শসার উপকারিতা জেনে নিন

শসার উপকারিতা জেনে নিন

শসায় আছে প্রচুর ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকা, পটাশিয়াম ও আঁশ। এগুলো শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। শসার উপাদান উচ্চ এবং নিম্ন রক্তচাপ দুটোই নিয়ন্ত্রণ করে।

শসা দারুণ উপকারী সবজি। শরীর সুস্থ রাখতে এবং রূপচর্চায় অনেক আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে শসা। এতে আছে ভিটামিন বি, থিয়ামিন, রাইবোফ্লাবিন, নিয়াসিন, প্যানটোথেনিক, ভিটামিন বি৫ ও বি৬, ফোলেট, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, গ্লুকোজ, স্নেহপদার্থ, ফাইবার, প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, দস্তা, ক্যালরি এবং প্রচুর পরিমাণে পানি। চলুন দেখে নিই শসা আমাদের কী কী উপকার করে।

দেহে পানির চাহিদা মেটাতে শসা খুবই উপকারী। একটি শসায় প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি থাকে। পানিশূন্যতায় ভুগলে শসা খেয়ে দ্রুত শূন্যতা পূরণ করা যায়।

শসার জলীয় অংশ তথা পানি দেহের বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ বের করতে কাজ করে। নিয়মিত শসা খেলে কিডনিতে সৃষ্ট পাথর গলিয়ে ফেলতে সহায়তা করে। ইউরিনারি, ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যার সমাধানেও কাজ করে শসা।

আমাদের শরীরে প্রতিদিন যেসব ভিটামিনের দরকার হয় তার বেশির ভাগই শসায় আছে। তাই ভিটামিনের প্রয়োজন হলে শসায় ভরসা রাখতে পারেন।

শসায় আছে প্রচুর ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকা, পটাশিয়াম ও আঁশ। এগুলো শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। শসার উপাদান উচ্চ এবং নিম্ন রক্তচাপ দুটোই নিয়ন্ত্রণ করে।

শসার রস নিয়মিত খেলে মস্তিস্কের রক্তনালিতে জমে থাকা এলডিএল কমতে থাকে। ফলে স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়।

শসা সহজে হজম হয়। এরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকায় দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী শসা।

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হার্ট অ্যাটাকের কারণ

হার্ট অ্যাটাকের কারণ

কাওয়াসাকি রোগ থেকে থ্রম্বোসিসের সমস্যা হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। 

আজকাল বহু মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক। বিশেষ করে ৪০ বছরের ওপর যারা আছেন তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি যেন সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে হার্ট অ্যাটাকের কিছু বিশেষ কারণ রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক কারণগুলো।

১. অনেকেরই জন্মগতভাবে শরীরের বিভিন্ন শিরা বা ধমনির মাপ ছোট হয়ে থাকে। সেসব মানুষ যখন অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করে, তখন তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২. কাওয়াসাকি রোগ থেকে থ্রম্বোসিসের সমস্যা হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও ঝুঁকিতে থাকেন।

৩. অতিরিক্ত ধূমপান সিগারেট, গাঁজা বা হুক্কার নেশা করলে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়।

৪. লিপিড মেটাবলিজমের সমস্যা থাকলে কম বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। এটি হৃদরোগের অন্যতম কারণ বলে বিবেচিত।

৫. কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

৬. অতিরিক্ত ফাস্টফুড, তৈলাক্ত বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়ে।

৭. অ্যালকোহলে আসক্ত এবং ডায়বেটিস আক্রান্ত মানুষেরও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কম বয়সে আচমকা বুকে সামান্য ব্যথা অনুভব করলে, তা এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুযোগ আগে থেকেই পাওয়া যায়। ক্রান্তীয় পরিবেশে যেহেতু কোলেস্টেরল আর ডায়াবেটিসের প্রবণতা বেশি, সে ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

সকালে নাশতার পর সারা দিন কিছু খাওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া বাজারে পেটচুক্তি খাই। রেস্ট হাউসে ফিরে ফ্রেশ হয়ে ছাদে উঠে তুমুল আড্ডা, গান, হাসাহাসি, আনন্দের ফোয়ারা। রাত আরও গভীর হলে মহানন্দার হাতছানিতে সম্মোহিতের মতো সাড়া দিই। আরামে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নদীর পাড়ে, পোলাপান ডেকে তুললে ফিরে আসি বিশ্রামঘরে।

সবাই আমরা (ব্লেস, অর্পণ, অঞ্চিত, অমিত, বৃষ্টি আর আমি) পৌঁছে গেছি কমলাপুর রেলস্টেশনে। ট্রেন ছাড়ার কথা রাত পৌনে ১১টায়। যেকোনো সময় প্ল্যাটফর্মে ট্রেন এসে পড়তে পারে। সময় ঘনিয়ে আসছে অথচ প্রিমার দেখা এখনও নেই। আমরা অস্থির অপেক্ষায়। অন্যদিকে প্রিমা রাইড শেয়ারের মোটরবাইকে অলিগলি, চিপাচাপার ফাঁক গলে প্রাণান্ত চেষ্টায় আসছে। বৃহস্পতিবারের যানজটও একটা ব্যাপার মনে হয়। যারপরনাই প্রিমা এলেও ট্রেন এলো ১১টা ৫০-এ, ছাড়ল ১২টা ২০-এ। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।

আমরা যাচ্ছি সর্ব-উত্তরের জেলায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলে দেখব, না হলে নাই। ঢাকায় থেকে শরীর ও মনে যে ক্লেদ জমেছে, তা ঝেরে ফেলতে চাই। এই তো কয়েক সপ্তাহ আগেই নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে ট্রেকিং করলাম। মনে হয় এক যুগ পর আরামের ভ্রমণ দিতে চলছি আমি। রাতভর বিচিত্র সব ঘটনা ঘটল।

ট্রেনে উঠে অমিতের কুম্ভকর্ণের ঘুম। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে আবু নামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোর উঠল। সেকি কাণ্ডকীর্তি তার। সবার সঙ্গেই তার কুশল বিনিময় করতে হবে। সঙ্গে থাকা খাবার ভাগ করে খাবে। তার বোচকার বিভিন্ন জিনিস একাধিক সিটের নিচে রাখতে হবে, আরও কত কী!

আর ট্রেনের সিটের কথা নাই বলি। কোনোটা লক্কড়ঝক্কড়, কোনোটা পিছে হেলানো যায় না। কোনোটা একবার হেলে গেলে সোজা হয় না। সিটের ওপরের ফ্যানগুলো ধুলাজমা, ঘোরে তো ঘোরে না। টয়লেট একটা ভালো তো দুইটা খারাপ। পানি নেই। সিটের পাশের জানালা খোলে না, খুললে বন্ধ হয় না। আসলেই রেল খাত খুব অবহেলিত এ দেশে।

যমুনা নদী! বর্ষা শেষের মৌসুম হলেও অকালেই বুড়িয়ে যাওয়া খটখটে কলেবর তার। মানুষ এমন এক প্রাণী, যে প্রকৃতির ক্ষতি বৈ ভালো কিছু করে না। এই প্রাণীর ক্রমশ যান্ত্রিক আর প্রকৃতি-দূরবর্তী আচরণ এর জন্য দায়ী।

এসব ভাবতে ভাবতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। বাইপাসের অন্তর্বর্তী সময় পার হয়ে ট্রেন ছাড়ার সময় এক কিশোর বাইরে থেকে লাফ দিয়ে জানালা দিয়ে যাত্রীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টায় তৃতীয়বার ও তৃতীয় যাত্রীর বেলায় সফল হলো। শুরু থেকেই সব যাত্রী উচ্চবাচ্য করলেও ট্রেনে থাকা পুলিশ সদস্যদের এমন ভাব, যেন কিছুই হয়নি।

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

প্রায় ভোর। বাকি সব ঘুমে। আমরা এখন নাটোর স্টেশনে। কৃষ্ণপক্ষের হলদে বাঁকা চাঁদ ডুবি ডুবি করছে। সকাল পর্যন্ত দরজায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন গল্পের ঝাঁপি খুলে বসলাম। বিষয়? ভ্রমণ, প্রকৃতি, রাষ্ট্র, সমাজ, উন্নয়ন- এসব আর কি। পথ আরও বাকি, তাই ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। বেড়ানোর সময় সঞ্চিত শক্তিই ভরসা, তবে মনের জোর শয়ে শয়ে।

সকাল ১০টা ২০। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন, পঞ্চগড়। স্টেশনের কাউন্টারে ফিরতি টিকিট কাটার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। পরে শুনলাম চাহিদা ও সিন্ডিকেটের কার‍ণে এ হাল। দেরি না করে একটা ভ্যান নিয়ে শহরের মৌচাক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নাশতার অর্ডার দিয়ে আমি আনিস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম বাইরে। আনিস ভাই তেঁতুলিয়ায় তার বন্ধু কাজী মোকসেদের গেস্ট হাউস স্বপ্নতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে জায়গা হয়নি, আগে থেকেই ভিআইপিদের বুকিং।

যাই হোক, আমাকে দেখে আনিস ভাই অবাক। শুধালেন, ‘আপনি এখানে কেন? মজুমদার জুয়েল ভাই কই?’

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

এ কথা শুনে আমিও অবাক হয়ে হাসলাম কিছুক্ষণ। আনিস ভাই ভেবেছিলেন, তার সাবেক সহকর্মী মজুমদার জুয়েল ভাইয়ের যাবার কথা পঞ্চগড়ে। নাশতা চা-পর্ব সেরে চৌরাস্তার মোড় থেকে তেঁতুলিয়াগামী বাসে ওঠার আগে আমার বর্তমান সহকর্মী লুৎফর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো। ঘণ্টাখানেকেরও কম সময়ে তেঁতুলিয়ার বিখ্যাত তেঁতুলগাছের (যার নামে তেঁতুলিয়া নামকরণ) সামনে নামলাম। মোকসেদ ভাইয়ের পাঠানো ভ্যানচালক শহীদুল আমাদের নিয়ে গেল স্বপ্নতে। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়েই ছুট।

ডাকবাংলোতে ঢোকার মুখে গিটার হাতে একটা ব্যাঙের ভাস্কর্য, অর্পণ বলছিল এটা নাকি স্বপ্নীল (স্বপ্নীল গিটার বাজিয়ে গান করে, ভাল গায়, এবার সে আসতে পারেনি)। ভেতরে সম্মানিত পর্যটকরা পদধূলি দিচ্ছেন। দ্রুত পা চালিয়ে মহানন্দায় নামলাম। ওপাশে ভারত, কাঁটাতার আর বিএসএফের সতর্ক পাহারা স্পষ্টত দৃশ্যমান। আমরা দেখলাম আর ভাবলাম এই আন্ত নদী নিয়ন্ত্রণের জটিল রাজনীতির ব্যাপার-স্যাপার, নদীদূষণ, যথেচ্ছাচারী অথচ পেট-সংসার চালানো পাথরজীবীদের।

এই যখন অবস্থা ততক্ষণে বিকেল, আলোকচিত্রী অমিতের ক্যামেরার চোখও খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। ওদিকে কবির আকন্দ ভাই কল দিচ্ছিলেন বারবার। আমার ক্যাম্পাসের (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) বড় ভাই। তিনি কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের সহকারী ব্যবস্থাপক। ওনাদের প্রতিষ্ঠানের অবকাশ যাপন কেন্দ্র আনন্দধারায় যেন বেড়িয়ে যাই।

এবার সারথি অটোচালক সোহেল। সে সব চেনে। বাপ-দাদার বাড়ি ফরিদপুরে ছিল। পরে এখানে এসে বসতি করে। আনন্দধারা বৈচিত্র্যময়! হরেক জাতি-প্রজাতির পাখপাখালি। বিভিন্ন উপমহাদেশের নিজস্ব ধাঁচের একেকটা বাড়ি। নালার ওপর দিয়ে সেতু। নালার কিনারা ধরে পাকা বাঁধাই (পানিপ্রবাহ কি ক্ষতিগ্রস্ত হলো?)। এই কেন্দ্রে সহজে থাকা যায় না। সম্ভব তবে বেশ ওপর মহলের তদবির লাগে। শুধু দেখতে চাইলেও ভেতরের উচ্চপদস্থ কারও পরিচিত হতে হয়। ফেরার সময় মহানন্দার পাড়ে কাশফুলের সমাহার দেখে অমিত ভাবছিল, পরদিন সকালে ছবি তুলবে, তোলা হয়নি পরে অবশ্য।

সকালে নাশতার পর সারা দিন কিছু খাওয়া হয়নি। সন্ধ্যা সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া বাজারে পেটচুক্তি খাই। রেস্ট হাউসে ফিরে ফ্রেশ হয়ে ছাদে উঠে তুমুল আড্ডা, গান, হাসাহাসি, আনন্দের ফোয়ারা। রাত আরও গভীর হলে মহানন্দার হাতছানিতে সম্মোহিতের মতো সাড়া দিই। আরামে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নদীর পাড়ে, পোলাপান ডেকে তুললে ফিরে আসি বিশ্রামঘরে।

বেলা করে ঘুম ভেঙে সবার মাথা খারাপ। দ্রুত পরিষ্কার হয়ে নাশতা সেরে সোহেলের অটোতে চড়ে প্রথমে শিশুস্বর্গ বিদ্যানিকেতন। স্কুলটি প্লেগ্রুপ থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত। কবির ভাই দেখাশোনা করেন। তার বন্ধুর মায়ের নামে এই প্রতিষ্ঠান। ভিন্ন ধাঁচের অবকাঠামোতে তৈরি, ‘ফুলের বাগানে শিশুরাই ফুল’ স্লোগানসমেত স্কুলটার শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা কিছুক্ষণ সময় কাটাই। তারাও আনন্দিত। করোনায় শিক্ষাজীবনের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল!

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

এবার গন্তব্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। পর্যটকদের ভিড়, কেউই শূন্য বিন্দুতে যেতে পারছেন না। জেলা পুলিশ সুপার এসেছেন, কী সব করছেন। সময়টা কাজে লাগিয়ে আমরা পাশেই কাঁচা রাস্তা ধরে মহানন্দার পাড়ে শতবর্ষী বটগাছ দেখতে যাই। বিশাল দেহের বিশাল সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মেলে শতবর্ষব্যাপী গাছ আগলে রেখেছে সময়, প্রাণিকূল। গাছেরও কি সীমানা হয়? হয়তো। অন্য প্রাণীদেরও হয়, কিন্তু মানুষের মতো প্যাঁচালো হয় না। বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিয়ে চলে আসি শূন্য বিন্দুর কাছে। এবার যাওয়া যাবে। ভিসা ছাড়া দাগের ওপাশে অর্থাৎ ভারতে যতটুক যাওয়া যায়, ততটুক গিয়েও কী বিপুল উচ্ছলতা মানুষের!

আমরা ফিরি। যাচ্ছি কবির ভাইয়ের দায়িত্বের আওতাধীন চা-বাগান দেখতে, যা নাকি ভারতে পড়েছে। বাগান দেখার আগে কবির ভাই আমাদের লেমন গ্রাস টি দিয়ে আপ্যায়ন করেন।

উদরপূর্তি সেরে আরেক দফা ডাকবাংলোর কাছে মায়াময়ী মহানন্দার পাড়ে। একটু পরই দলের ৪ জন চলে যাবে ঢাকায়। চলেও যায়। আমরা বাকিরা সোহেলকে নিয়ে আবারও মহানন্দার পাড়ে, তবে এবার পুরোনো বাজারের কাছে। ভারতের কাঁটাতারের ওপর স্থাপিত আলোতে দৃষ্টি ঘোলা হয়। আমরা পরিত্যক্ত ভাঙা এবং অনেক পুরোনো একটি মন্দির ঘুরে দেখি। সেখানে যাবার সময় স্থানীয় এক মধ্যবয়স্কা বলছিলেন যে, রাত করে মেয়েদের ওই মন্দিরে যেতে বারণ। আমরা শুনিনি। শুনব কেন?

রাতে খেয়ে রেস্ট হাউসে ফিরে এসে বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি সবাই। কথা ছিল আরেকবার মহানন্দার পাড়ে যাব, হলো না। সকালে তুমুল বৃষ্টি। তাকে সঙ্গী করেই পঞ্চগড় শহরে যাই। ঢাকাগামী বাসের টিকিট কেটে, সুজানাদির বাড়িতে ব্যাগ রেখে, পাগলুতে (তেলচালিত ত্রিচক্রযান) চড়ে যাই বড়শশী, গন্তব্য বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির। এই মন্দিরও অনেক আগের।

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

মোট ৫১টি মহাপীঠের মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৮টি। তার মধ্যে একটি এই বোদেশ্বরী। আরেকটি আমি সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথে দেখেছি। মহাপীঠের বর্ণনা পাঠক আপনারা গুগল থেকেই জানতে পারবেন। পীঠের মূল মন্দিরটা পার্বতীর (দুর্গা), সাথে পরে নতুন করে আরও দুটি মন্দির (শিব ও বিষ্ণুর) হয়েছে। সেগুলোর গায়ে মন্দিরগুলোর উন্নয়নে অর্থদাতাদের নাম উল্লেখ করা। সীতাকুণ্ডেও দেখেছি সিঁড়িগুলোতে দাতাদের নাম।

বেশ জায়গা নিয়ে গাছপালা ও পুকুরসমেত এই বোদেশ্বরী মন্দির। দেখভালে পূজারি ও ভক্তরা থাকেন প্রাঙ্গণে। রয়েছে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম কেন্দ্র। দেখলাম পাশেই নতুন প্রতিমা রাঙানো হচ্ছে। ক’দিন বাদেই দুর্গাপূজা। মানুষ মেতে উঠবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা আর উৎসবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষফোঁড়ার আতঙ্ক তো রয়েছেই। আমরা বের হয়ে আসি। ফিরতি পথে ঐতিহ্যবাহী কাজলদিঘিতে থামি। স্থানীয়রা জানান, তারা এটা ছুঁতেই পারেন না, সরকারি নিলামে প্রভাবশালীরা মাছচাষ করেন।

পঞ্চগড় শহরে ফিরে লো ব্লাড প্রেসারে প্রিমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে সুজানাদির বাড়িতে নিয়ে গেলে বাড়ির লোকজন যত্নআত্তি বাসের সময় এসে যায়। রাত ৮টায় বাস ছাড়ে। যানজট ঠেলে ঢাকায় পৌঁছাই ১৪ ঘণ্টা পর। ফেরার সময় মনটা বেশ খারাপ হয়। আমার এখনও কোথাও বেড়াতে গেলে ফেরার সময় মন খারাপ হয়।

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দেখা মেলে এই মায়া হরিণের। ছবি: সংগৃহীত

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বনে প্রায় ৫৮৭ দিন চালানো ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে দেখা গেছে, এই বনে টিকে থাকা ১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ীর মধ্যে আছে প্রায় বিলুপ্ত ঢোল, চিতা বিড়াল, কুলু বানর, এবং বড়গাছচিকা।

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীর সন্ধান মিলেছে হবিগঞ্জের সাতছড়ি সংরক্ষিত বনে। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ঢোল বা বনকুকুরও পাওয়া গেছে এ বনে। সন্ধান পাওয়া বাকী প্রাণিগুলোর বেশিরভাগ দেশে এখন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৮-১৯ সালে ক্যামেরা-ট্র্যাপ পদ্ধতিতে সাতছড়ি বনে এ গবেষণা চালানো হয়। এই গবেষণাপত্রটি গত মাসে প্রকাশিত ম্যামাল সোসাইটি অব জাপানের ‘ম্যামাল স্টাডি’ নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এই সময়ে এসেও একটি বনে এতো প্রজাতির প্রাণির সন্ধান পাওয়াকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। সিলেটের অন্যান্য বনগুলোতেও বিরল প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণীর আবাস থাকতে পারে বলে আশা তাদের।

গবেষকরা জানান, এই গবেষণার জন্য বিশেষভাবে বানানো ক্যামেরা বনে বসিয়ে রাখা হয়। প্রতিটি ক্যামেরা একটি পূর্ণ দিন সক্রিয় থাকলে তাকে এক ক্যামেরা-ট্র্যাপ দিবস বলা হয়। যে কোনো নড়াচড়ায় ক্যামেরাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে, ছবি তোলে এবং গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেয়। যার মাধ্যমে বনে প্রাণীর উপস্থিতি ও তাদের জীবনচারণ সম্পর্কে জানা যায়।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বনে প্রায় ৫৮৭ দিন চালানো ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে দেখা গেছে, এই বনে টিকে থাকা ১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ীর মধ্যে আছে প্রায় বিলুপ্ত ঢোল, চিতা বিড়াল, কুলু বানর, এবং বড়গাছচিকা।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি সংরক্ষিত বনকে ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উদ্যানের ভেতরে সাতটি পাহাড়ি ছড়া থাকার কারণে এর নাম সাতছড়ি। রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় আগে এই বনের নাম ছিলো- ‘রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট’। প্রাণি ও জীববৈচিত্রের অন্যতম আঁধার হিসেবে পরিচিত এই বনের অনেক প্রাণিই হারিয়ে গেছে বলে এতোদিন বলা হচ্ছিল।

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

উত্তরপূর্ব বাংলাদেশের হবিগঞ্জ-মৌলভিবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় ছয়টি সংরক্ষিত বন রয়েছে। এগুলো হলো- মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বন, পাথারিয়া সংরক্ষিত বন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাগরনাল বন, হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান।

এসব বনে চিতাবাঘসহ ২৭ রকমের মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণির আবাস রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বাংলাদেশে ২০১৫ সালের নিরীক্ষা, ড. রেজা খানের ২০১৫ সালের ফিল্ড গাইড এবং অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খানের ২০১৮ সালের ফিল্ড গাইডেও এমনটি উল্লেখ আছে।

তাদের গবেষণার তথ্য মতে, পুরো ভারত উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেক মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণির আবাস এই ছয় বনে।

সাতছড়ি বনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে গবেষকরা যে ১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণির অস্থিত্ব পেয়েছেন, তার ১০টিই মাংশাসী স্তন্যপায়ী। এগুলোর মধ্যে আছে মায়া হরিণ, বন্য শুকর, রেসাস বানর, সিংহলেজী বানর, সজারু, কাঠবিড়ালী এবং গাছচিকা।

এর মধ্যে আবার গাছচিকা এই প্রথম সাতছড়িতে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়া দেশের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের বনগুলোতে এই প্রথমবারের মতো ঢোল বা বনকুকুরের সন্ধান মিলেছে সাতছড়িতে।

গবেষকরা বলছেন, সাতছড়িতে সন্ধান পাওয়া প্রাণীদের মধ্যে ১২টিরই অস্তিত্ব বাংলাদেশে হুমকির মুখে। আর তিনটির অস্তিত্ব বিশ্বব্যাপীই হুমকির মুখে। এর মাঝে রয়েছে ঢোল, সিংহলেজী বানর ও বড় বাগদাশ।

‘ম্যামাল স্টাডি’-তে প্রকাশিত গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতছড়িতে প্রাণীরা বেশিরভাগই নিশাচর জীবন-যাপন করে। ঢোল, বানর, মারটেন এবং কাকড়াভুক বেজী ছাড়া আর কোনো দিবাচর প্রাণি পাওয়া যায়নি এখানে।

এই গবেষক দলের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মুনতাসির আকাশ। তার মতে, মানুষের চলাচল দিনে অনেক বেশি থাকায় দিবাচরপ্রাণীরা অসুবিধায় রয়েছে।

মুনতাসির বলেন, ‘বনে অতিমাত্রায় পর্যটক প্রবেশ, বনের ভেতরে বাড়িঘর নির্মাণসহ নানা কারণে মানুষের উপস্থিতি প্রাণিদের ভীত করে তুলছে। ফলে অনেক দিবাচর প্রাণিও এখন নিশাচর হয়ে যাচ্ছে।’

বর্তমানে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের ৬টি সংরক্ষিত বনের প্রাণি নিয়ে গবেষণা করছেন মুনতাসির আকাশের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই বনসহ হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারের অন্যান্য বনেও কীভাবে কতগুলো প্রাণি মানুষের উপস্থিতিতে খাপ খাইয়ে আছে সেটি গবেষণার দাবি রাখে।

‘এসব বনে কী কী মাংশাসী স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে সেটি জানা এবং তাদের জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা সময়ে দাবি। এ বনগুলোর মাত্র ১০ শতাংশ দুইটি জাতীয় উদ্যান এবং একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দিয়ে সংরক্ষিত। হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে জাতীয় উদ্যানের সংখ্যা বাড়ানোও এখন সময়ের দাবি।’

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

সাতছড়ি উদ্যানের প্রাণি নিয়ে এ গবেষণা বিষয়ে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান জানান, তারা খুব চমৎকার একটি কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই কাজের মাধ্যেম আমরা জানতে পারলাম এই এলাকার বন্যপ্রাণীর অবস্থা। আগে তো আমরা শুধু ধারণার উপরে বলতাম যে, প্রাণি কমে গেছে, কিন্তু এই গবেষণা আশা দেখিয়েছে যে অনেক প্রাণি এখনও টিকে আছে।

‘বনের ভেতর পর্যটক প্রবেশসহ নানা কারণে প্রাণিরা প্রকাশ্যে কম আসে। তবে সিলেটের প্রতিটি বন দেশের অন্য জায়গা থেকে ভাল আছে, কারণ এখানে বনের পাশে চা বগান রয়েছে। যে চা বাগানগুলো বনের বাফার জোন হিসেবে কাজ করছে বনকে রক্ষা করতে। সাধারণত দেশের অন্য বনে দেখা যায় যেখানে বন শেষ সেখানে জনবসতি শুরু। তাই সিলেট অঞ্চলের বনের জন্য চা বাগানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এই গবেষক জানান, কয়েক বছর আগে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা ও মৌলভীবাজারের লাঠি টিলায় চিতা বাঘের অস্তিত্ব তিনি নিজে পেয়েছেন এবং মৌলভীবাজারে লাঠি টিলায় ২০০৮ সালে একটি বাঘের রেকর্ড আছে। তবে এই বাঘটি এখানের স্থায়ী নয়; হয়তো ভারত থেকে ঢুকেছিল।

এই অঞ্চলের বন্যপ্রাণির অবস্থা জানার জন্য প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন এই প্রাণি বিশেষজ্ঞ।

বনে মানুষের অবাধ প্রবেশে বন্যপ্রাণির জীবনাচরণে পরিবর্তন আনছে জানিয়ে বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘কিছু প্রাণি অভ্যাস বদল করে দিনের বদলে রাতে চলাচল করে। যেমন শিয়াল সাধারণত দিনেই ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু মানুষের কারণে ভয়ে এখন দিনে বের হয় না।

‘২০১১-১২ সালে বন বিভাগের সার্ভেতে দেখা গেছে, অতিরিক্ত পর্যটক বনে প্রবেশ করছেন। এরপর থেকে আমরা পর্যটক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।’

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

ব্লাড প্রেশার কমে গেলে যা করবেন

ব্লাড প্রেশার কমে গেলে যা করবেন

প্রেশার কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৫ থেকে ৬টি কাঠবাদাম খেয়ে নিন। কাঠবাদাম না থাকলে ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদামও খেতে পারেন। বাদাম প্রেশার বাড়াতে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও অত্যন্ত বিপজ্জনক। হঠাৎ ব্লাড প্রেশার কমে গেলে হৃৎপিণ্ড আর মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীর দুর্বল লাগা, মাথাঘোরা, বমি ভাব, জ্ঞান হারানো, বুক ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এমনকি স্ট্রোকও হয়। এসব সমস্যা এড়াতে সব সময় শরীরের রক্ত চলাচলে ব্যালেন্স রাখা জরুরি। কমে যাওয়া ব্লাড প্রেশারের ব্যালেন্স ফেরাতে কিছু সহজ উপায় রয়েছে। চলুন জেনে নেই।

ক্যাফেইন

বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ব্লাড প্রেশার কমে গেলে চা অথবা কফি পান করা একটি কার্যকর উপায়। কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ব্লাড প্রেশার বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া চা অথবা কফির মতো পানীয়গুলো শরীরের ক্লান্তভাবও দূর করে।

পানি

লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের বেশি বেশি পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি শরীরের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা ঠিক রাখে।

ফলের রস

বেশি পানি খেতে সমস্যা হলে ফলের রস এর কার্যকর ব্যতিক্রম। তবে স্যুপজাতীয় খাবারও খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটানো যাবে। খেয়াল রাখতে হবে শরীর যেন কোনোভাবেই ডিহাইড্রেশনের কবলে না পড়ে।

তুলসীপাতা

হঠাৎ যাদের ব্লাড প্রেশার কমে যাওয়ার সমস্যা আছে তাদের জন্য উত্তম পথ্য হলো- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ৫ থেকে ৭টি তুলসীপাতা চিবানো। তুলসীপাতায় উচ্চমাত্রায় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক। এ ছাড়া এতে ইউজিনোল নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায়।

ডায়েট প্ল্যান

লো ব্লাড প্রেশারের রোগীদের সঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করা সবচেয়ে জরুরি। ভারী খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৩ বার ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে পাঁচবার অল্প অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী।

বাদাম

প্রেশার কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৫ থেকে ৬টি কাঠবাদাম খেয়ে নিন। কাঠবাদাম না থাকলে ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদামও খেতে পারেন। বাদাম প্রেশার বাড়াতে সহায়তা করে।

ডিম

দ্রুত ব্লাড প্রেশার বাড়াতে ডিম অনেক কার্যকর। একসঙ্গে দুটি ডিম খেয়ে নিলে হারানো প্রেশার ফিরে পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

কেন সুগন্ধি ব্যবহার করবেন

কেন সুগন্ধি ব্যবহার করবেন

সুন্দর পোশাকের মতোই ভালো সুগন্ধি একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কেননা এর মাধ্যমে শরীরের দুর্গন্ধ বিষয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থেকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

বহুকাল থেকেই সুগন্ধি মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়। অনেকেই পারফিউম বা ডিউডোরেন্টস ব্যবহার করতে ভালোবাসেন। তবে অনেকে আবার নিয়মিত সুগন্ধি ব্যবহার করেন না। তাদের জেনে রাখা ভালো, এগুলো শুধু শরীরের দুর্গন্ধ থেকেই মুক্তি দেয় না, এর সঙ্গে একজন ব্যক্তির মনোবলও বৃদ্ধি করে। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এছাড়াও সুগন্ধির রয়েছে নানা উপকারিতা। চলুন জেনে নেয়া যাক।

সুবাস

সুগন্ধি ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো শরীরের দুর্গন্ধ তাড়িয়ে শরীরকে সুবাসিত করে তোলা। শত শত বছর ধরেই মানুষ ঘামসহ শরীরের আরও নানা দুর্গন্ধ দূর করতে এটা ব্যবহার করত। শুধু কি তাই, একজন মানুষকে সতেজ থাকতেও সহায়তা করে সুগন্ধি।

মন প্রফুল্ল রাখা

সুগন্ধি ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো এটি সুঘ্রাণ ছড়ানোর পাশাপাশি মন ভালো রাখে এবং প্রফুল্লতা নিয়ে আসে। একজন মানুষ তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিল রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে। এতে সবার সামনে আলাদাভাবে নিজের পার্সোনালিটির প্রকাশ ঘটে।

আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

সুন্দর পোশাকের মতোই ভালো সুগন্ধি একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কেননা এর মাধ্যমে শরীরের দুর্গন্ধ বিষয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থেকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

আকর্ষণীয় করে তোলে

মানুষের ৫টি ইন্দ্রিয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো ঘ্রাণেন্দ্রিয়। মাঝেমধ্যে এমনও হয় যে, শুধু সুগন্ধির ওপর ভিত্তি করেই একজন আরেকজনের প্রতি আকর্ষিত হয়। পারফিউম বা সেন্ট ফেরোমনস (Pheromones) সমৃদ্ধ। একজন মানুষকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এর কোনো জুড়ি নেই।

অ্যাফ্রোডিজিয়াক বা কামোদ্দীপক

মাঝেমধ্যে অনেক সুগন্ধি প্রাকৃতিক কামোদ্দীপক বা অ্যাফ্রোডিজিয়াক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ ধরনের সুগন্ধিতে কিছু ফেরোমনস বৈশিষ্ট্য থাকে, যা অ্যাফ্রোডিজিয়াক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটা ব্যাখ্যা করে যে আপনি যদি কারো প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন, তাহলে সেটা এই ফেরোমনস বৈশিষ্ট্যের জন্য।

স্বাস্থ্যের উন্নতি

সরাসরি স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সুগন্ধির ভূমিকা না থাকলেও এটি মানুষকে চনমনে থাকতে সহায়তা করে। নানা রকম মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থেকেও মনকে মুক্ত রাখে। পছন্দের সুগন্ধি ব্যবহারে মন ভালো হয়ে যায়। আর মন ভালো থাকা মানে অনেকাংশেই শরীরও ভালো থাকা।

অনিদ্রা দূর করে

বিশেষ কিছু সুগন্ধির থেরাপিউটিক প্রভাব রাতে ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু অ্যাসেনশিয়াল অয়েল বা প্রয়োজনীয় তেল ধারণকারী পারফিউম মনকে শিথিল করে। এতে ঘুম ভালো হয়।

সূত্র: স্টাইলক্রেজ

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

গৃহিণীরা সুস্থ থাকবেন যেভাবে

গৃহিণীরা সুস্থ থাকবেন যেভাবে

বেশির ভাগ সময় গৃহিণীরা স্বামী, সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দের খাবারই রান্না করেন। নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে।

ঘরের কাজ সামলানো খুবই কঠিন বিষয়। যেটি একজন গৃহিণী প্রতিনিয়ত করে থাকেন। আর ঘর সামলাতে গিয়ে তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েন। অনেকে আবার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়ার সময়ই পান না। ফলে নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তবে খুব সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই এসব সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব।

খাবার

প্রতিদিন কী খাবেন তা দিনের শুরুতেই ঠিক করে ফেলুন। খাবারের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স রাখতে চেষ্টা করুন। যদি সকালে ভারী খাবার খান, তবে দুপুরে একটু কম, রাতে একেবারেই কম খাবেন। সারা দিন কত ক্যালরি খাবেন তা ঠিক করুন। সে অনুযায়ী সকাল, দুপুর এবং রাতের ডায়েট চার্ট ঠিক করুন।

পরিমাণমতো ক্যালরি গ্রহণ

শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালরি গ্রহণ করুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরের ওজন বাড়ায়। তাই ক্যালরি গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করুন।

পানি

প্রচুর পানি পান করুন। সকালে নাশতা করার আগে ২ গ্লাস পানি পান করবেন। দুপুর এবং রাতের খাবারের পরও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বেশিক্ষণ তৃষ্ণা নিয়ে থাকবেন না। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা যাবে। ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিন।

একঘেয়েমি কাটাতে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না

অনেকেই একঘেয়েমি কাটাতে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে থাকেন। এটি গৃহিণীদের ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বেশি ক্ষিধা পেলে সবজি, ফলমূল কিংবা চর্বিহীন প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে পারেন।

শরীরচর্চা

সারা দিন বাসায় থাকার ফলে শরীরে মেদ জমে যায়। ফলে অনেকেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেন। তাই ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ কিংবা ইয়োগা করুন। এ ছাড়া সময় পেলেই হাঁটার চেষ্টা করুন। এতে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়ে যাবে।

পছন্দের খাবার

বেশির ভাগ সময় গৃহিণীরা স্বামী, সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দের খাবারই রান্না করেন। নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম

যেকোনো মানুষের সুস্থ থাকার অন্যতম নিয়ামক হলো ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও শরীরের ওজন বেড়ে যায়, দেখা দেয় অন্যান্য নানা সমস্যা। তাই প্রতিদিনের ঘুম যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

তুলে রাখা শীতের পোশাক ব্যবহারের আগে জেনে নিন

তুলে রাখা শীতের পোশাক ব্যবহারের আগে জেনে নিন

শীতকালে কাঁথা ব্যবহারের আগে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন। এমনিতে শীত ছাড়াও অনেকে কাঁথা ব্যবহার করেন। তাই কিছুদিন পরপরই ডিটারজেন্টে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে তারপর কেচে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। 

দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। সময় এসেছে শীতের পোশাকগুলো আলমারি থেকে বের করার। তবে সেগুলো ব্যবহারের আগে দরকার কিছু প্রস্তুতির। চলুন জেনে নেই।

লেপ

আপনার লেপটি যদি শিমুল তুলার হয় তাহলে সেটি ধোয়া যাবে না। এমনকি ড্রাই ওয়াশও নিষেধ। তার চেয়ে লেপটি রোদে দিন। দুপুরের কড়া রোদে ঘণ্টা দুই রাখলেই চলবে। উল্টে-পাল্টে লেপের দুই পাশেই রোদ লাগান। এতে লেপে থাকা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

কম্বল

কম্বলও লেপের মতোই রোদে দেয়া ভালো। তবে এটি পানি দিয়ে ধোয়া এবং ড্রাই ওয়াশও করা যায়। পানির সঙ্গে পরিমাণমতো ডিটারজেন্ট মিশিয়ে তাতে কম্বলটি অল্প কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। পরে রোদে শুকিয়ে নিন। তবে কম্বল সাধারণত ভারী হয়, তাই ঝামেলা এড়াতে লন্ড্রিতে দেয়াই ভালো।

কাঁথা

শীতকালে কাঁথা ব্যবহারের আগে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন। এমনিতে শীত ছাড়াও অনেকে কাঁথা ব্যবহার করেন। তাই কিছুদিন পরপরই ডিটারজেন্টে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে তারপর কেচে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন।

সোয়েটার/মাফলার

উলের তৈরি যেকোনো গরম কাপড় একটানা তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে নানা ধরনের অ্যালার্জি হয়। এসব কাপড় কাচার জন্য বাজারে বিশেষ ডিটারজেন্ট পাওয়া যায়। সেসব ব্যবহার করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় পানিতে লেবুর রস বা ভিনেগার দিতে পারেন। এতে রং ঠিক থাকে। কাচার পর কড়া রোদে শুকাতে দেবেন না।

জ্যাকেট

চামড়ার পোশাক বাড়িতে না ধুয়ে লন্ড্রিতে দেয়াই ভালো। কারণ এগুলো সংবেদনশীল। এগুলো রোদে শুকাতে দেয়া উচিত নয়। জ্যাকেট ফোমের হলে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন:
চশমার যত্ন কীভাবে
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে

শেয়ার করুন