শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

সকালে নাশতার পর সারা দিন কিছু খাওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া বাজারে পেটচুক্তি খাই। রেস্ট হাউসে ফিরে ফ্রেশ হয়ে ছাদে উঠে তুমুল আড্ডা, গান, হাসাহাসি, আনন্দের ফোয়ারা। রাত আরও গভীর হলে মহানন্দার হাতছানিতে সম্মোহিতের মতো সাড়া দিই। আরামে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নদীর পাড়ে, পোলাপান ডেকে তুললে ফিরে আসি বিশ্রামঘরে।

সবাই আমরা (ব্লেস, অর্পণ, অঞ্চিত, অমিত, বৃষ্টি আর আমি) পৌঁছে গেছি কমলাপুর রেলস্টেশনে। ট্রেন ছাড়ার কথা রাত পৌনে ১১টায়। যেকোনো সময় প্ল্যাটফর্মে ট্রেন এসে পড়তে পারে। সময় ঘনিয়ে আসছে অথচ প্রিমার দেখা এখনও নেই। আমরা অস্থির অপেক্ষায়। অন্যদিকে প্রিমা রাইড শেয়ারের মোটরবাইকে অলিগলি, চিপাচাপার ফাঁক গলে প্রাণান্ত চেষ্টায় আসছে। বৃহস্পতিবারের যানজটও একটা ব্যাপার মনে হয়। যারপরনাই প্রিমা এলেও ট্রেন এলো ১১টা ৫০-এ, ছাড়ল ১২টা ২০-এ। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস।

আমরা যাচ্ছি সর্ব-উত্তরের জেলায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলে দেখব, না হলে নাই। ঢাকায় থেকে শরীর ও মনে যে ক্লেদ জমেছে, তা ঝেরে ফেলতে চাই। এই তো কয়েক সপ্তাহ আগেই নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে ট্রেকিং করলাম। মনে হয় এক যুগ পর আরামের ভ্রমণ দিতে চলছি আমি। রাতভর বিচিত্র সব ঘটনা ঘটল।

ট্রেনে উঠে অমিতের কুম্ভকর্ণের ঘুম। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে আবু নামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোর উঠল। সেকি কাণ্ডকীর্তি তার। সবার সঙ্গেই তার কুশল বিনিময় করতে হবে। সঙ্গে থাকা খাবার ভাগ করে খাবে। তার বোচকার বিভিন্ন জিনিস একাধিক সিটের নিচে রাখতে হবে, আরও কত কী!

আর ট্রেনের সিটের কথা নাই বলি। কোনোটা লক্কড়ঝক্কড়, কোনোটা পিছে হেলানো যায় না। কোনোটা একবার হেলে গেলে সোজা হয় না। সিটের ওপরের ফ্যানগুলো ধুলাজমা, ঘোরে তো ঘোরে না। টয়লেট একটা ভালো তো দুইটা খারাপ। পানি নেই। সিটের পাশের জানালা খোলে না, খুললে বন্ধ হয় না। আসলেই রেল খাত খুব অবহেলিত এ দেশে।

যমুনা নদী! বর্ষা শেষের মৌসুম হলেও অকালেই বুড়িয়ে যাওয়া খটখটে কলেবর তার। মানুষ এমন এক প্রাণী, যে প্রকৃতির ক্ষতি বৈ ভালো কিছু করে না। এই প্রাণীর ক্রমশ যান্ত্রিক আর প্রকৃতি-দূরবর্তী আচরণ এর জন্য দায়ী।

এসব ভাবতে ভাবতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। বাইপাসের অন্তর্বর্তী সময় পার হয়ে ট্রেন ছাড়ার সময় এক কিশোর বাইরে থেকে লাফ দিয়ে জানালা দিয়ে যাত্রীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টায় তৃতীয়বার ও তৃতীয় যাত্রীর বেলায় সফল হলো। শুরু থেকেই সব যাত্রী উচ্চবাচ্য করলেও ট্রেনে থাকা পুলিশ সদস্যদের এমন ভাব, যেন কিছুই হয়নি।

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

প্রায় ভোর। বাকি সব ঘুমে। আমরা এখন নাটোর স্টেশনে। কৃষ্ণপক্ষের হলদে বাঁকা চাঁদ ডুবি ডুবি করছে। সকাল পর্যন্ত দরজায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন গল্পের ঝাঁপি খুলে বসলাম। বিষয়? ভ্রমণ, প্রকৃতি, রাষ্ট্র, সমাজ, উন্নয়ন- এসব আর কি। পথ আরও বাকি, তাই ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। বেড়ানোর সময় সঞ্চিত শক্তিই ভরসা, তবে মনের জোর শয়ে শয়ে।

সকাল ১০টা ২০। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন, পঞ্চগড়। স্টেশনের কাউন্টারে ফিরতি টিকিট কাটার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। পরে শুনলাম চাহিদা ও সিন্ডিকেটের কার‍ণে এ হাল। দেরি না করে একটা ভ্যান নিয়ে শহরের মৌচাক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নাশতার অর্ডার দিয়ে আমি আনিস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম বাইরে। আনিস ভাই তেঁতুলিয়ায় তার বন্ধু কাজী মোকসেদের গেস্ট হাউস স্বপ্নতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে জায়গা হয়নি, আগে থেকেই ভিআইপিদের বুকিং।

যাই হোক, আমাকে দেখে আনিস ভাই অবাক। শুধালেন, ‘আপনি এখানে কেন? মজুমদার জুয়েল ভাই কই?’

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

এ কথা শুনে আমিও অবাক হয়ে হাসলাম কিছুক্ষণ। আনিস ভাই ভেবেছিলেন, তার সাবেক সহকর্মী মজুমদার জুয়েল ভাইয়ের যাবার কথা পঞ্চগড়ে। নাশতা চা-পর্ব সেরে চৌরাস্তার মোড় থেকে তেঁতুলিয়াগামী বাসে ওঠার আগে আমার বর্তমান সহকর্মী লুৎফর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো। ঘণ্টাখানেকেরও কম সময়ে তেঁতুলিয়ার বিখ্যাত তেঁতুলগাছের (যার নামে তেঁতুলিয়া নামকরণ) সামনে নামলাম। মোকসেদ ভাইয়ের পাঠানো ভ্যানচালক শহীদুল আমাদের নিয়ে গেল স্বপ্নতে। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়েই ছুট।

ডাকবাংলোতে ঢোকার মুখে গিটার হাতে একটা ব্যাঙের ভাস্কর্য, অর্পণ বলছিল এটা নাকি স্বপ্নীল (স্বপ্নীল গিটার বাজিয়ে গান করে, ভাল গায়, এবার সে আসতে পারেনি)। ভেতরে সম্মানিত পর্যটকরা পদধূলি দিচ্ছেন। দ্রুত পা চালিয়ে মহানন্দায় নামলাম। ওপাশে ভারত, কাঁটাতার আর বিএসএফের সতর্ক পাহারা স্পষ্টত দৃশ্যমান। আমরা দেখলাম আর ভাবলাম এই আন্ত নদী নিয়ন্ত্রণের জটিল রাজনীতির ব্যাপার-স্যাপার, নদীদূষণ, যথেচ্ছাচারী অথচ পেট-সংসার চালানো পাথরজীবীদের।

এই যখন অবস্থা ততক্ষণে বিকেল, আলোকচিত্রী অমিতের ক্যামেরার চোখও খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। ওদিকে কবির আকন্দ ভাই কল দিচ্ছিলেন বারবার। আমার ক্যাম্পাসের (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) বড় ভাই। তিনি কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের সহকারী ব্যবস্থাপক। ওনাদের প্রতিষ্ঠানের অবকাশ যাপন কেন্দ্র আনন্দধারায় যেন বেড়িয়ে যাই।

এবার সারথি অটোচালক সোহেল। সে সব চেনে। বাপ-দাদার বাড়ি ফরিদপুরে ছিল। পরে এখানে এসে বসতি করে। আনন্দধারা বৈচিত্র্যময়! হরেক জাতি-প্রজাতির পাখপাখালি। বিভিন্ন উপমহাদেশের নিজস্ব ধাঁচের একেকটা বাড়ি। নালার ওপর দিয়ে সেতু। নালার কিনারা ধরে পাকা বাঁধাই (পানিপ্রবাহ কি ক্ষতিগ্রস্ত হলো?)। এই কেন্দ্রে সহজে থাকা যায় না। সম্ভব তবে বেশ ওপর মহলের তদবির লাগে। শুধু দেখতে চাইলেও ভেতরের উচ্চপদস্থ কারও পরিচিত হতে হয়। ফেরার সময় মহানন্দার পাড়ে কাশফুলের সমাহার দেখে অমিত ভাবছিল, পরদিন সকালে ছবি তুলবে, তোলা হয়নি পরে অবশ্য।

সকালে নাশতার পর সারা দিন কিছু খাওয়া হয়নি। সন্ধ্যা সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া বাজারে পেটচুক্তি খাই। রেস্ট হাউসে ফিরে ফ্রেশ হয়ে ছাদে উঠে তুমুল আড্ডা, গান, হাসাহাসি, আনন্দের ফোয়ারা। রাত আরও গভীর হলে মহানন্দার হাতছানিতে সম্মোহিতের মতো সাড়া দিই। আরামে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নদীর পাড়ে, পোলাপান ডেকে তুললে ফিরে আসি বিশ্রামঘরে।

বেলা করে ঘুম ভেঙে সবার মাথা খারাপ। দ্রুত পরিষ্কার হয়ে নাশতা সেরে সোহেলের অটোতে চড়ে প্রথমে শিশুস্বর্গ বিদ্যানিকেতন। স্কুলটি প্লেগ্রুপ থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত। কবির ভাই দেখাশোনা করেন। তার বন্ধুর মায়ের নামে এই প্রতিষ্ঠান। ভিন্ন ধাঁচের অবকাঠামোতে তৈরি, ‘ফুলের বাগানে শিশুরাই ফুল’ স্লোগানসমেত স্কুলটার শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা কিছুক্ষণ সময় কাটাই। তারাও আনন্দিত। করোনায় শিক্ষাজীবনের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল!

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

এবার গন্তব্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। পর্যটকদের ভিড়, কেউই শূন্য বিন্দুতে যেতে পারছেন না। জেলা পুলিশ সুপার এসেছেন, কী সব করছেন। সময়টা কাজে লাগিয়ে আমরা পাশেই কাঁচা রাস্তা ধরে মহানন্দার পাড়ে শতবর্ষী বটগাছ দেখতে যাই। বিশাল দেহের বিশাল সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মেলে শতবর্ষব্যাপী গাছ আগলে রেখেছে সময়, প্রাণিকূল। গাছেরও কি সীমানা হয়? হয়তো। অন্য প্রাণীদেরও হয়, কিন্তু মানুষের মতো প্যাঁচালো হয় না। বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিয়ে চলে আসি শূন্য বিন্দুর কাছে। এবার যাওয়া যাবে। ভিসা ছাড়া দাগের ওপাশে অর্থাৎ ভারতে যতটুক যাওয়া যায়, ততটুক গিয়েও কী বিপুল উচ্ছলতা মানুষের!

আমরা ফিরি। যাচ্ছি কবির ভাইয়ের দায়িত্বের আওতাধীন চা-বাগান দেখতে, যা নাকি ভারতে পড়েছে। বাগান দেখার আগে কবির ভাই আমাদের লেমন গ্রাস টি দিয়ে আপ্যায়ন করেন।

উদরপূর্তি সেরে আরেক দফা ডাকবাংলোর কাছে মায়াময়ী মহানন্দার পাড়ে। একটু পরই দলের ৪ জন চলে যাবে ঢাকায়। চলেও যায়। আমরা বাকিরা সোহেলকে নিয়ে আবারও মহানন্দার পাড়ে, তবে এবার পুরোনো বাজারের কাছে। ভারতের কাঁটাতারের ওপর স্থাপিত আলোতে দৃষ্টি ঘোলা হয়। আমরা পরিত্যক্ত ভাঙা এবং অনেক পুরোনো একটি মন্দির ঘুরে দেখি। সেখানে যাবার সময় স্থানীয় এক মধ্যবয়স্কা বলছিলেন যে, রাত করে মেয়েদের ওই মন্দিরে যেতে বারণ। আমরা শুনিনি। শুনব কেন?

রাতে খেয়ে রেস্ট হাউসে ফিরে এসে বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি সবাই। কথা ছিল আরেকবার মহানন্দার পাড়ে যাব, হলো না। সকালে তুমুল বৃষ্টি। তাকে সঙ্গী করেই পঞ্চগড় শহরে যাই। ঢাকাগামী বাসের টিকিট কেটে, সুজানাদির বাড়িতে ব্যাগ রেখে, পাগলুতে (তেলচালিত ত্রিচক্রযান) চড়ে যাই বড়শশী, গন্তব্য বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির। এই মন্দিরও অনেক আগের।

জ্ঞাতবাসে দিবারাত্রি

মোট ৫১টি মহাপীঠের মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৮টি। তার মধ্যে একটি এই বোদেশ্বরী। আরেকটি আমি সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথে দেখেছি। মহাপীঠের বর্ণনা পাঠক আপনারা গুগল থেকেই জানতে পারবেন। পীঠের মূল মন্দিরটা পার্বতীর (দুর্গা), সাথে পরে নতুন করে আরও দুটি মন্দির (শিব ও বিষ্ণুর) হয়েছে। সেগুলোর গায়ে মন্দিরগুলোর উন্নয়নে অর্থদাতাদের নাম উল্লেখ করা। সীতাকুণ্ডেও দেখেছি সিঁড়িগুলোতে দাতাদের নাম।

বেশ জায়গা নিয়ে গাছপালা ও পুকুরসমেত এই বোদেশ্বরী মন্দির। দেখভালে পূজারি ও ভক্তরা থাকেন প্রাঙ্গণে। রয়েছে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম কেন্দ্র। দেখলাম পাশেই নতুন প্রতিমা রাঙানো হচ্ছে। ক’দিন বাদেই দুর্গাপূজা। মানুষ মেতে উঠবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা আর উৎসবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষফোঁড়ার আতঙ্ক তো রয়েছেই। আমরা বের হয়ে আসি। ফিরতি পথে ঐতিহ্যবাহী কাজলদিঘিতে থামি। স্থানীয়রা জানান, তারা এটা ছুঁতেই পারেন না, সরকারি নিলামে প্রভাবশালীরা মাছচাষ করেন।

পঞ্চগড় শহরে ফিরে লো ব্লাড প্রেসারে প্রিমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে সুজানাদির বাড়িতে নিয়ে গেলে বাড়ির লোকজন যত্নআত্তি বাসের সময় এসে যায়। রাত ৮টায় বাস ছাড়ে। যানজট ঠেলে ঢাকায় পৌঁছাই ১৪ ঘণ্টা পর। ফেরার সময় মনটা বেশ খারাপ হয়। আমার এখনও কোথাও বেড়াতে গেলে ফেরার সময় মন খারাপ হয়।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

চিনির শিরায় কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হয় ঝাল রসগোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

রসগোল্লায় মিষ্টির সঙ্গে ঝালের মিশ্রণ নিয়ে রন্ধনশিল্পী সঙ্গীতা ঘোষ সাহা বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম ঝাল রসগোল্লা আছে, কিন্তু রেসিপি জানা নেই। তাই নিজের রেসিপিতে বানানোর পদক্ষেপ নিই। বানানোর আগে একটি পোস্ট করেছিলাম ঝাল রসগোল্লা বানাব। ১২ কেজি মিষ্টি বানিয়েছি।’

বান্ধবী নীতু কয়েক দিন ধরে খাবারের ছবি পোস্ট দিচ্ছিল। বুধবার সকালে ফেসবুকে তার এমন এক পোস্টে চোখ আটকে গেল।

শেয়ার করা সে পোস্টে ছিল রসগোল্লার পাঁচটি ছবি, কিন্তু এ রসগোল্লা সে রসগোল্লা নয়।

রসে নিমগ্ন হলেও এর চারপাশে কাঁচা মরিচের কুচি আর বিচি। রং সবুজ। আকার আর দশটা মিষ্টির মতোই।

জীবনে এত রসগোল্লা খেলাম, কিন্তু এমন সবুজাভ রসে ভাসা বস্তুর দেখা পেলাম না। মরিচের এমন সমারোহও চোখে পড়েনি কখনো।

নীতুর ওয়াল ঘেঁটে দেখলাম, রসগোল্লার ছবিগুলোর আদি পোস্টদাতা সঙ্গীতা ঘোষ সাহা। উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম নামের পাবলিক গ্রুপে ছবিগুলো শেয়ার করেছিলেন তিনি।

সে গ্রুপ থেকে ঢুকলাম সঙ্গীতার প্রোফাইলে। পেশার জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘‌‌ঘরে তৈরি করা কেক ও খাবার সেল দিয়ে থাকি।’

বুঝতে দেরি হলো না সবুজ রসগোল্লাও তৈরি হয় সে ঘরেই। কীভাবে সেটি হয়, তা জানতে শুরু করি যোগাযোগ।

ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে সঙ্গীতা ঘোষ সাহার ইনবক্সে লিখলাম, ‘শুভ সন্ধ্যা। আমি আজহার। নিউজবাংলায় কাজ করি। আপনার সঙ্গে ঝাল মিষ্টি নিয়ে কথা বলতে চাই।’

উত্তর এলো বরাবর পৌনে ৯টায়। সঙ্গীতা বললেন, ‘কী বলবেন, বলেন।’ আমি তখন মোবাইলে ইন্টারনেট বন্ধ করে বাসে বাসায় যাচ্ছিলাম। তিনি সাড়াশব্দ না পেয়ে লিখলেন, ‘??’

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

রাত ১০টার পর তার সে মেসেজ দেখে শুরু হলো আলাপ। সোজাসাপ্টা কিছু প্রশ্ন করে তার কাছ থেকে জানা গেল ঝাল রসগোল্লা বা ঝালগোল্লার ইতিকথা।

কীভাবে এলো ঝালগোল্লা

ঘরে বসে মিষ্টান্ন তৈরির উদ্যোক্তা সঙ্গীতার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘জগতে এত কিছু থাকতে আপনার মাথায় ঝাল মিষ্টির আইডিয়াটা কেন এলো?

উত্তরে তিনি বললেন, ‘সত্যি বলতে আমার রান্না বিষয়টা খুবই পছন্দ, কিন্তু একঘেয়েমি খাবার আমার একদমই পছন্দ না, সেটা যেমনই হোক। তাই খাবার নিয়ে খুব এক্সপেরিমেন্ট করি। ওই খাবারগুলো খেয়ে সবাই ভালো বলে। তাতে করে আমার কনফিডেন্স বেড়ে যায়।

‘গত বছর শীতে একটা গ্রুপ প্রতিযোগিতায় ইউনিক রেসিপিতে তন্দুরি চিকেন ভাপা পিঠা বানিয়ে বিজয়ী হয়েছি। আমার মিষ্টি খুব পছন্দ, কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টি খেতে না করেছে ডাক্তার। তাই মাথায় এলো পছন্দের খাবার যদি অন্যভাবে খাই তবে কেমন হয়!’

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

রসগোল্লায় মিষ্টির সঙ্গে ঝালের মিশ্রণ নিয়ে এ রন্ধনশিল্পী বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম ঝাল রসগোল্লা আছে, কিন্তু রেসিপি জানা নেই। তাই নিজের রেসিপিতে বানানোর পদক্ষেপ নিই। বানানোর আগে একটা পোস্ট করেছিলাম ঝাল রসগোল্লা বানাব। ১২ কেজি মিষ্টি বানিয়েছি।’

উপকরণ

ফেসবুক কথোপকথনেই সঙ্গীতা জানালেন ঝালগোল্লা বানানোর উপকরণগুলোর নাম। তার ভাষ্য, এ ধরনের রসগোল্লা বানাতে লাগবে ১ কেজি বিশুদ্ধ ছানা, বিচিসহ ৪ চা চামচ কাঁচা মরিচের পেস্ট, আধা কাপ ময়দা, শিরার জন্য ৫ কেজি চিনি।

তিনি জানান, কাঁচা মরিচের পেস্টের কারণেই রসগোল্লার রং হয় সবুজ।

বানানোর প্রক্রিয়া

ঝাল রসগোল্লা বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার সাভারের বাসিন্দা সঙ্গীতা বলেন, ‘গরুর দুধ সংগ্রহ করে জাল দিয়ে তাতে ভালো ছানার পানি মিশিয়ে ছানা কাটা হয়। এই ছানা বাসি করা যাবে না। বাসি ছানায় পারফেক্ট টেস্ট আসবে না। তাই ছানা কাটার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি বানালে পারফেক্ট টেস্ট আসবে।

‘ছানা বানিয়ে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। ছানা একটি পাত্রে নিয়ে তার সঙ্গে স্বাদ অনুযায়ী কাঁচা মরিচের পেস্ট মেশাতে হবে। ছানা ভালো করে মিশিয়ে মথে নিয়ে তার সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে ডো বানিয়ে নিতে হবে। মিষ্টিটা হাফ স্পঞ্জ হবে আর শিরাটা হবে পাতলা। মণ্ড থেকে মিষ্টি বানিয়ে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কড়াইতে পাতলা চিনির শিরা বানিয়ে তাতে মিষ্টিটা ফুটিয়ে নিতে হবে। শিরা থেকে মিষ্টি উঠিয়ে অন্য পাত্রে নিয়ে শিরা দিয়ে নিতে হবে। মিষ্টি মোটামুটি ঠান্ডা হয়ে গেলে কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে নিতে হবে। পরের দিন মরিচের রসে টইটম্বুর হয়ে যাবে ঝাল রসগোল্লা।’

কোন ধরনের মরিচ ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে এ রন্ধনশিল্পী বলেন, ‘ছানার সঙ্গে যখন কাঁচা মরিচ পেস্ট মেশানো হয়, তখন মিষ্টির ভেতরে হালকা সবুজ সুন্দর কালার আসে।

‘মরিচটা অবশ্যই সবুজ মরিচ হতে হবে। কেউ চাইলে হালকা সবুজ ফুড কালার মেশাতে পারেন।’

দাম কেমন

ঝালগোল্লার স্রষ্টা সঙ্গীতা জানান, এ ধরনের এক কেজি মিষ্টান্নের দাম ৪০০ টাকা। এ দামটা ন্যায্য কি না, তা জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

জবাবে তিনি বলেন, ‘নরমাল এক কেজি রসগোল্লা কিনতেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগে। আর এটা নতুন একটি মিষ্টি। এর স্পেশালিটি বোঝাতে হবে। তাই এর দাম নির্ধারণ করেছি ৪০০ টাকা।

‘যেহেতু এটা হোমমেড খাবার, তাই এটাতে খরচটা বেশি পড়ে। আর আমার মিষ্টির কোয়ালিটি বিশুদ্ধ হওয়ায় এর খরচও বেশি হয়। আর বাজারের সবকিছুর দাম বেশি।’

মিষ্টির দামের একটা ব্যাখ্যা দিয়ে সঙ্গীতা বলেন, ‘একটা খরচের হিসাব করা যাক। এক কেজি ফ্রেশ ছানা বানাতে ৭ থেকে ৮ কেজি দুধ প্রয়োজন হয়। অল্প পরিমাণে বানানোর জন্য আমার খুচরা দামে কিনতে হয়। রেডি ছানা ব্যবহার করলে খরচ আরও কম পড়ত। যেহেতু রেসিপিটা সম্পূর্ণ আমার নিজের, তাই রেসিপি কোয়ালিটি বিশুদ্ধ হওয়ার গ্যারান্টি আমাকেই দিতে হবে।

‘আমাদের এখানে দুধের প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। ৮ কেজি দুধ ৭২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। ৫ কেজি চিনি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ধরলে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। কাঁচা মরিচ ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা; প্যাকেজিং ৬০ টাকা। এবার দেখুন ৭২০+৪৫০+৪০+৬০= ১২৭০ টাকা। আমার পরিশ্রম আমি ধরিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক কেজি ছানা থেকে ৫ কেজি মিষ্টি হয়, যার মূল্য আসে ২ হাজার টাকা। একটা খাবার বানিয়ে তার থেকে ১০০ টাকা আমি কি লাভ করব না?

‘আবার নির্ধারিত দাম থেকে কিছু গ্রাহক কমাতেও বলে। তখন কমাতেও হয়। জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশি, তবে যখন বড় পরিসরে করব, তখন দামটা কমানোর চেষ্টা করব।’

ঝালগোল্লায় সাড়া কেমন পাচ্ছেন জানতে চাইলে সঙ্গীতা বলেন, ‘আমি ১২ কেজি মিষ্টি বানিয়ে ৪০০ টাকা করে কেজি বিক্রি করেছি যাদের কাছে, তারা সবাই আমাকে ৫০০ টাকা কেজি দিয়েছে আর বলেছে এটা ৬০০ করে বিক্রি করতে। সবার কাছে এতই ভালো লেগেছে।’

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

পদ্ম ফুল কমে যাচ্ছে বিলগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের তিন গ্রামের জলাশয়ে বর্ষা থেকে ফুটতে শুরু করে পদ্মফুল। তবে এবার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে পদ্ম। হাতে গোনা পদ্মে হতাশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে কমছে পদ্ম। স্থানীয় লোকজন এসব পদ্মকে চেনেন বোরল ফুল নামে। উপজেলার মাগুড়া, ভাতুরিয়া ও জাদুরাণী গ্রামের বিলে দেখা মেলে এই ফুলের।

উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বিলটি ছেয়ে যেত পদ্মফুলে। একই দৃশ্য দেখা যেত ভাতুরিয়া গ্রামের ধূলিয়া বিলেও। এবার বিল দুটিতে চিরচেনা রূপ নেই। পদ্মের সংখ্যা হাতে গোনা।

কেবল জাদুরাণী গ্রামের তালুকদার বস্তি এলাকায় ‘সবার পুকুর’ নামে পুকুরে আশানুরূপ ফুটে আছে সাদা পদ্ম।

‘সবার পুকুরে’ গিয়ে দেখা গেল, শিশু-কিশোররা পানিতে নেমে তুলছে পদ্মফুল।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

সবার পুকুরের একাংশের মালিক মোমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুকুরটির প্রায় তিন একর জমি পদ্মফুলে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অংশীদার বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পুকুরটি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পদ্মফুলের তেমন বিস্তার হতে পারছে না।’

উপজেলার তালুকদার বস্তির কৃষক জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘সবার পুকুরে দীর্ঘদিন থেকে এই ফুল ফুটে আসছে। তবে এটা যে পদ্মফুল আমরা তা জানতাম না। স্থানীয়ভাবে বোরল নামে জানি পদ্মফুলকে। অনেক মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ফুল তুলে নিয়ে যায়।’

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

মাগুরা ও ভাতুরিয়া গ্রামের বিল ঘুরে দেখা যায়, কিছু পদ্ম সেখানেও ফুটেছে।

সেখানকার লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এসব বিলে বর্ষায় পদ্মের আড়ালে পানিই দেখা যেত না। এখন সেখানে আর তেমন ফুল ফোটে না।

ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাবণী পারভীন বলেন, ‘গত বছর হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। এ বছরও গেছিলাম। তবে ওই পুকুরটিতে এবার মাছ চাষ হয়েছে। সে জন্য পদ্মফুল হয়নি। এবার পাশের গ্রাম তালুকদার বস্তি এলাকায় সবার পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। বইয়ে পড়েছি; বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বিলগুলোতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেখা দেয় পদ্ম। এর পাতা বেশ বড়, গোলাকার ও পুরু হয়ে থাকে। পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি, লাল ও নীল রঙের হয়।

একসময় গ্রামের হাট-বাজারে ঝোলাগুড়, মাংস বা ছোট মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদ্মের পাতা ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থালা হিসেবে কলাপাতার বদলে পদ্মের পাতাও ব্যবহার হতো।

হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম পবিত্রতার প্রতীক। তাদের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই ফুল ব্যবহার হয়।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান নাসরিন জাহান বলেন, ‘পদ্ম সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল রঙের পদ্মফুল পাওয়া যায়। সম্প্রতি হলুদ রঙের পদ্মফুল দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালাচ্ছে।’

নাসরিন জানান, শিল্পায়নের কারণে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। জলাশয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারণে পদ্ম জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে আসছে এই জলজ ফুল।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাদা পদ্মের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হৃদরোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডায়রিয়া সারাতে এর বোটা কাঁচা খায় অনেকে। পদ্মের চাক, বীজ বা বোটা বেশ সুস্বাদু। পদ্মের পাতাতেও ওষধি গুণ আছে। এই পাতা দিয়ে চা-ও বানানো হয়।’

পদ্মফুলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের সচেষ্ট হওয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাসরিন বলেন, ‘সরকারি জলাশয় যেন বেদখলে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানির উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। পদ্মফুলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিষয়ে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

টিকার ডোজ সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ৮ নভেম্বর থেকে

টিকার ডোজ সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ৮ নভেম্বর থেকে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করোনার যে কোনো একটি টিকা গ্রহণ করলেই তাদের প্রবেশ করতে দেবে আমেরিকান প্রশাসন। নতুন নিয়মে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীরা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

বিদেশি নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল হচ্ছে আগামী মাসে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের জন্য ৮ নভেম্বর থেকে দরজা খুলছে দেশটি। ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। বিশ্বের ৩৩টি দেশের নাগরিকরা পাবেন এ সুবিধা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সবশেষ হালনাগাদকৃত ভ্রমণ নীতিমালা প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ। এতে বলা হয়েছে যে, টিকা নেয়া থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হতে হবে ভ্রমণেচ্ছু ব্যক্তিদের।

বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ২০২০ সালের মার্চে বিদেশি ভ্রমণকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ পদক্ষেপের ফলে সেসব নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা মাথায় রেখেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হবে।’

করোনাকালীন বিদ্যমান বিধিনিষেধ অনুযায়ী কয়েকটি দেশে ভ্রমণের ১৪ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ নেই বিদেশি নাগরিকদের। এসব দেশের তালিকায় আছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান ও ব্রাজিল।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করোনার যে কোনো একটি টিকা গ্রহণ করলেই তাদের প্রবেশ করতে দেবে আমেরিকান প্রশাসন।

নতুন নিয়মে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীরা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

নতুন নিয়ম নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ করোনার উচ্চ সংক্রমণে জর্জরিত ১৫০টি অন্য দেশের নাগরিকরা এখনও অবাধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছে।

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক দেরিতে ভ্রমণ নীতিমালা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তাপও দেখা দিয়েছিল ওয়াশিংটনের।

প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর থেকে মঙ্গলবার সীমান্তপথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এ সিদ্ধান্ত কেবল পূর্ণ টিকা গ্রহণকারীদের ওপর প্রযোজ্য। টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ওপর সীমান্তপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

১৯ মাস পর ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

১৯ মাস পর ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

গত বছর ভারতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২৮ লাখে নেমে আসে, ২০১৯ সালেও যে সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি। ছবি: এএফপি

ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া শুরু করলেও নতুন নির্দেশনাতেও কিছু বিধিনিষেধ রাখছে ভারত। জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগে সরবরাহকৃত সব ধরনের ট্যুরিস্ট ভিসাই অকার্যকর গণ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আগের ভিসার মেয়ার থেকে গেলেও এখন ভারতে প্রবেশে নতুন করে ভিসা নিতে হবে। অবশ্য ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষা, টিকা ও কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি নয়া দিল্লি।

দেড় বছরের বেশি সময় পর বিদেশি পর্যটকদের ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করেছে ভারত। কেবল ভাড়া করা বা ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ভারতে যাবেন, শুক্রবার থেকে কেবল এমন পর্যটকরা ঢুকতে পারবেন দেশটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈনিক সংক্রমণ কমতে থাকায় করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ শিথিলের প্রেক্ষিতে সীমান্ত খুলে দিয়েছে ভারত। তবে প্রাথমিকভাবে শুধু চার্টার্ড ফ্লাইটে ভারতগামীরাই ভিসা পাচ্ছেন।

এক মাস পর থেকে এ সুবিধার পরিসর আরও বাড়বে। বাণিজ্যিক বিমানে চড়ে ভারতগামী পর্যটকরা ভিসা পাবেন ১৫ নভেম্বর থেকে।

মহামারিকালীন বিধিনিষেধের কারণে গত ১৯ মাস ধরে ভারতে পা পড়েনি কোনো বিদেশি পর্যটকের। ২০২০ সালের মার্চে নরেন্দ্র মোদির সরকার মহামারির কারণে লকডাউন জারি এবং দেশের সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশটিতে ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া বন্ধ ছিল।

গত কয়েক মাস ধরে কেবল বিদেশি কূটনীতিক ও ব্যবসায়িক কারণে হাতেগোণা কিছু পেশাজীবীকে বিশেষ ভিসা দিয়েছে ভারত।

চলতি মাসের শুরুতেই বিদেশি পর্যটকদের ধাপে ধাপে ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করার ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। দেশটিতে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারে নেমে এসেছে, যা পাঁচ থেকে ছয় মাস আগেও ছিল প্রায় চার লাখ।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় করোনায় সংর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু দেখে ভারত।

ভারতে মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশের বেশি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার কমপক্ষে এক ডোজ নিয়েছেন।

কিন্তু সন্তোষজনক পরিস্থিতি এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন ভারতের বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মহামারির তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানলে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো করোনা ছড়ানোর কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠতে পারে।

মহামারির তৃতীয় ধাক্কা অনিবার্য বলে শঙ্কা ভারতীয় স্বাস্থ্যবিদদের।

এদিকে, বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে ভারতের পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ দেশটিতে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ারও সময় এখন। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ভারতীয় পেশাজীবীদের প্রত্যাশা, এবার ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরবে খাতটিতে।

ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ ভারতে তাজমহলের মতো সপ্তাশ্চর্য, প্রাচীন মন্দির ও দুর্গের মতো শৈল্পিক স্থাপনা, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা বরফে ঢাকা পর্বত এবং পশ্চিম ও দক্ষিণে সমুদ্র সৈকত বিদেশি পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত দেড় বছর ধরে এসব পর্যটনকেন্দ্র ছিল প্রাণহীন।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনার কারণে অর্থনীতি অচল হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২৮ লাখে নেমে এসেছিল। ২০১৯ সালেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি।

ভারতে মোট বার্ষিক প্রবৃদ্ধির প্রায় সাত শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। এ খাত সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িত কয়েক কোটি মানুষ। অর্থনীতিতে নজিরবিহীন সংকটের কারণে এ বছর পর্যটন খাতের সম্ভাব্য রাজস্ব ধরে রাখতে মরিয়া নয়া দিল্লি।

এ অবস্থায় ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া শুরু করলেও নতুন নির্দেশনাতেও কিছু বিধিনিষেধ রাখছে ভারত। জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগে সরবরাহকৃত সব ধরনের ট্যুরিস্ট ভিসাই অকার্যকর গণ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আগের ভিসার মেয়ার থেকে গেলেও এখন ভারতে প্রবেশে নতুন করে ভিসা নিতে হবে।

অবশ্য ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষা, টিকা ও কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি নয়া দিল্লি।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে গেছেন হাজার কর্মব্যস্ত মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদারআবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ছুটির দিনে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০% ভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। আর গত দুই দিনে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে।’

মৃদুমন্দ ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে। তাতে পা ভিজিয়ে হাঁটছেন নবদম্পতি রাজিয়া ও কবির। সিলেট থেকে এসেছেন মধুচন্দ্রিমায়।

কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্টে শুক্রবার সকালে গিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে।

কবির জানান, এটিই প্রথম সমুদ্র দেখা তাদের। সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে কক্সবাজার এসেছেন বৃহস্পতিবার রাতে। এসেই সৈকতে বসে জ্যোৎস্না দেখার সুযোগ পেয়ে যান।

কবির বলেন, ‘প্রথম এসেছি সমুদ্র সৈকতে। আবার জ্যোৎস্না রাতও পেয়েছি। জীবনে এমন সময় কখনও ভুলব না।’

সাপ্তাহিক ছুটি ও পূজার ছুটি এবার একই দিনে পড়েছে। তাই কেউ পূজা উপলক্ষে, কেউ সপ্তাহ শেষে অবসর কাটাতে জড়ো হয়েছেন সৈকতে। শুক্রবার সকাল থেকে তাই পর্যটকের ঢল সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে।

কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি সমুদ্র সৈকত জুড়ে শুক্রবার সকাল হতেই হাজার হাজার পর্যটক দেখা গেছে।

শহরের রাস্তায়ও ভিড়। রীতিমতো দেখা দিয়েছে যানবাহন সংকট। গণপরিবহণগুলো পর্যটকদের ‘রিজার্ভ’ ভাড়া ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা গেছে।

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘লকডাউনে দীর্ঘ দিন ঘরবন্দী মানুষগুলো এখন মুক্ত হাওয়ার সন্ধানে সাগর দেখতে আসছে। কক্ষ বুকিংয়ের প্রচুর কল পাই আমরা। তবে একটি কক্ষে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত পর্যটক থাকার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাপল বেড ও টুইন বেডে সর্বোচ্চ ২ জন অবস্থান করতে পারছেন।’

তিনি জানান, কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার পর্যটক রাত যাপন করতে পারছে এখন। করোনার আগে এই সক্ষমতা ছিল দ্বিগুণ।

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

আবুল কাশেম বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ছুটির দিনে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০% ভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। আর গত দুই দিনে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে।’

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এম এ হাসিব বাদল বলেন, ‘কক্সবাজারে এখন লাখো পর্যটক অবস্থান করছেন। শীত যতই ঘনিয়ে আসবে, কক্সবাজারে পর্যটকও তত বাড়বে।’

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন আহমদ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পুলিশের একাধিক দল সাদা পোশাকে সৈকতসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান করেছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত তারা।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন

চা বাগান, হাওর ঘুরতে ট্যুরিস্ট বাস

চা বাগান, হাওর ঘুরতে ট্যুরিস্ট বাস

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নূসরাত লায়লা নীরা বলেন, ‘ট্যুরিস্ট বাসে দুইটি প্যাকেজ থাকছে। প্রথম প্যাকেজের ট্যুরিস্ট বাস প্রতিদিন সকাল ৯টায় পর্যটক নিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রা শুরু করবে বড়লেখার দিকে। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের বাস একই সময়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে বড়লেখা থেকে যাত্রা শুরু করবে।’

অটোরিকশা বা জিপে নয়, এখন থেকে ৩০০ টাকায় মৌলভীবাজারের পর্যটনস্পটগুলো ঘুরে দেখা যাবে ট্যুরিস্ট বাসে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যুরিস্ট বাস উদ্বোধন করা হবে। তবে আগেই বিক্রি শুরু হয়ে গেছে টিকিট।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নূসরাত লায়লা নীরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক করতে ৪০ সিটের দুইটি বাস দিয়ে এ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এতে দুইটি প্যাকেজ থাকছে। প্রথম প্যাকেজের ট্যুরিস্ট বাস প্রতিদিন সকাল ৯টায় পর্যটক নিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রা শুরু করবে বড়লেখার দিকে। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের বাস একই সময়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে বড়লেখা থেকে যাত্রা শুরু করবে।’

যদি সাড়া ফেলে তাহলে প্রয়োজনে আরও বাস নামানো হবে বলে জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এস কে দাস জানান, জেলা প্রশাসনের ট্যুরিস্ট বাস চালুর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এতে জেলায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে বাস সার্ভিস নিয়মিত তদারকির মধ্যে রাখতে হবে।

কী কী আছে দুই প্যাকেজে?

প্রথম প্যাকেজের যাত্রা শুরু হবে শ্রীমঙ্গল থেকে। চা বাগান, গগন টিলা, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ঘুরে বাস গিয়ে থামবে বড়লেখায়। টিকিটের দাম জনপ্রতি ৩০০ টাকা। দুপুরের খাবার খেতে চাইলে দিতে হবে আরও ১০০ টাকা।

বড়লেখা থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় প্যাকেজের যাত্রা। লাউয়াছড়া ইকোপার্ক, মাধবপুর লেক, সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা ও বাইক্কা বিল ঘুরে যাত্রা শেষ হবে শ্রীমঙ্গলে। এই প্যাকেজের টিকিটের দাম জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। খাবারের জন্য দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রথম দিন খাবার হিসেবে দেয়া হবে পোলাও, রোস্ট, ডিম ও আলুর চপ। প্রতিদিন মেন্যু পরিবর্তন করা হবে।

এই বাসে ভ্রমণ করলে কোনো ট্যুরিস্ট স্পটে দিতে হবে না প্রবেশ ফি।

কোথায় পাওয়া যাবে টিকিট?

শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডের শ্যামলী, মৌলভীবাজারের হানিফ ও বড়লেখার শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে ট্যুরিস্ট বাসের টিকিট কেনা যাবে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে বিলীন হতে পারে সুন্দরীগাছ: গবেষণা
অনন্ত যৌবনের অচিন বৃক্ষ
পর্যটক ফিরবে তো?
বৃষ্টি নেই, ফোটেনি পদ্ম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

শেয়ার করুন