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, ক্লিনারের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ শূন্য, নিরাপত্তা প্রহরীর ২টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য রয়েছে।
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩১ শয্যার জনবলেও বেশ কিছু পদ শূন্য ছিল। এই সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবল নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল বাড়লে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’
একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোরও।
মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ মোবাইলে বলেন, ‘সব কটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন সংযোজন করছে সরকার। মৌলভীবাজারের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা চালু হবে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা যন্ত্রগুলো সচল করা ও লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব।’
ফাইল ছবি
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল স্কয়ার হসপিটাল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি’। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্কয়ার হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।
এই বিশেষ পরীক্ষায় বিশ্বখ্যাত 'মোনা লিসা' (Mona Lisa) রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক ব্যবস্থা যা সার্জনকে প্রোস্টেটের নমুনা সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত সহায়তা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর আগের করা এমআরআই এবং পরীক্ষার সময়কার তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবিকে একত্রে সমন্বয় বা ফিউশন করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রি-ডি ম্যাপ তৈরি করে। এই ম্যাপটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকরা প্রোস্টেটের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রোবোটিক গাইডেন্সের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেন।
প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ছোট টিউমারগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বায়োপসি সুই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নতুন এই রোবোটিক সিস্টেমে ঠিক যে জায়গায় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বা একুরেসি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং রোগীকে বারবার কষ্টদায়ক বায়োপসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।
এই সাফল্য সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া জানান যে, প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। দেশের ভেতরেই এখন এমন উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের এই জটিল পরীক্ষার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হসপিটালের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইউরোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বমানের সেবা প্রদানে পুরোপুরি সক্ষম।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।
অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য