স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশা

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা শুরু শনিবার

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা শুরু শনিবার

প্রতীকী ছবি

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব ঠিক থাকলে আগামী পরশু শনিবারের মধ্যেই বিদেশগামী দেশের মানুষজন এই পিসিআর ল্যাবগুলো থেকে পরীক্ষা করে নির্বিঘ্নে বিদেশে যেতে পারবেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগামী শনিবার থেকে আরটি-পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা স্বল্প সময়ের মধ্যে করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনার পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনকাজ পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব বসানোর কাজ অতি দ্রুততম সময়ে করবার জন্য আমি নিজে গত পরশু দিন এসে এখানে জায়গা নির্ধারণ করে দিয়ে গেছি। আশা করছি আজ সন্ধ্যার মধ্যেই অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

‘ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মেশিনও চলে এসেছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তারাই অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সব ঠিক থাকলে আগামী পরশু শনিবারের মধ্যেই বিদেশগামী দেশের মানুষজন এই পিসিআর ল্যাবগুলো থেকে পরীক্ষা করে নির্বিঘ্নে বিদেশে যেতে পারবেন।’

ল্যাবের সংখ্যা কত ও দৈনিক কত মানুষ এ ল্যাবে পরীক্ষা করতে পারবে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে মোট ছয়টি ল্যাবের মাধ্যমে ১২টি মেশিন বসানো হবে। এই ল্যাবগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন অন্তত সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার মানুষ পরীক্ষা করতে পারবেন। এখানে দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার জন্য র‌্যাপিড পিসিআর ল্যাব এবং সাধারণ পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব উভয়ই কাজ করবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আনোয়ার হোসেন খান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ উল আহসানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় শনাক্তের হার আরও কমে ২, মৃত্যু ৭

করোনায় শনাক্তের হার আরও কমে ২, মৃত্যু ৭

করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের জীবনযাপনও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের ৮১টি পরীক্ষাগারে মোট ১৮ হাজার ৯৮০ জন পরীক্ষা করেছেন। তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩৯৬ জনের দেহে।

করোনাভাইরাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আরও কমে ২.০৯ শতাংশে নেমেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর এই প্রথম শনাক্তের হার এত কম হলো।

শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ২.১৬ শতাংশ।

এতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের ৮১টি পরীক্ষাগারে মোট ১৮ হাজার ৯৮০ জন করোনার পরীক্ষা করেছেন।

ভাইরাসটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে আরও ৩৯৬ জনের দেহে।

এখন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৪৬ জন। আর শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮১ জনের দেহে।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৪ জন ও নারী ৫ জন।

যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ঢাকায় আছেন ৬ জন। দুই জন চট্টগ্রামের আর একজন সিলেটের। অন্যান্য বিভাগে কেউ মারা যাননি।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ের কর্মচারীর স্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের প্রাণই হলো ডাক্তার। এখানে কোনো ডাক্তার আসেন না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিই। আসলে আগে এই হাসপাতালেরই চিকিৎসা দরকার।’

নিয়মিত কোনো চিকিৎসক নেই। এ কারণে হাসপাতালেও আসতে চান না কোনো রোগী। কর্মচারীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দিনের যেকোনো একসময় অথবা সপ্তাহে একবার এসে স্বাক্ষর করেন হাজিরা খাতায়। তাদের অনুপস্থিতিতে আউটডোরে চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেন ক্লিনার।

চিকিৎসকের অভাবে এখন জনমানবহীন ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের হাসপাতালটি। অথচ একসময় এটি ছিল রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেলের যাত্রীসহ জেলার চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা।

৩০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৯টি নারী ও ১৮টি পুরুষ শয্যার পাশাপাশি পাঁচটি কেবিনও রয়েছে। সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর খোলা থাকে মাত্র পাঁচ দিন। চিকিৎসক না থাকায় খোলা রেখেও কোনো উপকার হচ্ছে না রোগীদের।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, হাসপাতালে একজন বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও), একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (এডিএমও) ও দুজন চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা। এদের চারজনেরই কেউই নেই।

তারা জানিয়েছেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে মেডিক্যাল হাসপাতালের একজন ডিএমও অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে এক দিন আসার কথা থাকলেও নিয়মিত আসেন না তিনি। এ কারণে আউটডোর বিভাগে অফিসের একজন ক্লিনার ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে নব্বই দশকের পরও প্রচুর রোগী আসতেন। এখন হাসপাতালের লোকজন ও রোগী না আসায় পুরো এলাকা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

তারা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন রোগী ক্লিনার আবু জাফরের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। এরা রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের লোকজন। বাইরে থেকে কেউ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন না।

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইনডোরের চিকিৎসাসেবার অবস্থা আরও শোচনীয়। ৩০ শয্যার হাসপাতালে কোনো রোগীই থাকেন না। কখনও কখনও দু-একজন রোগী ভর্তি হন একেবারে নিরুপায় হয়ে বা দারিদ্র্যের কারণে। তাদের জন্য হাসপাতালে খাবারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ের কর্মচারীর স্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের প্রাণই হলো ডাক্তার। এখানে কোনো ডাক্তার আসেন না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিই। আসলে আগে এই হাসপাতালেরই চিকিৎসা দরকার।’

চিকিৎসাসেবায় বিরক্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে। ওষুধ থাকলেও রোগীদের দেয় না। ছয়-সাত ভ্যান করে ওষুধ আসলেও পরের দিনই শেষ।’

হাসপাতালের ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর বলেন, ‘ভবন চুইয়ে পানি পড়ায় স্টাফরা বসতে পারেন না। অনেক দামি জিনিস আছে, যেগুলো পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার না থাকলে সবকিছুতে সমস্যা। ডাক্তার না থাকায় রোগীরা সাধারণত ভর্তি হতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমিও একজন ফার্মাসিস্ট, আমরাই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিই।’

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

রেলওয়ে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এখানে সপ্তাহে এক দিন ডাক্তার আসেন। অন্যদিনে আমি নিজেই যতটুকু জানি, ওই অনুযায়ী এখানে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি।’

হাসপাতালের প্রধান সহকারী সারাফত হোসেন বলেন, ‘আমার এখানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। পদায়িত ডাক্তার সপ্তাহে এক দিন আসেন। সপ্তাহের যত কাজ থাকে সব এক দিনে মেকআপ করেন। এর মধ্যে যদি রোগী আসে তখন রোগীও দেখেন।’

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত দায়িত্বে একজন ডিএমও থাকলেও তিনি সপ্তাহে মাত্র এক দিন আসেন। অফিসের কাজ ও যদি কোনো রোগী থাকে, তাহলে তাদের চিকিৎসা দিয়ে চলে যান। তিনি একই সঙ্গে ডিভিশনের তিনটি হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছেন।’

হাসপাতালের নামে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি কোনো কাজে আসছে না বলেও জানান ফার্মাসিস্ট ফয়সাল আহমেদ।

লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালের ডিভিশনাল রেলওয়ে চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. মো. আনিছুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বর্তমানে একই সঙ্গে তিনটি হাসপাতালের দায়িত্বে আছি। হাসপাতালটি রেলওয়ের অধীনে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এ অবস্থার পরিবর্তন কর‍তে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেয়া উচিত।’

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডাক্তাররা গেজেটেড অফিসার। তারা পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পান। রেলের ডাক্তাররা নন-ক্যাডারে নিয়োগ পান। এ কারণে তারা এখানে থাকতে চান না। পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের পর তারা চলে যান। স্বাভাবিকভাবেই তখন এখানকার পদগুলো শূন্য হয়।’

রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে রোগীদের খাবারের ব্যবস্থাও আছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া ডাক্তার না থাকার কারণে রোগীরাও তেমন একটা আসেন না। এ কারণে রোগীদের খাবারও দেয়া হয় না।’

হাসপাতালে ৫৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জন কর্মরত রয়েছেন বলেও জানান ডিআরএম শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু কমে ৭, শনাক্ত ৪৬৬

করোনায় মৃত্যু কমে ৭, শনাক্ত ৪৬৬

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৩৭ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৪৬৬ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৩৭ জনের।

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে এর আগে ৮ অক্টোবরও ৭ জনের মৃত্যু হয়। ২৪ ঘণ্টার হিসেবে এর চেয়ে কম মৃত্যু হয় গত ৩ মার্চ। সেদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ২১ হাজার ৫৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ২৩ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৬৯৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে নারী ৪ জন, পুরুষ ৩ জন। মৃতদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪ ও ষাটোর্ধ্ব ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ২ জন। এ ছাড়া একজন করে মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী ও খুলনায়।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

প্রথমে টিকা পাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রথমে টিকা পাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানিকগঞ্জে টিকাদান অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ফাইজারের টিকা ভালো ও নিরাপদ। এই টিকা আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্য দেশে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এই টিকা আমরা ছাত্রছাত্রীদের দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদে থাকুক।’

প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এক কোটির বেশি ছেলেমেয়ে আছে, যাদের আমরা টিকা দেব। প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদের টিকা দেয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইজারের টিকা ভালো ও নিরাপদ। এই টিকা আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্য দেশে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এই টিকা আমরা ছাত্রছাত্রীদের দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদে থাকুক।

‘আজকে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন ছাত্রছাত্রীকে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর পরে সারা দেশে ২১টি জায়গায় এই টিকা দেয়া হবে এবং ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শর্ত ছিল দেশের প্রত্যেক মানুষকে টিকা দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্ম গোলাম আজাদ খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

অতিরিক্ত চিপস খাওয়ার অপকারিতা

অতিরিক্ত চিপস খাওয়ার অপকারিতা

গ্রিফিন হেলথের মতে, চিপসে প্রচুর পরিমাণে কোলস্টেরল থাকে। কারণ এটি ডুবো তেলে ভাজা হয়। কোলস্টেরল ধমনি ব্লক করে ফেলে, যার কারণে স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রবল হয়।

চিপস খেতে কে না ভালোবাসে। অবসর সময়, টিভির সামনে, ভ্রমণে বা আড্ডায় চিপস যেন আবশ্যিক। বিশেষ করে চিপস হলে বাচ্চাদের আর কিছুর দরকার নেই। তবে অতিরিক্ত চিপস খাওয়ার ফলে হতে পারে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা। চলুন জেনে নিই-

উচ্চ রক্তচাপ

প্রিয় সব ধরনের চিপসে অতিরিক্ত লবণ থাকে। তাই চিপস খেলে হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মতে, চিপসে থাকা লবণ শরীরে সোডিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা নষ্ট করে। যা শরীরের রক্তচাপ অস্থিতিশীল করে তোলে।

ক্যানসার

আমেরিকান ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, চিপসে অ্যাক্রিল্যামিড নামক একধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যাতে কারসিনোজেনিক থাকে। এই রাসায়নিকটি ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই বলা হয়ে থাকে, নিকোটিন মানবদেহে যতটুকু ক্ষতি করে, চিপসও ততটাই করে। সিগারেট এবং চিপস দুটোতেই এই কারসিনোজেন থাকে, যা ক্যানসারের কারণ।

স্ট্রোক

গ্রিফিন হেলথের মতে, চিপসে প্রচুর পরিমাণে কোলস্টেরল থাকে। কারণ এটি ডুবো তেলে ভাজা হয়। কোলস্টেরল ধমনি ব্লক করে ফেলে, যার কারণে স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রবল হয়।

বন্ধ্যত্ব

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের গবেষণামতে, চিপসে ট্রান্সফ্যাট থাকে। যা নারীদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমায়।

ওজন বৃদ্ধি

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, চিপসে থাকা বিভিন্ন উপাদান মানুষের শরীরের মেদ উৎপাদন বৃদ্ধি করে। তা ছাড়া চিপসে যে লবণ ব্যবহার করা হয়, তা আমাদের স্বাদের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে এবং খাওয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

বিষণ্নতা

অতিরিক্ত চিপস শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, মানসিক ক্ষতিও করে। এর মূল কারণ ট্রান্সফ্যাট। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের একটি গবেষণামতে জানা যায়, চিপসে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটায় সেসবের ফলে মানসিকভাবেও মানুষ আক্রান্ত হয়। ফলে বিষণ্নতা এবং হতাশা বাড়ে।

সূত্র: ইট দিস, নট দ্যট!

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

করোনার উৎস জানতে ‘শেষ সুযোগ’

করোনার উৎস জানতে ‘শেষ সুযোগ’

করোনার উৎস অনুসন্ধানে নতুন বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে ডব্লিউএইচও। ছবি: এএফপি

করোনার উৎস অনুসন্ধান ছাড়াও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকির রোগজীবাণুর উৎস নিয়েও কাজ করবে নতুন গঠিত বিশেষজ্ঞ দল। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস বলেন, ‘নতুন রোগজীবাণুর উৎস জানা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব।’

করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে নতুন এক বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আর এ উদ্যোগ ভাইরাসটির উৎসের সন্ধান পাওয়ার শেষ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিবিসির বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সায়েন্টিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন দ্য অরিজিন্স অফ নভেল প্যাথোজেন্স (সাগো) নামের ওই দলে ২৬ জন বিশেষজ্ঞকে মনোনীত করেছে ডব্লিউএইচও।

উহানে প্রায় দুই বছর আগে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে করোনার উৎস অনুসন্ধানে ডব্লিউএইচওর এক বিশেষজ্ঞদল প্রথমবারের মতো চীনে যায়।

চার সপ্তাহ চীনে অবস্থানের পর মার্চে করোনার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ১৭ বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাব থেকে করোনা ছড়িয়েছে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। মধ্যবর্তী প্রাণী বাহকের মাধ্যমে এটি মানবদেহে ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।

ওই প্রতিবেদনকে সে সময় ‘অসম্পূর্ণ’ উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়াসহ ১৪টি দেশ।

বিবৃতিটিতে বলা হয়, ‘করোনার উৎস ও কীভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে, এসব বিষয় নিয়ে ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো হচ্ছে।

‘তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানানোও জরুরি। সার্স-কোভ-২-এর উৎস নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত এবং প্রতিবেদনে মৌলিক ডাটা ও নমুনার অভাব রয়েছে।’

প্রথম বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনের বিষয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছিলেন, ‘চীন সঠিকভাবে তথ্য না দেয়ায় এবং এ বিষয়ে দেশটির স্বচ্ছতার অভাব থাকায় ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞদল কাজ করতে বাধার সম্মুখীন হয়।’

চীনের উহান শহরের সামুদ্রিক খাবারের বাজারে প্রাণী থেকে মানবদেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে নাকি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলাকালে দুর্ঘটনাবশত এটি ছড়িয়ে পড়ে, তা জানতে নবগঠিত বিশেষজ্ঞ দলটি কাজ করবে।

ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় দুর্ঘটনাবশত করোনা ছড়িয়ে পড়ার অনুমান বরাবরই তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন।

চলতি বছরের মে মাসে করোনার উৎসসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাপায় দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির তিন গবেষক অসুস্থ হন। হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীনও ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে চীন অফিশিয়ালি তথ্য প্রকাশের আগেই ওই গবেষকদের অসুস্থতার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই করোনার উৎস আরো গভীরভাবে অনুসন্ধানে জোর দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

করোনার উৎস অনুসন্ধান ছাড়াও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকির রোগজীবাণুর উৎস নিয়েও কাজ করবে নতুন গঠিত বিশেষজ্ঞদল সাগো।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস বলেন, ‘নতুন রোগজীবাণুর উৎস জানা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব।’

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সের যৌথ সম্পাদকীয়তে টেড্রোস ও ডব্লিউএইচওর অন্য কর্মকর্তারা বলেন, ‘ল্যাবে দুর্ঘটনা থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার অনুমান বাদ দেয়া যায় না।’

ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের পরিচালক মাইকেল রায়ান বলেন, ‘করোনার উৎস সম্পর্কে জানতে এটাই সম্ভবত শেষ সুযোগ।’

সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্লাড ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা হাজার হাজার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। করোনা মহামারি শুরুর প্রথম কয়েক মাসে ওই সব রক্ত ব্লাড ব্যাংকে জমা পড়ে।

এরপরই ডব্লিউএইচও ওই বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে।

ডব্লিউএইচওর এ তৎপরতার বিষয়ে জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা রাষ্ট্রদূত চেন শি বলেন, ‘সাগোর কর্মকাণ্ড ঘিরে রাজনীতি করা ঠিক হবে না।

‘বিশেষজ্ঞদলকে এবার অন্য জায়গায় পাঠানো উচিত।’

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন

গরমে নাকাল রংপুরবাসী

গরমে নাকাল রংপুরবাসী

রংপুরে ভ্যাপসা গরমে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার আনম তানভীর চৌধুরী বলেন, ‘মূলত এই সময়ে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর বেড়ে যায়। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।’

তীব্র গরমে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। প্রতিদিনই সকাল থেকে কড়া রোদ, সঙ্গে গরম হাওয়া। আশ্বিনের এই গরমে নাকাল মানুষ।

ভ্যাপসা গরমে সর্দি, কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ।

রংপুর আবহাওয়া অফিস বলছে, ভাদ্রতে খুব একটা গরম না পড়লেও আশ্বিনের শুরুতেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। গেল এক সপ্তাহ ধরে তপ্ত আবহাওয়া তপ্ত।

বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার এই অবস্থা থাকতে পারে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

গরমে নাকাল রংপুরবাসী

রংপুর আবাহওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘তাপমাত্রা বাড়লেও অবশ্য সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠার শঙ্কা নেই। চলতি মাসের শেষ দিকে ঝড়-বৃষ্টিও হতে পারে। ধীরে ধীরে তাপদাহ একটু একটু করে কমতে থাকবে।’

নগরীর পায়রা চত্বরে রিকশাচালক হামিদুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘গরমোত থাকা যায় না। দুপর (দুপুর) হইলে বেলা (সূর্য) মনে হয় মাতার উপর বসি আচে। পেটে খায় তাই কষ্ট করি গাড়ি চলাই।’

বোতলা এলাকার দিনমজুর রহমত আলী বলেন, ‘গরমোত কাজোত যাবার মনডা চায় না। এত গরম কেমন করি সহ্য করি’।

স্কুল শিক্ষক ফারহানা নাজনীন বলেন, ‘গরমে ফ্যানের বাতাস গায় লাগে না। দিনে রাতে একই গরম। তিনি বলেন, গরমে ছোট ছেলেটার দুদিন ধরে জ্বর। ডাক্তার বরেছে গরমে এমন হচ্ছে, চিন্তার কিছু নাই।’


গরমে নাকাল রংপুরবাসী

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ১০ অক্টোবর রোগী ছিল ২৫১ জন, ১১ অক্টোবর ২৬৯ ও ১২ অক্টোবর ছিল ২৮০ জন। যত রোগী ছাড়পত্র নিচ্ছে তার চেয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছে।

মডার্ন মোড় এলাকার চন্দনা বেগম তার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে জ্বর আর পেটের সমস্যা, তাই দুইদিন হইলো হাসপাতালোত ভর্তি হইচি।’

শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার আনম তানভীর চৌধুরী বলেন, ‘মূলত এই সময়ে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।’

রংপুর সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিজেনাল চেঞ্জ এর কারণে জ্বরে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে । শিশুদের পাতলা কাপড় পরাতে হবে। জ্বর হলে প্যারাসিটেমল সিরাপ খাওয়ানো ও শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই, একটু সর্তক থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার
একমাত্র সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রোদেলার মা-বাবা
করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, বন্ধ পাঠদান
একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

শেয়ার করুন