চশমার যত্ন কীভাবে

চশমার যত্ন কীভাবে

চশমা মাথার ওপর তুলে রাখবেন না। এতে চশমার অ্যালাইনেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। চশমার লেন্স ঠিক থাকলেও অ্যালাইনেন্ট ঠিক না হলে দেখতে অসুবিধা হয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই চশমা ছাড়া চলে না। জীবনের এই অপরিহার্য সঙ্গীটির যত্ন না নিলে অল্পতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হতে পারে। চলুন দেখে নেই কীভাবে চশমার যত্ন নিতে হবে।

ব্যবহারের নিয়ম

চশমা মাথার ওপর তুলে রাখবেন না। এতে চশমার অ্যালাইনেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। চশমার লেন্স ঠিক থাকলেও অ্যালাইনেন্ট ঠিক না হলে দেখতে অসুবিধা হয়।

মাথা ঢুকিয়ে জামাকাপড় পরার সময় চশমা খুলে রাখুন। নাহলে চশমায় ক্রমাগত চাপ পড়ে ফ্রেম বেঁকে যেতে পারে। আবার চশমা পড়ে গিয়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

ব্যবহার না করলে

ঘুমানোর সময় চশমা খুলে রাখুন। বালিশের পাশে বা নিচে না রেখে কেস ব্যবহার করুন।

চশমা খুলে রাখার সময় লেন্সের দিকটা সবসময় ওপরের দিকে রাখুন। লেন্স নিচের দিকে রাখলে ঘষা লেগে দাগ হতে পারে।

চশমা সরাসরি রোদে রাখবেন না। এমনকি নিজের চশমা অন্য কাউকে পরতে দেবেন না। এতে চশমার ফিটিংস নষ্ট হয়ে যায়। কয়েক মাস অন্তর দোকানে গিয়ে চশমার স্ক্রু অ্যাডজাস্ট করিয়ে নিতে হবে।

চশমা পরিষ্কার করা

নরম সুতি কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চশমার লেন্স পরিষ্কার করুন। শক্ত বা খসখসে কাপড় ব্যবহার করবেন না।

সপ্তাহে এক দিন চশমা ধুয়ে পরিষ্কার করুন। বাটিতে কুসুম গরম পানি নিয়ে কয়েক ফোঁটা তরল সাবান মেশান। ওই পানিতে চশমা কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। চশমা ধোওয়ার পর নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

চশমা পরিষ্কার করার জন্য বাজারে লেন্স ক্লিনার স্প্রে পাওয়া যায়। এই স্প্রে লাগিয়ে সুতি কাপড় দিয়েও চশমা মুছে নিতে পারেন।

চশমা পরিষ্কার করার জন্য অ্যামোনিয়া, ব্লিচ, ভিনিগার বা উইনডো ক্লিনার জাতীয় জিনিস ব্যবহার করবেন না। এগুলো চশমার লেন্স ও কোটিংয়ের ক্ষতি করে।

সতর্কতা

চশমায় ঘাম লাগলে মুছে নিন। ঘাম বসে গেলে ফ্রেমে দাগ হয়ে যায়। তা ছাড়া ঘাম লেন্সেরও ক্ষতি করে। হাত দিয়ে চশমার লেন্স ধরা যাবে না। এতে লেন্সে আঙুলের ছাপ পড়ে যায় এবং দেখতে অসুবিধা হয়।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্লাড প্রেশার কমে গেলে যা করবেন

ব্লাড প্রেশার কমে গেলে যা করবেন

প্রেশার কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৫ থেকে ৬টি কাঠবাদাম খেয়ে নিন। কাঠবাদাম না থাকলে ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদামও খেতে পারেন। বাদাম প্রেশার বাড়াতে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও অত্যন্ত বিপজ্জনক। হঠাৎ ব্লাড প্রেশার কমে গেলে হৃৎপিণ্ড আর মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীর দুর্বল লাগা, মাথাঘোরা, বমি ভাব, জ্ঞান হারানো, বুক ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এমনকি স্ট্রোকও হয়। এসব সমস্যা এড়াতে সব সময় শরীরের রক্ত চলাচলে ব্যালেন্স রাখা জরুরি। কমে যাওয়া ব্লাড প্রেশারের ব্যালেন্স ফেরাতে কিছু সহজ উপায় রয়েছে। চলুন জেনে নেই।

ক্যাফেইন

বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ব্লাড প্রেশার কমে গেলে চা অথবা কফি পান করা একটি কার্যকর উপায়। কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ব্লাড প্রেশার বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া চা অথবা কফির মতো পানীয়গুলো শরীরের ক্লান্তভাবও দূর করে।

পানি

লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের বেশি বেশি পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি শরীরের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা ঠিক রাখে।

ফলের রস

বেশি পানি খেতে সমস্যা হলে ফলের রস এর কার্যকর ব্যতিক্রম। তবে স্যুপজাতীয় খাবারও খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটানো যাবে। খেয়াল রাখতে হবে শরীর যেন কোনোভাবেই ডিহাইড্রেশনের কবলে না পড়ে।

তুলসীপাতা

হঠাৎ যাদের ব্লাড প্রেশার কমে যাওয়ার সমস্যা আছে তাদের জন্য উত্তম পথ্য হলো- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ৫ থেকে ৭টি তুলসীপাতা চিবানো। তুলসীপাতায় উচ্চমাত্রায় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক। এ ছাড়া এতে ইউজিনোল নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায়।

ডায়েট প্ল্যান

লো ব্লাড প্রেশারের রোগীদের সঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করা সবচেয়ে জরুরি। ভারী খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৩ বার ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে পাঁচবার অল্প অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী।

বাদাম

প্রেশার কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৫ থেকে ৬টি কাঠবাদাম খেয়ে নিন। কাঠবাদাম না থাকলে ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদামও খেতে পারেন। বাদাম প্রেশার বাড়াতে সহায়তা করে।

ডিম

দ্রুত ব্লাড প্রেশার বাড়াতে ডিম অনেক কার্যকর। একসঙ্গে দুটি ডিম খেয়ে নিলে হারানো প্রেশার ফিরে পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

তুলে রাখা শীতের পোশাক ব্যবহারের আগে জেনে নিন

তুলে রাখা শীতের পোশাক ব্যবহারের আগে জেনে নিন

শীতকালে কাঁথা ব্যবহারের আগে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন। এমনিতে শীত ছাড়াও অনেকে কাঁথা ব্যবহার করেন। তাই কিছুদিন পরপরই ডিটারজেন্টে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে তারপর কেচে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। 

দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। সময় এসেছে শীতের পোশাকগুলো আলমারি থেকে বের করার। তবে সেগুলো ব্যবহারের আগে দরকার কিছু প্রস্তুতির। চলুন জেনে নেই।

লেপ

আপনার লেপটি যদি শিমুল তুলার হয় তাহলে সেটি ধোয়া যাবে না। এমনকি ড্রাই ওয়াশও নিষেধ। তার চেয়ে লেপটি রোদে দিন। দুপুরের কড়া রোদে ঘণ্টা দুই রাখলেই চলবে। উল্টে-পাল্টে লেপের দুই পাশেই রোদ লাগান। এতে লেপে থাকা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

কম্বল

কম্বলও লেপের মতোই রোদে দেয়া ভালো। তবে এটি পানি দিয়ে ধোয়া এবং ড্রাই ওয়াশও করা যায়। পানির সঙ্গে পরিমাণমতো ডিটারজেন্ট মিশিয়ে তাতে কম্বলটি অল্প কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। পরে রোদে শুকিয়ে নিন। তবে কম্বল সাধারণত ভারী হয়, তাই ঝামেলা এড়াতে লন্ড্রিতে দেয়াই ভালো।

কাঁথা

শীতকালে কাঁথা ব্যবহারের আগে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন। এমনিতে শীত ছাড়াও অনেকে কাঁথা ব্যবহার করেন। তাই কিছুদিন পরপরই ডিটারজেন্টে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে তারপর কেচে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন।

সোয়েটার/মাফলার

উলের তৈরি যেকোনো গরম কাপড় একটানা তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে নানা ধরনের অ্যালার্জি হয়। এসব কাপড় কাচার জন্য বাজারে বিশেষ ডিটারজেন্ট পাওয়া যায়। সেসব ব্যবহার করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় পানিতে লেবুর রস বা ভিনেগার দিতে পারেন। এতে রং ঠিক থাকে। কাচার পর কড়া রোদে শুকাতে দেবেন না।

জ্যাকেট

চামড়ার পোশাক বাড়িতে না ধুয়ে লন্ড্রিতে দেয়াই ভালো। কারণ এগুলো সংবেদনশীল। এগুলো রোদে শুকাতে দেয়া উচিত নয়। জ্যাকেট ফোমের হলে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

শিশুদের বোঝার চেষ্টা করুন

শিশুদের বোঝার চেষ্টা করুন

একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, ওদের সমস্যা যতই ছোট মনে হোক না কেন, এখন যদি ওরা এই ছোট ছোট সমস্যাগুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার  করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে সিরিয়াস কোনো সমস্যাও শেয়ার করতে চাইবে না। মনে সংশয় কাজ করবে।

ধরুন খেলতে খেলতে হঠাৎ আপনার শিশুর সব থেকে পছন্দের খেলনাটা হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেল, এরপর শুরু হলো বাড়ি মাথায় তুলে কান্না। অথবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাইরের অস্বাস্থ্যকর কোনো খাবার খাওয়ার জন্য শুরু করল জেদ, যা আপনি হাজার চেষ্টার পরও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। একটু চিন্তা করে দেখুন তো আপনার প্রথম পদক্ষেপ কী হবে?

হয়তো বোঝাবেন একটা খেলনা ভেঙে যাওয়াতে এত কাঁদতে হয় না। এমন আরও অনেক খেলনা আছে যেগুলো নিয়ে সে খেলতে পারবে কিংবা রাস্তার খাবারগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। বাসায় তাকে আরও মজাদার খাবার বানিয়ে দেয়া হবে।

বারবার বোঝানোর পরও যদি তার জেদ না কমে তাহলে হয়তো একটু জোড় গলায় তাকে থামতে বলবেন। তবুও যদি কাজ না হয় তাহলে হয়তো একপর্যায়ে আপনি নিজেই বিরক্ত হয়ে যাবেন। হাল ছেড়ে দেবেন। ভাবতে থাকবেন আপনি একজন ব্যর্থ অভিভাবক যে কি না নিজের বাচ্চার অহেতুক জেদটা পর্যন্ত সামলাতে পারে না। কিন্তু একটু ভেবে দেখেছেন, শিশুরা যখন জেদ করে অথবা খুব বেশি কষ্ট পায় তখন তার ভেতরে ঠিক কী কাজ করে এবং কেনইবা কোনো ধরনের কথা দিয়ে তাদের শান্ত করা যায় না?

বৈজ্ঞানিকভাবে যদি এর ব্যাখ্যাটা খুঁজে দেখা যায় তাহলে ব্যাপারটা পানির মতো পরিষ্কার। আসলে মানুষের মস্তিষ্কের তিনটা ভাগ বা পার্ট আছে।

১. প্রিমিটিভ পার্ট

২. লজিক্যাল পার্ট

৩. ইমোশনাল পার্ট

আমরা যখন খুব রেগে যাই বা খুব কষ্ট পাই, তখন আমাদের ব্রেইনের প্রিমিটিভ পার্টটা সচল হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের মস্তিষ্ক আর কিছু চিন্তা করতে চায় না। আমাদের চিন্তাশক্তি ঠিক তখন সচল হয় যখন আমাদের লজিক্যাল পার্ট সচল হয়। অর্থাৎ হুট করে রেগে গেলে, উত্তেজিত হয়ে গেলে কিংবা অত্যন্ত কষ্ট পেলে আমাদের চিন্তাশক্তি হ্রাস পায়।

প্রিমিটিভ পার্ট নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর আমাদের লজিক্যাল পার্ট সচল হয়, সঙ্গে আমাদের চিন্তাশক্তিও ফেরত আসে। একইভাবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও তাই। শিশু যখন খুব বেশি জেদ করা শুরু করে, কাঁদতে থাকে তখন তার মস্তিষ্ক আমাদের সহজ কথাগুলোও গ্রহণ করতে পারে না। তখন সে কেবল তার ভাঙা খেলনার জন্য কষ্ট পেতে থাকে অথবা বারবার রাস্তার সেই অস্বাস্থ্যকর খাবারটাই খেতে চায়। আমাদের হাজার বলার পরও সে বুঝতে পারে না কেন তাকে জেদ করতে মানা করা হচ্ছে। তাহলে সেই ক্ষেত্রে আমরা কী করবো? বাচ্চা যা চাইবে তাই দিয়ে দেব?

না! আমরা তাকে কাছে টেনে নেব। জড়িয়ে ধরে তাকে বলব ‘আসলেই তো খাবারটা অনেক টেস্টি মনে হচ্ছে’ কিংবা ‘ছোটবেলায় আমার খেলনা ভেঙে গেলে আমিও এভাবেই কাঁদতাম’। এর মাধ্যমে আমরা ওকে বুঝালাম যে আমরা ওর কষ্ট, রাগ কিংবা জেদটা অনুভব করতে পারছি। এখন ও নির্দ্বিধায় ওর মনের কথাটা আমাদের জানাতে পারে। এতে করে সে আমাদের বিশ্বাস করবে, তার মনের কষ্ট, রাগ বা জেদটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাইবে।

একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, ওদের সমস্যা যতই ছোট মনে হোক না কেন, এখন যদি ওরা এই ছোট ছোট সমস্যা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে সিরিয়াস কোনো সমস্যাও শেয়ার করতে চাইবে না। মনে সংশয় কাজ করবে। আমাদের বিশ্বাস করতে পারবে না।

সাধারণত মস্তিষ্কের লজিক্যাল পার্ট সচল হতে ৫ মিনিট কিংবা ১ ঘণ্টা, আবার কখনও কখনও ১ দিনও লাগতে পারে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, খেয়াল রাখুন, জড়িয়ে ধরে ওর মনের কথাগুলো শুনুন। যখন মনে হবে ও আপনার কথাগুলো গ্রহণ করার মতো অবস্থায় আছে, আস্তে আস্তে একটা-দুইটা কথা দিয়ে শুরু করুন। যদি দেখেন সে বোঝার চেষ্টা করছে, তাহলে এই সুযোগে কেন রাস্তার খাবারটা আপনি ওকে দিতে চাইছেন না, সেটা বোঝান। দেখবেন ও আপনাকে বোঝার চেষ্টা করছে, ঠিক সেভাবেই যেভাবে কিছুক্ষণ আগে আপনি ওকে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। দেখবেন যতটা সময় নিয়ে আপনি ওকে বোঝার চেষ্টা করবেন ঠিক ততটাই ও আপনার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে।

শুধু শিশুদের আবেগকে ছোট করে দেখার কারণেই পরবর্তী সময়ে তারা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। এভাবেই আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে এবং আমরা এই দূরত্বকে নাম দিই ‘জেনারেশন গ্যাপ’!

কাজেই একটু সহানুভূতিশীলতার সঙ্গে ওদের আবেগকে বোঝার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কী করবেন

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কী করবেন

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা ছিনতাই হলে প্রথমেই আপনার অপারেটর সার্ভিসে ফোন করে সিম লক করে দিতে হবে।

যেকোনো সময় আমাদের ফোন হারিয়ে যেতে পারে। চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অনেক সময় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। যেমন: চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি কখনো কখনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোবাইল ও সিমের রেজিস্ট্রি মতে এর প্রকৃত মালিক গ্রেপ্তার বা হয়রানির স্বীকার হতে পারেন। তাই ফোন হারিয়ে গেলে যা করতে হবে জেনে নিন এখনই।

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা ছিনতাই হলে প্রথমেই আপনার অপারেটর সার্ভিসে ফোন করে সিম লক করে দিতে হবে।

এর পর করতে হবে সাধারণ ডায়েরি। ফোন যেখানে হারিয়েছে তার নিকটস্থ থানায় উপস্থিত হয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে পারবেন। এ সময় ফোনের আইএমইআই নম্বর, ফোনে ব্যবহৃত সিমের নম্বর প্রভৃতি উল্লেখ করে করতে হবে।

সাধারণ ডায়েরি করার সময় ফোন ক্রয়ের রসিদ, সিম রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট ইত্যাদির কপি দিতে হবে। মূল কপি নিজের কাছে যত্ন সহকারে রেখে দিবেন।

এরপর ডিউটিরত অফিসার আবেদনকারীকে একটি জিডি নম্বর প্রদান করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোবাইলটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করে সেটটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবে।

পরবর্তী সময়ে যদি হারানো মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ওসির মাধ্যমে আবেদনকারী তা ফেরত পাবেন। খুঁজে না পেলেও ব্যবহারকারীকে থানা থেকে জানিয়ে দেয়া হবে। পুলিশের এই সেবা বিনা মূল্যে দেয়া হয়ে থাকে।

আপনার মোবাইল ফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের হয়, তাহলে সেটি কোথায় আছে তা গুগলের মাধ্যমে শনাক্ত করতে পারবেন।

১. যেকোনো কম্পিউটার থেকে এই ঠিকানাটা (https://www.google.com/android/find) লিখুন। আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে যে জিমেইল ব্যবহার করছেন সেই আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। মনিটরে ফাইন্ড মাই ডিভাইস নামের একটি অপশন দেখাবে। সেটি একসেপ্ট করুন।

অথবা আপনার আইডি দিয়ে গুগলে ঢুকে Find my phone লিখে সার্চ দিন। গুগল মনিটরে আপনার ফোনের লোকেশন দেখাবে। নিচে রিং অপশনে ক্লিক করলে আপনার ফোনে রিংটোন বেজে উঠবে। সাইলেন্ট মুডে থাকলেও সমস্যা নেই। রিং বাজবে। আপনার ফোনটি যদি হারিয়ে না গিয়ে আশপাশে কোথাও পড়ে থাকে, তাহলে রিংটোন শুনে ফোন পেয়ে যাবেন।

মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কী করবেন

২. রিং অপশনের পাশে রিকভার অপশনে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসের লোকেশন দেখাবে। তবে এই সেবাটি পাওয়ার জন্য ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকতে হবে। সার্ভারে আপনার মোবাইলের ব্র্যান্ড ও মডেল নম্বরটি দেখে সেটি খুঁজে নেবে গুগল ম্যাপ। মোবাইল থেকে পাওয়া তথ্য সার্ভারের মাধ্যমে গুগল ম্যাপে দেখিয়ে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কাছাকাছি লোকেশনই দেখানো হবে।

৩. মোবাইল যদি সত্যিকারেই হারিয়ে যায় এবং দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সুযোগও যদি খুঁজে না পান, সে ক্ষেত্রে আপনি মোবাইল লক করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন। একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে দিতে পারবেন সেট। উদ্ধারের পর সে পাসওয়ার্ড দিয়ে সেট আনলক করে নিতে পারবেন।

৪. ফোনসেট উদ্ধারের কোনো আশাই যদি না থাকে, সে ক্ষেত্রে মোবাইলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবি যেন অন্য কারও হাতে না পড়ে, সে ব্যবস্থাও নিতে পারেন। ইরেজ ডাটা অপশনটি ব্যবহার করে, মোবাইলের সব ডাটা মুছে ফেলতে পারবেন। মোবাইল যদি অফলাইনে থাকে, তবে যখনই অনলাইনে আসবে, সঙ্গে সঙ্গে সব তথ্য মুছে যাবে। তবে এর ফলে গুগলের সাহায্য নিয়ে আর সেট খুঁজে পাওয়ার উপায় খোলা থাকবে না। তবে সেট খুঁজে পেলে জিমেইল আইডি দিয়ে আবারও ব্যবহার করতে পারবেন সেই ফোন।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

অনলাইন মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন

অনলাইন মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন

বাসায় বসে মিটিং করলেও দেখা যায় অনেকেই ঠিক সময় মিটিংয়ে জয়েন করতে পারেন না। এটি উচিত নয়। এতে আপনি মিটিংয়ে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ হয়ে উঠতে পারেন।

কোভিড পরিস্থিতির কারণে অনেক কাজই সারতে হচ্ছে অনলাইনে। অফিসের মিটিং, ট্রেনিংসহ অনেক কিছুই হচ্ছে জুম কিংবা গুগল মিট প্ল্যাটফর্মে। এসব অনলাইন মিটিংয়ে যোগ দেবার সময় কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। চলুন সেগুলো জেনে নিই।

পোশাক

অনলাইন মিটিং মানে যানজট পেরিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝামেলা নেই। কিন্তু বাসায় বসে অফিস করলেও তো সেটা অফিস। তাই আপনাকে অবশ্যই পোশাকের শিষ্টাচারের কথাটি মাথায় রাখতে হবে। খেয়াল রাখবেন শরীরের যতটুকু অংশ স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে অন্তত সেটুকু যেন পরিপাটি হয়। অফিসে যে ধরণের পোশাক পরতে বলা হয়, অনলাইন মিটিংয়েও তাই পরবেন।

টুলসগুলোর ব্যবহার জানা

আমাদের মিটিংগুলো বেশির ভাগ জুম, সিসকো, ওয়েবএক্স আর গুগল মিটে হয়। মিটিং শুরু করার আগেই এগুলোর ব্যবহার ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। তা না হলে মিটিং শুরুর পরে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি যে কাজের জন্য মিটিং, তাতেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

পরিবেশ

বাসায় বসে মিটিং করলেও খেয়াল রাখবেন সেখানেও যেন অফিসের পরিবেশ ফুটে ওঠে। অফিসে থাকলে যে পরিবেশে কাজ করেন এখানেও সেটি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করুন। মিটিং করার জন্য এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে শব্দ কম হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড যেন পরিচ্ছন্ন থাকে। অতিরিক্ত শব্দদূষণের সমস্যা থাকলে নিজেকে মিউট করে রাখুন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার

অনলাইন মিটিং চলাকালে পুরো মনোযোগ সেখানেই রাখার চেষ্টা করুন। এ সময় অন্য কাজ করবেন না। অনেকেই মোবাইল ফোন চেক করা, এদিক-ওদিক তাকানো, উঠে যাওয়া, কল রিসিভ করার মতো কাজ করেন। এগুলো পরিহার করুন।

সময়ানুবর্তিতা

বাসায় বসে মিটিং করলেও দেখা যায় অনেকেই ঠিক সময় মিটিংয়ে জয়েন করতে পারেন না। এটি উচিত নয়। এতে আপনি মিটিংয়ে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ হয়ে উঠতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে মিটিংয়ে জয়েন করতে চেষ্টা করুন। যেসব কাজ সাবমিট করতে বলা হয়, ঠিক সময়ে করে ফেলুন।

অঙ্গভঙ্গি

অনলাইন বলে শুয়ে, হেলান দিয়ে বা যেখানে খুশি বসে মিটিং করবেন না। একটা অফিশিয়াল মিটিংয়ে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেন, সেটি অনলাইনেও বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তা না হলে যার সঙ্গে মিটিং করছেন তিনি অসম্মানিত বোধ করতে পারেন।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

কাপড় ধোয়ার নিয়মকানুন

কাপড় ধোয়ার নিয়মকানুন

জিনস শার্ট এবং প্যান্টের মতো ভারী কাপড় ধোয়ার সময় উল্টো করে নেয়া ভালো। এতে ভিতরের ময়লাও পরিষ্কার হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের দেশে ধুলাবালি বেশি। তাছাড়া মানুষের শরীরও অতিরিক্ত ঘামে। তাই কাপড় ময়লা হয় বেশি। ফলে আমাদের নিয়মিত কাপড় ধুতে হয়।

কাপড় ধোয়ার আগে সাধারণ কিছু নিয়ম জেনে নিলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে। চলুন জেনে নেয়া যাক নিয়মগুলো।

১. বেশি ময়লা কাপড়ের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম ময়লা কাপড় ভেজাবেন না। এতে সেই কাপড়গুলোতেও দাগ লাগার আশঙ্কা থাকে।

২. কোনো কাপড়ের ওপর সরাসরি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না। প্রথমে কাপড় নিন, তারপর পানিতে ভেজান এবং সবার শেষে ডিটারজেন্ট দিন। ব্লিচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমে পানি, তারপর কাপড় এবং সবশেষে ব্লিচিং ডিটারজেন্ট দিতে হবে।

৩. সাদা কাপড় সব সময় আলাদা ধোয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে অন্য কাপড়ের রং সাদা কাপড়ে লাগার আশঙ্কা থাকবে না।

৪. ডেনিমজাতীয় কাপড় যেমন জিনসের প্যান্ট, শার্ট, জ্যাকেট আলাদা ধোয়াই ভালো।

৫. উলের পোশাক কখনও গরম পানিতে ধোবেন না। এ ছাড়া এ ধরনের পোশাক বেশিক্ষণ ডিটারজেন্ট পাউডারে ভিজিয়ে না রাখাই ভালো। এতে উল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬. সাদা কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চাইলে আধা কাপ ভিনেগারের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি দিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেলুন।

৭. কাপড় বেশিক্ষণ দড়িতে ঝুলিয়ে রাখলে কাপড়ের সাইজ নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া রঙিন কাপড় অতিরিক্ত রোদে শুকাতে দেবেন না। বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত জায়গায় শুকাতে দিন। কেননা রোদে রং নষ্ট হয়ে যায়। শুকাতে দেয়ার আগে কাপড় উল্টে নিন।

৮. জিনস, শার্ট এবং প্যান্টের মতো ভারী কাপড় ধোয়ার সময় উল্টো করে নেয়া ভালো। এতে ভিতরের ময়লাও পরিষ্কার হবে।

৯. যেকোনো কাপড় ধুতে দেয়ার আগে এর ট্যাগ চেক করে নিন। বিশেষ করে দামি কাপড়ের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রয়োজন। ট্যাগে কাপড় ধোয়ার নিয়ম দেয়া থাকে।

১০. ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করেন? ফিল্টার বছরে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের পর শুকিয়ে নিতে হবে।

১১. কোনো কাপড় প্রথমবারের মতো ধোয়ার সময় অবশ্যই আলাদাভাবে ধুয়ে পরীক্ষা করে নেবেন। কারণ নতুন কাপড় থেকে রং ওঠার আশঙ্কা থাকে।

১২. সাদা সুতির কাপড় ধোয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। হালকা গরম পানিতে ডিটারজেন্ট গুলে কিছুক্ষণ কাপড় ভিজিয়ে রাখুন।

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

পেশিতে টান লাগলে যা করবেন

পেশিতে টান লাগলে যা করবেন

হাত, পা, আঙুল বা কোমরে টান খেলে আক্রান্ত স্থান ও চারপাশে আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন।

মাঝেমধ্যেই দেখা যায়, হঠাৎ শরীরের বিভিন্ন জায়গার মাংসপেশি বা শিরায় টান লাগে। এই সমস্যাটিকে বিশেষজ্ঞদের ভাষায় মাসলপুল, ক্র্যাম্প বা স্প্যাজম বলে। এটি জেগে থাকা কিংবা ঘুমন্ত যেকোনো সময় হতে পারে। এর ফলে ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি ল্যাকটিক অ্যাসিড নিঃসরণের জন্য প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া করে।

মাংসপেশি বা শিরায় টান লাগার কারণ

সাধারণত পানিশূন্যতা ও রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে এটি হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাংসপেশিতে অতিরিক্ত টান খেলে বা কোনো কারণে টিস্যু ছিঁড়ে গেলেও এটি হয়। আরও কিছু কারণ হলো-

১. শরীরের কোনো মাংসপেশি অনেকক্ষণ ধরে ব্যবহৃত হলে।

২. ব্যায়াম বা যেকোনো শারীরিক কাজের আগে শরীর ঠিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে।

৩. ক্লান্ত পেশি আচমকা নড়াচড়া করলে।

৪. অনেক ভার ওঠালে।

৫. ক্লান্ত অবস্থায় অতিরিক্ত কাজ করলে।

৬. মানসিক চাপ ও অবসাদ।

৭. খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম

৮. শরীরে ভিটামিন এ, বি, সোডিয়াম, আয়রন ও পটাশিয়ামের অভাব হলে।

৯. দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করলে।

টান ধরলে যা করবেন

বিশ্রাম

সব ধরনের শারীরিক ব্যায়াম ও কাজ বন্ধ রাখুন। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে চাপ নেয়া বা প্রেসার দেয়া যাবে না। পানি, স্যালাইন কিংবা ডাবের পানি পান করুন।

সেক

এ ক্ষেত্রে ঠান্ডা এবং গরম উভয় সেকই দেয়া যায়। একটি হট ব্যাগ বা বরফের ব্যাগ নিন। আঘাতপ্রাপ্ত জায়গাটিতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর অন্তত ২০ মিনিটের জন্য ব্যাগটি রেখে সেক দিন।

ব্যান্ডেজ

যেখানে টান খেয়েছে সে জায়গাটি বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। এ জন্য একটি ব্যান্ডেজ দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারেন।

এলিভেট

যেখানে টান ধরেছে চেষ্টা করুন সে জায়গাটি উঁচু করে রাখতে। এ ক্ষেত্রে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।

ম্যাসাজ

হাত, পা, আঙুল বা কোমরে টান খেলে আক্রান্ত স্থান ও চারপাশে আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন।

স্ট্রেচিং

পায়ের ক্ষেত্রে ম্যাসাজের পর জায়গাটা একটু স্বাভাবিক হলে হালকা চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে স্ট্রেচিং করুন। যে পায়ে টান, সেই পায়ের হাঁটু ভাঙুন। অন্য পা পেছনে টান টান করে ছড়িয়ে দিন এবং টান ধরা পায়ের হাঁটুর ওপর শরীরের ভর রাখার চেষ্টা করুন। থাইয়ের পেশিতে টান লাগলে জায়গাটা নরম করে একটি শক্ত কিছুতে ভর দিয়ে দাঁড়ান। টান ধরা পা কোমর অবধি টানটান করতে চেষ্টা করুন।

হাঁটাচলা

কোমর ও পায়ের ক্ষেত্রে হাঁটাচলা কার্যকর। কোমরের টানের ক্ষেত্রে ভালো করে ম্যাসাজ করলে ব্যথা কমে।

তাৎক্ষণিক করণীয়

পা বা হাতে এটি হলে দেখা যায় একদিকে বেঁকে যেতে চাচ্ছে। তখন যেদিকে বেঁকে যেতে চাইছে তার বিপরীত দিকে চেপে ধরে আগের অবস্থায় নিয়ে গিয়ে পেশি শিথিল করতে চেষ্টা করুন। ভিটামিন এ এবং বি কমপ্লেক্স গ্রহণ করেও এই সমস্যার প্রভাব কাটানো এবং প্রতিরোধ সম্ভব।

সূত্র: হেলথলাইন

আরও পড়ুন:
দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন